পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেডিং পুনর্গঠন প্রস্তাবে থাকছে ‘এক্সিলেন্ট’

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ১৪:০২, জুন ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৬, জুন ১৯, ২০১৯

পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেডিং পদ্ধতি

দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে পরিচালিত পাবলিক পরীক্ষার গ্রেডিং পদ্ধতি পুনর্গঠনের প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে কিউমুলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ (সিজিপিএ) পদ্ধতির আদলে গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ (জিপিএ) পদ্ধতির ‘শ্রেণি ব্যাপ্তি পুনর্গঠন’ প্রস্তাবনা তৈরি করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। এই পদ্ধতিতে জিপিএ-৫ বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডসহ ১০টিরও বেশি গ্রেড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্রেড নির্ধারণে নম্বরের শ্রেণি ব্যাপ্তি কমিয়ে ৫ নম্বর করার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়ায়। প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ ফলকে বলা হবে ‘এক্সিলেন্ট’। আগামী ২৬ জুন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, প্রাপ্ত ফলে শিক্ষার্থীর বৃত্তি ও চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগ পরীক্ষার প্রার্থী বাছাই সমস্যার সমাধান এবং জিপিএ চালুর আগের ফলের সঙ্গে গ্রেডিং সমন্বয় করতেই নম্বরের শ্রেণি ব্যাপ্তি পুনর্গঠনের এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীর স্ট্যান্ডার্ড মূল্যা‌য়ন সহজ হবে। গ্রেড দেখেই জানা যাবে, তার প্রাপ্ত নম্বর কত। আর এতে জিপিএ-৫ পাওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা চাপমুক্ত থাকবে।’
অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক আরও বলেন, ‘আমরা একাধিক প্রস্তাব করেছি। শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আগামী বৈঠকে (২৬ জুন) প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে। এ বছর সম্ভব না হলেও আগামী বছর থেকে পুনর্গঠন চূড়ান্ত হলে এই এই পদ্ধতি চালু করা হবে।’
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় বিদ্যমান গ্রেডিং পদ্ধতি নিয়ে দেশে-বিদেশে শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা ভর্তির ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হচ্ছে। এসব সমস্যা দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘শ্রেণি ব্যাপ্তি পুনর্গঠনে আমাদের নানা রকম প্রস্তাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ গ্রেড ৯০ থেকে ১০০ নম্বর অথবা ৯৫ থেকে ১০০ হতে পারে। আবার ৮০ থেকে থেকে ৮৯ নম্বর দ্বিতীয় গ্রেড হতে পারে। ৮০ থেকে ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনটি গ্রেড করারও প্রস্তাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৫ থেকে ১০০ পেলে ‘এক্সিলেন্ট’ ফল বলার প্রস্তাব রয়েছে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় ৮০ নম্বরের নিচে নম্বরের শ্রেণি ব্যাপ্তি রয়েছে ১০। গ্রেডিংয়ে এই নম্বরের শ্রেণি ব্যাপ্তি কমিয়ে ৫ নম্বর করা হবে। এর কারণ একজন ছাত্র ৭৯ নম্বর পেলে সে জিপিএ-৪, আর ৮০ নম্বর পেলে জিপিএ-৫। আবার ৭০ নম্বরেও জিপিএ-৪ এবং ৭৯ নম্বরেও জিপিএ-৪। সেক্ষেত্রে ৭০ এবং ৭৮ নম্বরের প্রার্থক্য করা কঠিন। আবার এক নম্বরের জন্য একটি গ্রেড মিস করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষার্থীর আক্ষেপের জায়গা তৈরি হচ্ছে। গ্রেড নির্ধারণে নম্বরের ব্যাপ্তি ৫ হলে দশমিক ১৫ বা দশমিক ২ শূন্য দূরত্ব হবে। এতে আক্ষেপের জায়গা কমে যাবে।’

প্রস্তাবনা অনুযায়ী নতুন ৮০ থেকে ১০০ নম্বরের জন্য দুইয়ের অধিক গ্রেড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনও পরীক্ষার্থী ৯০ অথবা ৯৫ থেকে ১০০ নম্বর পেলে ফল ‘এ’ এক্সিলেন্ট বলা হবে। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ৯০ থেকে ৯৪ নম্বর পেলে ‘এ-প্লাস’, ৮৫ থেকে ৮৯ নম্বর পেলে ‘এ’ গ্রেড, আর ৮০ থেকে ৮৪ নম্বর পেলে ‘এ-মাইনাস’ গ্রেড ধরা হবে। তবে ৮০ নম্বর থেকে ১০০ নম্বরের জন্য দুইয়ের অধিক গ্রেড করা হবে আরও আলোচনা করে। আর ৮০ নম্বরের নিচে প্রতিটি গ্রেডে ৫ নম্বরের ব্যবধান রেখে প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্রেডিং পদ্ধতি পুনর্গঠনে একাধিক বিকল্প প্রস্তাবও তৈরি করা হয়েছে।

মূল প্রস্তাবনা অনুযায়ী ৮০ নম্বরের নিচে ৫ নম্বরের ব্যবধান রেখে ‘বি-প্লাস’, ‘বি’, ‘বি-মাইনাস’, ‘সি-প্লাস’, ‘সি’, ‘সি-মাইনাস’, ‘ডি’, ‘ডি-প্লাস’, ‘ডি-মাইনাস’, ‘ই’, ‘ই-প্লাস’ এবং ‘ই-মাইনাস’ গ্রেডিং করা হবে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় ৮০ নম্বরের ওপরে পেলেই জিপিএ-৫ ধরা হতো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান ব্যবস্থায় ৩৩ নম্বরে পাস হলেও নতুন প্রস্তাবে কত নম্বরে পাস হবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা খসড়ায় তা রাখা হয়নি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, প্রাপ্ত নম্বরের ব্যাপ্তি নির্ধারণ বা পাস নম্বরের বিষয়গুলো এই মুহূর্তে শুধুই প্রস্তাবনা। আলোচনার জন্য প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাবিদ ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় গ্রেড পরিবর্তনের বিষয়টি মৌখিকভাবে প্রস্তাব করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি নতুন গ্রেড পদ্ধতির খসড়া তৈরি করার নির্দেশ দেন বৈঠকে। মন্ত্রীর নির্দেশে একাধিক খসড়া তৈরি করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।

/এমএনএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