behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

একান্ত সাক্ষাৎকারে নূহ-উল আলম লেনিন৫ জানুয়ারির নির্বাচন আদর্শ নির্বাচন ছিল না

পাভেল হায়দার চৌধুরী২২:৩৫, এপ্রিল ০২, ২০১৬

নূহ-উল আলম লেনিন২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদর্শ নির্বাচন ছিল না  বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন। তবে, এর জন্যে বিএনপিকে দায়ী করেছেন তিনি। তার মতে, বিএনপি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলে নিশ্চয়ই ওই নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হতো। বিএনপি নির্বাচন বয়কট করেছে বলেই দেড় শতাধিক সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর জন্যও দায়ী বিএনপি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, বিএনপির রাজনীতি, সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ধানমণ্ডিতে তার নিজ কার্যালয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেন নূহ-উল আলম লেনিন।

বাংলা ট্রিবিউন: ২০০৮ সালের নির্বাচন ও ২০১৪ সালের নির্বাচনের মধ্যে গুণগত পার্থক্য আছে?

নূহ-উল আলম লেনিন: ২০০৮ সালের নির্বাচন ও ২০১৪ সালের নির্বাচনের মধ্যে গুণগত পার্থক্য আছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ছিল ১/১১ এর এক ধরনের সামরিক শাসন, ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও ‘মাইনাস টু’ ফর্মূলা। এমন পটভূমিতে  ২০০৮ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই কারণে বলা যেতে পারে, মানুষ আওয়ামী লীগকে একেবারে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন হয়েছে সংবিধান-গণতন্ত্র রক্ষার নির্বাচন। সংবিধান পরিবর্তন করা হয়েছে ২০০৯ সালের পরে। এ সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে বিধান ছিল, সেটা লোপ করা হয়েছে। সেটা শেখ হাসিনার নিজের ইচ্ছায়  হয়নি। উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এটা বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ আন্দোলন হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করল এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করা হলো। নবম জাতীয় সংসদ এটা করেছে। যেই সংসদে এটা পাশ হলো তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তো কোনও প্রশ্ন নেই। এরপরও বিএনপি যদি আবার ওই একই দাবিতে আন্দোলন করে, তাহলে আন্দোলনটা কি সংবিধানসম্মত? না এটাকে প্রতিরোধ করা সংবিধান সম্মত? স্বাভাবিকভাবে ওই আন্দোলন বৈধ নয়, সংবিধানের পরিপন্থী। ওই আন্দোলন উচ্চ আদালতের রায়েরও বিরোধী।

এত কিছুর পরও নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনা সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ওই সময় শেখ হাসিনা বলেন, সংসদে যারা আছি, সবাই মিলে সরকার পরিচালনা করি। বিএনপির উদ্দেশে বলেছিলেন, আপনারা বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ কোন-কোন মন্ত্রণালয় চান। সেই প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি। তারপরও আমরা চেয়েছিলাম সবাইকে নিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে। বিএনপি সেই পথে আসেনি। না এসে তারা নির্বাচন বর্জন করলেন। তারা ভেবেছিলেন নির্বাচন বর্জন করলেই তারা অতীতে যেভাবে ক্ষমতায় এসেছেন পেছনের দরজা দিয়ে, সেভাবে কেউ এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন এই সরকারকে ফেলে দেবেন। তারপর তারা বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবেন। অথবা এমন একটা নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন, যে নির্বাচনের ভেতর দিয়ে তারা ক্ষমতায় যাবেন। তাদের সেই স্বপ্নপূরণ করার জন্যেই তো বিএনপি নির্বাচন বয়কট করল তখন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেটা হতে দেয়নি। কারণ সংবিধান সংশোধন করার পরে সংবিধানকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ছিল। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, অব্যাহত থাকে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, তার জন্য ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আমাদের নির্বাচন করতে হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে আদর্শ নির্বাচন বলে মনে করেন?

নূহ-উল আলম লেনিন: ৫ জানুয়ারির নির্বাচন আদর্শ নির্বাচন হয়নি। কিন্তু এই নির্বাচনের ভেতর দিয়ে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা তো অব্যাহত আছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নিশ্চয়ই নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হতো। তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনও অগ্রহণযোগ্য হয়নি শেষ পর্যন্ত। বিএনপি নির্বাচন বয়কট করেছে ‘ডিসক্রেডিট’ করানোর জন্যে। কিন্তু বিশ্ব সম্প্রদায় কী করেছে, শেষ পর্যন্ত-দশম সংসদ নির্বাচনের ফল গ্রহণ করে নিয়েছে। তার বড় প্রমাণ হলো, বিশ্বের দুটো বড় পার্লামেন্টারিয়ান ফোরামে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে।  কোনও দেশ কি বলেছে, এই নির্বাচনের ফল বাতিল করে দাও। বাতিল না করলে সাহায্য বন্ধ, সম্পর্ক ছিন্ন। এটাতো কেউ বলেননি। বরং তারা বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে ভালো হতো। এটা আমরাও বলি, বিএনপি অংশগ্রহণ করলে ভালো হতো। নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি ভুল করেছে। বিএনপি সেই ভুলের খেসারত দিচ্ছে। এখন তারা বিরোধী দলেও নেই। ‘লিগ্যাল অপজিশিনেও’ বিএনপি নেই।

বাংলা ট্রিবিউন: বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য পরবর্তী নির্বাচনেও কোনও প্রস্তাব আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আসতে পারে?

