X
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

ডেল্টা প্ল্যান-২১০০

‘কৌশলগুলোর বাস্তবায়ন কঠিন হবে না’

আপডেট : ৩১ মে ২০২১, ০৪:৫৪

নেদারল্যান্ডসের আদলে গ্রহণ করা ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’কে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের চাবিকাঠি হিসেবে দেখছে সরকার। বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে আলোচিত ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’তে ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশন বলেছে, টেকসই ভূমি ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন।

একশ বছরের ডেল্টা প্ল্যানে টেকসই ভূমি ব্যবহার, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের পরিকল্পনার কৌশল ও কার্যক্রমে যা যা বলা হয়েছে-

ভূমি ব্যবহার কৌশল

১। বালুমহাল এবং পলি বা ড্রেজিং থেকে পাওয়া মাটি বা বালু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

২। টেকসই খাদ্যশস্য উৎপাদনে বন্যা বা নদীর ভাঙন থেকে কৃষিজমি সংরক্ষণ করতে হবে।

৩। লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ এবং মরুকরণ প্রতিরোধ করতে হবে।

৪। মেঘনার মোহনায় জেগে ওঠা ভূমির সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

৫। কৃষি বা অকৃষি জমি বাড়ানোর জন্য টেকসই উপকূলীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

৬। ডিজিটাল ভূমি সম্পদ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়ন করতে হবে।

৭। ভূমি প্রশাসনের দক্ষতা বাড়াতে পলি জমে গড়ে ওঠা ভূমি এবং নদী শিকস্থ সম্পর্কিত আইন বা বিধিগুলো হালনাগাদ করতে হবে। 

৮। ল্যান্ড জোনিংয়ের প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। 

৯। ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনে অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

১০। নগরায়নের জন্য স্থানীয় ভূমি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে হবে।

১১। ভূমি ব্যবহারে সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

১২। স্থানিক পরিকল্পনা এবং ভূমি সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন করতে হবে।

১৩। ভূমি স্থিতিশীল করতে উপকূলীয় অঞ্চলে বনায়ন বাড়াতে হবে।

১৪। মাটির গুণ বজায় রাখা এবং ভূমির ক্ষয়ক্ষতি রোধ করতে হবে।

১৫। ভূমি রক্ষায় উপকূলীয় পানিসম্পদ অবকাঠামোগুলোর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা দরকার। 

কৃষি বিষয়ক কৌশল

১। কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার ঘাতসহিষ্ণুতা বাড়াতে হবে।

২। কৃষি উৎপাদন ও জীবিকার মধ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে।

৩। কৃষি জমি থেকে গ্রিনহাউস নিঃসরণ কমাতে হবে।

৪। বৃহাদায়তন বাণিজ্যিক খামার স্থাপনে উৎসাহ দিতে হবে।

৫। মাছ ও উদ্ভিদের সমন্বিত চাষে জলোপযোগী পদ্ধতির প্রবর্তন করতে হবে।

৬। কৃষিজাত পণ্যের প্রক্রিয়াকরণ, বণ্টন এবং প্যাকেজিংয়ে ন্যানোপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

৭। নির্ভুল কৃষি মডেল চালু করতে হবে।

৮। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে উন্নত খামার এবং প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে।

৯। উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী, মৎস্য ও পরিযায়ী পাখির জন্য বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ ও ফলদ বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম উৎসাহিত করতে হবে।

কৃষি বিষয়ক কার্যক্রম

সরকারের শতবর্ষী ডেল্টা প্ল্যানে কৃষি বিষয়ক কার্যক্রমে বলা হয়েছে-

১। জলবায়ু পরিবর্তন অভিঘাতকে অন্তর্ভুক্ত করে কৃষিখাতের জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

২। ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকার জন্য সমন্বিত চাষাবাদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩। কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র সেচ, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার এবং পানি সঞ্চয়ী আধুনিক সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করতে হবে।

৪। পার্বত্য চট্টগ্রামে জীবন জীবিকার জন্য উন্নততর চাষাবাদ ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে।

৫। খরা ও বন্যাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনে গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

৬। চাষাবাদে পানির ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনের জন্য স্বয়ংক্রিয় পরিবীক্ষণ ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে।

৭। সেচে কম পানির প্রয়োজন হয়, এমন শস্য চাষে উৎসাহিত করতে হবে।

৮। সেচ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে হবে।

মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক কৌশল

সরকারের শতবর্ষী ডেল্টা প্ল্যানে মৎস্য সম্পদ বিষয়ক কৌশলে বলা হয়েছে-

১। শুধু ধান নয়, মাছ চাষের জন্য হাওর অঞ্চলে জলাভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করতে হবে।

২। দীর্ঘমেয়াদী মাছের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে জীববৈচিত্র্য বজায় রাখতে হবে।

৩। সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

ডেল্টা প্ল্যানে মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক কৌশল বাস্তবায়নে নেওয়া কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়েছে-

১। স্বাদু পানি ও উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ চাষ, সামুদ্রিক মাছ চাষ, এবং চিংড়ি চাষে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও ক্ষতি সম্পর্কে গবষণার উদ্যোগ নিতে হবে।

২। গবেষণালব্ধ ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে অভিযোজন ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে।

৩। মৎস্য সম্পদ জরিপের জন্য আধুনিক যান সংগ্রহ করতে হবে।

৪। সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ আহরণে সর্বোচ্চ আহরণ মাত্রা এবং টেকসই উৎপাদন বিষয়ে জরিপ এবং মজুত ম্যাপ তৈরি করতে হবে।

৫। জলবায়ু পরিবর্তন-সহিষ্ণু মৎস্য সম্পদ প্রজাতির উদ্ভাবনে গবেষণা বাড়াতে হবে।

ডেল্টা প্ল্যানে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ক বিষয়ক কৌশলে বলা হয়েছে, জলবায়ু সহিষ্ণু পশুপাখির জাত উদ্ভাবন ও পালন বাড়াতে হবে। 

একইসঙ্গে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক কৌশল বাস্তবায়নে কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়েছে-

১। প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিসমূহের মূল্যায়ন, অভিযোজন পদ্ধতি অবলম্বন ও কৃষকদের মাঝে তা সম্প্রসারণ করতে হবে।

২। ভেটেরিনারি সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে।

৩। ঘাতসহিষ্ণু প্রজাতির প্রবর্তন করতে হবে।   

৪। গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ এবং বাণিজ্যিক পশু খামার স্থাপনে প্রণোদনা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫। উচ্চফলনশীল এবং শুষ্ক মৌসুমে উৎপাদন করা যায় এমন পশুখাদ্য বা ঘাস উৎপাদনে গবেষণা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে প্রণোদনাও রাখতে হবে।   

উল্লেখ্য, ডেল্টা প্ল্যানে ছয়টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পনি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন।

এরইমধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ‘ডেল্টা গভর্ন্যান্স কাউন্সিল’। ২০২০ সালের ১ জুলাই ১২ সদস্যের এই কাউন্সিল গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রীকে ডেল্টা গভর্ন্যান্স কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

ডেল্টা গভর্ন্যান্স কাউন্সিলে সদস্য হিসেবে রয়েছেন কৃষিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, নৌ পরিবহনমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, পানি সম্পদমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্যকে এই কাউন্সিলের সদস্য সচিব করা হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী ও ডেল্টা গভর্ন্যান্স কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান এম এ মান্নান জানিয়েছেন, একশ বছরের ডেল্টা প্ল্যানে ভূমি ব্যবস্থাপনা, মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে এবং যেসব কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রস্তাব রাখা হয়েছে সেগুলো ব্যয়বহুল নয়। তাই এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন কঠিন হবে না। এর বাইরেও এই প্ল্যান বাস্তবায়নে অর্থায়নের বিষয়টিও পরিষ্কার করে বলা আছে। আশা করছি এটিও সহজে বাস্তবায়নযোগ্য।

