আগুনে পোড়ানো হলো ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
২৯ মার্চ ২০২১, ২২:২৯আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২১, ২৩:৫৮

আবারও পুড়েছে শুদ্ধ সংগীত চর্চাকেন্দ্র সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন। রবিবার (২৮ মার্চ) হেফাজতের তাণ্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুরাতন জেল রোডের প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। অনেক দুর্লভ নথিপত্রসহ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতিবিজরিত অনেক বাদ্যযন্ত্র পুড়ে যায়। এর আগেও ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটিকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন এবারের ঘটনা ছিল ভয়াবহ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি কক্ষে বেছে বেছে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ছয়টি কক্ষের মধ্যে একটি জাদুঘর, তিনটি ক্লাসরুম, মুক্ত আলোচনার সরোদ মঞ্চ, প্রশাসনিক কক্ষ ও স্টোররুমে থাকা বাদ্যযন্ত্র, চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র সবকিছু ভেঙে তছনছ করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

সঙ্গীতাঙ্গনের নৃত্য প্রশিক্ষক জিয়া আমীন বলেন, সংস্কৃতি ও সংগীতের রাজধানী খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনে বারবার হামলার ঘটনায় মন ভেঙেছে আমাদের। প্রতিবার কেন প্রতিষ্ঠানটিতে বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। আমরা এই ঘটনার বিচার কার কাছে চাইবো। অতীতে বিচার পাইনি, হয়তো এবারো পাবো না। তবে এসব করে মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধির চর্চা স্তব্ধ করা যাবে না।

প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা প্রহরী ও প্রবীন্দ্র দাস বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানটির একটি কক্ষে থাকি। বর্তমানে ঘরগুলো ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আর কিছু রক্ষিত নেই। হরতাল পালনকারীদের ভয়ে কেউ আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেনি বলেও জানান তিনি।

প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক নাট্যব্যক্তিত্ব মঞ্জুরুল আলম বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে থাকা অতি দুর্লভ আড়াইশ' বই, আড়াই হাজার ছবি, দলিলপত্র, আলাউদ্দিন খাঁর লেখা সংগীতের পাণ্ডলিপি, দুর্লভ ছবি, সংগীতের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি হারমোনিয়াম, সেতার, তবলা, বেহালা, খুঞ্জন ও বিখ্যাত বাদ্যযন্ত্র সরোদ ছিল। সব মিলিয়ে অন্তত ৩৫ লাখ টাকার যন্ত্রপাতির ক্ষতি হয়েছে।

আগুনে পোড়ানো হলো ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন তিনি আরও বলেন, এবারের হামলা ছিল অতীতের যেকোনও হামলার চেয়ে বর্বর। যারা মুক্ত চিন্তা ও শুদ্ধ বুদ্ধির সংগীত চর্চা পছন্দ করেন না, তারাই এ হামলা চালিয়েছে।

এদিকে হামলার ঘটনায় মন ভেঙেছে শিল্পী, সংগীত প্রশিক্ষকসহ শিক্ষার্থীদের। নাট্যব্যক্তিত্ব মঞ্জুরুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ২০১৬ সালেও মাদ্রাসাছাত্ররা এখানে আগুন দিয়েছিল। সেসময়ে দুর্বৃত্তরা সবকিছু নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। এবার সুরসম্রাটের স্মৃতিধারক কোনোকিছু আর অবশিষ্ট থাকলো না। তিনি অতীত ও বর্তমান হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন।

এদিকে সোমবার (২৯ মার্চ) দুপুরে সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে হামলার ঘটনায় মামলা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুরাতন জেলরোডে ১৯৫৬ সালে ৫৬ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন’ প্রতিষ্ঠানটি।

 

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী