রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ‘উপবন এক্সপ্রেস’ দুর্ঘটনা

Send
এমরান হোসাইন শেখ
প্রকাশিত : ০০:৪৯, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৪৯, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

দুর্ঘটনার পর ‘উপবন এক্সপ্রেস’

রেলপথ যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ‘উপবন এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি দুর্ঘটনাকবলিত হয়েছিল। ওই ঘটনায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় রেলওয়ের ২৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকার ক্ষতি এবং মোট পাঁচ জনকে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়ে।  

সম্প্রতি প্রতিবেদনটি রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৩ জুন রাতে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘উপবন এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসময় রেলপথের একটি কালভার্ট ভেঙে পেছনের কয়েকটি বগি খালে পড়ে যায়। তাতে চারজন নিহত হন।

ওই ঘটনার পর রেলওয়ের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্বাঞ্চল) মো. মিজানুর রহমানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি এবং বিভাগীয় পর্যায়ে পাঁচ সদস্যের অপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে রেলপথ মন্ত্রণালয় বলেছে, দুর্ঘটনাস্থলের রেলপথ ও সেতু রক্ষণাবেক্ষণের সার্বিক দায়িত্বে থাকা মহাব্যবস্থাপক, প্রধান প্রকৌশলী ও বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক তাদের দায় এড়াতে পারেন না। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে রেলওয়ের মহাপরিচালককে বলা হয়েছে।

এদিকে মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি বলেছে, ওই দুর্ঘটনায় যান্ত্রিক বিভাগের ২৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৫৭ টাকা, সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং প্রকৌশল বিভাগের ২ লাখ ৬ হাজার ৯০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এ প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনাস্থলের রেলপথ যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়াও ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে যেসব জায়গায় রক্ষণাবেক্ষণ ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে, দ্রুত সেগুলো মেরামত করা, ওয়ে অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ম্যানুয়েলের নির্দেশনা নিয়মিত এবং যথাযথভাবে সম্পাদন করা, আখাউড়া–সিলেট সেকশনে কর্মকর্তা পর্যায়ে নিয়মিত ট্রলি নিয়ে পরিদর্শন করে ত্রুটি শনাক্ত করা, মেরামত করাসহ সাত দফা সুপারিশ করা হয়।

অন্যদিকে বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি তিন দফা সুপারিশ করেছে। যেগুলো হলো- বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এমন স্থান, সেতু, রেললাইন শনাক্ত করে ত্রুটিমুক্ত করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ; ট্র্যাক ও কোচ রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পদগুলোর শূন্যপদে জরুরি জনবল নিয়োগ এবং ট্র্যাক ও কোচ রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা–কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়াতে যথেষ্ট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

বিভাগীয় পর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (এসএসএই) মো. জুলহাস ও মেট (নির্দিষ্ট এলাকায় রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি) সাইফুল আলমকে দায়ী করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে।

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