ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ২৮ বছরে নিহত ১৬১ জন

Send
মিজানুর রহমান ও সাঈদ বিলাস
প্রকাশিত : ১৭:৩৬, অক্টোবর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২২, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন কিছু নয়। দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১৯৯১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১৬১ জন। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ১৮২ জন।

তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সহিংসতার মূল কারণ হিসেবে থাকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে হল দখল, ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার, অন্তর্কোন্দল, দুই দলের মধ্যে রেষারেষি। এছাড়া তুচ্ছ কারণেও ক্যাম্পাসগুলো অস্থির হয়েছে বহুবার।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৬১ জনের মধ্যে ১১৯ জনের রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া গেছে। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছেন ছাত্রলীগ কর্মী। দলটির ৪৫ জন কর্মী নিহত হয়েছেন। এরপরই রয়েছে ছাত্রদল কর্মী নিহতের ঘটনা। এই সংগঠনটির ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। অন্যান্য ছাত্রসংগঠন, সাধারণ ও রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি এমন নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এরমধ্যে ছাত্রশিবিরের নিহতের সংখ্যা ২২ জন। সাধারণ শিক্ষার্থী রয়েছেন ৮ জন। বাম সংগঠন ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নিহতের সংখ্যা ১১ জন। এছাড়া, ৪২ জনের রাজনৈতিক পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্যাম্পাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বিএনপি সরকারের প্রথম মেয়াদে। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ ঝরেছে ৭৫ জনের। আহত হয়েছেন সাড়ে তিন হাজার। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতা কিছুটা কমে আসে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম আমলে (১৯৯৬-২০০১) ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয় ৩০ জন, আহত হয় ২ হাজার ৩২৮ জন।

এরপর বিএনপি দ্বিতীয় মেয়াদে (২০০১) সরকার গঠন করলে ক্যাম্পাসে সহিংসতায় আহত হয় তিন হাজারের বেশি। নিহত হয় ১৭ জন। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ক্যাম্পাসে নিহত হয় ২২ জন। আহত হয় ৪ হাজার ২২২ জন।

আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয় আমলে (২০০৯-২০১৩) ছাত্রলীগের সঙ্গে শিবিরের সংঘাতে প্রাণ হারায় ৪ জন এবং আহত হয় প্রায় দেড় হাজার। তবে, ছাত্রলীগের মধ্যকার অন্তর্কোন্দলে হতাহত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। সংগঠনটির নিজেদের মধ্যে সহিংসতায় নিহত হয়েছে ৯ জন, আহত হয় দেড় হাজারের বেশি।

আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদে (২০১৪-১৮) ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতা কমে আসতে শুরু করে। এই সময়ে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয় ১৪ জন, আহত হয় ১ হাজার ৬৪৯ জন। চলতি মেয়াদে (২০১৯-চলমান) আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ১ জন। আহত হয়েছে ৪১৪ জন।

২৮ বছরে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতার চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সঙ্গে শিবিরের সংঘাতে নিহত হয়েছে ৩১ জন। আহত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার। এরমধ্যে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সংঘাতে প্রাণ গেছে ১৩ জনের। আহত হয়েছে প্রায় ৩ হাজার। ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যকার সংঘাতে নিহত হয়েছে ১৮ জন ও আহত হয়েছে দেড় হাজারের বেশি।

ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যকার সহিংসতা হয়ে থাকে সবচেয়ে বেশি। এই দুটি দলের মধ্যকার সহিংসতায় নিহত হয়েছে ২৮ জন। আহত হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি। এরপরেই আছে ছাত্রলীগের অন্তর্কোন্দল। এতে প্রাণ হারিয়েছে ২৫ জন। এক্ষেত্রেও আহতের সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি। ছাত্রদলের দলীয় কোন্দলে নিহত হয়েছে ৭ জন। আহত হয়েছে প্রায় এক হাজার।

১৯৯১ সাল থেকে ২০১৯ (সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালনকালে রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন ১৩৬ জন পুলিশ সদস্য এবং ৮২ জন সাংবাদিক।

উপাত্ত সংগ্রহ প্রক্রিয়া: বাংলা ট্রিবিউন ১৯৯১-২০১৮ সাল পর্যন্ত দু’টি জাতীয় দৈনিক (একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি) পত্রিকা থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। ২০১৮ পরবর্তী সময়ে পত্রিকার সংখ্যা একটি বাড়িয়ে তিনটি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে ব্যবহৃত উপাত্ত আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সংযুক্ত ইন্টারেক্টিভ ড্যাশবোর্ডটি দেখতে পারেন। এখানে প্রতিটি সরকারের টার্ম আলাদা করে ফিল্টার করা আছে। যেখান থেকে চাইলে একটি টার্মের ডাটা আলাদা করে দেখতে পারবেন। চাইলে দুটি টার্মের তুলনাও করতে পারবেন।

 

/এসএএস/এমএনএইচ/এমওএফ/
টপ