X
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত চাপ বেড়েছে: টিআইবি

আপডেট : ২২ জুন ২০২১, ২০:৩১

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একচ্ছত্র রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই চাপ মোকাবিলা করেই সৎ সাহস ও নীতি-নৈতিকতা বজায় রেখে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে হবে বলে মনে করে সংস্থাটি। ‘করোনাকালে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চ্যালেঞ্জ এবং করণীয়’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা এবং ‘কোভিড-১৯ বিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২০’ ঘোষণা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনলাইন প্লাটফর্মে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এ আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় সাংবাদিক আফসান চৌধুরী বলেন, ‘সাংবাদিকরা এখন আর  নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন না। কোভিড বিষয়ে চুরি নিয়ে সব সাংবাদিকতা হচ্ছে। কিন্তু কোনও কাঠামোগত বিশ্লেষণ খোঁজা হচ্ছে না। এ সময়ে এসে নতুন পর্যায়ের সাংবাদিকতায় যেতে হবে। শুধু চুরি হওয়ার খবর নয়, কেন চুরি হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে সেটার কারণ খুঁজতে হবে।’

ড. গীতিআরা নাসরিন বলেন, ‘অসুস্থতা, মৃত্যু ও অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি এসময়ে সাংবাদিকদের ওপর চাপ প্রয়োগের ঘটনা বেড়েছে। এখন সাংবাদিক এবং পাঠক-দর্শকরা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছেন। দর্শক-পাঠকরা প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন করছেন।’

সাংবাদিক জুলফিকার আলী মাণিক বলেন, ‘সাংবাদিকতায় বাইরের চাপ আমাদের নতজানু করে ফেললেও নীতি-নৈতিকতা অনুসরণ করেই সাংবাদিকদের তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহ করতে হবে। তরুণ সাংবাদিকদেরকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও  সচেতন হতে হবে।’

চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের নির্বাহী পরিচালক তালাত মামুন বলেন, ‘সাংবাদিকতায় সবসময়ই চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সাংবাদিক সংগঠনগুলো সাংবাদিকদের জন্য কী করছে? বিভিন্ন বিষয়ে দোষারোপ করে সাংবাদিকতার সংকট দূর করা যাবে না। এ ব্যাপারে অ্যাকাডেমিক আলোচনা প্রয়োজন।’

এমআইডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিকের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। যে প্রতিবেদনে কাঠামোগত দুর্বলতা আছে, সেখানেই প্রশ্ন করা হয়। তাই অনুসন্ধান যদি কাঠামোগতভাবে সঠিক হয়, তাহলে সাংবাদিক ও সম্পাদকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।’

একাত্তর টেলিভিশনের বার্তা প্রধান শাকিল আহমেদ বলেন, ‘মানুষের গল্প তুলে আনতে পারলে সেটাই সংবাদ মাধ্যমকে এগিয়ে নিতে পারে। তবে সাংবাদিকের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। সাংবাদিকের সুরক্ষা এবং সম্পাদকের এখতিয়ার আইন ও বিধি দ্বারা নিশ্চিত করতে হবে।’

এশিয়ান টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান মানস ঘোষ বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মী আইন মন্দের ভালো। তারপরও আরও অনেক কিছুর দরকার আছে।’

গ্রামের কাগজের সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন বলেন, ‘আমরা যতই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা কিংবা ঐক্যের কথা বলি, নানা প্রতিবন্ধকতা আমাদের আষ্টেপৃষ্টে আটকে রেখেছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে যারা কাজ করি, তাদের সমস্যা আরও প্রকট।’

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, ‘ক্লাব বা ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে আমাদের যেমন রাজপথে থাকা দরকার, তেমনই বুদ্ধিবৃত্তিক স্তরেও থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন চাপ মাথায় নিয়ে পাঠক-দর্শকের প্রত্যাশা পূরণে যা করা দরকার, তার সবটা আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি।’

জিআইজিএন এর বাংলা বিভাগের সম্পাদক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘দুর্নীতির পরিধি যেমন বৈশ্বিক হয়েছে, সাংবাদিকতার পরিসরও তেমন বৃদ্ধি পাওয়া দরকার।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত উভয় ধরনের চ্যালেঞ্জই বিদ্যমান। সাংবাদিকতা বা গণমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিকতাকে আয়নার সামনে দাঁড় করানোর সুযোগ তৈরি করে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মূল বিষয় হলো ‘জিরো সাম গেম’, অর্থাৎ ‘জিততেই হবে বা ক্ষমতায় থাকতেই হবে’! এজন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হবে, তাকে ধরাশায়ী করতে হবে। আর এই কাজটা যখন সাফল্যের সঙ্গে বা তুলনামূলক সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়, তখন বাকি থাকে নাগরিক সমাজের একাংশ এবং গণমাধ্যম। যারা কথা বলে, যারা লেখে, যারা সরকারের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে সরকারের সহায়ক ভূমিকা পালন করতে চায়, তারা। সহায়ক ভূমিকা পালনের এই প্রয়াসকে সরকারের একাংশ শত্রু হিসেবে দেখে।’’

