X
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

করোনায় বেকার হবে দেড় কোটি মানুষ!

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ১৭:৩৪

করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও বড় আঘাত আসা শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও রফতানিমুখী এই দুই ধরনের অর্থনীতিতেই স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। এই স্থবিরতার প্রভাব অচিরেই গিয়ে পড়বে চাকরির বাজারে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস কারণে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিশ্বে সাড়ে ১৯ কোটি মানুষ তাদের পূর্ণকালীন চাকরি হারাতে যাচ্ছেন। যার মধ্যে সাড়ে ১২ কোটি মানুষ বসবাস করেন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে।

ধারণা করা হচ্ছে, করোনার প্রভাবে বাংলাদেশেও বিপুল সংখ্যক কর্মজীবী মানুষ কর্মচ্যুত হবেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাবে, করোনার কারণে বাংলাদেশে চাকরি হারানোর তালিকায় যুক্ত হতে পারেন অন্তত দেড় কোটি মানুষ। এ প্রসঙ্গে সংস্থাটির  নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনার কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত দেড় কোটি মানুষ কর্মচ্যুত হচ্ছে বা হতে যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য খুবই খারাপ খবর। এই দেড় কোটি মানুষ চাকরি হারালেও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে অন্তত ৫ কোটি মানুষ (প্রতি পরিবারে গড়ে ৪ জন করে সদস্য)।

দেড় কোটির মধ্যে অধিকাংশই ইতিমধ্যে বেকার হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে আহসান এইচ মনসুর বলেন, গার্মেন্টস, ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স ও সরকার এই চারটি খাত ছাড়া বাকি সবই ইনফরমাল (অনানুষ্ঠানিক)। করোনায় ফরমাল (আনুষ্ঠানিক) কর্মজীবী ছাড়া আর সবাই এখন বেকার। বেকারের এই সংখ্যা দেড় থেকে দুই কোটি। তিনি মনে করেন, ফরমাল কর্মজীবীদের মধ্যে গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকরাও চাকরি হারানোর ভয়ে আছেন।  কারণ, বাংলাদেশ থেকে যে তৈরি পোশাক রফতানি হয়, তার ৬৩ শতাংশ যায় ইউরোপে, বাকি ১৫ শতাংশ যায় আমেরিকায়। দুইটি বাজারেই এখন ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ, সেখানকার মানুষজন ঘরে বন্দি। এদিকে লকডাউনের কারণে দেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলোও এখন বন্ধ। বন্ধ এইসব কারখানায় যারা চাকরিতে ছিলেন, সরকারের মাধ্যমে তারা হয়তো আগামী তিনমাস সুরক্ষা পাবেন। এখানেও একটা কথা আছে, বন্ধ কারখানার মালিকরা যদি ব্যাংক থেকে ঋণ না নেন, তাহলে কিছু করার আছে কি? আর ঋণ নিলেও এটা সাময়িক একটা ব্যবস্থা। এরপরে কী হবে? ব্যবসা করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী রাখবে কেমন করে?

আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তাটা সেভাবে নেই। যে কারণে মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকের চাকরি থাকে না। করোনার কারণে এখন অনেকেই চাকরিচ্যুত হওয়া শুরু করেছে। করোনার কারণে কতদিন কারখানা বন্ধ থাকবে, তা কেউ বলতে পারে না। আর যারা পরিবহন শ্রমিক, রিকশা শ্রমিক, দোকানের শ্রমিক বা অন্যান্য ইনফরমাল খাতের শ্রমিক, তারা তো বেকার হয়ে বসে আছে। খোদ রাজধানীতেই কয়েক লাখ বাস শ্রমিক এখন বেকার। ১০ লাখের বেশি রিকশাচালক কর্মহীন। তিনি বলেন, গত ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশে যে অঘোষিত লকডাউন শুরু হয়েছে, এর ফলে যারা হোটেল-রেস্তোরাঁ, নির্মাণ খাতের মতো অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, সেসব খাতে শ্রমিকরা দীর্ঘদিন বেকার বসে রয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, আমেরিকাতে গত তিন সপ্তাহে ১৭ মিলিয়ন মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। একই সময়ে বাংলাদেশেও ১২ থেকে ১৩ মিলিয়ন মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। এক্ষেত্রে আমেরিকার বেকার হয়ে যাওয়া মানুষজন সরকার থেকে আগামী চার মাস ভাতা পাবেন। কিন্তু আমাদের দেশের বেকার হয়ে যাওয়া মানুষরা কিছুই পাবে না। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় সেখানে চাকরিচ্যুতি শুরু হয়েছে। ফলে এসব দেশে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন (বিজিআইডব্লিউএফ), বাংলাদেশ মুক্ত গার্মেন্ট শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশন (বিআইজিইউএফ) এবং বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটি (বিসিডব্লিউএস) বলছে, এই কয়েকদিনে প্রায় ১০ হাজার পোশাকশ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। সংগঠন তিনটির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের এই মহামারির সময়ে মালিকরা ঢাকা, আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পোশাক কারখানা প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই বা কর্মচ্যুত করেছে। প্রতিদিনই কোনও না কোনও কারখানার শ্রমিকেরা ছাঁটাই বা কর্মচ্যুতির শিকার হচ্ছেন।

তবে  তৈরি পোশাক পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। এ প্রসঙ্গে বিকেএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দশ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের তথ্য আমাদের কাছে নেই।

এদিকে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক যৌথ র‌্যাপিড রেসপন্স গবেষণার তথ্য বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে নিম্ন আয়ের মানুষ। সারাদেশেই বাড়তে থাকবে দারিদ্র্যের প্রবণতা। বিশেষ করে, শহরের রিকশাচালক, দিনমজুর, গৃহপরিচারিকা, রেস্টুরেন্টকর্মী, ক্ষুদ্র ভাসমান ব্যবসায়ী, অটোচালকদের সঙ্গে গ্রামের কৃষক, জেলে, দোকানি, বিদেশফেরত মানুষেরা এই সময়ে সবচেয়ে বড় বিপদে পড়তে চলেছেন।

এই সংকট থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজতে পিপিআরসি ও বিআইজিডি যৌথভাবে র‌্যাপিড রেসপন্স রিসার্চ প্রকল্প শুরু করে। ১২ এপ্রিল এই জরিপের কাজ শেষ হয়। গ্রাম ও শহরের ৬ হাজার করে দেশের নিম্ন আয়ের মোট ১২ হাজার পরিবারের ওপর টেলিফোনের মাধ্যমে এই জরিপটি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ও বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন জরিপের ফল উন্মুক্ত করবেন।

এদিকে বেশ কিছু কারখানার শ্রমিক ছাড়াও কর্মকর্তাদেরও স্বেচ্ছায় অন্তত ছয় মাসের ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে। এই সময়ে তাদের চাকরি থাকবে। তবে, তারা বেতন-ভাতা পাবেন না। আর অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ যে কোনও কারণে ব্যাহত হলে কিছু লোকের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে। এতে তারা বেকার হন। পরবর্তীতে চাকরি না পেলে গরিব হয়ে যান। করোনা এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, করোনার কারণে ব্যবসা বাণিজ্যের ওপর যত প্রভাব পড়বে,  শ্রম বাজারের ওপরও এর ততটাই প্রভাব পড়বে। তিনি  বলেন, আনুষ্ঠানিক সেক্টরে শ্রমিককে ছাঁটাই করতে হলে তার পাওনা-ভাতা দিয়ে বিদায় করতে হয়। কিন্তু সেটা করার মতো মানসিকতা অনেক উদ্যোক্তারই নেই। আর অনানুষ্ঠানিক সেক্টর, যেমন পরিবহন, হোটেল রেস্তোরাঁয় যারা কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামো ততটা জোরালো নয়। তবে, আশার কথা হলো, তাদের জন্য সরকার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সেটা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে হয়তো তাদের টিকে থাকার একটা অবলম্বন হবে। তা না হলে, আবার হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জানা গেছে,  দেশে বর্তমানে ৬ কোটি ৪০ লাখের মতো শ্রমিক কাজ করে। এর মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষ কাজ করে কৃষি খাতে। বাকি প্রায় ৪ কোটি শ্রমিক কাজ করছে শিল্প ও সেবা খাতে। এর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক খাতেই অধিকাংশ শ্রমিক কাজ করে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, দেশে ৩ কোটি ৪০ লাখ গরিব মানুষ আছে। তাদের মধ্যে পৌনে দুই কোটি মানুষ হতদরিদ্র।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা অনুযায়ী, দিনমজুর, রিকশা বা ভ্যান চালক, মটর শ্রমিক ও নির্মাণ শ্রমিক, পত্রিকার হকার, হোটেল শ্রমিকসহ অন্যান্য পেশার মানুষ যারা দীর্ঘ ছুটি বা আংশিক লকডাউনের ফলে কাজ হারিয়েছেন, তাদের সহায়তার জন্য ৭৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

করোনার কারণে অর্থনীতির এই পরিস্থিতিতে এই অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে বলেও মন্তব্য করেন আহসান এইচ মনসুর। এর মধ্যেই বিশ্বব্যাংক একটি পূর্বাভাসে বলেছে বাংলাদেশে এই বছর প্রবৃদ্ধির হার ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) বলছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ হতে পারে।  মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক ২০২০, দ্য গ্রেট লকডাউন’ প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের ২০২০ সালে কত জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে, সেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ৭ এপ্রিল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আইএমএফ পঞ্জিকাবর্ষ ধরে জিডিপির পূর্বাভাস দিয়েছে।

/এমআর/এমএমজে/

সম্পর্কিত

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে

২০০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা

২০০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা

চলতি অর্থবছরে জিডিপি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ: এডিবি

চলতি অর্থবছরে জিডিপি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ: এডিবি

অর্থ হারানোর ঘটনাই ঘটেনি: ইউনিয়ন ব্যাংক

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:৫৪

ইউনিয়ন ব্যাংকের একটি শাখার ভল্টে রক্ষিত টাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ। সেখানে তারা লিখেছে, ব্যাংক থেকে টাকা উধাও বা হারানোর কোনও ঘটনাই ঘটেনি। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রা‌তে ইউনিয়ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ইকবালের বরাত দি‌য়ে একটি ই‌-মেইল বার্তা পাঠা‌নো হয়।

এতে বলা হয়, ‘ইউনিয়ন ব্যাংকের একটি শাখার ভল্টে রক্ষিত টাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ আমাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। এ জন্য প্রকৃত ঘটনা ও প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ইউনিয়ন ব্যাংকের অবস্থান ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন বোধ করছি। এ প্রসঙ্গে প্রথমেই আমরা বলতে চাই, গণমাধ্যমে যে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুলবোঝাবুঝির কারণে হয়েছে।’

এ‌তে আরও বলা হয়, ‘প্রকৃত ঘটনাটি হচ্ছে, গত ১৯/০৯/২১ তারিখ ব্যাংকিং লেনদেন শেষে সন্ধ্যার পর শাখায় একজন গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক নগদ টাকা নেওয়ার জন্য উপস্থিত হন। গ্রাহকের গুরুত্ব এবং ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্ক বিবেচনায় তার কাছ থেকে চেক জমা রেখে নগদ টাকা প্রদান করা হয়। পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংক অডিট টিমের উপস্থিতিতে গ্রাহকের চেক ডেবিট করে উক্ত টাকা সমন্বয় করা হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের অর্থ হারানোর মতো কোনও ঘটনাই ঘটেনি। তারপরও বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করার জন্য ইতোমধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টির সঠিক তদন্তের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কমিটির প্রতিবেদন মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

/জিএম/এফএ/

সম্পর্কিত

ইউনিয়ন ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন

ইউনিয়ন ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন

পদত্যাগ করলেন সাউথ বাংলা ব্যাংকের চেয়ারম্যান

পদত্যাগ করলেন সাউথ বাংলা ব্যাংকের চেয়ারম্যান

তিন জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

তিন জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩:২৯

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মুনাফার হার কমানোর ফলে মধ্যবিত্তের আয় কমে যাবে। অর্থাৎ নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এছাড়া পরিবার সঞ্চয়পত্র কেনা নারীরাও সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। একইভাবে নতুন সিদ্ধান্তে কমবে প্রাতিষ্ঠানিক সঞ্চয়কারীদের আয়ও। প্রবাসীরাও ওয়েজ আর্নার্স বন্ডের বিপরীতে মুনাফা কম পাবেন।

বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ প্রাপ্ত টাকা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে সে মুনাফা থেকে সংসার খরচ চালান। তাদের বিনিয়োগ ৩০ লাখ টাকার বেশি। ফলে তারা গড়ে ২ শতাংশ মুনাফা কম পাবেন। পরিবার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা নারীরাও মুনাফা ২ শতাংশ হারে কম পাবেন। তবে সাধারণ সঞ্চয়কারীরা, যারা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন, তাদের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, অনেকেই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মুনাফা থেকে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। সঞ্চয়পত্র ছাড়া মানুষের সঞ্চয়ের একটি নিরাপদ বিনিয়োগের জায়গা নেই। এর সুদের হার কমানোর ফলে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ কোনও খাতে চলে গেলে তা বিপজ্জনক হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষজন সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে না। সঞ্চয়পত্রের অধিকাংশ বিনিয়োগ মধ্যবিত্ত শ্রেণির। ফলে সরকার সঞ্চয়পত্রে মুনাফা কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মধ্যবিত্ত। তিনি বলেন, পেনশনভোগী মধ্যবিত্ত ও বয়স্ক নারীদের সঞ্চয়পত্রের আয় দিয়েই চলতে হয়। তাদের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।  তাদের সঞ্চয়ের বিকল্প নির্ভরযোগ্য কোনও কর্মসূচি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, একেবারে প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য ন্যূনতম সীমারেখা ১৫ লাখ যথেষ্ট নয়। এর পরিমাণ আরও বাড়ানো দরকার। পারলে দ্বিগুণ করা গেলে আরও ভালো হয়।

যারা সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ করেন তাদের অধিকাংশই সরকারের সাবেক আমলা ও বিভিন্ন পেশার অবসর নেওয়া বয়স্ক ব্যক্তি। তারা বলছেন, মুনাফা কমানোর সঙ্গে নিরাপদ বিকল্প বিনিয়োগের ব্যবস্থা থাকা দরকার ছিল, কিন্তু বিকল্প কোনও জায়গা নেই। কারণ, ব্যাংকে টাকা রাখলে এখন শতকরা ছয় ভাগের বেশি সুদ পাওয়া যায় না। শেয়ার বাজারে আস্থার সংকট। এদের অধিকাংশই সরাসরি ব্যবসা করতে পারবে না।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর আগে লাভজনক নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করা জরুরি। সেটি না করে মুনাফায় হাত দেওয়া ঠিক হয়নি। এতে মধ্যবিত্ত শ্রেণি, বিশেষ করে সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা বিপাকে পড়বেন।

এদিকে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন  বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক সঞ্চয়কারীরাও। বিশেষ করে প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ তারা এতে বিনিয়োগ করে যে মুনাফা পান তা কর্মীদের মধ্যেই বণ্টন করে দেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে তাদের মুনাফা গড়ে ২ শতাংশ কমবে।

প্রসঙ্গত, সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে ২ থেকে ৫ শতাংশ সুদে পাচ্ছে। বিদেশি ঋণও পাচ্ছে ১ থেকে ২ শতাংশ সুদে। অথচ সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নিয়ে সরকার সুদ দিচ্ছে গড়ে ১০ থেকে ১২ শতাংশ। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে প্রতিবছর সরকার গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে দিচ্ছে।

এছাড়া সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বেশি থাকায় মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। আবার ঝুঁকির কারণে শেয়ার বাজারেও টাকা কম যেত। এসব কারণে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর জন্য ব্যাংক ও শেয়ার বাজারের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে একটি চাপ ছিল। অর্থনীতিবিদদের অনেকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন কয়েক বছর ধরে। এনবিআর চেয়ারম্যান ও আইআরডি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সম্প্রতি একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে। এতে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দিতে গিয়ে সরকারের সুদ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে অর্থনীতিতে তৈরি হচ্ছে ভারসাম্যহীনতা। তিনি আরও লিখেছেন, সঞ্চয় কর্মসূচিতে অতিমাত্রায় বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতি রোধ করা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার তুলনামূলক বেশি থাকায় এর হার কমানো হয়েছে। এর মুনাফার হার বেশি হওয়ায় অর্থনীতির অন্য চালিকাশক্তিগুলো সমস্যায় পড়ছিল। মুনাফার হার কমানোর ফলে সার্বিক অর্থনীতির সুদের হারে একটি ভারসাম্য আসবে।

এদিকে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাব ও দুটি ডলার বন্ড ছাড়া সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো হয়েছে। তবে এবারই প্রথম স্তর পদ্ধতি আরোপ করে ছোট সঞ্চয়কারীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের ওপর মুনাফার হার কমানো হয়নি।

১৫ লাখ টাকার বেশি থেকে ৩০ লাখ পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার কমানো হয়েছে ১ শতাংশ এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি হলে মুনাফার হার কমানো হয়েছে ২ শতাংশ।

প্রবাসীদের জন্য ওয়েজ আর্নার্স বন্ডে তিন ধাপে মুনাফার হার কমেছে ৩ শতাংশ। অর্থাৎ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যমান ১২ শতাংশ, ১৫ লাখের বেশি থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ১১ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ এবং ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে ৯ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হবে। আগে এতে যেকোনও অঙ্কের বিনিয়োগের ওপর ১২ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হতো।

/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে

২০০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা

২০০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা

চলতি অর্থবছরে জিডিপি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ: এডিবি

চলতি অর্থবছরে জিডিপি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ: এডিবি

গ্রামীণ ব্যাংকের ৬৭ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি, একাধিক মামলা

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:০৭

গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ৬৭ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতর। এজন্য ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ভ্যাটযোগ্য সেবা প্রদান করার পরও প্রতিষ্ঠানটি এখনো ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করেনি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছে রাজস্ব বিভাগের ভ্যাট গোয়েন্দারা।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের (মূল্য সংযোজন কর) মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার কায়সারের নেতৃত্বে একটি দল প্রতিষ্ঠানটির ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তদন্তকালে গ্রামীণ ব্যাংকের এসব অনিয়ম বের হয়।

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সেবার কোড এস ০৫৬-এর আওতায় ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসছে। কিন্তু ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি এখনও নিবন্ধন গ্রহণ করেনি।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত মেয়াদে দেওয়া বিভিন্ন সেবা থেকে পাওয়া আয়ের বিপরীতে ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬৯০ টাকা উদঘাটন করা হয়। ভ্যাটযোগ্য সেবা হতে পাওয়া আয়ের বিপরীতে এ অপরিশোধিত ভ্যাটের ওপর ভ্যাট আইন অনুসারে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ শতাংশ হারে ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার ৭০৬ টাকা সুদ প্রযোজ্য হবে।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত মেয়াদে বিভিন্ন খরচের বিপরীতে উৎসে ভ্যাট বাবদ আট কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার ৮১৯ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির উৎসে কর্তন বাবদ প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ২৩ কোটি ৯৩ লাখ ১০ হাজার ৭৪ টাকা। এতে অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ১৫ কোটি ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ২৫৬ টাকা উদঘাটন করা হয়। এ অপরিশোধিত ভ্যাটের ওপর ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মাসিক ২ শতাংশ হারে সাত কোটি ২৩ লাখ ২৬ হাজার ৯৭৭ টাকা সুদ প্রযোজ্য হবে।

এ মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির সর্বমোট অপরিশোধিত ভ্যাটের পরিমাণ ৪৫ কাটি ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৯৪৬ টাকা এবং সুদ বাবদ ২১ কোটি ২৩ লাখ ২২ হাজার ৬৮৩ টাকাসহ সর্বমোট ৬৬ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৬২৯ টাকা ভ্যাট পরিহারের তথ্য উদঘাটিত হয়। এ টাকা সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে আদায়যোগ্য।

/জিএম/এমএস/

সম্পর্কিত

গুলশানের ফু ওয়াং বার এর ভ্যাট ফাঁকি ৪১ কোটি টাকা

গুলশানের ফু ওয়াং বার এর ভ্যাট ফাঁকি ৪১ কোটি টাকা

ফেসবুক-গুগলের ভ্যাটের তথ্য জানতে চায় এনবিআর

ফেসবুক-গুগলের ভ্যাটের তথ্য জানতে চায় এনবিআর

অনলাইনে ভ্যাট দিতে চায় ফেসবুক

অনলাইনে ভ্যাট দিতে চায় ফেসবুক

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:৫৬

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে আগের মতোই শতকরা হিসেবে ১১ দশমিক ৫২ হারে মুনাফা পাওয়া যাবে।

১৫ লাখ টাকার বেশি হলেই মুনাফার হার কমে যাবে। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে।

বিশেষ করে অবসরভোগী মধ্যবিত্তের আয় কমে যাওয়া নিয়ে সরকারের সাবেক আমলারাও এ নিয়ে সমালোচনা করছেন।

এমন বাস্তবতায় বিনিয়োগের এই স্লাব বা স্তর ১৫ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২০ লাখ টাকা হতে পারে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশো’তে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে। এটি রিভিউ হলে অযৌক্তিক হবে না। এই স্লাব বা স্তর ১৫ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২০ লাখ হলে যৌক্তিক হবে।’

অর্থাৎ, যদি মুনাফার হার ও স্তর রিভিউ হয়, তাহলে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে আগের মতোই ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যাবে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান মনে করেন, প্রথম স্তর অন্তত ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো উচিৎ। তিনি বলেন, ‘পেনশন-ভোগী মধ্যবিত্ত ও বয়স্কা নারীদের সঞ্চয়পত্রের আয় দিয়েই চলতে হয়। এদের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। বিশেষ করে এই করোনাকালে এমনকি ধনী উদ্যোক্তাদের নানা রকমের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় এই ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর কথা বিশেষভাবে ভাবতে হবে। তাদের সঞ্চয়ের বিকল্প নির্ভরযোগ্য কোনও কর্মসূচি নেই বলেই এ কথা বলছি।’

তিনি উল্লেখ করেন, একেবারে প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য ন্যূনতম সীমারেখা ১৫ লাখ টাকা যথেষ্ট নয়। এর পরিমাণ আরও বাড়ানো দরকার। পারলে দ্বিগুণ করা গেলে আরও  ভালো হয়।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে সঞ্চয় কর্মসূচির স্তর করা হয়েছে তিনটি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম স্তর ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম হার, আর দ্বিতীয় স্তর ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা হার এবং তৃতীয় স্তর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেক রকম হার করা হয়েছে।

অর্থাৎ, কেউ ৪০ লাখ টাকার পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করলে তিনি নতুন নিয়মে প্রথম ১৫ লাখে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন, পরবর্তী ১৫ লাখে ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন এবং এর পরবর্তী ১০ লাখে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মুনাফার হার কমানোর ফলে বড় সঞ্চয়কারীদের অর্থাৎ মধ্যবিত্তের আয় কমে যাবে। প্রান্তিক বা ছোট সঞ্চয়কারীদের আয় অপরিবর্তিত থাকবে। কমবে প্রাতিষ্ঠানিক সঞ্চয়কারীদের আয়ও। এতে সার্বিকভাবে সুদ বাবদ সরকারের ব্যয় সাশ্রয় হবে।

এদিকে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, মুদ্রা বাজারে যে অস্থিরতা ছিল সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর ফলে তাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে।

/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

২০০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা

২০০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা

চলতি অর্থবছরে জিডিপি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ: এডিবি

চলতি অর্থবছরে জিডিপি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ: এডিবি

১৯ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি এসএমই ফাউন্ডেশনের

২০০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৫৭

ক্ষুদ্র ও নারী-উদ্যোক্তাদের প্রণোদনার ঋণ বিতরণ সহজ করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহবান জানিয়েছেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামে নারী-উদ্যোক্তা-ব্যাংকার ম্যাচমেকিং সভায় এ আহবান জানান তিনি।

ড. মফিজুর রহমান আরও বলেন, গত অর্থবছরে এসএমই ফাউন্ডেশনের বিতরণকৃত ১০০ কোটি টাকার ৬৬.৭৫ শতাংশ পুরুষ উদ্যোক্তা এবং ৩৩.২৫ শতাংশ ঋণ নারী-উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ করা হয়। চলতি অর্থবছর ২০০ কোটি টাকা বিতরণে আরও বেশি নারী-উদ্যোক্তার অংশগ্রহণ চায় এসএমই ফাউন্ডেশন। এজন্য সারাদেশে নারী-উদ্যোক্তাদের ঋণের জন্য কাগজপত্র তৈরি, নিয়মকানুন সম্পর্কে জানানো, ব্যাংকারদের সঙ্গে ম্যাচমেকিংসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই ২০০ কোটি টাকা বিতরণ শেষ করে সরকারের কাছে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য আরও অর্থ দাবি করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র প্রেসিডেন্ট ইন-চার্জ আবিদা মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক ফারজানা খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক আরিফ হোসেন খান।

ড. মফিজুর রহমান আরও বলেন, গত অর্থবছরে মোট ঋণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তার ৮৩.২৪ শতাংশ উদ্যোক্তাই ছিলেন ঢাকার বাইরের। চলতি অর্থবছরেও প্রণোদনার অর্থ পল্লী ও প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে এরই মধ্যে ১৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

কোভিড পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের দ্বিতীয় দফার প্রণোদনার আওতায় মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের মাঝে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে এসএমই ফাউন্ডেশন। চলতি অর্থবছর আরও ২০০ কোটি টাকা এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে বরাদ্দ দেয় অর্থ বিভাগ।

 

মহামারির কারণে গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে যে ক্যাটাগরির উদ্যোক্তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে—

  • যারা সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণপ্রাপ্ত হননি।
  • অগ্রাধিকারভুক্ত এসএমই সাব-সেক্টর এবং ক্লাস্টারের উদ্যোক্তা।
  • নারী-উদ্যোক্তা।
  • নতুন উদ্যোক্তা, যারা এখনও ব্যাংক ঋণ পাননি।
  • পশ্চাৎপদ ও উপজাতীয় অঞ্চল, শারীরিকভাবে অক্ষম এবং তৃতীয় লিঙ্গের উদ্যোক্তা।

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় উদ্যোক্তারা এক লাখ-৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। ঋণের সুদের হার হবে ৪ শতাংশ। ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২৪টি সমান মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। ব্যাংকের চাহিদাকৃত ডকুমেন্টসহ ‘সম্পূর্ণ/পরিপূর্ণ ঋণ আবেদনপত্র’ ব্যাংকে দাখিলের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঋণ মঞ্জুর করে গ্রাহকের অনুকূলে বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ নেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। সাধারণভাবে একক ও যৌথ মালিকানাধীন উদ্যোগের অনুকূলে ঋণ দেওয়া হবে। তবে প্রান্তিক ক্ষুদ্র, বিশেষ করে নারী-উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতায় আনতে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্ক ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পাঁচজন উদ্যোক্তার অনুকূলে গ্রুপভিত্তিক ঋণ বিতরণ করা যাবে।

গত অর্থবছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এসএমই ফাউন্ডেশন অংশিদার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক এক/একাধিক শাখায় ফোকাল কর্মকর্তা নির্ধারণ করবে। উদ্যোক্তারা ফোকাল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ফোকাল কর্মকর্তা এসএমই ফাউন্ডেশন, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও শাখা এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।

 

২০২১-২২ অর্থবছরে ২০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে যে ১৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে—

  • রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক
  • বেসিক ব্যাংক লিমিটেড
  • বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড
  • ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড
  • ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড
  • ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড
  • ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড
  • মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড
  • এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড
  • ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড
  • প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড
  • প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড
  • দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড
  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড
  • সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড
  • ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড
  • আইডিএলসি ফাইন্যান্স  লিমিটেড
  • আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড
  • লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড
/জিএম/এফএ/

সম্পর্কিত

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে

চলতি অর্থবছরে জিডিপি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ: এডিবি

চলতি অর্থবছরে জিডিপি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ: এডিবি

প্রতারণা ঠেকাতে ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা জারি

প্রতারণা ঠেকাতে ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা জারি

সম্পর্কিত

একটি হাত ব্যাগ ও সৌদি আরব প্রবাসীর কান্না-হাসি

একটি হাত ব্যাগ ও সৌদি আরব প্রবাসীর কান্না-হাসি

শিল্পকলা একাডেমিতে ‘শরৎ উৎসব’ উদ্বোধন

শিল্পকলা একাডেমিতে ‘শরৎ উৎসব’ উদ্বোধন

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে: ইরান

সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে: ইরান

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

সর্বশেষ

একই ব্যানারে গাজীপুরে আ.লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ

একই ব্যানারে গাজীপুরে আ.লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ

একটি হাত ব্যাগ ও সৌদি আরব প্রবাসীর কান্না-হাসি

একটি হাত ব্যাগ ও সৌদি আরব প্রবাসীর কান্না-হাসি

ইলিশ রফতানি: বাংলাদেশের শর্তকে অবাস্তব বললো ভারত

ইলিশ রফতানি: বাংলাদেশের শর্তকে অবাস্তব বললো ভারত

ই-কমার্সের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, শীর্ষে ইভ্যালি,  ই-অরেঞ্জ ও দারাজ

ই-কমার্সের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, শীর্ষে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ ও দারাজ

সাইক্লিং নিরাপদে ১০ সুপারিশ

সাইক্লিং নিরাপদে ১০ সুপারিশ

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সাইকেল র‌্যালি

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সাইকেল র‌্যালি

‘বিদ্যালয়ে এসে করোনা আক্রান্তের প্রমাণ পাওয়া যায়নি’

‘বিদ্যালয়ে এসে করোনা আক্রান্তের প্রমাণ পাওয়া যায়নি’

ঢাকায় ‘জলবায়ু অবরোধ আন্দোলন’ কর্মসূচি

ঢাকায় ‘জলবায়ু অবরোধ আন্দোলন’ কর্মসূচি

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে

২০০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা

১৯ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি এসএমই ফাউন্ডেশনের২০০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা

চলতি অর্থবছরে জিডিপি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ: এডিবি

চলতি অর্থবছরে জিডিপি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ: এডিবি

প্রতারণা ঠেকাতে ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা জারি

প্রতারণা ঠেকাতে ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা জারি

© 2021 Bangla Tribune