X
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

হেফাজতের ৩ আসামির জামিন স্থগিত

আপডেট : ০৯ মে ২০২১, ১৪:২৯

হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় গ্রেফতার তিন জনকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে রবিবার (৯ মে) চেম্বার বিচরপতি ওবায়দুল হাসানের আদালত এ স্থগিতাদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।  

এর আগে ২৮ মার্চ সারাদেশে হেফাজত ইসলামের ডাকা হরতালে নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড সানারপাড় ও চিটাগাং রোড সড়কে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর চালানো হয়। ওই ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১৩২ জনের নাম উল্লেখ করে আটটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে গত ৫ মে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে ফারুক হোসেন (এক মামলায়), মিজমিজি পশ্চিমপাড়ার হাজি ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. ইকবাল হোসেন এবং নেত্রকোনার দূর্গাপূর থানার মাও গ্রামের মাইয়ুব আলীর ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেনকে দুই মামলায় জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে পৃথক ৩টি আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

রাষ্ট্রপক্ষের সে সব আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের জামিনাদেশ স্থগিতের আদেশ দেন। 

 

/বিআই/আইএ/

সম্পর্কিত

আবারও ইয়াবাসহ সৌদি আরবগামী যাত্রী আটক

আবারও ইয়াবাসহ সৌদি আরবগামী যাত্রী আটক

লাখে ৬ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার প্রলোভনে কোটি টাকা জামানত, আরেকজন গ্রেফতার

লাখে ৬ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার প্রলোভনে কোটি টাকা জামানত, আরেকজন গ্রেফতার

আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগে নীতিমালা প্রণয়ন নিয়ে হাইকোর্টের রুল

আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগে নীতিমালা প্রণয়ন নিয়ে হাইকোর্টের রুল

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে আয়কর আদায়ে বিরত থাকার নির্দেশ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে আয়কর আদায়ে বিরত থাকার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস আজ

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:২৮

শান্তিকে টেকসই রাখতে বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যে আজ (২১ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার পৃথিবীর দেশে দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস। 

জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো ১৯৮২ সাল থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করছে, যার ধারাবাহিকতায় কোভিডকালে পুরো বিশ্ব সমন্বিতভাবে করোনা থেকে মানুষকে বাঁচিয়ে তোলার ব্রত নিয়েছে। এ বছরের শান্তি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘রিকভারিং বেটার ফর ইকুইট্যাবল অ্যান্ড সাসটেইন্যাবল ওয়ার্ল্ড’। 

একটি যুদ্ধবিহীন বিশ্ব প্রতিষ্ঠার (যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই স্লোগানে) লক্ষ্যে ১৯৮১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত নম্বর ৩৬/৬৭ প্রস্তাব অনুসারে প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ‘তৃতীয় মঙ্গলবার’ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

/ইউআই/এনএইচ/

সম্পর্কিত

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ম্যাজিক ফিগার: আইজিপি

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ম্যাজিক ফিগার: আইজিপি

করোনায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই ডায়াবেটিস আক্রান্ত, সতর্কতায় করণীয়

করোনায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই ডায়াবেটিস আক্রান্ত, সতর্কতায় করণীয়

নারায়ণগঞ্জে ১৮ কনস্টেবল নিয়োগে জালিয়াতি হয়েছিল যেভাবে

নারায়ণগঞ্জে ১৮ কনস্টেবল নিয়োগে জালিয়াতি হয়েছিল যেভাবে

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় দেড় কোটি মানুষ

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় দেড় কোটি মানুষ

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ম্যাজিক ফিগার: আইজিপি

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:০৮

বাঘা বাঘা অর্থনীতিবিদদের মুখে ছাই দিয়ে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ম্যাজিক ফিগারের দেশ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক ডক্টর বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, করোনার কারণে যেখানে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের অর্থনীতি ধসে পড়েছে সেখানে বাংলাদেশের জিডিপি ৬ ভাগ। করোনা না আসলে জিডিপির হার আরও বাড়তো। আজ দেশ খাদ্যে উদ্বৃত্ত।

বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন ও সাউথ এশিয়ান চেস কাউন্সিলের সভাপতি ড. বেনজীর আহমেদ সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ড মাস্টার্স দাবা প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনার বাংলা গড়ার। কিন্তু তাঁকে মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর মাঝে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি দেখছি। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ম্যাজিক। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে দেশকে একটি অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন। এক সময় প্যারিস কনসোর্টিয়ামে ৭২ মিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য আমাদেরকে দেন-দরবার করতে হয়েছে। এখন বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দিয়েছে ২০০ মিলিয়ন ডলার, সুদানকে দিয়েছে আরও ২০০ মিলিয়ন ডলার।  

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে তিনটি বড় খেলার কথা বললে দাবার কথা বলতে হয়। আগামী বছর থেকে নতুন এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজতে স্কুল পর্যায়ে দাবা প্রতিযোগিতা শুরু করবো। আমরা প্রথমবারের মতো জেলা পর্যায়ে দাবা লীগের আয়োজন করতে পেরেছি। এ বছর আরও তিন থেকে চারটি চ্যাম্পিয়নশিপের ব্যবস্থা করেছি। অক্টোবরে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আরও বড় পরিসরে একটি দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে চাই। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফত। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম। এ সময় ফেডারেশনের সদস্য এবং দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন।

/আরটি/এনএইচ/

সম্পর্কিত

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস আজ

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস আজ

করোনায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই ডায়াবেটিস আক্রান্ত, সতর্কতায় করণীয়

করোনায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই ডায়াবেটিস আক্রান্ত, সতর্কতায় করণীয়

নারায়ণগঞ্জে ১৮ কনস্টেবল নিয়োগে জালিয়াতি হয়েছিল যেভাবে

নারায়ণগঞ্জে ১৮ কনস্টেবল নিয়োগে জালিয়াতি হয়েছিল যেভাবে

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় দেড় কোটি মানুষ

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় দেড় কোটি মানুষ

করোনায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই ডায়াবেটিস আক্রান্ত, সতর্কতায় করণীয়

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:১৫

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে যারা মারা গেছেন, তাদের বেশিরভাগ আগে থেকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। এক সপ্তাহে মৃতদের ৬৪ দশমিক ৪৭ শতাংশই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত  ছিল। এরপর রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি-জনিত রোগ, বক্ষব্যাধি, হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগের আক্রান্তরা। 

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতর করোনা বিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে সপ্তাহভিত্তিক বিশ্লেষণে এ তথ্য জানিয়েছে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য মতে, গত সপ্তাহে (১৩ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৯৪ জন। তাদের মধ্যে কোমর্বিডিটি বা আগে থেকেই অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৫২ জন। শতকরা হিসাবে যা ৫১ দশমিক ৭০ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত এক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন ৬৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, উচ্চ রক্ত চাপে আক্রান্ত ৬৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, কিডনিজনিতে রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ, বক্ষব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ, হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ, থাইরয়েডজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন চার দশমিক ৬১ শতাংশ, স্ট্রোকে আক্রান্ত ছিলেন ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ, লিভারজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ, রক্তজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ, নিউরোলজিক্যাল রোগে আক্রান্ত ছিলেন ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ, বাতজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ।

ডা. তানজিনা হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ। সারাজীবনই আমাদেরকে এরসঙ্গে জীবনযাপন করতে হয়। এই রোগের নানারকম জটিলতা আছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তাহলে ধীরে ধীরে কিডনি, হার্ট, চোখ, পায়ের নার্ভ, রক্তনালী এসব কিছুতেই প্রভাব পড়ে। সেই কারণে সবসময় এটিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হয়।

