X
শুক্রবার, ২৩ জুলাই ২০২১, ৮ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

‘কিছু মানুষ আমাকেও গালাগালি করবে, স্বাভাবিক’

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৬, ১৮:২০

IMG_1038 শিলাজিৎ। দুই বাংলায় সুমন-নচি-অঞ্জনের পথে তিনিও আরেক দৃঢ় পথিক। কথা-সুর-কণ্ঠ তো বটেই, তবে তাকে সংগীত পারফর্মার হিসেবেই বেশি ভালোবাসে ভক্তরা। গা ছমছমে গানের কথা, সঙ্গে গায়কির বৈচিত্র। আর হরবলার মতো পৃথিবীর সব পশুপাখিকে জমা করতে পারেন ঐ গলায়। আবার সুরে-ছন্দে বাঁধা গানের বাইরে যার কথাগুলো হয়ে যায়, মানুষ আর বাস্তবতার মতো শক্ত-স্পষ্ট-কাঠখোট্টা কিছু। কলকাতার জীবনমুখী এ গায়ক এবারই প্রথম এসেছেন ঢাকা এফএম ও গানবাংলা চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠানে গাইতে। পরের দিন ঘুমভাঙা সকালের প্রায় পুরোটাই দিলেন বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের জন্য। সঙ্গে ছিলেন প্রতিবেদক ওয়ালিউল মুক্তা। ছবি তুলেছেনসাজ্জাদ হোসেন-

babana-(3)

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশে এবারই প্রথম! কলকাতার শিল্পী বিবেচনায় এই ঘটনা ঢাকার জন্য খানিক অস্বাভাবিক। আসতে এত সময় লাগলো কেন?

শিলাজিৎ: আমি দেশের বাইরে অন্য অনেক জায়গায় গিয়েছি। কিন্তু তারা যেভাবে ট্রিট করে, তা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তাই দেশের বাইরে অন্যদের মতো সচরাচর যাওয়া হয় না।

ট্রিবিউন: বিদেশ নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা সুখকর নয় বলে মনে হচ্ছে।

শিলাজিৎ: অনেকটা তাই। একবার আমেরিকায় বসবাসাকারী এক বাঙালি অধ্যাপক আমার কাছে এল। আমাকে নিয়ে সেখানে গান গাওয়াতে চায়। আমি বললাম, তো কত দেবেন? তিনি আমাকে বললেন, দাদা, একহাজার ডলার। সেখানে ভালো হোটেলে থাকবেন, যাবেন আর গাইবেন। একহাজার ডলার পাবেন।

আমি বললাম, আপনি বেতন পান কত? ২০ হাজার ডলার? পৃথিবীতে কতজন অধ্যাপক আছে, আর কতজন গায়ক? একজন সংগীতশিল্পী একসপ্তাহের জন্য যাবে এক হাজারের ডলারের চেয়েও কমে! তিনি উত্তরে বললেন, দাদা ১ হাজার ডলার মানে তো ৬৬ হাজার টাকা। সেখানে যাচ্ছেন, আসছেন, দেশ ঘুরতে পারছেন।
আমি শুধু তাকে বললাম, আমি কিন্তু সে দেশেই টাকাটা নিচ্ছি। তাহলে কলকাতা এসে শুনে যান। আর নয়তো গায়ক বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নিয়ে যান, দেশ ঘোরার জন্য। তারা আসলে টাকা দিয়ে আমাদের মূল্যায়ন করতে চায়।

IMG_1131

ট্রিবিউন: তবে কি ঢাকা-বাংলাদেশ নিয়েও আপনার এমন কোনও ধারণা ছিল! নাকি এখনও আছে?

