ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় ৮ আসামি মৃত্যুদণ্ডের রায় শোনার পর নিস্তব্ধ ছিলেন। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন ৬ আসামি। রায় ঘোষণার আগে তাদেরকে একজন অন্য জনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। রায়ের আগে তারা হাসাহাসি করলেও পরে তারা নিস্তব্ধ হয়ে যায়। রায় শুনে এজলাসের নিস্তব্ধ দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা।
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের এজলাসে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে উঠানো হয়। এজলাসে আসার পর থেকেই আসামিদের নিশ্চিন্ত দেখা যায়। তারা একে অপরের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তাদের চেহারায় কোনও ধরনের ভয়-ভীতি দেখা যায়িনি। অনেকে আবার নিজদের মধ্যে কথা বলতে বলতে হাসাহাসিও করেছিলেন। শুধু তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলেননি দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলতে দেখা যায়। আদালত কক্ষে কতজন মানুষ উপস্থিত হয়েছেন তা গুনছিলেন। বিচারক আসার আগ পর্যন্ত আসামিরা নিজদের সঙ্গে ও পুলিশের সঙ্গে হাস্যোজ্বলভাবে নানা কথা বলেন।
বিচারক বেলা ১২টা থেকে ৫৩ পাতার রায়ের সারাংশ পড়তে শুরুর পরই আসামিরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা ও হাসাহাসি বন্ধ করে দিয়ে মনোযোগ দিয়ে রায় শুনতে থাকেন। বিচারক যখন আট আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। তখন এজলাসের থাকা ৬ আসামি নিস্তব্ধ হয়ে যান। তাদের মুখের হাসি হারিয়ে যায়। রায় ঘোষণা শেষে প্রিজন ভ্যানে করে আসামিদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। রায় শোনার পর আসামিরা একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। নিশ্চুপে আদালত প্রাঙ্গণ ছাড়ে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, মেজর (বরখাস্তকৃত) সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ, মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আবদুর সবুর সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে স্বাদ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার এবং শেখ আবদুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের। এদের মধ্যে প্রথম দু’জন পলাতক রয়েছেন।
আরও পড়ুন:
প্রত্যক্ষদর্শী নেই তবুও মৃত্যুদণ্ড, রায়ে অসন্তুষ্ট আসামিপক্ষ
দীপন হত্যা মামলায় ৮ আসামির মৃত্যুদণ্ড
রায় শুনে কাঁদলেন দীপনের স্ত্রী রাজিয়া









