চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলাই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: সালমান এফ রহমান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:১৯, অক্টোবর ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৩, অক্টোবর ১৫, ২০১৯

এটুআই এর আয়োজনে ‘ইন্ডাস্ট্রি লিডার্স সামিট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

২০৪১ সালের মধ্যে আমরা যখন উন্নত দেশ হওয়ার কথা বলছি, তখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলা করাই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) ‘ইন্ডাস্ট্রি লিডার্স সামিট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো’র দ্বিতীয় দিনে এই গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও রোবটিকস বিষয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, আজকে গার্মেন্টসগুলো থেকে বলা হচ্ছে, রোবট এসে যাওয়ায় তাদের অনেককে ছাঁটাই করা হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। কিন্তু এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও রোবটিকস ব্যবস্থাপনাতেই তো আমরা আরও অনেক লোক নিয়োগ দিতে পারি। আরও অনেক কর্মসংস্থানে সুযোগ করতে পারে রোবটিকস। এটা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা বছরে বিলিয়ন ডলার নিয়ে আসছে দেশে, যার সঠিক পরিসংখ্যানও করতে পারিনি আমরা। বিডা ও আইসিটি বিভাগকে বলবো, এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের খুঁজে আনতে হবে। নতুন, পুরনো সব উদ্যোক্তাকে খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি খাত থেকেও প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে হবে। আইসিটি খাতেই আমাদের ফোকাস করতে হবে।

এটুআই-এর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

এই গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)। বৈঠকের শুরুতে এটুআই একটি মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা দেখায়। এরপরে এটুআইর মেন্টরিংয়ে ডেভেলপ হওয়া কয়েকটি প্রকল্প দেখানো হয়। এরমধ্যে ছিল র‌্যাপিড বেভারেজ কুলিং সিস্টেম, ডুয়াল সিস্টেম রেফ্রিজারেটর, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সহায়তার জন্য স্মার্ট সাদাছড়ি (হোয়াইট ক্যান), শিশুদের জন্য বহনযোগ্য ইনফ্যান্ট ইনকিউবেটর, ড্রাইভিং সিমুলেটর, পাটের তৈরি বাইসাইকেল, হাইড্রোলিক র‌্যাম্প পাম্প ও কচুরিপানার তৈরি হস্তশিল্প প্রকল্প।

বৈঠকে উপস্থিত দেশের বিভিন্ন খাতের শিল্পপতিরা এসব প্রকল্প  নির্মাতাদের উপস্থাপনা দেখেন।

এ অংশে কয়েকজন বক্তা বলেন, প্রকল্পগুলোর আরও ডিটেইল থাকলে ভালো হতো। প্রকল্পগুলোর বাণিজ্যিক সফলতা নেই। সফলতা থাকলে বিনিয়োগকারীরা এসবে আগ্রহী হয়ে উঠতেন। এ সময় অনুষ্ঠানের মডারেটর এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী বলেন, এজন্যই তো আপনারা (শিল্পপতিরা) এখানে। আপনারা সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করুন। এছাড়া উদ্ভাবকরা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে থেকে যেন আরও সহজে ঋণ পেতে পারেন সেজন্য সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানানো হয়।

তরুণ উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার উদ্দেশে বিডা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, এখন তাদের প্রণোদনা দিতে আইসিটি পলিসি তৈরি করতে হবে। এখন উদ্ভাবনের সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। সরকারের নানা  উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও অংশ নেন আইসিটি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এনএম জিয়াউল আলম, বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমান, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মো. শাহিদ উল মুনীর, এটুআই ইনোভেশন ল্যাবের হেড অব টেকনোলজি ফারুক আহমেদ জুয়েল প্রমুখ।

/এইচএএইচ/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