শিলাজিৎ: না, না। আমি আসলে কারণ খুঁজে পাই না। যে দেশকে এত পছন্দ করি, অথচ আমার সংগীত জীবনের ২৫ বছরের মধ্যে আমি কখনও এখানে আসিনি। এমন তো নয় যে, আমি কোনও রাজনীতিরি সঙ্গে যুক্ত বা বিদ্বেষ আছে। আমি সব সময় এখানে আসতে চেয়েছি মনে মনে। কিন্তু কেউ তো এতদিন আমাকে সাধেনি। হয়তো সেভাবে যোগাযোগ হয়নি। এটা আমার কাছে অদ্ভুত ঠেকে।

ট্রিবিউন: আপনাকে তো কথা-গানে বেশ দুষ্টু হিসেবে পাওয়া যায়। এই দক্ষতা কি ছোটবেলা থেকেই রপ্ত করেছেন?

শিলাজিৎ: সে আর বলতে! পাড়ার লোকেরা বলত, শিলুর প্যান্টের নিচে হুনুমানের একটা লেজ আছে গো? আর বলবেই বা না কেন? এলাকার এমন কোনও পাঁচিল আর গাছ নেই, যেটাতে উঠে বসে থাকতাম না। একবার বাড়ির বাইরে গেলে, আমাকে ধরে কে? আমরা ছিলাম দুই ভাই। দুজনের একই দশা।

cola-1-(3)

ট্রিবিউন: ছিলেন বীরভূমে। এরপর কলকাতায়? ছোটবেলার কথাটা আরও শুনতে চাই।

শিলাজিৎ: আমার শৈশব তো দুরন্ত। আর বন্ধু সমাজে কদর ছিল না- তা নয়। আমার মধ্যে একটা জিনিস সবসময়ই ছিল; তা হলো- আমি নতুন কাজ করতাম। অন্যদের চেয়ে আমাদের খেলার ধরন ছিল আলাদা। অনেক খেলা আমি নিজেই আবিষ্কার করেছি। যেমন একটা উদাহরণ দিই, বাড়ির ছাদে দুই-তিন ফুট জায়গায় একটা ক্রিকেট পিচ বানাতাম। একপ্রান্তে মার্বেল নিয়ে বসতাম। অন্য প্রান্তে থাকত প্লাস্টিকের বোতল। বোতলের পেছনে আমার ভাই। এপার থেকে আমি মার্বেল খেলার মতো করে মার্বেল বোতলে লাগাতাম। যদি লেগে ক্যাচ উঠত আর অপর প্রান্তের জন ধরতে পারত, তাহলে আউট। আবার চার-ছক্কাও হতো। আমাদের উপমহাদেশে এমন অনেক নতুনত্ব হয়, হয়তো কেউ কেউ সৃষ্টিশীল আইডিয়া বের করেন। কিন্তু সেগুলো কেউ কাজে লাগায় না। অথচ উন্নত দেশ হলে তারা ঠিকই ব্র্যান্ডিং করে। আর আমাদের মাথাগুলো যায় আস্তাকুঁড়ে।

IMG_1047 ট্রিবিউন: ‘তোদের ঘুম পেয়েছে বাড়ি যা’ গানটি একসময় রাজনীতির আঙিনা কাঁপিয়ে দিল। রাজনীতি না করেও আপনি তখন রাজনীতির মাঠে। বিষয়টি কেমন লাগত?

শিলাজিৎ: এমন হতো ছেলেদের দল একটা মেয়েকে কটু কথা বলেছে। মেয়েটি উল্টো ঘুরে বলে দিয়েছে- তোদের ঘুম পেয়েছে, বাড়ি যা। একবার তো দেখলাম মাছের বাজারে। এক ক্রেতা মাছ কিনতে এসেছে। বিক্রেতাকে মাছের দাম যাচ্ছেতাই বলে দিয়েছে। ক্রেতা বলে উঠে, ঘুম পেয়েছে বাড়ি যা। কী আশ্চর্য! গানটি তৈরির সময় কিন্তু এতটা ভেবে করা হয়নি। প্রথমদিন প্রথম অংশটুকুর তাল-লয় করার জন্য শব্দ তৈরি করছিলাম। খালি এ বাক্যটুকু এসেছিল, তোদের ঘুম পেয়েছে বাড়ি যা, স্বপ্ন দেখ ঘুমের ঘোরে। পরে বাকিটায় শব্দগুলো বসিয়েছি। আমার এ জিনিসটা ভালো লাগত না যে, এসি রুমে বসে তুমি আশার কথা বলবে। আর বলবে- হবে, হচ্ছে, একদিন হবে। তাই আমি তাদের বলতে চেয়েছি, তোদের আসলে ঘুম পেয়েছে।

ট্রিবিউন: আর `স্বাধীনতা’ গানটি নিয়ে কী বলবেন?

