X
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

ডেল্টা প্ল্যান-২১০০

বাস্তবায়ন না হলে ক্ষতির মুখে পড়বে সামষ্টিক অর্থনীতি

আপডেট : ১৮ মে ২০২১, ২২:০৯

সরকারের এক শ’ বছরের ডেল্টা প্ল্যান বাস্তাবিয়ত না হলে দেশের সামষ্টিক এবং খাতভিত্তিক অর্থনীতি যথেষ্ট ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সহনীয় অবস্থায় সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভৌত সম্পদ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রতিবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যেতে পারে।

এ ছাড়াও বাড়বে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি। জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের ফলে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের চরম পর্যায়ে এ সকল ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যয় সমানুপাতিক হারে বাড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিকল্পনা কমিশন ডেল্টা প্ল্যানে বলা হয়েছে, শতবর্ষী এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পানি, পরিবেশ, ভূমি, কৃষি (বন, প্রাণিসম্পদ, এবং মৎস্য) ইত্যাদি খাতের কৌশল প্রণয়ন এবং যথাযথ বিনিয়োগ, নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজন হবে।

পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়নে প্রতিবছর মোট দেশজ আয়ের প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে। এখন এ ব্যয় জিডিপির শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।

বর্তমান বিনিয়োগ এবং বিদ্যমান দেশজ আয় ব্যবহার করে পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রকল্পের জন্য প্রাক ব্যায়ের মাত্রা ২০১৬ অর্থবছরের ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০৩০ সাল নাগাদ ২৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে।

বিনিয়োগ অগ্রাধিকার

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর ধারণা অনুযায়ী মোট জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ অর্থায়ন বিভিন্ন উদ্যোগের আওতায় বেসরকারি খাত থেকে এবং ২ শতাংশ সরকারি খাত থেকে নির্বাহ করতে হবে। সরকারি খাত থেকে পাওয়া ২ শতাংশ থেকে দশমিক ৫ শতাংশ রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যয় করার পর অবশিষ্ট দেড় শতাংশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এ বিনিয়োগ পরিকল্পনার আওতায় ব্যয় করা হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে রক্ষাণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা খাত বেশ অবহেলিত এবং এ ব্যয়ের প্রকৃত পরিমাণও মোট দেশজ আয়ের দশমিক ১ শতাংশের বেশি নয়। ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা খাতে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না করা হলে পানিসম্পদ খাতে বিদ্যমান অবকাঠামোর স্থায়িত্বের দ্রুত অবনতি ঘটবে এবং পরে এ সকল অবকাঠামো আরও বেশি ব্যয়ে পুনর্নিমাণ করতে হবে বলে মনে করে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ডেল্টা প্ল্যানে বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে বড় প্রকল্প প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন সীমিত হয়ে যাচ্ছে। তাই প্রকল্প গ্রহণে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। কারণ, ব-দ্বীপ পরিকল্পনার প্রকল্পগুলো শুধু ভৌত বিনিয়োগ নয়, বরং অধিকতর গবেষণা, জ্ঞান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা উত্তরণেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর বেশিরভাগ সরকারি অর্থায়ন বন্যা থেকে রক্ষা, নদী ভাঙন, নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন, এবং নাব্যতা রক্ষাসহ সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনা ইত্যাদির জন্য প্রয়োজন হবে। এগুলো এখন বাংলাদেশের অগ্রাধিকার পাওয়া বিনিয়োগ খাত। এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ মোট ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বিনিয়োগের প্রায় ৩৫ শতাংশ।

এগুলো অত্যন্ত পুঁজিঘন বিনিয়োগ বলে মনে করে পরিকল্পনা কমিশন। যা শতবর্ষী পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা ও বেশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্বলিত প্রধান নগরগুলোতে পানি সরবরাহ, পয়ঃনিস্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থা ইত্যাদি খাতে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বিনিয়োগ থেকে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ অর্থের প্রয়োজন হবে।

অধিকন্ত, ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকার পানি ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ব্যাপক বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে ২০৩০ সাল নাগাদ ডেল্টা প্ল্যানের মোট বিনিয়োগের প্রায় ২০ শতাংশ প্রয়োজন হবে।

বিনিয়োগ পরিকল্পনা

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, ব-দ্বীপ বিনিয়োগ পরিকল্পনায় যাচাই-বাছাই শেষে ২০৩০ সাল নাগাদ প্রথম পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ৮০টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ভৌত অবকাঠামোগত প্রকল্প ৬৫টি এবং ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা বিষয়ক প্রকল্প।

এ সকল প্রকল্পে মোট মূলধন বিনিয়োগ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরবর্তী ৮ বছরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে শুরু করা যেতে পারে। যদিও বিনিয়োগের পরিমাণ ও কর্মসূচির প্রকৃতি অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন পরবর্তী কয়েক দশকেও সম্প্রসারিত হবে।

উন্নয়ন অভিযোজি ব-দ্বীপ ব্যবস্থাপনা (এডাপটিভ ডেলটা ম্যানেজমেন্ট- এডিএম) নীতি অবলম্বনে সমন্বিত ও ব্যাপক পরামর্শের ভিত্তিতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণে বিশ্বব্যাংকের কারিগরি সহায়তায় ব-দ্বীপ বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) কর্তৃক পানিসম্পদ ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা থেকে অগ্রাধিকার পাওয়া মোট ১৩৩টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এর জন্য প্রাক্কলিত মূলধন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭৫৩ বিলিয়ন টাকা।

প্রাপ্ত প্রকল্প প্রস্তাবগুলো অভিযোজি ব-দ্বীপ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণে যাচাই শেষে শ্রেণিভুক্ত করে ৮০টি প্রকল্প বিনিয়োগ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট প্রকল্প অভিযোজি ব-দ্বীপ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা এবং তা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এর এক বা একাধিক অভিষ্ট অর্জনে সহায়ক কিনা তার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী ও ডেলটা গভর্ন্যান্স কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ মান্নান জানিয়েছেন, ডেলটা প্লানের প্রথম ধাপে ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে বিপুল পরিমাণের বিনিয়োগ প্রস্তাবও রয়েছে। এসব বিনিয়োগ কার্যকর হলে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। তবে বাস্তবায়নটা চ্যালেঞ্জিং। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতেই সরকার কাজ করছে।

উল্লেখ্য, ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসের আদলে গ্রহণ করা শতবর্ষী ডেলটা প্ল্যান তথা ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’কে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের চাবিকাঠি হিসেবে দেখছে সরকার। বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে আলোচিত ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বরে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।

ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় ছয়টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পনি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্য নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন। এরইমধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ‘ডেলটা গভর্ন্যান্স কাউন্সিল’। ২০২০ সালের ১ জুলাই ১২ সদস্যের এই কাউন্সিল গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রীকে ডেলটা গভর্ণ্যান্স কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

ডেলটা গভর্ন্যান্স কাউন্সিলে সদস্য হিসেবে রয়েছেন কৃষিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, নৌ পরিবহন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, পানি সম্পদমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্যকে এই কাউন্সিলের সদস্য সচিব করা হয়েছে।

/ইউআই/এফএ/

সম্পর্কিত

‘কৌশলগুলোর বাস্তবায়ন কঠিন হবে না’

‘কৌশলগুলোর বাস্তবায়ন কঠিন হবে না’

ডেলটা প্ল্যান বাস্তবায়নে অর্থের যোগান নিশ্চিত নয়

ডেলটা প্ল্যান বাস্তবায়নে অর্থের যোগান নিশ্চিত নয়

লবণাক্ততা রোধে যা বলা আছে ডেল্টা প্ল্যানে

লবণাক্ততা রোধে যা বলা আছে ডেল্টা প্ল্যানে

হটস্পট মোকাবিলায় যতো কৌশল

হটস্পট মোকাবিলায় যতো কৌশল

বাংলাদেশের কপ-২৬ এজেন্ডাকে সমর্থনে ইইউ’র প্রতি ঢাকার আহ্বান

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০:২৭

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় কপ-২৬-এ বাংলাদেশের সভাপতিত্বে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) সমর্থনে জাতিসংঘে জলবায়ু অভিযোজন এবং অর্থায়ন সম্পর্কিত দাবিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।
  
