ভারতে মস্তিষ্কের রোগে অর্ধশত শিশুর মৃত্যু, নেপথ্যে লিচুর বিষক্রিয়া!

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:৩৬, জুন ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৯, জুন ১৪, ২০১৯

ভারতে গত তিন সপ্তাহে মস্তিষ্কের  প্রদাহে আক্রান্ত হয়ে অর্ধশতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ওই রোগে মৃত্যুর কারণ লিচুর বিষক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মেডিক্যাল জার্নাল দ্য ল্যানসেটে এনসেফালিটিস সিন্ড্রোম সংশ্লিষ্ট এক প্রতিবেদনেও এই রোগের নেপথ্য কারণ হিসেবে লিচুকে দায়ী করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন,  যেখানে লিচুর চাষ বেশি হয় সেই অঞ্চলেই এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা গেছে। 

অ্যাকিউট এনসিফালাইটিস সিন্ড্রোমে মস্তিষ্কে প্রদাহ শুরু হয়, জ্বর হয় এবং একটা সময় রোগী কোমায় চলে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানি ও পুষ্টির অভাবে এই রোগ হয়ে থাকতে পারে। এর আগে ২০১৩ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশে এই রোগে ৩৫১ জন মারা গিয়েছিলো। সে সময়ও মৃত্যুর কারণ হিসেবে লিচুর কথা উঠে এসেছিল জোরেশোরে।

এবারের ঘটনা প্রসঙ্গে বিহারের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত একিউট এনসেফালিটিস সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৫৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  মুজাফফরপুরের দুই হাসপতালে চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত এই রোগে এখন পর্যন্ত ১৭৯ জন ভর্তি হয়েছে। তবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে গত কয়েক সপ্তাহে।

বিহারের রাজ্য স্বাস্থ্য অধিদফতর অবশ্য এই মৃত্যুর জন্য নিম্নরক্তচাপজনিত হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোগকে দায়ী করে। তবে তারাও স্বীকার করেছে, এই রোগের সঙ্গে লিচুর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। বিহারের জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার বলেন, এ বছর রোগে আক্রান্তের পরিমাণ বেশি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা আমাদের বলেছেন যে লিচুতে এমন এক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক আছে যা শিশুদের যকৃতে আক্রমণ করে। আর যখন গরম বাড়লে বিষাক্ত রাসায়নিক নির্গত হতে থাকে। তিনি বলেন, মুজাফফরপুরে প্রচুর লিচু উৎপাদন হয়। আমাদের সন্দেহ হচ্ছে রোগের ব্যাপারে লিচুর কোনও ভূমিকা আছে। এটাও সত্যি যে যখন গরম কমে, বৃষ্টি হয় তখন কোনও লিচু থাকে না, থাকে না এমন কোনও রোগও।    

২০১৭ সালে দ্য ল্যানসেটে মেডিকেল জার্নালে ২০১৪ সালের এনসিফালোপ্যাথি রোগের প্রকোপ নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই রোগের মধ্যে একটি কারণ লিচুও হতে পারে।  মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এনসিফালোপ্যাথি নামের এই রোগের মূল কারণ এনসিফালাইটিস। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এই রোগে আক্রান্ত গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের বেশিরভাগ সময়ই কাটতো লিচু খেয়ে। বাড়িতে তারা স্বাভাবিক খাবার খেতে চাইতো না। বিশেষ করে রাতের খাবার না খাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের হার দ্বিগুণ। গবেষকদের দাবি, এতে করে সান্ধ্যকালীন হাইপোগ্লাইসিমিয়া হয়ে থাকতে পারে।

ল্যানসেটে প্রকাশিত ওই গবেষণায় বলা হয়, শিশুদের রক্তে সুগারের পরিমান কমে গেলে দেহে গ্লুকোজ তৈরির জন্য ফ্যাটি অ্যাসিড উৎপন্ন হয়। অসুস্থ শিশুদের ইউরিন নমুনায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রেই লিচুর বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কাঁচা ফলেও এই রাসায়নিক রয়েছে। দেহে এই রাসায়নিকের উপস্থিতিতে গ্লুকোজ তৈরি প্রক্রিয়া মারাত্মক ব্যহত হয়। ফলে রক্তে সুগারের পরিমাণ কমে যায় এবং মস্তিস্ক দাহ শুরু হতে পারে।

সঞ্জয় কুমার বলেন, বেশিরভাগ আক্রান্ত শিশুই নিম্নবিত্ত পরিবারের।  অপুষ্টির শিকার ওই শিশুদের  শরীরে সুগারের অভাব রয়েছে। তিনি বলেন,যকৃতে থাকা গ্লাইকোজেনের মাধ্যমে শরীরের কমে যাওয়া সুগারের ভারসাম্য রক্ষা হয়। তবে কোনও অতিরিক্ত সুগার না থাকলে কেবল বিষাক্ত রাসায়নিক নির্গত হয়।

রাজ্য কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুরা যেন পর্যাপ্ত পানি পান করে এবং খালি পেটে ঘুমাতে না যায়।

 

/এমএইচ/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