/এফএ/ইউআই/

সম্পর্কিত

ডেলটা প্ল্যান বাস্তবায়নে অর্থের যোগান নিশ্চিত নয়

ডেলটা প্ল্যান বাস্তবায়নে অর্থের যোগান নিশ্চিত নয়

বাস্তবায়ন না হলে ক্ষতির মুখে পড়বে সামষ্টিক অর্থনীতি

বাস্তবায়ন না হলে ক্ষতির মুখে পড়বে সামষ্টিক অর্থনীতি

লবণাক্ততা রোধে যা বলা আছে ডেল্টা প্ল্যানে

লবণাক্ততা রোধে যা বলা আছে ডেল্টা প্ল্যানে

হটস্পট মোকাবিলায় যতো কৌশল

হটস্পট মোকাবিলায় যতো কৌশল

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২৯

দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এরোস্পেস অ্যান্ড ডিফেন্স এক্সিবিশন-২০২১ এ অংশ নিতে সরকারি সফরে দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। রবিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যান তিনি। কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের চিফ অব স্টাফ জেনারেল ন্যাম ইয়ং শিন (Nam Yeong Shin) এর আমন্ত্রণে সিউলে অনুষ্ঠিতব্য ইন্টারন্যাশনাল এরোস্পেস এন্ড ডিফেন্স এক্সিবিশন-২০২১ এ অংশগ্রহণ করবেন সেনাবাহিনী প্রধান। 

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (১৮ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ। সফরকালে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ, সেনা ও বিমান বাহিনী প্রধান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান। সাক্ষাৎকালে তিনি দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করবেন।

সফর শেষে আগামী ২৩ অক্টোবর সেনাবাহিনী প্রধানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

/আরটি/ইউএস/

সম্পর্কিত

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০০

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত সময়কালের ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। ফলে সঙ্গত কারণেই ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর জন্মগ্রহণকারী  ছোট ছেলে শেখ রাসেলকে নিয়ে কোনও তথ্য নেই এ বইটিতে। তবে জেলজীবন নিয়ে বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ে অন্তত ১৫টি জায়গায় রয়েছে রাসেলকে নিয়ে বাবা বঙ্গবন্ধুর বর্ণনা। পুরো বর্ণনায় রয়েছে জেলে গেলে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিবারের সাক্ষাতের সময়কালের ঘটনা। ঐতিহাসিক ৬ দফা দেওয়ার পর প্রথমে বিভিন্ন মেয়াদে ৯০ দিন কারাভোগ করেন বঙ্গবন্ধু। এরপর ১৯৬৬ সালের ৮ মে গ্রেফতার হন তিনি। এ সময় বঙ্গবন্ধু এক হাজার ২১ দিন কারাগারে  থাকার পর ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান। কারাগারে এই দীর্ঘ  সময় থাকাকালে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে শিশু রাসেলও পিতার সঙ্গে দেখা করতে যেতো। আর এই সময়কালে রাসেলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কথোপকথন ও খুনসুটির স্মৃতি উঠে আসে তাঁর এই বইয়ে।

বঙ্গবন্ধুর লেখায় রাসেল কারবন্দি পিতা মুজিবকে না পেয়ে মাকে আব্বা বলে ডাকতো, সেই প্রসঙ্গও এসেছে। জেলখানাকেই তিনি আব্বার বাড়ি মনে করতো, সেটাও বর্ণনা করেছেন বঙ্গবন্ধু।

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রথম স্মৃতিচারণ পাওয়া যায় কারাগারের রোজনামচা বইয়ের ৯৩ পৃষ্ঠায়। এটা ছিল ১৯৬৬ সালের ১৫ জুনের ঘটনা। ওইদিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকা ১৮ মাস বয়সী রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিচারণ করেছেন। সেদিনের সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘‘দূর থেকে দেখি রাসেল, রেহানা ও হাচিনা চেয়ে আছে, আমার রাস্তার দিকে। ১৮ মাসের রাসেল জেল অফিসে এসে একটুও হাসেনা,যে পর্যন্ত আমাকে না দেখে। দেখলাম, দূর থেকে পূর্বের মতো ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ বলে চিৎকার করছে। একটু পরেই ভেতরে যেতেই রাসেল আমার গলা ধরে হেসে দিলো। ওরা বললো, আমি না আসা পর্যন্ত শুধু জানালার দিকে চেয়ে থাকে, বলে ‘আব্বার বাড়ি’। এখন ওর ধারণা হয়েছে— এটা ওর আব্বার বাড়ি। যাবার সময় হলে ওকে ফাঁকি দিতে হয়।” 

১৯৬৬ সালের ৬ জুলাইয়ের বর্ণনায়ও রয়েছে রাসেলের প্রসঙ্গ। বইয়ের ১৪৯ পৃষ্ঠায় স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের কথা বলা হয়েছে। দিনটি ছিল বুধবার। এখানে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন,“..... তাড়াতড়ি পাঞ্জবি পরেই হাঁটা দিলাম গেটের দিকে। সেই পুরনো দৃশ্য। রাসেল হাচিনার কোলে। আমাকে দেখে বলছে, ‘আব্বা!’ আমি যেতেই কোলে এলো। কে কে মেরেছে নালিশ হলো। খরগোস কীভাবে মারা গেছে, কীভাবে দাঁড়াইয়া থাকে দেখালো।”

বইয়ের ১৫৯ পৃষ্ঠায় ১৯৬৬ সালের ১২ জুলাই সাক্ষাৎ শেষে বিদায়ের সময়ের স্মৃতিচারণে রাসেলের প্রসঙ্গ এসেছে। এখানে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, “.... বিদায় নিয়ে রওয়ানা হলে গেটে দাঁড়াইয়া ওদের বিদায় দিলাম। গেট পার হলেও রাসেল হাত তুলে আমার কাছে থেকে বিদায় নিলো। বোধ হয় বুঝে গিয়েছে এটা ওর বাবার বাড়ি, জীবনভর এখানেই থাকবে!”

 ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ের ১৮৮ পৃষ্ঠায় ৩ আগস্ট ১৯৬৬ সাল, বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘...ছোট ছেলেটা আমার কানে কানে কথা বলে। ২১ মাস বয়স। বললাম, আমার কানে কানে কথা বললে আইবি নারাজ হবে, ভাববে একুশ মাসের ছেলের সঙ্গে রাজনীতি নিয়ে কানে কানে কথা বলছি। সকলেই হেসে উঠলো। এটা রাসেলের একটা খেলা, কানের কাছে মুখ নিয়ে চুপ করে থাকে আর হাসে। আর আমার কাছ থেকে ফিরে যাবার চায় না। ওর মায়ের কাছে দিয়ে ভেতরে চলে আসলাম।’

ওর কাছ থেকে বিদায় নিতে কষ্ট হয়

১৯৬৭ সালের ঈদে ছেলেমেয়েরা কোনও কেনাকাটা করবে না, এমন প্রসঙ্গ এনে রাসেলকে নিয়ে ২০১ পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু বর্ণনা করেছেন এভবে, ‘ওরা বুঝতে শিখেছে। রাসেল ছোট্ট তাই এখনও বুঝতে শিখে নাই। শরীর ভালো না, কিছুদিন ভুগেছে। দেখা করতে এলে রাসেল আমাকে মাঝে-মধ্যে ছাড়তে চায় না। ওর কাছ থেকে বিদায় নিতে কষ্ট হয়।’

রাসেল ফুলের মালা হাতে দাঁড়াইয়া আছে

১৯৬৭ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম জন্মবার্ষিকীতে পরিবারের সদস্যরা জেলখানায় সাক্ষাৎ করেন। এ প্রসঙ্গে বইয়ের ২১০ পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, “...পাঁচটাও বেজে গেলো। ঠিক সেই মুহর্তে জমাদার সাহেব বললেন, ‘চলুন, আপনার বেগম সাহেবা ও ছেলেমেয়েরা এসেছে।’ তাড়াতাড়ি কাপড় পরে রওয়ানা করলাম জেল গেটের দিকে। ছোট মেয়েটা আর আড়াই বৎসরের ছেলে রাসেল ফুলের মালা হাতে দাঁড়াইয়া আছে। মালাটা রাসেলকে পরাইয়া দিলাম, সে কিছুতেই পরবে না, আমার গলায় দিয়ে দিলো।... আওয়ামী লীগ একটা বিরাট কেক পাঠাইয়া দিয়েছে। রাসেলকে দিয়ে কাটালাম, আমিও হাত দিলাম।’’

