জন্মদিনে শেখ কামালকে শ্রদ্ধার্ঘ্য

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:২৭, আগস্ট ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৫, আগস্ট ০৬, ২০১৯


শেখ কামালের জন্মদিনে আলোচনা সভা প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামালের ৭০তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। সোমবার ক্লাব প্রাঙ্গণে শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আবাহনীর সঙ্গে দীর্ঘ দিন জড়িয়ে থাকা ব্যক্তিত্বরা। বিকেলে আলোচনা সভায় বার বার উঠে এসেছে একটি কথা—আজ তিনি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন অনেক এগিয়ে যেতো।

আবাহনী লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, ‘এখানে আমরা মন্ত্রী কিংবা এমপি হিসেবে আসিনি, আবাহনীকে ভালোবাসি বলেই এসেছি। আমার সৌভাগ্য, শেখ কামালের মতো ব্যক্তিত্বকে নিজের বন্ধু বলতে পারি।’

শেখ কামালের আধুনিক চিন্তা-চেতনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘‘স্বাধীনতার পর মোহামেডানের মানের ক্লাব তেমন ছিল না। ওয়ারী-ওয়ান্ডারার্সের মতো ক্লাবগুলো মোহামেডানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারতো না। শেখ কামাল বলতেন, ‘আমি আবাহনীকে মোহামেডানের স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে যেতে পারলে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ওভারঅল খেলাধুলার মান বাড়বে।’ সেই সময়ই তিনি ক্রীড়াঙ্গনের ফাউন্ডেশন করে দিয়েছিলেন। আজকে তিনি থাকলে আমরা ডেফিনিটলি ফুটবল ও ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারতাম।’’

শেখ কামালের স্মৃতিচারণ করছেন আবাহনী লিমিটেডের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান।
আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতার ক্রীড়াপ্রেমের স্মৃতিচারণও করলেন সালমান এফ রহমান,  ‘‘আমি একবার ইংল্যান্ড যাচ্ছিলাম। যাওয়ার আগে তাকে বললাম কী নিয়ে আসবো। তিনি বললেন, ‘আবাহনীর খেলোয়াড়দের জন্য কেডস নিয়ে এসো। আমি চাই আমার খেলোয়াড়রা যেন আন্তর্জাতিক মানের কেডস পরে খেলতে পারে।’ কোন দোকান থেকে কিনতে হবে সেটাও বলে দিয়েছিলেন। শেখ কামালের নেতৃত্বে আমরা স্পন্দন মিউজিক গ্রুপ করেছিলাম। জাপান যাওয়ার আগেও আমাকে ইলেকট্রিক অর্গা্ন আনতে বলেছিলেন। এই হলেন শেখ কামাল, যিনি নিজের জন্য কখনও কিছু চিন্তা করেননি, শুধু দেশের জন্য ভাবতেন।’

আবাহনী মাঠ সংলগ্ন নির্মাণাধীন শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স নিয়ে আশার বাণী শোনালেন তিনি, ‘ঈদের পর পরই পুরোনো বিল্ডিং ভেঙে নতুন কমপ্লেক্সের কাজ শুরু হবে। পুরো কাজ শেষ হতে দুই থেকে আড়াই বছর লাগবে। শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আবাহনীর পুরো ইতিহাস লিপিবদ্ধ থাকবে।’

অর্থমন্ত্রী এবং আবাহনীর পরিচালক আ হ ম মুস্তফা কামাল দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ অভিহিত করে বলেছেন, ‘আজকের দিনটা ঐতিহাসিক। শেখ কামাল আমাদের মধ্যে ছিলেন, আছেন, থাকবেন। তাকে সামনে রেখে আমরা প্রতিটি খেলায় অংশ নিতাম।  আবাহনীর কারণেই আমি মন্ত্রী এবং বিসিবি ও আইসিসির সভাপতি হয়েছি। আজ শেখ কামাল বেঁচে থাকলে আমরা অনেক কিছু পেতাম।’

বক্তব্য রাখছেন আবাহনীর ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর ইনচার্জ কাজী নাবিল আহমেদ।
আবাহনীর ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর ইনচার্জ এবং ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, ‘আজ আমাদের আবাহনী ক্লাবের শুভ দিন। আজ ৫ আগস্ট শেখ কামালের জন্মদিন। শোকের মাঝেও আগস্ট মাসের এই দিনটি আমাদের জন্য আনন্দের দিন। কারণ এই দিনে শেখ কামালের জন্ম নিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর সারাদেশের মানুষকে তিনি আবাহন করেছিলেন খেলা ও সংস্কৃতির পথে।’

আবাহনী ক্লাবে কাজী নাবিল আহমেদের পদচারণা ছোটবেলা থেকেই। তার বাবা কাজী শাহেদ আহমেদ আবাহনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ছিলেন তখন। ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেছেন, ‘ছোটবেলা থেকে এই মাঠে আমার পদচারণা। ১৯৭৭-৭৮ সালে আমার বাবা কাজী শাহেদ আহমেদ আবাহনী ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ক্লাবের একটি কমিটির সহ-সভাপতিও ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই শুনছি শেখ কামালের কথা। আবাহনী ক্লাবের চরম দুঃসময় ছিল ১৯৭৬/৭৭/৭৮ সালের দিকে। সেই সময় সব কর্মকর্তা ও খেলোয়াড় বিরাট ত্যাগ স্বীকার করে ক্লাবকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। তখন আবাহনী ক্লাবের প্রতিটি ইঁট খুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল শাসকগোষ্ঠী। কিন্তু সবার ভালোবাসায় ক্লাবকে রক্ষা করা হয়েছিল। বর্তমানে আবাহনীই সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল ক্লাব।’

আবাহনীর সাফল্যগাথা তুলে ধরে কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, ‘এ মৌসুমে ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন, ফুটবলে ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন ও লিগে রানার্স-আপ এবং হকি লিগেও রানার্স-আপ হয়েছি আমরা। এএফসি কাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রথমবারের মতো নক আউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি। ক্লাব র‌্যাংকিংয়ে আবাহনী ৩০ ধাপ এগিয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা আরও সাফল্য পেতে আশাবাদী। আগামী মৌসুমের জন্য সবার কাছে আমরা দোয়া প্রার্থী।’

আলোচনায় আরও অংশ নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, শেখ ফজলে নূর তাপস, হারুনুর রশীদ ও শেখ জাহাঙ্গীর আলম। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আবাহনীর পরিচালক এবং ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

/টিএ/এএআর/

লাইভ

টপ