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের ‘কপ-২৬-কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রস্তুতি এবং প্রত্যাশা সম্পর্কে অবহিত করার সময় এই তাগিদ দেন।

বাংলাদেশ জাতিসংঘের আসন্ন জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন কপ-২৬-এ ইইউ’র দেশগুলোর অংশীদারিত্ব চায় উল্লেখ করে বৈঠকের পর ড. মোমেন বলেন, যাতে করে তারা আমাদের বিষয়গুলোর পক্ষে কথা বলে- যা আমরা কপ-২৬ সম্মেলনে উত্থাপন করবো। বাংলাদেশের প্রধান বিষয়গুলো হবে জলবায়ু শরণার্থী হওয়া থেকে মানুষকে বিরত রাখতে জলবায়ু অভিযোজনে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে সহায়তা আদায়।  

ক্ষয়ক্ষতি এবং লোকসানের বিষয়টি কপ-২৬ এজেন্ডায় যুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে মোমেন বলেন, আমরা কপ-২৬ এর সময় ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তুলে ধরবো। আমরা এই বিষয়ে তাদের (ইইউ) সমর্থন চেয়েছিলাম।  

মন্ত্রী বলেন, তিনি ইইউকে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বার্ষিক জলবায়ু তহবিল উপলব্ধিতে অবদান রাখার আহ্বান জানান- যা ২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। এটা ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তিতে সবচেয়ে কার্বন নির্গমনকারী উন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
   
তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে, কপ-২৬ সম্মেলনে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন অঙ্গীকার নিশ্চিত করা হবে।’

বাংলাদেশও কপ-২৬-এ ‘৫০:৫০’ অনুপাতের অধীনে প্রশমন এবং অভিযোজনের জন্য জলবায়ু তহবিল বরাদ্দের দাবি তুলবে বলেও জানান মন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জি-৭ দেশগুলো কর্তৃক ২০৫০ সালের ঘোষণা অনুসারে ‘নেট জিরো’ কার্বন নির্গমনকে স্বাগত জানান। কারণ বিশ্বে এসব উন্নত দেশ সর্বাধিক কার্বন নির্গমনকারী। তবে বাংলাদেশ এই সময়ের মধ্যে ‘নেট জিরো’ ঘোষণা করতে পারবে না বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘কারণ বাংলাদেশ এখনও একটি উন্নয়নশীল দেশ। আর উন্নত দেশগুলোর কার্বনের নির্গত করে তুলনায় আমাদের দেশ নামমাত্র কার্বন নির্গত করে।’

/ইউএস/

সম্পর্কিত

সার্বিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

সার্বিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

জার্মানি থেকে ফিরতে হচ্ছে ৮৬০ বাংলাদেশিকে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জার্মানি থেকে ফিরতে হচ্ছে ৮৬০ বাংলাদেশিকে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সার্বিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর আহ্বান

সার্বিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর আহ্বান

আব্দুল গাফফার চৌধুরীর রোগমুক্তি কামনায় দোয়া চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী 

আব্দুল গাফফার চৌধুরীর রোগমুক্তি কামনায় দোয়া চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী 

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২৯

দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এরোস্পেস অ্যান্ড ডিফেন্স এক্সিবিশন-২০২১ এ অংশ নিতে সরকারি সফরে দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। রবিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যান তিনি। কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের চিফ অব স্টাফ জেনারেল ন্যাম ইয়ং শিন (Nam Yeong Shin) এর আমন্ত্রণে সিউলে অনুষ্ঠিতব্য ইন্টারন্যাশনাল এরোস্পেস এন্ড ডিফেন্স এক্সিবিশন-২০২১ এ অংশগ্রহণ করবেন সেনাবাহিনী প্রধান। 

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (১৮ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ। সফরকালে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ, সেনা ও বিমান বাহিনী প্রধান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান। সাক্ষাৎকালে তিনি দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করবেন।

