X
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

‘ঐতিহাসিক’ পদ্ধতিতে শিক্ষা দিচ্ছে কওমি মাদ্রাসা

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:২৩

 

মাদ্রাসায় প্রাথমিক পর্যায়ের শিশু-কিশোররা, ছবিটি আরজাবাদ মাদ্রাসা থেকে তোলা দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণদের মান মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হলেও কওমি মাদ্রাসাগুলোর প্রাথমিক, মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনও স্বীকৃতি নেই। সারাদেশে সাধারণ মানুষের অনুদান ও সহযোগিতায় পরিচালিত অন্তত ৩৩ হাজার কওমি ধারার মাদ্রাসা ও হেফজখানা (কোরআন শিক্ষার বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান) প্রতিবছর একলাখেরও বেশি শিশুর স্বাক্ষরজ্ঞান নিশ্চিত করছে। এই শিশুদের একটি বড় অংশই এসব প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে খাবার ও পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। আলেমরা বলছেন, কওমি মাদ্রাসার পরিচালনা ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রদানে এখনও ‘ঐতিহাসিক’ পদ্ধতিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কওমি মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের সাধারণ শিক্ষাও দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ের পাঁচটি ক্লাসেই আরবি-উর্দু পাঠ্যসূচির সঙ্গে বেফাক প্রকাশিত বাংলা, ইংরেজি, গণিত বিষয়গুলো পড়ানো হয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর শিক্ষকরা বলছেন, সাধারণ বিষয়ের ওপর যে বইগুলো আছে, এতে আরও পরিবর্তন আনা জরুরি।

কোনও কোনও আলেম বলছেন, কওমি মাদ্রাসায় কোচিংয়ের কোনও সুযোগ নেই এবং প্রয়োজনও পড়ে না। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে বসে নিজে নিজে পড়েই সিলেবাস শেষ করে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে আল-হাইআতুল উলয়া লি-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায়। গত বছর পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয়। যদিও কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া-বেফাক) মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘সারাদেশে বেফাকে অধিভুক্ত আছে ১৩ হাজার ২০০টি প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে অন্যান্য আঞ্চলিক ও বিভাগীয় পর্যায়ের বোর্ডের অধীনে আরও  অন্তত ২০ হাজার কওমি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া হয়।’

বেফাকের গত বছরের একটি হিসাবে দেখা গেছে, সারাদেশে মোট কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৫৮টি।  বিভাগওয়ারি ঢাকায় ৪৫১৬টি, ময়মনসিংহে ২০৫৪, সিলেটে ১০৬১, চট্টগ্রামে ১৯১৭, খুলনায়  ৯০৬, রাজশাহীতে ৪৭৮, বরিশালে ৪৮৬, রংপুরে ৩৪০টি। তবে উচ্চশিক্ষা আছে—এমন মাদ্রাসার সংখ্যা অনেক কম। দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা দিতে সরকারি আল হাইয়ার অধীনে গত বছর নিবন্ধিত হয়েছে ১২৪৫টি মাদ্রাসা। ২০১৭ সালে ছয়টি আঞ্চলিক বোর্ডের ৮৩৫টি মাদ্রাসা অংশ নেয় হাইয়ার পরীক্ষায়। ২০১৮ সালে ১০৩৮টি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আল হাইআ’তুল উলয়া’র পরীক্ষায় অংশ নেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরান জানান, ২০১৫ সালে করা তার একটি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে দেশের ৬৪ জেলার ৫২১টি উপজেলায় কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮৫টি এবং হেফজ মাদ্রাসার সংখ্যা ১২ হাজার ৬৬৭টি। আর এসব প্রতিষ্ঠানেই সর্বনিম্ন প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত আবাসিক-অনাবাসিক ছাত্র রয়েছে।

আলেমরা বলছেন, কওমি মাদ্রাসার আয়ের বড় খাতই হচ্ছে অনুদান। সাধারণ মানুষের অনুদানের ওপর নির্ভর করেই প্রতিষ্ঠানগুলো সব ব্যয় নির্বাহ করে থাকে। শহরে ও গ্রামের মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহর অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত কওমি মাদ্রাসাগুলোতে প্রায় তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই অন্তত অর্ধেক শিক্ষার্থী বিনামূল্যে খাবার ও শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে।

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, ছবিটি গত ৯ জানুয়ারির দেশের খ্যাতনামা কওমি মাদ্রাসা রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুযূল হক বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে প্রায় ২৫ লাখ শিশু।  এর মধ্যে বড় সংখ্যক শিশুর শিক্ষা খরচ মাদ্রাসা বহন করছে। এর বাইরে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের খরচ অভিভাবকরা বহন করেন। যদিও মাদ্রাসার শিক্ষা খরচ খুবই কম। এতিমখানার সংখ্যা ৫ থেকে ৭ হাজারের মতো। এসব এতিমখানার আয়ের উৎস জাকাত, দান-অনুদান।’

চট্টগ্রামে আল্লামা আহমদ শফীর পরিচালনাধীন দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে প্রতিষ্ঠানের দফতরের একটি সূত্রে। এরমধ্যে, ৪ হাজার ৩শ’ ছাত্র লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে বিনামূল্যে খাবার পেয়ে থাকে।

ঢাকার ফরিদাবাদ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে সাড়ে তিন হাজারের মধ্যে ১৬-১৭শ’ ছাত্র আছে, যারা বিনামূল্যে খাবার খেতে পারে এবং পড়াশোনা করে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দারুল আরকাম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা সাইফুল্লাহ জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে তিন বেলা খাবার যারা খায়, তাদের ১৪-১৫শ’ টাকা দিতে হয়। আর যারা দুবেলা খাবার খায়, তাদের ৯শ’ করে টাকা দিতে হয়। একেবারে ফ্রি-তে খাবার পায়, এমন অনেক শিক্ষার্থী দারুল আরকামে আছে বলেও জানান সাইফুল্লাহ।

জামিয়া হোসাইনিয়া আরজাবাদ মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা জুলকারনাইন বিন আজাদ জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে মোট ছাত্রসংখ্যা ১২৩৯ জন। এরমধ্যে ৭১২ জন বিনামূল্যে খাবারের সুযোগ পাচ্ছে। এই ফ্রি শিক্ষার্থীদের ব্যয় ভার প্রতিষ্ঠানের ‘গোরাবা’ (জাকাত-ফেতরা-সদকা-মান্নত-কোরবানির চামড়ার মূল্য) খাত থেকে দেওয়া হয়। এর বাইরে প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের একটি বড় প্রাপ্তি আসে সাধারণ মানুষের অনুদান, ভর্তি ফি, ওয়াজ-মাহফিল থেকে।

অন্যদিকে, গ্রাম বা মফস্বলের কওমি মাদ্রাসায় লজিং পদ্ধতি এখনও থাকলেও তা খানিকটা কমে গেছে বলে জানান সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মদিনাতুল উলুম হজরত শাহমালুম (রহ.)পশ্চিম বাজার মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ফখরুল ইসলাম।

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের শিক্ষক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসা কতজন শিক্ষার্থীকে খাওয়ায় ও পড়ায় তার সঠিক কোনও পরিসংখ্যান আমার জানা নেই। সাধারণত, বিনামূল্যে শিক্ষার বিষয়টি আমাদের দেশের পুরনো ঐতিহ্য। ছাত্ররা বেতন দিয়ে পড়ে, এটা অভূতপূর্ব ব্যাপার ছিল। ছাত্র হওয়া মানেই তো একটা কাজ।’

‘এখন তার খরচ কে বহন করবে? হয়তো তার পরিবার যেভাবে আমরা করি বা রাষ্ট্র। না হলে সমাজ বহন করবে।’ বলেন সলিমুল্লাহ খান। তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণে মনে হয়, কওমি মাদ্রাসাগুলো চিরাচরিত একটি নিয়ম অনুসরণ করছে। প্রাচীনকালে ছাত্ররা গুরুর বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতো। গুরু ছাত্রদের খাবারের ব্যবস্থা করতো, এখন তো গুরু নেই, বিদ্যালয় আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সমাজের গণ্যমান্য বক্তিরা দান করেন। বিদেশি কোনও সংস্থা দেয় কিনা, তা অনুসন্ধানের ব্যাপার।’

ড. সলিমুল্লাহ খান কওমি মাদ্রাসায় বিনামূল্যে শিক্ষার বিষয়ে সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘সামাজিকভাবে এটা অনেক জায়গায় আছে। ভারতের দক্ষিণে কেরালা, অন্ধ্র প্রদেশে স্কুলে দুপুরে ফিডিং চালু হয়েছে। শিশু যদি ভালো করে খেতে না পারে, অনেক দরিদ্র ছেলেমেয়ে আছে—যাদের দুবেলা পেটপুরে খাবারের ব্যবস্থা নেই। এই ব্যবস্থা রাষ্ট্রের করা উচিত। সবিনয়ে নির্দেশ করি, আমাদের দেশের ক্যাডেট কলেজগুলো আছে, যেখানে সপ্তম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। সেখানে ছাত্ররা আবাসিক সুবিধায় থাকে। পাকিস্তান আমলে যখন তৈরি হয়, সেখানে বলতে গেলে প্রায় বিনামূল্যে ছাত্রদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতো। আমি তো মনে করি, আমাদের সব স্কুল-কলেজ এমনই হওয়া উচিত। শিক্ষাকে সামাজিক করা উচিত।’

মাদ্রাসায় কী খাচ্ছে ছাত্ররা

রাজধানীর পরিচিত ও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম একটি কওমি মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির (মিজান জামাত) একজন শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, সে সেখানে সাত বছর ধরে পড়াশোনা করছে। প্রাকশিশু শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে বর্তমানে সে মিজান জামাতে পড়ছে। সে মাদ্রাসার সাধারণ পর্যায়ের খাবার গ্রহণ করে থাকে। গত ৯ জানুয়ারি বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে মাদ্রাসার সপ্তাহের সাত দিনের একটি বিবরণ দেয় ষষ্ঠ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী। সে জানায়, তার শিক্ষালয়ে সে ফ্রি খাবার পায়। তবে তাকে পরীক্ষার ফি দিতে হয়, যা সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত। বছরে তিনটি পরীক্ষা হয় তার প্রতিষ্ঠানে। তিনবেলা খাবারের বিষয়ে এই শিক্ষার্থী মন্তব্য—সকালে নাস্তার ক্ষেত্রে শনিবার আলু ভর্তা, রবিবার মুরগির খিচুরি, সোমবার রুটি ও ভাজি বা ডাল, মঙ্গলবার তেহারি, বুধবার আলু ভর্তা, বৃহস্পতিবার খিচুরি ও শুক্রবার তেহারি দেওয়া হয়।

রাজধানীর একটি মাদ্রাসার রান্নাঘর

দুপুরের খাবারের জন্য সাধারণ পর্যায়ের ছাত্রদের দিতে হয় মাসে ১৩শ’ টাকা করে। আর কিতাব বিভাগের সব ছাত্রকে ২১শ’ টাকা দিতে হয় বিশেষ ধরনের খাবার গ্রহণ করলে। এই বিশেষ ধরন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ভাষ্য—স্বাদ একটু ভালো হয় খাবারের। হেফজ ও মক্তব বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দিতে হয় বিশেষ খাবারের জন্য দুই হাজার টাকা। সাধারণ পর্যায়ে যে খাবার দেওয়া হয়, সেগুলোর মধ্যে প্রতি সপ্তাহে লাবরা, মুরগি, পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছ, ডিম দেওয়া হয়। কিতাব বিভাগে অধিকাংশ দিন সবজির লাবরা দেওয়া হয়। সপ্তাহে দুদিন মাছ থাকে। প্রত্যেক রাতে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা পায় ভাজি, আলু ভর্তা ও ডাল। মাঝেমধ্যে কোনও দাওয়াত থাকলে গরুর মাংস খাওয়ার সুযোগ হয়, বলে জানান তিনি।

বোর্ডিং থেকে সারি বেঁধে খাবার সংগ্রহে ব্যস্ত মাদ্রাসার শিশুরা

এই তিনবেলা খাবারের বাইরে ছাত্ররা বাড়ি থেকে আনা চিড়া, মুড়ি, খেজুর নিজেদের ট্রাংকে রেখে ক্ষুধা মেটায়।

তবে রাজধানীর কিছু মাদ্রাসার ‘বিশেষ খাবার’ অনেক ভালো হয়ে থাকে এবং এতে আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সন্তানেরাই কেবল খেতে পারে, বলে জানান যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার একজন শিক্ষক।

রাজধানীর একটি মাদ্রাসার সামনে বাইরের দোকান থেকে নাস্তা সারছে শিক্ষার্থীরা ছবি শাকিল

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দারুল উলুম ইসলামিয়া হরষপুর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামের মাদ্রাসার ছাত্ররা লজিং থাকে। সেখানে মানুষ নিজেরা যা খায়, মাদ্রাসার ছাত্রদেরও তাই খেতে দেয়। নিত্যদিন নতুন তরকারি, গ্রামীণ স্বাদ তো বেশিই পায় ছাত্ররা। আবার কোনও মাদ্রাসায় ছোট পরিসরে বোর্ডিং রয়েছে।’

দারুল ইসলামিয়া হরষপুর মাদ্রাসা

মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, এখনও স্থানীয় এলাকাবাসী মাদ্রাসার ছাত্রদের লজিং রাখে এবং মাদ্রাসায় ৫০ জনের বোর্ডিংয়ে নিয়মিত চাল-ডাল অনুদানও আসে।

১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা পড়াশোনা

রাজধানীর আজিমপুর এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জানান, ফজরের নামাজের পর থেকে সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত মাদ্রাসার নিয়মেই থাকতে হয়। ঘুম থেকে ফজরের নামাজের পর কোরআন তেলাওয়াত, ক্লাসের পড়াশোনা ও নাস্তা করে ৯টা নাগাদ ক্লাস শুরু হয়। এরপর জোহরের নামাজের সময় ও দুপুরের খাবারের বিরতি দিয়ে ফের দুপুর আড়াই থেকে তিনটা নাগাদ ক্লাস।

ঢাকার একটি মাদ্রাসায় পাঠ অনুশীলনে শিক্ষার্থীরা

তিনি জানান, আছরের নামাজের বিরতির পর মাগরিবের নামাজের আগ পর্যন্ত নিজেদের মতো সময় কাটাতে পারে ছাত্ররা। কেউ আশেপাশে বাবা-মা থাকলে দেখা করে, কেউ মাদ্রাসার ক্লাসরুমে বসে বই পড়ে, কেউ-কেউ সুযোগ পেলে ছাদে বা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে খেলাধুলা করে।

গ্রামের মাদ্রাসার শিশুরা খেলাধুলা করার অবারিত সুযোগ পায়, এক্ষেত্রে শহরের শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে—এমন কথা জানান বাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার একটি মাদ্রাসার একজন শিক্ষক।

জামিয়া রাহমানিয়ার একজন শিশু ছাত্র জানায়, তারা অন্তত ১৪ ঘণ্টা পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকে।

ঢাকার রামপুরার জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুমের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহিউদ্দিন ইকরাম বলেন, ‘তার প্রতিষ্ঠানে রিকশাওয়ালা, গার্মেন্টস শ্রমিক, চা দোকানির সন্তানেরাও পড়াশোনা করে। আবাসিক-অনাবাসিক মিলিয়ে আড়াইশ’ শিক্ষার্থী আছে। তার প্রতিষ্ঠানে সব ক্লাসের ছাত্ররাই ক্লাস ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে প্রায় ১৬-১৭ ঘণ্টা পড়াশোনা করে।’

প্রাথমিকের ছয়টি ক্লাসে যা পড়ানো হয়

বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে পৃথক-পৃথক শিক্ষা থাকলেও পাঠ্যবইয়ের বাছাইয়ে সবচেয়ে বড় বোর্ড বেফাকের প্রকাশনাগুলোই সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য। কওমির শিশু শ্রেণিতে পাঁচটি বিষয়ে পড়ানো হয়। এগুলো হলো—ইসলামি তাহযিব, আরবি বর্ণমালা শিক্ষা, বাংলা আদর্শ শিশু শিক্ষা, গণিতে আদর্শ ধারাপাত ও ইংরেজি বিষয়ে ইংরেজি বর্ণমালা শিক্ষা।

প্রথম শ্রেণি প্রথম শ্রেণিতে পড়ানো হয় মোট সাতটি বিষয়। এগুলো হচ্ছে—দ্বিনিয়াত, ইসলামি তাহযিব (প্রথম অধ্যায়), আদর্শ বাংলা পাঠ (প্রথম শ্রেণি), প্রাথমিক গণিত (প্রথম খণ্ড),আদর্শ ধারাপাত, আরবি মৌখিক শব্দাবলি, মাই ইংলিশ বুক (পার্ট ওয়ান)।

দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠসূচিতে রয়েছে আটটি বিষয়। কোরআন শরিফ নাজেরা (দেখে পাঠ শিক্ষা), তালিমুল ইসলাম ও ইসলামি তাহযিব, আদর্শ বাংলা পাঠ (দ্বিতীয় শ্রেণি), প্রাথমিক গণিত (দ্বিতীয় খণ্ড), ভূগোল ও সমাজ পরিচিতি (দ্বিতীয় শ্রেণি), উর্দু, আরবি ওয়ার্ড বুক ও মাই ইংলিশ বুক (পার্ট টু)।

তৃতীয় শ্রেণি তৃতীয় শ্রেণি তৃতীয় শ্রেণিতেও আটটি বিষয় পড়তে হয় কওমি শিক্ষার্থীদের। কোরআন শরিফ নাজেরা (দেখে পাঠ শিক্ষা), তালিমুল ইসলাম দ্বিতীয় খণ্ড ও ইসলামি তাহযিব, (তৃতীয় অধ্যায়), আদর্শ বাংলা ও ব্যাকরণ পাঠ (তৃতীয় শ্রেণি), প্রাথমিক গণিত (তৃতীয় খণ্ড), ভূগোল ও সমাজ পরিচিতি (তৃতীয় শ্রেণি), উর্দু কী পহেলি কিতাব, আরবি ওয়ার্ড বুক ও মাই ইংলিশ বুক (পার্ট থ্রি) ও ইংরেজি গ্রামার আইডিয়াল প্রাইমারি ইংলিশ গ্রামার।

চতুর্থ শ্রেণি চতুর্থ শ্রেণিতেও তৃতীয় শ্রেণির মতো সব বইয়ের চতুর্থ খণ্ড বা অধ্যায় পড়ানো হয়। পঞ্চম শ্রেণিতে চতুর্থ শ্রেণির বিষয়গুলোর পরবর্তী পর্ব ও বাড়তি ফার্সি বিষয়ে একটি গ্রন্থ রয়েছে। বেফাকের বাইরে দুয়েকটি প্রকাশনা চকবাজারের ইমদাদিয়া লাইব্রেরি, আঞ্জুমানে হেমায়েতে ইসলাম ও লাহোর লাইব্রেরির।

রাজধানীর বড় কাটারা মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল আহাদ। তিনি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ক্লাস নেন। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও অংক বইগুলোতে মৌলিক কিছু বিষয় রয়েছে বলে জানান তিনি। আব্দুল আহাদ বলেন, ‘বইগুলোতে সবকিছু টাচ করা হয়েছে। মূলত মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষাটাই প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে প্রাথমিক স্তরের সঙ্গে মান বজায় রাখতে গেলে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। এটি করতে হলে মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে উদ্যোগ প্রয়োজন। তাহলে মান বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।’

ছাত্ররা কেমন বেতন দেয়?

প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বেতন নিয়ে আজিমপুর ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, ছাত্রদের কাছ থেকে কোনও বেতন নেওয়া হয় না। বিদ্যুৎ ফি ও সার্ভিস ফি বাবদ ১৫০ টাকা করে প্রতিমাসে আদায় করা হয়।

সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকার একটি মাদ্রাসার একজন প্রিন্সিপাল জানান, তার প্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংখ্যা দুইশ’র ওপরে। এর মধ্যে ৭১ জন ছাত্র একদম বিনা খরচে পড়াশোনা করছে। আশেপাশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানেরাই তার মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে বলে জানান তিনি। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল আরও  বলেন, ‘ফজরের একঘণ্টা পর ছাত্রদের নাস্তা হিসেবে ভাত-ডাল-ভর্তা দেওয়া হয়।’

সিলেটের এই আলেম এও জানান, তার প্রতিষ্ঠানে বেতনের বিষয়টি ঐচ্ছিক। সচ্ছল পরিবারের ছাত্ররাই কেবল প্রতিমাসে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা করে দিয়ে থাকে।

কোচিং-বাণিজ্য নেই কওমি মাদ্রাসায়

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কোচিং করা বা গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ার প্রয়োজন নেই বলে জানান মাওলানা জুলকারনাইন বিন আজাদ। তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসায় এমনভাবে পড়ানো হয়, যেন ঘরে ফিরে শিক্ষার্থীদের আর কারও কাছে পড়তে না হয়। কিতাব বিভাগের শিক্ষার্থীরা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ক্লাস করে। এরপর মাগরিবের নামাজের পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তাদের শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিগতভাবে ক্লাসের পড়া শেষ করার জন্য পড়ানোর ব্যবস্থা থাকে।’

মাওলানা জুলকারনাইন বিন আজাদ

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলছেন, এই ধারার শিক্ষামাধ্যমে পুরো সিলেবাস শেষ করা হয় এবং পুরো পাঠসূচি থেকেই প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয় বলে পাঠ্যদান ও পড়াশোনার সময় বেশি লাগে।

ঢাকার বাংলাবাজার ও চকবাজারকেন্দ্রিক কিছু ধর্মভিত্তিক গ্রন্থব্যবসায়ী দাওরায়ে হাদিসের প্রশ্নপত্রের সাজেশন্স তৈরির চেষ্টা করলেও তা বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোনও কোনও আলেম শিক্ষক।

এ বিষয়ে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার শিক্ষক মাওলানা এহসানুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসায় পুরো সিলেবাস শেষ করার কারণে প্রশ্নপত্র তৈরি হয় পুরো পাঠ্যসূচি থেকে। সেক্ষেত্রে সাজেশন্স বা এ ধরনের কোনও অপকর্মের দরকার পড়ে না।’ কিছু কিছু ধর্মভিত্তিক প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা গত বছর দুয়েক ধরে এ চেষ্টা করছে বলে জানান এহসানুল হক।

ছবি: চৌধুরী আকবর হোসেন ও সালমান তারেক শাকিল

আগামীকাল পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষার স্বীকৃতি পাবে কি কওমি?




গতকাল প্রকাশিত:  সরকারি স্বীকৃতির তিন বছর, কতটা বদলেছে কওমি মাদ্রাসা?

 

 

/এপিএইচ/এমএমজে/

সম্পর্কিত

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫৪

ভার্চুয়াল বিচার পদ্ধতির ব্যাপ্তি ও পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গেলে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে কথা বলেন।

কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২০ এ সময় রাষ্ট্রিপতির কাছে পেশ করা হয়।

কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার, বিচারপতি সহিদুল করিম, অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বিচারক নিয়োগের পাশাপাশি বিচারকরা যাতে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে পারে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশনা দেন।’ 

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিচার কার্যক্রম ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চালু হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় এর ব্যাপ্তি ও পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন।’ এ সময় বিচারকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম এবং বার্ষিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

/ইএইচএস/আইএ/

সম্পর্কিত

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫১

দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) মতো নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ সংক্রান্ত লিখিত আদেশ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর এসব আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশ হয়েছে।

আদালত তার আদেশে উপজেলা পরিষদ ভবনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের পরিবর্তে ‘উপজেলা পরিষদ কার্যালয়’ লেখা সাইনবোর্ড টানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পাশাপাশি একই আদেশে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮-এর ধারা ১৩ (ক), ১৩ (খ) ও ১৩ (গ) কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। মামলার বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি ও ড. মহিউদ্দিন মো. আলামিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাসান চৌধুরী ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

এর আগে ১৫ জুন উপজেলা চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা খর্ব করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের ক্ষমতা দেওয়ার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজসহ তিনজন উপজেলা চেয়ারম্যান এ রিট দায়ের করেন। বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর সে আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশ হলো।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদের অধীনে ন্যস্ত সব দফতরের কার্যক্রম পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে করার জন্য ইউএনওদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ইউএনওরা যাতে ওই সার্কুলার অনুসরণ করেন সেজন্য পৃথক আরেকটি সার্কুলার জারি করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

/বিআই/এফএ/

সম্পর্কিত

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩০

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। চার বছর পরও তারা নিজের দেশে যাচ্ছে না। দিন দিন তাদের মিয়ানমারে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে। তারা এ দেশে মাদক ব্যবসা ও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অনেকে অবৈধভাবে এদেশের নাগিরক হয়ে যাচ্ছেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও তৎপর হওয়া উচিৎ। বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে জিএম কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ কি বন্ধুহীন হয়ে যাচ্ছে? এর দায় কার? কার ব্যর্থতা? পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জিএম কাদের বলেন, মন্ত্রীর কথায় মনে হচ্ছে, কোনও দেশেরই সহায়তা পাচ্ছে না বাংলাদেশ।

এ সময় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, করোনার কারণে শিক্ষাঙ্গনে স্থবিরতা ছিল। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে হয়ত দুই বছর ঝরে যাবে। এসব বিবেচনায় সবার জন্য চাকরির বয়সসীমা ৩২ করা যায় কিনা বিবেচনা করা উচিৎ।

 

/ইএইচএস/এফএ/

সম্পর্কিত

আফগানিস্তানের ঘটনার আড়ালে রোহিঙ্গা ইস্যু চলে যাক চায় না বাংলাদেশ

আফগানিস্তানের ঘটনার আড়ালে রোহিঙ্গা ইস্যু চলে যাক চায় না বাংলাদেশ

সৌদি আরবের রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি

সৌদি আরবের রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব বিশ্বব্যাংকের

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব বিশ্বব্যাংকের

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৪৯

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক  মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, একটি গ্রন্থের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বিশালতাকে তুলে ধরা কঠিন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মুজিববর্ষ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে 'স্মৃতিতে সতত উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এতে বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে থাকা 'লাল মুক্তিবার্তা: স্মরণীয় যারা বরণীয় যারা'  তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ২৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণমূলক লেখা অন্তর্ভুক্ত  হয়েছে।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়াসহ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন সব দিকেই দক্ষ একজন রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর সাড়ে তিন বছরের শাসনামল এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু পৃথিবীতে একমাত্র নেতা যিনি তাঁর  জীবদ্দশায় একাধারে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আজও হয়তো আমরা পরাধীন থাকতাম।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু অল্প দিনেই বিশ্ব নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বিশ্ব সভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে শোষক আর একদিকে শোষিত, আমি শোষিতের পক্ষে। বিশ্ব সভায় তিনি বাংলাদেশের নেতা হিসেবে কথা বলেননি, বিশ্বনেতা হিসেবে কথা বলেছেন। তিনি বলেছিলেন, অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে এই পয়সা দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য, শিক্ষার, স্বাস্থ্যের জন্য খরচ করতে বলেছিলেন। জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে তিনি উপদেশ দিতেন, বিশ্বের নীতি কী হওয়া উচিত।

বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই উন্নত দেশে পরিণত হতো বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

/এসও/এমএস/

সম্পর্কিত

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৩৭

বিশ্বাসঘাতকদের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ আমাদের দলে বেইমান তো ছিলই। খন্দকার মোস্তাক-টোস্তাক তো ছিলই। এটা তো অস্বীকার করি না। আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে। জিয়াউর রহমান তো খালেদা দিয়াকে নিয়ে মাসে একবার করে আমাদের বাড়ি গিয়ে বসে থাকতো।’ 

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এদের থেকে এখন মানবাধিকারের কথা শুনতে হয়। জ্ঞানের কথা শুনতে হয়। আইনের শাসনের কথা শুনতে হয়। আমার বাবা-মার হত্যার বিচার চেয়ে আমি মামলা করতে পারিনি। আমাদের সেই অধিকার ছিল না।’ 

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় জিয়াউর রহমানকে আসামি করতে চেয়েছিলেন ‍উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘সে পঁচাত্তরের হত্যার সঙ্গে জড়িত এতে কোনও সন্দেহ নেই। আমি তাকে আসামি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের তখনকার স্বরাষ্ট্রসচিব রেজাউল হায়াত বলেছিলেন—মৃত মানুষকে তো আসামি করা যায় না। আমার মনে হয় নামটা (আসামি হিসেবে) থাকা উচিৎ ছিল। কারণ জিয়া যে ষড়যন্ত্রে জড়িত তা ফারুক-রশিদ নিজেরাই বলেছে। একাধিক বইতে আছে। আর জড়িত না হলে যেসব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছিল তাদের ছেড়ে দিলো কেন? জিয়াউর রহমান সেই বিচার বন্ধ করে সবাইকে কারাগার থেকে মুক্তি দিলো। সাত খুনের আসামিকে ছেড়ে দিলো। খুনিদের ডেকে এনে দল করলো। স্বাধীনতা যুদ্ধই যদি করে থাকে তাহলে একাত্তরের অগ্নিসংযোগকারী, খুনি ধর্ষণকারীদের কেন মন্ত্রী উপদেষ্টা বানালো? সংসদে বসালো। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করলো। তার বউ খালেদা জিয়াকে আরও একধাপ ওপরে গিয়ে এমপি বানিয়ে সংসদে বসালো। খুনি, অপরাধী, ধর্ষণকারী, যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গি-এদের সঙ্গে তাদের বসবাস।’

বিএনপির হারুনুর রশীদের বক্তব্যের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে বলা হয়েছে জিয়াউর রহমান যে সেক্টরে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানে সব থেকে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। তা হলে প্রশ্ন আসে, সে তাহলে যুদ্ধে কী কাজ করেছে। পাকিস্তানিদের পক্ষে? যাতে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা মৃত্যুবরণ করে, সেই ব্যবস্থা করেছিল কিনা—সেটাই আমার প্রশ্ন। সেক্টরের অধিনায়ক করে প্রাণহানি বাড়িয়ে দেওয়ার মানে কী? নিজের হাতে নিজেদের লোকদের এগিয়ে দিয়েছে মরতে। মেজর হাফিজের বইতে কী আছে? এখন বই চেঞ্জ করছে।’

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘জিয়ার আমলে প্রত্যেকটি কারাগারে কত মানুষকে ফাঁসি দিয়ে মারা হয়েছে। তার রেকর্ড তো থেকে যায়। সেগুলো একটু খুঁজে বের করে দেখেন।’

 

/ইএইচএস/আইএ/

সম্পর্কিত

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

শনাক্তের হার ৬ শতাংশের নিচে

শনাক্তের হার ৬ শতাংশের নিচে

নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ই-কমার্সে প্রতারিতদের পাওনা বুঝিয়ে দিক সরকার, দাবি সংসদে

ই-কমার্সে প্রতারিতদের পাওনা বুঝিয়ে দিক সরকার, দাবি সংসদে

সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু হবে: রেলমন্ত্রী

সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু হবে: রেলমন্ত্রী

সর্বশেষ

কাবুলে রকেট হামলা

কাবুলে রকেট হামলা

ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত দিনমজুরের মৃত্যু

ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত দিনমজুরের মৃত্যু

ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন?

ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন?

এক দশক পর ভেলভেট উইংস (ভিডিও)

এক দশক পর ভেলভেট উইংস (ভিডিও)

নেতাদের ‘চিন্তা বিনিময়’ থেকে কতটা ‘শিক্ষা’ নেবে বিএনপি?

৩ দিনব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিতনেতাদের ‘চিন্তা বিনিময়’ থেকে কতটা ‘শিক্ষা’ নেবে বিএনপি?

© 2021 Bangla Tribune