X
সোমবার, ০২ আগস্ট ২০২১, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবায় উদাহরণ যারা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৭, ১২:০৭

 

মুক্তামনির অপারেশন হয় এই চিকিৎসকদের হাতেই বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামনির চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে। মুক্তামনিকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসকরা ওই হাসপাতালের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন, পাঠানো হয় সমস্ত পরীক্ষার কাগজপত্র। কিন্তু সেখান থেকে জবাব আসে, ‘দিস কেস ইজ নট অপারেবল অ্যান্ড কিউরেবল’। সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের চিকিৎসকরাই মুক্তামনির ডান হাত অক্ষত রেখে সফল অপারেশন করেছেন, অপসারণ করেছেন তিন কেজি ওজনের অতিরিক্ত মাংসপিণ্ড।

কেবল বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামনিই নয়, বৃক্ষমানব হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পাওয়া আবুল বাজানদার, মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়া, ডাস্টবিনে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু, জোড়া শিশু তোফা ও তহুরার সফল অস্ত্রোপচারের সাফল্য দেশ ছাড়িয়ে স্থান পেয়েছে বিদেশি গণমাধ্যমেও।

অধ্যাপক আব্দুল হানিফ টাবলু, অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা, অধ্যাপক আশরাফুল হক কাজল সরকারি হাসপাতালগুলোতে বেডের চেয়ে রোগী বেশি, রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, যন্ত্রপাতির স্বল্পতা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ সত্ত্বেও বাংলাদেশের চিকিৎসায় রয়েছে বেশ কিছু সাফল্য, বিশ্বে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা সৃষ্টি করেছেন উদাহরণ। কেবল তা-ই নয়, বাংলাদেশের একজন চিকিৎসকের উদ্ভাবনী পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে অনেক দেশে মাতৃ মৃত্যুরোধে,একজন চিকিৎসকের ছয়টি বই ৪০টি দেশেরও বেশি দেশে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশি দুই চিকিৎসকের আবিষ্কার করা হেপাটাইটিস-বি এর ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। এসবই বাংলাদেশের চিকিৎসকদের সফলতার একেকটি পালক। যা নিয়ে গর্ব করতে পারে বাংলাদেশ।

মুক্তামনির অপারেশনে চিকিৎসকরা চিকিৎসকরা বারবারই বলেছিলেন, জীবন বাঁচাতে বাধ্য হলে মুক্তামনির আক্রান্ত ডান হাতটি কেটে ফেলতে হতে পারে। তবে গত ১২ আগস্ট হাতটি অক্ষত রেখেই তিন কেজি ওজনের অতিরিক্ত মাংসপিণ্ড কেটে ফেলতে সক্ষম হন বাংলাদেশের চিকিৎসকরা। যদিও তারা বলছেন, এখনও ঝুঁকিমুক্ত নয় মুক্তামনি, তার আরও অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি অপারেশন দরকার হবে।

হাত না কেটে অস্ত্রোপচার করাকে চিকিৎসকরা দেখছেন সফলতা হিসেবেই। অস্ত্রোপচার শেষে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘অপারেশন সফল, মুক্তামনি ভালো আছে। প্রাথমিক সাফল্য বললেও এটা এখানেই শেষ নয়, তবে আমরা সফল হবো।’

অন্তত ত্রিশজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল এই অস্ত্রোপচারে অংশ নেন। অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম। তার সঙ্গে ছিলেন একই ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন, অধ্যাপক সাজ্জাদ খোন্দকার, অধ্যাপক রায়হানা আউয়াল, সহযোগী অধ্যাপক ডা. লুৎফর কাদের লেনিন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সালমা আনাম, সহকারী অধ্যাপক ডা. তাহমিনা সাত্তার,সহকারী অধ্যাপক রবিউল করিম খান, সহকারী অধ্যাপক ডা. শরীফ আশফিয়া রহমান, সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক ডা. তানভীর আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হেদায়েত আলী খান, সহকারী অধ্যাপক প্রদীপ চন্দ্র দাস, সহকারী অধ্যাপক ডা. সালেক বিন ইসলাম, বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন হোসাইন ইমাম, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবু ফয়সাল মো. আরিফুল ইসলাম নবীন ও ডা. শারমিন আক্তার সুমি, সহকারী রেজিস্ট্রার ডা.মাহবুব হাসান ও ডা. নুরুন নাহার লতা।

মুক্তামনির অপারেশনে চিকিৎসকরা

ছিলেন বার্ন ইউনিটের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবীর, সহকারী অধ্যাপক ডা. মলয় কুমার দাস, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মৌমিতা তালুকদার, ডা. রেবেকা সুলতানা ও ডা. মো. আনিসুর রহমান। ঢামেক হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোজাফফর হোসেনসহ সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাবেয়া বেগম, সহকারী অধ্যাপক ডা. সুব্রত কুমার মণ্ডল ও ডা. তানভীর আলম এবং সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শফিকুল আলমও  ছিলেন।

এছাড়াও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভাসকুলার সার্জারি বিভাগের অ্যানেসথেসিয়া অধ্যাপক ডা. নরেশ চন্দ্র মণ্ডল ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মকবুল হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

আবুল বাজানদার ২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারি খুলনা থেকে এসে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন আবুল বাজানদার। বিরল রোগ ইপিডার্মোডিসপ্লাসিয়া ভ্যারুসিফরমিসে আক্রান্ত আবুল বাজানদার বাংলাদেশে প্রথম আর বিশ্বে তৃতীয়। গত ১২ জুলাই তার শেষ অপারেশন করা হয়েছে। তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।

মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়া চিকিৎসকের কোলে সাফল্য রয়েছে ঢামেক হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগেরও। মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়া, বড় জিহ্বার আট বছরের জাহিদ, ডাস্টবিনে পাওয়া পলিথিনে মোড়ানো শিশু আয়ান, জোড়া শিশু তোফা ও তহুরার সফল চিকিৎসা হয়েছে এই বিভাগে। প্রতিটি চিকিৎসায় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন এই বিভাগের চিকিৎসকরা।

২০১৫ সালের ২৩ জুলাই মাগুরায় যুবলীগের সংঘর্ষে মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয় সুরাইয়া। ওইদিন রাতেই মাগুরা সদর হাসপাতালে অপারেশন হয় সুরাইয়ার মা নাজমা বেগমের। সন্তান প্রসবের পর দেখা যায় পেটে থাকা শিশুটিও গুলিবিদ্ধ। দু’দিন পর মা ও নবজাতককে ভর্তি করা হয় ঢামেক হাসপাতালে। গঠিত হয় ১০ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড।

নবজাতক বিভাগের আইসিইউতে রাখার পর একটু আশঙ্কামুক্ত হলে মায়ের কোলে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, নাম রাখা হয় সুরাইয়া। ঢামেক হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল হানিফ টাবলু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সুরাইয়ার চিকিৎসা আমাদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই প্রথমবারের মতো এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলাম আমরা।’ মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে হাতেগোনা আরও কয়েকটি ঘটেছে জানিয়ে আব্দুল হানিফ টাবলু বলেন, ‘ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা দুই/একটি হলেও তারা বাঁচেনি। মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র শিশু সুরাইয়াই। বিশ্বে এই ঘটনা এটিই প্রথম।’

সুরাইয়ার চিকিৎসা করা মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য নবজাতক বিভাগের তৎকালীন প্রধান অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা, বর্তমান প্রধান অধ্যাপক ডা.আশরাফুল হক কাজল ও অধ্যাপক ডা.কানিজ হাসিনা শিউলি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সুরাইয়া এখন ভালো আছে। তবে তার বিষয়টি এখনও আমাদের কাছে বিস্ময়, কী করে সে এতোটা সারভাইভ করতে পারে! এই বিষয়গুলো আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়, পুরো দেশ আমাদের সঙ্গে থাকে, যেটা আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন,‘সুরাইয়া যখন অধ্যাপক শিউলির অধীনে ভর্তি হয়,তখন কিছু জটিলতা ছিল। তখন আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করেছি, একমাস একদিন সে আমাদের কেয়ারে ছিল, প্লাস্টিক সার্জারি, পেডিয়াট্রিক সার্জারি­– সবাই মিলে প্রতিদিন তার জন্য কাজ করতাম, আমাদের এই একাগ্রতা ছিল সুরাইয়াকে সুস্থ করে তোলার জন্য। সবাই যে যার অবস্থান থেকে তার সর্বোচ্চটুকু দিয়েছিলেন।’

কুকুরের কামড়ে আহত সুস্থ  ফাইজা চিকিৎসকদের আদরে তিনি বলেন, ‘একই ঘটনা ছিল কুকুরে কামড়ানো শিশু ফাইজার বেলাতেও। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পরিচালকও সেখানে সাহায্য করেছেন, ছিলেন প্লাস্টিক সার্জনরাও। সুরাইয়ার ক্ষেত্রে যে পদ্ধতিতে আমরা চিকিৎসা দিয়েছি সেই একই প্রসিডিউর মানা হয়েছে ফাইজার ক্ষেত্রেও।’ ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, ‘আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে একা কিছু করা যায় না। এখানে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আমাদের সাফল্যের কারণ।’

তৌফা ও তহুরার অস্ত্রোপচার তৌফা ও তহুরার জোড়া লেগে জন্ম নেওয়ার বিষয়টি চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয় ‘পাইগোপেগাস’, যেটা বাংলাদেশে এই প্রথম। পিঠের একটু নিচ থেকে কোমরের নিচ পর্যন্ত সংযুক্ত হয়ে জন্ম নিয়েছিল তোফা ও তহুরা। গত ১ আগস্ট তাদের আলাদা করেন চিকিৎসকরা।

সফল এ অপারেশনে যুক্ত ছিলেন প্লাস্টিক সার্জন অধ্যাপক আবুল কালাম, ডা. তানভীর আহমেদ, ডা. লতা, ডা. গোবিন্দ, ডা. ফয়সাল ও ডা. হেদায়েত, নিউরোসার্জন অধ্যাপক অসিত চন্দ্র সরকার, ডা. রাজিউল হক, অর্থোপেডিক সার্জন অধ্যাপক শামসুজ্জামান, পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. শাহনুর ইসলাম, ডা. মোহাম্মদ মইনুল হক, অধ্যাপক আশরাফ উল হক কাজল, অধ্যাপক সামিদুর রহমান, অধ্যাপক কানিজ হাসিনা শিউলি, অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলু। অ্যানেসথেশিয়ায় ছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর হোসেন, ডা. রাবেয়া, ডা. শফিকুল আলম ও ডা. আতিক। এছাড়াও ছিলেন পেডিয়াট্রিক সার্জন তাহমিনা হোসেন, ডা. আল  মাসুদ, ডা.পার্থ সারথি মজুমদার,ডা. গাফফার খান জিয়া, ডা. সনেট, ডা. কৌশিক ভৌমিক ও ডা. তাসনিম আরা।

তৌফা ও তহুরার অপারেশন করেন এই চিকিৎসকরা শুধু চিকিৎসাই নয়, উদ্ভাবনেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের চিকিৎসকরা। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতারের প্রসবকালীন রক্তপাত বন্ধে ‘কনডম ক্যাথেটার টেম্পোনেড’ ব্যবহারের মাধ্যমে এক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যা বিশ্বব্যাপী সায়েবা’স মেথড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ২০০৩ সালে ‘ইউজ অব কনডম টু কন্ট্রোল ম্যাসিভ পোস্টপার্টাম হেমোরেজ’ শিরোনামে মেডস্কেপ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয় ডা. সায়েবার এ চিকিৎসা পদ্ধতি। পরবর্তীতে মূল রিসার্চ পেপার হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব গাইনি অ্যান্ড অবস-এ এবং ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে রিভিউ আর্টিকেল হিসেবেও প্রকাশিত হয় এটি। আন্তর্জাতিক নানা জার্নালে সায়েব’স মেথড প্রকাশিত হলে বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ডা. সায়েবা আখতারের মাধ্যমে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এই মেথড নিয়ে এফসিপিএস ডেজারটেশন, এমএস থিসিস ও পিএইডডি থিসিস আছে।

আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা.এবিএম আব্দুল্লাহ রচিত ৬টি বই উপমহাদেশ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে।

তোফা তহুরার অপারেশন করছেন চিকিৎসকরা অপরদিকে, হেপাটাইটিস বি-এর চিকিৎসায় ‘ন্যাসভ্যাক’ নামে নতুন ওষুধের সফল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশি দুই চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) ও ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর।। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ‘ন্যাসভ্যাক’-এর সাফল্য সম্পর্কে ডা. মামুন আল  মাহতাব বলেন, ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ক্রনিক হেপাটাইটিস বি-র চিকিৎসায় ব্যবহৃত অন্য সব ওষুধের তুলনায় এটি বেশি নিরাপদ হিসেবে প্রমাণিত হয়। সেখানে দেখা যায়, ন্যাসভ্যাক ব্যবহারে শতকরা ৫০ ভাগ ক্রনিক হেপাটাইটিস বি রোগীর রক্ত থেকে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে। আর শতভাগ রোগীর লিভারের প্রদাহ পুরোপুরি ভালো হয়েছে।’ ন্যাসভ্যাকের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালটি চালানো হয় ২০১৩ সালে। এই ট্রায়ালটি লিভার বিশেষজ্ঞদের সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক কনফারেন্স হিসেবে স্বীকৃত আমেরিকান লিভার মিটিংয়ে ‘প্রেসিডেনশিয়াল ডিস্টিংশন পদক’ লাভ করে। এরপরই এটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত শুরু হয় কিউবায়। দেশটিতে ‘হেবার-ন্যাসভ্যাক’ নামে বিক্রি হচ্ছে ওষুধটি। রাশিয়ায় চলছে মাল্টিসেন্টার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। জাপানেও ওষুধটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিলেছে।

দেশের অন্যতম জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশে একজন সিনিয়র মোস্ট হিসেবে বলতে পারি, আগে আমরা যেভাবে চিকিৎসা করতাম, দিনে দিনে সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, আরও  হচ্ছে। তার প্রমাণ আবুল বাজানদার। বিশ্বে যে ক’জন বৃক্ষমানব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল তাদের কারও এত সফল অস্ত্রোপচার হয়নি–এটি আমাদের জন্য একটি মাইলফলক। অপরদিকে, তৌফা-তহুরার যে অপারেশন হয়েছে, এটি দশ বছর আগেও চিন্তা করা যেত না-অথচ সেটাই সম্ভব করেছেন আমাদের চিকিৎসকরা।’ চিকিৎসকদের সাফল্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই শিশুদের অজ্ঞান করার মতো সাহস কারও ছিল না-অথচ তাদের একসঙ্গে রেখে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করাটাই বলে দেয় বাংলাদেশের চিকিৎসকরা কোথায় পৌঁছে গেছেন। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের চিকিৎসকরা যদি ভালো টেকনোলজিক্যাল সাপোর্ট পান, তারা নিঃসন্দেহে আরও উন্নতি করবে। কারণ, তাদের মেধা রয়েছে, ইচ্ছা রয়েছে। রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা রয়েছে। চিকিৎসকের এই বিষয়গুলো অনুপ্রেরণা দেবে পরবর্তী প্রজন্মকে। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের চিকিৎসা যেভাবে এগুচ্ছে, তাতে আমরা একদিন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলে যাবো।’

অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চিকিৎসকদের ভুল হলে যতোটা ফলাও করে প্রচার করে সংবাদমাধ্যম, সে তুলনায় বাংলাদেশের চিকিৎসকদের সাফল্য নিয়ে সংবাদ কমই দেখি। আমাদের সাফল্যকে একেবারেই খাটো করে দেখার মতো নয়, কারণ সাম্প্রতিক সময়েই বেশি কিছু চিকিৎসা বাংলাদেশে হয়েছে, যেটা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে প্রচার করেছে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন করে উচ্চারিত হয়েছে।’

/জেএ/এএম/আপ-এসএনএইচ/

 

সম্পর্কিত

রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর যে ৪ হাসপাতাল

রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর যে ৪ হাসপাতাল

ডিএনসিসি করোনা হাসপাতালের ৫০০ বেডে যুক্ত হচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন

ডিএনসিসি করোনা হাসপাতালের ৫০০ বেডে যুক্ত হচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন

রবিবার দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ টিকা

রবিবার দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ টিকা

করোনা: ৬ মাসেই গত বছরের দ্বিগুণ মৃত্যু

করোনা: ৬ মাসেই গত বছরের দ্বিগুণ মৃত্যু

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রয়োজন কী?

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ১১:০০

প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মসহ দীর্ঘদিন থেকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ ও পদোন্নতি জালিয়াতি, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি, ভর্তি বাণিজ্য এবং স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে। দুর্নীতির অভিযোগে কমিটি ভেঙে দেওয়ার নজিরও দেখা গেছে হরহামেশা। পরিচালনা কমিটির দুর্নীতির কারণে অনেক শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের চাকরি গেলেও সংশ্লিষ্ট অভিযোগে কমিটির কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর।

অন্যদিকে নামদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভিভাবকদের একটি অংশ ভর্তি বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য গঠন করেছেন অভিভাবক ফোরাম। এই ফোরামের কথা না শুনলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যখন-তখন আন্দোলনের হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পরিচালনা কমিটি বাদ দিয়ে মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার দাবি তোলেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন সময় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—দায়হীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রয়োজন কী?

