রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে দেশটির ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের যোগ দিতে যখন কর্মকর্তারা সমবেত হচ্ছেন, ঠিক তখনই সেখানকার একটি প্রধান তেল টার্মিনালসহ রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে রাতভর হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এক্স-এ জেলেনস্কি লিখেছেন, আক্রান্ত তেল টার্মিনালটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আমাদের বাহিনী রাশিয়ার ক্রোনশটাদ ঘাঁটির সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতেও আঘাত হেনেছে।
ইউক্রেনের এই হামলার লক্ষ্য যে অর্থনৈতিক ফোরামের আয়োজনকে বিঘ্নিত করা ছিল, তা স্পষ্ট করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর উপদেষ্টা সের্গেই পশতুবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের হামলার পর পটভূমিতে কালো ধোঁয়ার সুন্দর কুণ্ডলী নিয়েই সেন্ট পিটার্সবার্গ ফোরামের যাত্রা শুরু হচ্ছে।’
ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, অনুষ্ঠানস্থলের দিকে প্রতিনিধিরা হেঁটে যাচ্ছেন এবং তাদের পেছনের আকাশে কালো ধোঁয়া দৃশ্যমান।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আরও জানান, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার তামবভ অঞ্চলের একটি অস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানাতেও হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভ টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, ভোরে ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো ক্রোনশটাদ, কিরোভস্কি এবং ক্রাসনোভেলস্কি জেলার অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করলেও তিনি সুনির্দিষ্ট কোনও নাম প্রকাশ করেননি।
গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভ বলেন, ‘বর্তমানে সেখানে পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কাজ চলছে। হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, তবে কোনও নিহতের ঘটনা ঘটেনি।’
এই হামলার কারণে রাতভর সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রধান বিমানবন্দরটি বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
৩ জুন থেকে শুরু হওয়া এই সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম আগামী ৬ জুন পর্যন্ত চলবে। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্বের ১০০টি দেশ থেকে প্রায় ২০ হাজার প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফোরামে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজে উপস্থিত থাকবেন এবং আগামী শুক্রবার মূল বক্তব্য দেবেন। এক সময় এই আয়োজনটি পশ্চিমা বিনিয়োগকারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আকৃষ্ট করার জন্য রাশিয়ার প্রধানতম মহাসমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হতো।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড









