X
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮

সেকশনস

জীবনদৃষ্টির অনন্য শিল্পী কামাল চৌধুরী

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৩:৩৮

কামাল চৌধুরী সত্তর দশকের অগ্রগণ্য কবি। ১৯৫৭ সালের ২৮ জানুয়ারি তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিজয় করা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কাব্যগ্রন্থ : মিছিলের সমান বয়সী, টানাপোড়েনের দিন, এই পথ এই কোলাহল, এসেছি নিজের ভোরে, এই মেঘ বিদ্যুতে ভরা, ধূলি ও সাগর দৃশ্য, রোদ বৃষ্টি অন্ত্যমিল, হে মাটি পৃথিবীপুত্র, প্রেমের কবিতা, পান্থশালার ঘোড়া, নির্বাচিত কবিতা, কবিতাসংগ্রহ, শ্রেষ্ঠ কবিতা ইত্যাদি। তিনি রুদ্র পদক, সৌহার্দ্য সম্মাননা (পশ্চিমবঙ্গ), কবিতালাপ সাহিত্য পুরস্কার, জীবনানন্দ পুরস্কার, সিটি-আনান্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার, দরিয়ানগর কবিতা সম্মাননা এবং বাংলা একাডেমী পুরস্কার পেয়েছেন।  


একজন কবি কখনো পরিকল্পনা করে কবিতা রচনা করেন না। তবে কবিতা বুননের নিজস্বতায় থাকে তাঁর অতিক্রমণের চেতনাভাস। কবির জীবনদর্শন ও শিল্পভাবনার প্রকাশ বিশেষ কোনো বিষয়ের আশ্রয়েই অভিনবত্ব লাভ করে। ব্যক্তিগত উপলব্ধির সঙ্গে সঙ্গতি স্থাপনের মাধ্যমে একজন দূরদর্শী শিল্পী কেবল কবিতার প্রকরণ-কৌশলেই মনোযোগ দেন না, স্বপ্ন কিংবা কল্পনার মতো বিমূর্ত অনুভবকে বাস্তবের কোনো ভিত্তির ওপর স্থাপন করেই তাকে পাঠকের বোধ ও বিশ্বাসের সীমায় নিয়ে আসতে চান। কবির অনুভব ও উপলব্ধির গভীরতা কবিতায় যেমন ঔজ্জ্বল্য ছড়ায় তেমনি অর্থময় একটি সম্ভবনাকেও কল্পনাপ্রবণ পাঠকের সামনে মেলে ধরতে পারে।

ধরুন, আপনার অধ্যয়নের বিষয় যদি হয় কবিতা এবং বিশ্লেষণের বিষয় যদি হয় কবি, তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে কবিতা কী, কবিকল্পনার স্বভাব কেমন, কাব্যসৃষ্টিতে দৈবপ্রেরণার ভূমিকা কেমন, প্রকৃত জগৎ ও কাব্যকল্পনার সম্পর্ক কী? যদিও এইসব প্রশ্নের জবাব খুঁজেছেন রোম্যান্টিক কবিদের অনেকেই, তবে তা তত্ত্বালোচনায় ভরা প্রবন্ধে নয় বরং কবিতায়। শেলি, কীটস, কোলরিজ এবং রবীন্দ্রনাথও সেইসব প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন জবাবের ইশরায়। আর বোদলেয়ারের পর থেকে কবিতায় যে আধুনিক যুগের আরম্ভ তার তো কথাই নেই। রোম্যান্টিকতারই যে দ্বিতীয় প্লাবন তার দ্বারা প্রভাবিত প্রায় সব বড় কবিই কবিতার রহস্য বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিজেদের কবিতায়। এই আত্মসচেতন যুগের শিল্পীরা তাঁদের শিল্প-অভিজ্ঞতা বিষয়েও সচেতন হয়ে উঠেছেন কবিতায়। কবিতার মধ্যেই মেতেছেন আত্মসমীক্ষায় এবং কাব্যজিজ্ঞাসায়। কামাল চৌধুরীর কবিতা থেকে তাঁর নিজের কাব্যজিজ্ঞাসা কী ছিল, কেমন ছিল সেটা বিশ্লেষণের চেষ্টাই হবে এই প্রবন্ধের মূল লক্ষ্য।

কবি কামাল চৌধুরী। না, তিনি কারো মতো নন। কবি, কিন্তু ব্যক্তিক্রম ধারার। তাঁর কবিতার স্বরের ভিন্নতা, বিষয় নির্বাচন, শব্দকুশলতায় পারদর্শী অন্য এক আচারঋদ্ধ। সে কবিতা সত্তর দশকের অন্য কারো মতো নয়, এ যেন একজনেরই ব্যতিক্রমধর্মী কবিতা। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মিছিলের সমান বয়সী’ প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে, তখন তাঁর বয়স মাত্র চব্বিশ। তারুণ্যের ঝলকে উদ্দীপ্ত তার কবিতাযাত্রা। প্রথম কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতা পাঠকের মধ্যে প্রচণ্ড আলোড়ন সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়। প্রত্যেক কবির শুরুর দিকের কবিতা তারুণ্যের প্রতীক বলে ভাবাই সঙ্গত। কিন্তু কামাল চৌধুরীর কবিতা একাত্তর-পরবর্তী পুরো একটা দশককে চিত্রকল্পের মাধ্যমে পাঠকের সামনে এমন বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরেন যে তাঁর সেই আগমনকে সবাই স্পর্ধিত তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে মেনে নিলেন। তাঁর সেই মুক্তক গদ্য-আবহে লালিত স্লোগানমুখর কবিতাশরীর এক অন্যরকম ধ্রুপদী আবহে বেড়ে উঠতে থাকে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ঢাকা কলেজে পড়া এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুবাদে বিশাল বন্ধুমহলের পাশাপাশি পেয়েছিলেন ষাটের দশকের কবিদের সঙ্গ। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, জাফর ওয়াজেদ, শাহাজাদী আঞ্জুমান আরা, মঈনুল আহসান সাবের, রফিকউল্লাহ খান, আলী রিয়াজ, তুষার দাশ, ইসহাক খান, আলমগীর রেজা চৌধুরী, ইমদাদুল হক মিলন, লুৎফর রহমান রিটন, আবিদ রহমান, ফরিদ কবির, মুহাম্মদ সামাদ, আসলাম সানী, আবু হাসান শাহরিয়ার, মোহন রায়হান, মাসুদুজ্জামান এবং সলিমুল্লাহ খানসহ সমসাময়িক কবিদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখেই বোঝা যায় কবিতা নিয়ে মেতে ওঠার কেমন উন্মাদনা ছিল তাঁর মধ্যে।

কামাল চৌধুরীর কবিতায় থাকে সময় পরিক্রমণ আর জীবনযাপনের নিশ্বাস। কবির কিছু কিছু কবিতা আমাদের নিত্যশিহরিত জীবনের ভেতরে প্রবষ্টি করে। পাঠক তখন পরিমাপহীন এক অনুভূতির ভেতরে ঢুকে যায়। খুব পরিচিত শব্দের ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, পোনামাছের ঝাঁকের মতো অগণিত দৃশ্য আর অভিজ্ঞতা ফুটে উঠছে তাঁর নির্মিত প্রতিটি বাক্যে। কামাল চৌধুরী তাই আমাদের প্রিয় কবিদের একজন হয়ে ওঠেন। তিনি বাংলাসাহিত্যের একজন বড় কবি। যদিও আমাদের কারো কাছেই কবি মাপার কোনো মাপকাঠি নেই, তবে তাঁকে পড়তে ভালো লাগে। তাঁর কবিতা বারবার পড়তে গিয়ে বরং দেখা যায় কবিতার চতুষ্কোণে এক রকমের ঘোর তৈরি হয়। সেই ঘোর কবিতার ভেতর জগতে ঢুকতে প্রলুব্ধ করে। দৃশ্যের ভেতরও নতুন এক দৃশ্য দেখাতে পারে তাঁর কবিতা। অনুভূত হয় শান্তির টাটকা শিহরন।

কামাল চৌধুরীর লেখায় যদি কোনো বিষয় থাকে তবে সে বিষয় শুধুই কবিতাময়। কেন উপমা, কেন ছন্দ, কীভাবে স্মৃতি বা মগ্নচৈতন্যে সঞ্চিত বিষয় অভিজ্ঞতাপুঞ্জ থেকে দৈবপ্রেরণার তাড়না কবিতার জন্য হয়, কীভাবে চৈতন্যের পৌনঃপুনিক আক্রমণে সে তাড়নাকে বশীভূত করতে হয়—এইসব প্রশ্নেরই কাব্যময় জবাব খুঁজছেন কামাল চৌধুরী তাঁর কবিতাভুবনে। কখনো আত্মজৈবনিক কোনো তথ্যকে, কখনো কোনো পৌরাণিক উপাখ্যানকে বা কোনো পূর্বসূরির শেষযাত্রাকে যাত্রারম্ভের চিহ্ন হিসেবে মেনে নিয়ে শুরু করেছেন কবিতাযাপন। সেই কবিতাযাপনে পাই কবির সঙ্গে কবির সংলাপ। সেই সংলাপের মধ্য দিয়ে আবিষ্কৃত হন একজন অনুসন্ধানী কবি।