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে অনেক প্রভাবশালী লোকজন থাকেন, শিক্ষকদের মধ্যেও অনেক প্রভাবশালী থাকেন, সে কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। তাই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা একটি আইনের কাঠামোর মধ্যে নেওয়া উচিৎ। শুধু আদেশ আর পরিপত্র দিয়ে চালানো যায় না। যদি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আইন থাকতে পারে তাহলে কেনও বেসরকারি অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন থাকবে না? দ্রুত শিক্ষা আইন করে আইনি কাঠামোতে আনতে হবে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে।’

উল্লেখ্য, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা, ২০০৯’ এ কমিটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া থাকলেও কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও বিধান নেই।  ফলে আর্থিক দুর্নীতিসহ যা ইচ্ছে তাই করে থাকে ম্যানেজিং কমিটি।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি (বাশিস) ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম রনি বলেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি শিক্ষকদের অধিকার রক্ষা করে না। বরং প্রতিষ্ঠানের টাকা তছরুপ করে। নিয়োগ, পদোন্নতি জালিয়াতি, ভর্তি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি করে কমিটিগুলো। এফডিআর ভাঙিয়ে অর্থ ব্যয় করে অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করেছে কমিটিগুলো।  পরিচালনা কমিটির অনিয়ম-দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে কয়েক হাজার মামলা উচ্চ আদালতে চলমান রয়েছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

নজরুল ইসলাম রনি আরও বলেন, অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা শিক্ষার্থীর টিউশন ফি থেকে পরিশোধ করার কথা থাকলেও বিগত ২৯ বছর ধরে প্রায় বিনা বেতনে শিক্ষকরা চাকরি করছেন।  সরকারের ওপর এখন দায় চাপিয়ে দিয়ে কমিটিগুলো ফায়দা লুটছে। শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে লিখে নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি রক্ষা করছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকরা।  তাহলে এমপিওভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটি থাকার প্রয়োজন কী?

একইভাবে অভিভাবক ফোরামের নামে চাঁদাবাজি ও ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ করেন এই শিক্ষক নেতা। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে প্রতি বছর শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের সভাপতি করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে। 

ভিকারুননিসায় অনিয়ম-দুর্নীতি

দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন গভর্নিং বডির বিরুদ্ধে বছরের পর বছর  ভর্তি বাণিজ্য, অধ্যক্ষ নিয়োগে দুর্নীতির চেষ্টা, প্যাটার্ন বহির্ভূত শিক্ষক নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি, আয়-ব্যয়ের হিসাবের নথিপত্র না রাখা, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে প্রথম শ্রেণির বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা দেওয়া, কমিটির সদস্যদের স্যার বলতে শিক্ষকদের বাধ্য করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার পরও কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

২০০৭ সালে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫০ কোটি টাকা দুর্নীতি প্রমাণ পাওয়ার পরও কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  গভর্নিং বড়ি ডিআইএ’র প্রতিবেদনের কোনও সুপারিশ মানেনি। উল্টো বছরের পর বছর সেই অনিয়মকে নিয়ম করে রাখা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অগ্রাহ্য করে ১৩ বছরের বেশি সময় অনিয়মের মাধ্যমে বিভিন্ন গভর্নিং বড়ি দায়িত্ব পালন করেছে।

২০১৯ সালে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কমিটির কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তবে নিয়োগ কমিটিতে যেসব সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি শিক্ষক ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থী ভর্তিতে দুর্নীতি

২০১৯ সালের ভর্তি পরীক্ষায় ৪৪৩ শিক্ষার্থী ভর্তির যাবতীয় কার্যক্রম গভর্নিং বডি সম্পাদন করলেও কমিটির একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ভর্তি কার্যক্রমে গভর্নিং বড়ির প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ থাকলেও ভর্তির সময় দায়িত্ব পালন করা তিনজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর।  এত কিছুর পরও ২০২০ সালের নতুন গভর্নিং বডি আরও শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা করে। আর নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অভিভাবক ফোরাম লিখিত আবেদন করে।

ডিআইএর প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ভিকারুননিসার কয়েকজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ থাকলেও ব্যবস্থা নেয়নি বিভিন্ন সময়ের গভর্নিং বডি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যক্ষদের দিয়ে ভর্তি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতি করিয়েছে গভর্নিং বডি।

প্যাটার্ন বহির্ভূত শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি বিগত সময়ের গভর্নিং বড়িগুলো। অতিরিক্ত বেতন-ভাতা প্রতিষ্ঠানের কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হলেও সে ব্যবস্থাও নেয়নি বিগত কমিটিগুলো।

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, করোনার মধ্যেই কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

করোনাকালে কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ

চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি জারি করা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের আদেশে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মোল্লাকান্দি লালমিয়া পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়।  দুদকের পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে ওই দুর্নীতির তথ্য ওঠে আসে।

ওই আদেশে জানানো হয়, কলেজের তিন কোটি ৮৪ লাখ টাকা খরচ করা হয়। এর মধ্যে ক্যাশ বইয়ে না লিখে এবং ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে ২৮ লাখ ৫২ হাজার ১১২ টাকা সভাপতির মাধ্যমে কলেজের বিভিন্ন শাখা উন্নয়ন ও বিভিন্ন খাতে খরচ করা বিধিসম্মত হয়নি।  এই ঘটনায় দ্রুত অধ্যক্ষ নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুটিন কাজ ছাড়া কোনও কিছুই করতে পারেন না।  রেজুলেশেনে পাস করা জরুরি কাজ করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। অথচ সব দায় গিয়ে পড়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ঘাড়ে।    

এ বছর ১৯ জুলাই মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী সবুজসেনা উচ্চবিদ্যালয়ের যাবতীয় নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

বিগত কমিটির বিরুদ্ধে নতুন কমিটি গঠন করায় গত ২১ মার্চ জয়পুর হাটের ক্ষেতলাল উপজেলার পাঠানপাড়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে করোনার পরিস্থিতির মধ্যেই সশরীরে উপস্থিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

গত ২ মে জামালপুর সদর উপজেলার ঝাওলা গোপালপুর ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির যোগসাজশে নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। তবে শুধুমাত্র অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু কমিটির কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি। অথচ নিয়োগ দেওয়ার এখতিয়ার গভর্নিং বডির।

