X
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

‘ঐতিহাসিক’ পদ্ধতিতে শিক্ষা দিচ্ছে কওমি মাদ্রাসা

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:২৩

 

মাদ্রাসায় প্রাথমিক পর্যায়ের শিশু-কিশোররা, ছবিটি আরজাবাদ মাদ্রাসা থেকে তোলা দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণদের মান মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হলেও কওমি মাদ্রাসাগুলোর প্রাথমিক, মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনও স্বীকৃতি নেই। সারাদেশে সাধারণ মানুষের অনুদান ও সহযোগিতায় পরিচালিত অন্তত ৩৩ হাজার কওমি ধারার মাদ্রাসা ও হেফজখানা (কোরআন শিক্ষার বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান) প্রতিবছর একলাখেরও বেশি শিশুর স্বাক্ষরজ্ঞান নিশ্চিত করছে। এই শিশুদের একটি বড় অংশই এসব প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে খাবার ও পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। আলেমরা বলছেন, কওমি মাদ্রাসার পরিচালনা ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রদানে এখনও ‘ঐতিহাসিক’ পদ্ধতিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কওমি মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের সাধারণ শিক্ষাও দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ের পাঁচটি ক্লাসেই আরবি-উর্দু পাঠ্যসূচির সঙ্গে বেফাক প্রকাশিত বাংলা, ইংরেজি, গণিত বিষয়গুলো পড়ানো হয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর শিক্ষকরা বলছেন, সাধারণ বিষয়ের ওপর যে বইগুলো আছে, এতে আরও পরিবর্তন আনা জরুরি।

কোনও কোনও আলেম বলছেন, কওমি মাদ্রাসায় কোচিংয়ের কোনও সুযোগ নেই এবং প্রয়োজনও পড়ে না। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে বসে নিজে নিজে পড়েই সিলেবাস শেষ করে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে আল-হাইআতুল উলয়া লি-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায়। গত বছর পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয়। যদিও কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া-বেফাক) মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘সারাদেশে বেফাকে অধিভুক্ত আছে ১৩ হাজার ২০০টি প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে অন্যান্য আঞ্চলিক ও বিভাগীয় পর্যায়ের বোর্ডের অধীনে আরও  অন্তত ২০ হাজার কওমি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া হয়।’

বেফাকের গত বছরের একটি হিসাবে দেখা গেছে, সারাদেশে মোট কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৫৮টি।  বিভাগওয়ারি ঢাকায় ৪৫১৬টি, ময়মনসিংহে ২০৫৪, সিলেটে ১০৬১, চট্টগ্রামে ১৯১৭, খুলনায়  ৯০৬, রাজশাহীতে ৪৭৮, বরিশালে ৪৮৬, রংপুরে ৩৪০টি। তবে উচ্চশিক্ষা আছে—এমন মাদ্রাসার সংখ্যা অনেক কম। দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা দিতে সরকারি আল হাইয়ার অধীনে গত বছর নিবন্ধিত হয়েছে ১২৪৫টি মাদ্রাসা। ২০১৭ সালে ছয়টি আঞ্চলিক বোর্ডের ৮৩৫টি মাদ্রাসা অংশ নেয় হাইয়ার পরীক্ষায়। ২০১৮ সালে ১০৩৮টি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আল হাইআ’তুল উলয়া’র পরীক্ষায় অংশ নেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরান জানান, ২০১৫ সালে করা তার একটি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে দেশের ৬৪ জেলার ৫২১টি উপজেলায় কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮৫টি এবং হেফজ মাদ্রাসার সংখ্যা ১২ হাজার ৬৬৭টি। আর এসব প্রতিষ্ঠানেই সর্বনিম্ন প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত আবাসিক-অনাবাসিক ছাত্র রয়েছে।

আলেমরা বলছেন, কওমি মাদ্রাসার আয়ের বড় খাতই হচ্ছে অনুদান। সাধারণ মানুষের অনুদানের ওপর নির্ভর করেই প্রতিষ্ঠানগুলো সব ব্যয় নির্বাহ করে থাকে। শহরে ও গ্রামের মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহর অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত কওমি মাদ্রাসাগুলোতে প্রায় তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই অন্তত অর্ধেক শিক্ষার্থী বিনামূল্যে খাবার ও শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে।