শিলাজিৎ: ৯৫-৯৬’ সালের দিকে হবে হয়তো। আমাকে একটি চ্যানেলের জন্য দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার কথা বলা হলো। আমি তো চমকে গেলাম। দেশাত্মবোধক গান, তাও আবার আমাকে দিয়ে! আমি কোনও গানই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তারপর তাদের বললাম, যদি বলেন, আমি একটি লিখে গাইতে পারি। আমার প্রতি তাদের আস্থা ছিল। গান লিখলাম। আমার সবসময় মনে হয়েছে, স্বাধীনতার তো কোনও বদনাম নেই। আমরা কেন স্বাধীনতাকে দোষ দিয়ে নিজের ভাগ্য জাহির করতে চাই। আর আমি এখন এ কথা বলার কে? সুযোগ পেলেই তুমি স্বাধীনতার উপর দোষ চাপাবে, গালি দেবে তা তো হতে পারে না। কারণ তুমি তো তখন ছিলে না।

‘স্বাধীনতা’ গানের লিংক:

ট্রিবিউন: এগুলো তো প্রশংসা। গান নিয়ে মন্দ কথা শুনতে হয়নি?

শিলাজিৎ: আমি তো গানে গালাগালি করি, কিছু মানুষ আমাকেও গালাগালি করবে, স্বাভাবিক। ২০০৩-০৪ সালের ঘটনা। আমার অ্যালবাম ‘শিলাজিৎ এর পাগলামি – ফিসফিস’ বের হলো। তখন তো প্রায় এটা নিয়ে তুলকালাম। একবার এক সংবাদ সম্মেলনে আমাকে কিছু প্রশ্ন দিল, উত্তরের জন্য। আমি প্রশ্ন হাতে নিয়ে বুঝতে পারলাম, তারা আমাকে হেনস্তা করতে চায়। একবার একজন তো বলেই বসল, আপনি গাঁজা খেয়ে এগুলো লিখেছেন? আমি শুধু হাসি দিয়েছি। তারা কেমন জানি একটা গ্রুপ হয়ে গেল। খুব চেষ্টা করতে থাকল- আমি যেন বেফাঁস কথা বলে ফেলি। নিজেরাই কয়েকজনকে সাজিয়ে আনল মনোচিকিৎসক, চিকিৎসক বা সংগীত বিশেষজ্ঞ হিসেবে। তাদের কাছে এই গ্রুপটা প্রশ্ন করে মন্তব্য চান। বলেন, আচ্ছা শিলাজিৎ যে এমন গান করেছে, তার মানসিক অবস্থা ঠিক আছে? আর এগুলোর উত্তর তো ততদিনে আমার জানা হয়ে গেছে। তখন ‘আমার এফএম’ রেডিও অ্যালবামের গানগুলো প্রচারের কথা থাকলেও তারা ভয়ে তা করল না। একটি ভিডিও বানিয়েছিলাম, কোনও চ্যানেল তা প্রচার করেনি। এগুলো তো অনেক কথা।

ট্রিবিউন: আপনি মজা করে বলেন, সবাইকে প্রেমিকার চোখে দেখতে চান। প্রথম প্রেমটা কবে ছিল?