বইয়ের ২১১ পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘রাসেলও বুঝতে আরম্ভ করেছে, এখন আর আমাকে নিয়ে যেতে চায় না।’

কারাগারের রোজনামচার ২২১ পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু ১৯৬৭ সালের ১৪ ও ১৫ এপ্রিলের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। সেখানে রাসেলকে নিয়ে তিনি লিখেছেন, “জেল গেটে যখন উপস্থিত হলাম, ছোট ছেলেটা আর বাইরে এসে দাঁড়াইয়া নাই দেখে একটু আশ্চর্য হলাম। আমি যখন রুমের ভেতর যেয়ে ওকে কোলে নিলাম, আমার গলা ধরে ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ করে কয়েকবার ডাক দিয়ে ওর মার কোলে যেয়ে ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ করে ডাকতে শুরু করলো। ওর মাকে ‘আব্বা’ বলে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ব্যাপার কী?’ ওর মা বললো “বাড়িতে ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ করে কাঁদে তাই ওকে বলেছি আমাকে ‘আব্বা’ বলে ডাকতে।” রাসেল ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ বলে ডাকতে লাগলো। যেই আমি জবাব দেই, সেই ওর মার গলা ধরে বলে, ‘তুমি আমার আব্বা।’ আমার ওপর অভিমান করেছে বলে মনে হয়। এখন আর বিদায়ের সময়ে আমাকে নিয়ে যেতে চায় না।’’

কথা একটাও মুখে রাখে না

১৯৬৭ সালের ২৮-৩০ এপ্রিলের ঘটনাবলির বর্ণনায় রাসেলের প্রসঙ্গ এসেছে। এখানে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন,“… রাসেল একবার আমার কোলে, একবার তার মার কোলে, একবার টেবিলের ওপরে উঠে বসে। আবার মাঝে মাঝে আপন  মনেই এদিক-ওদিক হাঁটাচলা করে। বড় দুষ্ট হয়েছে, রেহানাকে খুব মারে। রেহানা বললো, ‘আব্বা দেখেন আমার  মুখখানা কী করেছে রাসেল মেরে।’ আমি ওকে বললাম, তুমি রেহানাকে মার? রাসেল বললো, ‘হ্যাঁ মারি।’ বললাম, ‘না আব্বা আর মেরো না।’ উত্তর দিলো, ‘মারবো।’ কথা একটাও মুখে রাখে না।’’

বইয়ের ২৪০ পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘রাসেল আমাকে নিয়ে যেতে চায় বাড়িতে। এক বৎসর হয়ে গেছে জেলে এসেছি। রাসেল একটু বড় হয়ে গেছে।’

আব্বা, আর  তোমাদের দরকার নাই এ পথের

১৯৬৭ সালের ২৭ ও ২৮ মে’র ঘটনাতেও  রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু বর্ণনা করেছেন। বইয়ের ২৪৬ ও ২৪৭ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন, ‘‘.. .রাসেল আমাকে পড়ে শোনালো, আড়াই বৎসরের ছেলে আমাকে বলছে, ৬ দফা মানতে হবে- সংগ্রাম সংগ্রাম-চলবে চলবে,পাকিস্তান জিন্দাবাদ, ভাঙা ভাঙা করে বলে কী মিষ্টি শোনায়! জিজ্ঞাসা করলাম, ও শিখলো কোথা থেকে? রেণু বললো, ‘বাসায় সভা হয়েছে, তখন কর্মীরা বলেছিল তাই শিখেছে।’ বললাম, আব্বা, আর তোমাদের দরকার নাই এ পথের। তোমার আব্বাই পাপের প্রায়শ্চিত করুন।’’

