behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

কানাডার সাম্প্রতিক সাহিত্যের চিত্র

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল২৩:৪৮, এপ্রিল ২০, ২০১৭

বাতাসে ডুবে থেকে আমরা বাতাসের গুরুত্ব বুঝি না, তেমনি কানাডায় থেকেও আমরা কানাডা প্রবাসীরা এ দেশটির শিল্প-সাহিত্যের খুব একটা খবরাখবর রাখি না। অন্যান্য দেশের চেয়ে কানাডিয়ান সাহিত্য কিছুটা ভিন্ন। ভিন্ন এই অর্থে যে, বিভিন্ন ভাষা ও বর্ণের সমন্বয়ই কানাডার মূল সংস্কৃতি। দুই শতাধিক ভাষায় কথা বলার এই দেশ বহুজাতিক সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। সে জন্য অন্য দেশের চেয়ে কানাডা ব্যতিক্রম।
অনুবাদ পৃথিবীর সকল সাহিত্যকে কাছে নিয়ে আসে। কিন্তু সেই অনুবাদ বাংলায় খুব একটা নেই বললেই চলে। তবে এখন দু’এক জন এগিয়ে আসছেন। যেমন, কবি এবং সাংবাদিক পারভেজ চৌধুরী ইদার্নিং আগ্রহ নিয়ে কানাডিয়ান সাহিত্য নিয়ে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে তাঁর ‘সমকালীন কানাডিনায় কবিতা’র বই প্রকাশ পেয়েছে। আমি কানাডায় অবস্থান করেও তার মাধ্যমে অনেক তাজা খবরাখবর পেয়ে যাই। এছাড়াও ভ্যাঙ্গুভারের শাহানা আকতার মহুয়া কানাডিয়ান আদিবাসী নারী কবির কবিতার অনুবাদ করে বের করেছেন ‘দূরের ক্যানভাস’। পারভেজ এবং মহুয়া বাঙালি পাঠকদের কাছে কিছুটা হলেও কানাডার কবিতা তুলে ধরেছেন।

পাঠকের সেই তৃষ্ণাগ্রহ থেকে গত এক বছরের উল্লেখযোগ্য সাহিত্য এবং সাহিত্যিকদের চালচিত্র উপস্থাপন করছি-


কানাডার দ্যা পার্লামেন্টারি পয়েট লরিয়েট

কানাডার সভাকবি দ্যা পার্লামেন্টারি পয়েট লরিয়েট হিসেবে নির্বাচিত হলেন কবি জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক। সম্প্রতি সরকারিভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। তিনি দুই বছরের জন্য লেখক মিশেল প্লিও-এর স্থলাভিসিক্ত হলেন।
সমাজ চেতনায় ঋদ্ধ এলিয়ট ক্লার্ক একাধারে কবি, গীতিকার, সাংবাদিক, গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬০ সালে নোভা স্কোশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ক্লার্ক ইংরেজী সাহিত্যের স্নাতক ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াটারলু, স্নাতকোত্তর ডালহৌসী ইউনিভার্সিটি এবং পিএইচডি করেন কুইন্স ইউনির্ভাসিটি থেকে। এখন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। থাকেন টরন্টোতে।

আফ্রো-আমেরিকা-কানাডিয়ান সপ্তম প্রজন্মের এই কবি কানাডায় ‘আফ্রোকাডিয়া’ নামে এক সাংস্কৃতিক ধারার পরিচিত করেন। জনপ্রিয় কবি ও লেখক জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক অনেক পুরস্কার এবং সন্মাননা পেয়েছেন। তার মধ্যে গভর্নর জেনারেল এওয়ার্ড, ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, ট্রুডো ফেলো পুরস্কার অন্যতম।

ইংল্যান্ডের মতো সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ‘দ্যা পার্লামেন্টারি পয়েট লরিয়েট’ শুধুই সম্মানজনক পদ নয়; রয়েছে সাংবিধানিকভাবে কিছু দায়িত্বও।