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে ক্রমাগতভাবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সাংবিধানিক অধিকার ও দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যেখানে অনেক সাংবাদিক বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় যাওয়ার চিন্তা করেন বা চলে যান।’

আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স বিভাগের পরিচালক শেখ মঞ্জুর-ই-আলম।

 

 /জেইউ/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

মেগা প্রকল্পের সুফল মিলবে আগামী বছর

মেগা প্রকল্পের সুফল মিলবে আগামী বছর

প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে না

প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে না

তিন শতাধিক উসকানিদাতা শনাক্ত, হোতাদের খুঁজছে পুলিশ

তিন শতাধিক উসকানিদাতা শনাক্ত, হোতাদের খুঁজছে পুলিশ

পুলিশের কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন বন্ধে ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ সদর দফতরের

পুলিশের কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন বন্ধে ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ সদর দফতরের

মেগা প্রকল্পের সুফল মিলবে আগামী বছর

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৩

বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ২০২২ সাল হবে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সূচনা। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরই জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে সরকারের কয়েকটি মেগা প্রকল্প। বিশেষ করে পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রো রেলের একটি অংশ জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। একইসঙ্গে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পও চালু করার কথা ভাবছে সরকার। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আর্থিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতেই সরকার দ্রুত এসব কাজ শেষ করতে চাচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, স্বপ্নের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। এসব প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আছে বাংলাদেশের সম্মান, বাঙালির আবেগ। ফলে যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে এসব মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।

সরকার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর কয়কটি বড় প্রকল্পের কাজ শুরু করে। অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প হিসেবে কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের বিশেষ উদ্যোগ নেয় সরকার।

সরকারের এই মেগা প্রকল্পগুলো হচ্ছে—পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প, ঢাকায় মেট্রো রেল প্রকল্প, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প, কর্ণফুলী টানেল, দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ি কয়লা  বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, কয়লাভিত্তিক রামপাল থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প এবং সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প।

জানা গেছে, ২০২২ সালে বড় কয়েকটি প্রকল্প জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য চালু করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবার আগে চালু হচ্ছে পদ্মা সেতু। সরকারের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী জুনের মধ্যে পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তিনিই জানিয়েছেন, ঢাকায় মেট্রো রেলের আগারগাঁও থেকে দিয়াবাড়ী পর্যন্ত অংশে আগামী বছর যাত্রী পরিবহনের আশা রয়েছে। রাজধানীতে বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত উড়ালসড়ক বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালুর কথা রয়েছে ২০২২ সালে। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পটিও খুলে দেওয়া হতে পারে আগামী বছর। সব মিলিয়ে বড় কয়েকটি প্রকল্পের সুফল আগামী বছর থেকে পেতে শুরু করবে মানুষ। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল খুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে আগামী বছরের ডিসেম্বরে।

জানা গেছে, আগামী বছরের জুনে যান চলাচলের জন্য পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সেই লক্ষ্যে পদ্মা সেতুতে অক্টোবরে শুরু হচ্ছে কার্পেটিংয়ের কাজ। পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারের ওপর বসানো রোডস্ল্যাবে পরীক্ষামূলকভাবে কার্পেটিং করা হয়েছে। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে পদ্মা সেতুতে পুরোদমে কার্পেটিং কাজ শুরু হবে।

আগামী জুনে পদ্মা সেতু চালু হলে সরাসরি উপকৃত হবে দেশের দক্ষিণের ২১ জেলার মানুষ। বদলে যাবে অর্থনীতি, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি। মানুষ সেই অপেক্ষায় আছে। বদলে দেবে দেশের জিডিপির আকার। পদ্মা সেতুকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সড়ক অবকাঠামো পরিবর্তিত হচ্ছে। কয়েকটি সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দুটি স্থলবন্দর ও তিনটি সমুদ্রবন্দরকে সংযুক্ত করবে।

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে স্বপ্নের টানেল নির্মাণ হলে বদলে যাবে চট্টগ্রামের চিত্র। আমূল পরিবর্তন আসবে অর্থনৈতিক আঙিনায়। প্রতিষ্ঠিত হবে বহুমুখী যোগাযোগব্যবস্থা। বিস্তৃত হবে চট্টগ্রাম নগর। চাপ কমবে নগরের ওপর। কমবে শহরকেন্দ্রিক নির্ভরতা। গড়ে উঠবে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও যুগোপযোগী সড়ক যোগাযোগ, আধুনিকায়ন হবে বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা, সংযোগ স্থাপিত হবে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে, যুক্ত করা হবে কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শহরের সঙ্গে ডাউন টাউনকে, ত্বরান্বিত হবে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ, বাড়বে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা, গতি পাবে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ, নতুন যোগাযোগব্যবস্থা সৃষ্টি হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে।