নূহ-উল আলম লেনিন: আমি মনে করি, প্রস্তাব যেহেতু একবার তারা প্রত্যাখ্যান করেছে দ্বিতীয় বার প্রস্তাব দেওয়ার কোনও প্রয়োজন আছে। এখন সংবিধানে যা বলা আছে, সেভাবেই নির্বাচন হবে। বিএনপিকে নাকে খত দিয়ে হলেও সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। না হলে দলটা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। বিএনপিকে নির্বাচনে আসার জন্যে আমরা দরজা খোলা রেখেছি। যেহেতু পৌর, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, আমরা নিশ্চয়ই আশা করি, তাদের বোধোদয় ঘটবে এবং তারা আগামী সাধারণ নির্বাচনেও আসবে।

বাংলা ট্রিবিউন: বিএনপিতো মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করে আসছে। সেই সম্ভাবনা কতটুকু?

নূহ-উল আলম লেনিন: মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি বিএনপির কর্মীদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য। মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি না করলে কর্মীদের বাঁচিয়ে রাখবে কি দিয়ে বিএনপি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা কিঞ্চিত পরিমাণও নেই।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি তো এক সময়ে বাম রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, বাম ধারার সংগঠন জাসদ ভাঙা কিভাবে দেখছেন?

নূহ-উল আলম লেনিন: কোনও দল ভাঙাটাকে আমি ‘পজিটিভ’লি দেখি না। জাসদ কেন ভাঙল, এটা জাসদের ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমার মন্তব্য সাজে না। তবে আমি এটা বুঝি, মুক্তিযদ্ধের পক্ষের শক্তি জাসদ। দলটি যদি ভাঙে, তাদের শক্তি দুর্বল হবে। সঙ্গে-সঙ্গে আমি এও বলব, আমাদের বামপন্থী দলগুলো এখন অস্তিত্বের সংকটের ভেতর দিয়ে চলছে। ভাঙনেই তারা ওস্তাদ, গড়ায় ওস্তাদ নন। জাসদ এই নিয়ে কতবার ভাঙল?

বাংলা ট্রিবিউন: বিএনপি বহুদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আওয়ামী লীগ দলটিকে ভাঙতে চায়?

নূহ-উল আলম লেনিন: বিএনপির দল ভাঙার অভিযোগ বোগাস! কোন লোকটাকে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগ নিয়ে এসেছে? আমরা নিয়ে এসেছি? বিএনপি দল ভেঙে দল করেছে। পাঁচমিশালী লোক নিয়ে বিনেপি গঠন করা হয়েছে। দল ভাঙার নীতিতে আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে না।

বাংলা ট্রিবিউন: আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়। আপনার দৃষ্টিতে সরকারের বড় সফলতা কী?

নূহ-উল আলম লেনিন: বড় সফলতা হচ্ছে বিশ্বমন্দা মোকাবিলা করে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা। শুধু তাই নয়, এই অর্থনীতিকে একটা উন্নয়নের ধারার মধ্যে স্থিতিশীল রাখাও। যার ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান-উন্নয়ন ঘটেছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, শিশু মৃত্যুর হার কমেছে, পার ক্যাপিটাল আয় বেড়েছে। ফলে ইতোমধ্যে বলা শুরু হয়েছে, বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ যে একটা অমিত সম্ভাবনার দেশ হিসেবে এখন সারা পৃথিবীতে গণ্য হচ্ছে, এটা একটা বিরাট সাফল্য। এছাড়া, বিশ্ব ব্যাংকের কারসাজি স্বত্ত্বেও আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর কাজ শুরু করতে সক্ষম হয়েছি। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, ক্রয় ক্ষমতার ওপর চাপ পড়ে না। এটাই বড় সফলতা। শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে এ সরকার। মাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের শিক্ষার হার ছেলেদের তুলনায় অনেক বেশি।  

বাংলা ট্রিবিউন: অনেক সফলতার কথা বললেন, কোনও ব্যর্থতা কি নেই?

নূহ-উল আলম লেনিন: ব্যর্থতা আমি বলব না। বলব কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সেটাকে আপনারা ব্যর্থতা বলতে পারেন। আর সেটি হলো, বিনিয়োগের হার বাড়েনি। যদিও আমরা জানি, বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ আমাদের। রিজার্ভ গড়াটাই বড় কৃতিত্ব নয়। আমরা যদি এটা উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে না পারি, তাহলে এ রিজার্ভ দিয়ে কী হবে? সেদিক থেকে আমাদের এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারিনি। 

বাংলা ট্রিবিউন: বিএনপির অভিযোগ, দেশে গণতন্ত্র নেই। এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

নূহ-উল আলম লেনিন: বিএনপি যে বলছে দেশে গণতন্ত্র নেই।  এটা বলার পরও যে   দলটির কেউ গ্রেফতার হননি, এটা স্বাধীনভাবে বলতে পারছেন, এটাই গণতন্ত্র বিরাজমান যে তার বড় উদাহরণ।

বাংলা ট্রিবিউন: ভারতই আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে। এমন একটি কথা চাওর আছে। বিএনপি থেকেও এ ধরনের কথা বলা হয়। আপনি কিভাবে দেখেন বিষয়টি?