আব্বা বালি চলো

বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৭ সালের ২২ জুনের ঘটনা উঠে এসেছে বইয়ের ২৪৯ পৃষ্ঠায়। এখানে  তিনি লিখেছেন, ‘‘ …দুই বৎসরের ছেলেটা এসে বলে, ‘আব্বা বালি চলো’। কী উত্তর ওকে আমি দেবো। ওকে ভোলাতে চেষ্টা করলাম ও তো বোঝে না আমি কারাবন্দি। ওকে বললাম, তোমার মা’র বাড়ি তুমি যাও। আমি আমার বাড়ি থাকি। আবার আমাকে দেখতে এসো। ও কি বুঝতে চায়! কী করে নিয়ে যাবে এই ছোট্ট ছেলেটা, ওর দুর্বল হাত দিয়ে মুক্ত করে এই পাষাণ প্রাচীন থেকে!

দুঃখ আমার লেগে গেলো। শত হলেও আমি তো মানুষ আর ওর জন্মদাতা। অন্য ছেলেমেয়েরা বুঝতে শিখেছে। কিন্তু রাসেল এখনও বুঝতে শিখে নাই। তাই মাঝে মাঝে আমাকে নিয়ে যেতে চায় বাড়িতে।

/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ১৮ অক্টোবরের ঘটনা।)

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাপান যাওয়ার পথে কুয়ালালামপুরে যাত্রাবিরতির সময় বলেছেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আরবদের পাশে থেকে যুদ্ধ করতে, বাংলাদেশ সেখানে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত। ১৯৭৩ সালের এই দিনে জাপান যাওয়ার পথে খুব ভোরে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে পৌঁছার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এক অনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ তাদের পাশে থাকবে এবং সব রকম সাহায্য দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আরবদের প্রতি নৈতিক ও বৈষয়িক সমর্থনদানের কথা ঘোষণা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘সংগ্রামে লিপ্ত লোকদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা আমাদের এই সমর্থনের ভিত্তি।’

বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘মিসর ও সিরিয়ার জনগণের জন্য বাংলাদেশ এক লাখ পাউন্ড চা পাঠাচ্ছে। যুদ্ধে আহতদের আরও ভালো চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও একটি মেডিক্যাল টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আরবদের মুক্তি-সংগ্রামে তাদের পাশেই থাকবো।’ বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ার কৃষিমন্ত্রী এবং অন্যান্য পদস্থ সরকারি কর্মচারী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্বল্পকাল অবস্থানের কারণে আনন্দ প্রকাশ করেন দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে আগ্রহী।’ যাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সেই দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কিনা, জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বিশ্বের কোন মুহূর্তে কী অবস্থা ও পরিস্থিতি দাঁড়ায়, তার ওপরে সেটা নির্ভর করবে।’ তিনি বলেন, ‘ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব এবং ওই অঞ্চলে যে ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হোক না কেন, এই বন্ধুত্ব অটুট থাকবে।’ বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন সমস্যার প্রতি জাপানের সহানুভূতি রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনায় জাপানের কাছ থেকে আর্থিক ও কারিগরি উভয় প্রকার সাহায্য আমরা চাইবো।’ শেখ মুজিব বলেন, ‘বাংলাদেশ দিল্লি চুক্তির প্রতি আস্থাশীল এবং এর বাস্তবায়ন পরিপন্থী কোনও কাজ তারা করবে না।’ এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘পাকিস্তান আমাদের স্বীকৃতি দেওয়ার কে, প্রশ্ন হলো আমরা পাকিস্তানকে স্বীকার করি কিনা।’