কবিতায় শব্দান্বেষণে যেন ভীষণ মগ্ন এই কবি। কামাল চৌধুরী নন্দন ধারার শব্দপূজারি কবি, কেননা শব্দসচেতনাকে তিনি ধ্রুব বলে মানেন সবসময়। ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে কামাল চৌধুরী অত্যন্ত সতর্ক। মানবাংলা বা আঞ্চলিক শব্দ বা বাক্য যেটাই ব্যবহার করছেন না কেন, সেখানে লক্ষ করা যায় সাবলীল সতর্কতার ছাপ। শব্দ-বাক্য-ভাষা তার ব্যবহারে আলাদা মাত্রা পায়। যুগের সব বক্তব্যকে ধারণ করেও যে ধারার কবিতা লিখলেন কামাল চৌধুরী তার প্রধান কারণও ‘শব্দ’। তাই পাঠকের কাছে তাঁর কবিতা হয়ে উঠল শব্দময়। কামাল চৌধুরী কবিতায় যখন ‘প্রেক্ষাপট’ নিয়ে মেতে উঠলেন তখন আবার তাঁর কবিতা হয়ে উঠল প্রণিধানযোগ্য এবং প্রেক্ষাপটময় কবিতা।

সারা পৃথিবী আজ শহীদ মিনার

সারাটা পৃথিবী আজ মিশে গেছে প্রভাতফেরিতে

তোমার মৃত্যু নেই হে আমার মাতৃভাষা

                             [মাতৃভাষা]

তাঁর কবিতার রক্তিম উচ্চারণমালা সাহিত্যাঙ্গনে স্বাধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথা বলেছে বারবার, তাও বেশ বলিষ্ঠভাবেই। মুক্তযুদ্ধ-পরবর্তী স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম প্রজন্মের কবিব্যক্তিত্ব হিসেবে পাঠক ও সাহিত্যিক সমাজে কামাল চৌধুরীর বেশ উজ্জ্বল। সবশিল্প মাধ্যমই সময়কে ধারণ করে বিকশিত হয়ে ওঠে। অন্তত সমকালীন বার্তা যদি সময়কে ধারণ করে অনাগত ভবিষ্যতের সামনে নিবেদন না করা যায় এবং নিজস্বতার শুকতারা যদি সেটার ভেতর জ্বলজ্বল না করে তাহলে সেই শিল্পকর্মের দিকে সন্দেহের তির ছোড়া হবেই। শিল্পকর্মের ইতিহাস আর যা-ই-হোক পুনরাবৃত্তির ইতিহাস নয়। একজন শিল্পীকে তাই নিরন্তর পৃথক হওয়ার সাধনায় ব্যাপৃত থাকতে হয়। কেবল এ সাধনাতেই উৎকর্ষপূর্ণ ফলাফল প্রকাশিত হতে পারে। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম প্রজন্মের কবিদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রবল প্রভাব ছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের পুরো বলয়কে আত্মস্থ করাও একটা চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁদের জন্য। সদ্য বিজয় ছিনিয়ে আনা বীর বাঙালিকে আবারো দেখতে হয় নৃশংস এক হত্যাকাণ্ড। সেই হত্যাকাণ্ড কামাল চৌধুরীর মনে গভীরভাবে দাগ কাটে। ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন কবি, হন্তারক-খুনিদের দিকে একের পর এক ছুড়ে দেন প্রতিবাদী কবিতা। বাঙালি জাতির মহান স্থপতির নৃশংস হত্যাকাণ্ড আর কোনো বাঙালি কবিকে এতটা গভীরভাবে উত্তেজিত করেছে বলে আমাদের জানা নেই। সেদিক থেকেও কামাল চৌধুরী পঁচাত্তরোত্তর বাংলা কবিতার উচ্চারিত ভোরের পাখি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তাকে যে গভীরভাবে আঘাত করে, প্রচণ্ড সেই আঘাতই তাঁকে দিয়ে লিখিয়ে নেয় স্লোগানের পরে স্লোগান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে লেখা হয় কামাল চৌধুরীর স্লোগান—‘মুজিব লোকান্তরে, মুজিব বাংলার ঘরে ঘরে’।

ক.

তীব্র প্রতিশোধ আমি ছুড়ে দেই খুনিদের মুখে

দ্যাখো, আগুন জ্বলছে আজ শুদ্ধ সব বাঙালির বুকে

এখন স্বদেশে চাই, শুধু চাই

তোমার সৈনিক কিছু সবল গোলাপ।

যেখানে ঘুমিয়ে আছ, শুয়ে থাক

বাঙালির মহান জনক

তোমার সৌরভ দাও, দাও শুধু প্রিয় কণ্ঠ

শৌর্য আর অমিত সাহস

টুঙ্গিপাড়া গ্রাম থেকে আমাদের গ্রামগুলো

তোমার সাহস নেবে।

                   [টুঙ্গিপাড়া গ্রাম থেকে]

খ.

