৭০ রোহিঙ্গাবাহী নৌকা মিয়ানমার উপকূল ছেড়েছে: রয়টার্স

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:৩৯, এপ্রিল ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪৭, এপ্রিল ১৫, ২০১৮

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে পাঁচ সদস্যের রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নেওয়ার খবরের মধ্যেই মিয়ানমার উপকূল থেকে রোহিঙ্গাবাহী নৌকা ছাড়ার খবর দিয়েছে রয়টার্স। দুটি সূত্র ও একটি মানবাধিকার গ্রুপের বরাতে দেওয়া খবরে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে গত ১২ এপ্রিল ভোরে রওনা দেওয়া প্রচন্ড ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা পাড়ি দিয়ে নৌকাটির সম্ভাব্য গন্তব্য মালয়েশিয়া। এটি পৌঁছালে এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় রোহিঙ্গাবাহী নৌকা হিসেবে মালয়েশিয়া যাওয়া নৌকা হবে তা।

ছোট ছোট নৌকায় সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে রোহিঙ্গারা

গত বছরের আগস্টে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো হলে প্রতিবেশি বাংলাদেশে পালিয়ে যায় প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সরেজমিন পরিদর্শণ শেষে বলেছে এখনও প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত নয় মিয়ানমার। ওই সতর্কতা উপেক্ষা করে শনিবার সকালে প্রথমবারের মতো পাঁচ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নেয় তারা। এরইমধ্যে জানা গেল এখনও মিয়ানমার ছাড়ছে রোহিঙ্গারা।

দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপ ফরটিফাই রাইটসের সহ প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথুই স্মিথ রয়টার্সকে বলেছেন, গত ১২ এপ্রিল রওনা দেওয়া নৌকাটি কোনও বিপদে না পড়লে বা থাইল্যান্ড উপকূলে আটকা না পড়লে আগামী সপ্তাহে মালয়েশিয়ার সমুদ্র সীমায় পৌঁছাবে।’ এটিকে প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় বলে বণনা করে তিনি বলেন, নৌকার যাত্রীরা খাবার, পানি, এবং নৌকায় স্থান সংকটে ভোগার পাশাপাশি ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোতে টিকে থাকার লড়াই চালাতে হচ্ছে সেখানে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক রোহিঙ্গাই এখন প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ড উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, গত বৃহস্পতিবার ভোরে রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তি থেকে রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা রওনা হয়। প্রথমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটকালেও পরে তারা রওনা দিতে সমর্থ হয় বলে জানিয়েছে ওই সূত্র দুটি। দুটি সূত্রই নিশ্চিত করে নৌকাটিতে ৭০ জন যাত্রী ছিল।

পরিস্থিতি খারাপ বা কর্তৃপক্ষ ফেরত না পাঠালে নৌকাটি থাইল্যান্ড বা ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্র সীমায় যেতে পারে বলে রয়টার্সকে জানায় একটি সূত্র।

মিয়ানমার সরকারের এক মুখপাত্র তাৎক্ষনিকভাবে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য জানতে করা টেলিফোনে সাড়া দেননি।

গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার জেলেরা সুমাত্রা দ্বীপ থেকে অন্তত পাঁচ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেন। তারা জানান সমুদ্র যাত্রার সময়ে আরও অন্তত পাঁচ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে।

২০১২ সালে রাখাইনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে সমুদ্র পথ পাড়ি দিয়ে মিয়ানমার ছেড়ে পালায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এই পালানো ২০১৫ সালে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। সে বছর আন্দামান সাগর পাড়ি দিয়ে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া পৌঁছায়। অনেকেই অতিরিক্ত যাত্রীবাহী সেসব নৌকা ডুবে সমুদ্রেই প্রাণ হারান।

আরও পড়ুন-  গভীর রাতে সবার অজান্তে মিয়ানমারে ফেরত গেছে রোহিঙ্গা পরিবারটি

মিয়ানমারের বিবৃতিকে চ্যালেঞ্জ জানালেন আইসিসির কৌঁসুলিরা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন মিয়ানমার

 

 

/জেজে/

লাইভ

টপ