যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে বন্দুক হামলা নিহত শিক্ষার্থীর বীরোচিত ভূমিকায় রক্ষা পায় সহপাঠীরা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:৩২, মে ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪০, মে ০৯, ২০১৯

সহপাঠীদের বাঁচাতে গিয়েই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর স্কুলে মঙ্গলবারের বন্দুক হামলায় নিহত শিক্ষার্থী কেন্ড্রিচ ক্যাস্টিলো। সেখানকার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ ও ডেনভার পোস্টের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার বীরোচিত ভূমিকার কথা। ক্যাস্টিলোর সহপাঠীরা জানিয়েছে, সব সহপাঠীর জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়েই গুলিতে বিদ্ধ হয়েছিল সে। বাবার কাছে ক্যাস্টিলো পৃথিবীর সেই সেরা সন্তান, যার বৈশিষ্ট্যই ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

মঙ্গলবার (৭ মে) কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ডেনভারে ‘স্টেম স্কুল হাইল্যান্ডস রাঞ্চ’ স্কুলে সহপাঠীদের ওপর বন্দুক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেখানকারই দুই শিক্ষার্থী। ডগলাসের কাউন্টি শেরিফ টনি স্পুরলকের বর্ণনা অনুযায়ী, স্কুলের দুইটি ক্লাসরুমে ঢুকে গুলি ছুড়তে শুরু করে তারা। গুলিতে ১৮ বছর বয়সী কেন্ড্রিচ ক্যাস্টিলো নিহত হয়, আহত হয় আরও ৭ শিক্ষার্থী। খবর পেয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে পার্শ্ববর্তী শেরিফ বিভাগের সাবস্টেশন ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিছুক্ষণ লড়াইয়ের পর ওই দুই বন্দুকধারী শিক্ষার্থীকে আটক করতে সক্ষম হন তারা।

ওই হামলার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া তার সহপাঠী নুয়ি গিয়াসলি এনবিসি নিউজের এক অনুষ্ঠানে বলেছে, এক সহপাঠী বন্দুক বের করে গুলি করতে উদ্যত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় ক্যাস্টিলো। গিয়াসিল বলে, ‘আমাদের সবাই যেন ডেস্কের নিচে লুকোবার মতো পর্যাপ্ত সময় পাই, যেন নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারি, যেন ওই কক্ষ থেকে পালিয়ে যেতে পারি’ নিজের জীবন দিয়ে সেই চেষ্টাটাই করেছিল ক্যাস্টিলো।

বন্দুকধারীকে নিরস্ত করতে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাস্টিলোকে সহায়তা দিয়েছিল। তারা ‘বন্দুকধারীকে এমন করে ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছিল যেন আমরা সবাই পালিয়ে যেতে পারে। যেন আমাদের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারি। তাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।’ বন্ধুরা ক্যাস্টিলোকে স্কুলের রোবটিক দলের উৎসাহী সদস্য হিসেবে বর্ণনা করেছে, যে মাছ ধরতে, শিকার করতে আর গাড়ি চালাতে ভালোবাসত।

স্কুলের বন্ধুদের বাঁচাতে গিয়ে ছেলে যে বীরোচিত ভূমিকা পালন করেছে, তা নিয়ে মোটেও বিস্মিত নয় তার বাবা জন ক্যাস্টিলো। ‘ও এতো বেশি করে মানুষের কথা চিন্তা করতো যে এমন কিছুই তার কথার কথা, যদিও আমার দিক থেকে চিন্তা করলে যা ঘটেছে তা অপ্রত্যাশিত। আমার দিক থেকে তো ও পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করলে সেটাই ভালো ছিল, তবে সেটা ওর বৈশিষ্ট্য ছিল না। তার চরিত্রই ছিল মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া, তাদের পাশে দাঁড়ানো।’ ডেনভার পোস্টকে তার কান্নারত বাবা বলেন, ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কিশোর ছিল ও’।

কেন্ড্রিচ ছিল তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। প্রকৌশল বিদ্যায় পড়ার স্বপ্ন ছিল তার। ‘আমার আর স্ত্রীর জীবনের সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেছে। ও ছিল আমাদের সব।’ ডেনভার পোস্টকে বলেন তার কান্নারত বাবা জন ক্যাস্টিলো।

/বিএ/

লাইভ

টপ