যে কারণে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি

ডা. তানজিনার মতে, অনেকেই কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা বুঝতে পারে না। তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন সুগার লেভেল ৯-১০ এর মধ্যে থাকলে স্বাভাবিক। কিন্তু খালি পেটে ৬ এবং খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর ৮ এর নিচে থাকলে আমরা সেটাকে নিয়ন্ত্রণে থাকা বলি। এরকমই যদি সবসময় কারও থাকে তাহলে অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতো সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে। অন্যথায় কয়েকবছর পর নানারকম জটিলতা দেখা দেবে।

দ্বিতীয়ত, ডায়াবেটিস মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। যার কারণে এসব রোগীদের বারবার নানা ধরনের সংক্রমণ দেখা দেয়। আমরা করোনাকালীন সময়ে দেখলাম ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবস্থা বেশি খারাপ হলো। একইসঙ্গে যে কোনও ধরনের সংক্রমণ কমাতে হলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সেটি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে নানা ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেকসময় পায়ের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে তা কেটে ফেলারও প্রয়োজন হয়।

তৃতীয়ত, লক্ষ্য রাখতে হবে গর্ভবতী মায়েদের দিকে। কারণ এতে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সন্তান জন্মদানের সময় নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এখন বাংলাদেশে অনেক বেশি। এটি আলাদা ধরনের ডায়াবেটিস যেটি শুধুমাত্র গর্ভধারণের সময় দেখা দেয়। এটি নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে মা ও শিশু দুজনেরই নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে করণীয়

ডা. তানজিনা জানান, ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে ৩টি ডি বলা হয়- ডায়েট, ড্রাগ ও ডিসিপ্লিন। তিনি বলেন, ডায়েট অর্থ হচ্ছে এই না যে না খেয়ে থাকতে হবে। এটা মানুষের একটি ভুল ধারণা। এর অর্থ হচ্ছে সঠিক খাবার সঠিক পরিমাণে খাবার সঠিক সময়ে খাওয়া। দুধ, ডিম, মাছ , মাংস সবই খেতে পারবেন কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে খেতে হবে। আরেকটি হচ্ছে শারীরিক ব্যায়াম। মানুষ যতবেশি হাঁটাহাঁটি বা যে কোনও ধরনের ব্যায়াম করেন ইনসুলিন শরীরে তত ভালো কাজ করে। তখন দেখা যায় ওষুধের ডোজ অনেক কম লাগে।

এ ছাড়া ওষুধ বা ড্রাগ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে। ওষুধ গ্রহণও মনিটরিংয়ের মধ্যে থাকতে হবে। প্রতি তিন থেকে ছয় মাস পর পর চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, ওষুধের ডোজ কিংবা ইনসুলিনের মাত্রা চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারণ করা। তাছাড়া রক্তচাপ, চোখ, কিডনি এগুলো মনিটরিংয়ের মধ্যে থাকা।

ডা. তানজিনা বলেন, আমরা এখন পরামর্শ দিই; বাসায় যেন রোগীরা একটি গ্লুকোমিটার রাখেন। এটি দিয়ে মাঝে মাঝে ব্লাডসুগার পরীক্ষা করবেন। তাহলে নিজের সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে একদিন কিংবা দু’সপ্তাহে খালি পেটে এবং খাবারের দুই ঘণ্টা পর একবার নিজের রক্তের পরীক্ষা নিজেরই করা দরকার। এ ছাড়া যখনই অসুস্থ বোধ হবে তখনই সুগার মেপে দেখা দরকার। কারণ অনেক সময় সুগার কমে যায় কিংবা বেড়ে যায়; দুই ক্ষেত্রেই অসুস্থ বোধ হয়। অসুস্থ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

/এসও/এনএইচ/         

সম্পর্কিত

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় দেড় কোটি মানুষ

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় দেড় কোটি মানুষ

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ২৭৫ জন হাসপাতালে ভর্তি

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ২৭৫ জন হাসপাতালে ভর্তি

সাড়ে ৫ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

সাড়ে ৫ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

শিশুদের টিকা কার্যক্রমও শুরু হবে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

শিশুদের টিকা কার্যক্রমও শুরু হবে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

নারায়ণগঞ্জে ১৮ কনস্টেবল নিয়োগে জালিয়াতি হয়েছিল যেভাবে

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:১২

পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৪ মে। কেউ কেউ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির এক মাস পর, কেউ কেউ দুই মাস পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একখণ্ড জমি কিনেছেন। একজন-দুজন নয়, একই দাগ-খতিয়ানে একখণ্ড জমি কিনেছেন একাধিক ব্যক্তি। এদের কেউই ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন, তবু জেলা কোটায় নিয়োগ পেয়েছিলেন কনস্টেবল হিসেবে। পুলিশ সদর দফতরের অনুসন্ধানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের এই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে সেই ১৮ কনস্টেবলের। কিন্তু জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের এখনও কিছুই হয়নি। তারা সবাই আছেন বহাল তবিয়তে। নিয়োগে ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব পালনকারী ছয় উপ-পরিদর্শকদের (এসআই) বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ সদর দফতর।

সম্প্রতি এই জালিয়াতির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ-টিআইবি এক বিবৃতিতে ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগের ঘটনায় উচ্চপদস্থ সবার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৪ মে পুলিশ সদর দফতর ৯ হাজার ৬৮০ জন ট্রেইনি পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়। জেলা কোটা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের নতুন পদের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪৭টি, আর বিশেষ কোটায় অপূরণীয় পদ সংখ্যা ছিল ৩১০টি। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে ৩৫৭ জন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের কনস্টেবল নিয়োগে সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় জালিয়াতির তথ্য জানার পর পুলিশ সদর দফতর অনুসন্ধান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জে ১৮ জন কনস্টেবল নিয়োগে জালিয়াতির বিষয়টি ওঠে আসে পুলিশ সদর দফতরের অনুসন্ধানে। ওই ১৮ কনস্টেবল হলেন, হুমায়ূন কবীর, আকরাম হোসেন, রিপন হোসেন, সজীব, সবুজ হোসেন, রাসেল, সোহেল রানা, মানিক মিয়া, সাদরুল, রাসেল শেখ, রিপন সরকার, আপিরুল ইসলাম, তোফায়েল খান, সুমন আহম্মেদ, রায়হান আলী, কবির মিয়া, ফিরোজ আলী ও সুজন আহম্মেদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৮ জন কনস্টেবলের বেশিরভাগেরই স্থায়ী ঠিকানা সিরাজগঞ্জ জেলায়। এছাড়া কয়েকজন বগুড়া, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, জামালপুরসহ অন্যান্য জেলারও স্থায়ী বাসিন্দা। অন্য জেলার বাসিন্দা হওয়ার পরও অবৈধ ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে জেলা কোটায় নিয়োগ পেয়েছিল তারা। আবেদনের আগে তারা সবাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন পুটিনার বাগলা, আড়াইহাজার থানাধীন সাহেববাজারের পূর্বকান্দি, ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী এলাকার মধ্যনগর এলাকায় এক খণ্ড করে জমি কেনেন। পরে তদন্ত করে ১৮ কনস্টেবল নিয়োগের বিষয়ে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর তাদের সবাইকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

জালিয়াতি হয়েছিল যেভাবে

বরখাস্ত হওয়া ১৮ পুলিশ কনস্টেবলের একজন স্বজন জানান, তারা মোট ১৪ লাখ টাকায় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে নিয়োগের জন্য চুক্তি করেছিলেন। চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল নিজেদের টাকায় তাদের নারায়ণগঞ্জের কোথাও এক খণ্ড জমি কিনতে হবে। একজন দালালের মাধ্যমে এই চুক্তি করেন তারা। সেই দালালের সঙ্গে জেলার ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তিনিই নিয়োগের পুরো বিষয়টি ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