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, ছবিটি গত ৯ জানুয়ারির দেশের খ্যাতনামা কওমি মাদ্রাসা রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুযূল হক বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে প্রায় ২৫ লাখ শিশু।  এর মধ্যে বড় সংখ্যক শিশুর শিক্ষা খরচ মাদ্রাসা বহন করছে। এর বাইরে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের খরচ অভিভাবকরা বহন করেন। যদিও মাদ্রাসার শিক্ষা খরচ খুবই কম। এতিমখানার সংখ্যা ৫ থেকে ৭ হাজারের মতো। এসব এতিমখানার আয়ের উৎস জাকাত, দান-অনুদান।’

চট্টগ্রামে আল্লামা আহমদ শফীর পরিচালনাধীন দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে প্রতিষ্ঠানের দফতরের একটি সূত্রে। এরমধ্যে, ৪ হাজার ৩শ’ ছাত্র লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে বিনামূল্যে খাবার পেয়ে থাকে।

ঢাকার ফরিদাবাদ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে সাড়ে তিন হাজারের মধ্যে ১৬-১৭শ’ ছাত্র আছে, যারা বিনামূল্যে খাবার খেতে পারে এবং পড়াশোনা করে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দারুল আরকাম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা সাইফুল্লাহ জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে তিন বেলা খাবার যারা খায়, তাদের ১৪-১৫শ’ টাকা দিতে হয়। আর যারা দুবেলা খাবার খায়, তাদের ৯শ’ করে টাকা দিতে হয়। একেবারে ফ্রি-তে খাবার পায়, এমন অনেক শিক্ষার্থী দারুল আরকামে আছে বলেও জানান সাইফুল্লাহ।

জামিয়া হোসাইনিয়া আরজাবাদ মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা জুলকারনাইন বিন আজাদ জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে মোট ছাত্রসংখ্যা ১২৩৯ জন। এরমধ্যে ৭১২ জন বিনামূল্যে খাবারের সুযোগ পাচ্ছে। এই ফ্রি শিক্ষার্থীদের ব্যয় ভার প্রতিষ্ঠানের ‘গোরাবা’ (জাকাত-ফেতরা-সদকা-মান্নত-কোরবানির চামড়ার মূল্য) খাত থেকে দেওয়া হয়। এর বাইরে প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের একটি বড় প্রাপ্তি আসে সাধারণ মানুষের অনুদান, ভর্তি ফি, ওয়াজ-মাহফিল থেকে।

অন্যদিকে, গ্রাম বা মফস্বলের কওমি মাদ্রাসায় লজিং পদ্ধতি এখনও থাকলেও তা খানিকটা কমে গেছে বলে জানান সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মদিনাতুল উলুম হজরত শাহমালুম (রহ.)পশ্চিম বাজার মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ফখরুল ইসলাম।

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের শিক্ষক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসা কতজন শিক্ষার্থীকে খাওয়ায় ও পড়ায় তার সঠিক কোনও পরিসংখ্যান আমার জানা নেই। সাধারণত, বিনামূল্যে শিক্ষার বিষয়টি আমাদের দেশের পুরনো ঐতিহ্য। ছাত্ররা বেতন দিয়ে পড়ে, এটা অভূতপূর্ব ব্যাপার ছিল। ছাত্র হওয়া মানেই তো একটা কাজ।’

‘এখন তার খরচ কে বহন করবে? হয়তো তার পরিবার যেভাবে আমরা করি বা রাষ্ট্র। না হলে সমাজ বহন করবে।’ বলেন সলিমুল্লাহ খান। তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণে মনে হয়, কওমি মাদ্রাসাগুলো চিরাচরিত একটি নিয়ম অনুসরণ করছে। প্রাচীনকালে ছাত্ররা গুরুর বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতো। গুরু ছাত্রদের খাবারের ব্যবস্থা করতো, এখন তো গুরু নেই, বিদ্যালয় আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সমাজের গণ্যমান্য বক্তিরা দান করেন। বিদেশি কোনও সংস্থা দেয় কিনা, তা অনুসন্ধানের ব্যাপার।’

ড. সলিমুল্লাহ খান কওমি মাদ্রাসায় বিনামূল্যে শিক্ষার বিষয়ে সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘সামাজিকভাবে এটা অনেক জায়গায় আছে। ভারতের দক্ষিণে কেরালা, অন্ধ্র প্রদেশে স্কুলে দুপুরে ফিডিং চালু হয়েছে। শিশু যদি ভালো করে খেতে না পারে, অনেক দরিদ্র ছেলেমেয়ে আছে—যাদের দুবেলা পেটপুরে খাবারের ব্যবস্থা নেই। এই ব্যবস্থা রাষ্ট্রের করা উচিত। সবিনয়ে নির্দেশ করি, আমাদের দেশের ক্যাডেট কলেজগুলো আছে, যেখানে সপ্তম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। সেখানে ছাত্ররা আবাসিক সুবিধায় থাকে। পাকিস্তান আমলে যখন তৈরি হয়, সেখানে বলতে গেলে প্রায় বিনামূল্যে ছাত্রদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতো। আমি তো মনে করি, আমাদের সব স্কুল-কলেজ এমনই হওয়া উচিত। শিক্ষাকে সামাজিক করা উচিত।’

মাদ্রাসায় কী খাচ্ছে ছাত্ররা

রাজধানীর পরিচিত ও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম একটি কওমি মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির (মিজান জামাত) একজন শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, সে সেখানে সাত বছর ধরে পড়াশোনা করছে। প্রাকশিশু শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে বর্তমানে সে মিজান জামাতে পড়ছে। সে মাদ্রাসার সাধারণ পর্যায়ের খাবার গ্রহণ করে থাকে। গত ৯ জানুয়ারি বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে মাদ্রাসার সপ্তাহের সাত দিনের একটি বিবরণ দেয় ষষ্ঠ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী। সে জানায়, তার শিক্ষালয়ে সে ফ্রি খাবার পায়। তবে তাকে পরীক্ষার ফি দিতে হয়, যা সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত। বছরে তিনটি পরীক্ষা হয় তার প্রতিষ্ঠানে। তিনবেলা খাবারের বিষয়ে এই শিক্ষার্থী মন্তব্য—সকালে নাস্তার ক্ষেত্রে শনিবার আলু ভর্তা, রবিবার মুরগির খিচুরি, সোমবার রুটি ও ভাজি বা ডাল, মঙ্গলবার তেহারি, বুধবার আলু ভর্তা, বৃহস্পতিবার খিচুরি ও শুক্রবার তেহারি দেওয়া হয়।

রাজধানীর একটি মাদ্রাসার রান্নাঘর

দুপুরের খাবারের জন্য সাধারণ পর্যায়ের ছাত্রদের দিতে হয় মাসে ১৩শ’ টাকা করে। আর কিতাব বিভাগের সব ছাত্রকে ২১শ’ টাকা দিতে হয় বিশেষ ধরনের খাবার গ্রহণ করলে। এই বিশেষ ধরন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ভাষ্য—স্বাদ একটু ভালো হয় খাবারের। হেফজ ও মক্তব বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দিতে হয় বিশেষ খাবারের জন্য দুই হাজার টাকা। সাধারণ পর্যায়ে যে খাবার দেওয়া হয়, সেগুলোর মধ্যে প্রতি সপ্তাহে লাবরা, মুরগি, পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছ, ডিম দেওয়া হয়। কিতাব বিভাগে অধিকাংশ দিন সবজির লাবরা দেওয়া হয়। সপ্তাহে দুদিন মাছ থাকে। প্রত্যেক রাতে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা পায় ভাজি, আলু ভর্তা ও ডাল। মাঝেমধ্যে কোনও দাওয়াত থাকলে গরুর মাংস খাওয়ার সুযোগ হয়, বলে জানান তিনি।

বোর্ডিং থেকে সারি বেঁধে খাবার সংগ্রহে ব্যস্ত মাদ্রাসার শিশুরা

এই তিনবেলা খাবারের বাইরে ছাত্ররা বাড়ি থেকে আনা চিড়া, মুড়ি, খেজুর নিজেদের ট্রাংকে রেখে ক্ষুধা মেটায়।

তবে রাজধানীর কিছু মাদ্রাসার ‘বিশেষ খাবার’ অনেক ভালো হয়ে থাকে এবং এতে আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সন্তানেরাই কেবল খেতে পারে, বলে জানান যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার একজন শিক্ষক।

রাজধানীর একটি মাদ্রাসার সামনে বাইরের দোকান থেকে নাস্তা সারছে শিক্ষার্থীরা ছবি শাকিল

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দারুল উলুম ইসলামিয়া হরষপুর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামের মাদ্রাসার ছাত্ররা লজিং থাকে। সেখানে মানুষ নিজেরা যা খায়, মাদ্রাসার ছাত্রদেরও তাই খেতে দেয়। নিত্যদিন নতুন তরকারি, গ্রামীণ স্বাদ তো বেশিই পায় ছাত্ররা। আবার কোনও মাদ্রাসায় ছোট পরিসরে বোর্ডিং রয়েছে।’

দারুল ইসলামিয়া হরষপুর মাদ্রাসা

মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, এখনও স্থানীয় এলাকাবাসী মাদ্রাসার ছাত্রদের লজিং রাখে এবং মাদ্রাসায় ৫০ জনের বোর্ডিংয়ে নিয়মিত চাল-ডাল অনুদানও আসে।

১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা পড়াশোনা

রাজধানীর আজিমপুর এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জানান, ফজরের নামাজের পর থেকে সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত মাদ্রাসার নিয়মেই থাকতে হয়। ঘুম থেকে ফজরের নামাজের পর কোরআন তেলাওয়াত, ক্লাসের পড়াশোনা ও নাস্তা করে ৯টা নাগাদ ক্লাস শুরু হয়। এরপর জোহরের নামাজের সময় ও দুপুরের খাবারের বিরতি দিয়ে ফের দুপুর আড়াই থেকে তিনটা নাগাদ ক্লাস।

ঢাকার একটি মাদ্রাসায় পাঠ অনুশীলনে শিক্ষার্থীরা

তিনি জানান, আছরের নামাজের বিরতির পর মাগরিবের নামাজের আগ পর্যন্ত নিজেদের মতো সময় কাটাতে পারে ছাত্ররা। কেউ আশেপাশে বাবা-মা থাকলে দেখা করে, কেউ মাদ্রাসার ক্লাসরুমে বসে বই পড়ে, কেউ-কেউ সুযোগ পেলে ছাদে বা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে খেলাধুলা করে।

গ্রামের মাদ্রাসার শিশুরা খেলাধুলা করার অবারিত সুযোগ পায়, এক্ষেত্রে শহরের শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে—এমন কথা জানান বাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার একটি মাদ্রাসার একজন শিক্ষক।

জামিয়া রাহমানিয়ার একজন শিশু ছাত্র জানায়, তারা অন্তত ১৪ ঘণ্টা পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকে।

ঢাকার রামপুরার জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুমের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহিউদ্দিন ইকরাম বলেন, ‘তার প্রতিষ্ঠানে রিকশাওয়ালা, গার্মেন্টস শ্রমিক, চা দোকানির সন্তানেরাও পড়াশোনা করে। আবাসিক-অনাবাসিক মিলিয়ে আড়াইশ’ শিক্ষার্থী আছে। তার প্রতিষ্ঠানে সব ক্লাসের ছাত্ররাই ক্লাস ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে প্রায় ১৬-১৭ ঘণ্টা পড়াশোনা করে।’

প্রাথমিকের ছয়টি ক্লাসে যা পড়ানো হয়

বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে পৃথক-পৃথক শিক্ষা থাকলেও পাঠ্যবইয়ের বাছাইয়ে সবচেয়ে বড় বোর্ড বেফাকের প্রকাশনাগুলোই সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য। কওমির শিশু শ্রেণিতে পাঁচটি বিষয়ে পড়ানো হয়। এগুলো হলো—ইসলামি তাহযিব, আরবি বর্ণমালা শিক্ষা, বাংলা আদর্শ শিশু শিক্ষা, গণিতে আদর্শ ধারাপাত ও ইংরেজি বিষয়ে ইংরেজি বর্ণমালা শিক্ষা।

প্রথম শ্রেণি প্রথম শ্রেণিতে পড়ানো হয় মোট সাতটি বিষয়। এগুলো হচ্ছে—দ্বিনিয়াত, ইসলামি তাহযিব (প্রথম অধ্যায়), আদর্শ বাংলা পাঠ (প্রথম শ্রেণি), প্রাথমিক গণিত (প্রথম খণ্ড),আদর্শ ধারাপাত, আরবি মৌখিক শব্দাবলি, মাই ইংলিশ বুক (পার্ট ওয়ান)।

দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠসূচিতে রয়েছে আটটি বিষয়। কোরআন শরিফ নাজেরা (দেখে পাঠ শিক্ষা), তালিমুল ইসলাম ও ইসলামি তাহযিব, আদর্শ বাংলা পাঠ (দ্বিতীয় শ্রেণি), প্রাথমিক গণিত (দ্বিতীয় খণ্ড), ভূগোল ও সমাজ পরিচিতি (দ্বিতীয় শ্রেণি), উর্দু, আরবি ওয়ার্ড বুক ও মাই ইংলিশ বুক (পার্ট টু)।

তৃতীয় শ্রেণি তৃতীয় শ্রেণি তৃতীয় শ্রেণিতেও আটটি বিষয় পড়তে হয় কওমি শিক্ষার্থীদের। কোরআন শরিফ নাজেরা (দেখে পাঠ শিক্ষা), তালিমুল ইসলাম দ্বিতীয় খণ্ড ও ইসলামি তাহযিব, (তৃতীয় অধ্যায়), আদর্শ বাংলা ও ব্যাকরণ পাঠ (তৃতীয় শ্রেণি), প্রাথমিক গণিত (তৃতীয় খণ্ড), ভূগোল ও সমাজ পরিচিতি (তৃতীয় শ্রেণি), উর্দু কী পহেলি কিতাব, আরবি ওয়ার্ড বুক ও মাই ইংলিশ বুক (পার্ট থ্রি) ও ইংরেজি গ্রামার আইডিয়াল প্রাইমারি ইংলিশ গ্রামার।

চতুর্থ শ্রেণি চতুর্থ শ্রেণিতেও তৃতীয় শ্রেণির মতো সব বইয়ের চতুর্থ খণ্ড বা অধ্যায় পড়ানো হয়। পঞ্চম শ্রেণিতে চতুর্থ শ্রেণির বিষয়গুলোর পরবর্তী পর্ব ও বাড়তি ফার্সি বিষয়ে একটি গ্রন্থ রয়েছে। বেফাকের বাইরে দুয়েকটি প্রকাশনা চকবাজারের ইমদাদিয়া লাইব্রেরি, আঞ্জুমানে হেমায়েতে ইসলাম ও লাহোর লাইব্রেরির।

রাজধানীর বড় কাটারা মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল আহাদ। তিনি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ক্লাস নেন। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও অংক বইগুলোতে মৌলিক কিছু বিষয় রয়েছে বলে জানান তিনি। আব্দুল আহাদ বলেন, ‘বইগুলোতে সবকিছু টাচ করা হয়েছে। মূলত মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষাটাই প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে প্রাথমিক স্তরের সঙ্গে মান বজায় রাখতে গেলে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। এটি করতে হলে মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে উদ্যোগ প্রয়োজন। তাহলে মান বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।’

ছাত্ররা কেমন বেতন দেয়?

প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বেতন নিয়ে আজিমপুর ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, ছাত্রদের কাছ থেকে কোনও বেতন নেওয়া হয় না। বিদ্যুৎ ফি ও সার্ভিস ফি বাবদ ১৫০ টাকা করে প্রতিমাসে আদায় করা হয়।

সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকার একটি মাদ্রাসার একজন প্রিন্সিপাল জানান, তার প্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংখ্যা দুইশ’র ওপরে। এর মধ্যে ৭১ জন ছাত্র একদম বিনা খরচে পড়াশোনা করছে। আশেপাশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানেরাই তার মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে বলে জানান তিনি। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল আরও  বলেন, ‘ফজরের একঘণ্টা পর ছাত্রদের নাস্তা হিসেবে ভাত-ডাল-ভর্তা দেওয়া হয়।’

সিলেটের এই আলেম এও জানান, তার প্রতিষ্ঠানে বেতনের বিষয়টি ঐচ্ছিক। সচ্ছল পরিবারের ছাত্ররাই কেবল প্রতিমাসে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা করে দিয়ে থাকে।

কোচিং-বাণিজ্য নেই কওমি মাদ্রাসায়

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কোচিং করা বা গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ার প্রয়োজন নেই বলে জানান মাওলানা জুলকারনাইন বিন আজাদ। তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসায় এমনভাবে পড়ানো হয়, যেন ঘরে ফিরে শিক্ষার্থীদের আর কারও কাছে পড়তে না হয়। কিতাব বিভাগের শিক্ষার্থীরা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ক্লাস করে। এরপর মাগরিবের নামাজের পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তাদের শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিগতভাবে ক্লাসের পড়া শেষ করার জন্য পড়ানোর ব্যবস্থা থাকে।’

মাওলানা জুলকারনাইন বিন আজাদ

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলছেন, এই ধারার শিক্ষামাধ্যমে পুরো সিলেবাস শেষ করা হয় এবং পুরো পাঠসূচি থেকেই প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয় বলে পাঠ্যদান ও পড়াশোনার সময় বেশি লাগে।

ঢাকার বাংলাবাজার ও চকবাজারকেন্দ্রিক কিছু ধর্মভিত্তিক গ্রন্থব্যবসায়ী দাওরায়ে হাদিসের প্রশ্নপত্রের সাজেশন্স তৈরির চেষ্টা করলেও তা বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোনও কোনও আলেম শিক্ষক।

এ বিষয়ে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার শিক্ষক মাওলানা এহসানুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসায় পুরো সিলেবাস শেষ করার কারণে প্রশ্নপত্র তৈরি হয় পুরো পাঠ্যসূচি থেকে। সেক্ষেত্রে সাজেশন্স বা এ ধরনের কোনও অপকর্মের দরকার পড়ে না।’ কিছু কিছু ধর্মভিত্তিক প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা গত বছর দুয়েক ধরে এ চেষ্টা করছে বলে জানান এহসানুল হক।

ছবি: চৌধুরী আকবর হোসেন ও সালমান তারেক শাকিল

আগামীকাল পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষার স্বীকৃতি পাবে কি কওমি?




গতকাল প্রকাশিত:  সরকারি স্বীকৃতির তিন বছর, কতটা বদলেছে কওমি মাদ্রাসা?

 

 

/এপিএইচ/এমএমজে/

সম্পর্কিত

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

সহায়তা পাচ্ছে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৫১ হাজার পরিবার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৪৭

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ সদস্যের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা, পাঁচ সদস্যের পরিবারকে ৬০ হাজার ও ছয় সদস্যের পরিবারকে ৭৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, জামালপুর বাগেরহাট, নড়াইল ও সুনামগঞ্জ জেলার ৯৬ উপজেলার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৫১ হাজার ৯৪টি পরিবারকে এ সহায়তা দেওয়া হবে।

এ জন্য সম্প্রতি ৯৬ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুকূলে ৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ মঞ্জুর করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যেই বিষয়টি সম্পর্কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয় থেকে অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউএনওরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সহায়তার এ অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শেষে অর্থের পরিমাণসহ উপকারভোগীদের তালিকা (পরিবার প্রধানের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি) সংবলিত প্রতিবেদন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে পাঠাবেন। চিঠিতে আরও বলা হয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সার্বিক কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করবে ও বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যাবতীয় আর্থিক বিধিবিধান ও নিয়মাচার যথাযথভাবে প্রতিপালন করবে।

চিঠিতে আরও এতে বলা হয়, চলতি অর্থবছর (২০২০-২১) বাজেটের অর্থবিভাগ ‘নদীভাঙন কবলিত এলাকার জনসাধারণের জন্য পুনর্বাসন তহবিল’র অধীনে বিশেষ অনুদান খাত থেকে বরাদ্দ কৃত ১০০ কোটি টাকা থেকে ‘নদীভাঙন কবলিত এলাকার জনসাধারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পুনর্বাসন সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিদ্যমান নির্দেশিকা অনুযায়ী নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাভিত্তিক প্রণীত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বণ্টনের জন্য ৩১ জেলার ৯৬ ইউএনও’র অনুকূলে ৫০ কোটি টাকা মঞ্জুরি দেওয়া হলো।

 

আরও পড়ুন

শুধু বরাদ্দে ভাঙন থামবে?

৫৫ হাজার পরিবার নিঃস্ব, ক্লান্ত

ভিটেহারা মানুষগুলো আর ফিরে যেতে পারে না

/এসআই/এমআর/

‘পিসিআর ল্যাব বসাতে একটি প্রতিষ্ঠান শিগগিরই কাজ শুরু করবে’

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:২৭

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব বসানোর জন্য অনুমোদিত সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার দ্রুত মোবাইল ল্যাব স্থাপন করে শিগগিরই করোনা পরীক্ষা চালু করবে। 

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাবের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শনে গেলে তাকে একথা জানান সিভিল অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান। 

বিমানবন্দরের পার্কিং ইয়ার্ডে সাইট পরিদর্শনের সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সিভিল অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় সিভিল অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেন, আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে ল্যাব স্থাপনসহ আরটি পিসিআর কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, ল্যাব স্থাপনের জন্য নির্বাচিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার নির্ধারিত স্থানে মোবাইল ল্যাব স্থাপন করে শিগগিরই করোনা পরীক্ষা শুরু করবে। 

এরপর তারা বিমানবন্দরে স্থাপিত প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শন ও প্রবাসী কর্মীদের জন্য প্রদেয় সেবা কার্যক্রম তদারকি করেন এবং মুজিব কর্নার পরিদর্শন করেন।

/এসও/এনএইচ/

সম্পর্কিত

সহায়তা পাচ্ছে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৫১ হাজার পরিবার

সহায়তা পাচ্ছে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৫১ হাজার পরিবার

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদীর তীর রক্ষা করা কঠিন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদীর তীর রক্ষা করা কঠিন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

সাড়ে তিন মাস পর সর্বনিম্ন শনাক্ত

সাড়ে তিন মাস পর সর্বনিম্ন শনাক্ত

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদীর তীর রক্ষা করা কঠিন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৫১

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদীর তীর রক্ষা করা কঠিন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। তিনি মনে করেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নদীতীরকে ভাঙনপ্রবণ করে তুলে।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গ্রিনরোডস্থ পানি ভবন অডিটোরিয়ামে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় উদ্যোগে ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সুশাসন বিষয়ক’ মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক এসব কথা বলেন। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, কৃষি পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

এসময় অতিরিক্ত সচিব আলম আরা বেগম, মন্ত্রণালয় অধীনস্থ সকল সংস্থাপ্রধান,পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, আবাসন, গাড়িসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যে প্রকৌশলীরা দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় সবসময় আন্তরিক।

এর আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয়ে নানা দিক নির্দেশনা দিয়ে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ফজলুর রশিদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। কারিগরি আলোচনা করেন পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব ড. সাঈদ হাসান শিকদার।

/এসআই/এমআর/

সম্পর্কিত

সহায়তা পাচ্ছে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৫১ হাজার পরিবার

সহায়তা পাচ্ছে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৫১ হাজার পরিবার

‘পিসিআর ল্যাব বসাতে একটি প্রতিষ্ঠান শিগগিরই কাজ শুরু করবে’

‘পিসিআর ল্যাব বসাতে একটি প্রতিষ্ঠান শিগগিরই কাজ শুরু করবে’

সাড়ে তিন মাস পর সর্বনিম্ন শনাক্ত

সাড়ে তিন মাস পর সর্বনিম্ন শনাক্ত

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

সাড়ে তিন মাস পর সর্বনিম্ন শনাক্ত

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৩৯

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ১৯০ জন। এর আগে গত ২৯ মে এক হাজার ৪৩ জন শনাক্তের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। সে হিসাবে সাড়ে তিন মাসের বেশি সময় পর করোনায় সর্বনিম্ন রোগী শনাক্ত দেখলো দেশ। 

এছাড়া একদিনে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এবং শনাক্তের হারও কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৫ জন, যা গতকাল ছিল ৩৮ জন। একই সময়ে রোগী শনাক্তের হার ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ, যা কিনা গতকাল ছিল ছয় দশমিক ৪১ শতাংশ।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া এক হাজার ১৯০ জনকে নিয়ে দেশে সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হলেন ১৫ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ জন। একই সময়ে মারা যাওয়া ৩৫ জনকে নিয়ে সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেলেন ২৭ হাজার ১৮২ জন।

আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৬৪৫ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৪ জন সুস্থ হলেন বলে জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। 

একদিনে করোনায় রোগী শনাক্তের হার ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ আর এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ২৩ শতাংশ আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৭৬ শতাংশ। 

একই সময়ে করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ১৯ হাজার ৮৯৬টি আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৯ হাজার ৬৬৮টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৩টি, এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৬৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৪৫টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ২৪ লাখ ৬২ হাজার ৫৮৮টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৫ জনের মধ্যে পুরুষ ১৬ জন আর নারী ১৯ জন। দেশে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৭ হাজার ৪৯০ জন আর নারী মারা গেলেন নয় হাজার ৬৯২ জন।

তাদের মধ্যে বয়স বিবেচনায় ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে রয়েছেন একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে আট জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে সাত জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন আর ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছে একজন।

মারা যাওয়া ৩৫ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ছয় জন, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের আছেন তিন জন করে, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের আছেন একজন করে আর সিলেট বিভাগের আছেন দুই জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, মারা যাওয়া ৩৫ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেলেন ২৭ জন আর বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন আট জন।

/জেএ/এনএইচ/

সম্পর্কিত

আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৭

আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৭

শনাক্তের হার ৬ শতাংশের নিচে

শনাক্তের হার ৬ শতাংশের নিচে

ঢাকা শিশু হাসপাতালকে ইনস্টিটিউট করতে বিল পাস

ঢাকা শিশু হাসপাতালকে ইনস্টিটিউট করতে বিল পাস

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।)

 

এদিন জাতীয় সংসদে সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হয়। এই সংশোধনীতে যুদ্ধ বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে বাংলাদেশের যেকোনও অংশে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতা দানের প্রস্তাব করা হয়।

