বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলের আওতায় অবসর গ্রহণের সময় মোট সঞ্চিত অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিক হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট পেশ করেন। বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, শেষ বয়সে সব শ্রেণির মানুষকে আর্থিক নিরাপত্তার দেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০২৩ সালে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অর্থ সংগ্রহ শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার। পরের বছর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই স্কিম নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়। তবে সবার আশঙ্কা দূর করে অন্তর্বর্তী সরকারও এই কর্মসূচি চালু রাখার ঘোষণা দেয়। এমনকি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আয় এবং সংস্থাটির সর্বজনীন পেনশন স্কিম থেকে প্রাপ্ত সুবিধাভোগীর আয়কে আয়করমুক্ত ঘোষণাও করা হয়।
এই প্রকল্প চালুর সময় অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো, দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা অবসরে গিয়ে এই পেনশন সুবিধা ভোগ করবেন। শুধু তা-ই নয়, যারা বিদেশে কাজ করেন, সেসব প্রবাসীও এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন। দেশের সাধারণ মানুষ, যাদের বয়স ১৮ বছর পূরণ হয়েছে তারা এবং তাঁতি, জেলে, কামার, কুমারসহ সব শ্রেণির মানুষ এই পেনশন-সুবিধা পাবেন।
শুরুতে ‘প্রবাস’, ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’ ও ‘সমতা’ স্কিম চালু করা হয়েছিল। পরে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘প্রত্যয়’ স্কিম চালু করতে গিয়ে ধাক্কা খায় কর্তৃপক্ষ। অংশীজনদের বিরোধিতার মুখে ওই প্যাকেজ আর চালু করা যায়নি।









