X
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

‘ঐতিহাসিক’ পদ্ধতিতে শিক্ষা দিচ্ছে কওমি মাদ্রাসা

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:২৩

 

মাদ্রাসায় প্রাথমিক পর্যায়ের শিশু-কিশোররা, ছবিটি আরজাবাদ মাদ্রাসা থেকে তোলা দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণদের মান মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হলেও কওমি মাদ্রাসাগুলোর প্রাথমিক, মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনও স্বীকৃতি নেই। সারাদেশে সাধারণ মানুষের অনুদান ও সহযোগিতায় পরিচালিত অন্তত ৩৩ হাজার কওমি ধারার মাদ্রাসা ও হেফজখানা (কোরআন শিক্ষার বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান) প্রতিবছর একলাখেরও বেশি শিশুর স্বাক্ষরজ্ঞান নিশ্চিত করছে। এই শিশুদের একটি বড় অংশই এসব প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে খাবার ও পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। আলেমরা বলছেন, কওমি মাদ্রাসার পরিচালনা ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রদানে এখনও ‘ঐতিহাসিক’ পদ্ধতিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কওমি মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের সাধারণ শিক্ষাও দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ের পাঁচটি ক্লাসেই আরবি-উর্দু পাঠ্যসূচির সঙ্গে বেফাক প্রকাশিত বাংলা, ইংরেজি, গণিত বিষয়গুলো পড়ানো হয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর শিক্ষকরা বলছেন, সাধারণ বিষয়ের ওপর যে বইগুলো আছে, এতে আরও পরিবর্তন আনা জরুরি।

কোনও কোনও আলেম বলছেন, কওমি মাদ্রাসায় কোচিংয়ের কোনও সুযোগ নেই এবং প্রয়োজনও পড়ে না। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে বসে নিজে নিজে পড়েই সিলেবাস শেষ করে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে আল-হাইআতুল উলয়া লি-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায়। গত বছর পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয়। যদিও কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া-বেফাক) মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘সারাদেশে বেফাকে অধিভুক্ত আছে ১৩ হাজার ২০০টি প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে অন্যান্য আঞ্চলিক ও বিভাগীয় পর্যায়ের বোর্ডের অধীনে আরও  অন্তত ২০ হাজার কওমি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া হয়।’

বেফাকের গত বছরের একটি হিসাবে দেখা গেছে, সারাদেশে মোট কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৫৮টি।  বিভাগওয়ারি ঢাকায় ৪৫১৬টি, ময়মনসিংহে ২০৫৪, সিলেটে ১০৬১, চট্টগ্রামে ১৯১৭, খুলনায়  ৯০৬, রাজশাহীতে ৪৭৮, বরিশালে ৪৮৬, রংপুরে ৩৪০টি। তবে উচ্চশিক্ষা আছে—এমন মাদ্রাসার সংখ্যা অনেক কম। দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা দিতে সরকারি আল হাইয়ার অধীনে গত বছর নিবন্ধিত হয়েছে ১২৪৫টি মাদ্রাসা। ২০১৭ সালে ছয়টি আঞ্চলিক বোর্ডের ৮৩৫টি মাদ্রাসা অংশ নেয় হাইয়ার পরীক্ষায়। ২০১৮ সালে ১০৩৮টি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আল হাইআ’তুল উলয়া’র পরীক্ষায় অংশ নেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরান জানান, ২০১৫ সালে করা তার একটি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে দেশের ৬৪ জেলার ৫২১টি উপজেলায় কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮৫টি এবং হেফজ মাদ্রাসার সংখ্যা ১২ হাজার ৬৬৭টি। আর এসব প্রতিষ্ঠানেই সর্বনিম্ন প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত আবাসিক-অনাবাসিক ছাত্র রয়েছে।

আলেমরা বলছেন, কওমি মাদ্রাসার আয়ের বড় খাতই হচ্ছে অনুদান। সাধারণ মানুষের অনুদানের ওপর নির্ভর করেই প্রতিষ্ঠানগুলো সব ব্যয় নির্বাহ করে থাকে। শহরে ও গ্রামের মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহর অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত কওমি মাদ্রাসাগুলোতে প্রায় তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই অন্তত অর্ধেক শিক্ষার্থী বিনামূল্যে খাবার ও শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে।

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, ছবিটি গত ৯ জানুয়ারির দেশের খ্যাতনামা কওমি মাদ্রাসা রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুযূল হক বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে প্রায় ২৫ লাখ শিশু।  এর মধ্যে বড় সংখ্যক শিশুর শিক্ষা খরচ মাদ্রাসা বহন করছে। এর বাইরে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের খরচ অভিভাবকরা বহন করেন। যদিও মাদ্রাসার শিক্ষা খরচ খুবই কম। এতিমখানার সংখ্যা ৫ থেকে ৭ হাজারের মতো। এসব এতিমখানার আয়ের উৎস জাকাত, দান-অনুদান।’

চট্টগ্রামে আল্লামা আহমদ শফীর পরিচালনাধীন দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে প্রতিষ্ঠানের দফতরের একটি সূত্রে। এরমধ্যে, ৪ হাজার ৩শ’ ছাত্র লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে বিনামূল্যে খাবার পেয়ে থাকে।