পুলিশ সদর দফতরের অনুসন্ধান বলছে, ওই ১৮ জন কনস্টেবলের মধ্যে রিপন হোসেন, সজিব, সবুজ হোসেন, রাসেল ও কবির মিয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ২৩ দিন পর ২০১৯ সালের ১৬ জুন রূপগঞ্জের বাগলায় একসঙ্গে একখণ্ড জমি কেনেন। যার সাবকবলা দলিল নং-৭৫০৮/১৯। এছাড়া হুমায়ুন কবির, রাসেল শেখ ও সুজন আহম্মেদ একই তারিখে একসঙ্গে একখণ্ড জমি কেনেন। যার দলিল নম্বর-৭৪৯১/১৯। বরখাস্তকৃত কনস্টেবল আকরাম হোসেন, রিপন সরকার ও ফিরোজ আলীর একসঙ্গে কেনা জমির দলিল নম্বর-৭৪৯২/১৯।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরখাস্তকৃত কনস্টেবল সোহেল রানা ও সাদরুলের স্থায়ী ঠিকানার সপক্ষে কোনও প্রমাণই ছিল না। মানিক মিয়া নামে আরেকজন কনস্টেবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ২৬ দিন পর ফতুল্লার মধ্যনগরে একখণ্ড জমি কেনেন। যার দলিল নম্বর-৫৭২৩/১৯। আপিরুল ইসলাম ও রায়হান আলী একসঙ্গে একখণ্ড জমি কেনেন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক মাস পর। তাদের দুজনের জমির দলিল নম্বর-৭৯৯৫/১৯। তোফায়েল খান রূপগঞ্জের বাগলায় জমি কেনেন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৬১ দিন পর। দলিল নম্বর-৯৪৭৪/১৯। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৬৫ দিন পর সুমন আহম্মেদ জমি কেনেন। তার দলিল নম্বর-৯৪৮৮/১৯।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়োগের জন্য জমি কেনার পুরো বিষয়টি পরিকল্পিত। দালাল ধরে ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগের জন্য প্রার্থীরা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, ফতুল্লা ও আড়াইহাজার গিয়ে জমি কিনেছেন। জমি কেনার পুরো বিষয়টি দেখভাল করেছে দালাল চক্রটি।

নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ঊর্ধ্বতনরা বহাল তবিয়তে

আলোচিত ১৮ কনস্টেবল নিয়োগে জালিয়াতির বিষয়ে স্থায়ী ঠিকানা ভেরিফিকেশনে অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও ফতুল্লা থানার তৎকালীন ৬ উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে পুলিশ সদর দফতর। অভিযুক্ত ৬ এসআই হলেন, ফরিদ উদ্দিন, শাজাহান খান, শামীম আল মামুন, খায়রুল ইসলাম, বিজয় কৃষ্ণ কর্মকার ও আরিফুর রহমান। তারা ওই ১৮ জন পুলিশ কনস্টেবলের নিয়োগের জন্য স্থায়ী ঠিকানা যাচাই-বাছাই করেছেন। তারা প্রতিবেদনে প্রার্থীদের পূর্ববর্তী স্থায়ী ঠিকানার কথা উল্লেখ করলেও সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে তা জেলা ডিএসবি কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন।

জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানার তৎকালীন এসআই (বর্তমানে নরসিংদীর মাধবদী থানায় কর্মরত) ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রার্থীদের সবকিছু উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছিলাম। প্রার্থীরা রূপগঞ্জে যে জমি কিনেছে সেই তথ্যের সঙ্গে তাদের পূর্বের স্থায়ী ঠিকানার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করি। কিন্তু কনস্টেবলদের চাকরির নিয়োগকর্তা হলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নিয়োগের বিষয়টি তারাই দেখভাল করেছেন। এখানে আমাদের করার কিছুই ছিল না। আমাদের বিরুদ্ধে অহেতুক বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।’