নূহ-উল আলম লেনিন: এটা ‘রাবিশ’ চাওর। ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। তাদের সঙ্গে আমরা অমীমাংসিত কিছু সমস্যার সমাধান করতে পেরেছি। এটা আমাদের বড়  অর্জন। ভারতের সঙ্গে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুয়ায়ী ছিটমহল বিনিময় আটকে ছিল। অনেক বছর পর আমরা সেই সমস্যার সমাধান করতে পেরেছি। ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার সমস্যার সমাধান করতে পেরেছি। ভারতের বিনিয়োগ আমরা আনতে পেরেছি। সুতরাং দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে যেমন অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান হয়েছে, তেমননি নতুন নতুন ক্ষেত্রে দুই প্রতিবেশী দেশ সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে সহযোগিতা চালয়ে যাচ্ছে। এখানে কেউ কারও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাগ গলাতে যাচ্ছে না। বাংলাদেশ এখন স্বাবলম্বী দেশ। কারও কাছে মাথা নত করে তার আনুকূল্য পেতে হয় না।  বিএনপি ও পাকিস্তান একইসুরে কথা বলে। আমাদের এখানে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার হয়। এর প্রতিবাদ জানায় পাকিস্তান। বিএনপি পাকিস্তানের ‘প্রেসক্রিপশনে’ চলে। পাকিস্তানের দালাল হিসেবে বিএনপি চিহ্নিত। সাম্প্রদায়িকতা ও ভারতবিরোধিতা বিএনপির জন্মলগ্ন থেকে রাজনীতি। আবার তারাই ভারতের আনুকূল্য পেতে দিল্লি গিয়ে দেন-দরবার করেন। আওয়ামী লীগের কোনও দেন-দরবার নেই। 

বাংলা ট্রিবিউন: এবার আপনাদের সম্মেলন নিয়ে বলুন।

নূহ-উল আলম লেনিন: বাংলাদেশের একমাত্র প্রাচীন এবং বৃহত্তম দল আওয়ামী লীগ। এ দলটিই নির্দিষ্ট সময়ে সম্মেলন করে। ব্যতিক্রম যে হয়নি তাও নয়। সেটা হয়েছে ‘অট সিচ্যুয়েশনের’ কারণে। প্রতিটি সম্মেলনেরই একটা বিশেষ তাৎপর্য আছে। এবারের সম্মেলন নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এর অন্যতম ২০১৯ সালে যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেই সাধারণ নির্বাচনে যে ইশতেহার দিয়ে জাতির সামনে হাজির হব, তার একটা ‘গাইড লাইন’ থাকবে। আর সেটা এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে। উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে পরে সুনির্দিষ্টভাবে আমরা কী করব? সেটা এ সম্মেলনে ঠিক হবে, তা বলছি না। কিন্তু তার যে রাজনৈতিক ফিলোসফিক্যাল গাইড লাইন, এটা এ সম্মেলন ঠিক করবে। এটা যদি ঠিক করে দেয়, তাহলে আমরা সেই গাইড লাইন অনুসরণ করে পরবর্তী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব। সে জন্য বলেছি, এটা একটা ঐতিহাসিক সম্মেলন। এছাড়া, সম্মেলন গতানুগতিক। প্রতিটি সম্মেলনেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়। এই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দল পরিচালিত হবে। তবে কে আসবেন, কে বাদ যাবেন, এটা একমাত্র কাউন্সিলররা ঠিক করবেন।

বাংলা ট্রিবিউন: অনেক সময় শোনা যায়, দলীয় সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা আর থাকবেন না। আপনি কী মনে করেন?

নূহ-উল আলম লেনিন: আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার বিকল্প এখনও কোনও নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে বলে আমি মনে করি না। তার শরীর-স্বাস্থ্য এখনও যেমন আছে, আমি মনে করি, আরও অন্তত দুই মেয়াদ তার নেতৃত্ব থাকার কথা।  শেখ হাসিনা এখন তার ‘টিম’টা কিভাবে সাজাবেন, এটা তিনি ঠিক করবেন। সম্মেলন এ দায়িত্ব তাকে দেয়। দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে থাকায় শেখ হাসিনা জানেন, কাকে দলে আনতে হবে। বিভিন্ন দিক বিবেচনায় এবারের সম্মেলনে কেউ বয়সের কারণে, কেউ শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে, কেউ ব্যর্থতার কারণে বাদ পড়বেন।  

/এমএনএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