তোমার মৃত্যুর কথা মনে হলে

তোমার জন্মের কাছে ঋণী হয়ে যাই।

আমি এক ব্যথিত কুমার

তোমার মৃত্যুর নামে আজীবন বেদনা তাপিত থাকি

অন্তঃস্থ হৃদয় জুড়ে নেমে আসে লাল লাল স্রোত

রক্তক্ষরণের মতো তীব্র এক বিক্ষুব্ধ ধারায়

সে বেদনা কান্না হয়

আমি সেই বেদনায় হাত রেখে কাঁদি

জল চোখে একজন ব্যথিত তরুণ হয়ে

তোমার জন্মের কাছে ঋণী হয়ে যাই।

আজীবন শ্রদ্ধাভরে নতজানু থেকে

প্রিয় সেই জন্ম লালন করি ভেতরে ভেতরে।

                                [জন্মদিনের কবিতা]

আমরা লক্ষ করেছি, একাত্তর-পরবর্তীকালে বাংলাদেশে যে কয়েকজন কবি স্বাধিকার-স্বাধীনতার কথা তীব্রভাবে সাহিত্যে এনেছেন তাঁদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে আছেন কামাল চৌধুরী। এ বিষয়ে অগ্রজ কবি মোহাম্মদ রফিক মন্তব্য করেছিলেন, ‘স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জনমানুষের বেদনামথিত উত্থান-পতনের ইতিহাস জানতে হলে আরো কারো কারো সঙ্গে অবশ্যপাঠ্য কামাল চৌধুরীর কবিতা।’ যেকোনো কবির পক্ষে এই এক বিরাট অর্জন।

বাংলাদেশের মানুষের বর্তমান জীবন, জীবনের বহিরাঙ্গন, বহিরাঙ্গনের সংকট, অন্তর্জগতের কথা, প্রকৃতি ও প্রকৃতিলগ্ন জীবনের রূপ-রূপান্তর, সমাজের অন্তর্দেশে বয়ে চলা মানবহৃদয়ের ফল্গুধারা, মানুষের স্খলন-পতন, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, মনস্তাত্ত্বিক-দ্বন্দ্ব সর্বোপরি মানবিক সংকট কামাল চৌধুরীর কবিতায় জীবনশিল্প হয়ে উঠেছে বারবার।

ক্রাচে ভর দিয়ে যে যুবক হাঁটে রাজপথে

খোলাচুল ওড়ে যার খরতপ্ত প্রবল বাতাসে

সে তো সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি আমাদের, পুঙ্গতায় অসহায়!

                                                [ক্রাচের যুবক]

কামাল চৌধুরীর লেখার ভাষা সরল কিন্তু প্রাঞ্জল। চর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি এমন এক শৈলী অর্জন করেছেন যা ভাষা-ব্যবহারের নতুন দিগন্তকে ছুঁয়ে দেওয়ার স্পর্ধা দেখায়। লেখায় যে সমস্ত তুলনা, অলংকার তিনি ব্যবহার করেন তা অত্যন্ত স্বকীয়। গীতিময়তা তাঁর কবিতায় বিশেষ একটা জায়গা দখল করে আছে। তিনি মাত্রাবৃত্তে অনেক কবিতা লিখেছেন। যেমন ‘চা-বাগান’ কবিতায় ছয় ছয় করে এগিয়ে চলল তাঁর মাত্রাবৃত্ত কবিতাটি

তবুও আকাশ নিজের স্বভাবে নামে

টিলার দুপাশে ছড়ানো সবুজ নেশা

কুলিদের গ্রামে রাত নামে সেইভাবে

মহাচোলাইয়ে ক্রোধে ভেসে যায় পেশা।

                                 [চা-বাগান]  

নিচের কবিতায় দেখব পাঁচ মাত্রার ছন্দে ‘করতাল’ কবিতাটি করতালির মতোই বেজে উঠছে। সুরাশ্রয়ী এমন অসংখ্য গীতিকবিতা লিখেছেন কামাল চৌধুরী।

যাদের সাথে আকাশ দেখার কথা

তারা সবাই বিস্মরণের বাড়ি

আমি তাদের পথ হারিয়ে খুঁজি

বলো জীবন কোথায় কড়া নাড়ি?

                             [করতাল]

কামাল চৌধুরী কোলাহলহীন অল্প কিছু কথায় আভাসে ইঙ্গিতে ঢেউয়ে ঢেউয়ে কবিতা বলেন। অধিকাংশ কবিতাই স্বগতোক্তির চালে কবি এক নিশ্বাসে বলেন। তন্বীদেহের এই কবিতাগুলোর গাঁথুনি খুব সহজ কিন্তু ভেতরটা অনেক বিশাল, কারুকার্যময়, রহস্যময়, এবং ভাবনাময়।

ক.