সফর শেষে আগামী ২৩ অক্টোবর সেনাবাহিনী প্রধানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

/আরটি/ইউএস/

সম্পর্কিত

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০০

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত সময়কালের ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। ফলে সঙ্গত কারণেই ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর জন্মগ্রহণকারী  ছোট ছেলে শেখ রাসেলকে নিয়ে কোনও তথ্য নেই এ বইটিতে। তবে জেলজীবন নিয়ে বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ে অন্তত ১৫টি জায়গায় রয়েছে রাসেলকে নিয়ে বাবা বঙ্গবন্ধুর বর্ণনা। পুরো বর্ণনায় রয়েছে জেলে গেলে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিবারের সাক্ষাতের সময়কালের ঘটনা। ঐতিহাসিক ৬ দফা দেওয়ার পর প্রথমে বিভিন্ন মেয়াদে ৯০ দিন কারাভোগ করেন বঙ্গবন্ধু। এরপর ১৯৬৬ সালের ৮ মে গ্রেফতার হন তিনি। এ সময় বঙ্গবন্ধু এক হাজার ২১ দিন কারাগারে  থাকার পর ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান। কারাগারে এই দীর্ঘ  সময় থাকাকালে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে শিশু রাসেলও পিতার সঙ্গে দেখা করতে যেতো। আর এই সময়কালে রাসেলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কথোপকথন ও খুনসুটির স্মৃতি উঠে আসে তাঁর এই বইয়ে।

বঙ্গবন্ধুর লেখায় রাসেল কারবন্দি পিতা মুজিবকে না পেয়ে মাকে আব্বা বলে ডাকতো, সেই প্রসঙ্গও এসেছে। জেলখানাকেই তিনি আব্বার বাড়ি মনে করতো, সেটাও বর্ণনা করেছেন বঙ্গবন্ধু।

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রথম স্মৃতিচারণ পাওয়া যায় কারাগারের রোজনামচা বইয়ের ৯৩ পৃষ্ঠায়। এটা ছিল ১৯৬৬ সালের ১৫ জুনের ঘটনা। ওইদিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকা ১৮ মাস বয়সী রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিচারণ করেছেন। সেদিনের সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘‘দূর থেকে দেখি রাসেল, রেহানা ও হাচিনা চেয়ে আছে, আমার রাস্তার দিকে। ১৮ মাসের রাসেল জেল অফিসে এসে একটুও হাসেনা,যে পর্যন্ত আমাকে না দেখে। দেখলাম, দূর থেকে পূর্বের মতো ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ বলে চিৎকার করছে। একটু পরেই ভেতরে যেতেই রাসেল আমার গলা ধরে হেসে দিলো। ওরা বললো, আমি না আসা পর্যন্ত শুধু জানালার দিকে চেয়ে থাকে, বলে ‘আব্বার বাড়ি’। এখন ওর ধারণা হয়েছে— এটা ওর আব্বার বাড়ি। যাবার সময় হলে ওকে ফাঁকি দিতে হয়।” 

১৯৬৬ সালের ৬ জুলাইয়ের বর্ণনায়ও রয়েছে রাসেলের প্রসঙ্গ। বইয়ের ১৪৯ পৃষ্ঠায় স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের কথা বলা হয়েছে। দিনটি ছিল বুধবার। এখানে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন,“..... তাড়াতড়ি পাঞ্জবি পরেই হাঁটা দিলাম গেটের দিকে। সেই পুরনো দৃশ্য। রাসেল হাচিনার কোলে। আমাকে দেখে বলছে, ‘আব্বা!’ আমি যেতেই কোলে এলো। কে কে মেরেছে নালিশ হলো। খরগোস কীভাবে মারা গেছে, কীভাবে দাঁড়াইয়া থাকে দেখালো।”

বইয়ের ১৫৯ পৃষ্ঠায় ১৯৬৬ সালের ১২ জুলাই সাক্ষাৎ শেষে বিদায়ের সময়ের স্মৃতিচারণে রাসেলের প্রসঙ্গ এসেছে। এখানে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, “.... বিদায় নিয়ে রওয়ানা হলে গেটে দাঁড়াইয়া ওদের বিদায় দিলাম। গেট পার হলেও রাসেল হাত তুলে আমার কাছে থেকে বিদায় নিলো। বোধ হয় বুঝে গিয়েছে এটা ওর বাবার বাড়ি, জীবনভর এখানেই থাকবে!”

 ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ের ১৮৮ পৃষ্ঠায় ৩ আগস্ট ১৯৬৬ সাল, বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘...ছোট ছেলেটা আমার কানে কানে কথা বলে। ২১ মাস বয়স। বললাম, আমার কানে কানে কথা বললে আইবি নারাজ হবে, ভাববে একুশ মাসের ছেলের সঙ্গে রাজনীতি নিয়ে কানে কানে কথা বলছি। সকলেই হেসে উঠলো। এটা রাসেলের একটা খেলা, কানের কাছে মুখ নিয়ে চুপ করে থাকে আর হাসে। আর আমার কাছ থেকে ফিরে যাবার চায় না। ওর মায়ের কাছে দিয়ে ভেতরে চলে আসলাম।’

ওর কাছ থেকে বিদায় নিতে কষ্ট হয়

১৯৬৭ সালের ঈদে ছেলেমেয়েরা কোনও কেনাকাটা করবে না, এমন প্রসঙ্গ এনে রাসেলকে নিয়ে ২০১ পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু বর্ণনা করেছেন এভবে, ‘ওরা বুঝতে শিখেছে। রাসেল ছোট্ট তাই এখনও বুঝতে শিখে নাই। শরীর ভালো না, কিছুদিন ভুগেছে। দেখা করতে এলে রাসেল আমাকে মাঝে-মধ্যে ছাড়তে চায় না। ওর কাছ থেকে বিদায় নিতে কষ্ট হয়।’

রাসেল ফুলের মালা হাতে দাঁড়াইয়া আছে

১৯৬৭ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম জন্মবার্ষিকীতে পরিবারের সদস্যরা জেলখানায় সাক্ষাৎ করেন। এ প্রসঙ্গে বইয়ের ২১০ পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, “...পাঁচটাও বেজে গেলো। ঠিক সেই মুহর্তে জমাদার সাহেব বললেন, ‘চলুন, আপনার বেগম সাহেবা ও ছেলেমেয়েরা এসেছে।’ তাড়াতাড়ি কাপড় পরে রওয়ানা করলাম জেল গেটের দিকে। ছোট মেয়েটা আর আড়াই বৎসরের ছেলে রাসেল ফুলের মালা হাতে দাঁড়াইয়া আছে। মালাটা রাসেলকে পরাইয়া দিলাম, সে কিছুতেই পরবে না, আমার গলায় দিয়ে দিলো।... আওয়ামী লীগ একটা বিরাট কেক পাঠাইয়া দিয়েছে। রাসেলকে দিয়ে কাটালাম, আমিও হাত দিলাম।’’

বইয়ের ২১১ পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘রাসেলও বুঝতে আরম্ভ করেছে, এখন আর আমাকে নিয়ে যেতে চায় না।’

কারাগারের রোজনামচার ২২১ পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু ১৯৬৭ সালের ১৪ ও ১৫ এপ্রিলের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। সেখানে রাসেলকে নিয়ে তিনি লিখেছেন, “জেল গেটে যখন উপস্থিত হলাম, ছোট ছেলেটা আর বাইরে এসে দাঁড়াইয়া নাই দেখে একটু আশ্চর্য হলাম। আমি যখন রুমের ভেতর যেয়ে ওকে কোলে নিলাম, আমার গলা ধরে ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ করে কয়েকবার ডাক দিয়ে ওর মার কোলে যেয়ে ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ করে ডাকতে শুরু করলো। ওর মাকে ‘আব্বা’ বলে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ব্যাপার কী?’ ওর মা বললো “বাড়িতে ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ করে কাঁদে তাই ওকে বলেছি আমাকে ‘আব্বা’ বলে ডাকতে।” রাসেল ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ বলে ডাকতে লাগলো। যেই আমি জবাব দেই, সেই ওর মার গলা ধরে বলে, ‘তুমি আমার আব্বা।’ আমার ওপর অভিমান করেছে বলে মনে হয়। এখন আর বিদায়ের সময়ে আমাকে নিয়ে যেতে চায় না।’’