টোকিওতে বিশাল সংবর্ধনা

টোকিওতে নামার পরে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আন্তরিক সংবর্ধনা জানানো হয়। অর্থনৈতিকভাবে পরাক্রমশালী মহাশক্তি জাপানে সাত দিনের সফরে বঙ্গবন্ধু সেখানে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাপানের নেতাদের সঙ্গে অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার ব্যাপারে ব্যাপকভিত্তিক আলোচনা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমানের  উড়োজাহাজ থেকে বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে টোকিও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাপানি প্রধানমন্ত্রী তানাকা বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের নেতাকে সংবর্ধনা জানান। তিনি বঙ্গবন্ধুকে বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ সুধীজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর বঙ্গবন্ধু গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু সেখানে যে হোটেলে থাকবেন, সেখানে যাত্রা করেন।

/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:০৭

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের জন্মদিন আজ। ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনীর বিপথগামী সদস্যরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সময় এই শিশুকেও ছাড়েনি। বেঁচে থাকলে তাঁর বয়স হতো ৫৮ বছর। বড় বোন শেখ হাসিনা দুঃখ-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে স্মরণ করেন শিশু রাসেলকে।

রাসেলের নাম রাখার স্মৃতিচারণ করে গতকাল (১৭ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী জানান, বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত প্রিয় লেখক ছিলেন খ্যাতনামা দার্শনিক ও নোবেলজয়ী লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল। তার বই পড়ে বঙ্গমাতাকে ব্যাখ্যা করে শোনাতেন জাতির পিতা। তাই বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গমাতা মিলে শখ করে আদরের ছোট ছেলের নাম রাখেন ‘রাসেল’।

শেখ হাসিনার কথায়, ‘নামটি শুনলেই প্রথমে যে ছবি সামনে ভেসে আসে তা হলো- হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণচঞ্চল এক ছোট্ট শিশুর দুরন্ত শৈশব; যে শিশুর চোখ হাসি-আনন্দে ভরপুর। মাথাভর্তি অগোছালো চুলের সুন্দর একটি মুখাবয়ব, যে মুখাবয়ব ভালোবাসা ও মায়ায় মাখা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিজীবনের অজানা-অদেখা গল্প নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’-এ তিনি তুলে ধরেন ছোট্ট রাসেলকে। মাত্র ১০ বছর ১০ মাসের জীবন তাঁকে যে গভীর ক্ষতবোধ দিয়েছিল তা সবসময়ই ফুটে ওঠে বড় বোনের কণ্ঠে, ‘রাসেল জন্মানোর পর আমরা ভাইবোনেরা খুব খুশি হই। যেন খেলার পুতুল পেলাম হাতে। ও খুব আদরের ছিল আমাদের। একটা ব্যক্তিত্ব নিয়ে চলতো। ওইটুকু একটা মানুষ, খুব স্ট্রং পার্সোনালিটি।’

২০১৯ সালে রাসেলের জন্মদিনে আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা না বলা অনেক কথা ভাগাভাগি করেন। স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, ‘বন্দিখানায় থাকা অবস্থায় যখন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেই যুদ্ধের সময় যখন আক্রমণ হতো, রাসেল পকেটে সবসময় একটু তুলা রাখতো। নিজের কানে দেওয়ার পাশাপাশি ছোট্ট জয়ের কানেও তুলা দিয়ে দিতো, যেন ওই আওয়াজে জয়ের কোনও ক্ষতি না হয়। জয়ের প্রতি রাসেল খুব খেয়াল রাখতো। সবসময়ই তার সেদিকে বিশেষ নজর ছিল।’

কোমলমতি শিশু রাসেলসহ পুরো পরিবারকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের এক নির্মম, জঘন্য ও বিভীষিকাময় রাতে হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

গতকালের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী, ষড়যন্ত্রকারী ও বিশ্বাসঘাতকদের হাতে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের ১৮ জন সদস্য শহীদ হন। সেদিন ছোট্ট শিশু রাসেলও খুনিদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। রাসেল তো বাঁচতে চেয়েছিল। বাঁচার জন্য ঘাতকদের কাছে আকুতি জানিয়েছিল, মায়ের কাছে যাওয়ার কথা বলেছিল। মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ঘাতকরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।’

