X
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

অনলাইনে চটকদার অফারে যেভাবে চলে প্রতারণা

আপডেট : ১৪ জুন ২০২১, ১৩:০০

অনেক নকল ফেসবুক পেজ আছে, যেগুলোর কাজ হলো বাহারি সব পোশাকের ছবি তুলে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া। ছবিগুলো গুগল ও অন্যসব পেজ থেকে ডাউনলোড করে পেজের অ্যাডমিনরা। নামিদামী নকশার পোশাকগুলোর মধ্যে লিখে দেয় অবিশ্বাস্য মূলছাড়। আসতে থাকে একের পর এক অর্ডার। ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন ইনবক্সে। এরপর এক শ্রেণির ক্রেতা বিশ্বাস করে দিয়ে দেন অগ্রিম পেমেন্ট। টাকা দেওয়ার পর দেখা গেলো ব্লক করে দেওয়া হয় ওই ব্যক্তিকে। আবার দেখা যায় পণ্য পাঠালেও ছবির সঙ্গে মিল থাকে না সেটার। প্যাকেটের ভেতরে থাকে ছেঁড়া-ফাটা কিংবা পুরনো কাপড়। বিশেষ করে নারীদের পোশাক ও কসমেটিকসেই এমন প্রতারণা ঘটছে অহরহ।

দেড় বছর ধরে একটি চক্র এ ধরনের প্রতারণা করে আসছিল। অবশেষে ভুক্তভোগী এক নারীর দায়ের করা মামলায় এক দম্পতিসহ গ্রেফতার হয়েছে একটি গ্রুপ। তাদের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় মামলা হয়েছে।

যেভাবে হতো প্রতারণা

অনলাইনে প্রতারিত হয়ে মিতু বসাক নামে এক নারী চিকিৎসক থানায় মামলা করেন। অভিযোগে বলেন-গত ২০ এপ্রিল তার নিজের ফেসবুক আইডির নিউজ ফিডে ‘ললনা ফ্যাশন’ নামে একটি পেইজের শাড়ির বিজ্ঞাপন দেখতে পান। শাড়ি কিনতে তিনি ২০ এপ্রিল ওই পেজে মেসেজ করেন। ওই দিন সকাল ১১টার দিকে তার বিকাশ একাউন্ট-এর মাধ্যমে পেজের কর্মীদের কথা অনুযায়ী ১০০ টাকা পাঠান। পরদিন এসএ পরিবহনের কাকরাইল শাখা হতে দুই হাজার পঞ্চাশ টাকা দিয়ে পার্সেল রিসিভ করেন তিনি। বাসায় এনে প্যাকেট খুলে দেখেন অর্ডারের সঙ্গে মিল নেই পণ্যের। দেওয়া হয়েছে নিম্নমানের একটি শাড়ি। যার দাম হবে বড়জোর চার শ’ টাকা।

গোয়েন্দা জালে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন

মামলা দায়েরের পর রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকা থেকে গত ২৩ মে এক দম্পতিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তারা হলেন- মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসেন, খাদিজা আক্তার রুপা ও তাদের সহযোগী তানিম আল ইমরান।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রতারকরা কয়েক ধাপে প্রতারণা করতেন। অনলাইনের বিভিন্ন পেইজ হতে পণ্যের ছবি ডাউনলোড করে সেটার গায়ে দাম বসাতেন ওয়াদুদ। এরপর বিভিন্ন ফেক পেইজে শাড়িসহ আরও অনেক পণ্যের বিজ্ঞাপন দেন তিনি। পণ্য ক্রয় করতে আগ্রহী ক্রেতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অনলাইন ট্রানজেকশন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ডেলিভারি চার্জ হিসাবে অগ্রিম ১০০-১৫০/- টাকা নিতেন।

এরপর অর্ডারকৃত পণ্যের বদলে কেনা হতো নিম্নমানের পণ্য। সেটাকে প্যাকিং করে শর্ত সাপেক্ষে কুরিয়ার করতো তারা। ক্রেতারা কুরিয়ার সার্ভিসকে টাকা পরিশোধ করেই গ্রহণ করতেন পণ্যটি। বাসায় নেওয়ার আগে বোঝার উপায় নেই ওই প্যাকে কী আছে। ডেলিভারি দেওয়ার পর অনলাইন পেইজটি ওই ক্রেতাকে ব্লক করে দেয়।

ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য খাদিজা আক্তার রুপা পেজের কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি হিসেবে আগ্রহী ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন ও নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করেন। ডেলিভারি চার্জের টাকাও গ্রহণ করেন তিনি।

তানিম আল ইমরান পেশায় ছাত্র। পাশাপাশি বিভিন্ন পেজের বুস্টিং-এর কাজ করেন তিনি। প্রতারণামূলক এসব পেজে বুস্টিংয়ের জন্য তিনি প্রতি ডলার ১০৩ টাকা হারে নিতেন।

জানা গেছে, মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসেন আগে কনস্ট্রাকশনের কাজে জড়িত ছিলেন। পরে করোনার কারণে ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় প্রতারণার পথ বেছে নেন তিনি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ) মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চক্রটি মূলত করোনার সময় প্রতারণা করে আসছিল। এ সময়ে মানুষ বেশি অনলাইন নির্ভর হওয়ায় তারা সুযোগটা নিয়েছে। চক্রটির বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি।’

তিনি জানান, অনলাইনে ভালো ই-কমার্স সাইটও রয়েছে। তাই কেনাকাটা করার আগে ওই পেজের আগের পোস্ট ও কমেন্ট যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।

 

 

/এফএ/আপ-এনএইচ/

সম্পর্কিত

ফাঁকা শহরে বৃষ্টির আগমন (ফটোস্টোরি)

ফাঁকা শহরে বৃষ্টির আগমন (ফটোস্টোরি)

চার দিন পর শিশুকে উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার

চার দিন পর শিশুকে উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার

গার্মেন্টস কর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুজন গ্রেফতার

গার্মেন্টস কর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুজন গ্রেফতার

কত প্রকার মাদক আছে দেশে?

কত প্রকার মাদক আছে দেশে?

ফাঁকা শহরে বৃষ্টির আগমন (ফটোস্টোরি)

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ১৫:৫৮

বৃষ্টি কার না পছন্দ? আর সেটা যদি ফাঁকা শহরে সেটাতো আরও রোমাঞ্চকর। হ্যাঁ, চলমান কঠোর বিধিনিষিধে এখন অনেকটাই ফাঁকা রাজধানী ঢাকা। বন্ধ রয়েছে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। আর এ সুযোগে বৃষ্টির আগমনে ভিজেছে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি। আবার অনেকেই মুক্ত বিহঙ্গে ভিজেছেন বৃষ্টিতে। কেউবা ছাউনির নিচে বসে উপভোগ করেছেন বৃষ্টির ছোঁয়া। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকেই আকাশে দেখা মেলেনি সূর্যের। লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বেড়েছে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা। এ বৃষ্টিপাত অপ্রত্যাশিত ছিল না। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী শনিবার (৩১ জুলাই) পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।

ছবিতে দেখুন বিস্তারিত...

রাজধানীতে বৃষ্টি।

রাজধানীতে বৃষ্টি।

রাজধানীতে বৃষ্টি।

রাজধানীতে বৃষ্টি।

রাজধানীতে বৃষ্টি।

রাজধানীতে বৃষ্টি।

রাজধানীতে বৃষ্টি।

রাজধানীতে বৃষ্টি।

রাজধানীতে বৃষ্টি।

রাজধানীতে বৃষ্টি।

রাজধানীতে বৃষ্টি।

রাজধানীতে বৃষ্টি।

 

 

/এনএইচ/

সম্পর্কিত

চার দিন পর শিশুকে উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার

চার দিন পর শিশুকে উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার

চুক্তিতে কিলিং মিশনে কাজ করতো তারা

চুক্তিতে কিলিং মিশনে কাজ করতো তারা

ফকিরাপুলে হোটেল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

ফকিরাপুলে হোটেল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

এখনও ভেঙে ভেঙে রাজধানীতে আসছে মানুষ

এখনও ভেঙে ভেঙে রাজধানীতে আসছে মানুষ

চার দিন পর শিশুকে উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ১৫:১২

সাভার থেকে অপহরণের চার দিন পর স্বপ্না নামে ১১ বছরের এক শিশুকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন র‌্যাব-৪। বুধবার (২৮ জুলাই) বিকালে সাভার এলাকা অপহরণের শিকার শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এসময় অপহরণকারী মো. মোছাদ্দেক আলমকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে র‌্যাব-৪ এর সিইও এডিশনাল ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, গত ২৬ জুলাই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি, ২৪ জুলাই সাভার এলাকা থেকে ১১ বছরের শিশু স্বপ্নাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। তারই ধারাবাহিকতায় ২৮ জুলাই দিনভর অভিযান পরিচালনা করে সাভার মডেল থানাধীন এলাকা থেকে অপহৃত ১১ বছরের শিশুর স্বপ্না খাতুনকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অপহরণের সঙ্গে জড়িত মোসাদ্দেক আলমকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ২৪ জুলাই সাভার মডেল থানাধীন পলো মার্কেটের সামনে হতে অপহরণ করে। পরবর্তীতে সে ভুক্তভোগীকে ট্রাক করে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর থানার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিয়ে আটকে রাখে এবং ভিকটিমের পিতা-মাতার নিকট মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে সে পুনরায় ট্রাকযোগে সাভার এলাকায় চলে আসে এবং তখনই র‍্যাব-৪ কর্তৃক ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করাসহ আসামিকে গ্রেফতার করা হয় জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

 

/আরটি/এনএইচ/

সম্পর্কিত

চুক্তিতে কিলিং মিশনে কাজ করতো তারা

চুক্তিতে কিলিং মিশনে কাজ করতো তারা

ফকিরাপুলে হোটেল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

ফকিরাপুলে হোটেল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

এখনও ভেঙে ভেঙে রাজধানীতে আসছে মানুষ

এখনও ভেঙে ভেঙে রাজধানীতে আসছে মানুষ

নগরবাসীর কাছে ১০ মিনিট সময় চান আতিকুল ইসলাম

নগরবাসীর কাছে ১০ মিনিট সময় চান আতিকুল ইসলাম

গার্মেন্টস কর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুজন গ্রেফতার

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ১৫:০৫

রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকার মুরাদপুরে এক গার্মেন্টস কর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে। মামলায় পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করলেও অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে। 

আটককৃত আসামিরা হলো মো. মেহেদী হাসান (১৯) ও মো. সোহাগ হোসেন (২০)।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, উনিশ বছর বয়সী ওই গার্মেন্টস কর্মী যাত্রাবাড়ী এলাকায় থাকেন। এলাকারই একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন তিনি। গত মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় আকাশ (২০) নামে পূর্ব পরিচিত এক যুবক মোবাইল ফোনে তাকে ডেকে নেয়। এরপর সেখান থেকে মুরাদপুরের একটি বাড়ির ছাদে নিয়ে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। 

ঘটনার পরপরই ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে রাতেই ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে ৬ জনের নামে একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। 

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাকি ৪ আসামি পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সজীব দে বলেন, বুধবার (২৮ জুলাই) মধ্যরাতে ওই গার্মেন্টস কর্মীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়। আটককৃত আসামিদেরকে কোর্টে চালান করা হয়েছে।

 

/এআইবি/আরটি/এনএইচ/

সম্পর্কিত

করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫৯ জন বিচারক চিকিৎসাধীন

করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫৯ জন বিচারক চিকিৎসাধীন

ঢাকায় গ্রেফতার বেড়েছে

ঢাকায় গ্রেফতার বেড়েছে

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে অভিযান: ২৪ মামলায় ৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে অভিযান: ২৪ মামলায় ৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা

দক্ষিণখানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার নারী কারাগারে

দক্ষিণখানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার নারী কারাগারে

মাদক ভয়ংকর-৪

কত প্রকার মাদক আছে দেশে?