কথা একটাও মুখে রাখে না

১৯৬৭ সালের ২৮-৩০ এপ্রিলের ঘটনাবলির বর্ণনায় রাসেলের প্রসঙ্গ এসেছে। এখানে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন,“… রাসেল একবার আমার কোলে, একবার তার মার কোলে, একবার টেবিলের ওপরে উঠে বসে। আবার মাঝে মাঝে আপন  মনেই এদিক-ওদিক হাঁটাচলা করে। বড় দুষ্ট হয়েছে, রেহানাকে খুব মারে। রেহানা বললো, ‘আব্বা দেখেন আমার  মুখখানা কী করেছে রাসেল মেরে।’ আমি ওকে বললাম, তুমি রেহানাকে মার? রাসেল বললো, ‘হ্যাঁ মারি।’ বললাম, ‘না আব্বা আর মেরো না।’ উত্তর দিলো, ‘মারবো।’ কথা একটাও মুখে রাখে না।’’

বইয়ের ২৪০ পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘রাসেল আমাকে নিয়ে যেতে চায় বাড়িতে। এক বৎসর হয়ে গেছে জেলে এসেছি। রাসেল একটু বড় হয়ে গেছে।’

আব্বা, আর  তোমাদের দরকার নাই এ পথের

১৯৬৭ সালের ২৭ ও ২৮ মে’র ঘটনাতেও  রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু বর্ণনা করেছেন। বইয়ের ২৪৬ ও ২৪৭ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন, ‘‘.. .রাসেল আমাকে পড়ে শোনালো, আড়াই বৎসরের ছেলে আমাকে বলছে, ৬ দফা মানতে হবে- সংগ্রাম সংগ্রাম-চলবে চলবে,পাকিস্তান জিন্দাবাদ, ভাঙা ভাঙা করে বলে কী মিষ্টি শোনায়! জিজ্ঞাসা করলাম, ও শিখলো কোথা থেকে? রেণু বললো, ‘বাসায় সভা হয়েছে, তখন কর্মীরা বলেছিল তাই শিখেছে।’ বললাম, আব্বা, আর তোমাদের দরকার নাই এ পথের। তোমার আব্বাই পাপের প্রায়শ্চিত করুন।’’

আব্বা বালি চলো

বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৭ সালের ২২ জুনের ঘটনা উঠে এসেছে বইয়ের ২৪৯ পৃষ্ঠায়। এখানে  তিনি লিখেছেন, ‘‘ …দুই বৎসরের ছেলেটা এসে বলে, ‘আব্বা বালি চলো’। কী উত্তর ওকে আমি দেবো। ওকে ভোলাতে চেষ্টা করলাম ও তো বোঝে না আমি কারাবন্দি। ওকে বললাম, তোমার মা’র বাড়ি তুমি যাও। আমি আমার বাড়ি থাকি। আবার আমাকে দেখতে এসো। ও কি বুঝতে চায়! কী করে নিয়ে যাবে এই ছোট্ট ছেলেটা, ওর দুর্বল হাত দিয়ে মুক্ত করে এই পাষাণ প্রাচীন থেকে!

দুঃখ আমার লেগে গেলো। শত হলেও আমি তো মানুষ আর ওর জন্মদাতা। অন্য ছেলেমেয়েরা বুঝতে শিখেছে। কিন্তু রাসেল এখনও বুঝতে শিখে নাই। তাই মাঝে মাঝে আমাকে নিয়ে যেতে চায় বাড়িতে।

/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ১৮ অক্টোবরের ঘটনা।)