রক্ত দেখে পালিয়ে গেলে

বক্ষপুরে ভয়

ভাবলে না কার রক্ত এটা

স্মৃতিগন্ধময়

দেখলে না কার জন্ম-মৃত্যু জাতীয়তাময়

                             [জাতীয়তাময় জন্ম-মৃত্যু]

খ.

কার ঘরে যাবে তুমি

সে ঘর আমার

কার চোখে চুমু খাবে

সে চোখ আমার

                    [নিজস্ব পরিমণ্ডল]

কামাল চৌধুরী কবিতায় কোনো বাড়তি মেকাপ থাকে না। পার্লার থেকে বেরিয়ে আসা কোনো রমণীর মতো বাড়তি চাকচিক্যও থাকে না কবিতার শরীরে। কবি যেমন, তেমনি বের হয়ে আসে তাঁর কবিতার সৌন্দর্য।

মাইলের পর মাইল পদ্যগুলো সাজিয়ে রেখেছি

প্রতিটি ধূলিকণায় একেকটি অন্ত্যমিল জন্মাবে বলে

         

হয়তো কোনো একদিন কারো দীর্ঘশ্বাসে কুড়িয়ে পাওয়া টাকার পাশে

পাতা কুড়োনিরা পাঠ করবে অন্যমনস্ক অনুপ্রাস

                                                [অন্ত্যমিল]

আমাদের সঞ্চিত অভিজ্ঞতার জগৎই রূপান্তরিত হয় কবিতায়। এখানে কিছুই ফেলনা নয়, যা-কিছু বিক্ষিপ্ত বিচ্ছিন্ন সবই সংগ্রথিত হয়, সুসামঞ্জস্য আকার পায় প্রতিজ্ঞার অনবরত অধ্যবসায়ে। রবীন্দ্রনাথের কথা বলি, ‘যেমন একটান সুতাকে মাঝখানে লইয়া মিছরির কণাগুলো দানা বাঁধিয়ে ওঠে তেমনি আমাদের মনের মধ্যেও কোনো একটা সূত্র অবলম্বন করিতে পারিলেই অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ভাব তাহার চারিদিকে দানা বাঁধিয়া একটা আকৃতি লাভ করিতে চেষ্টা করে।’

শিল্পের কাজই হলো এই সহজ রূপান্তর ঘটানো। যেখানে পদার্থ পরিণত হয় চেতনায়, মাংস পরিণত হয় মানসে, বিষ্ঠা রূপান্তরিত হয় প্রোজ্জ্বল ফুলে। যদি কবির মূল লক্ষ্য থাকে মোচড়ের তুলনায় কবিতাকে আবেগের তীব্রতায় গ্রন্থিত করা তাহলে বলা যায় কামাল চৌধুরী নিঃসন্দেহে সফল। নিচের কবিতায় কবি সেই মোচড়টা দিতে চেয়েছেন।

পেরিয়ে এসেছি সাঁকো। যে জীবন মহাসড়কে উঠে গেছে

সে এখন অনির্দিষ্ট লোকালয়

তার হাত ধরতে ধরতে আমি হারিয়ে ফেলছি চিত্রকল্প

আর যে ছন্দজ্ঞানে আমাদের অশরীরী ক্ষুৎপিপাসায়

টীকাভাষ্য লিখেছিলে ঠোঁটে

সেখানে অরক্ষিত চাঁদে কিছু স্বপ্ন রেখে দিয়ো ফের

 

ফিরে আসবোই আমি। বাঁশপাতার ঋণ শোধবার আগে

ফিরে আসবোই আমি সামান্য কবিতায়

                              [বাঁশপাতাদের ঋণ]

কবিতা তো শুধু একটা একক সৃষ্টি নয় তাঁর মাধ্যমে সৃষ্টি হয় ভাষা, যা অর্থময় এবং তার উপর মানব-ব্যবহারের দাগ লেগে থাকে, যদিও কবির ব্যক্তি প্রয়োজনের দৈন্য কবিতার গায়ে লাগানোর কথা নয়। যেকোনো দৈন্য আসলে সৌন্দর্যের আনন্দে উত্তীর্ণ হওয়ার কথা, যেখানে উত্তীর্ণ হতে গেলে সত্যকে অন্তর্গত করে নিতে হয়। কামাল চৌধুরী তাঁর কবিতায় সত্যকে অন্তর্গত করে নিতে পারেন অক্ষরে অক্ষরে। তাই তাঁর ব্যক্তিসংকট যেন সবার সংকট হয়ে ওঠে কবিতার মধ্যদিয়ে।