ক্যারেলিন, কেভিন এবং স্যু পেলেন রেলিট এওয়ার্ড

কানাডিয়ান লেখকদের জন্য প্রবর্তিত সাহিত্য পুরস্কার রেলিট এওয়ার্ড ২০১৬ অর্জন করলেন কথাশিল্পী ক্যারেলিন ব্রুকস, ছোটগল্পকার কেভিন হার্ডক্যাসল এবং কবি স্যু গোয়েট।
ক্যারেলিন তার উপন্যাস ‘ওয়ান হান্ড্রেড ডেস অফ রান’, কেভিন তার ছোটগল্পের বই ‘ডেব্রিস’ আর এবং স্যু গোয়েট ‘দ্যা ব্রিএফ রেইনকেমাশন এ গার্ল’ কাব্যগ্রন্থের জন্যে এই সন্মানজনক পুরস্কার পেলেন । ২০০০ সালে চালু করা নিউ ফাউন্ডল্যান্ড থেকে প্রতি বছর কানাডিয়ান লেখকদের দেয়া হয় এ পুরস্কার।
নিউ ফাউন্ডল্যান্ড চলচ্চিত্রকার ও লেখক কেনেথ জে হার্ভে ২০০০ সালে চালু করেন এই পুরস্কার। এটিকে মূলধারার পুরস্কার যেমন- গিল্লার পুরস্কার অথবা গভর্নর জেনারেলের পুরস্কারের বিকল্প হিসাবে ভাবা হয়।

না ফেরার দেশে আদিবাসী লেখক ওয়াগামেস

কানাডিয়ান খ্যাতিমান আদিবাসী লেখক, সাংবাদিক এবং সাহিত্যক রিচার্ড ওয়াগামেস এ বছর ১০ মার্চ চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তিনি অন্টারিতে জন্মগ্রহণ করলেও বৃটিশ কলম্বিয়ায় বসবাস করতেন। ৬১ বছর বয়স্ক ওয়াগামেস ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে অতিথি লেকচারার ছিলেন।
১৯৯৪ সালে প্রকাশ পায় তার প্রথম উপন্যাস ‘কিপার’এন মি’। বইটির জন্য তিনি রবার্টা রিস’এর আলবার্তো পুরস্কার পান। ওয়াগামেসের ছ’টি উপন্যাসের মধ্যে জনপ্রিয় উপন্যাস ‘ইন্ডিয়ান হর্স’ বার্ট ওয়ার্ড ফর ফার্স্ট ন্যাশন এবং ‘ওয়ান স্টোরি ওয়ান সং’ এর জন্য জর্স রায়গা এওয়ার্ড ফর সোস্যাল এওয়ারন্যাস ইন লিটারেচার পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি পেয়েছেন আরো একাধিক সন্মাননা। উপন্যাস ছাড়াও রয়েছে তার স্মৃতিকথা, সংবাদপত্রের কলাম এবং একটি কবিতার বই ‘রানওয়ে ড্রিমস’।

রিচার্ড ওয়াগামেস অনেক সংগ্রামের মধ্যে দুঃখ-কষ্টের ভেতর বেড়ে উঠেন এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার লেখায় ফার্ট এনারেশন অর্থাৎ কানাডিয়ান আদিবাসীদের ঐতিহ্যের পাশাপাশি তাদের বেদনার কথাও তুলে ধরেছেন।

আরবিসি টয়লর সাহিত্য পুরস্কার পেলেন রস কিং

কানাডার অন্যতম সন্মানজনক সাহিত্য পুরস্কার আরবিসি টয়লর প্রাইজ ২০১৭ অর্জন করলেন কথাশিল্পী এবং ইতিহাস লেখক রস কিং। ১০১টি বইকে অতিক্রম করে অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত তার ‘মাড এনচান্টম্যন্ট’ গ্রন্থ পঁচিশ হাজার ডলারের পুরস্কার এনে দিলো।
বিখ্যাত ফরাসী ইম্প্রেশনিস্ট চিত্রশিল্পী ক্লোদ মোনে এবং তার বিখ্যাত ওয়াটার লিলিস চিত্রসিরিজকে উপজীব্য করে লেখা এই গ্রন্থটিকে ক্লোদের জীবনীগ্রন্থ বলা যেতে পারে । সাসকাচুয়ানে জন্মগ্রহণকারী ৪৫ বয়স্ক ইংরেজী সাহিত্যে ছাত্র রস কিং মূলত কথাশিল্পী হলেও পুরস্কারটি পেয়েছেন ননফিকশনে। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘ডমিনিয়ন’। পুরস্কার পেয়েছেন একাধিক।
উল্লেখ্য ২০০০ সাল থেকে টয়লর ফাউন্ডেশন এবং আরবিসি ব্যাংক যৌথভাবে এই প্রাইজ প্রবর্তণ করে। তরুণ লেখকদের উৎসাহ দেয়ার জন্য ১০০০০ ডলারের আরো একটি পুরস্কার রয়েছে।

আঁদ্রে পেলেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী সাহিত্য পুরস্কার

কানাডিয়ান লেখক আঁদ্রে অ্যালেক্সিস ২০১৭ সালের জন্য পেলেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী সাহিত্য পুরস্কার ‘উইন্ডহাম ক্যাম্পব্যাল সাহিত্য পুরস্কার’। যার অর্থমূল্য ১৬,৫০০ মার্কিন ডলার, প্রায় ২১৫,০০০ কানাডিয়ান ডলার।
অন্ড্রে এ্যালেক্সিস কানাডিয়ান কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক এবং নাট্যকার। ১৫ জানুয়ারি ১৯৫৭ সালে স্পেনের ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোতে জন্মগ্রহণ করলেও বেড়ে উঠেছেন অটোয়ায়। এখন টরেন্টোতে বসবাস করছেন।
১৯৯৭ সালে অন্ড্রের প্রথম উপন্যাস ‘চাইল্ডহুড’ প্রকাশিত হয়। যা একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছে। ২০১৫ সালে প্রকাশিত তার আরেক আলোচিত উপন্যাস ‘ফিফটিন ডগস’ সুনাম এবং পুরস্কার অর্জন করে। যেমন, বুকস ইন কানাডা ফার্স্ট নোবেল এওয়ার্ড, ট্রিলিউম এওয়ার্ড, স্কোসিয়াব্যাংক গিলার প্রাইজ, রোজার্স রাইটারস ট্রাস্ট ফিকসন প্রাইজ, টরন্টো বুক এওয়ার্ড প্রভৃতি।
ইতোপূর্বে আরো দুই কানাডিয়ান লেখক এই মূল্যবান পুরস্কার পান। তারা হলেন আমেরিকান-কানাডিয়ান নাট্যকার হান্না মোস্কোভিতচ ২০১৬ সালে এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার লেখক ন ভাইলাএন্ট কথাসাহিত্যের জন্য ২০১৪ সালে এই পুরস্কার জিতেন।

কানাডায় শিল্পীর তুলিতে কবিদের প্রতিকৃতি

টরন্টোর অদূরে উইন্ডসরে শিল্পী ম্যালোনি জেনিসে বারলো এক এক করে এঁকে যাচ্ছেন কানাডার জীবিত কবিদের প্রতিকৃতি। যা কানাডার সমকালীন কবি ও কবিতার একটি অনন্য মাইলফলক।
২০১৫ থেকে তিনি এই সিরিজ শুরু করেন। ইতোমধ্যে এঁকেছেন কবি মার্টি গ্যারভিস, ক্যাট হারগ্রিভেস থেকে শুরু করে কবি ক্যাথেরীন গ্রাহাম, ব্রুস মায়ারসহ ১৫ জনের প্রতিকৃতি। যা তার স্টুডিও থেকে স্থানীয় বিব্লোয়াসিস বইয়ের দোকানে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং মিডিয়ায় তা প্রচার হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের চিত্রশিল্পী এ্যান মিকলস্কিও কবিদের প্রতিকৃতি সিরিজ আঁকা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ৪৩ বছর বয়স্কা কবি ও চিত্রশিল্পী ম্যালোনি জেনিসে বারলো জানান, ২০১৬ সালব্যাপী নির্ধারিত কবিদের প্রতিকৃতি আঁকা শেষ হলে পুরো কানাডায় ভ্রাম্যমান প্রদর্শণী শুরু হবে এবং প্রকাশিত হবে একটি কবি প্রতিকৃতি সংকলন। উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী ম্যালোনি জেনিসে বারলো নিজেও একজন কবি।