শিলাজিৎ: হুম, এটা হবে আমি যখন কেজিতে পড়ি। সেইন্ট পল কেজি স্কুল। এক মেয়েকে প্রতিদিন তার স্কুলে যেতে দেখতাম। তারপর আমি আমার স্কুলে যেতাম। এগুলো বিষয়ে ভাগ্যও সহায় হয় (হাসি)। কলকাতায় আমাদের বাসাছিল, তার বাসা থেকে এক স্টপেজ পরে। তাই আসা যাওয়ার পথে তো দেখা হতোই। তবে তাকে বলার সাহস কখনও কুলায়নি। এর আগে পরেও কিন্তু প্রেমের বেশ কয়েকটা ব্যাচ আমার ছিল! তবে তখন তাকেই বেশি সময় দিয়েছি!

IMG_1156

ট্রিবিউন: আপনার প্যান্টের হাঁটুতে এক ধরনের রঙের ছাপ থাকে। এটা কি নিজেই করেন?

শিলাজিৎ: একটা সময় আমি প্রচুর ছেলেদের গহনা পরতাম। আমার হাত পুরো বোঝাই হয়ে থাকত কবজিবন্ধনী আর বালায়। গলায় থাকত মালা। তারপর দেখলাম, আরে এগুলো তো সবাই পরে। তাই এখন আর কিছু পরি না। তবে প্যান্টে নিজেই জিজাইন করি। হাঁটুর কাছে কিছু রং ছিটিয়ে দিই। হঠাৎ দেখা গেল আমি হলুদ শার্ট পরে মঞ্চে যাব, তখন হাঁটুর ওখানে হলুদ রং দিয়ে একটু আঁকিবুঁকি করি। রঙয়ের প্রলেপ পড়তে পড়তে একেবারে মোটা হয়ে গেছে প্যান্টগুলোর এই অংশ।

ট্রিবিউন: শেষ জিজ্ঞাসা- গান লেখা ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের শুরু কীভাবে?

শিলাজিৎ: প্রথম গান লিখেছিলাম ১৯৭৮ সালে।  তখন একেবারে ছোট। ভগবানকে নিয়ে গান। কঠিন সব কথাবার্তা। আর চলচ্চিত্রটা ঠেকায় পড়ে গিলেছি বলা যায়। স্কটিস চার্চ কলেজে পড়তাম। ওখানে ক্রিয়েটিভদের আলাদা কদর ছিল। আমিও বাড়তি ছাড়ের জন্য অভিনয়ে নাম দিলাম। এর আগে অবশ্য ছোটবেলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুটি নাটকে কাজ করেছিলাম। আর রূপালি পর্দায় অভিষেক ঋতুপর্ণ ঘোষের কারণে। তিনি আমাকে দেখে বললেন, ওমা! তুই তো দেখতে ভালো, অভিনয় করতে পারিস। ব্যস এভাবেই কলকাতার ১৫-১৬টা ছবিতে কাজ করে ফেললাম।

IMG_1147

/এম/এমএম/

পর্নোগ্রাফিতে অভিযুক্ত স্বামী প্রসঙ্গে যা বললেন শিল্পা শেঠি

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১৮:৫৬

গত ১৯ জুলাই পর্নোগ্রাফিক ফিল্ম বানিয়ে সেটা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করার অভিযোগে গ্রেফতার হন বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামীর রাজ কুন্দ্র। 

এতদিন এ নিয়ে কিছু্ই বলেননি শিল্পা। ধারণা করা হচ্ছিল, রাজ কুন্দ্রের কেসে পুলিশ শিল্পাকেও ডাকতে পারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। কিন্তু মুম্বাই পুলিশের এক সূত্র টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছে এ ঘটনায় শিল্পাকে কোনও প্রশ্ন করা নাও হতে পারে।

অন্যদিকে স্বামী গ্রেফতারের পর অবশেষে স্যোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন শিল্পা। সেখানে তিনি একটি বইয়ের পাতার ছবি শেয়ার করেন। তাতে একটি উক্তি লেখা- ‘অতীতের দিকে রাগ করে কিংবা ভবিষ্যতের দিকে ভয়ে ভয়ে তাকিও না। নিজের চারপাশে সতর্কতার সঙ্গেই চোখ বোলাও। আমরা পেছন পানে যখন রাগ করে তাকাই তখন সেই লোকগুলোকে দেখি যারা আমাদের আঘাত করেছিল। তখন আমরা আবার সেই হতাশায় ডুবে যাই ও দুর্ভাগ্যটা অনুভব করি। ভয়ে ভয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকাই কারণ আমরা হয়তো ভয় পাই যে চাকরিটা হারাবো বা রোগে আক্রান্ত হবো কিংবা প্রিয় কাউকে হারাবো। আমাদের বাঁচতে হবে ঠিক এই মুহূর্তটা, যেখানে আমরা এই মুহূর্তে আছি।’