/ইউআই/জেএইচ/

সম্পর্কিত

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

প্রথমবার জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:০৫

‘শেখ রাসেল দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’- এ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ  ১৮ অক্টোবর প্রথমবারের মতো জাতীয় দিবস হিসেবে দেশব্যাপী জেলা-উপজেলা এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হবে ‘শেখ রাসেল দিবস ২০২১’।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। 

দিবসটি উপলক্ষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং শিক্ষা, শিল্পকলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১০টি ‘শেখ রাসেল স্বর্ণপদক’, শেখ রাসেল পদকপ্রাপ্ত ও অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের ২০টি ল্যাপটপ, এলইডিপির আওতায় মূল অনুষ্ঠানে পাঁচটি এবং বিভিন্ন জেলায় ৩ হাজার ৯৯৫টিসহ মোট ৪ হাজারটি ল্যাপটপ দেওয়া হবে।

এছাড়া শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদ ৬০টি পুরস্কার বিতরণ করবে। দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে।

এছাড়া আইসিটি বিভাগ ও বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমির যৌথ উদ্যোগে ১৮ অক্টোবর সকাল ৬টায় বনানী কবরস্থানে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ৭টায় সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে।

সকাল সাড়ে ৯টায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদের যৌথ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) হল অব ফেম-এ শেখ রাসেল দিবসের উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।

দিবসটি উপলক্ষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, হল অব ফেম-এ বিকাল ৩টায় ‘শেখ রাসেল দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। একই মিলনায়তনে ‘কনসার্ট ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমির উদ্যোগে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ’ বিষয়ক পুস্তক প্রদর্শিত হবে।

সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকায় ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন, দুপুর ১২টায় শিশু অ্যাকাডেমি অডিটোরিয়ামে শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে শিশু অ্যাকাডেমির মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, দুপুর ২টায় ‘মৃত্যুঞ্জয়ী শেখ রাসেল’ গ্যালারিতে আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ নিজস্ব কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল দিবস পালনের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর।  

এ উপলক্ষে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘শেখ রাসেল বুক কর্নার’ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। চলতি মাসের মধ্যেই দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্নার করা হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপদগামী সদস্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সময় তার ছোট ছেলে শেখ রাসেলকেও হত্যা করে। ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুলে (বর্তমানে ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ) চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন শেখ রাসেল। তার  জন্ম ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর।

শেখ রাসেলের জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৮ অক্টোবর ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে পালন এবং দিবসটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত ঘোষণা করে সরকার। 

 

/এসএমএ/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

সেই বছরের আরব যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাতে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ডেলটা প্ল্যান বাস্তবায়নে অর্থের যোগান নিশ্চিত নয়

ডেলটা প্ল্যান বাস্তবায়নে অর্থের যোগান নিশ্চিত নয়

বাস্তবায়ন না হলে ক্ষতির মুখে পড়বে সামষ্টিক অর্থনীতি

ডেল্টা প্ল্যান-২১০০বাস্তবায়ন না হলে ক্ষতির মুখে পড়বে সামষ্টিক অর্থনীতি

লবণাক্ততা রোধে যা বলা আছে ডেল্টা প্ল্যানে

লবণাক্ততা রোধে যা বলা আছে ডেল্টা প্ল্যানে

হটস্পট মোকাবিলায় যতো কৌশল

ডেল্টা প্ল্যান ২১০০হটস্পট মোকাবিলায় যতো কৌশল

ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে যা করতে হবে

ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে যা করতে হবে

ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ : সরকারের এ মহাপরিকল্পনায় যা থাকছে

ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ : সরকারের এ মহাপরিকল্পনায় যা থাকছে

সর্বশেষ

পাবজি খেলা নিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর সংশোধনাগারে

পাবজি খেলা নিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর সংশোধনাগারে

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

সম্পাদকের অনুসারীদের হাতে চবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি লাঞ্ছিত

সম্পাদকের অনুসারীদের হাতে চবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি লাঞ্ছিত

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, জেলখানা ওর আব্বার বাড়ি

প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে যুবক গ্রেফতার 

প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে যুবক গ্রেফতার 

© 2021 Bangla Tribune