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ১৫:০০

দেশে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ২৭ ধরনের মাদক। নিয়মিত সেবনের তালিকায় ১৮ ধরনের মাদকই বেশি। সবচেয়ে বেশি সেবন হচ্ছে ইয়াবা ও গাঁজা। নতুন আইন করেও কমানো যায়নি মাদকের ব্যাপকতা। অভিযান চালিয়ে সরবরাহ চ্যানেল কিছু সময়ের জন্য আটকানো গেলেও আসক্তরা মাদক পাচ্ছে নিয়মিতই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে মাদকের প্রসার না কমলে বাংলাদেশেও এর ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। এ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের একযোগে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

২৭ রকম মাদক

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন চার ধরনের মাদকসহ বাংলাদেশে ২৭ ধরনের মাদক উদ্ধার হয়েছে। এগুলো হলো- ম্যাজিক মাশরুম, ডায়মিথাইলট্রিপ্টামাইন (ডিএমটি), লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড (এলএসডি), ক্রিস্টাল মেথ বা আইস বা মেথামফিটামিন, এস্কাফ সিরাপ, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন, প্যাথিডিন, চোলাই মদ, দেশি মদ, বিদেশি মদ, বিয়ার, রেক্টিফায়েড স্পিরিট, ডিনেচার্ড স্পিরিট, তাড়ি, বুপ্রেনরফিন (টি.ডি. জেসিক ইঞ্জেকশন), ভাং, কোডিন ট্যাবলেট, ফার্মেন্টেড ওয়াশ (জাওয়া), বুপ্রেনরফিন (বনোজেসিক ইনজেকশন), মরফিন, ভায়াগ্রা, সানাগ্রা, টলুইন, পটাশিয়াম পারম্যাংগানেট ও মিথাইল-ইথাইল কিটোন।

এ ছাড়াও বিভিন্ন বৈধ ড্রাগ একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে মাদক। এসবও সেবন হচ্ছে দেদার।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (চট্টগ্রাম অঞ্চল) মজিবুর রহমান পাটোয়ারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের দেশের মাদকসেবীদের একাধিক মাদক গ্রহণের ঝোঁক রয়েছে। যে মাদকটা সে নিয়মিত গ্রহণ করে, সেটি না পেলে হাতের কাছে যা পায় তা-ই নিয়ে নেয়। মাদকসেবীরা নিজেরাও বৈধ ড্রাগের অপব্যবহার করছে। আমারা দেখেছি দেশে ৮ থেকে ১০ ধরনের মাদক নেওয়ার প্রবণতা বেশি। বাকিগুলো খুব একটা দেখা যায় না।’

আন্তর্জাতিক চক্রের নজর কেন বাংলাদেশে?

মাদকাসক্তি বিষয়ক গবেষক ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এমদাদুল হক বলেন, ‘ভৌগোলিকভাবেই বাংলাদেশ বিশ্বের তিনটি বৃহত্তম মাদক উৎপাদনকারী অঞ্চলের মাঝে পড়েছে। এটি একটি ‘স্যান্ডউইচ’ অবস্থা। গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গলে আছে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড, গোল্ডেন ওয়েজ অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় দেশ ভারত এবং গোল্ডেন ক্রিসেন্ট অঞ্চলে আছে পাকিস্তান, ইরান ও আফগানিস্তান।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানে তাই বাংলাদেশের ভূকৌশলগত গুরুত্ব অনেক। এ চক্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মাদক কারবারিদের যোগাযোগটাও এ কারণে শক্তিশালী। শ্রীলঙ্কায় এর আগে মাদক নিয়ে বাংলাদেশি নারী-পুরুষ গ্রেফতার হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ইয়াবা মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও পাঠানোর চেষ্টা হয়েছে। বিমানবন্দরে অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে ও হচ্ছে।’

অধ্যাপক এমদাদুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে এই অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলো নিয়েও কাজ করতে হবে। কারণ তাদের দেশে মাদকের ভয়াবহতা থাকলে প্রভাব বাংলাদেশে পড়বেই।’

 

/এফএ/আপ-এনএইচ/
টাইমলাইন: ভয়ংকর মাদক
২৯ জুলাই ২০২১, ১৫:০০
কত প্রকার মাদক আছে দেশে?
২৮ জুলাই ২০২১, ১৩:০০
২৬ জুলাই ২০২১, ১৬:০৯

সম্পর্কিত

মাস্ক সঙ্গে থাকলেই হবে?