শিল্পা অফিসিয়ালি এখনও কোনও বিবৃতি না দিলেও এই একটি পোস্ট অনেক কথাই বলেছে। আবার ইনস্টাগ্রামেও লিখেছেন, ‘আমি এসব চ্যালেঞ্জ ঠিকই সামলে নিতে পারবো।’

এদিকে রাজ কুন্দ্র এখনও নানা ধরনের মামলার বোঝা কাঁধে নিয়ে আটক আছেন থানায়। মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, ব্রিটিশ কেনরিন কোম্পানির পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরির পেছনে মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন রাজ কুন্দ্র। এর বিপরীতে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণও আছে তাদের হাতে।

/এফএ/এমএম/

মারা গেলেন ‘মুখ ও মুখোশ’ সিনেমার জহরত আরা

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১৭:১৬

ঐতিহাসিক পূর্ণদৈর্ঘ্য ‘মুখ ও মুখোশ’ সিনেমার অভিনেত্রী জহরত আরা মারা গেছেন।

১৯ জুলাই লন্ডনের একটি হোম কেয়ারে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেত্রী। আজ, ২৩ জুলাই তথ্যটি দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন জহরত-এর পারিবারিক বন্ধু ফেরদৌস রহমান।

তিনি জানান, জহরত আরার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

১৯৫৪ সালের ৬ আগস্ট হোটেল শাহবাগে ‘মুখ ও মুখোশ’ ছবির মহরত অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম সবাক পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা সিনেমা এটি। আবদুল জব্বার খান পরিচালিত এ চলচ্চিত্র ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তি পায়। মূলত এই ছবিটির পথ ধরেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পী।

অভিনেত্রী জহরত আরার জন্ম ঢাকায়। পঞ্চাশের দশকে বেতার ও মঞ্চে অভিনয় করতেন তিনি। অভিনয় ছেড়ে অনেক আগেই তিনি পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাজ্যে।

/এমএম/

সম্পর্কিত

পর্নোগ্রাফিতে অভিযুক্ত স্বামী প্রসঙ্গে যা বললেন শিল্পা শেঠি

পর্নোগ্রাফিতে অভিযুক্ত স্বামী প্রসঙ্গে যা বললেন শিল্পা শেঠি

হাইতিতে বাংলাদেশি সিনেমার শুটিং!

হাইতিতে বাংলাদেশি সিনেমার শুটিং!

ফকির আলমগীরের অক্সিজেনে উন্নতি, রক্তে ইনফেকশন

ফকির আলমগীরের অক্সিজেনে উন্নতি, রক্তে ইনফেকশন

তাদের বিয়ে নিয়ে জটিলতা!

তাদের বিয়ে নিয়ে জটিলতা!

হাইতিতে বাংলাদেশি সিনেমার শুটিং!

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১৯:৫২

লাতিন আমেরিকার স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র হাইতিতে গেলো দেশের প্রথম কোনও শুটিং ইউনিট! হলো মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘নীল মুকুট’ সিনেমার শুটিং।
 
ঈদের আগেই খবর মিলেছে, কামার আহমাদ সাইমনের ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে আসছে আগস্টে দেশের একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। এবার সেই ছবির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানালেন এই নির্মাতা- প্রায় ১০০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই ছবির ৬৫ মিনিটই ধারণ করা হয়েছে অর্ধেক পৃথিবী দূরের দেশ হাইতিতে। আর সেই শুটিং করতে গিয়ে একেবারে শেষ মুহূর্ত ইউনিটের কেউ ভিসা না পাওয়ায় তৈরি হয়েছিল দারুণ জটিল পরিস্থিতি!