যে লাটাই আমাকে উড়িয়ে দিচ্ছে আকাশে

আমাকে ঠেলে দিচ্ছে উন্মুক্ত এক যুদ্ধের দিকে

সেখানে হাজারো বালকের উল্লাসের মধ্যে

আমিও রঙিন মুখোশ

আমিও আকাশ দখলের হোলিখেলা

কর্তিত ঘুড়ির উৎসব

কোন কোন উৎসবের দিনে আমিও অনিশ্চিত এক খোলামাঠ

আমিও পদদলিত লতাগুল্ম

আমিও গোত্রহীন সাদা কাগজের পাখি

পতনের আগে আমিও দেখে নিতে চাই

সুতো ও সম্পর্কে চতুরতা

                   [লাটাই]

প্রত্যেক কবির জীবন এক অবিচ্ছিন্ন সংগ্রাম। সেই সংগ্রাম হয় চিন্তার সঙ্গে ভাষার, ভাষার সঙ্গে ছন্দের, ছন্দের সঙ্গে অর্থের, অর্থের সঙ্গে আভাসের। এই যুদ্ধে যদিও কবিরা জয়ী হন তবু এই এক জয়, তাঁর অন্য জয়কে নিশ্চিত করে না। বরং প্রতিবারই নতুন করে সূত্রপাত করে নতুন কোনো সংগ্রামকে। নতুন কোনো জয়ের নেশা তাকে মত্ত করে তোলে।

এভাবেই বেঁচে আছি—ছিন্নলেখা বাতাসে উড়িয়ে

আগুন বৃষ্টির কাছে জমা রাখি ধূলি-নশ্বরতা

কবিতা হাড়ের মধ্যে রাত জাগে, আমাকে জাগায়

কবিতা আমার ভাষা—আমি তার বাঙালি সন্তান

                                       [কবিতা আমার ভাষা]

এবার আসা যাক তাঁর রোম্যান্টিক কবিতার দিকে। কামাল চৌধুরী মানুষের জীবনের দুঃখ-বেদনার ছবি অঙ্কনে যতটা উৎসাহী, নারীদেহের রূপ বর্ণনায় ততটা উৎসাহী না। তিনি তাঁর রোম্যান্টিক কবিতায় অনিবার্য উপাদান হিসেবে বেছে নিয়েছেন চাঁদ, নদী, ফুল, শৈশবকাতরতা, নস্টালজিয়া, নারীপ্রেম আর যুদ্ধসহ ইত্যাকার বিষয়। এটার অন্য কারণ থাকতে পারে, তবে তাঁর রোম্যান্টিক কবিতাগুলোর আদল সম্পূর্ণ ভিন্নগোছের মনে হয়েছে। প্রচলিত প্রেমের কবিতার বাইরে এর বেড়ে ওঠা। কবিতায় তাঁর এই নব্য রোম্যান্টিকতা আকাঙ্ক্ষার বৈপরীত্যময় মনে হলেও তা ভীষণ ইতিবাচক এক মানস বৈশিষ্ট্য বহন করে।

ক.

চুম্বন ও অশ্রুবিন্দু—উল্লাস ঝাঁপানো স্রোতমুখে

ভেজা শাড়ি লেপ্টে দিলে, এই পদ্য-উন্মাদ কুহকে

আমি কি রাগত তৃষ্ণা? আর্দ্র হাত? বিন্দু বিন্দু কলাবিদ্যা?

কেবল খেলার ছলে খুঁজে নিচ্ছি অচেনা তোমাকে

দেখে নিচ্ছি খুব দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে তোমার বৈভব

অপর্যাপ্ত অবকাশে, দ্বিধাহীন স্নানঘরে,

শরীর রেখার নিচে জীবিত তৃষ্ণায়...

                    [একদিন প্রবল বৃষ্টিতে]

          খ.

          আজ এই সুন্দরের পথে আমাদের নিষ্কাম মিলন ঋতু

          অশ্বত্থের গভীর ছায়ায় আমাদের যুগলবন্ধন

          কুড়িয়ে পেয়েছ তুমি আমাকেই বিরহবিহীন ঘরে

          বাতাস-মুদ্রিত দেহে অলৌকিক নখ-বিলেখনে

          আমাকে পেয়েছে তুমি উদ্যানের বসন্তশয্যায়

         

এখন এখানে শুধু বাউলের ভূমধ্য-কবিতা

          তোমার শোবার ঘরে অপার্থিব পাতার বাসর।

                                      [একটি নিষ্কাম কবিতা]

কামাল চৌধুরীর রোম্যান্টিক কবিতার এমন উচ্চারণ আমাদের আন্দোলিত করে। আমরা দেখি কেমন সাধারণভাবে এক অসাধারণ উপমায় তাঁর মানসপ্রিয়াকে পাঠকের সামনে তুলে ধরেন। তখন আর এই কবিতাটি শুধু প্রেম চেতনায় সীমাবদ্ধ থাকে না, দেহাতীত এই অনুভূতি সীমা ছাড়িয়ে অসীমে প্রবেশ করে।

