পুলিশের ওপর বোমা হামলা: দুই ‘জঙ্গি’ গ্রেফতার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১২:৫৭, অক্টোবর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৯, অক্টোবর ৩০, ২০১৯

 

গ্রেফতার মেহেদী হাসান তামিম ও আব্দুল্লাহ আজমিররাজধানীতে পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। রবিবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার দুই জঙ্গি হলো−মেহেদী হাসান তামিম ও আব্দুল্লাহ আজমির। এরমধ্যে তামিম গুলিস্তান ও সায়েন্স ল্যাবে পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল। সে নিজে বোমা বহন করে ছুড়ে মারার কাজ করেছে। আর আজমির সরাসরি জড়িত না থাকলেও বোমা তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিল।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত ২৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের তক্কার মোড় এলাকার জঙ্গি আস্তানা থেকে গ্রেফতার করা হয় ফরিদ উদ্দিন রুমি ও তার ছোট ভাই জামাল উদ্দিন রফিককে। এদের মধ্যে রফিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে ছাড়াও আরও চার জনের জড়িত থাকার কথা বলে। সেই চার জনের মধ্যে দুজন হলো−তামিম ও আজমির। এরা দুজনই খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে পাস করে বের হয়। এ দুজনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হওয়া রফিকও কুয়েট থেকে পাস করে বের হয়।’

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আইএস নামে যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সেটিও চার জন মিলে তৈরি করে। এর মধ্যে একজন হলো আজমির। আজমির একটি করপোরেট কোম্পানিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছে। সেখানে সে একটি ওয়াকিটকি ব্যবহার করে। সেই ওয়াকিটকি নিয়েই ভিডিওতে ছিল আজমির।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই গ্রুপের মোট ৬ জন অনলাইনের মাধ্যমে র‌্যাডিকালাইসড হয়ে জঙ্গিবাদে জড়ায়। তারা আইএসের সঙ্গে কানেকটেড হওয়ার চেষ্টা করছিল। আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই ছিল পুলিশের ওপর হামলার উদ্দেশ্য। তারা বিভিন্ন মতাদর্শের ব্যাপারে ব্যাপক ধারণা নেওয়ার পর নব্য জেএমবি বেস্ট জেনেই একটি গ্রুপ তৈরি করে। এক সময় তারা ৫ সদস্যের একটি সামরিক শাখা গঠন করে। সামরিক শাখার সদস্যদের মধ্যে তিনজন (রফিক, তামিম ও আজমির) গ্রেফতার হয়েছে। বাকি দুজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সেপ্টেম্বরে আরও একটি হামলার পরিকল্পনা করেছিল তারা। এজন্য তারা নারায়ণগঞ্জে দুটি আইইডি বোমা প্রস্তুত করছিল। একটি পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছিল আরেকটি আংশিক। এরইমধ্যে সিটিটিসি তক্কার মোড়ে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করে। এছাড়া বোমা দুটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। ফলে হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।’

সিটিটিসি সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে কুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বের হওয়ার পর অনলাইনে বিভিন্ন জঙ্গিবাদের বই পড়া শুরু করে তারা। ছাত্র থাকা অবস্থায় বিভিন্ন মতাদর্শের বই পড়ে। আজমিরের গ্রামের বাড়ি ভোলায়। তার নেতৃত্বে ২০১৮ সালে ভোলার একটি দুর্গম চরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করে। এর মধ্যে আজমির, তামিম, রফিক ও একজন পলাতক রয়েছে। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নেয় নব্য জেএমবির আইডিওলোজি বেস্ট। এরপর ২০১৯-এর শুরুতে এসে সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের একটি সামরিক শাখা দরকার।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জে একটি বাসা ভাড়া করা হয়। সেখানে অনলাইনের মাধ্যমে বোমা তৈরির বিভিন্ন উপায় বের করা হয়। তারা নিজেরাও একটি বোমা তৈরির ম্যানুয়াল তৈরি করে এবং সেটা ভিডিও করে রাখে। সেখানকার তৈরি বোমা দিয়েই রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালায়।

/এআরআর/এআর/এপিএইচ/ এমএমজে/

লাইভ

টপ