বেস্ট সেলার ‘ফিফটিন ডগস্’

এ সময়ে কানাডার বহুল বিক্রিত বই ‘ফিফটিন ডগস্।’ এই মানবিক উপন্যাসের রচয়িতা অন্ড্রে এ্যালেক্সিস, কানাডিয়ান নাট্যকার, কথাশিল্পী এবং প্রাবন্ধিক। জন্ম ১৫ জানুয়ারি ১৯৫৭। অটোয়ায় বেড়ে উঠলেও বর্তমান বসবাস করছেন টরেন্টোতে। প্রথম উপন্যাস ‘চাইল্ডহুড’ (১৯৯৭) এবং ‘ফিফটিন ডগস’ (২০১৫) উপন্যাসের জন্যে অর্জন করেন একাধিক পুরস্কার। ২০১৭ সালে অর্জন করেন পৃথিবীর অন্যতম দামী উইন্ডহাম ক্যাম্পব্যাল সাহিত্য পুরস্কার। ‘ফিফটিন ডগস্’ এর আগে বহুল বিক্রিত ফিকশন ছিলো গর্ভনর জেনারেল পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘দি ব্রেক’।

টেইক এ বুক গিভ এ বুক

টরন্টোর ফুটপাতে হাঁটছেন, দেখবেন আপনার চারপাশে ফুটে আছে নানা রঙের, নানা জাতীর ফুল! পার্কে হাঁটছেন, সেখানেও পাবেন নানান আধুনিক ব্যবস্থা। পাড়া-মহল্লায়, আবাসিক এলাকায় হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ চমকে গিয়ে থমকে দাঁড়াবেন। দেখবেন, কোথাও গাছের উপর, কোথাও দেয়ালে কবুতরের খোপের মতো ছোট ছোট ঘর, চমৎকার ডিজাইনের কাঠের বাক্স। সামনে কাঁচের পাল্লা। নান্দনিক ফ্রি লাইব্রেরি। তাতে লেখা- 'Take a Book, Leave a Book।' ভেতরে থরে থরে সাজানো বই আর বই। পাল্লায় কোনো তালাচাবির ব্যবস্থা নেই। কোনো একটি বই পছন্দ হলে তা বাড়ি নিয়ে যান। পড়ুন এবং ইচ্ছে হলে ফেরৎ দিয়ে যান। আর যদি তা নিজের সংগ্রহে রাখতে চান তো রাখুন। আবার চাইলে আপনার সংগ্রহের কোনো বই যা আপনি অন্যকে পড়তে দিতে চান, রেখে আসুন পাহারাদার বা তালাচাবিহীন এ ক্ষুদে লাইব্রেরিতে।

