X
রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮

সেকশনস

এখন মানসম্মত বিদ্যুৎ দেওয়াই আসল কাজ

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২১, ০০:৪৩
মহামারির কারণে জমকালো আয়োজনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান হয়তো হচ্ছে না, তবে বাংলাদেশি হিসেবে ৫০ বছর পেরিয়ে আসায় আমাদের গর্বের ও আনন্দের তিল পরিমাণ কমতি নেই। ৫০ বছরে আমাদের এত অর্জন যে, বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ সুপরিচিত নাম। দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ। এই অর্জন দেশের প্রতিটি মানুষের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। আর এগিয়ে যাওয়ার এই সময়টায় বিশেষ অবদান রেখেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত।
 
১৯৭১ সালের স্বাধীন বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো মাত্র ৫০০ মেগাওয়াট। দেশের সব বড় শহরেই বিদ্যুৎ ছিল না। আবার যে শহরে ছিল, সেখানে কিছু মানুষ বিদ্যুৎ পেতো, কিছু ছিল না পাওয়ার দলে। ৫০ বছরে আমরা শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ দিতে পেরেছি।

৫০ বছর নেহায়েত কম সময় নয়। কিন্তু যদি প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে তাকাই, তবে জানতে পারবো, ভারতের মতো দেশও এখন পর্যন্ত শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারেনি। সুতরাং এ নিয়ে আমরা গর্ব করতেই পারি।

আজ আমরা প্রায় ২১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছি। ক্যাপটিভে আরও ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে। প্রবৃদ্ধি অনেক। কিন্তু এটাই সব নয়। আমাদের দেখতে হবে মূলত চাহিদা কত। বিদ্যুৎকেন্দ্র করে রেখেছি আমরা। সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট উৎপাদনও করতে পারছি।

২০০৫ সাল আমাদের উৎপাদন ছিল ৪৫০০ মেগাওয়াট। ১৫ বছরের অর্জন আরও ১৫ হাজার মেগাওয়াট। নিঃসন্দেহে গত ১৫ বছরে আমরা উৎপাদন ভালো একটি জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছি।

আগে আমরা অনেক কম দামে বিদ্যুৎ পেতাম। তখন প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রকৃত দাম দিতাম না। এখন প্রকৃত দামটা দিতে হচ্ছে। কারণ, আমাদের জ্বালানি আমদানিও করতে হচ্ছে। এ কারণে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। আবার এটাও ঠিক, সরবরাহ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। লোডশেডিং এখন নেই বললেই চলে।

১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে পারছি এখন। আগে ৬০০০ মেগাওয়াট দেওয়াটাই কষ্টের ছিল। তবে এখন মূল কাজ হচ্ছে মানসম্মত বিদ্যুৎ দেওয়া। এটা করতে পারলে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়বে। এতে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে ওগুলোকে গ্রিডে নিয়ে আসা যাবে। মাতারবাড়ি ও পায়রাতে আমরা যে পাওয়ার হাব করতে যাচ্ছি, এটিও এই সময়ের একটি বড় অর্জন।

অপরদিকে জ্বালানি খাতে ২০০০ সাল পর্যন্ত আমাদের সফলতা দারুণ। বিবিয়ানার মতো বড় গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গিয়েছিল এই সময়। কিন্তু ২০০১ সাল থেকে গত ২০ বছরে জ্বালানি ক্ষেত্রে অর্জন তেমন নেই। একটি অনিশ্চয়তার দিকে চলে গেছি। বাধ্য হয়েই আমদানিতে ঝুঁকেছি।

তবে পরিস্থিতি খারাপ নয়। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি আমদানি করতে পারছি সহজে। দামও খুব বেশি নয়।

এখন জ্বালানি খাতের উন্নয়নে চারটি বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করি। প্রথমত, জ্বালানির দক্ষতা বাড়াতে হবে, যাতে আমাদের জ্বালানি কম লাগে। দেশীয় গ্যাসের এক্সপ্লোরেশন বাড়াতে হবে, নিজস্ব গ্যাস ও কয়লার ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং সব দেশের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

এরই মধ্য দিয়ে যদি আঞ্চলিকভাবে বিদ্যুতের আদান-প্রদানের আলোচনাটা এগিয়ে নিতে পারি, সেটাও কাজে আসবে। নেপাল, ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আনার বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিও একটি বড় ঘটনা।

তবে কিছু ঘাটতি আছে। সেগুলো অতিক্রম করতে পারলে আগামী বছরগুলোতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতই পারবে দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে।

পরিচয়: জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, বুয়েটের অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত)।

/এফএএন/এমওএফ/

সম্পর্কিত

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর লোগো ব্যবহারের নির্দেশনা

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর লোগো ব্যবহারের নির্দেশনা

রাজাকার নাকি মুক্তিযোদ্ধা, কী তার পরিচয়?

