শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন সহসাই শেষ হচ্ছে না

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ১১:৫০, মার্চ ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০০, মার্চ ২২, ২০১৯

এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকদের আমরণ অনশন (ফাইল ফটো)বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেশিরভাগ দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কঠোর আন্দোলনমুখী অবস্থানে রয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। আগামী বাজেটকে সামনে রেখে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন-কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পারেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র মতে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজ সরকারিকরণ, ইবতেদায়ি শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তৈরি করতে নীতিমালা প্রণয়ন এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন করে এমপিওভুক্তসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেশিরভাগ দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আন্দোলনে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাজেটের আগেই এমপিওভুক্ত করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে একসঙ্গে কত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা যাবে তা বলতে পারছি না। পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের দাবি আইনগতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নতুন করে এমপিওভুক্ত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা হয়েছে ২০১৮ সালে। এই আবেদনের পর ওই সময়ের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব জানিয়েছিলেন, এক হাজারের মতো নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) এমপিওভুক্ত করা সম্ভব হবে। যদিও ছয় হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন এমপিও পাওয়ার জন্য আবেদন করে। অর্থ মন্ত্রণালয় যে বরাদ্দ অনুমোদন দেবে সেই হিসেবে এমপিও দেওয়া যেতে পারে এক থেকে দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে এখন পর্যন্ত কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই এমপিওভুক্তির আওতায় নেওয়া হয়নি। আবেদনের পর নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন একযোগে সব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার দাবি জানায়। বর্তমানে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দাবি পূরণ না হলে লাগাতার আন্দোলন-কর্মসূচি চলবে। আমরা রাস্তায় অবস্থান নিয়েছি, রাস্তাতেই থাকবো। ২০১৮ সালের ১১ জুলাই, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও সাবেক শিক্ষা সচিবের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দাবি পূরণ করা হবে বলে আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও কোনও অগ্রগতি দেখছি না।’ তিনি বলেন, ‘দেশে একাডেমিক স্বীকৃতি পাওয়া নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৫ হাজার ২০০। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত এমপিওভুক্ত করতে হবে। তা না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে ২৬ হাজার ১৫৯টি নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়েছে। অথচ প্রাথমিকের সমমান স্বতন্ত্র এবতেদায়ি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেতন কাঠামোর আওতায় আসেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে এবতেদায়ি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি বেতন কাঠামোর আওতায় নিতে ২০১৮ সালের শেষের দিকে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু নতুন সরকার আসার পর গত কয়েক মাসেও এর কোনও অগ্রগতি নেই।
এ বিষয়ে 'বাংলাদেশ স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, 'বেতন কাঠামোর জন্য নীতিমালা করেছে সরকার। এখনও বেতন কাঠামো হয়নি। অথচ একসঙ্গে নিবন্ধন পাওয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়েছে। আমরা সরকারিকরণের দাবি করিনি। বেতন-ভাতা চাচ্ছি, দেওয়া হবে বলে শুনছি, কিন্তু এখনও কিছুই করা হয়নি। প্রয়োজনে আমরা বাজেটের আগে দাবি আদায়ে আন্দোলনে যাবো।’
এদিকে গত জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্টের (সেকায়েপ) অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষকরা আন্দোলন করে আসছেন। একপর্যায়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন। এই বিষয়টির সুরাহা হলেও সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (সেসিপ) এক হাজার ৪৪৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এখনও রাজস্ব খাতে নেওয়া হয়নি। আগামী ডিসেম্বরে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর যদি এই জনবলকে রাজস্ব খাতে নেওয়া না হয় তাহলে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীও ২০২০ সালে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষকরা জানান, নতুন ২৬ হাজার ১৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এই সরকারের গত মেয়াদে বেসরকারি থাকাকালে যারা প্রধান শিক্ষক ছিলেন তাদের অনেককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে দীর্ঘদিন ঘুরেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও হতে পারেননি। এছাড়া প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের দাবি ছিল দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ ও গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা দেওয়া। এছাড়া সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতনের দাবিও রয়েছে। এসব দাবির মধ্যে প্রধান শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়ন করতে হাইকোট গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রায় দিয়েছেন। তবে নতুন সরকারি হওয়া প্রধান শিক্ষকদের দাবি এখনও ঝুলে রয়েছে। আর প্রধান শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়ন করার সঙ্গে সঙ্গেই সহকারী শিক্ষকরা তাদের দাবি (১১ গ্রেডে বেতন নির্ধারণ) নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করতে পারেন।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদদের সাধারণ সম্পাদক এস এম আব্দুল গফুর বলেন, ‘বর্তমান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন দাবি বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি যদি প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করেন, তাহলে শিক্ষকরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।’

আরও পড়ুন: প্রাথমিকের সমমর্যাদা রেখেই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি নীতিমালা অনুমোদন

                আবারও আন্দোলনে যাচ্ছেন শিক্ষকেরা!

               দাবি মানার আশ্বাস না পাওয়ায় জোরদার হচ্ছে শিক্ষকদের আন্দোলন

               অনশন ভঙ্গের ঘোষণা দিলেন নেতারা, সাধারণ শিক্ষকদের ‘না’

              ‘অনশন করে বেতন-ভাতা বাড়ানো যাবে না’



                 

 

 

/ওআর/

লাইভ

টপ