বিরামপুর জমিদার বাড়ি সংস্কার করলে গড়ে উঠবে পর্যটন কেন্দ্র

Send
হালিম আল রাজী, হিলি
প্রকাশিত : ১৯:৫৫, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৪, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

বিরামপুর জমিদার বাড়িদিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে খানপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে রয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ি। দূর- দূরান্ত থেকে এটি দেখতে আসেন পর্যটকরা। অনেকে ভবনের ভেতরে-বাইরে ছবি তোলেন। সংস্কার করলে এই বাড়িকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংস হতে বসেছে জমিদার বাড়িটি। ইতোমধ্যে ভেঙে পড়তে শুরু করেছে এর অবকাঠামো। সংস্কারের মাধ্যমে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে বাড়িটি হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তাদের আশা, তখন দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়বে।

বিরামপুর জমিদার বাড়িপাশের উপজেলা থেকে জমিদার বাড়িটি দেখতে এসেছেন মিনহাজুল ইসলাম ও আনিছুর ইসলাম। তারা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জমিদার বাড়িটি প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহাসিক নিদর্শনের প্রতীক। এখানে এসে আমরা মুগ্ধ। সংশ্লিষ্টদের উচিত এটি রক্ষণাবেক্ষণ করা। বাড়িটির সংস্কার হলে আরও সুন্দর লাগবে। তখন দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়তে পারে।’

জমিদার বাড়ি সংস্কার করা জরুরি বলে মনে করেন বিরামপুরের খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব হোসেন। জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তার কথায়, ‘জমিদার বাড়িটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এটি সংস্কার করলে একটি ঐতিহ্য রক্ষা হবে। একইভাবে সাধারণ মানুষের কাছে দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে এই বাড়ি।’

বিরামপুর জমিদার বাড়িবিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রাচীন জমিদার বাড়িটির বয়স প্রায় ২০০ বছর। তিনি স্বীকার করেছেন, সংস্কারের অভাবে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এটি। তার আশ্বাস, ‘বাড়িটি সংস্কার করে হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে কিছুদিনের মধ্যে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ও জেলা পরিষদের কাছে চিঠি লিখবো। আশা করি, এটি সংস্কারের পর জেলা পরিষদ ডাকবাংলো হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর পদক্ষেপ নিলে বাড়িটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ফলে বিরামপুরের এই অংশে পর্যটক সমাগম বাড়বে।’

বিরামপুর জমিদার বাড়িজমিদার বাড়িটির ইতিহাস
তৎকালীন ফুলবাড়ির জমিদার তার কর্মচারী রাজকুমারকে খাজনা আদায়ের জন্য রতনপুর কাচারি বাড়িতে পাঠান। তিনি এসে অত্যন্ত দক্ষতা ও নৈপুণ্যের সঙ্গে আশেপাশের প্রায় পাঁচ-ছয়টি উপজেলার খাজনা আদায় করতেন। খাজনা আদায়ের দক্ষতা দেখে জমিদার নিজের বোনকে রাজকুমারের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের উপঢৌকন হিসেবে তাকে উপহার দেওয়া হয় ৬৫০ বিঘা জমি। পরে রাজকুমার নিজের বুদ্ধিমত্তায় আরও প্রায় সাড়ে ৫০০ বিঘা জমির মালিক হন। এ নিয়ে তার জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ১২০০ বিঘা।

রতন কুমার ও রক্ষনী কুমার নামে রাজকুমারের দুই সন্তান ছিল। ১৬ বছর বয়সে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে ডুবে রতন কুমারের মৃত্যু হয়। ছেলের শোকে কিছুদিন পর বাবা মারা যান। পরে এককভাবে জমিদার বাড়ির মালিক হন রক্ষনী কুমার। জমিদার প্রথা উচ্ছেদের পর তাদের সমস্ত জমাজমি সরকার বাজেয়াপ্ত করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রক্ষনী কুমার ভারতে চলে যান। তারপর আর ফেরেননি। তখন থেকে জমিদার বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। পরে সেই বাড়ির একটি কক্ষে ইউনিয়ন ভূমি অফিস করা হয়। তবে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরে পাশে নতুনভাবে কার্যালয় স্থাপন করা হয়।

/জেএইচ/
টপ