একই কথা বলেছেন রূপগঞ্জ থানার তৎকালীন এসআই শাজাহান খান (বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত)। তিনি বলেন, ‘আমি যে কয়জনের প্রতিবেদন দিয়েছি, তাদের প্রত্যেকের আগের স্থায়ী ঠিকানার বিষয়টি উল্লেখ করেছি। আমরা তো নিয়োগের সুপারিশ করা বা বাতিল করার বিষয়টি উল্লেখ করতে পারি না। এটি করেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আমাদের বিরুদ্ধে অকারণে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যেকোনও প্রার্থীর নিয়োগের জন্য স্থায়ী ঠিকানা যাচাই-বাছাই প্রতিবেদনে সুপারিশ করেন থানার অফিসার ইনচার্জরা (ওসি)। ওই ১৮ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের জন্য রূপগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি মাহমুদুল হাসান, আড়াইহাজার থানার তৎকালীন ওসি নজরুল ইসলাম ও ফতুল্লা থানার তৎকালীন ওসি আসলাম হোসেন ভি-রোল প্রতিবেদনের ১৯ নম্বর কলামে নিয়োগযোগ্য বলে মতামত দেন। জেলা পুলিশ সুপারের কাছে পুরো প্রতিবেদনে নিয়োগযোগ্য বলে মতামত দিয়েছিলেন তৎকালীন জেলা ডিআইও-১ মোমিনুল ইসলামও। তবে পুলিশের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদমর্যাদার এই চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনও বিভাগীয় মামলা হয়নি। পুলিশ সদর দফতর থেকে তাদের কাছে ব্যাখ্যা তলব করে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠির উত্তরও দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

যোগাযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি (বর্তমানে ডিএমপি সদর দফতরের অপরাধ বিভাগে কর্মরত) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমরা শুধু প্রতিবেদন অগ্রগামী করেছিলাম। প্রতিবেদনে তাদের আগের স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করা ছিল। জমি কেনার দলিল এবং কেনার তারিখও উল্লেখ করা ছিল। আমরা ছাড়াও বিষয়টি জেলা ডিএসবিও প্রকাশ্যে ও গোপনে অনুসন্ধান করেছে। এখানে নিয়োগের বিষয়ে আমাদের কোনও হাত ছিল না।’

এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা বিষয়টি এসপি মহোদয়কে মৌখিকভাবে বলেছি। এসপি মহোদয় বলেছেন, যার যতটুকু জায়গা আছে এটুকু উল্লেখ করে দাও। আমরা সেভাবেই করেছি।’

নাম প্রকাশে পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা জানান, চলতি বছর থেকে কনস্টেবল নিয়োগের পুরো বিষয়টি দেখভাল করবে পুলিশ সদর দফতর। আগে এই নিয়োগের পুরো ক্ষমতা ছিল জেলার পুলিশ সুপারের হাতে। নিয়োগের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই বা সকল কার্যক্রম জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশেই হতো। এক্ষেত্রে পুরো দায়ভার আসে পুলিশ সুপারের ওপর। কারণ, প্রশাসনে মৌখিক নির্দেশনাও অনেক সময় পালন করতে হয় অধস্তনদের। তা না হলে সেই অধস্তনের সেখানে চাকরি করাটা কঠিন হয়ে পড়ে।

পুলিশ সদর দফতরের অনুসন্ধানে এই জালিয়াতির বিষয়ে অনুসন্ধানের পর ৬ জন এসআই ও ৪ জন ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও ঊর্ধ্বতন কোনও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে অনুসন্ধানের বিস্তারিত বর্ণনায় প্রত্যেক কনস্টেবল নিয়োগে ভি-রোল যাচাই-বাছাই প্রতিবেদনে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও জেলা পুলিশ সুপার সব জেনেও নিয়োগে সুপারিশ করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮ কনস্টেবল নিয়োগের সময় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ছিলেন হারুণ অর রশিদ। পরবর্তীকালে তিনি বদলি হয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-উত্তর বিভাগ) হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। 

যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে  বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের জমির দলিল যাচাই ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের দেওয়া সনদ যাচাই করে যে প্রতিবেদন দিয়েছেন, তার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে অনুসন্ধানে জানার পর তাদের চাকরি চলে গেছে। এক্ষেত্রে যাচাই করার দায়িত্ব ছিল যাদের, তাদেরই তো এর দায় নেওয়া উচিত। পুলিশ সুপার তো আর মাঠপর্যায়ে গিয়ে অনুসন্ধান করতে পারেন না।’

জালিয়াত চক্র শনাক্তে কোনও উদ্যোগ নেই

আলোচিত এ ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের অনুসন্ধানে পুরো জালিয়াতির ঘটনাটি বের হয়ে এলেও জালিয়াত চক্রকে শনাক্ত করতে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নিয়োগের পর বরখাস্ত হওয়া ১৮ কনস্টেবল কার মাধ্যমে অর্থ দিয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন তাকে শনাক্ত করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়োগে জালিয়াতি বা অবৈধ লেনদেন বন্ধ করতে এই চক্রটিকে শনাক্ত করতে পারলে পুলিশের ভাবমূর্তি আরও বেশি উজ্জ্বল হতো। এছাড়া সরকারি চাকরির আশায় ঘুষদাতা পরিবারগুলোও কিছুটা উপকৃত হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কনস্টেবলের স্বজন জানান, তারা প্রায় ১৪ লাখ টাকা ধরা খেয়ে আছেন। সেই টাকাও তারা ফেরত পাননি। এমনকি ফেরত চাওয়ার সাহসও পাচ্ছেন না। কারণ, ওই দালালের নেপথ্যে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, টাকা চাইতে গেলে তারা আরও বিপদে পড়তে পারেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড প্ল্যানিং) হায়দার আলী খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি জেনে জানাতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খুদেবার্তা পাঠাতে বলেন। খুদেবার্তায় পুরো বিষয়টি জানালেও তিনি আর কোনও মন্তব্য করেননি।

 /এমএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় দেড় কোটি মানুষ

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় দেড় কোটি মানুষ

কনডেম সেলে থাকা বন্দিদের তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট

কনডেম সেলে থাকা বন্দিদের তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট

গেলো সপ্তাহে করোনায় বেশি মৃত্যু ডায়াবেটিস রোগীদের

গেলো সপ্তাহে করোনায় বেশি মৃত্যু ডায়াবেটিস রোগীদের

চট্টগ্রামে কনটেইনার টার্মিনালে বিনিয়োগ করতে চায় সৌদি কোম্পানি

চট্টগ্রামে কনটেইনার টার্মিনালে বিনিয়োগ করতে চায় সৌদি কোম্পানি

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় দেড় কোটি মানুষ

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫৯

দেশে এ পর্যন্ত টিকা এসেছে মোট ৪ কোটি ৯৫ লাখ ৮৫ হাজার ৮০ ডোজ। এর মধ্যে ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার ৯৪৩ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে টিকা মজুত আছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৩১ হাজার ১৩৭ ডোজ। এখনও পর্যন্ত প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ২৮ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৩ জনকে এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ১ কোটি ৫০ লাখ ২৫ হাজার ৯৭০ জন। আর  সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুই ডোজ মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে মোট ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৬ ডোজ।

এগুলো দেওয়া হয়েছে অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকা, চীনের তৈরি সিনোফার্ম, ফাইজার এবং মডার্নার ভ্যাকসিন। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাঠানো টিকাদান বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্যমতে, সোমবার অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৯০০ জনকে এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ৮১৪ জনকে। তবে এদিন ফাইজারের প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ কাউকে দেওয়া হয়নি।