মাস্ক সঙ্গে থাকলেই হবে?

ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে ‘ট্যাপ’র উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে ‘ট্যাপ’র উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে প্রাথমিকের নির্দেশনা

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে প্রাথমিকের নির্দেশনা

লকডাউনে ঢাকায় ফেরার গল্প (ভিডিও স্টোরি)

লকডাউনে ঢাকায় ফেরার গল্প (ভিডিও স্টোরি)

আজ আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস

'বাঘের জীবন রক্ষায় সুন্দরবন রক্ষা জরুরি'

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪:৫৮

বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং বাঘ সংরক্ষণের জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রতি বছরের মতো এবারও আজ ২৯ জুলাই পালন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য‑ ‘বাঘ বাঁচাবে সুন্দরবন, সুন্দরবন বাঁচাবে লক্ষ প্রাণ’।

২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বাঘ অভিবর্তনে এই দিবসটির সূচনা হয়। সারা বিশ্বে দিবসটি পালন করা হলেও বাঘ টিকে আছে বিশ্বের এমন ১৩টি দেশে বাঘের ঘনত্ব বেশি থাকায় এসব দেশে গুরুত্ব সহকারে দিবসটি পালন করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রথম বাঘ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ নিজ নিজ দেশে বাঘের সংখ্যা ১২ বছরের মধ্যে দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছিল। এর মধ্যে নেপাল বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে। ভারত এবং ভুটানও দ্বিগুণের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা খুব একটা বাড়েনি।

বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, সুন্দরবন সংরক্ষণের যে গুরুত্ব তা সরকার মানসিকভাবে এখনও অনুধাবন করতে পারেনি। তাই সুন্দরবন এখনও অরক্ষিত। বরং সুন্দরবন ধ্বংসের সব ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশ উদ্যোগী সরকার। তিনি বলেন, শুধু বাঘ নয়, কোনও প্রাণীর জীবনই সেখানে নিরাপদ নয়। যেহেতু সরকারি উদ্যোগ নেই তাই নিজেদের সচেতন হবার পাশাপাশি শক্তিশালী মনিটরিং টিম তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবন ধ্বংসকারী সব ধরনের প্রকল্পের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন করে যেতে হবে।

বন অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে গত চার বছরে বাঘের সংখ্যা ১০৬ থেকে বেড়ে বর্তমানে ১১৪টি হয়েছে। অর্থাৎ চার বছরে বাঘ বেড়েছে ৮টি।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সভাপতি আবু নাসির খান বলেন, বাঘের সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য ও  নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতের জন্য বিশাল বনের প্রয়োজন। সুতরাং বাঘের জন্য দরকার সুন্দরবনের মতো বিশাল বনের। তাই বাঘ বাঁচাতে হলে সুন্দরবন বাঁচাতে হবে। হরিণসহ অন্য প্রাণীও বাঁচাতে হবে। এক কথায়, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা না গেলে বাঘ বাঁচতে পারবে না। সুন্দরবনের চেক এন্ড ব্যালেন্সের জন্য বাঘ একটি ইন্ডিকেটর। বাঘ কেমন আছে‑ সেটা দেখেই আমরা বুঝতে পারব সুন্দরবন কেমন আছে। তাই সুন্দরবন রক্ষায় সবাইকে এক যোগে কাজ করতে হবে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দিবসটি উপলক্ষে খুব বেশি অনুষ্ঠান এবার হচ্ছে না।

দিবসটি উপলক্ষে ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সচিব মো. মোস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করবেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী।

এদিকে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় "বাঘ দিবসে বাঘের গল্প" শীর্ষক এক বিশেষ ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করবেন বাপা’র সভাপতি সুলতানা কামাল। অনুষ্ঠানে বাঘ ও সুন্দরবনের গল্প বলবেন বাপা’র বন জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি বিষয়ক কমিটির সহ-আহবায়ক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল হাসান খান ও অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ, সিনিয়র সাংবাদিক মোহসীন-উল হাকিম, মোংলার স্থানীয় বনজীবী বেলায়েত সরদার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার নূর আলম শেখ, করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির এবং মোংলার জয়মনির ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের নান্টু গাজী।

