ব্যাট ও বলে বড়ই বিবর্ণ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৫:০৭, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৬, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯

ক্রাইস্টচার্চে আজকের পিচের আচরণকে আমার মোটেই চিরাচরিত বিপদজনক ব্যাটিং উইকেট মনে হয়নি। অতিরিক্ত সুইং বা বাউন্স আজকের ম্যাচে তেমন একটা নজরে আসেনি। তবে সকালের আবহাওয়া, পিচে থাকা সামান্য আর্দ্রতা ও কিউইদের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং প্রথম ঘণ্টায় ব্যাটসম্যানদের ভোগাবে এটা আন্দাজ করা যাচ্ছিলো।  এমন পরিস্থিতিতে লড়াই করে পিচে টিকে থাকাটাই উপরের সারির ব্যাটসম্যানদের জন্য একটা মাঝারি মানের চ্যালেঞ্জ ছিলো আজ। কিন্তু আজও অগণিত ক্যাচ ফেলে দেওয়ার পর বাড়তি পাওয়া এই সুযোগটাকে আমাদের তামিম, লিটন, মুশফিক, সৌম্য বা রিয়াদদের কেউই কাজে লাগাতে পারলেন না।

প্রতিপক্ষের গাপটিলের মতো একদিক আগলে একটা বড় ইনিংসের লড়াই দেখতে না পেয়ে বড়ই হতাশ হয়েছি। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। তবে যে দুটি ম্যাচ আমরা খেললাম। সেই পিচের আচরণ ও বিশেষ করে বিপদজনক সুইং না থাকার কারণে কাজটা মোটেই আকাশচুম্বী কিছু ছিলো না। মিঠুনের পর পর দুটি ম্যাচে স্বাচ্ছন্দ্যের মাঝে রান করা বলে দেয় ব্যাট হাতে বড় রান সংগ্রহের কাজটি ২০০ ওয়ানডে খেলার দ্বারপ্রান্তে থাকা ব্যাটসম্যানদের কাছে দলের একটা প্রত্যাশা ছিলো।

তামিম, মুশফিক বা রিয়াদরা যতটুকু সময় পিচে কাটালেন, তাদেরকে ব্যাট হাতে যথেষ্ট আস্থাশীল ও সুস্থির দেখতে না পাওয়াটাই দুশ্চিন্তার কারণ। হেনরির চমৎকার লেন্থ ও বাড়তি বাউন্স, ফার্গুসনের অ্যাঙ্গেল বলের সঙ্গে বাড়তি গতি ও লেগ স্পিনার অ্যাস্টলের কাছেই আমাদের ব্যাটিং বিপর্যস্ত হয়েছে।

তামিম, মুশফিক বা রিয়াদের ক্যারিয়ার শুরুর দিকে নিউজিল্যান্ডের পিচ এত ন্যাড়া দেখিনি। পিচের বাউন্স ও সুইং দুটোই ছিলো আরও অনেক বেশি। সেই বিবেচনায় হোম কন্ডিশনের বাড়তি সুবিধা পিচ থেকে আদায় করার ভাবনা নিউজিল্যান্ডের থিঙ্ক ট্যাঙ্কের ছিল না মোটেই। বিশ্বকাপের আগে তারাও চেয়েছিলো নিউজিল্যান্ড দল ভালো একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হোক। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজে আজকের ম্যাচ বিশাল বড় ব্যবধানে জিতে সিরিজ জিতে নিলো কিউইরা।

বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের ধার কতটুকু তা একটা ট্রু পিচে আজ সবার সামনে প্রতীয়মান হলো। ঘরের মাঠে পিচ থেকে এত বাড়তি সুবিধা আমাদের স্পিনাররা পায় বলে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে যে আরও মনোযোগী ও পরিশ্রমী হতে হবে- তা এমন পিচে বল করার পর টের পাচ্ছে মেহেদী মিরাজ। অথচ একই পিচে অ্যাস্টল আমাদের ব্যাটসম্যানদের থেকে যথেষ্ট সমীহ আদায় করে নিয়েছে।

মাশরাফির বলে গতি না থাকায় লেন্থ দিয়ে তেমন সুবিধা এই পিচে করতে পারবে বলে মনে হয় না। সাউফউদ্দিন মোটেই অভিজ্ঞ নয়। মোস্তাফিজ তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগালেও আমাদের বোলিং ইউনিট এমন পিচের জন্য ৩০০ রানকে রুখতে যথেষ্ট কার্যকর কিনা সংশয় আছে। এ যাবৎ দুটি ম্যাচে আমরা মাত্র ৪টি উইকেট ফেলতে পেরেছি। এবং টার্গেটে পৌঁছাতে আজ তাদের হাতে আরও ১৪টি ওভার অবশিষ্ট ছিলো। এই ম্যাচে বল ও ব্যাটে আমরা কতটা বিবর্ণ ছিলাম তা পরিষ্কার ফুটে উঠেছে। ইন ফর্ম ব্যাটসম্যান মিঠুন আহত হওয়ায় পরবর্তী ম্যাচটি আরও দুশ্চিন্তা বাড়ালো। 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের বাইরে আমরা ভালো করতে চাই। কিন্তু তার জন্য দেশের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্যও আমাদের পিচ তৈরির মান যুগোপযোগী করাতে আমরা কখনোই আগ্রহী নই। পিচ তৈরির ব্যাপারে মনোযোগী ও বিনিয়োগ না বাড়ালে ঘরের বাইরে লড়াই করার মতো পর্যায়ে পৌঁছানোটাও দুষ্কর।

এই সিরিজে তিনটা টেস্ট না খেলে দুটি টেস্টে সীমাবদ্ধ থাকলে যে বাড়তি ৭দিন পাওয়া যেত তাতে গুটি কয়েকদিন বিপিএলের পর বিশ্রাম ও নিউজিল্যান্ডে অনুশীলনের বাড়তি একটু সুযোগ পাওয়া যেত। মাঠের বাইরে এই কাজগুলি কৌশলের সঙ্গে আদায়ে আমাদের বোর্ডের তৎপরতা ও সফলতা আশা করেছিলাম।

শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি কাটিয়ে ঠাণ্ডা কন্ডিশন ও নিউজিল্যান্ডের পিচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের খেলোয়াড়দের সময় দিতে হবে। পরবর্তী ম্যাচটি এই ভেন্যুতে হলে মন্দ হতো না। কিন্তু সেটি অতি ঠাণ্ডার ভেন্যু বলে খ্যাত ডানেডিনে হওয়ায় আমাদের ব্যাট ও বল মাঠে কতটুকু আলো ছড়াতে পারে তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