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাপান যাওয়ার পথে কুয়ালালামপুরে যাত্রাবিরতির সময় বলেছেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আরবদের পাশে থেকে যুদ্ধ করতে, বাংলাদেশ সেখানে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত। ১৯৭৩ সালের এই দিনে জাপান যাওয়ার পথে খুব ভোরে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে পৌঁছার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এক অনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ তাদের পাশে থাকবে এবং সব রকম সাহায্য দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আরবদের প্রতি নৈতিক ও বৈষয়িক সমর্থনদানের কথা ঘোষণা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘সংগ্রামে লিপ্ত লোকদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা আমাদের এই সমর্থনের ভিত্তি।’

বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘মিসর ও সিরিয়ার জনগণের জন্য বাংলাদেশ এক লাখ পাউন্ড চা পাঠাচ্ছে। যুদ্ধে আহতদের আরও ভালো চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও একটি মেডিক্যাল টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আরবদের মুক্তি-সংগ্রামে তাদের পাশেই থাকবো।’ বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ার কৃষিমন্ত্রী এবং অন্যান্য পদস্থ সরকারি কর্মচারী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্বল্পকাল অবস্থানের কারণে আনন্দ প্রকাশ করেন দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে আগ্রহী।’ যাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সেই দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কিনা, জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বিশ্বের কোন মুহূর্তে কী অবস্থা ও পরিস্থিতি দাঁড়ায়, তার ওপরে সেটা নির্ভর করবে।’ তিনি বলেন, ‘ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব এবং ওই অঞ্চলে যে ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হোক না কেন, এই বন্ধুত্ব অটুট থাকবে।’ বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন সমস্যার প্রতি জাপানের সহানুভূতি রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনায় জাপানের কাছ থেকে আর্থিক ও কারিগরি উভয় প্রকার সাহায্য আমরা চাইবো।’ শেখ মুজিব বলেন, ‘বাংলাদেশ দিল্লি চুক্তির প্রতি আস্থাশীল এবং এর বাস্তবায়ন পরিপন্থী কোনও কাজ তারা করবে না।’ এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘পাকিস্তান আমাদের স্বীকৃতি দেওয়ার কে, প্রশ্ন হলো আমরা পাকিস্তানকে স্বীকার করি কিনা।’

টোকিওতে বিশাল সংবর্ধনা

টোকিওতে নামার পরে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আন্তরিক সংবর্ধনা জানানো হয়। অর্থনৈতিকভাবে পরাক্রমশালী মহাশক্তি জাপানে সাত দিনের সফরে বঙ্গবন্ধু সেখানে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাপানের নেতাদের সঙ্গে অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার ব্যাপারে ব্যাপকভিত্তিক আলোচনা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমানের  উড়োজাহাজ থেকে বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে টোকিও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাপানি প্রধানমন্ত্রী তানাকা বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের নেতাকে সংবর্ধনা জানান। তিনি বঙ্গবন্ধুকে বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ সুধীজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর বঙ্গবন্ধু গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু সেখানে যে হোটেলে থাকবেন, সেখানে যাত্রা করেন।

/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:০৭

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের জন্মদিন আজ। ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনীর বিপথগামী সদস্যরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সময় এই শিশুকেও ছাড়েনি। বেঁচে থাকলে তাঁর বয়স হতো ৫৮ বছর। বড় বোন শেখ হাসিনা দুঃখ-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে স্মরণ করেন শিশু রাসেলকে।

রাসেলের নাম রাখার স্মৃতিচারণ করে গতকাল (১৭ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী জানান, বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত প্রিয় লেখক ছিলেন খ্যাতনামা দার্শনিক ও নোবেলজয়ী লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল। তার বই পড়ে বঙ্গমাতাকে ব্যাখ্যা করে শোনাতেন জাতির পিতা। তাই বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গমাতা মিলে শখ করে আদরের ছোট ছেলের নাম রাখেন ‘রাসেল’।