/এসএনএস/এমএস/

সম্পর্কিত

সুন্দরবন বিপজ্জনক অবস্থানে দাঁড়িয়েছে: সুলতানা কামাল  

সুন্দরবন বিপজ্জনক অবস্থানে দাঁড়িয়েছে: সুলতানা কামাল  

সুন্দরবন রক্ষায় অবিলম্বে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলের দাবি

সুন্দরবন রক্ষায় অবিলম্বে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলের দাবি

সর্বশেষ

ফাঁকা শহরে বৃষ্টির আগমন (ফটোস্টোরি)

ফাঁকা শহরে বৃষ্টির আগমন (ফটোস্টোরি)

আমিরাত থেকে আসা জাহাজের ৮ নাবিক করোনায় আক্রান্ত

আমিরাত থেকে আসা জাহাজের ৮ নাবিক করোনায় আক্রান্ত

সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গে ৫ নারীর মৃত্যু

সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গে ৫ নারীর মৃত্যু

গতবারের চেয়ে এবার কৃষিঋণ ২০০০ কোটি টাকা বেশি বিতরণ করতে চায় ব্যাংক

গতবারের চেয়ে এবার কৃষিঋণ ২০০০ কোটি টাকা বেশি বিতরণ করতে চায় ব্যাংক

‘দুই ম্যাচের একটি জিতিয়েছি, তবে আলোচনায় আসার মতো ইনিংস খেলিনি’

‘দুই ম্যাচের একটি জিতিয়েছি, তবে আলোচনায় আসার মতো ইনিংস খেলিনি’

আবারও শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি গার্মেন্টস মালিকদের

আবারও শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি গার্মেন্টস মালিকদের

লকডাউনেও এক চাঁদের গাড়িতে ৭০ যাত্রী! 

লকডাউনেও এক চাঁদের গাড়িতে ৭০ যাত্রী! 

চার দিন পর শিশুকে উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার

চার দিন পর শিশুকে উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার

গার্মেন্টস কর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুজন গ্রেফতার

গার্মেন্টস কর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুজন গ্রেফতার

প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে টানা ১০ বছর সম্প্রচার!

প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে টানা ১০ বছর সম্প্রচার!

বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা, তিন ছেলেকে কুপিয়ে জখম

বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা, তিন ছেলেকে কুপিয়ে জখম

কত প্রকার মাদক আছে দেশে?

মাদক ভয়ংকর-৪কত প্রকার মাদক আছে দেশে?

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফাঁকা শহরে বৃষ্টির আগমন (ফটোস্টোরি)

ফাঁকা শহরে বৃষ্টির আগমন (ফটোস্টোরি)

চার দিন পর শিশুকে উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার

চার দিন পর শিশুকে উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার

গার্মেন্টস কর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুজন গ্রেফতার

গার্মেন্টস কর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুজন গ্রেফতার

কত প্রকার মাদক আছে দেশে?

মাদক ভয়ংকর-৪কত প্রকার মাদক আছে দেশে?

'বাঘের জীবন রক্ষায় সুন্দরবন রক্ষা জরুরি'

আজ আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস'বাঘের জীবন রক্ষায় সুন্দরবন রক্ষা জরুরি'

চুক্তিতে কিলিং মিশনে কাজ করতো তারা

চুক্তিতে কিলিং মিশনে কাজ করতো তারা

ফকিরাপুলে হোটেল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

ফকিরাপুলে হোটেল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ভারী বৃষ্টিতে ভূমিধসের শঙ্কা

সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ভারী বৃষ্টিতে ভূমিধসের শঙ্কা

‘সবাইকে নিয়ে সেই বিপদেই পড়তে হলো’

‘সবাইকে নিয়ে সেই বিপদেই পড়তে হলো’

এখনও ভেঙে ভেঙে রাজধানীতে আসছে মানুষ

এখনও ভেঙে ভেঙে রাজধানীতে আসছে মানুষ

© 2021 Bangla Tribune