মুঠোফোনে চিত্রায়িত চলচ্চিত্র ‘ফেরার গান’

Send
বিনোদন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৪৯, জুন ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫৭, জুন ১৩, ২০১৯

একটি দৃশ্যে জন কবির ও আজমেরী আশাঈদ এলে প্রশংসিত নাটকের তালিকায় তার নামটি থাকেই। কারণ, বরাবরই তার নির্মাণ ও গল্প-ভাবনা ব্যতিক্রম। তবে এই ঈদে টিভি পর্দায় সেই বৈচিত্র্যের ছাপ রাখেননি নির্মাতা-অভিনেতা শাফায়েত মনসুর রানা।
বিনিময়ে বানিয়েছেন একটি ওয়েব ফিল্ম। নাম ‌‘ফেরার গান’। ওয়েব এবং ফিল্ম, দুটো বিবেচনাতেই এটি তার জন্য প্রথম। তবে এরচেয়েও বড় বিষয় রয়েছে রানার এই কাজটিতে। কারণ, এর পুরোটাই নির্মিত হলো মুঠোফোনে!
তানভীর চৌধুরীর গল্পে ৪৭ মিনিটের এই ওয়েব ফিল্মটি আজ (১২ জনু) সন্ধ্যায় উন্মুক্ত হলো অনলাইন স্ট্রিমিং সাইট আইফ্লিক্স-এ। রানার ভাষ্যে, ‘এই কাজটির মধ্যেই আমার ঈদের আনন্দ। এবারের ঈদে টিভির জন্য ইচ্ছে করেই কোনও কাজ করতে চাইনি, একঘেয়ে লাগছিল। এ কাজটি করেছি বৈচিত্র্যের খোঁজে। ওয়েবের জন্য এটা আমার প্রথম কাজ, ফিল্ম হিসেবেও প্রথম। আর তৈরি করেছি মুঠোফোনে। একটা অ্যাডভেঞ্চার ছিল পুরো কাজটির মধ্যে।’
‘ফেরার গান’-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সংগীতশিল্পী জন কবির। ছবির গল্পটিও একজন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীকে ঘিরে। এতে আরও আছেন আজমেরী আশা, শিল্পীর প্রেমিকা চরিত্রে।

ছবিটির গল্পে দেখা যাবে একজন রক তারকার জনপ্রিয়তা, তার অহংকার, ভক্তদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার এবং পতন—এমন আরও কিছু পারিপার্শ্বিক বিষয়।
পুরো কাজটি ধারণ করা হয়েছে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস১০ প্লাস দিয়ে।
শাফায়েত মনসুর রানা বলেন, ‘পুরো কাজটি মোবাইল ফোনে শুট করতে হবে—এই প্রস্তাবটি পাওয়ার পর বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হলো। কারণ, প্রফেশনালি কাজ করার আগে তো আমরা মাল্টিমিডিয়া ফোন দিয়েই নানা কিছু তৈরির চেষ্টা করতাম। কিন্তু সেগুলো তো আর মানুষকে দেখানোর সুযোগ ছিল না। তো এই সময়ে এসে সেই প্রস্তাবটি পাওয়ার পর ফিরে গেলাম শুরুর দিকে।’
চলছে মুঠোফোনে শুটিং- বামে জন কবির ডানে শাফায়েত মনসুর রানাএকটা মুঠোফোন দিয়ে ইউনিট নিয়ে শুটিং করতে গিয়ে বেশ মজার অভিজ্ঞতাও হয়েছে রানার। সেগুলো থেকে এটুকু বললেন, ‘ধরুন বিভিন্ন লোকেশনে, সেট বানিয়ে অনেক আয়োজনের মাধ্যমে আমরা শুটিং করতে গেলাম। সবই ঠিক আছে, কিন্তু উৎসুক জনতার একটাই প্রশ্ন— ক্যামেরা কই! একটা দৃশ্য নৌকায় ছিল। তো মোবাইল দিয়ে নৌকায় উঠে দৃশ্য ধারণ করছিলাম। লক্ষ করলাম, মাঝি ভাই আমাদের পাত্তাই দিচ্ছেন না। মনে মনে ভাবছেন, বন্ধুরা মিলে মোবাইল নিয়ে আমরা হয়তো দুষ্টুমি করছি! আবার মোবাইলে শুট করতে গিয়ে সুবিধার পরিমাণ অনেক বেশি পেয়েছি। যেকোনও স্থানে মোবাইলটা সেট করতে পেরেছি। ইচ্ছামতো ফ্রেম ধরতে পেরেছি। কতোটা পেরেছি, কাজটি দেখলে দর্শকরা ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি বরাবরের মতো একটা কমপ্লিট গল্প বলার চেষ্টা করেছি।’
টিজার:

এদিকে স্যামসাং নিবেদিত এই ওয়েব ফিল্মের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পেশাদার ফিল্ম প্রোডাকশনে স্মার্টফোন ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশে—এমনটাই দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে স্যামসাং বাংলাদেশের হেড অব মোবাইল মো. মূয়ীদুর রহমান বলেন, ‘চলচ্চিত্রটির অংশ হতে পেরে ও পুরো কাজটি গ্যালাক্সি এস১০ প্লাস দিয়ে ধারণ করায় আমাদের পুরো টিমই দারুণভাবে উচ্ছ্বসিত। বিশ্বে চলচ্চিত্র নির্মাণে স্মার্টফোনের ব্যবহারের বিষয়টি নতুন না হলেও বাংলাদেশে প্রফেশনাল কোনও কাজে স্মার্টফোনের ব্যবহার এবারই প্রথম। আমাদের ক্রেতা এবং দর্শকরা চিত্তাকর্ষক এই চলচ্চিত্রটি দারুণভাবে উপভোগ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।’ 

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