সম্প্রতি নয়, ঘটনাটি ঘটেছিল করোনায় পৃথিবী রুদ্ধ হওয়ার আগেই।

কামারের ভাষায়, ‘বাংলাদেশ থেকে হাইতি যেতে হলে নিউ ইয়র্ক হয়ে যেতে হবে, সেক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকাটা জরুরি। আমার আর প্রযোজক সারার সেই ভিসা থাকলেও বাকি ক্রুদের কারও মার্কিন ভিসা ছিল না। এরমধ্যে আবার যাদের নিয়ে শুটিং তারা অনেক আগেই পৌঁছে গেছে হাইতি। আমি যদিও খুব ছোট ইউনিটে কাজ করে অভ্যস্ত, তবু একদম কোনও ক্রু ছাড়া হাইতির মতো এত দূরদেশে গিয়ে শুটিং করার সাহস করাটাই একটা বিরাট যুদ্ধ ছিল।’ 

আর সেই যুদ্ধে কামারের সঙ্গে ছিলেন প্রযোজক সারা আফরীন। সেই অভিজ্ঞতা জানিয়ে সারা বললেন, ‘প্রায় দুই বছরের অনুমতি জটিলতা কাটিয়ে যখন হাইতিতে শুটিংয়ের সব ঠিক হলো, শেষ মুহূর্তে হলো ভিসা জটিলতা। এর আগে কখনও আমাকে ইকুইপমেন্ট নিয়ে সরাসরি প্রোডাকশনে কাজ করতে হয়নি। কিন্তু হাইতিতে যেহেতু আর কোনও উপায় ছিল না, তখন যা যা করার আমরাই করলাম।’ 

হাইতিতে পরিচালক ও প্রযোজক, বামে ছবির পোস্টার তবে ঢাকা ছেড়ে হাইতি যাওয়ার আগে মাসখানেক লাইভ সাউন্ড রেকর্ডিং শিখলেন সারা, আর কামার তো সেই ‘শুনতে কি পাও!’ থেকে নিজেই ক্যামেরা চালান। মুম্বাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহকের একটা আন্তর্জাতিক পুরস্কারও আছে তার ঝুলিতে। তারপর প্রস্তুতি নিয়ে কয়েকটা পেলিক্যান সুটকেস ভর্তি শুটিং গিয়ার নিয়ে দু’জন রওনা দিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তারপর সেখান থেকে হাইতি। কিন্তু ‘নীল মুকুট’-এর বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে একদম নারাজ কামার। তার মতে, ‘আমি আসলে ছবি বানাই একটা ঘোরের মধ্যে, আমি চাই আমার দর্শকেরাও সেই ঘোরের সাথী হোক- তারাও আবিষ্কার করুক আমার ছবির চরিত্র আর তাদের জীবনের একটা অধ্যায়।’ 

আগেই কামার জানিয়েছিলেন, বিমানে একটা কান্না অনুসরণ করতে গিয়েই একরকম অপরিকল্পিত সন্তান ‘নীল মুকুট’-এর জন্ম হয়েছে। কোনও উৎসবে পাঠানোর আগে দেশে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েও করোনা পরিস্থিতির কারণে বাতিল করা হয়। এরপর কয়েকবার চেষ্টা করেও ছবিটি মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। অবশেষে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেই ভরসা খুঁজলেন নির্মাতা কামার।

/এমএম/এমওএফ/

কোভিড পজিটিভ

ফকির আলমগীরের অক্সিজেনে উন্নতি, রক্তে ইনফেকশন

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১৯:৩৭

কোভিড পজিটিভ হয়ে সবকিছু দ্রুত ঘটলো গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরের জীবনে। এক সপ্তাহের মধ্যে বাসা থেকে আইসিইউ, এরপর ভেন্টিলেশন সাপোর্ট।

