বড়ই বিবর্ণ দেখালো জিম্বাবুয়েকে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:৩৫, জানুয়ারি ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫০, জানুয়ারি ২০, ২০১৮

কয়েক মাস আগেই শ্রীলঙ্কা সফরের সময় এই জিম্বাবুয়ে দলের ভেতর যে লড়াকু মনোভাব দেখেছিলাম, তার কোনও কিছুরই দেখা মিললো না ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের শুরুতে।

তীব্র শীতের এই বৈরি আবহাওয়া এবং উইকেটের আচরণ কেমন হবে, তা নিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দেরই সংশয় ছিল। দুর্ভাগ্য জিম্বাবুয়ে দলের! পিচের আচরণ পর্যবেক্ষণের কোনও সুযোগ না পেয়েই যে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের বোলারদের মোকাবিলা করতে হয়েছে তাদের। জিম্বাবুয়ে দলে ডান ও বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের কম্বিনেশন না থাকায় শুরুতেই পড়তে হয় দুই বাঁহাতি স্পিনার সাকিব আল হাসান ও সানজামুল ইসলামের ঘূর্ণির মুখে।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সবশেষ আসরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য নজরকাড়া সিকান্দার রাজাকে একদিক সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানের কিছু বল লেগ ব্রেকের মতো বাঁক নেওয়াটা বলে দিচ্ছিল পিচের বল হোল্ড করার পুরো ফায়দা তুলে নিচ্ছিলেন বাংলাদেশি পেসার। যদিও তাকে বেশ ভালো সামাল দিয়েছেন সিকান্দার রাজা। ব্রেন্ডন টেলর তাকে সঙ্গ দিতে পারলে হয়তো ২০০ রানের দেখাও পেতে পারতো জিম্বাবুয়ে।

ক্রিকেট পিচের আচরণ ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কাজটা যে কোনও খেলোয়াড় ও দলের জন্য খুব জরুরি। আর দলটি যদি অপেক্ষাকৃত দুর্বল হয়, তবে তাদেকে কাজটি করতে হয় আরও বেশি দ্রুততার সঙ্গে। খেলার মধ্যে খুব বেশি না থাকায় আজ (সোমবার) ব্যাট, বল ও ফিল্ডিংয়ে বড় বাজে একটা দিন গেছে জিম্বাবুয়ের। বিপরীতে বাংলাদেশের প্রত্যেক বোলারকেই কৃতিত্ব দিতে হবে, কারণ তারা পিচ থেকে প্রাপ্ত সুবিধা চমৎকারভাবে তুলে নিতে পেরেছেন। তবে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের মাইন্ডসেট যখন রক্ষণাত্মক, তখন প্রকৃত কোনও চাপ আমাদের বোলাররা অনুভবই করেননি। ম্যাচের শুরুর ও শেষের পাওয়ার প্লে এককথায় ছিল চাপবিহীন। ভালো বোলিংয়ের সঙ্গে দুটি ক্যাচ ড্রপ হওয়ার দৃশ্য ছিল এই ম্যাচে একটু বেমানান।

বৈরি আবহাওয়া ও সূর্যের দেখা না মেলায় উইকেট তৈরি করাটা কিউরেটরদের জন্য এককথায় ছিল দুরূহ ব্যাপার। উইকেটের প্রকৃত আচরণ অনুধাবন করা যাবে যখন দুই দল মিলে ১০০ ওভার ব্যাট করবে। আজ বিকেলে বোঝা যাচ্ছিল সন্ধ্যার কুয়াশা বোলার, ফিল্ডার ও ব্যাটসম্যান- সবাইকে সামানভাবে ভোগাবে।

১৭১ রানের এই লক্ষ্যটা বাংলাদেশ যে সাবলীলভাবে ব্যাট করে অতিক্রম করল, তা ছিল দৃষ্টিনন্দন। তবে অনেকদিন পর সুযোগ পাওয়া এনামুল হক বিজয়কে উইকেটে আরেকটু ধৈর্যশীল দেখব বলে আশা করেছিলাম। হয়তো উত্তেজনাকে যথাযথভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। তবে দুর্বল দলের বিপক্ষে প্রাপ্ত সুযোগ আরও বড় করে উদযাপন করতে পারতেন।

স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে এই পিচে ব্যাট আর বলের লড়াই মোটেও সমানে সমান ছিল না। তার মাঝেও আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং এই উইকেটে বেশ বড় জয় এনে দিয়ে একটা উড়ন্ত সূচনা দিলো বাংলাদেশকে।

/কেআর/

লাইভ

টপ