কামাল চৌধুরীর কবিতা নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও তার শিশুসাহিত্য নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। অথচ শিশুসাহিত্যে তাঁর অসাধারণ সব লেখা রয়েছে। শৈশব থেকেই কামাল চৌধুরীর মানসে অসাধারণত্ব অর্জনের যে প্রয়াস ছিল তা প্রকাশ পায় তাঁর শিশু-কিশোর কবিতাগুলোতে। কৈশোরে দেখা প্রকৃতির অপরূপ শোভা, বাড়িঘর, মানুষের জীবনের নানা রূপ তিনি তাঁর ছড়া-কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন ছবির মতো করে।

ক.

বাদল দিনে বৃষ্টিমুখর

গ্রামের ছবি আঁকি

উঠোন ভরা জল থৈ থৈ

কাদায় মাখামাখি

 

টিনের চালে ঝাঁপিয়ে পড়ে

নূপুর বাজায় কারা

সমস্বরে গান ধরেছে

কোলাব্যাঙের পাড়া

 

হিজল তলে পুকুর হাসে

বৃষ্টি বোনে কাঁথা

পরীরা সব নাইতে আসে

লুকিয়ে দেখে পাতা

                   [বৃষ্টিমুখর]

          খ.

          পাখির ডানায় উড়তে গিয়ে

          খুঁজছে লেখার খাতা

          খাতা তো নেই, চতুর্দিকে

          বন্য সবুজ পাতা।

 

          সেথায় যদি বসত করি

          দোয়াত কলম কই

          আলো হাওয়া সঙ্গে আছে

          কিন্তু কোথায় বই?

 

          বইয়ের পাতা উদাসী বন

          মন যে আমার পাখি

          তোমার জন্য পালক দিয়ে

          স্বপ্ন লিখে রাখি।

 

          হাততালি দেয় সবুজ পাতা

          দোয়েল দিচ্ছে ডাক

          ভেজা চড়ুই তোমার ঠোঁটে

          লেখার খাতা থাকা।

                   [লেখার খাতা]

কামাল চৌধুরীর কিশোর কবিতাগুলো যেন প্রকৃতির জল, বৃষ্টি, মেঘ, পাখি কিংবা আকাশের কবিতা। তাঁর এমন অসংখ্য কবিতা মুহূর্তের মধ্যে কবিতার ঝমঝম বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দেয়। বৃষ্টিতে ভেজা জবজবে পাঠকের হৃদয়ে তখন কবি হয়ে ওঠেন এক অমৃতপিয়াসী নির্মাতা। কিশোর কবিতাগুলো আমাদেরকে শৈশবের কাছে নিয়ে যায়।

যেকোনো কবিই তাঁর কাব্যকাঠামোকে শিল্পে উত্তীর্ণ করার জন্য নানা ধরনের উপাচার বা উপাদানকে বেছে নেন। কবি কামাল চৌধুরী প্রকৃতি এবং মানবজীবনকে বেছে নিয়েছেন সেই উপকরণ হিসেবে। প্রকৃতিকেন্দ্রিক প্রতীক, উপমা বা প্রতিমা ব্যবহারের আধিক্য সত্ত্বেও তা প্রকৃতিতে পড়ে থাকেনি, বরং মানবজীবনের নতুন স্বপ্ন, সুন্দর যন্ত্রণা এবং জাদুবাস্তবতার অন্তঃপুরে নিয়ে গেছেন বারবার। জীবন থেকে নেওয়া কবিতাগুলো আমাদের ছুঁয়ে গেছে।


আমার কন্যা আলোকিত প্রতি ভোরে

আমাকে পাঠাবে স্বপ্নের খুঁটিনাটি

অচেনা বাতাসে দূর প্রবাসের রোদে

তাকে ছায়া দেবে বাংলার কাদামাটি

                             [কন্যার জন্য কবিতা]

কামাল চৌধুরীর কবিতার স্বরক্ষেপণের নানা জীবন্ত কারুকাজে ও বিষয়োপযোগী যথার্থ অবলোকনের টেকসই বয়ানধর্মিতা লক্ষ করে স্তব্ধ হয়ে যেতে হয়। একজন পিতা তাঁর কন্যাকে উদ্দেশ্য করে পৃথিবী বরাবর লিখছেন কবিতাময় চিঠি। যেখানে সে চিঠি হয়ে ওঠে কবিতার চেয়েও অধিক কিছু। সে চিঠি আমাদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। এখানেই একজন কবির সার্থকতা।


