X
বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

জনতা চায় মারমুখী সংবাদ প্রতিনিধি?

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২১, ১৬:১১

সাহিত্যিক লীনা দিলরুবা বাধ্য হয়ে জিডি করেছেন। দুর্নীতির অভিযোগে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া পি কে হালদারের কথিত বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালের ছবি ছাপতে গিয়ে অনেক পত্রিকা ও চ্যানেল তার ছবি ব্যবহার করে চলেছে। একবার নয়, দু’বার নয়,, বারবার এবং খুব যা তা অনলাইন নয়, একেবারের প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা বা চ্যানেলেও। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান মারা গেছেন সম্প্রতি। তবে টেলিভিশন চ্যানেলের স্ক্রলে এর আগে বেশ কয়েকবার তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে আমরা কতটা অপেশাদার, কতটা দায়িত্বহীন হতে পারি, তার দৃষ্টান্ত এগুলো।

নানা সময় এই আলোচনাগুলো উঠছে। কারণ, এখন সংখ্যায় গণমাধ্যম অনেক, মানে যতটা নয়। দেশের গণমাধ্যম জগতে বিচ্ছুরণ ঘটেছে। একটার পর একটা চ্যানেল আসছে, কোনটা পুরোটাই নিউজ চ্যানেল, কোনটা মিশ্র, কোনটা গান বা খেলার। অজস্র অনলাইন আর শত শত পত্রিকা। এবং পত্রিকা ও টিভি- সবারই আছে আবার অনলাইন সংস্করণ।

মানুষ দেশের সংবাদমাধ্যম থেকে কতটা তথ্য পাচ্ছে, আর কতটা সামাজিক মাধ্যমনির্ভর হয়েছে সে আলোচনা নিয়মিত করতে হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশন করে সমাজে বহুস্বর, অভিমত ও প্রশ্ন জাগানোর যে আশা ছিল, তা আর এখন পূরণ হচ্ছে না। চ্যানেলের পর্দায় ‘ব্রেকিং নিউজ’-এর অবিরাম স্রোত আছে, কিন্তু সত্যিকারের নিউজ আসলে ব্রেক হচ্ছে না।  

এসব অভিযোগ মেনে নিয়ে পুরো পরিস্থিতিকে যেমন দেখতে হবে রাষ্ট্র, গণমাধ্যম ও সমাজের জটিল পরিপ্রেক্ষিতে। দেখতে হবে সমাজের বিরাজমান বাস্তবতা থেকেও। রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে সক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হলো গণমাধ্যম। তথ্য ও যুক্তির বিন্যাসে সমাজের পক্ষে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনই গণমাধ্যমের প্রাথমিক কাজ। কীভাবে সংবাদমাধ্যম তথ্য তুলে ধরছে, তার ওপর নির্ভর করছে জনমানসে রাষ্ট্র সম্পর্কে সৃজিত ধারণা। আবার রাষ্ট্র কীভাবে চলছে, তার ওপর নির্ভর করছে গণমাধ্যমের চেহারা।

স্বাধীনতার পূর্ব এবং পরের সময়টার দিকে দৃষ্টি দিলে দেখি, এই ভূখণ্ডে প্রথম পর্যায়ে সাংবাদিকতা প্রবর্তিত হয়েছে রাজনীতিবিদদের হাতে। রাজনীতির আদর্শ আর উদ্দেশ্যকে জনগণমাধ্যমের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে, রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নিতে রাজনীতিকরা কিংবা তাদের ঘনিষ্ঠরা পত্রিকা বের করেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের ভেতর থেকেই সাংবাদিকতার মৌলিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাংবাদিকরা, মালিকদের অনেকে সাংবাদিকতার নীতিনৈতিকতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে সচেতন হয়েছেন।

পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত দুই একটি পত্রিকা এখনও টিকে আছে। কিন্তু গত তিন দশকে সংবাদমাধ্যমে বড় পুঁজির প্রবেশ ঘটেছে অনেক বেশি করে। করপোরেট নামধারী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ‘মিডিয়া হাউজ’ করতে সক্রিয় হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকার তার পছন্দের লোকদের টেলিভিশনের লাইসেন্স দিয়েছে। নব্বইর দশকে সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের পতনের পর সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশেও পুঁজিতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রভাব পড়েছে গণমাধ্যমে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের প্রচেষ্টাও আমরা দেখতে থাকি গত দুই দশক ধরে।

একটি বিভাজিত সমাজে তথ্য সরবরাহের কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ আজ নিজেরাই রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত, যেমন বিভাজিত অন্য পেশাজীবীরা। এর বাইরের বড় বাস্তবতা হলো, যে শ্রেণির হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা বা পুঁজির মালিকানা, তাদের অনেকের হাতেই গণমাধ্যমের মালিকানা ও কর্তৃত্ব। ফলে আলগা এক আদর্শগত কাঠামো এখানে খুঁজতে হলে এই পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনা করেই করতে হবে।

অনেকেই বলেন, সাংবাদিককুলের ঐতিহাসিক অবস্থান ছিল ঈর্ষণীয়। সমীহ জাগানো বুদ্ধিবৃত্তি ছিল এই জগতে। ন্যায়পরায়ণতা আর ঋজুতা অবলম্বন করে তাঁরা রাজনৈতিক শ্রেণি ও আমজনতার কাছ থেকে শ্রদ্ধা আদায় করতেন। জনহিতকর বিষয়কে সামনে রেখে গণমাধ্যমের পথ চলেছে, যা এখন পারছে না। ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় রাজনৈতিক শ্রেণিও বাধ্য হয় সেই বলিষ্ঠ স্বরকে কদর করতে। এখন সেটা নেই। বলা হচ্ছে, কোনও এক অদৃশ্য শক্তি গণমাধ্যমগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

যারা এমন আফসোসে দিন-রাত পার করছেন, তাদের কথা হয়তো ঠিক। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে ঠিকমতো কাজ করে না, বুদ্ধিবৃত্তিক স্থানগুলো চৌর্যবৃত্তিতে ভরে যায়, রাজনীতি যখন কেবলই হিংসা উৎপাদন করে, প্রশাসনিক স্তরে যখন অনিয়ম আর দুর্নীতি প্রধান কর্ম হয়ে দাঁড়ায়, তখন গণমাধ্যম একা কোন পথে চলবে? সে কোনও বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করে না নিশ্চয়ই।

তবু তাদের প্রত্যাশাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলতে হয়, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের যেসব অনিয়ম আর দুর্নীতির খবর সমাজে আলোচিত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশার যেটুকু চিত্র উন্মোচিত, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের যেটুকু আজ প্রকাশিত, প্রশাসন ও আইনের শাসনের যেটুকু নিয়ে সংশয়, সবই গণমাধ্যম থেকেই পেয়েছে মানুষ।

কিন্তু আত্মতুষ্টির জায়গা নিশ্চয়ই নেই। যে তথ্য মানুষ চায়, যে ভাবে চায় সেটুকু যে সংবাদকর্মীরা দিতে পারছেন না সেটা স্বীকার করতেই হবে। একথা বললে নিশ্চয়ই বাড়িয়ে বলা হবে না যে, সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পুরোটাই ভোগ করছেন সংবাদমাধ্যমের মালিকরা, ভোগ করছেন ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা। পেশাদার সাংবাদিকের জন্য আছে কেবল লড়াই। তাকে কৌশলী হয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে হয় এবং একটা পর্যায়ে তাকে অনেক বেশি সেলফ সেন্সরশিপের অনুশীলন করতে হয়, কিন্তু দিনশেষে মানুষ যা চায়, সাংবাদিকতার নীতির ভেতরে থেকে তা দিতে না পারলে যে সাংবাদিকতা আর বাঁচবে না।  

যে দেশে সমাজের সর্বক্ষেত্রে প্রশ্নহীন আনুগত্যকে দেখা হয় সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হিসেবে, সেই সমাজ প্রত্যাশা করে সাংবাদিকের অমিত সাহস। যে সমাজের মানুষ একজনকে কতল করতে যায় ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে, তার উপাসনালয়ে পর্যন্ত হামলা করে, তারাই আবার মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে চিৎকার করে।

জনজীবনে সংকট বা অনিশ্চয়তা থেকেই মানুষ তার পরিপূরক খোঁজে। তাই মানুষও এখন সামাজিক মাধ্যমকে তাদের তথ্য মাধ্যম হিসেবে দেখছে। কিন্তু সেখানে তথ্য কতটুকু, গুজব কতটুকু তার কোনও পরিমাপক নেই আপাতত। জনতা চায় অদম্য, সফল বা মারমুখী সংবাদ প্রতিনিধি। রাষ্ট্র ও সমাজের যে নয়া সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তার নিরিখে এই আগ্রাসী তথ্য প্রতিনিধির উত্থান হলে সংবাদ মাধ্যমের ধারণা কতটা বদলে যাবে সেটা দেখতে হবে সময় এলে।

লেখক: সাংবাদিক  

 

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

৫০ বছরেও ভাগ্য বদলায়নি বীর মুক্তিযোদ্ধার

৫০ বছরেও ভাগ্য বদলায়নি বীর মুক্তিযোদ্ধার

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

৫০ বছরেও ভাগ্য বদলায়নি বীর মুক্তিযোদ্ধার

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ০৯:৪৭

যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হতে পেরেছে। একসময় দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও ভাগ্য বদলাতে পারেননি রাজশাহীর পবা উপজেলার হুজরিপাড়া ইউনিয়নের শরিষা কুড়ি কলেজপাড়া এলাকার হতদরিদ্র বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান। মাসে সরকারিভাবে পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে পাঁচ শতক জায়গার ওপর টিনের ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন দেশের এই সূর্য সন্তান।

জরাজীর্ণ ঘরে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের বসবাস জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে মিনারুল ইসলাম আলাদা সংসার করছেন। বর্তমানে স্ত্রী ও দুই ছেলে এবং তাদের স্ত্রীসহ ছয় জনের সংসারের খরচ চালাচ্ছেন তিনি। অর্থের অভাবে ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারেননি। ছেলেরা কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত।

দেশ স্বাধীনের ৫০ বছরেও নিজের ভাগ্যের কেন পরিবর্তন হয়নি জানতে চাইলে ৬৫ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন, ‘নিজের কোনও আবাদি জমি ছিল না। বর্তমানেও নেই। অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাই। এতে করে ছেলেমেয়েদের নিয়ে সংসার করে বাড়তি কিছু করতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের প্রথম মেয়াদ থেকে ৩০০ টাকা থেকে এখন ১২ হাজার টাকা করে প্রত্যেক মাসে সরকারি ভাতা পেয়ে আসছি। সোনালী ব্যাংক পবা উপজেলার বায়া শাখায় ভাতা উত্তোলনের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আমার নাম রয়েছে।’

 খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৭ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সাব-সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন আব্দুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার আনুমানিক বয়স ছিল ১৬ বছর। পবা উপজেলার দারুশা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, তখন তরুণ আব্দুর রহমান ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ স্বাধীনের প্রস্তুতি নেন। এরই অংশ হিসেবে প্রথমে ভারতের পানিপিয়া ক্যাম্পে যোগদান করেন। পরে ভারতের শিলিগুড়িতে প্রশিক্ষণের জন্য যান। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষ করে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর পবা থানার দুয়ারি এলাকায় ব্রিজ অপারেশন, তানোর থানায় পাকিস্তানি বাহিনীসহ তার অনুসারী রাজাকার, আলবদর এবং বিহারিদের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। একের পর এক অভিযানে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীনের অংশীদার হন আব্দুর রহমান।

 বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন, ‘বাংলার মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন থেকে যাতে মুক্তি পায় সে জন্য যুদ্ধে গিয়েছিলাম। তখন ভাবিনি দেশ স্বাধীন হলে আমি আর্থিকভাবে লাভবান হবো। দেশ স্বাধীনের পর যে সম্মান পেয়েছি তা অনেক। তবে আমাদের মতো দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন শেখ হাসিনা। আমাদের আগের চেয়ে বহুগুণে সম্মানিত করছেন। সেই সঙ্গে আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন। এতে আমি গর্ববোধ করছি।’

 তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন বেঁচে আছি ততদিন যেন মাথা গোঁজার জন্য ভালোভাবে বসবাসের ঠাঁই পাই। আমি এখন অসুস্থ। তাই চিকিৎসার জন্য সরকারি-বেসরকারিভাবে কেউ সহায়তা করলে অনেক ভালো হতো। যে ভাতা পাই তা দিয়ে সংসার চালিয়ে চিকিৎসা খরচ চালাতে পারি না।’

 

/এএম/

সম্পর্কিত

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

সালাউদ্দিনের স্মৃতিতে

কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলো

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২১, ২৩:০৬

মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে পাক হানাদার বাহিনীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে একদল বীর বাঙালি। আরেকটি দল ছিল, যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ না করলেও মাঠে ফুটবল খেলে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছে। যারা স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল নামেই পরিচিত। ভারতের বিভিন্ন শহরে ফুটবল খেলে জনমত গড়ে অর্থ সংগ্রহ করেছে দলটি। যুদ্ধের সময় জাকারিয়া পিন্টু-কাজী সালাউদ্দিন-নওশেরুজ্জামানদের কম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি। কোনও সময় আধপেটা থাকতে হয়েছে, কখনোবা ঘুমানোর জায়গাও ঠিকমতো জোটেনি!

তারপরও তাদের দমানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন মাতৃভূমির জন্য। আর সেই দলটির সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন কাজী সালাউদ্দিন। মাত্র সাড়ে ১৬ বছর বয়সে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিয়েছিলেন অন্যদের সঙ্গে। স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত দলটির সঙ্গে থেকে বিভিন্ন শহরে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলেছেন। লাল-সবুজ পতাকার জন্য গড়েছেন জনমত।

দেশের জন্য ফুটবল খেলে লড়াই করতে যাচ্ছেন, তাই ধরেই নিয়েছিলেন সামনে বিপদসংকুল রাস্তা অপেক্ষায়মান। আর পরতে পরতে সেই বাধা অতিক্রমও করে গেছেন।

সেই দিনগুলো মনে পড়লে এখনও নস্টালজিক হয়ে পড়েন দেশের ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি কাজী সালাউদ্দিন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিই। পেছনে ফিরে আর তাকাইনি। জানি এই লড়াই-সংগ্রামে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। তারপরও পিছপা হইনি। লক্ষ্য ছিল, যেভাবেই হোক দেশকে স্বাধীন করতে সরাসরি ভূমিকা রাখতে হবে। সেটাই করার চেষ্টা করেছি।’

সাড়ে ৮ মাসব্যাপী ফুটবল খেলে নানান সময় বিভিন্ন ধরনের কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। সালাউদ্দিন সেই স্মৃতি রোমন্থন করলেন এভাবে, ‘আমাদের এমনও দিন গেছে আধপেটা খেয়ে থাকতে হয়েছে। দেখা গেছে খাবার সংকট। তাই আমরা বেশি সময় ধরে অনুশীলন করে গেছি। যেন একবেলা না খেতে হয়। এমন সময় কেটেছে আমাদের একাধিক দিন। তারপরও আমরা ভেঙে পড়িনি।’

খাবারের পাশাপাশি আবাসন সংকটও ছিল তীব্র। একটা বাসার মধ্যে পুরো দল থেকেছে। সেখানেই রান্না-বান্না। বলতে গেলে দুর্বিষহ জীবন কেটেছে। সালাউদ্দিনের ভাষায়, ‘এক বাসাতে যদি ৩০ জন থাকে, ঘুমায়, বাথরুম একটি, তাহলে বুঝে নিন কতটুকু কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। তারপরও আমরা মুখ বুঝে মেনে নিয়েছি। কারণ তো সেই একটাই— দেশকে যে করেই হোক স্বাধীন করতে হবে।’

একপর্যায়ে দেশ স্বাধীন হলো। যে যার মতো দেশে ফিরে এলো। কলকাতা থেকে তখন অন্যদের মতো অনেক কষ্টে ঢাকায় এসেছিলেন সালাউদ্দিন। ধানমন্ডির বাসায় তখন তাকে দেখে অন্যরা চিনতেই পারেনি! সেই সাড়ে ১৬ বছরের তরুণ সালাউদ্দিন এখন সাফ ও বাফুফের সভাপতি হিসেবে এক যুগের বেশি সময় ধরে আছেন। মাঝে স্বাধীনতার পরে তারকা খেলোয়াড় কিংবা কোচ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের প্রথম সুপারস্টার বললে তার নামই সবার আগে চলে আসে।

তবে সেজন্য স্বাধীন দেশকেই সামনে আনছেন সবার আগে, ‘দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আমি আজ এই পর্যন্ত এসেছি। তা না হলে তো আসতে পারতাম না।’

 

 

/টিএ/কেআর/

সম্পর্কিত

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

ভয় নয়, জয়ের উৎসব গণিতের

ভয় নয়, জয়ের উৎসব গণিতের

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ০০:২৫

একটি ট্রফির জন্য দেশের ফুটবলে হাহাকার! সেই ২০০৩ সালে সাফ ফুটবলে ট্রফি জিতেছে বাংলাদেশ, এরপর থেকে ট্রফি যেন ‘সোনার হরিণ’! সাফ কিংবা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ অথবা হালের নেপালে তিন জাতির ফুটবল প্রতিযোগিতা- কোনোটিতেই ট্রফি ছুঁতে পারেনি লাল-সবুজের সেনানিরা। শুধু কী তাই! স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যাবে হাতে গোনা চারটি সাফল্য ফুটবলে বড় অর্জন হিসেবে সঙ্গী।

স্বাধীনতার আগ থেকেই ফুটবল ছিল ভীষণ জনপ্রিয়। স্বাধীন হওয়ার পর ফুটবলে জনপ্রিয়তা যেন নতুন রূপে মাত্রা পায়। ৭০, ৮০ ও ৯০ দশকের ফুটবল যেন ছিল এই দেশের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। কাজী সালাউদ্দিন থেকে শুরু করে চুন্নু-আসলাম-বাদল রায়সহ তারকার অভাব ছিল না। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে একেকজন ছিলেন ভাস্বর। সেই সময় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা কিংবা আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইরান, থাইল্যান্ড কিংবা ভারতের সঙ্গে সমান তালে খেলার চেষ্টা করতো বাংলাদেশ। অনেক সময় সমানে সমান লড়াই হতো। কিন্তু পরিতাপের বিষয় সেই সময় যাদের খেলা দেখতে দর্শকরা মাঠে যেত, ঠিক তারাই কিনা থেকেছেন আন্তর্জাতিক ট্রফিশূন্য! পরবর্তীতে কোচ কিংবা কর্মকর্তা হয়েও অতৃপ্তি ঘোচাতে পারেননি কেউ।

’৮০ দশক থেকে সাফ গেমসের (বর্তমানে এসএ গেমস) পাশাপাশি সাফ ফুটবলের প্রচলন হয়েছে। সাফ তো ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু সে সময় একাধিক প্রতিযোগিতার ফাইনালে খেললেও ট্রফি জেতা আর হয়নি। এছাড়া বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব খেললেও সাফল্য সেভাবে ধরা দেয়নি।

সেই আফসোস এখনও অনেকের মনে বিদ্যমান। তাদের সেই কষ্ট অবশেষে ঘুচিয়েছেন আরেক কিংবদন্তি প্রয়াত মোনেম মুন্নার নেতৃত্বের দল। ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারে প্রথম চার জাতি ফুটবলের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশে ফুটবলে প্রথম কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শিরোপা জয়।

মোনেম মুন্নার নেতৃত্বে একদল বীর সেনানি অসাধারণ খেলে স্বাগিতক মিয়ানমারকে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল। অথচ গ্রুপ পর্বে স্বাগতিক দলটির কাছেই হারতে হয়েছিল!

জার্মান কোচ অটো ফিস্টারের কোচিংয়ে মিয়ানমারে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবলে ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপরের ট্রফিও এসেছে সব বিদেশি কোচের অধীনেই।

এরপর ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডুতে সাফ গেমস ফুটবলে সোনা জিতে সবাইকে চমকে দেন আলফাজ-জুয়েল রানারা। সেখানেও ইরাকি কোচ সামির শাকিরের অবদান।

সেই ধারা অব্যাহত ছিল ২০০৩ সালেও। অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটানের অধীনে প্রথমবারের মতো ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ বলে অভিহিত সাফ ফুটবলের শিরোপা জেতে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ঢাকার মাঠে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে সেই ট্রফি জয়ের পর আর সাফ ফুটবলে সাফল্য আসেনি। শুধু ২০১০ সালে এসএ গেমসে ঢাকার মাঠে এমিলি-ওয়ালিরা সোনা জিতেছিল। বর্তমানে জাতীয় দল অনেক সুযোগ-সুবিধা পেলেও সেভাবে সাফল্য আনতে পারছে না। সাফল্যের ঘর শূন্যই রয়ে গেছে। বরং এই সময়ে হারতে হয়েছে ভুটানের কাছে!

জাতীয় দলের পাশাপাশি আমাদের ক্লাব ফুটবলে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং অন্য মাত্রা যোগ করেছে। এখনও দুই দলের খেলা হলে অনেকেই নস্টালজিক হয়ে পড়েন। যদিও ফুটবলের সেই ক্রেজ আর নেই। মাঠে দর্শক হয় না সেভাবে। তারপরও স্বাধীন বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে দুটি দলের নাম আলাদা করেই লেখা থাকবে। ক্লাব ফুটবলে আবাহনীর পাশাপাশি মোহামেডানও দেশে ও দেশের বাইরে সম্মান কুড়িয়ে এনেছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের হাতে গড়া আবাহনী দেশের ফুটবলে অন্যরকম আবহ তৈরি করেছিল। আইরিশ কোচ উইলিয়াম বিল হার্টের অধীনে প্রথম বাংলাদেশের কোনও ক্লাব আধুনিক ফুটবল খেলতে শুরু করে। এরপর ক্লাবটি ধীরে ধীরে সমর্থকদের মনের কোঠায় জায়গা করে নেয়।

৮০’র দশকের শেষ দিকে ভারতে নাগজি কাপে আবাহনী শিরোপা জিতে ঢাকায় এসেছিল। সেটাই দেশের কোনও ক্লাবের বাইরে প্রথম ট্রফি জয়। দর্শকদের উন্মাদনা তখন ছিল দেখার মতো। এছাড়া বিটিসি কাপ, চার্মস কাপ ও বরদুলই ট্রফি জিতে নিজেদের ট্রফির শোকেস সমৃদ্ধ করেছে তারা। সবশেষ এএফসি কাপে জোনাল সেমিফাইনালে খেলে ইতিহাস গড়েছে আকাশি-নীল জার্সিধারিরা।

অন্যদিকে এশিয়ান কাপ উইনার্স কাপের দ্বিতীয় পর্বে গিয়ে মোহামেডানও চমক দেখায়। যদিও এক যুগের বেশি সময় ধরে সাফল্যবিহীন ক্লাবটি এখনও ধুঁকছে।

ফুটবলের অতীত ইতিহাস বেশ রোমাঞ্চকর হলেও বর্তমানে সেই আভা নেই। কাজী সালাউদ্দিনের যুগে বেঁচে থাকার জোর লড়াই চলছে ফুটবলের!

 

/টিএ/কেআর/

সম্পর্কিত

৫০ বছরেও ভাগ্য বদলায়নি বীর মুক্তিযোদ্ধার

৫০ বছরেও ভাগ্য বদলায়নি বীর মুক্তিযোদ্ধার

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ১০:৫০

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করছে বলেই রূপকল্প-২০২১ নির্ধারণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিককালে আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছরকে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সঙ্গে যুক্ত করেছি। তাই আমাদের সার্বিক পরিকল্পনাটি ২০২০-২১ সালকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। সেই সময়কে কেন্দ্র করে আমাদের যাত্রাপথও চিহ্নিত করেছি।

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের অর্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুয়ায়ী তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে আমাদের বেশ অর্জন রয়েছে। এগুলো নিম্নরূপ:

১. ২০২১ সালের আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশ সুষ্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। 

২. থ্রি-জি মোবাইল প্রযুক্তির পর দেশে ফোর-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার বিস্তৃত হয়েছে। মোবাইল প্রযুক্তিকে আরও সুরক্ষিত করতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে (আঙুলের ছাপ) সিম নিবন্ধিত হয়েছে। শিগগিরই এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপেমন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) চালু করে সিম ও মোবাইল সেট ব্যবস্থাপনা পূর্ণাঙ্গভাবে ডিজিটাল করা হচ্ছে। 

৩. পাঁচ হাজার ৭৩৭টি ডিজিটাল সেন্টার এবং ৮ হাজার ২০০ ডিজিটাল ডাকঘরের মাধ্যমে জনগণকে ছয়শ’র বেশি ধরনের ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হচ্ছে। 

৪. ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ফাইবার অপটিক ক্যাবল সম্প্রসারণ করা হয়েছে। 

৫. প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল, হাওর, বিল, চর, পাহাড়ি, উপকূলীয় ও দ্বীপ এলাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হচ্ছে।

৬. দেশে ১৭ কোটির ওপরে মোবাইল সিম ব্যবহার করা হচ্ছে।  ইন্টারনেট গ্রাহক ১১ কোটিতে পৌঁছেছে।

৭. ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ওয়েব পোর্টাল ‘তথ্য বাতায়ন’ চালু করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে।

৮. সারাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের পাশাপাশি স্মার্টকার্ড প্রদান করা হয়েছে। 

৯. মেশিনরিডেবল পাসপোর্ট চালু করা হয়েছে। এরপর ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে। 

১০. ডিজিটাল অপরাধ দমনে ও ডিজিটাল নিরাপত্তাবিধানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছে। এটির প্রয়োগও করা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি স্থাপিত হয়েছে। সিটিডিআর চালু হয়েছে। সার্ট চালু হয়েছে। ফরেনসিক ল্যাব চালু হয়েছে। 

১১. মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে মহাকাশ বিজ্ঞানের যুগে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 

১২. লার্নিং আর্নিং, শি পাওয়ার, হাইটেক পার্ক, বিসিসি, বিআইটিএম, এলআইসিটি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রশিক্ষণ দিয়ে লাখ লাখ তরুণকে ডিজিটাল যুগের উপযোগী মানবসম্পদে পরিণত করা হয়েছে ও কর্মসংস্থান করা হয়েছে। 

১৩. তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মাত্র ২৬ লাখ ডলারের রফতানি এখন এক বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। ডিজিটাল শিল্প খাতকে কর সহায়তা ও নগদ সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

১৪. দেশে ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন ও রফতানি শুরু হয়েছে। মোবাইল ফোনের বাজারের শতকরা ৮২ ভাগ দেশে উৎপাদিত হয়। মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ রফতানি হয়।

১৫. ডিজিটাল-কমার্স নীতিমালা-২০১৮, জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা-২০১৮ ও জাতীয় টেলিকম নীতিমালা-২০১৮ প্রণীত হয়েছে। মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি গাইডলাইন, সিগনিফিকেন্ট মার্কেট প্লেয়ার গাইডলাইন, ইনফ্রাস্ট্রাকচার গাইডলাইন, কোয়ালিটি অব সার্ভিস গাইডলাইন, আইএসপিএবি গাইডলাইন প্রণীত হয়েছে। টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এ অনুসারে টাওয়ার তৈরি শুরু হয়েছে। 

১৬. ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার চালু হয়েছে। 

১৭. সি-মি-উই-৬ এর সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। প্রকল্পটিও অনুমোদিত হয়েছে। ২০২৪ সালে এটি চালু হবে। 

১৮. ডিজিটাল শিল্প যুগের ৫টি প্রযুক্তির কৌশলপত্র প্রণীত হয়েছে।

১৯. দেশে ৫৮৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু করা হয়েছে। আরও ১২ হাজার ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু হচ্ছে।

২০. ব্যান্ডউইথের দাম ২৮ হাজার টাকা থেকে ২৮৫ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। 

২১. ই-নথিতে সরকার ডিজিটাল পরিচালনার অসাধারণ সক্ষমতা অর্জন করেছে।

বস্তুত এ অর্জনের ছোট বড় ঘটনাগুলো ছোট করে তুলে ধরতেও অনেক লম্বা সময় লেগে যাবে। প্রতি মুহূর্তে সেই তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

৫০ বছরেও ভাগ্য বদলায়নি বীর মুক্তিযোদ্ধার

৫০ বছরেও ভাগ্য বদলায়নি বীর মুক্তিযোদ্ধার

কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলো

কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলো

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ২০:২৭

‘মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে’ বলে মনে করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে বা আমাদের কাছ থেকে ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে। বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সামরিক সরকার আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নকে ছারখার করে দিয়েছে।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উপলক্ষে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মুজাহিদুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকার সুবর্ণজয়ন্তীর উৎসব করতে দিচ্ছে না, পারমিশনও দিচ্ছে না।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ত্রিশ লাখ শহীদের সঙ্গে অবমাননা করা হয়েছে।’

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আমি ৫০ বছরের কথা ভাবি না, আমি মনে করি এখনই আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ফেরত যেতে হবে।’

সেলিম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ চাই আমরা। এটা আওয়ামী লীগ-বিএনপি দিয়ে হবে না। এরা লুটেরা, ধনিক শ্রেণির দল হয়ে গেছে। এর বাইরে যারা সমাজতন্ত্রমুখী চিন্তা করে, বামপন্থী দল তাদের নেতৃত্বে সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেটাই আমাদের কাজ।’

/এসটিএস/এমআর/

সম্পর্কিত

৫০ বছরেও ভাগ্য বদলায়নি বীর মুক্তিযোদ্ধার

৫০ বছরেও ভাগ্য বদলায়নি বীর মুক্তিযোদ্ধার

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

সর্বশেষ

বুস্টার ডোজ নিয়ে ডব্লিউএইচও’র আহ্বান উপেক্ষা ফ্রান্স ও জার্মানির

বুস্টার ডোজ নিয়ে ডব্লিউএইচও’র আহ্বান উপেক্ষা ফ্রান্স ও জার্মানির

রেসিপি : আলুর পাকোড়া

রেসিপি : আলুর পাকোড়া

সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে: মেয়র আতিক

সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে: মেয়র আতিক

কোনও অত্যাচারের পরিণতি ভালো হয় না: নওশাবা

কোনও অত্যাচারের পরিণতি ভালো হয় না: নওশাবা

বিসিবি অ্যাওয়ার্ড নাইট চালু প্রসঙ্গে যা বললেন পাপন

বিসিবি অ্যাওয়ার্ড নাইট চালু প্রসঙ্গে যা বললেন পাপন

কারখানায় নামাজ আদায় ও টুপি পরতে মানা, শ্রমিকদের ‘বিক্ষোভ’

কারখানায় নামাজ আদায় ও টুপি পরতে মানা, শ্রমিকদের ‘বিক্ষোভ’

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে: ইউজিসি

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে: ইউজিসি

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট

শেখ কামালের জন্মদিনে বিসিবিতে মিলাদ ও দোয়া

শেখ কামালের জন্মদিনে বিসিবিতে মিলাদ ও দোয়া

খুলনায় প্রস্তুত ৩০৭ বুথ, টিকা পাবে ৬১৪০০ জন

খুলনায় প্রস্তুত ৩০৭ বুথ, টিকা পাবে ৬১৪০০ জন

ভয়ংকর এলএসডি-আইস: যা ঘটেনি সেটাই দেখেন আসক্তরা

ভয়ংকর এলএসডি-আইস: যা ঘটেনি সেটাই দেখেন আসক্তরা

সোয়া দুই কোটি টাকা ভ্যাট দিলো গুগল

সোয়া দুই কোটি টাকা ভ্যাট দিলো গুগল

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

৫০ বছরেও ভাগ্য বদলায়নি বীর মুক্তিযোদ্ধার

৫০ বছরেও ভাগ্য বদলায়নি বীর মুক্তিযোদ্ধার

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ৫০ দেশ ঘুরবে ‘সুবর্ণযাত্রা’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ৫০ দেশ ঘুরবে ‘সুবর্ণযাত্রা’

উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির পুনরুত্থান

উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির পুনরুত্থান

‘ছাত্র রাজনীতিকে আমি সহশিক্ষা বলব’

‘ছাত্র রাজনীতিকে আমি সহশিক্ষা বলব’

এখন ‘সহমত ভাই’ চর্চা চলে

এখন ‘সহমত ভাই’ চর্চা চলে

© 2021 Bangla Tribune