এছাড়া ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর ঢাকা শিক্ষা বোর্ড রাজধানীর যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডি বাতিল করেছে।

জালিয়াতির কারণে ৫ মাদ্রাসার এমপিও স্থগিত

৫টি দাখিল  মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি জালিয়াতি করে সহকারী গ্রন্থাগারিক নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিও স্থগিত করা হয়েছে সোমবার (২৬ জুলাই)।  এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর সব শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি বেতনের অংশ পাবেন না।  এই ঘটনায় সব দায় ম্যানেজিং কমিটি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের হলেও সব শিক্ষক-কর্মচারী বঞ্চিত হবেন। অবশ্য কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে কেনও ফৌজদারি আইনে মামলা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।  যদিও এখন পর্যন্ত কমিটির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো।

কমিটির অবহেলায় যৌন হয়রানি

চলতি বছর ৭ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে অফিস আদেশ জানানো হয়, একজন নারী শিক্ষককে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ নিষ্পত্তি না করায় একই কলেজের অপর নারী শিক্ষক যৌন হয়রানির শিকার হন। প্রথম যিনি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন তার অভিযোগ প্রমাণের পর গভর্নিং বডির মাধ্যমে অধ্যক্ষের কক্ষে সমঝোতা করতে করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। এর ফলে আরেক জন শিক্ষক যৌন হয়রানির শিকার হন। এই ঘটনায় বগুড়া জেলার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের যৌন নিপীড়ন বিরোধী কমিটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ কমিটি নিলে এই তদন্তের প্রয়োজন হতো না। অথচ কমিটিকে এ বিষয়ে কোনও দায় ঘাড়ে নিতে হয়নি।

পরিচালনা কমিটির বিধিবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

কমিটির দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিভিন্ন সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি বিধিবিধান সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন এর আগে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, আইন-কানুন সংশোধনের প্রস্তাব করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক ওই সময় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির বিধিবিধান যুগোপযোগী করতে মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব করেছি।’

তবে করোনার কারণে গত এক বছরেও বিধিবিধান সংশোধনের কাজ করা সম্ভব হয়নি বলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিভাবক ফোরামের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অভিভাবক ফোরামের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। সম্প্রতি ভিকরুননিসার অধ্যক্ষের ফোনালাপ ফাঁসের সূত্র ধরে অভিভাবক ফোরামের ভর্তির বাণিজ্য সামনে আসে। ফোনালাপের অডিও ফাঁস করা অভিভাবক মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে সরাসরি।  গত ২২ মার্চ প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ চেয়ে লিখিত আবেদন করা হয় গভর্নিং বডির সভাপতির কাছে।  অধ্যক্ষ ভর্তির সুযোগ দেননি বলে জুন মাসের প্রথম দিকের ফোনালাপ সম্প্রতি ফাঁস করেন টিপু। তবে টিপু বলেন, ‘অভিভাবকদের পক্ষে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের জন্য অধ্যক্ষকে আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম।  উনি শোনেননি।  সম্ভবত গত ১০ জুনের ফোনালাপ এটি। ’

অভিভাবক ফোরামের চাঁদাবাজি

ভিকারুননিসার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিভাবক ফোরামের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। এর আগে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘অভিভাবক ফোরামের কোনও কাজ নেই। তারা শিক্ষার্থী বা শিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়নে সুপারিশ করে না।  ফোরামের নামে শিক্ষকদের দুর্বলতার সুযোগে চাঁদাবাজি করে করে।’

 

