behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

নো ওয়ান কিল্‌ড তনু!

উদিসা ইসলাম১৪:৪১, এপ্রিল ০৫, ২০১৬

বার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও এক পেগ মদ চায় বিত্তশালী রাজনীতিক বাবার মাতাল সন্তান। কিন্তু মদ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বার অ্যাটেনডেন্ট জেসিকা। এরপরই জেসিকাকে শ’ খানেক মানুষের চোখের সামনে খুন করা হয়। এরপর এই খুনের আলামত নষ্ট করা থেকে শুরু করে নিহতের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হয়। এক সময় বেকসুর খালাস দেওয়া হয় হত্যাকারীকে। পরের দিনের পত্রিকার শিরোনাম হয়- ‘নো ওয়ান কিল্‌ড জেসিকা।’ প্রতিবাদে উত্তাল হয় দিল্লি। জেসিকার জন্য ন্যয়বিচার চেয়ে গড়ে ওঠে নাগরিক প্রতিবাদ। আর টেলিভিশন সাংবাদিকের একের পর এক তথ্যসূত্র ধরে ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ মধ্য দিয়ে মুখোশ উন্মোচিত হয় জেসিকার খুনীদের।

ভারতের এই ঘটনাটি হয়তো অনেকের জানা। কারণ এ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘নো ওয়ান কিল্‌ড জেসিকা’ দেখেছেনও অনেকে। এরই অবলম্বনে তনু হত্যার প্রথম দফা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে এক ক্যাম্পেইন, স্যাটায়ার ক্যাম্পেইন, শিরোনাম ‘নো ওয়ান কিল্‌ড তনু’।

গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে কলেজ শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যার ১৫ দিনের মাথায় সোমবার (৪ এপ্রিল) প্রথম দফা প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ হয়। তাতে বলা হয়েছে, তনুকে ধর্ষণের কোনও আলামত পাওয়া যায়নি এবং কি কারণে তনু মারা গেছেন তাও বোঝা যায়নি। এখন দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা।

তনুর মৃতদেহ উদ্ধারের পর তাকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে সেসব নিয়ে নানা ধরণের তথ্য আসছে। একটার পর একটা তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন এবং প্রথম ময়নাতদন্ত করার ১০ দিন পর আবারও লাশ তুলে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হওয়ায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন প্রতিবাদকারীরা।

প্রথম দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত মেলেনি শোনার পর সাধারণ মানুষ বলিউডের সাড়া জাগানো সিনেমা ‘নো ওয়ান কিল্‌ড জেসিকার’ অবলম্বনে ব্যাঙ্গাত্মক স্ট্যাটাস, সিনেমা-পোস্টারসহ নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

‘নো ওয়ান কিল্ড তনু’, ‘কেস ক্লোজড’ ছাড়াও সানি লিওনের ‘দো পেগ মার ওর ভুল যা' গানের কলি নিয়ে চালাচ্ছেন এই প্রচার। 

২০ মার্চ খুন হওয়ার আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে পুলিশ ধারণা করলেও একে একে পাল্টে যাচ্ছে দৃশ্যপট। এরপরই জনমনে প্রশ্ন উঠেছে তবে কি দ্রুতই তনুর খুনের রহস্যভেদ সম্ভব হচ্ছে না?

লণ্ডন প্রবাসী নাদিয়া ইসলাম তনুর ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত না পাওয়া এবং খুনের সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে না পাওয়া নিয়ে ব্যঙ্গ করে এবং যুক্তি দিয়ে নোট লিখেছেন।

তিনি বলছেন, “তনুর গোসল করাইয়া কবর দেওয়া লাশের দ্বিতীয় পোস্টমর্টেমে আপনি ট্রেইস এভিডেন্স কিছু পাবেন না এইটা পাগলেও বোঝেন। প্রক্রিয়াগত ভুল শোধরানোর জায়গা ‘১০ দিন পর’ দ্বিতীয় পোস্টমর্টেম না। এখন ‘ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি’ মন্তব্য কার জন্য করতেছেন?  আপনি কি আদৌ জানেন, শরীরে সেমিনাল কন্সটিটিউয়েন্টস পাওয়ার অর্থ সোজাসাপ্টা ধর্ষণ, সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই, কিন্তু না পাওয়ার অর্থ ধর্ষণ ঘটে নাই, তা না। জানেন নাকি?”

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট শাম্মী হক সানি লিওনের ‘দো পেগ মার ওর ভুল যা' গানটি শেয়ার দিয়ে লিখেছেন, “আমি দু পেগ মেরে দিয়েছি, আপাতত তনু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী আন্দোলনকারী যে চারজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন, তা একটু ভুলতে পেরেছি..যদি বলে, তনু খুন হয়নি কিংবা ওই আন্দলনকারীরা নিজেরাই নিজেদের গুলি করেছে, তা ভোলার জন্য আগাম প্রস্তুতি আরকি!”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক গীতিআরা নাসরিন একটি পোস্টার শেয়ার দিয়েছেন। যেখানে লেখা নো ওয়ান কিল্‌ড তনু, কেস ক্লোজড। তিনি শেয়ার করার সময় ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন ‘শীঘ্রই শুভমুক্তি।’

অ্যাক্টিভিস্ট মারুফ বরকত ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টারসহ লিখেছেন, ‘তনু ধর্ষিত হয়নি। কারণ: তনু হিজাব পরা ছিল, ধর্ষণের কোনও ভিডিও পাওয়া যায়নি, তনু নিজে কোনও স্ট্যাটাস লেখেনি যে, তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে...।’

কুমিল্লার সাংবাদিক রাসেল মাহমুদ লিখেছেন, ‘খবরে প্রকাশ, তনুকে ধর্ষণ করা হয়নি। কয়েকদিন পর হয়তো শুনতে হবে তনুকে হত্যাও করা হয়নি।...এটা বিরোধিদের চক্রান্ত…।’

সাংবাদিক ফারহানা মিলি লিখেছেন, ‘ধর্ষণের শিকার না হলেও মেয়েটি যে খুন হয়েছেন, তার চেয়ে বড় সত্য তো নেই। সান্ত্বনা যে, মেয়েটি খুন হয়েছেন সে কথা কোনও রিপোর্টই অস্বীকার করতে পারবে না।’

 

/এসটি/আপ- এপিএইচ/

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