X
রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮

সেকশনস

স্বাধীনতার ৫০

পূরণ হয়নি রহিমা বেওয়ার একটি বাড়ির স্বপ্ন

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২১, ২০:৪৭

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ পাক বাহিনী ক্যাপ্টেন আরিফের নেতৃত্বে সিরাজগঞ্জ শহর ও পার্শ্ববতী এলাকায় প্রথম প্রবেশ করে দখল করে নেয়। দখলদার বাহিনী এদেশীয় রাজাকারদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গণধর্ষণ, গণহত্যা, নির্যাতন চালিয়ে একের পর এক বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিতে থাকে। এ খবরে আতংকিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোজে ছুটতে থাকে দিক-বিদিক। এই সময় পথিমধ্যে পাক বাহিনীর বিভৎস পাশবিক নির্যাতনের কবলে পড়েছেন অনেক নারী। সমাজ-সংসার আর গ্রহণ না করায় ভেঙেছে তাদের সুখের সংসারও।

দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য যেসব নারীর ত্যাগ অন্যতম তাদের মধ্যে রহিমা বেওয়াও অন্যতম একজন। ৭১’সালের পাকিস্তানি সেনার হাতে নির্যাতনের ভয়াল দুঃসহ স্মৃতির কথা স্মরণ করতে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে যান বার বার, বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরাঙ্গনা রহিমা সেই ভয়াল স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলেন।

সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার চককোবদাসপাড়া এলাকার মৃত রিয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী রহিমা বেওয়া। সবেমাত্র চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে নতুন বিয়ে করা নারী, বয়স তার ১৭ কি ১৮ হবে। তখন রহিমার গর্ভে বাড়ছিল ৫ মাসের সন্তান। হানাদার বাহিনীর সিরাজগঞ্জ দখলের খবর শুনে আর সবার মতো নিরাপদ স্থানে ছুটতে থাকেন রহিমাও। ৭১ সালের ২৮ এপ্রিল একই গ্রামের কয়েকজন রাজাকার হানাদার বাহিনীদের সঙ্গে নিয়ে রহিমাকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানী সেনা ক্যাম্পে। এক সপ্তাহ আটক করে পালাক্রমে চলে গণধর্ষণ। ফিরে আসার পরে স্বামী রিয়াজ উদ্দিনও গ্রহন করেনি তাকে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরঙ্গনা রহিমা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পাশবিক নির্যাতনকালে জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ার পরও তাকে রেহাই দেয়নি নরপিশাচরা। এক সপ্তাহ এই ক্যাম্পে রহিমার পর চলে বর্বোরোচিত পৈশাচিক নির্যাতন। দৈনিক নির্যাতনের শিকার রহিমার গর্ভের ৫ মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। ফিরে আসার পর সমাজ, পরিবার কেউই গ্রহণ করতে চায়নি দেশের জন্য নির্যাতিত এই বীরাঙ্গনাকে।

তিনি রহিমা বলেন, এখনও সেই নির্যাতনের ভয়াল স্মৃতি মন থেকে মুছে ফেলতে পারেনি। সেই দুঃসহ স্মৃতির কথা স্মরণ করে আজও  আঁতকে ওঠেন তিনি, বারবার কেঁদে ওঠে মন ও নয়ন।

আরও বলেন, আমার ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি, স্বাধীনতা ৫০বছর পার হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু সিরাজগঞ্জ কলেজ মাঠে এসে আমাকে বুকে টেনে নিয়ে বলেছিলেন “মা তোমার চাওয়া অনুযায়ী আমি তোমায় একটি বাড়ি করে দিবো।’ এর পরেই দেশের শত্রুরা আমার প্রিয় ছেলে মুজিবকে মেরে ফেলায় স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও এখনও পাইনি সেই বাড়িটি। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে পেয়েছি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধার সনদ। এখন বয়স বেড়েছে তাই শরীরে বেড়েছে নানান রোগ। ভাতার টাকার সিংহভাগ তাই এখন নিজের চিকিৎসা করতেই শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে মেয়ের বাড়িতে খুব কষ্টে জীবন-যাপন করছি কিন্তু সনদে মেয়েকে চাকরি নিয়ে দিলেও ভাতার টাকা মেয়েকে না দেওয়ায় মেয়েটা দেখতে পারে না। ভাতার টাকা নিজের চিকিৎসা করিয়ে যে অল্প টাকা বেঁচে যায় সেটা ছেলের হাতে তুলে দেই সংসারে একটু সহযোগিতা করতে। ছেলেই এখন আমাকে দেখাশোনা করে, ছেলের বউও আমাকে ভালবাসে নিজের মায়ের মতোই।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে আরো বলেন, আমার এখন মৃত্যুর আগে আপনাদের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই চাওয়া, বঙ্গবন্ধু সিরাজগঞ্জে এসে আ্মাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেই অনুযায়ী আমাকে একটি বাড়ি করে দেন। অন্তত যেন স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও নিজের একটি বাড়িতে একদিন থেকেও মরতে পারি।

/এফএএন/

সম্পর্কিত

করোনায় ৯ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু

করোনায় ৯ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু

‘মানবিক কারণে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের চাকরি দিয়েছি’

রাবির সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের দাবি‘মানবিক কারণে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের চাকরি দিয়েছি’

রাবিতে অ্যাডহকে নিয়োগ পাওয়াদের যোগদান স্থগিত

রাবিতে অ্যাডহকে নিয়োগ পাওয়াদের যোগদান স্থগিত

ঝগড়ার জেরে নারী ভিক্ষুককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ঝগড়ার জেরে নারী ভিক্ষুককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ট্রাকচাপায় দুই পথচারী নিহত, আহত চার

ট্রাকচাপায় দুই পথচারী নিহত, আহত চার

পুলিশের বিরুদ্ধে যুবলীগ কর্মীকে হয়রানির অভিযোগ

পুলিশের বিরুদ্ধে যুবলীগ কর্মীকে হয়রানির অভিযোগ

চিকিৎসক ছাড়া চলছে দুপচাঁচিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স!

চিকিৎসক ছাড়া চলছে দুপচাঁচিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স!

৮ দিন পর থেকেই পাড়া যাবে রাজশাহীর আম

৮ দিন পর থেকেই পাড়া যাবে রাজশাহীর আম

ব্রি-৮১ চাষে ধান উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়বে: কৃষিমন্ত্রী

ব্রি-৮১ চাষে ধান উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়বে: কৃষিমন্ত্রী

জানমালের ক্ষতির আশঙ্কায় রাবি উপাচার্যের জামাতার জিডি

জানমালের ক্ষতির আশঙ্কায় রাবি উপাচার্যের জামাতার জিডি

স্বস্তির বৃষ্টিতে ফল-ফসলের উপকার

স্বস্তির বৃষ্টিতে ফল-ফসলের উপকার

সমালোচনা, বিতর্কের মধ্যেই মেয়াদ শেষ রাবি উপাচার্যের

সমালোচনা, বিতর্কের মধ্যেই মেয়াদ শেষ রাবি উপাচার্যের

সর্বশেষ

দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রেলের কর্মকর্তা আটক

দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রেলের কর্মকর্তা আটক

বাবা হওয়ার আগে তোমায় বুঝিনি মা...

মা দিবসে তাদের গানবাবা হওয়ার আগে তোমায় বুঝিনি মা...

মাকে মনে পড়ে

মাকে মনে পড়ে

ম্যানসিটিকে শিরোপা উৎসব করতে দিলো না চেলসি

ম্যানসিটিকে শিরোপা উৎসব করতে দিলো না চেলসি

মা দিবসে নতুন স্টিকার এনেছে হোয়াটসঅ্যাপ

মা দিবসে নতুন স্টিকার এনেছে হোয়াটসঅ্যাপ

ভারত বাঁচাতে ওরাও মরিয়া

ভারত বাঁচাতে ওরাও মরিয়া

পূর্ব লন্ডনে লুৎফুরের ‘ইয়েস ক্যাম্পেইন’র বিজয়

পূর্ব লন্ডনে লুৎফুরের ‘ইয়েস ক্যাম্পেইন’র বিজয়

ইফতারিতে চেতনানাশক খাইয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

ইফতারিতে চেতনানাশক খাইয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

অ্যাম্বুলেন্সে রোগী সেজে ফেন্সিডিল পাচার

অ্যাম্বুলেন্সে রোগী সেজে ফেন্সিডিল পাচার

ছাত্রদের মুক্তি দিতে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি

ছাত্রদের মুক্তি দিতে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি

কোয়ালার লেজ

কোয়ালার লেজ

তেত্রিশ মামলায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকার অধিক জরিমানা

তেত্রিশ মামলায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকার অধিক জরিমানা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

রাজাকার নাকি মুক্তিযোদ্ধা, কী তার পরিচয়?

রাজাকার নাকি মুক্তিযোদ্ধা, কী তার পরিচয়?

সলঙ্গার গণহত্যা আলোচিত ৫০ বছর ধরেই, তবুও হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ

সলঙ্গার গণহত্যা আলোচিত ৫০ বছর ধরেই, তবুও হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ

আদর্শের সমীকরণে রাজনৈতিক লেখচিত্র

আদর্শের সমীকরণে রাজনৈতিক লেখচিত্র

এসএসসিতে দুবার ফেল করেও বিসিএস ক্যাডার তাইমুর

এসএসসিতে দুবার ফেল করেও বিসিএস ক্যাডার তাইমুর

৪৭ বছর পর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন যে চার নারী

৪৭ বছর পর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন যে চার নারী

এখন মানসম্মত বিদ্যুৎ দেওয়াই আসল কাজ

এখন মানসম্মত বিদ্যুৎ দেওয়াই আসল কাজ

‘এরপর আর কোনও আন্দোলন-সংগ্রাম করতে পারিনি’

‘এরপর আর কোনও আন্দোলন-সংগ্রাম করতে পারিনি’

© 2021 Bangla Tribune