X
রবিবার, ০১ আগস্ট ২০২১, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

অর্থনীতির প্রধান ছয় সূচক এখনও ঊর্ধ্বমুখী

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:০০

করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাব থাকার পরও দেশের অর্থনীতির প্রধান ছয়টি সূচক এখনও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে। প্রবাসী আয়সহ অর্থনীতির বেশ কয়েকটি সূচক এরই মধ্যে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। তবে অর্থনীতির প্রধান সূচক বিনিয়োগসহ অন্তত ছয়টি সূচক নিম্নমুখি ধারায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঊর্ধ্বমুখী ধারায় প্রবাহিত হওয়া সূচকগুলোর মধ্যে রয়েছে:  প্রবাসী আয় বেড়েই চলেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েই চলেছে, পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে, সচল হয়েছে আমদানি বাণিজ্য, মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা বেড়েছে। অর্থাৎ কম মুনাফার পরও একদিকে ব্যাংকে জমানো আমানত বেড়ে চলেছে, অন্যদিকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে মানুষ এখনও ভালো টাকা মুনাফা পাচ্ছে। ছয়. কারেন্ট একাউন্ট ব্যালেন্স বেড়েছে।

নিম্নমুখি ধারায় প্রবাহিত হওয়া সূচকগুলোর মধ্যে রয়েছে:   বিনিয়োগ শূন্যতা, নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে না, মানুষের আয় কমে যাচ্ছে, চাকরি হারাচ্ছে, বেকার সংখ্যা বাড়ছে, রফতানি আয় নিম্নমুখি,  রাজস্ব আয়ে ঘাটতি, শিল্পের জন্য মেশিনারিজ এলসি হচ্ছে না, খেলাপি বাড়ছে, মূল্যস্ফীতি বাড়ছে।

অবশ্য দেশের অর্থনীতি সঠিক পথে রয়েছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। শিগগির তা ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী। কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারি থেকে উত্তরণে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো যথেষ্ট সময়োপযোগী ছিল। বুধবার(২০ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী চলতি অর্থবছরের বাজেটের প্রথম প্রান্তিকের বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে এ সব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অগ্রগতির যে চিত্র আমরা দেখলাম, তা থেকে নির্দ্বিধায় বলা যায় আমরা সঠিক পথে রয়েছি। তথ্য-উপাত্ত ও উদাহরণ দিয়ে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু জাতীয় আয় বৃদ্ধি, রফতানিতে প্রবৃদ্ধি, প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মুদ্রা বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা এবং মূল্যস্ফীতির নিম্নগতি নির্দেশ করে যে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর দিকে এগিয়ে চলেছি।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থনীতির যেসব সূচক ভালো অবস্থায় নেই, সেগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ অন্যতম। এই বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি হলে একসঙ্গে সবকটি সূচকই ঘুরে দাঁড়াবে। 

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের গবেষক ড. জায়েদ বখত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যখন বিনিয়োগের খরা কেটে যাবে, তখন নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তখন  মানুষের আয় বাড়বে। মানুষের  চাকরি হবে। বেকার সংখ্যা কমে যাবে। শিল্পের জন্য মেশিনারিজ এলসি হওয়া শুরু হবে।  রফতানি আয় বাড়তে থাকবে।  রাজস্ব আয়েও এর প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় ধাপের করোনায় যদি লকডাউনে যেতে না হয়, তাহলে অর্থনীতির সব সূচকই গতিশীল হবে। প্রবাসী আয়সহ অর্থনীতির বেশ কয়েকটি সূচক এরই মধ্যে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছুদিন পরই দেখা যাবে, সবাই বিনিয়োগে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। করোনার কারণে যেসব কাজ ঝিমিয়ে পড়েছিল, সেগুলোও সচল হবে।

এদিকে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলছেন, আগামী মার্চ পর্যন্ত এভাবেই যাবে। তবে আগামী জুলাই- আগস্টের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত দেশগুলো থেকে কেনাকাটা, ভ্রমণ, ভোগ ব্যয় বাড়তে থাকবে। তখন আমাদের রফতানি ও শ্রম বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ: করোনাকালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে বাংলাদেশ এক নতুন উচ্চতায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারিতে সেই রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৪২ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স:  করোনা মহামারিতেও রেমিট্যান্স আসছে আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে ২০৫ কোটি ৬ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী,  জুলাই-ডিসেম্বর এই ছয় মাসে দেশে মোট এক হাজার ২৯৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। করোনাভাইরাস মহামারির মাঝেই অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

