১৯৭১ সালের এই দিনের (২৫ মার্চ) ঘটনা। দিন মানে দিবাগত রাত। যে রাতে পৃথিবীর ইতিহাসের ভয়াবহতম গণহত্যার শিকার হয় স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষ। এদিন পথে পথে ট্যাংক ও সাঁজোয়া বহর নিয়ে পথে নামে সশস্ত্র পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে কুখ্যাত অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে তারা শুরু করে গণহত্যা। রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানার ইপিআর ব্যারাক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস, শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা, পুরান ঢাকার শাঁখারি বাজারসহ ঢাকা এবং সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা হত্যাযজ্ঞ চালায় এই রাতে।
সেই রাতের সচিত্র বর্ণনা তুলে ধরলেন দুই বাংলার অন্যতম অভিনেত্রী জয়া আহসান। বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক দেয়ালে জয়া তার মায়ের স্মৃতি ধরে সেই দিনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন।
জয়ার ভাষায়, ‘আমার মায়ের তখন (১৯৭১) নবীন যুবাবয়স। গান করতেন, লাকী আখন্দের তদারকিতে। সেদিন (২৫ মার্চ) রাতের বেলায় তিনি গান করতে গেছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনে। দেশাত্মবোধক গানের তখন অন্যরকম শক্তি, অন্যরকম আলো। লাকী আখন্দ, শম্পা রেজা আর আমার ছোট খালা-মামাসহ নানান গাইয়েরাও সঙ্গে আছেন মায়ের। হঠাৎ খবর পৌঁছাল, গভীর রাতে ভয়ানক কিছু ঘটতে চলেছে। মা বেরিয়ে দেখেন পথে পাকিস্তানি মিলিটারি গিজগিজ করছে। আতঙ্কে অস্থির হয়ে কোনও রকমে একটা স্কুটার খুঁজে পেয়ে বাড়িতে পৌঁছল মা।’
জয়া মনে করেন, এমন অকল্পনীয় জেনোসাইড পৃথিবী কমই দেখেছে।
মায়ের স্মৃতি ধরে অভিনেত্রী লেখেন, ‘এই জেনোসাইডের স্মৃতি আমাদের ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে। যত দিন বাংলাদেশ আছে, ততদিন এর স্মৃতি আমাদের অন্তরে জেগে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধা।’
বলা দরকার, সর্বশেষ ৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছে জয়ার সিনেমা ‘ওসিডি’।









