আগুনঝরা মার্চ: প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ জয়দেবপুরে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৯ মার্চ ২০২১, ০৯:০০আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২১, ০৯:০০

আজ ১৯ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জয়দেবপুর তথা গাজীপুরের বীর জনতা। সেদিনের যুদ্ধে চারজন শহীদ হন। পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে পঙ্গুত্ব বরণ করেন আরও অনেকে।

এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাজধানী ঢাকা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। দেশজুড়ে স্লোগান ওঠে- ‘জয়দেবপুরের পথ ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। হাজার হাজার মানুষ লাঠি, বর্শা-বল্লম নিয়ে রাজপথে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায়। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সান্ধ্য আইন জারি হয় জয়দেবপুর শহরে।

কী হয়েছিল সেদিন? ঢাকার ব্রিগেড সদর দফতর থেকে নির্দেশ এলো, ১৫ মার্চের মধ্যে রাইফেলগুলো গুলিসহ ব্রিগেড সদর দফতরে জমা দিতে হবে। কিন্তু বাঙালি অফিসার-সৈনিকরা অস্ত্র জমা দিতে রাজি হননি। ওই সময় পাকিস্তানি এক ব্রিগেডিয়ার নিজেই ১৯ মার্চ দুপুরে জয়দেবপুর সেনানিবাসে উপস্থিত হন। বাঙালি সৈন্যদের পাঞ্জাবিরা নিরস্ত্র করতে এসেছে এ খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লে ১০ হাজারের ও বেশি মুক্তিকামী জনতা জড়ো হয় এবং জয়দেবপুর থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় ১৫০টির মতো ব্যারিকেড দেয়। জনতার হাতে ছিল লাঠিসোটা। পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার ব্যারিকেড অপসারণ করার নির্দেশ দেন। জনতা ক্ষোভে ফেটে ওঠে। পাঞ্জাবি ব্রিগেডিয়ারকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় ব্যারিকেড সরানো হবে না। এরপর পাকিস্তানি ওই ব্রিগেডিয়ার সামনে বাঙালি সৈন্য ও পেছনে পাকিস্তানি সৈন্য নিয়ে রওয়ানা হন ঢাকার দিকে। কিন্তু ব্যারিকেডের জন্য এগোতে না পেরে গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেন।

সেইদিন পাকিস্তানি সৈন্যদের গুলিতে জয়দেবপুর বাজারে শহীদ হন কিশোর নিয়ামত ও মনু খলিফা। চান্দনা-চৌরাস্তায় প্রতিরোধকালে হুরমত আলী নামে এক যুবক একজন পাকিস্তানি সৈন্যের রাইফেল কেড়ে নিয়ে গুলি করার চেষ্টা করেন। সে সময় অপর এক পাকিস্তানি সেনার গুলিতে শহীদ হন হুরমত আলী।

বিরতির পর আবার বৈঠক

একদিন বিরতির পর এইদিন সকালে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের মধ্যে তৃতীয় দফা একান্ত বৈঠক হয়। দেড়ঘণ্টা ব্যাপী ওই বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কোনও সহকারী ছিলেন না।

১৯ মার্চ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি ভবন ও বাসভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সরকারি-আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চলছিল কর্মবিরতি।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধুর ডাকে যে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়, তাতে সারা দেশই হয়ে ওঠে অগ্নিগর্ভ। সবার লক্ষ্য স্বাধীনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ মার্চ জয়দেবপুর থেকেই সর্বপ্রথম শুরু হয়েছিল বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ।

/এফএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিমানবন্দরে ডি পলের লাইটার জব্দ, যা করলেন মেসি
বিমানবন্দরে ডি পলের লাইটার জব্দ, যা করলেন মেসি
তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে পরামর্শ সভা
তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে পরামর্শ সভা
সিমোনের কীর্তির দিনে দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে স্পেন
সিমোনের কীর্তির দিনে দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে স্পেন
রাখাইনে সংঘাত, টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির কড়াকড়ি
রাখাইনে সংঘাত, টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির কড়াকড়ি
সর্বাধিক পঠিত
৪৫০ কোটির সাত তারকা রেস্টহাউস নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলো সরকার
৪৫০ কোটির সাত তারকা রেস্টহাউস নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলো সরকার
নিজেকে কারাগারে পাঠাতে ইউএনওর কাছে আবেদন, ৫ মাসের কারাদণ্ড
নিজেকে কারাগারে পাঠাতে ইউএনওর কাছে আবেদন, ৫ মাসের কারাদণ্ড
মন্ত্রিত্ব ছাড়ার একমাস পর এলাকায় গিয়ে যা বললেন দীপেন দেওয়ান
মন্ত্রিত্ব ছাড়ার একমাস পর এলাকায় গিয়ে যা বললেন দীপেন দেওয়ান
এমপি মনির বক্তব্য ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান’ ছাত্রদল সভাপতির
এমপি মনির বক্তব্য ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান’ ছাত্রদল সভাপতির
খামেনির শেষ বিদায়: চার মাস কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো মরদেহ
খামেনির শেষ বিদায়: চার মাস কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো মরদেহ