এছাড়া সোমবার সিনোফার্মের টিকা প্রথম ডোজ নিয়েছেন তিন লাখ ২৭ হাজার ২৩৪ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৯১ জন।  মডার্নার টিকা প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৬৭৪ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ৮ হাজার ৩২৩ জনকে।

এছাড়া সারাদেশে এ পর্যন্ত টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৪ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৩ জন।

 

/এসও/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

করোনায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই ডায়াবেটিস আক্রান্ত, সতর্কতায় করণীয়

করোনায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই ডায়াবেটিস আক্রান্ত, সতর্কতায় করণীয়

নারায়ণগঞ্জে ১৮ কনস্টেবল নিয়োগে জালিয়াতি হয়েছিল যেভাবে

নারায়ণগঞ্জে ১৮ কনস্টেবল নিয়োগে জালিয়াতি হয়েছিল যেভাবে

কনডেম সেলে থাকা বন্দিদের তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট

কনডেম সেলে থাকা বন্দিদের তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট

গেলো সপ্তাহে করোনায় বেশি মৃত্যু ডায়াবেটিস রোগীদের

গেলো সপ্তাহে করোনায় বেশি মৃত্যু ডায়াবেটিস রোগীদের

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

আবারও ইয়াবাসহ সৌদি আরবগামী যাত্রী আটক

আবারও ইয়াবাসহ সৌদি আরবগামী যাত্রী আটক

লাখে ৬ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার প্রলোভনে কোটি টাকা জামানত, আরেকজন গ্রেফতার

লাখে ৬ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার প্রলোভনে কোটি টাকা জামানত, আরেকজন গ্রেফতার

আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগে নীতিমালা প্রণয়ন নিয়ে হাইকোর্টের রুল

আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগে নীতিমালা প্রণয়ন নিয়ে হাইকোর্টের রুল

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে আয়কর আদায়ে বিরত থাকার নির্দেশ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে আয়কর আদায়ে বিরত থাকার নির্দেশ

স্ত্রীর ব্যাডমিন্টনের ব্যাটের আঘাতে স্বামীর মৃত্যু

স্ত্রীর ব্যাডমিন্টনের ব্যাটের আঘাতে স্বামীর মৃত্যু

সরকার পদক্ষেপ নেয় জনগণ নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট

সরকার পদক্ষেপ নেয় জনগণ নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট

রফতানির পোশাক পথেই চুরি: ৫ হাজার ঘটনায় জড়িত সাঈদ

রফতানির পোশাক পথেই চুরি: ৫ হাজার ঘটনায় জড়িত সাঈদ

রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন ড্রাইভার মালেকের স্বজনরা

রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন ড্রাইভার মালেকের স্বজনরা

মিষ্টিবিক্রেতাকে খুন করে সেলুনের কারিগর

মিষ্টিবিক্রেতাকে খুন করে সেলুনের কারিগর

সুপেয় পানি নিশ্চিতে ওয়াসার কর্মপরিকল্পনা দেখতে চায় হাইকোর্ট

সুপেয় পানি নিশ্চিতে ওয়াসার কর্মপরিকল্পনা দেখতে চায় হাইকোর্ট

সর্বশেষ

স্বাধীনতার ২ বছর পর ফের ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীর মুক্তি চান ভুট্টো

স্বাধীনতার ২ বছর পর ফের ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীর মুক্তি চান ভুট্টো

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস আজ

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস আজ

হাবিপ্রবিতে তিন প্রশাসনিক পদে রদবদল 

হাবিপ্রবিতে তিন প্রশাসনিক পদে রদবদল 

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ম্যাজিক ফিগার: আইজিপি

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ম্যাজিক ফিগার: আইজিপি

ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশে এসে করলেন ২১ গোল

ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশে এসে করলেন ২১ গোল

© 2021 Bangla Tribune