মোহসীন, ভাই আমার

খুঁজতে খুঁজতে বহু জীবন যাবে, আমি খুঁজে পাব না তোকে

আমাদের কোনো জন্ম হয়নি, আমাদের নাম-ঠিকানা নেই

সম্পর্কের ভেতরে সমুদ্র, সূর্যাস্ত, লবণ আর অশ্রুবিন্দু

একটা উপকূলের ক্রন্দন মাস্তুলে বাঁধতে পারিনি বলে

দিগন্তের পরপারে রেখে এসেছি তোর অস্পষ্ট অবয়ব

                                      [মোহসীন, ভাই আমার]

যেকোনো মৃত্যুই আমাদের কাছে বেদনার ও শোকের। কবির কলমে যে মর্মস্পর্শী শোকগাথা উঠে এসেছে তা একজন ভাইহারা ভাইয়ের নয়, বরং পৃথিবীর তাবৎ ভাইহারাদের শোকগাথা। তাঁর এই কবিতা প্রতিটি স্বজনহারা মানুষকে অত্যন্ত নির্মোহ সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। এভাবেই কামাল চৌধুরীর কবিতা মুহূর্তে অনুভবের অনুরণন তৈরি করতে পারে। কবির পুলক, আনন্দ-বিষাদগুলো আমাদের সবার অনুভূতি হয়ে কবিতায় প্রকাশ পায়। এরকম বহু জীবনের গল্প কামাল চৌধুরী তাঁর কাব্যের ভাষায় লিখেছেন। কোনো রূপকথা নয়, ভণিতার আঁকিবুকিও নয়, আমাদের এই আলোছায়াময় চেনা জগতের কথামালা উঠে এসেছে কামাল চৌধুরীর কলমে। শব্দধ্যানী রক্তস্রোতী এই কবি আপন স্বাতন্ত্র্য নিয়েই মহীয়ান। পাঠক তাই নিজের গরজেই এই কবিকে খুঁজে নিয়েছেন এবং তাঁকে আবিষ্কার করতেই থাকবেন। কেননা কবিতার যে ভুবনে কামাল চৌধুরী নোঙর করেছেন সেই ভুবনে পূর্বপুরুষের পরম্পরা আছে, আছে নিজস্ব জাতিসত্তা। ঐতিহ্যের টকটকে ফল্গুস্রোত আর প্রকাশের উড্ডীন নতুনত্বই আলোচ্য কবির কবিতাকে একটি ধারায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। শব্দ, বাক্য, অনুভবে, চিত্রকল্পে বাংলা কবিতাকে তিনি স্বাভাবিক সামগ্রিকতায় বেঁধেছেন যেখানে পাঠককে আটকা পড়তেই হবে।

/জেডএস/

সম্পর্কিত

স্মৃতিতে বোশেখী মেলা

স্মৃতিতে বোশেখী মেলা

আমাদের মঙ্গল শোভাযাত্রা

আমাদের মঙ্গল শোভাযাত্রা

বসন্তের লঘু হাওয়া

বসন্তের লঘু হাওয়া

বইমেলায় নভেরা হোসেনের ‘অন্তর্গত করবী’

বইমেলায় নভেরা হোসেনের ‘অন্তর্গত করবী’

অমিয় চক্রবর্তীর কবিতা : বিষয়বিন্যাস

অমিয় চক্রবর্তীর কবিতা : বিষয়বিন্যাস

দ্বিত্ব শুভ্রার কবিতা

দ্বিত্ব শুভ্রার কবিতা

বিদ্যাশ্রমের দিনগুলো

বিদ্যাশ্রমের দিনগুলো

ইশারায় সে ফিরিয়ে দিয়েছে চিল

ইশারায় সে ফিরিয়ে দিয়েছে চিল

সর্বশেষ

স্মৃতিতে বোশেখী মেলা

স্মৃতিতে বোশেখী মেলা

আমাদের মঙ্গল শোভাযাত্রা

আমাদের মঙ্গল শোভাযাত্রা

বসন্তের লঘু হাওয়া

বসন্তের লঘু হাওয়া

বইমেলায় নভেরা হোসেনের ‘অন্তর্গত করবী’

বইমেলায় নভেরা হোসেনের ‘অন্তর্গত করবী’

অমিয় চক্রবর্তীর কবিতা : বিষয়বিন্যাস

অমিয় চক্রবর্তীর কবিতা : বিষয়বিন্যাস

দ্বিত্ব শুভ্রার কবিতা

দ্বিত্ব শুভ্রার কবিতা

বিদ্যাশ্রমের দিনগুলো

বিদ্যাশ্রমের দিনগুলো

ইশারায় সে ফিরিয়ে দিয়েছে চিল

ইশারায় সে ফিরিয়ে দিয়েছে চিল

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.
© 2021 Bangla Tribune