/এমআর/

সম্পর্কিত

এসএসসির সংশোধিত অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

এসএসসির সংশোধিত অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

১৮ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দিতে নির্দেশ

১৮ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দিতে নির্দেশ

এইচএসসির ফরম পূরণ শুরু ১২ আগস্ট, ফি কমেছে

এইচএসসির ফরম পূরণ শুরু ১২ আগস্ট, ফি কমেছে

দুই দশকে ভিকারুননিসায় যত লুটপাট-অনিয়ম

দুই দশকে ভিকারুননিসায় যত লুটপাট-অনিয়ম

রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর যে ৪ হাসপাতাল

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ০৯:০০

স্বাস্থ্য অধিদফতরের আখ্যা দেওয়া ‘কঠিন জুলাই’ শেষ হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, চলতি মাস (আগস্ট) ভয়ংকর হবে। কারণ ঈদের আগে শিথিল ও পরে লকডাউন দেওয়া হলেও পোশাক শ্রমিকদের ঢাকায় ফিরতে বলায় তারা ফিরছেন, যে কারণে সংক্রামণের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত হবার কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। তার ঠিক ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত মৃত্যুর কথাও জানায় তারা। সে থেকে দেশে এখন পর্যন্ত করোনাতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসেবে মোট মারা গেছেন (৩১ জুলাই) ২০ হাজার ৬৮৫ জন।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টিকারী ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটে বাংলাদেশেও দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু বাড়ছে কয়েকগুণ। করোনার ঊর্ধ্বগতিতে চলতি মাসের দুই সপ্তাহ দেশে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু ঈদুল আজহা উপলক্ষে লকডাউন শিথিল করা হয়।
আর শিথিল লকডাউনের সুযোগে ঢাকা ছেড়ে গ্রামমুখী হয়েছে মানুষ। বাস, লঞ্চে, ফেরিতে গাদাগাদি করে গ্রামে ঈদ উৎসব করতে গিয়েছে সাধারণ মানুষ। আবার শিথিল লকডাউন শেষে কঠোর লকডাউনের আগে মানুষ যেভাবে ঢাকা ছেড়েছিল, ঠিক সেভাবেই ফিরেছে। কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্যরা সে সময়ে বলছেন, শিথিলতার এ নির্দেশনায় তাদের ‘সায়’ ছিল না। তারা বলছেন, সরকারের শিথিল বিধিনিষেধের এ ঘোষণা তাদের পরামর্শের উল্টো চিত্র।
এসময় এ ধরনের শিথিলতা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ারই শামিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিল, স্বাস্থ্য অধিদফতর যেখানে বার বার ভিড় এড়িয়ে চলার কথা বলছে, সেখানে সংক্রমণের ‘পিক টাইমে’ এ ধরনের ঘোষণা আমাদের আরও খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাবে।
সে আশঙ্কাকে সত্যি করে দেশে ঈদের পর থেকে দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর একের পর এক রেকর্ড দেখতে হচ্ছে দেশকে। কেবলমাত্র জুলাই মাসেই মারা গেছেন ছয় হাজার ১৮২ জন মানুষ আর শনাক্ত হয়েছেন তিন লাখ ৩৬ হাজার ২২৬ জন।
আর এতে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করা তালিকায় বিশ্বে এখন দিনে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হচ্ছে যেসব দেশে, সেই তালিকায় অষ্টম অবস্থানে বাংলাদেশ।
দেশে ঈদুল আজহার পর গত ৩০ জুলাই থেকে ঢাকামুখী হয়েছে মানুষ। সেখানে বিধিনিষেধে ফেরিতে যাত্রী পারাপার নিষিদ্ধ হলেও যাত্রীরা তা মানছেন না বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত যানবাহন পারাপারে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে মাত্র ছয়টি ফেরি চালু রাখা হয়েছে। জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিত যানবাহন পারাপারের সময় যাত্রীরা ফেরিতে ওঠে পড়েন। চেষ্টা করেও তাদের ফেরি থেকে নামানো যাচ্ছে না।
এদিকে, আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউনের ঘোষণা থাকলেও দেশে ১ আগস্ট থেকে তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানা চালুর ঘোষণায় শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ফিরছে মানুষ। যেভাবে পারছে তারা ঢাকায় ফিরছে।
শিমুলিয়া ঘাটে আসা প্রতিটি লঞ্চে দেখা যায়, যাত্রীর গাদাগাদি। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। সেখানেও উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি।
এদিকে, বাংলা ট্রিবিউনের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। শ্রমিকরা দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে, অটো রিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহনে এসে রবিবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে নিজ নিজ কর্মস্থল যোগ দেন।
কারখানার শ্রমিকরা বলছেন, তাদেরকে ঢাকায় ফিরে কাজে যোগ দিতে ফোন করে বলা হয়েছে। তাই কষ্ট করেও তারা ফিরছেন ঢাকায়।
অন্যদিকে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (১ আগস্ট) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ২৩১ জন। শনিবার (৩১ জুলাই) ছিল এ সংখ্যা ২১৮ জন। একদিনে মারা যাওয়া ২৩১ জনকে নিয়ে দেশে সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত মোট মারা গেছেন ২০ হাজার ৯১৬ জন।
একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮৪৪ জন। এর আগের দিন শনাক্ত হয়েছিলেন ৯ হাজার ৩৬৯ জন। নতুন করে শনাক্ত হওয়া ১৪ হাজার ৮৪৪ জনকে নিয়ে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছেন ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৩২৮ জন।

আর এ অবস্থাতে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, রাজধানী ঢাকার করোনা ডেডিকেটেড অন্যতম বড় ৮ হাসপাতালেই আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ফাঁকা নেই। মোট ১৭টি সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার মধ্যে তিনটি হাসপাতালে আইসিইউ নেই। বাকি হাসপাতালগুলোর মধ্যে মাত্র ১৬টি বেড ফাঁকা ছিল ১ আগস্ট (রবিবার)।

তবে সবচেয়ে ভয়ের কথা জানিয়ে অধিদফতর জানাচ্ছে, রাজধানী ঢাকার করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া চারটি বড় সরকারি হাসপাতালেই ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

অধিদফতর জানাচ্ছে, ১৭ হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য সাধারণ বেড রয়েছে তিন হাজার ৯৩০টি। তার মধ্যে বেড ফাঁকা রয়েছে মাত্র ৯২৪টি। এর মধ্যে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত সাধারণ বেড রয়েছে ১৬৯টি। তাতে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি আছেন চারজন। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বেড রয়েছে ২৭৫টি, তাতে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি আছেন ৭০ জন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৭০৫ বেডের বিপরীতে ভর্তি আছেন ৫৬ অতিরিক্ত রোগী আর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২৬৩ বেডের বিপরীতে ভর্তি আছেন ৫৪ জন অতিরিক্ত রোগী।

রাজধানী ঢাকার এই চার হাসপাতাল ছাড়া দেশের ১৫টি হাসপাতালে নির্ধারিত বেডের চেয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি আছেন।

তবে সারাদেশে থেকে সাধারণত রোগীরা ছুটে আসছেন রাজধানীতে। তাতে করে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে চাপ পড়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক রোগী সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতিতে জানিয়েছেন, তারা হাসপাতাল তৈরির জন্য নতুন ভবন খুঁজছেন, কিন্তু সেটাও পাচ্ছেন না।

আর স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম হতাশা নিয়ে বলেন, হাসপাতালের বেডতো ‘রাবার’ নয় যে, টানতে টানতে বড় করা যাবে।  

হাসপাতালের বেডের সীমাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের বিছানা তো রাবার নয় যে, টানতে টানতে বড় হবে। বিছানা একটাও ফেলার জায়গা নেই, কোথায় আমি আর জায়গা দেবো।’

তারপরে তো শুধু কোভিড রোগী নয়, নন কোভিড রোগীরাও আছেন। তাদের সেবাও ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে অধ্যাপক খুরশিদ আলম বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের মতো এত বড় একটা হাসপাতালকে টোটালটাই কোভিড করে দিয়েছি, তাতে কি সামাল দেওয়া যাচ্ছে? আজ একটা বিছানাও খালি নেই। তাহলে রোগীর উৎপত্তিস্থল যদি বন্ধ করতে না পারি, তাহলে এটা করে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে বা অন্যান্য সুবিধা বাড়িয়ে খুব কি লাভ হবে?’
নির্ধারিত বেডের চেয়ে অতিরিক্ত রোগী রয়েছে হাসপাতালে, ৮০০ এর বেশি রোগী জানিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ৮১৭ জন রোগী রয়েছে এখন।
হিমশিম খাচ্ছি, তারপরও প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগীকে ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছি- মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই বলছি সক্ষমতারও একটা লিমিটেশন থাকে।
‘এখন আর ওটা বলার মতো অবস্থা নেই’- বলেন দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক।
একই কথা জানিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক অধ্যাপক ডা. খলিলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেড বাড়িয়েছি, ৪০০ করেছি। তাতে করে কিছুটা জায়গা দেওয়া যাচ্ছে। ৫৯ জনকে ছুটি দিয়েছি আর ৬৬ জনকে ভর্তি করেছি।’
তবে বেড খুব বেশিদিন ফাঁকা থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বেড ফাঁকা থাকবে না। যে হারে মানুষ ঢাকা ছাড়লো, আর ফিরলো; তাতে করে অবস্থা ভয়ংকর হবে। এক থেকে দুই সপ্তাহ পরে এর প্রভাব বোঝা যাবে। এখনি হিমশিম খেতে হচ্ছে, তখন কী হবে বলা যাচ্ছে না।
কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সেহাব উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হিমশিম খাচ্ছি। হাসপাতালের ওপরে ভীষণভাবে চাপ পড়ছে। আমরা জায়গা দিতে পারছি না, রোগীও বেশি আসছে। কিন্তু তাদের তো প্রয়োজন। অনেকের অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে বেশি। রোগী সামলাতে আউটডোরে অবজারভেশন ওয়ার্ডে অক্সিজেন দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে’।
আবার অনেককে ফেরতও পাঠাতে হচ্ছে জানিয়ে শিহাব উদ্দিন বলেন, এরপরও এক্সট্রা বেড করে ওভার অ্যাডমিশন দিতে হচ্ছে। হাসপাতালের ফাঁকা জায়গাতে কিছু বেড ফেলে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হিমশিম খেতে হচ্ছে আসলে আমাদের।

/এনএইচ/

সম্পর্কিত

ডিএনসিসি করোনা হাসপাতালের ৫০০ বেডে যুক্ত হচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন

ডিএনসিসি করোনা হাসপাতালের ৫০০ বেডে যুক্ত হচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন

রবিবার দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ টিকা

রবিবার দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ টিকা

করোনা: ৬ মাসেই গত বছরের দ্বিগুণ মৃত্যু

করোনা: ৬ মাসেই গত বছরের দ্বিগুণ মৃত্যু

৮ সরকারি হাসপাতালে ফাঁকা নেই আইসিইউ

৮ সরকারি হাসপাতালে ফাঁকা নেই আইসিইউ

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ০৮:৪৭

আওয়ামী লীগের মহিলা-বিষয়ক উপ-কমিটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে র‌্যাবের দায়ের করা মামলার তদন্তভার থানা পুলিশ থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। রবিবার (১ আগস্ট) রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, থানা পুলিশ থেকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব ডিবিকে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আদালতের নির্দেশে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে। তাকে ডিবি জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

সম্প্রতি ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের প্রচারণা করে আওয়ামী লীগ থেকে নিজের পদ খোয়ান হেলেনা জাহাঙ্গীর। গত ২৯ জুলাই রাতে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা অভিযানের পর গুলশানের নিজ বাসা থেকে আটক হন এই ব্যবসায়ী। পরদিন ৩০ জুলাই র‌্যাব বাদি হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে। এরমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। 

আর হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসা থেকে উদ্ধার করা মদ, ওয়াকিটকি, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়ার বিষয়ে বন্যপ্রাণী আইন, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।

/এআরআর/ইউএস/

সম্পর্কিত

মতিঝিলের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার

মতিঝিলের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার

‘রাতের রানী পিয়াসা ও মৌয়ের কাজ ছিল ব্ল্যাকমেইল করা’

‘রাতের রানী পিয়াসা ও মৌয়ের কাজ ছিল ব্ল্যাকমেইল করা’

সেই পিয়াসা আটক 

সেই পিয়াসা আটক 

ডা. ঈশিতার আকাশচুম্বী সাফল্য, ডিগ্রি, পুরস্কার ও খ্যাতি সবই ভুয়া

ডা. ঈশিতার আকাশচুম্বী সাফল্য, ডিগ্রি, পুরস্কার ও খ্যাতি সবই ভুয়া

মতিঝিলের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ০৩:৫৩
image

রাজধানীর মতিঝিল এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নিহত ততুরণীর নাম সালমা (১৬)। তার গ্রামের বাড়ি ভোলা।

রবিবার (১ আগস্ট) রাতে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ সৈয়দ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান,  মতিঝিলের  ৮ নং ফকিরাপুল ফাইভস্টার আবাসিক হোটেলের ছয়তলার  ৬০৪ নম্বর কক্ষ থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

তাকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সোয়া দশটায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

/এআরআর/জেজে/

সম্পর্কিত

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

‘রাতের রানী পিয়াসা ও মৌয়ের কাজ ছিল ব্ল্যাকমেইল করা’

‘রাতের রানী পিয়াসা ও মৌয়ের কাজ ছিল ব্ল্যাকমেইল করা’

সেই পিয়াসা আটক 

সেই পিয়াসা আটক 

ডা. ঈশিতার আকাশচুম্বী সাফল্য, ডিগ্রি, পুরস্কার ও খ্যাতি সবই ভুয়া

ডা. ঈশিতার আকাশচুম্বী সাফল্য, ডিগ্রি, পুরস্কার ও খ্যাতি সবই ভুয়া

‘রাতের রানী পিয়াসা ও মৌয়ের কাজ ছিল ব্ল্যাকমেইল করা’

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ০২:২৯

‘পিয়াসা ও মৌ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। ওরা রাতের রানী বলেই সুপরিচিত। সারাদিন ঘুমিয়ে কাটাতেন। রাতে বিভিন্ন পার্টিতে গিয়ে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের টার্গেট করে বাসায় ডেকে আনতেন। এরপর বাসায় গোপনে তাদের আপত্তিকর ছবি তুলতেন। সেই ছবি বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যদের দেখানোর ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতেন।'

রবিবার (১ আগস্ট) রাতে বারিধারা ও মোহাম্মদপুরের পৃথক দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আলোচিত ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে আটকের পর এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ।

তিনি বলেন, আমরা পিয়াসা ও মৌয়ের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল করার অনেকগুলো অভিযোগ তদন্ত করছিলাম। সেই তদন্তের অংশ হিসেবে ফারিয়া ও মৌয়ের বাসায় অভিযান চালানো হয়। তাদের বাসা থেকে বিদেশি মদ ও ইয়াবা পাওয়া গেছে। তাদের ব্ল্যাকমেইলিং করার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া যেহেতু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে, এজন্য গুলশান ও মোহাম্মদপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হবে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, রবিবার রাতে প্রথমে বারিধারার পিয়াসার বাসায় অভিযান চালানো হয়। তার বাসা থেকে মাদকদ্রব্যসহ পিয়াসাকে আটকের পর অভিযান চালানো হয় মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসায়। সেখান থেকে অন্তত এক ডজন বিদেশি মদ, পাঁচ প্যাকেট ইয়াবাসহ মৌকে আটক করা হয়।

সরেজমিন মৌয়ের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, গনমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে ওই বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। মিরপুর রোড সংলগ্ন ২২/৯ বাবর রোডের ওই বাসার নিচতলায় থাকতেন মৌ। বাসার ভেতরে ড্রয়িং রুমের পাশেই একটি মিনি বার দেখা গেছে। বাসার ভেতরের বেডরুমের একটি ড্রয়ার থেকে পাঁচ প্যাকেট ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এছাড়া ওই বেডরুমের ভেতরে আরেকটি ড্রেসিং রুম থেকে অন্তত এক ডজন বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, গ্রেফতারকৃত মৌ ও পিয়াসা তাদের বাসায় মদের আসর বসাতো মূলত উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের ব্ল্যাকমেইল করার জন্য। এই বিষয়ে তদন্তে সত্যতা পেলে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগেও পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে’

বাবর রোডের বাসা থেকে আটকের পর মডেল মৌ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। ভাসাবির জামানের বউ তাকে বাসায় পুলিশ পাঠিয়ে শায়েস্তা করার হুমকি দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। মৌ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‌'ভাসাবির জামানের বউ আমার পরিচিত। তাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে গিয়ে পিয়াসার সঙ্গেও আমার পরিচয় হয়। ভাসাবির জামানের বউ তানজি'র সঙ্গে ওদের কার যেন ঝামেলা হয়েছে, সেজন্য আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার বাসায় এসব মদ আর ইয়াবা আগে থেকে ছিল না।

 

/এনএল/এফএএন/

সম্পর্কিত

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

মতিঝিলের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার

মতিঝিলের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার

সেই পিয়াসা আটক 

সেই পিয়াসা আটক 

করোনা থেকে মুক্তি: আনন্দে কাঁদলেন তিনি

করোনা থেকে মুক্তি: আনন্দে কাঁদলেন তিনি

সর্বশেষ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রয়োজন কী?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রয়োজন কী?

ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি ৪ ডেঙ্গু রোগী

ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি ৪ ডেঙ্গু রোগী

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে একদিনে ২৩ মৃত্যু

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে একদিনে ২৩ মৃত্যু

যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া, পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া, পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ৬ লাখ টাকা ছিনতাই

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ৬ লাখ টাকা ছিনতাই

চট্টগ্রামে করোনায় আরও ১১ জনের মৃত্যু

চট্টগ্রামে করোনায় আরও ১১ জনের মৃত্যু

রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর যে ৪ হাসপাতাল

রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর যে ৪ হাসপাতাল

স্পারসোতে চাকরির সুযোগ

স্পারসোতে চাকরির সুযোগ

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

হেলেনা জাহাঙ্গীরের মামলা তদন্ত করবে ডিবি

শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে ২ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন

শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে ২ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন

বিদেশে নিজের অবস্থান জানান দিলেন বঙ্গবন্ধু

বিদেশে নিজের অবস্থান জানান দিলেন বঙ্গবন্ধু

মাদাগাস্কারে সেনা কর্মকর্তা আটক, প্রেসিডেন্ট হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

মাদাগাস্কারে সেনা কর্মকর্তা আটক, প্রেসিডেন্ট হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর যে ৪ হাসপাতাল

রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর যে ৪ হাসপাতাল

ডিএনসিসি করোনা হাসপাতালের ৫০০ বেডে যুক্ত হচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন

ডিএনসিসি করোনা হাসপাতালের ৫০০ বেডে যুক্ত হচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন

রবিবার দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ টিকা

রবিবার দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ টিকা

করোনা: ৬ মাসেই গত বছরের দ্বিগুণ মৃত্যু

করোনা: ৬ মাসেই গত বছরের দ্বিগুণ মৃত্যু

৮ সরকারি হাসপাতালে ফাঁকা নেই আইসিইউ

৮ সরকারি হাসপাতালে ফাঁকা নেই আইসিইউ

পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ায় সংক্রমণ বাড়বে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ায় সংক্রমণ বাড়বে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

‘অসহায়’ স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক

‘অসহায়’ স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক

প্রসূতি মায়েদের টিকার সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি: স্বাস্থ্যের ডিজি

প্রসূতি মায়েদের টিকার সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি: স্বাস্থ্যের ডিজি

গণমাধ্যম দেখিয়েছে, সবাই দেখেছি: স্বাস্থ্য অধিদফতর

গণমাধ্যম দেখিয়েছে, সবাই দেখেছি: স্বাস্থ্য অধিদফতর

‘আইসিইউ রোগীর জন্য ডেথ বেড’

‘আইসিইউ রোগীর জন্য ডেথ বেড’

© 2021 Bangla Tribune