আইন ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর উত্থাপন করেন, এই সংশোধনীতে সংবিধানের একটি অধ্যায় সংযোজন ছাড়াও সংসদকে নিবর্তনমূলক আটকের বিধান সম্বলিত আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দান করা হয়। সংসদের অধিবেশনের মধ্যবর্তী সময়ে ৬০ দিন হতে ১২০ দিন করা এবং সংবিধানের বিধান প্রয়োগ হতে সংবিধানের সংশোধনীসমূহ সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে জরুরি বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে এমন জরুরি অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে, যাতে যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশে কোনও অংশের নিরাপত্তা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন- তা হলে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন। তবে সে ঘোষণার বৈধতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে। জরুরি অবস্থার ঘোষণাটি পরে কোনও ঘোষণা দ্বারা প্রত্যাহার করা যাবে এবং সংসদে উপস্থাপিত হবে। এই ঘোষণা ১২০ দিন অতিবাহিত হওয়ার আগে সংসদের প্রস্তাব অনুমোদিত না হলে উক্ত সময়ের অবসানে কার্যকর থাকবে না।

তবে যদি সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় অনুরূপ কোনও ঘোষণা জারি করা হয় কিংবা ১২০ দিনের মধ্যে সংসদ ভেঙে যায় তা হলে পুনর্গঠিত হওয়ার পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৩০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার আগে ঘোষণাটি অনুমোদন করে সংসদে প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে।

দৈনিক বাংলা, ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩

মৌলিক অধিকার স্থগিত করার বিষয়ে

জরুরি অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারগুলো স্থগিতকরণের প্রস্তাব করা হয়। এতে বলা হয়, জরুরি অবস্থা ঘোষণার কার্যকারিতাকালে রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা ঘোষণা করতে পারবেন যে, সংবিধানের তৃতীয় ভাগের অন্তর্গত মৌলিক অধিকারসমূহ বলবৎকরণের জন্য আদালতে মামলা রুজু করার অধিকার এবং আদালতে অনুরূপভাবে উল্লিখিত কোনও অধিকার বলবৎ করার জন্য কোনও আদালতে বিবেচনাধীন সকল মামলা, জরুরি অবস্থা ঘোষণা কার্যকারিতাকালে কিংবা উক্ত আদেশের দ্বারা নির্ধারিত স্বল্পকালের জন্য স্থগিত থাকবে।

এই বিলে জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিত করার প্রস্তাব করা হয়। বিধানগুলো হচ্ছে চলাফেরার স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা, পেশা-বৃত্তির স্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকার সম্পর্কিত।

দ্য অবজারভার, ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩

১২৫ বাঙালি ফিরবেন

এদিন বলা হয়, ২৮ আগস্টের দিল্লিচুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে। ঢাকা রাওয়ালপিন্ডি ও নয়াদিল্লি থেকে সরকারিভাবে ত্রিমুখী লোক বিনিময় শুরুর কথা এই দিন ঘোষণা করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় ঢাকায় সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়, ২৮ আগস্ট দিল্লিচুক্তি বাস্তবায়ন একদিনের পর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম দফায় ১২৫ জন আটক বাঙালি পাকিস্তান থেকে ফিরে আসছেন। খবরে বলা হয়, এই দিন নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তান থেকে দুই হাজার বাঙালি এবং বাংলাদেশ থেকে দুই হাজার ৬শ পাকিস্তানি নাগরিক বিনিময়ে উভয় দেশের সরকার রাজি হয়েছে।

এক খবরে বলা হয়, এই দিন রাওয়ালপিন্ডিতে এক সহকারী মুখপাত্র বলেছেন, এদিন থেকে ত্রিমুখী লোক বিনিময় শুরু হচ্ছে।

/এফএ/

সম্পর্কিত

বঙ্গবন্ধু ভাষণের দিনকে এবারও 'বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট ডে' ঘোষণা

বঙ্গবন্ধু ভাষণের দিনকে এবারও 'বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট ডে' ঘোষণা

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৭

আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৭

টিকে থাকার দাবিতে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের মানববন্ধন

টিকে থাকার দাবিতে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের মানববন্ধন

ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু: নৌ-প্রতিমন্ত্রী

ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু: নৌ-প্রতিমন্ত্রী

যা আছে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে

যা আছে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ

এদিন আটক বাঙালিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়

এদিন আটক বাঙালিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়

সর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

চবিতে দুই শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ

চবিতে দুই শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ

‘সবকিছু অন্ধকার লাগছে’, স্কুলে যেতে না পারা আফগান মেয়ে

‘সবকিছু অন্ধকার লাগছে’, স্কুলে যেতে না পারা আফগান মেয়ে

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

© 2021 Bangla Tribune