ঢাকার ফরিদাবাদ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে সাড়ে তিন হাজারের মধ্যে ১৬-১৭শ’ ছাত্র আছে, যারা বিনামূল্যে খাবার খেতে পারে এবং পড়াশোনা করে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দারুল আরকাম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা সাইফুল্লাহ জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে তিন বেলা খাবার যারা খায়, তাদের ১৪-১৫শ’ টাকা দিতে হয়। আর যারা দুবেলা খাবার খায়, তাদের ৯শ’ করে টাকা দিতে হয়। একেবারে ফ্রি-তে খাবার পায়, এমন অনেক শিক্ষার্থী দারুল আরকামে আছে বলেও জানান সাইফুল্লাহ।

জামিয়া হোসাইনিয়া আরজাবাদ মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা জুলকারনাইন বিন আজাদ জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে মোট ছাত্রসংখ্যা ১২৩৯ জন। এরমধ্যে ৭১২ জন বিনামূল্যে খাবারের সুযোগ পাচ্ছে। এই ফ্রি শিক্ষার্থীদের ব্যয় ভার প্রতিষ্ঠানের ‘গোরাবা’ (জাকাত-ফেতরা-সদকা-মান্নত-কোরবানির চামড়ার মূল্য) খাত থেকে দেওয়া হয়। এর বাইরে প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের একটি বড় প্রাপ্তি আসে সাধারণ মানুষের অনুদান, ভর্তি ফি, ওয়াজ-মাহফিল থেকে।

অন্যদিকে, গ্রাম বা মফস্বলের কওমি মাদ্রাসায় লজিং পদ্ধতি এখনও থাকলেও তা খানিকটা কমে গেছে বলে জানান সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মদিনাতুল উলুম হজরত শাহমালুম (রহ.)পশ্চিম বাজার মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ফখরুল ইসলাম।

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের শিক্ষক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসা কতজন শিক্ষার্থীকে খাওয়ায় ও পড়ায় তার সঠিক কোনও পরিসংখ্যান আমার জানা নেই। সাধারণত, বিনামূল্যে শিক্ষার বিষয়টি আমাদের দেশের পুরনো ঐতিহ্য। ছাত্ররা বেতন দিয়ে পড়ে, এটা অভূতপূর্ব ব্যাপার ছিল। ছাত্র হওয়া মানেই তো একটা কাজ।’

‘এখন তার খরচ কে বহন করবে? হয়তো তার পরিবার যেভাবে আমরা করি বা রাষ্ট্র। না হলে সমাজ বহন করবে।’ বলেন সলিমুল্লাহ খান। তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণে মনে হয়, কওমি মাদ্রাসাগুলো চিরাচরিত একটি নিয়ম অনুসরণ করছে। প্রাচীনকালে ছাত্ররা গুরুর বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতো। গুরু ছাত্রদের খাবারের ব্যবস্থা করতো, এখন তো গুরু নেই, বিদ্যালয় আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সমাজের গণ্যমান্য বক্তিরা দান করেন। বিদেশি কোনও সংস্থা দেয় কিনা, তা অনুসন্ধানের ব্যাপার।’

ড. সলিমুল্লাহ খান কওমি মাদ্রাসায় বিনামূল্যে শিক্ষার বিষয়ে সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘সামাজিকভাবে এটা অনেক জায়গায় আছে। ভারতের দক্ষিণে কেরালা, অন্ধ্র প্রদেশে স্কুলে দুপুরে ফিডিং চালু হয়েছে। শিশু যদি ভালো করে খেতে না পারে, অনেক দরিদ্র ছেলেমেয়ে আছে—যাদের দুবেলা পেটপুরে খাবারের ব্যবস্থা নেই। এই ব্যবস্থা রাষ্ট্রের করা উচিত। সবিনয়ে নির্দেশ করি, আমাদের দেশের ক্যাডেট কলেজগুলো আছে, যেখানে সপ্তম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। সেখানে ছাত্ররা আবাসিক সুবিধায় থাকে। পাকিস্তান আমলে যখন তৈরি হয়, সেখানে বলতে গেলে প্রায় বিনামূল্যে ছাত্রদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতো। আমি তো মনে করি, আমাদের সব স্কুল-কলেজ এমনই হওয়া উচিত। শিক্ষাকে সামাজিক করা উচিত।’

মাদ্রাসায় কী খাচ্ছে ছাত্ররা

রাজধানীর পরিচিত ও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম একটি কওমি মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির (মিজান জামাত) একজন শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, সে সেখানে সাত বছর ধরে পড়াশোনা করছে। প্রাকশিশু শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে বর্তমানে সে মিজান জামাতে পড়ছে। সে মাদ্রাসার সাধারণ পর্যায়ের খাবার গ্রহণ করে থাকে। গত ৯ জানুয়ারি বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে মাদ্রাসার সপ্তাহের সাত দিনের একটি বিবরণ দেয় ষষ্ঠ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী। সে জানায়, তার শিক্ষালয়ে সে ফ্রি খাবার পায়। তবে তাকে পরীক্ষার ফি দিতে হয়, যা সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত। বছরে তিনটি পরীক্ষা হয় তার প্রতিষ্ঠানে। তিনবেলা খাবারের বিষয়ে এই শিক্ষার্থী মন্তব্য—সকালে নাস্তার ক্ষেত্রে শনিবার আলু ভর্তা, রবিবার মুরগির খিচুরি, সোমবার রুটি ও ভাজি বা ডাল, মঙ্গলবার তেহারি, বুধবার আলু ভর্তা, বৃহস্পতিবার খিচুরি ও শুক্রবার তেহারি দেওয়া হয়।

রাজধানীর একটি মাদ্রাসার রান্নাঘর

দুপুরের খাবারের জন্য সাধারণ পর্যায়ের ছাত্রদের দিতে হয় মাসে ১৩শ’ টাকা করে। আর কিতাব বিভাগের সব ছাত্রকে ২১শ’ টাকা দিতে হয় বিশেষ ধরনের খাবার গ্রহণ করলে। এই বিশেষ ধরন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ভাষ্য—স্বাদ একটু ভালো হয় খাবারের। হেফজ ও মক্তব বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দিতে হয় বিশেষ খাবারের জন্য দুই হাজার টাকা। সাধারণ পর্যায়ে যে খাবার দেওয়া হয়, সেগুলোর মধ্যে প্রতি সপ্তাহে লাবরা, মুরগি, পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছ, ডিম দেওয়া হয়। কিতাব বিভাগে অধিকাংশ দিন সবজির লাবরা দেওয়া হয়। সপ্তাহে দুদিন মাছ থাকে। প্রত্যেক রাতে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা পায় ভাজি, আলু ভর্তা ও ডাল। মাঝেমধ্যে কোনও দাওয়াত থাকলে গরুর মাংস খাওয়ার সুযোগ হয়, বলে জানান তিনি।

বোর্ডিং থেকে সারি বেঁধে খাবার সংগ্রহে ব্যস্ত মাদ্রাসার শিশুরা

এই তিনবেলা খাবারের বাইরে ছাত্ররা বাড়ি থেকে আনা চিড়া, মুড়ি, খেজুর নিজেদের ট্রাংকে রেখে ক্ষুধা মেটায়।

তবে রাজধানীর কিছু মাদ্রাসার ‘বিশেষ খাবার’ অনেক ভালো হয়ে থাকে এবং এতে আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সন্তানেরাই কেবল খেতে পারে, বলে জানান যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার একজন শিক্ষক।

রাজধানীর একটি মাদ্রাসার সামনে বাইরের দোকান থেকে নাস্তা সারছে শিক্ষার্থীরা ছবি শাকিল

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দারুল উলুম ইসলামিয়া হরষপুর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামের মাদ্রাসার ছাত্ররা লজিং থাকে। সেখানে মানুষ নিজেরা যা খায়, মাদ্রাসার ছাত্রদেরও তাই খেতে দেয়। নিত্যদিন নতুন তরকারি, গ্রামীণ স্বাদ তো বেশিই পায় ছাত্ররা। আবার কোনও মাদ্রাসায় ছোট পরিসরে বোর্ডিং রয়েছে।’

দারুল ইসলামিয়া হরষপুর মাদ্রাসা

মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, এখনও স্থানীয় এলাকাবাসী মাদ্রাসার ছাত্রদের লজিং রাখে এবং মাদ্রাসায় ৫০ জনের বোর্ডিংয়ে নিয়মিত চাল-ডাল অনুদানও আসে।

১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা পড়াশোনা

রাজধানীর আজিমপুর এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জানান, ফজরের নামাজের পর থেকে সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত মাদ্রাসার নিয়মেই থাকতে হয়। ঘুম থেকে ফজরের নামাজের পর কোরআন তেলাওয়াত, ক্লাসের পড়াশোনা ও নাস্তা করে ৯টা নাগাদ ক্লাস শুরু হয়। এরপর জোহরের নামাজের সময় ও দুপুরের খাবারের বিরতি দিয়ে ফের দুপুর আড়াই থেকে তিনটা নাগাদ ক্লাস।

ঢাকার একটি মাদ্রাসায় পাঠ অনুশীলনে শিক্ষার্থীরা

তিনি জানান, আছরের নামাজের বিরতির পর মাগরিবের নামাজের আগ পর্যন্ত নিজেদের মতো সময় কাটাতে পারে ছাত্ররা। কেউ আশেপাশে বাবা-মা থাকলে দেখা করে, কেউ মাদ্রাসার ক্লাসরুমে বসে বই পড়ে, কেউ-কেউ সুযোগ পেলে ছাদে বা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে খেলাধুলা করে।

গ্রামের মাদ্রাসার শিশুরা খেলাধুলা করার অবারিত সুযোগ পায়, এক্ষেত্রে শহরের শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে—এমন কথা জানান বাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার একটি মাদ্রাসার একজন শিক্ষক।

জামিয়া রাহমানিয়ার একজন শিশু ছাত্র জানায়, তারা অন্তত ১৪ ঘণ্টা পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকে।

ঢাকার রামপুরার জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুমের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহিউদ্দিন ইকরাম বলেন, ‘তার প্রতিষ্ঠানে রিকশাওয়ালা, গার্মেন্টস শ্রমিক, চা দোকানির সন্তানেরাও পড়াশোনা করে। আবাসিক-অনাবাসিক মিলিয়ে আড়াইশ’ শিক্ষার্থী আছে। তার প্রতিষ্ঠানে সব ক্লাসের ছাত্ররাই ক্লাস ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে প্রায় ১৬-১৭ ঘণ্টা পড়াশোনা করে।’

প্রাথমিকের ছয়টি ক্লাসে যা পড়ানো হয়

বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে পৃথক-পৃথক শিক্ষা থাকলেও পাঠ্যবইয়ের বাছাইয়ে সবচেয়ে বড় বোর্ড বেফাকের প্রকাশনাগুলোই সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য। কওমির শিশু শ্রেণিতে পাঁচটি বিষয়ে পড়ানো হয়। এগুলো হলো—ইসলামি তাহযিব, আরবি বর্ণমালা শিক্ষা, বাংলা আদর্শ শিশু শিক্ষা, গণিতে আদর্শ ধারাপাত ও ইংরেজি বিষয়ে ইংরেজি বর্ণমালা শিক্ষা।

প্রথম শ্রেণি প্রথম শ্রেণিতে পড়ানো হয় মোট সাতটি বিষয়। এগুলো হচ্ছে—দ্বিনিয়াত, ইসলামি তাহযিব (প্রথম অধ্যায়), আদর্শ বাংলা পাঠ (প্রথম শ্রেণি), প্রাথমিক গণিত (প্রথম খণ্ড),আদর্শ ধারাপাত, আরবি মৌখিক শব্দাবলি, মাই ইংলিশ বুক (পার্ট ওয়ান)।

দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠসূচিতে রয়েছে আটটি বিষয়। কোরআন শরিফ নাজেরা (দেখে পাঠ শিক্ষা), তালিমুল ইসলাম ও ইসলামি তাহযিব, আদর্শ বাংলা পাঠ (দ্বিতীয় শ্রেণি), প্রাথমিক গণিত (দ্বিতীয় খণ্ড), ভূগোল ও সমাজ পরিচিতি (দ্বিতীয় শ্রেণি), উর্দু, আরবি ওয়ার্ড বুক ও মাই ইংলিশ বুক (পার্ট টু)।

তৃতীয় শ্রেণি তৃতীয় শ্রেণি তৃতীয় শ্রেণিতেও আটটি বিষয় পড়তে হয় কওমি শিক্ষার্থীদের। কোরআন শরিফ নাজেরা (দেখে পাঠ শিক্ষা), তালিমুল ইসলাম দ্বিতীয় খণ্ড ও ইসলামি তাহযিব, (তৃতীয় অধ্যায়), আদর্শ বাংলা ও ব্যাকরণ পাঠ (তৃতীয় শ্রেণি), প্রাথমিক গণিত (তৃতীয় খণ্ড), ভূগোল ও সমাজ পরিচিতি (তৃতীয় শ্রেণি), উর্দু কী পহেলি কিতাব, আরবি ওয়ার্ড বুক ও মাই ইংলিশ বুক (পার্ট থ্রি) ও ইংরেজি গ্রামার আইডিয়াল প্রাইমারি ইংলিশ গ্রামার।

চতুর্থ শ্রেণি চতুর্থ শ্রেণিতেও তৃতীয় শ্রেণির মতো সব বইয়ের চতুর্থ খণ্ড বা অধ্যায় পড়ানো হয়। পঞ্চম শ্রেণিতে চতুর্থ শ্রেণির বিষয়গুলোর পরবর্তী পর্ব ও বাড়তি ফার্সি বিষয়ে একটি গ্রন্থ রয়েছে। বেফাকের বাইরে দুয়েকটি প্রকাশনা চকবাজারের ইমদাদিয়া লাইব্রেরি, আঞ্জুমানে হেমায়েতে ইসলাম ও লাহোর লাইব্রেরির।

রাজধানীর বড় কাটারা মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল আহাদ। তিনি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ক্লাস নেন। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও অংক বইগুলোতে মৌলিক কিছু বিষয় রয়েছে বলে জানান তিনি। আব্দুল আহাদ বলেন, ‘বইগুলোতে সবকিছু টাচ করা হয়েছে। মূলত মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষাটাই প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে প্রাথমিক স্তরের সঙ্গে মান বজায় রাখতে গেলে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। এটি করতে হলে মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে উদ্যোগ প্রয়োজন। তাহলে মান বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।’

ছাত্ররা কেমন বেতন দেয়?