রাজাকার নাকি মুক্তিযোদ্ধা, কী তার পরিচয়?

সলঙ্গার গণহত্যা আলোচিত ৫০ বছর ধরেই, তবুও হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ

সলঙ্গার গণহত্যা আলোচিত ৫০ বছর ধরেই, তবুও হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ

পূরণ হয়নি রহিমা বেওয়ার একটি বাড়ির স্বপ্ন

স্বাধীনতার ৫০পূরণ হয়নি রহিমা বেওয়ার একটি বাড়ির স্বপ্ন

আদর্শের সমীকরণে রাজনৈতিক লেখচিত্র

আদর্শের সমীকরণে রাজনৈতিক লেখচিত্র

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে  বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে  বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

এসএসসিতে দুবার ফেল করেও বিসিএস ক্যাডার তাইমুর

এসএসসিতে দুবার ফেল করেও বিসিএস ক্যাডার তাইমুর

বিদেশে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন দিবস পালিত

বিদেশে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন দিবস পালিত

৪৭ বছর পর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন যে চার নারী

৪৭ বছর পর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন যে চার নারী

‘এরপর আর কোনও আন্দোলন-সংগ্রাম করতে পারিনি’

‘এরপর আর কোনও আন্দোলন-সংগ্রাম করতে পারিনি’

বদলে যাওয়া জাতি

বদলে যাওয়া জাতি

আমাদের শিক্ষার গতি-প্রকৃতি

আমাদের শিক্ষার গতি-প্রকৃতি

সর্বশেষ

দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রেলের কর্মকর্তা আটক

দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রেলের কর্মকর্তা আটক

বাবা হওয়ার আগে তোমায় বুঝিনি মা...

মা দিবসে তাদের গানবাবা হওয়ার আগে তোমায় বুঝিনি মা...

মাকে মনে পড়ে

মাকে মনে পড়ে

ম্যানসিটিকে শিরোপা উৎসব করতে দিলো না চেলসি

ম্যানসিটিকে শিরোপা উৎসব করতে দিলো না চেলসি

মা দিবসে নতুন স্টিকার এনেছে হোয়াটসঅ্যাপ

মা দিবসে নতুন স্টিকার এনেছে হোয়াটসঅ্যাপ

ভারত বাঁচাতে ওরাও মরিয়া

ভারত বাঁচাতে ওরাও মরিয়া

পূর্ব লন্ডনে লুৎফুরের ‘ইয়েস ক্যাম্পেইন’র বিজয়

পূর্ব লন্ডনে লুৎফুরের ‘ইয়েস ক্যাম্পেইন’র বিজয়

ইফতারিতে চেতনানাশক খাইয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

ইফতারিতে চেতনানাশক খাইয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

অ্যাম্বুলেন্সে রোগী সেজে ফেন্সিডিল পাচার

অ্যাম্বুলেন্সে রোগী সেজে ফেন্সিডিল পাচার

ছাত্রদের মুক্তি দিতে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি

ছাত্রদের মুক্তি দিতে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি

কোয়ালার লেজ

কোয়ালার লেজ

তেত্রিশ মামলায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকার অধিক জরিমানা

তেত্রিশ মামলায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকার অধিক জরিমানা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

রাজাকার নাকি মুক্তিযোদ্ধা, কী তার পরিচয়?

রাজাকার নাকি মুক্তিযোদ্ধা, কী তার পরিচয়?

সলঙ্গার গণহত্যা আলোচিত ৫০ বছর ধরেই, তবুও হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ

সলঙ্গার গণহত্যা আলোচিত ৫০ বছর ধরেই, তবুও হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ

পূরণ হয়নি রহিমা বেওয়ার একটি বাড়ির স্বপ্ন

স্বাধীনতার ৫০পূরণ হয়নি রহিমা বেওয়ার একটি বাড়ির স্বপ্ন

আদর্শের সমীকরণে রাজনৈতিক লেখচিত্র

আদর্শের সমীকরণে রাজনৈতিক লেখচিত্র

এসএসসিতে দুবার ফেল করেও বিসিএস ক্যাডার তাইমুর

এসএসসিতে দুবার ফেল করেও বিসিএস ক্যাডার তাইমুর

৪৭ বছর পর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন যে চার নারী

৪৭ বছর পর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন যে চার নারী

‘এরপর আর কোনও আন্দোলন-সংগ্রাম করতে পারিনি’

‘এরপর আর কোনও আন্দোলন-সংগ্রাম করতে পারিনি’

বদলে যাওয়া জাতি

বদলে যাওয়া জাতি

আমাদের শিক্ষার গতি-প্রকৃতি

আমাদের শিক্ষার গতি-প্রকৃতি

এক নিয়াজির ওপরই দায় চাপায় কমিশন

এক নিয়াজির ওপরই দায় চাপায় কমিশন

© 2021 Bangla Tribune