তবে ২৩ জুলাই দুপুরে এই নন্দিত শিল্পীর পুত্র মাশুক আলমগীর রাজীব বাংলা ট্রিবিউনকে জানান খানিক স্বস্তি বার্তা। বলেন, ‘বাবার অবস্থা এখন আগের চেয়ে ভালো। অক্সিজেন স্যাচুরেশন শতভাগ। বিশেষ করে ডান ফুসফুস সংক্রমণমুক্ত। তবে বাম ফুসফুস এখনও ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। ফলে ডানপাশে কাত হলেও অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৭৫-এ নেমে আসে। তবে চিকিৎসকরা প্রতিনিয়ত দৃষ্টি রাখছেন বাবার ওপর।’
  
মাশুক চিকিৎসকের আলাপ থেকে একটি শঙ্কার কথাও জানালেন। বললেন, ‘বাবার শরীরে ডি-ডাইমার ক্রমশ বাড়তে থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকে সেটি কমতির দিকে। এটা একটা পজিটিভ। তবে নতুন করে রক্তে ইনফেকশন পাওয়া গেছে। ব্লাড প্রেসার লো। আজ থেকে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া শুরু হচ্ছে। এটি না কাজ করলে খুবই বিপদ হয়ে যাবে।’

এদিকে প্রথম দিন থেকে হাসপাতালে থেকে ফকির আলমগীরের শরীরের সব আপডেট মিডিয়াকে দিয়ে আসছিলেন মাশুক। তবে শুক্রবার দুপুরে জানালেন নতুন দুশ্চিন্তার কথা। কারণ, এদিন সকাল থেকে তার গলাব্যথা ও কাশি দেখা দিয়েছে! বললেন, ‘চিন্তা তো আমার জন্য নয়। প্রথম চিন্তা ছিল বাবার জন্য। এখন চিন্তা করছি আমার ৫ মাসের বাচ্চাটার জন্য। সবার দোয়া চাই।’  

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জুলাই মধ্যরাত থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন ফকির আলমগীর। ১৮ জুলাই চিকিৎসকেরা তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে নিয়েছেন। 

জানা গেছে, ১৪ জুলাই ফকির আলমগীরের করোনাভাইরাস পজিটিভ ফল আসে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

ফকির আলমগীর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী। তারও আগে থেকে তিনি শ্রমজীবী মানুষের জন্য গণসংগীত করে আসছিলেন। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন ফকির আলমগীর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এরমধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। 

১৯৮২ সালের বিটিভির ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি। 

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে।

/এমএম/এমওএফ/

তাদের বিয়ে নিয়ে জটিলতা!

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১৫:৫৯

টিভি নাটকের সু-অভিনেত্রী সালহা খানম নাদিয়া আর সাম্প্রতিক সময়ে ওয়েব সিরিজ দিয়ে আলোচিত খায়রুল বাশারের বিয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত। যা আনুষ্ঠানিকতায় গড়াচ্ছে ঈদের চতুর্থ দিন (২৪ জুলাই) রাতে।

তবে এই পর্যন্ত তাদের দু’জনকে আসতে পোড়াতে হয়েছে প্রচুর কাঠখড়। বিশেষ করে বাশারের মা তার ছেলের বৌ নির্বাচনের ব্যাপারে ভীষণ খুঁতখুঁতে। এ পর্যন্ত প্রায় ২ ডজন মেয়ে দেখে ফেলেছেন। কাউকেই তার পছন্দ হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি কারও দাঁত বাঁকা, কারও আবার চুল ছোট, চোখ ভালো নয়—এমন হাজারো সমস্যা দাঁড় করাতেন। 

অবশেষে সবদিক দিয়েই পুত্রবধূর হিসেবে পছন্দ হলো নাদিয়াকে। চূড়ান্ত হলো বিয়ের দিনক্ষণ। যদিও একটি বড় বিষয় এখনও ঝুলে আছে, সেটি হলো দেনমোহর। বিয়ে নিয়ে এমনই এক জটিল অথচ ট্র্যাডিশনাল গল্প নিয়ে ঈদের নাটক নির্মাণ করলেন দীপু হাজরা। নাম ‘মেনু কার্ড’।