সচল হয়েছে আমদানি বাণিজ্য : শিল্পের জন্য মেশিনারিজ আমদানি না হলেও খাদ্য পণ্য আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে গত নভেম্বর মাসে আমদানিতে প্রায় ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অর্থাৎ ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের চেয়ে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি আমদানি হয়েছে। তবে অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে( জুলাই- নভেম্বর)  আমদানি কমেছে ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

শক্তিশালী হয়েছে শেয়ার বাজার:  দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধনে একের পর এক রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে।  ডিএসইতে বাজার মূলধন  পাঁচ লাখ কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়িয়েছে। যদিও ছয় মাস আগে হতাশার কেন্দ্রবিন্দু ছিল দেশের শেয়ার বাজার। গত জুলাই মাসের শুরুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ১১ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। বর্তমানে সেই বাজার টেকসই বাজারে রূপ নিচ্ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে টেকসই হবে পুঁজিবাজার।

সঞ্চয় বাড়ছে মানুষের : বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে ব্যয় বাড়লেও মানুষ আগের চেয়ে সঞ্চয় করছে বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বিদায়ী ২০২০ সালের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকগুলোয় আমানত বেড়েছে ৯৮ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসেই (জুলাই থেকে নভেম্বর) পর্যন্ত মানুষ ১৯ হাজার ৪৪ কোটি ৯২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছেন। আর গত ছয় মাসে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা।

কমে এসেছে বাণিজ্য ঘাটতি: গত অর্থবছরে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের (৫৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার) বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে অর্থবছর শেষ করেছিল দেশ। চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) জুলাই-অক্টোবর সময়ে তা কমে ৩২৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে। এই বাণিজ্য ঘাটতি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার কম।

প্রসঙ্গত,  দুর্দান্ত গতিতে বাংলাদেশের এগিয়ে চলা শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে নিম্নআয়ের দেশ থেকে বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে ২০১৫ সালেই। জাতিসংঘের হিসাবে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের সিঁড়িতে পা দেবে ২০২৪ সালে।

তবে বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতিবিদরা গত কয়েক বছর ধরেই হতাশার কথা শুনিয়ে আসছেন। এদিকে করোনাকালের আগে থেকেই দেশে বিনিয়োগে হতাশা বিরাজ করছে। করোনাকালে সেই হতাশা আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। যা বিগত যে কোনও সময়ের চেয়ে কম। ব্যাংক কর্মকর্তারা এই প্রবৃদ্ধিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি বলছেন। অর্থাৎ গত এক বছরে সবগুলো ব্যাংক মিলে এক লাখ কোটি টাকাও ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। ২০১৯ সালের নভেম্বর শেষে ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা। ২০২০ সালের নভেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ২০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত এক বছরে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৮৫ হাজার কোটি টাকা।  প্রসঙ্গত,  ২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪ শতাংশের বেশি। বছরওয়ারি হিসেবে, এরপর তা সব সময়ই ১০ শতাংশের বেশি ছিল। এমনকি ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

বেসরকারি খাতে কম ঋণ মানে হলো বিনিয়োগ কমে যাওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্য কমে যাওয়া। শিল্পায়ন কমে যাওয়া। অর্থাৎ কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের আয় কমে যাওয়া।

রফতানিতে ধস: মহামারি করোনার প্রথম ধাক্কায় দেশের অর্থনীতি ঠিক থাকলেও করোনার দ্বিতীয় ধাপে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের  অন্যতম প্রধান  খাত রফতানিতে ধস নেমেছে। করোনার দ্বিতীয় ধাপের প্রভাবে ইউরোপের রফতানি বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।  সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে আবার হোঁচট খেয়েছে রফতানি। করোনাভাইরাস মহামারিকালে বিদায়ী বছরের শেষ মাসে পণ্য রফতানি থেকে ৩৩১ কোটি ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের চেয়ে ৬ দশমিক ১১ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ। ডিসেম্বরের এই ধসের ধাক্কা ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেও (জুলাই-ডিসেম্বর) লেগেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে এই অর্থবছরে একই সময়ে রফতানি কমেছে শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এদিকে করোনাভাইরাস মহামারির অভিঘাতে তৈরি পোশাক রফতানি এবং রেমিট্যান্স কমে গিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব ব্যাংক। বিশ্ব ব্যাংকের অর্ধ-বার্ষিক প্রতিবেদন ‘ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুকের’ জানুয়ারি সংখ্যায় এই ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বো হয়েছে, মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে তৈরি পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ রফতানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

/এমআর/

সম্পর্কিত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ০০:৪১

রবিবার (১ আগস্ট) থেকে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প কারখানাগুলো চালু হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য ১৫টি শর্ত মানতে হবে কারখানা মালিকদের। শনিবার (৩১ জুলাই) রাতে গার্মেন্টস মালিকদের এ ব্যাপারে একটি চিঠি দিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন- বিজিএমইএ।

সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে দেওয়া শর্তগুলো হলো:

১. কারখানা খোলা এবং ছুটির সময়ে গেট বা কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিকদের ভিড় এড়ানোর লক্ষ্যে কারখানায় প্রবেশ ও কারখানা ত্যাগ করার বিষয়ে Staggered Time নির্ধারণ করার ওপর জোর দেওয়া।

২. শারিরীক দূরত্ব বজায় রেখে গমনাগমন পথের ব্যবহার নিশ্চিত করা (রশি/শিকল দিয়ে পুরুষ ও নারী শ্রমিকদের জন্য আলাদা লাইন করে কারখানায় প্রবেশ এবং বাহির নিশ্চিত করতে হবে।

৩. সম্ভাব্য ক্ষেত্রে কর্মঘণ্টা বিভিন্ন শিফটে নির্ধারণ করা।

৪. ফ্লোরে বা কাজের স্থানগুলোতে ভিড় এড়িয়ে চলতে শ্রমিকদের উৎসাহিত করা।

৫. দুপুরের খাবারের বিরতি বা অন্যান্য বিরতি যথাসম্ভব Staggered Time এ করা।

৬. কারখানায় প্রবেশের সময় শ্রমিকদের দেহের তাপমাত্রা পরিমাপ করা অথবা প্রয়োজনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা।

৭. কর্মস্থলে (কারখানা বা প্রতিষ্ঠান) সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে হাত পরিষ্কার সমগ্রী রাখা এবং নিয়মিত সেগুলো পুনর্ভর্তি করা।

৮. পর্যাপ্ত সংখ্যক সাবানের ব্যবস্থাসহ প্রধান ফটকে হাত ধৌতকরণ-স্থান নির্দিষ্ট করা।

৯. কারখানায় প্রবেশের সময় সব শ্রমিক-কর্মচারীর হাত ধৌতকরণ বা জীবাণুমুক্তকরণ নিশ্চিত করা।

১০. হাত ধৌতকরণ বা জীবাণুমুক্তকরণের প্রতিটি স্থান/পানির কলের মধ্যে ন্যূনতম এক মিটার দূরত্ব নিশ্চিত করা।

১১. হাত ধৌতকরণ এবং জীবাণুমুক্তকরণের সঠিক পদ্ধতিগত নির্দেশাবলী দৃষ্টিগোচর স্থানে প্রদর্শন করা (যেমন: উভয়হাত কমপক্ষে

২০ সেকেন্ড ধরে ধৌত করা)।

১২. হাত ধোয়ার পর শুকানোর জন্য ড্রায়ার বা টিস্যু পেপারের ব্যবস্থা রাখা।

১৩. সার্বক্ষণিক মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

১৪. কারখানার বাইরে সভা সমাবেশ, গণপরিবহন এবং ভিড় এড়িয়ে চলতে শ্রমিকদের উৎসাহিত করা।

১৫. করোনা সংক্রমণের উপসর্গ সম্পর্কে শ্রমিক-কর্মচারীদের অবহিত করা।

 

/জিএম/আইএ/

সম্পর্কিত

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

মালিকদের উদ্দেশে যা বললেন বিজিএমইএ সভাপতি

মালিকদের উদ্দেশে যা বললেন বিজিএমইএ সভাপতি

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ২২:২২

পঞ্চাশ বছরের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের সুপার হাইওয়েতে রয়েছে। এটাকে টেকসই করার জন্য নিজস্ব সম্পদ, জনশক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারের বিকল্প নেই। কিন্তু দেশে জ্বালানিসহ সকল খাতে দক্ষ জনবলের সংকট চরমে। ফলে প্রবাসী  বাংলাদেশিরা এই ঘাটতি পূরণে বড় অবদান রাখতে পারে। 

শনিবার (৩১ জুলাই) এনার্জি এন্ড পাওয়ার ম্যাগাজিন আয়োজিত ‘এনার্জি সেক্টর হিউম্যান রির্সোস ডেভলপমেন্ট: ক্যান এনআরবি এক্সপার্ট সাপোর্ট?’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ম. তামিম, ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর,  ইউনিভারসিটি অব কুইনল্যান্ডের প্রফেসর ড. তপন সাহা, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন, আরএমআইটির প্রফেসর ড. ফিরোজ আলম ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ খন্দকার আবদুল সালেক। 

ম. তামিম বলেন, কেবল জ্বালানি খাতে নয়, সকল খাতেই দক্ষ জনবল সংকটের মধ্যে আছে। দক্ষ জনবল চাহিদা নিরূপণ ও গড়ে তোলার জন্য একটি বিভাগ বা স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা জরুরি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাজারের চাহিদার নিরিখে শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন আনছে। বুয়েটও তার শিক্ষাক্রমে আগামী ২ বছরের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে।

গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়ন অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে। কিন্তু এটাকে সাসটেইনেবল করতে চাইলে নিজস্ব সম্পদ, প্রতিষ্ঠান ও জনবলকে কাজে লাগানোর কোনও বিকল্প নেই। প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরাও আমাদের এক বড় সম্পদ। ফলে দক্ষ জনবল ঘাটতি মেটানোর জন্য প্রবাসী বিশেষজ্ঞদেরও উন্নয়নকাজে যুক্ত করার কোনও বিকল্প নেই।

ড. তপন সাহা বলেন, কোথা থেকে কোনও প্রবাসী বিশেষজ্ঞ কিভাবে বাংলাদেশে  সহায়তা করতে হবে তার একটি ডাটাবেজ তৈরি করে তাদের পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে টেকসই উন্নয়ন আরও বেগবান হবে। 

মোহাম্মদ হোসেইন বলেন, প্রবাসীরা কীভাবে অবদান রাখতে পারে তার জন্য আইইবি তাদের বিদেশি চ্যাপ্টারের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

/এসএনএস/এমআর/

সম্পর্কিত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ২২:০৩

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতরে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন, আবেদন ফি, নামের ছাড়পত্র ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি জমাসহ সকল সেবা অনলাইনে প্রদান ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহজ করে দিয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সিসিআইঅ্যান্ডই, বিডা, এনবিআর, বেজা, বেপজা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ ব্যবসা সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধনের ফলে সকল অনুষ্ঠানিকতা সহজ হয়েছে। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 

সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা লতিফ বকসী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের টিম কমার্সের কর্মদক্ষতায় বাণিজ্য সহজীকরণের জন্য অনলাইনে বাণিজ্যসেবা প্রদান করে যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহজ করতে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতর ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশনসহ সকল বাণিজ্যসেবা অনলাইনে প্রদান করছে। 

উল্লেখ্য, ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন সুবিধায় বাণিজ্য সহজীকরণে কয়েক ধাপ এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। দেশি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে রেজিস্ট্রেশনসহ বাণিজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রদানে সফলতার জন্য ২০২১ সালে দলগত (কারিগরি) শ্রেণিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতরকে প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেণিতে পদক ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়। এ জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুলাই রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের কাছ থেকে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতরের পক্ষে তৎকালীন নিবন্ধক বর্তমানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মকবুল হোসেনসহ দলের সদস্যরা জনপ্রশাসন পদক গ্রহণ করেন। 

/এসআই/এমআর/

সম্পর্কিত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ২১:২৫

শ্রমিকদের কারখানায় আসার জন্য বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কোনও মালিক বাধ্য করছে না বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেন, কারখানা চালু করতে সব শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। আপাতত, ঈদের যারা ছুটিতে বাড়িতে যায়নি ও যারা স্থানীয় শ্রমিক তাদের দিয়ে কারখানা চালু করা হচ্ছে। তবে শ্রমিকরা হয়ত নিজ থেকে আসা শুরু করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, রফতানিমুখী শিল্পকারখানার কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে আগামীকাল রবিববার সকল গণপরিবহন চলাচল শিথিল করেছে সরকার। যেসব শ্রমিক আগামীকাল রবিবার বাড়ি থেকে আসতে চান, তাদের জন্য গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দূরপাল্লার বাসে শ্রমিকরা আসতে চাইলে, সেই বাস পুলিশ ধরবে না। এছাড়া লঞ্চসহ শ্রমিকদের জন্য নৌ চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের অধিকাংশ বড় বড় কারখানা ঢাকার বাইরে। আশুলিয়া, সাভার, মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জের কারখানার  শ্রমিকদের ঢাকায় আসার দরকার পড়ছে না। তিনি বলেন, স্থানীয় বসবাসকারী শ্রমিকদের দিয়ে কারখানা চালু হচ্ছে। এছাড়া যারা ঈদে বাড়ি যায়নি তাদের ডিউটি দেওয়া হচ্ছে। কাজেই যারা ঈদে বাড়ি গেছেন, তারা লকডাউন শিথিল হলে কাজে যোগ দিবেন। তাদের কারও চাকরি যাবে না। তিনি আরও বলেন, কোনও মালিক বা কোনও কারখানার পক্ষ থেকে শ্রমিকদের আসার জন্য বাধ্য করা হয়েছে একথা সত্য নয়।

 

/জিএম/এফএএন/

সম্পর্কিত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ১১:০০

দেশের অর্থনীতিতে শেয়ারবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এরই মধ্যে এই বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অনাস্থার বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে। এখন বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে এই শেয়ারবাজার। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি শহরে রোডশো করছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাংলাদেশ সময় গত সোমবার রাতে নিউইয়র্কের একটি হোটেলে এ রোডশোর উদ্বোধন করা হয়।

বিএসইসি থেকে বলা হয়েছে, বিদেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের এ দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে এ রোডশোর আয়োজন করা হয়েছে। এ দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরাই এ রোডশো আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

এদিকে ঈদের পর প্রথম সপ্তাহ ভালো গেলো না শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য। গেলো সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে যাওয়ার কারণে ৭৮১ কোটি টাকা হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অবশ্য ঈদের আগে টানা তিন সপ্তাহ শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করা টাকার পরিমাণ প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যায়। গত ২১ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকে। টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকার পর গত রোববার থেকে দেশের শেয়ারবাজারে আবার লেনদেন শুরু হয়। গত সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকে বাজার।

এতে মূল্যসূচকে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজার মূলধনে। গেলো সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেলো সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন কমেছে ৭৮১ কোটি টাকা।

ঈদের আগের তিন সপ্তাহের টানা উত্থানে ডিএসই’র বাজার মূলধন বাড়ে ২০ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা বাড়ার পর বাজার মূলধন ৭৮১ কোটি টাকা কমলো। এতে জুলাই মাসে ডিএসই’র বাজার মূলধন ২০ হাজার ১২২ কোটি টাকা বেড়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই-এক্স বেড়েছে ২০ দশমিক ২১ পয়েন্ট। ঈদের আগের তিন সপ্তাহে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক বাড়ে ২৫৫ পয়েন্ট। এতে চার সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বাড়লো ২৭৬ পয়েন্ট।

চার সপ্তাহের এই টানা উত্থানের কারণে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থাতে পৌঁছে গেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই-এক্স। মূল্যসূচকের ভুল গণনা বন্ধ করতে ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি নতুন সূচক ডিএসই-এক্স চালু করে ডিএসই। চার হাজার ৫৫ দশমিক ৯০ পয়েন্ট দিয়ে শুরু হওয়া সূচকটি এখন ছয় হাজার ৪২৫ দশমিক ২৫ পয়েন্ট অবস্থান করছে।

প্রধান মূল্যসূচক রেকর্ড অবস্থানে উঠে আসার পাশাপাশি গেলো সপ্তাহে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে। গেলো সপ্তাহে এই সূচকটি বেড়েছে ৫ দশমিক ৫০ পয়েন্ট। ঈদের আগে তিন সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১১৩ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট।

অপরদিকে, ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচকও গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে। গত সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৮ পয়েন্ট। ঈদের আগের তিন সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৭৩ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৪২৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় এক হাজার ৫২৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১০৩ কোটি ২ লাখ টাকা। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭ হাজার ১২৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৩ হাজার ৫৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে ৪ হাজার ৭১ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

মালিকদের উদ্দেশে যা বললেন বিজিএমইএ সভাপতি

মালিকদের উদ্দেশে যা বললেন বিজিএমইএ সভাপতি

সর্বশেষ

অলিম্পিকে সেরা টাইমিং পাননি বাংলাদেশের জহির

অলিম্পিকে সেরা টাইমিং পাননি বাংলাদেশের জহির

প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিতে অটোয়ায় বঙ্গবন্ধু

প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিতে অটোয়ায় বঙ্গবন্ধু

প্রিন্সেস ডায়ানা-চার্লসের বিয়ের কেক নিলামে

প্রিন্সেস ডায়ানা-চার্লসের বিয়ের কেক নিলামে

ঘরে বসেই দেদার আড্ডা

আজ বন্ধু দিবসঘরে বসেই দেদার আড্ডা

কেন বারবার একই ভুল

কেন বারবার একই ভুল

তুরস্কে দাবানলের তাণ্ডবে পুড়ে মরছে পশু-পাখি

তুরস্কে দাবানলের তাণ্ডবে পুড়ে মরছে পশু-পাখি

এখনও শেষ হয়নি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার

এখনও শেষ হয়নি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার

মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে মিয়ানমার জান্তা

মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে মিয়ানমার জান্তা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

© 2021 Bangla Tribune