শেখ হাসিনার কথায়, ‘নামটি শুনলেই প্রথমে যে ছবি সামনে ভেসে আসে তা হলো- হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণচঞ্চল এক ছোট্ট শিশুর দুরন্ত শৈশব; যে শিশুর চোখ হাসি-আনন্দে ভরপুর। মাথাভর্তি অগোছালো চুলের সুন্দর একটি মুখাবয়ব, যে মুখাবয়ব ভালোবাসা ও মায়ায় মাখা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিজীবনের অজানা-অদেখা গল্প নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’-এ তিনি তুলে ধরেন ছোট্ট রাসেলকে। মাত্র ১০ বছর ১০ মাসের জীবন তাঁকে যে গভীর ক্ষতবোধ দিয়েছিল তা সবসময়ই ফুটে ওঠে বড় বোনের কণ্ঠে, ‘রাসেল জন্মানোর পর আমরা ভাইবোনেরা খুব খুশি হই। যেন খেলার পুতুল পেলাম হাতে। ও খুব আদরের ছিল আমাদের। একটা ব্যক্তিত্ব নিয়ে চলতো। ওইটুকু একটা মানুষ, খুব স্ট্রং পার্সোনালিটি।’

২০১৯ সালে রাসেলের জন্মদিনে আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা না বলা অনেক কথা ভাগাভাগি করেন। স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, ‘বন্দিখানায় থাকা অবস্থায় যখন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেই যুদ্ধের সময় যখন আক্রমণ হতো, রাসেল পকেটে সবসময় একটু তুলা রাখতো। নিজের কানে দেওয়ার পাশাপাশি ছোট্ট জয়ের কানেও তুলা দিয়ে দিতো, যেন ওই আওয়াজে জয়ের কোনও ক্ষতি না হয়। জয়ের প্রতি রাসেল খুব খেয়াল রাখতো। সবসময়ই তার সেদিকে বিশেষ নজর ছিল।’

কোমলমতি শিশু রাসেলসহ পুরো পরিবারকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের এক নির্মম, জঘন্য ও বিভীষিকাময় রাতে হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

গতকালের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী, ষড়যন্ত্রকারী ও বিশ্বাসঘাতকদের হাতে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের ১৮ জন সদস্য শহীদ হন। সেদিন ছোট্ট শিশু রাসেলও খুনিদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। রাসেল তো বাঁচতে চেয়েছিল। বাঁচার জন্য ঘাতকদের কাছে আকুতি জানিয়েছিল, মায়ের কাছে যাওয়ার কথা বলেছিল। মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ঘাতকরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।’

/ইউআই/জেএইচ/

সম্পর্কিত

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

‘কৌশলগুলোর বাস্তবায়ন কঠিন হবে না’

ডেল্টা প্ল্যান-২১০০‘কৌশলগুলোর বাস্তবায়ন কঠিন হবে না’

ডেলটা প্ল্যান বাস্তবায়নে অর্থের যোগান নিশ্চিত নয়

ডেলটা প্ল্যান বাস্তবায়নে অর্থের যোগান নিশ্চিত নয়

লবণাক্ততা রোধে যা বলা আছে ডেল্টা প্ল্যানে

লবণাক্ততা রোধে যা বলা আছে ডেল্টা প্ল্যানে

হটস্পট মোকাবিলায় যতো কৌশল

ডেল্টা প্ল্যান ২১০০হটস্পট মোকাবিলায় যতো কৌশল

ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে যা করতে হবে

ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে যা করতে হবে

ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ : সরকারের এ মহাপরিকল্পনায় যা থাকছে

ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ : সরকারের এ মহাপরিকল্পনায় যা থাকছে

সর্বশেষ

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরও ৪ জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরও ৪ জনের মৃত্যু

বাংলাদেশের কপ-২৬ এজেন্ডাকে সমর্থনে ইইউ’র প্রতি ঢাকার আহ্বান

বাংলাদেশের কপ-২৬ এজেন্ডাকে সমর্থনে ইইউ’র প্রতি ঢাকার আহ্বান

হত্যা মামলায় যুবলীগ নেতা ফোয়াদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি 

হত্যা মামলায় যুবলীগ নেতা ফোয়াদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি 

পাবজি খেলা নিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর সংশোধনাগারে

পাবজি খেলা নিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর সংশোধনাগারে

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

© 2021 Bangla Tribune