নির্মাতা বলেন, ‘বিয়ে নিয়ে এমন টুকটাক জটিলতা প্রায় সবখানেই হয়। যদিও এই জটিলতা আমাদের গ্রামবাংলার একটা ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেমনিই এক জটিল ও মজার বিয়ের গল্প বলার চেষ্টা করেছি এবার।’

‘মেনু কার্ড’ নাটকটি প্রচার হচ্ছে ঈদের চতুর্থ দিন রাত ৯টায়, গাজী টিভিতে। নাটকটি রচনা করেছেন গোলাম সারোয়ার অনিক। এতে বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন ইলোরা গহর, পারভেজ আক্তার, সুজিত বিশ্বাস, মান্নাত সৃষ্টি, তানসেন আলম দ্বীপ, আল্পনা ফারিয়া, কেয়া মনি, সুমাইয়া সিনহা, শশী আফরোজ, এশা প্রমুখ।

/এমএম/এমওএফ/

সম্পর্কিত

পর্নোগ্রাফিতে অভিযুক্ত স্বামী প্রসঙ্গে যা বললেন শিল্পা শেঠি

পর্নোগ্রাফিতে অভিযুক্ত স্বামী প্রসঙ্গে যা বললেন শিল্পা শেঠি

মারা গেলেন ‘মুখ ও মুখোশ’ সিনেমার জহরত আরা

মারা গেলেন ‘মুখ ও মুখোশ’ সিনেমার জহরত আরা

হাইতিতে বাংলাদেশি সিনেমার শুটিং!

হাইতিতে বাংলাদেশি সিনেমার শুটিং!

ফকির আলমগীরের অক্সিজেনে উন্নতি, রক্তে ইনফেকশন

ফকির আলমগীরের অক্সিজেনে উন্নতি, রক্তে ইনফেকশন

সম্পর্কিত

‘২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে পিএইচপিতে’

‘২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে পিএইচপিতে’

বাবার লাশ আর সাদা হাতাকাটা গেঞ্জিই একমাত্র স্মৃতি: তাপস

বাবার লাশ আর সাদা হাতাকাটা গেঞ্জিই একমাত্র স্মৃতি: তাপস

হাতিরঝিল নিয়ে মিস প্ল্যান হয়েছে: মেয়র আতিক

হাতিরঝিল নিয়ে মিস প্ল্যান হয়েছে: মেয়র আতিক

সর্বশেষ

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

মদপানে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৫

মদপানে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৫

ক্লাউড উইন্ডোজ আনলো মাইক্রোসফট

ক্লাউড উইন্ডোজ আনলো মাইক্রোসফট

চাকরির প্রলোভনে টঙ্গীতে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

চাকরির প্রলোভনে টঙ্গীতে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

বাংলাদেশকে হারিয়ে সমতায় ফিরলো জিম্বাবুয়ে

বাংলাদেশকে হারিয়ে সমতায় ফিরলো জিম্বাবুয়ে

একদিনে ঢাকায় ফিরলো ৮ লাখ সিম কার্ড

একদিনে ঢাকায় ফিরলো ৮ লাখ সিম কার্ড

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আম পাঠালেন শেখ হাসিনা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আম পাঠালেন শেখ হাসিনা

বেতন ৩০ হাজার, ব্যাংকে লেনদেন শত কোটি টাকা!

বেতন ৩০ হাজার, ব্যাংকে লেনদেন শত কোটি টাকা!

বিয়ের রাত কাটলো লঞ্চের ডেকে

বিয়ের রাত কাটলো লঞ্চের ডেকে

কোলের সন্তানকে বাঁচিয়ে চলে গেলেন মা

কোলের সন্তানকে বাঁচিয়ে চলে গেলেন মা

শেয়ারবাজারে নতুন আশার সঞ্চার

শেয়ারবাজারে নতুন আশার সঞ্চার

জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ টিকা আসছে শনিবার

জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ টিকা আসছে শনিবার

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune