মোবাইল ফোনের ‘সেবার মান’ ভালো হবে কবে?

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ০৭:৫০, নভেম্বর ১৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৬, নভেম্বর ১৬, ২০১৮

মোবাইল নেটওয়ার্ক





মোবাইল ফোনে মানসম্মত সেবা তথা কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) নীতিমালার অনুমোদন হয়েছে আগেই। বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপনও হলো। এখন বাস্তবায়ন কবে থেকে শুরু হবে সেটা নিয়েই চলছে জোর আলোচনা। মোবাইল ফোনের সেবার মান দিন দিন খারাপ হওয়ায় বিষয়টি এখন আরও সামনে চলে এসেছে।
মোবাইলের ভয়েস কল ও ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য, দুর্বল নেটওয়ার্ক কাভারেজ, নেটওয়ার্ক সমস্যা, ভয়েস কলের নিম্নমান, গ্রাহক সেবার অসন্তুষ্টি দূর করবে মানসম্মত সেবা তথা কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) নীতিমালা। অনুমোদনের পরে প্রজ্ঞাপনও হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিটিআরসি মোবাইল ফোনের সেবার মান পরিমাপ করতে একটি প্রতিষ্ঠানকে আউটসোর্স (তৃতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নেওয়া) করতে যাচ্ছে। তিন মাসের ওই দায়িত্বে প্রতিষ্ঠানটি কোন অপারেটর কেমন সেবা দিচ্ছে, কলড্রপ, নেটওয়ার্ক না থাকাসহ ইত্যাকার নানা বিষয়ে তারা অপারেটরগুলোর সেবার মান পরিমাপ করে প্রতিবেদন জমা দেবে কমিশনে। ওই প্রতিবেদন হাতে পেয়ে কমিশন অপারেটরগুলোর বিপরীতে ব্যবস্থা নেবে। গত অক্টোবর মাসে শেষ সপ্তাহে (সে সময়ের কমিশন বৈঠকে) আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সেবা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার বিকেলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘টেলিযোযোগ খাতে এখন আমার কনসার্ন হলো কোয়ালিটি অব সার্ভিস নিয়ে। সেবার মান ভালো করতেই হবে অপারেটরদের। এর কোনও বিকল্প নেই। অনেক সময় দেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, নীতিমালা ছিল না বলে সেবার মানের কোনও সীমানা নির্ধারণ করা যায়নি। এখন নীতিমালা হয়েছে। অনুমোদন পেয়ে সেটির প্রজ্ঞাপনও হয়েছে। এখন বাস্তবায়নের সময়। বিটিআরসি দেখবে অপারেটরগুলো নীতিমালা বাস্তবায়ন করে তাতে উল্লেখিত সেবা দিচ্ছে কিনা।
আউটসোর্সের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন,‘বিটিআরসি যদি মনে করে তারা কাজটি (কোয়ালিটি অব সার্ভিস মনিটর করা) ভিন্ন কোনও প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করাবে তাহলে তা করবে। তারা কিভাবে পরিমাপ বা মনিটর করবে সেটা তাদের বিষয়। মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখতে যাবে না যে কাজটি কিভাবে হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের কানসার্ন হলো গ্রাহক মান সম্মত সেবা পাচ্ছে কিনা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাত্র জানলাম নীতিমালার গেজেট হয়েছে। আপাতত খবর এটুকুই। আউটসোর্সের কোনও ঘটনা ঘটলে আপনারা জানবেন।’
এদিকে গত ২২ অক্টোবর কোন অপারেটরের কলড্রপ কত তার হিসাব প্রকাশ করে বিটিআরসি। ওই হিসাবের শীর্ষে ছিল গ্রামীণফোন। গ্রাহকের অসন্তোষের প্রেক্ষাপটেই বিটিআরসি ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলড্রপের হিসাব প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, ওই সময়ে গ্রামীণফোনের কলড্রপের সংখ্যা ছিল ১০৩ কোটি, রবির ৭৬ কোটি, বাংলালিংকের ৩৬ কোটি এবং টেলিটকের কলড্রপ ছিল ৬ কোটি। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের আগের দিন সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ গ্রামীণফোনের কলড্রপ নিয়ে বিষোদগার করেন। এরপর দিনই বিটিআরসি প্রতিবেদন প্রকাশ করে কলড্রপের বিপরীতে কঠোর অবস্থান নেয়। মূলত কমিশনের জনবল কম থাকায় বাইরের প্রতিষ্ঠানকে কোয়ালিটি অব সার্ভিস মনিটরের দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নম্বর না বদলে অপারেটর পরিবর্তন তথা এমএনপি সেবা এরই মধ্যে চালু হয়েছে। অপারেটরগুলোকে টিকে থাকতে হলে মানসম্মত সেবা দিয়েই টিকে থাকতে হবে। যে অপারেটরের সেবা বা সেবার মান খারাপ হবে সেই অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে গ্রাহকরা চলে যাবেন। ফলে মোবাইল অপারেটররা তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নিজেরাই সেবার মান উন্নত করবে। এ নীতিমালায় টেলিযোগাযোগ সেবার বিভিন্ন সূচকের মান কী হবে, সেটি পরিষ্কার করা হয়েছে।
কমিশনের একটি কারিগরি পর্যবেক্ষণ দল মান নিশ্চিত করতে না পারলে অপারেটরগুলোকে জরিমানা করতে পারবে কিউওএস নীতিমালা অনুসারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিউওএস নীতিমালায় বলা হয়েছে, ফোরজি মোবাইল ইন্টারনেটের ন্যূনতম গতি হতে হবে ৭ এমবিপিএস এবং থ্রিজি ইন্টারনেটের গতি হতে হবে ন্যূনতম ২ এমবিপিএস (মেগা বিটস পার সেকেন্ড)। আর টুজি ইন্টারনেটে ডাউনলোডের ন্যূনতম গতি হতে হবে ১৬০ কেবিপিএস (কিলো বিটস পার সেকেন্ড)।
একইভাবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) জন্যও কিছু নিয়ম তুলে ধরা হয়েছে। অপারেটরগুলোর জন্য বলা হয়েছে, একটি ওয়েবসাইট ডাউনলোড হতে হবে ৭ সেকেন্ডের মধ্যে। অন্যদিকে মোবাইলে কথা বলার (ভয়েস কল) সময় কল ড্রপের হার হতে হবে ২ শতাংশের কম। এর চেয়ে বেশি হলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে জরিমানা করতে পারবে বিটিআরসি।
মোবাইল অপারেটর ছাড়াও আইএসপি, ওয়াইম্যাক্স, বিটিসিএলের (ল্যান্ডফোন) মতো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কিউওএস নীতিমালা মেনে চলতে হবে।

/টিএন/

লাইভ

টপ