প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বেতন নিয়ে আজিমপুর ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, ছাত্রদের কাছ থেকে কোনও বেতন নেওয়া হয় না। বিদ্যুৎ ফি ও সার্ভিস ফি বাবদ ১৫০ টাকা করে প্রতিমাসে আদায় করা হয়।

সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকার একটি মাদ্রাসার একজন প্রিন্সিপাল জানান, তার প্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংখ্যা দুইশ’র ওপরে। এর মধ্যে ৭১ জন ছাত্র একদম বিনা খরচে পড়াশোনা করছে। আশেপাশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানেরাই তার মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে বলে জানান তিনি। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল আরও  বলেন, ‘ফজরের একঘণ্টা পর ছাত্রদের নাস্তা হিসেবে ভাত-ডাল-ভর্তা দেওয়া হয়।’

সিলেটের এই আলেম এও জানান, তার প্রতিষ্ঠানে বেতনের বিষয়টি ঐচ্ছিক। সচ্ছল পরিবারের ছাত্ররাই কেবল প্রতিমাসে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা করে দিয়ে থাকে।

কোচিং-বাণিজ্য নেই কওমি মাদ্রাসায়

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কোচিং করা বা গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ার প্রয়োজন নেই বলে জানান মাওলানা জুলকারনাইন বিন আজাদ। তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসায় এমনভাবে পড়ানো হয়, যেন ঘরে ফিরে শিক্ষার্থীদের আর কারও কাছে পড়তে না হয়। কিতাব বিভাগের শিক্ষার্থীরা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ক্লাস করে। এরপর মাগরিবের নামাজের পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তাদের শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিগতভাবে ক্লাসের পড়া শেষ করার জন্য পড়ানোর ব্যবস্থা থাকে।’

মাওলানা জুলকারনাইন বিন আজাদ

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলছেন, এই ধারার শিক্ষামাধ্যমে পুরো সিলেবাস শেষ করা হয় এবং পুরো পাঠসূচি থেকেই প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয় বলে পাঠ্যদান ও পড়াশোনার সময় বেশি লাগে।

ঢাকার বাংলাবাজার ও চকবাজারকেন্দ্রিক কিছু ধর্মভিত্তিক গ্রন্থব্যবসায়ী দাওরায়ে হাদিসের প্রশ্নপত্রের সাজেশন্স তৈরির চেষ্টা করলেও তা বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোনও কোনও আলেম শিক্ষক।

এ বিষয়ে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার শিক্ষক মাওলানা এহসানুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসায় পুরো সিলেবাস শেষ করার কারণে প্রশ্নপত্র তৈরি হয় পুরো পাঠ্যসূচি থেকে। সেক্ষেত্রে সাজেশন্স বা এ ধরনের কোনও অপকর্মের দরকার পড়ে না।’ কিছু কিছু ধর্মভিত্তিক প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা গত বছর দুয়েক ধরে এ চেষ্টা করছে বলে জানান এহসানুল হক।

ছবি: চৌধুরী আকবর হোসেন ও সালমান তারেক শাকিল

আগামীকাল পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষার স্বীকৃতি পাবে কি কওমি?




গতকাল প্রকাশিত:  সরকারি স্বীকৃতির তিন বছর, কতটা বদলেছে কওমি মাদ্রাসা?

 

 

/এপিএইচ/এমএমজে/

সম্পর্কিত

বরিশালসহ ৩ বিভাগে আজও করোনায় মৃত্যু নেই

বরিশালসহ ৩ বিভাগে আজও করোনায় মৃত্যু নেই

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু তুলে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে বিএনপি’

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু তুলে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে বিএনপি’

শেখ হাসিনার জন্মদিনে এবার ব্যাপক আয়োজন

শেখ হাসিনার জন্মদিনে এবার ব্যাপক আয়োজন

দু’দিন পর শনাক্ত আবারও হাজারের ওপরে

দু’দিন পর শনাক্ত আবারও হাজারের ওপরে

শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০১

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর)। ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেসা দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা নব পর্যায়ের বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা।

ডিজিটাল ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রবক্তা স্বপ্নদর্শী এই নেত্রী ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এরপর দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম ও ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে দলকে দেশের নেতৃত্বের আসনে বসাতে সক্ষম হন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী জন্মদিনে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সন্তানদের সঙ্গে তিনি জন্মদিনটি কাটাবেন। তার অনুপস্থিতিতেই দিনটি উৎসব মুখর পরিবেশে নানা কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন।

মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় শেখ হাসিনা সবসময়ই আপোষহীন। ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনায় দায়িত্ব নিয়ে তার সরকার ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের জন্য আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের আওতায় স্থাপিত ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছে এবং রায় কার্যকর করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্রী সংসদের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি এই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর সভাপতিও হয়েছিলেন। শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সকল গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনা ও তার ছোটবোন শেখ রেহানা সে সময় পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান। পরবর্তীকালে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে ৬ বছর ভারতে অবস্থান করেন। ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে থেকে তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে অবশেষে তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে লিপ্ত হওয়ার পরপরই তিনি শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়েন। তাকে বারবার কারান্তরীণ করা হয়। হত্যার জন্য কমপক্ষে ২০ বার সশস্ত্র হামলা করা হয়।

তবে শত বাধা-বিপত্তি এবং হত্যার হুমকিসহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা ভাত-ভোট এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য অবিচল থেকে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী। চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ অর্জন করেছে গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতা। বাংলাদেশ পেয়েছে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা। শেখ হাসিনার অপরিসীম আত্মত্যাগের ফলেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।  অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিয়ে সারাবিশ্বে হয়েছেন প্রশংসিত। বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে করোনাকালেও দেশের প্রবৃদ্ধি এশিয়ায় প্রায় সব দেশের ওপরে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্থায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, আইসিটি এবং এসএমই খাতে এসেছে ব্যাপক সাফল্য। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিসহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।

বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের পাশাপাশি শেখ হাসিনার ঝুলিতে জমেছে অনেকগুলো অর্জন। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক অনেক সম্মাননা ও পদক। এ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে দেওয়া আন্তর্জাতিক পুরস্কারের সংখ্যাও অনেক। টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সফলতা জন্য ২০১৯ এর ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কার দেয় গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন এবং ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই)। একই মাসে শেখ হাসিনাকে ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পদক প্রদান করা হয়। এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউট শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র সমুন্নত ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পর্যায়ের পদক প্রদান করে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে দায়িত্বশীল নীতি ও তার মানবিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী আইপিএস ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৮ স্পেশাল ডিসটিংশন অ্যাওয়ার্ড ফর লিডারশিপ গ্রহণ করেন।

দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সাহেরা খাতুনের অতি আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে টুঙ্গিপাড়ায়। শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেলসহ তারা ছিলেন পাঁচ ভাই-বোন। বর্তমানে শেখ হাসিনা ও রেহানা ছাড়া কেউই জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে পিতা বঙ্গবন্ধু এবং মাতা ফজিলাতুন্নেসাসহ সবাই ঘাতকদের নির্মম বুলেটে নিহত হন।

শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তখন পুরনো ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় ওঠেন তারা। বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হলে সপরিবারে ৩, নম্বর মিন্টু রোডের বাসায় তারা বসবাস শুরু করেন। শেখ হাসিনাকে ঢাকা শহরে টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয়। তিনি ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ওই বছরেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

শেখ হাসিনা ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে পড়ার সময় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলন এবং ৬-দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ৬-দফা দাবিতে পূর্ববাংলায় এক অভূতপূর্ব জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি হয়। শাসকগোষ্ঠী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। শুরু হয় প্রচণ্ড দমন-নির্যাতন। আটক থাকা অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।

এই ঝড়ো দিনগুলোতেই বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যাওয়ার পর গোটা পরিবারকে ঢাকায় ভিন্ন এক বাড়িতে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় তার প্রথম সন্তান ‘জয়’-এর জন্ম হয়। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর কন্যা সন্তান পুতুলের জন্ম হয়।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে সপরিবারে নিহত হবার আগে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ শেখ হাসিনা ইউরোপ যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নিহত হবার খবর পান। তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরার কোনও পরিবেশ না থাকায় তিনি ইউরোপ ছেড়ে স্বামী-সন্তানসহ ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।

১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ঐ বছরেরই ১৭ মে দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে। তিনি প্রথমবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কূটনৈতিক দক্ষতা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য কুড়িয়েছেন সুনাম। দেশের জন্য বয়ে এনেছেন গৌরব ও সাফল্য। রাষ্ট্র পরিচালনায় বিগত বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশের চলমান উন্নয়নের ধারার কথা তুলে ধরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রধানমন্ত্রীকে বর্তমান  বিশ্বের একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা তার দক্ষতা ও বিচক্ষণতা দিয়ে এখন বিশ্বমানের নেতার পর্যায়ে নিজের স্থান করে নিয়েছেন।

শিল্প সংস্কৃতি ও সাহিত্য অন্তপ্রাণ শেখ হাসিনা লেখালেখিও করেন। তার লেখা এবং সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩০টিরও বেশি। প্রকাশিত অন্যতম বইগুলো হচ্ছে- শেখ মুজিব আমার পিতা, সাদা কালো, ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য দূরীকরণ, আমাদের ছোট রাসেল সোনা, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম, সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বিপন্ন গণতন্ত্র, সহেনা মানবতার অবমাননা, আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি, সবুজ মাঠ পেরিয়ে ইত্যাদি।

কর্মসূচি

দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এছাড়াও একইদিন কেন্দ্রীয়ভাবে বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার (মেরুল বাড্ডা), ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রহরে (২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে) খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিএবি) মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ (২৯ সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০) সকাল ৬টায় তেজগাঁও জকমালা রাণীর গির্জা এবং বিকাল ৫টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

/ইএইচএস/এমআর/এফএএন/

সম্পর্কিত

শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন মমতা

শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন মমতা

৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে শেখ হাসিনার ই-পোস্টার প্রকাশ

৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে শেখ হাসিনার ই-পোস্টার প্রকাশ

শেখ হাসিনার জন্মদিনে এবার ব্যাপক আয়োজন

শেখ হাসিনার জন্মদিনে এবার ব্যাপক আয়োজন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে নৌকাবাইচ

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে নৌকাবাইচ

শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন মমতা

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:০২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়েছেন।

আজকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক টুইট বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর সফলতা কামনা করেছেন মমতা ব্যানার্জি।

/এসএসজেড/এমআর/

সম্পর্কিত

শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ

শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ

৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে শেখ হাসিনার ই-পোস্টার প্রকাশ

৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে শেখ হাসিনার ই-পোস্টার প্রকাশ

শেখ হাসিনার জন্মদিনে এবার ব্যাপক আয়োজন

শেখ হাসিনার জন্মদিনে এবার ব্যাপক আয়োজন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

জেলেদের জন্য ১১ হাজার মেট্রিক টন ভিজিএফ বরাদ্দ

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১১

প্রজনন উপলক্ষে আগামী ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় বেকার হয়ে পড়া জেলেদের জন্য ১১ হাজার ১১৮ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে এ সংক্রান্ত মঞ্জুরি বরাদ্দ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারের মানবিক খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৩৭ জেলার ১৫১টি উপজেলায় মা ইলিশ আহরণে বিরত থাকা ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪৪টি জেলে পরিবারের জন্য এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের চেয়ে বেশি ২৭ হাজার ৬০২টি জেলে পরিবারকে এবার এ বরাদ্দের আওতায় আনা হয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি জেলে পরিবার ২০ কেজি করে চাল পাবে। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরুর পূর্বেই এ বছর ভিজিএফ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে ভিজিএফ চাল পরিবহন ব্যয়ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হয়েছে। ভিজিএফ চাল ২৫ অক্টোবর, ২০২১ তারিখের মধ্যে উত্তোলন ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে বিতরণ সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ আহরণে বিরত থাকা নিবন্ধিত ও প্রকৃত জেলেদের মধ্যে এ ভিজিএফ বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য বরাদ্দপত্রে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে ‘প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ অ্যাক্ট-১৯৫০’ এর অধীন প্রণীত ‘প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ রুলস-১৯৮৫’ অনুযায়ী এ বছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করে গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

 

/এসআই/আইএ/

সম্পর্কিত

শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ

শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ

শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন মমতা

শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন মমতা

বরিশালসহ ৩ বিভাগে আজও করোনায় মৃত্যু নেই

বরিশালসহ ৩ বিভাগে আজও করোনায় মৃত্যু নেই

শেখ হাসিনা ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামী ও সাহসী: আমু

শেখ হাসিনা ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামী ও সাহসী: আমু

বরিশালসহ ৩ বিভাগে আজও করোনায় মৃত্যু নেই

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:২৫

টানা পঞ্চমদিনের মতো আজও বরিশাল বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। সেইসঙ্গে রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগেও কারও মৃত্যু হয়নি।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন ৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের আট জন, খুলনা ও সিলেট বিভাগের তিন জন করে এবং রংপুর বিভাগের দুই জন।

এর আগে গতকাল (২৬ সেপ্টেম্বর) করোনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ছিলেন ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের চার জন, রাজশাহী বিভাগের দুই জন, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন করে এবং সিলেট বিভাগের তিন জন।

এর আগের দিন ( ২৫ সেপ্টেম্বর) মারা যান ২৫ জন। তাদের মধ্যে বরিশাল, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে কারও মৃত্যু ছিল না।

২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বরেও করোনায় বরিশালে কোনও মৃত্যু ছিল না।

অতি সংক্রমণশীল ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবের পর দেশে দৈনিক নতুন শনাক্ত রোগী আর মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসে গত মধ্য আগস্ট থেকে। ডেল্টার তাণ্ডবের পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথম তিন বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। যদিও দেশে মহামারিকালের ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখেছে বাংলাদেশ আগস্ট মাসেই। গত ৫ ও ১০ আগস্ট একদিনে সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে তারপর থেকে ডেল্টার তাণ্ডব কমে আসে, কমে আসতে থাকে শনাক্ত ও মৃত্যু। চলতি মাসে সেটা আরও কমে যায়।

 

/জেএ/আইএ/

সম্পর্কিত

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু তুলে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে বিএনপি’

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু তুলে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে বিএনপি’

শেখ হাসিনার জন্মদিনে এবার ব্যাপক আয়োজন

শেখ হাসিনার জন্মদিনে এবার ব্যাপক আয়োজন

দু’দিন পর শনাক্ত আবারও হাজারের ওপরে

দু’দিন পর শনাক্ত আবারও হাজারের ওপরে

শেখ হাসিনা ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামী ও সাহসী: আমু

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:১৬

আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেছেন, শেখ হাসিনা ছোট বেলা থেকেই সংগ্রামী ও সাহসী ছিলেন। আমরা যখন ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করি তখন তিনি আজিমপুর গার্লস স্কুলের ছাত্রী। তিনি সেখানকার ছাত্রীদের নিয়ে মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতেন। তিনি ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসৈনিক ছিলেন।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আশ্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

আমু বলেন, ’৭৫ পরবর্তী সময়ে স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান দেশে যখন একটি অরাজকতা পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদেরকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দিয়েছেন। যখন কোন আইনের শাসন ছিল না সেই দুর্বিসহ সময়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন আলোর দিশারী হয়ে।

তিনি যুবলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যুবলীগই ছিল শেখ হাসিনার একমাত্র ভ্যানগার্ড এবং এই যুবলীগই সার্বক্ষণিক শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছে।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৯৮১ সালে যেদিন শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেন সেদিন নির্বাসন থেকে বাংলাদেশ অস্তিত্বে ফিরলো। ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি মার্কিন সাময়িকী টাইম পত্রিকায় বাংলাদেশের ওপর একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষ ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে ডান পাশে লেখা ছিল বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ সমার্থক। ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফিরে পেয়েছিলাম। কারণ ’৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ছিনতাই হয়ে গিয়েছিল। আমরা শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করছি এ জন্যই যে, তাঁর কাছে আমাদের অশেষ দায়, অশেষ ঋণ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর সম্মোহনী শক্তি, তিনি সাহসী। শেখ হাসিনা সাহসী না হলে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হতো না, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতো না। তিনি সাহসী না হলে পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থায়নে তৈরি হতো না। সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহসী হওয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিবাদন জানাই।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।

আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী যুবলীগের পক্ষ থেকে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আশ্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনকালে ১০টি ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। এসময় গাজীপুর মহানগর শাখা যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান রাসেল সরকারের পক্ষ থেকে দুইটি ঘর প্রদান করা হয়। ঘর দুটি গ্রহণ করেন মো. ইমান আলী, প্রেম কুমার দাস। গাজীপুর মহানগর শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলামের পক্ষ থেকে ৫টি ঘর প্রদান করা হয়। ঘরগুলো গ্রহণ করেন-ফাতেমা তুজ জোহরা (দুটি), আনোয়ারা বেগম (দুটি), নুর মোহাম্মদ কটু মিয়া। নরসিংদী জেলা শাখার সহ-সভাপতি মো. শামছুল ইসলাম মোল্লার পক্ষ থেকে একটি ঘর গ্রহণ করেন-রতন বালা, ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক এ্যাড. আজহারুল ইসলামের পক্ষ থেকে একটি ঘর গ্রহণ করেন-বিউটি খাতুন, শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমানের পক্ষ থেকে একটি ঘর গ্রহণ করেন-মোসা. খুশবান। ওই আশ্রয় কর্মসূচি চলমান থাকবে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন-যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. খালেদ শওকত আলী, শেখ ফজলে ফাহিম, মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী প্রমুখ।

/পিএইচসি/এমএস/

সম্পর্কিত

সবাইকে নির্বাচনমুখী করতেই প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সবাইকে নির্বাচনমুখী করতেই প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিএনপি পেছনের দরজা খোঁজে: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি পেছনের দরজা খোঁজে: তথ্যমন্ত্রী

দ্বাদশ নির্বাচন ঘিরে দলীয় নেতাদের ৩ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

দ্বাদশ নির্বাচন ঘিরে দলীয় নেতাদের ৩ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

কিছু লোক আশ্রয়ণের ঘর ভেঙে মিডিয়ায় প্রচার করেছে:  প্রধানমন্ত্রী

কিছু লোক আশ্রয়ণের ঘর ভেঙে মিডিয়ায় প্রচার করেছে:  প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বরিশালসহ ৩ বিভাগে আজও করোনায় মৃত্যু নেই

বরিশালসহ ৩ বিভাগে আজও করোনায় মৃত্যু নেই

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু তুলে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে বিএনপি’

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু তুলে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে বিএনপি’

শেখ হাসিনার জন্মদিনে এবার ব্যাপক আয়োজন

শেখ হাসিনার জন্মদিনে এবার ব্যাপক আয়োজন

দু’দিন পর শনাক্ত আবারও হাজারের ওপরে

দু’দিন পর শনাক্ত আবারও হাজারের ওপরে

‘শেখ হাসিনা জীবন্ত কিংবদন্তি’

‘শেখ হাসিনা জীবন্ত কিংবদন্তি’

জেনেভা যাচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জেনেভা যাচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে দুর্নীতি রয়েছে অস্বীকার করি না: পরিকল্পনামন্ত্রী

দেশে দুর্নীতি রয়েছে অস্বীকার করি না: পরিকল্পনামন্ত্রী

ইনডেমনিটি অ্যাক্টের মতো বিএনপিকেও বাতিলের দরকার ছিল: শিল্পমন্ত্রী

ইনডেমনিটি অ্যাক্টের মতো বিএনপিকেও বাতিলের দরকার ছিল: শিল্পমন্ত্রী

ছোট-বড় মিলিয়ে একদিনে ছয় জনসভায় বক্তৃতা করেন বঙ্গবন্ধু

ছোট-বড় মিলিয়ে একদিনে ছয় জনসভায় বক্তৃতা করেন বঙ্গবন্ধু

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে নৌকাবাইচ

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে নৌকাবাইচ

সর্বশেষ

এইচএসসি পাসেই চাকরি, বেতন ২২ হাজার ৫০০ টাকা

এইচএসসি পাসেই চাকরি, বেতন ২২ হাজার ৫০০ টাকা

সেই চালককে মোটরসাইকেল উপহার দিতে চায় শামসুল হক ফাউন্ডেশন

সেই চালককে মোটরসাইকেল উপহার দিতে চায় শামসুল হক ফাউন্ডেশন

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ: জয়

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ: জয়

কন্যা দিবস আর কন্যাশিশু দিবসের বিভ্রান্তি

কন্যা দিবস আর কন্যাশিশু দিবসের বিভ্রান্তি

ভবন থেকে ইট পড়ে পথচারীর মৃত্যু

ভবন থেকে ইট পড়ে পথচারীর মৃত্যু

© 2021 Bangla Tribune