একদিনের বইমেলা

খোলা আকাশের নিচে টরন্টোর ডাউন টাউনের হারবার ফ্রন্টে মন মাতানো লেকের পাড়ে Word on The Street শীর্ষক দিনব্যাপী জমজমাট বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় প্রতি বছর ২৫ সেপ্টেম্বর। কবিতাপাঠ, সেমিনার, নাটক, টক শো, লেখক-পাঠক-প্রকাশকের আড্ডা, খ্যাতিমান লেখকদের অটোগ্রাফ, হ্রাসকৃত মূল্যে ভালো ভালো বইসহ নানান রকম আয়োজনে সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে চমৎকার উত্সব- ওয়ার্ড অন দ্য স্ট্রিট- এতে অংশ নেয় নামীদামী সংস্থা।
শুধু টরন্টোতে নয়; এই বইমেলা কানাডার বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের ১৭ তারিখে হ্যালিফেক্সে, ১৮ তারিখে সাসকাচোয়ান এবং ২৪ তারিখে লেথব্রিজে ওয়ার্ড অন দ্য স্ট্রিট অনুষ্ঠিত হয়।


১৯৭১ নিয়ে বই আমেরিকান লেখকের কানাডিয়ান পুরস্কার!

১৯৭১ নিয়ে লেখা ‘ব্লাড টেলিগ্রাম : নিক্সন, কিসিঞ্জার অ্যান্ড এ ফরগটেন জেনোসাইড’ গ্রন্থটি ২০১৪ সালের জন্য কানাডিয়ান পুরস্কার 'লাওনেল গেলবার প্রাইজ' অর্জন করলেন গ্যারি ব্যাস। নিউজার্সির প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও পররাষ্ট্রনীতির অধ্যাপক গ্যারি ব্যাস সম্প্রতি এ পুরস্কারটি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্বল কনফারেন্স হল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। বইটিতে তিনি মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা, মানবতা এবং সামরিকজান্তা ইয়াহিয়া, নিক্সন, কিসিঞ্জারের ভূমিকা তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, এ পুরস্কারটি কানাডার প্রয়াত কূটনীতিক লাওনেল গেলবার (১৯০৭-১৯৮৯) স্মরণে ১৯৮৯ সালে প্রবর্তিত। পুরস্কারজয়ীর জন্য রয়েছে ১৫ হাজার ডলার। প্রতি বছর তা ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন ও টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঙ্ক স্কুল অব গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের সহযোগিতায় লাওনেল জেলবার ফাউন্ডেশন থেকে দেয়া হয়।

একাত্তরে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্থার কেন্ট ব্লাড কর্তৃক ওয়াশিংটনে প্রেরিত ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’গুলো স্নায়ু-যুদ্ধকালীন হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ কর্মপ্রণালীকে তুলে ধরা হয়েছে।

একমাত্র সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী!

এলিস মুনরো সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন ২০১৪ সালে। সমসাময়িক ছোটগল্পের মাস্টার ৮৫ বছর বয়স্ক এলিস মুনরো বলেন, আমি বিস্মিত, আনন্দিত এবং খুব কৃতজ্ঞ। আমার এই পুরস্কার কানাডিয়ানদের জন্য সন্মান। আমি খুব খুশি।
বাবা রবার্ট এরিক একজন কৃষক আর মা অ্যান ক্লার্ক। তাদের ঘরে ১৯৩১ সালের ১০ জুলাই ওন্টারি’র উইংহামে জন্মগ্রহণ করেন। ইতোপুর্বে তিনি তার লেখালেখির স্বীকৃতিস্বরূপ বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার (২০০৯), কানাডার সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার গভর্নর জেনারেল পদকসহ অনেক সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জনের প্রথম কানাডীয় লেখক।

উল্লেখ্য, প্রথম কানাডিয়ান সাহিত্যিক হিসেবে তিনি এ পুরস্কার অর্জন করলেন। কারণ, ১৯৭৬ সালে সাহিত্যে নোবেল অর্জনকারী আমেরিকান সাউল বেলো কানাডার বংশোদ্ভূত লেখক। তার জন্ম ক্যুইবেকের লেসিনে হলেও তিনি শৈশব থেকে শিকাগোয় বেড়ে উঠেন। ফলে কানাডার ভাগ্যে তা জুটেনি, স্থান পায় যুক্তরাষ্ট্র।

 

কৃতজ্ঞতা : কানাডার বিভিন্ন মিডিয়া এবং পারভেজ চৌধুরী

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