২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর উত্তরা-আগারগাঁও পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে মেট্রো রেলের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হতে পারে। ইতিমধ্যেই মেট্রো রেলের একটি সেটে ছয়টি কোচ আছে। ২৪টি ট্রেনের মধ্যে প্রথম সেটটি ঢাকায় এসেছে গত ২৩ এপ্রিল। উত্তরায় ডিপোতে সেটির ১৯ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। ১৪ মে ডিপোর ভেতর প্রায় ৫০০ মিটার তা চালিয়ে দেখা হয়। ইতিমধ্যে দ্বিতীয় সেট ট্রেনও ঢাকায় এসেছে ১ জুন। ১৬ জুন ডিপোর ভেতর ট্রায়াল ট্র্যাকে (পরীক্ষামূলক চলাচল) মেট্রো রেল চালানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, মেট্রো রেল চালু হতে পারে ২০২৩ সালের জুনের পর। এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। এটি চালু হলে রাজধানীর উপর যানবাহনের চাপ কমবে। এতে কমবে যানজট। ঢাকার যানজট নিরসনে এখন মেট্রো রেল ছাড়া আর বিকল্প নেই। তাই যত দ্রুত চালু হবে, ততই মানুষ উপকৃত হবে। মানুষ মেট্রো রেলের জন্য অধীর অপেক্ষায় আছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্পটি চালু হলে কক্সবাজারের সঙ্গে রেলযোগাযোগ বাড়বে। প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, ২০২২ সালের জুনে না হলেও ডিসেম্বরের মধ্যেই রেলপথটি রেল চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপন হবে। পাশাপাশি পর্যটন শহর কক্সবাজারকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কে আনা, পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং সহজে ও কম খরচে মাছ, লবণ, রাবারের কাঁচামাল এবং বনজ ও কৃষিজ দ্রব্যাদি পরিবহন দোহাজারী থেকে কক্সবাজার ও রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য।

পদ্মা সেতুতে রেল-সংযোগ প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালে শতভাগ শেষ না হলেও পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার প্রথম দিনই পরীক্ষামূলক হলেও সেতুতে রেল চালাতে চায় রেলপথ মন্ত্রণালয়। এটি পুরোপুরি চালু হলে পায়রা ও মংলা সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে শিল্পনগরী খুলনা রাজধানী ঢাকা বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সম্পৃক্ততা বাড়বে। বাড়বে বরিশাল, যশোর বিমান বন্দরের সম্পৃক্ততাও। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে রেলপথ যুক্ত হবে। অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে। যা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।      

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম জানিয়েছেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করবে। এতে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। রাজধানীতে যান-চলাচলে গতি আসবে। কমবে যানজট। কমবে নির্ভরতা। জিডিপি সমৃদ্ধ করবে সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো।

/এমআর/ইউএস/

সম্পর্কিত

প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে না

প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে না

তিন শতাধিক উসকানিদাতা শনাক্ত, হোতাদের খুঁজছে পুলিশ

তিন শতাধিক উসকানিদাতা শনাক্ত, হোতাদের খুঁজছে পুলিশ

পুলিশের কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন বন্ধে ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ সদর দফতরের

পুলিশের কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন বন্ধে ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ সদর দফতরের

‘অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে মহানবীর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই’

‘অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে মহানবীর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, গ্রেফতার ৩

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২৩:১২

সম্প্রতি পূজামণ্ডপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ ফেনী থেকে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

রবিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফেনী থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা হলো- আহনাফ তৌসিফ মাহবুব লাবিব (২৩), আব্দুস সালাম জুনায়েদ (১৮), ফয়সাল আহমেদ আল আমিন (১৮)। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশে নাশকতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন উস্কানিমূলক এবং অপব্যাখ্যা মূলক কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ‌‌।

/আরটি/এমআর/

সম্পর্কিত

সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আহ্বান

সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আহ্বান

তিন শতাধিক উসকানিদাতা শনাক্ত, হোতাদের খুঁজছে পুলিশ

তিন শতাধিক উসকানিদাতা শনাক্ত, হোতাদের খুঁজছে পুলিশ

পুলিশের কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন বন্ধে ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ সদর দফতরের

পুলিশের কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন বন্ধে ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ সদর দফতরের

আইস ও অস্ত্রসহ আটক দু’জন ৯ দিনের রিমান্ডে

আইস ও অস্ত্রসহ আটক দু’জন ৯ দিনের রিমান্ডে

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফল প্রকাশ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২২:২৬

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফল প্রকাশ প্রকাশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। রবিবার (১৭ অক্টোবর) ফল প্রকাশ করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় মোট উত্তীর্ণ হন ১৮ হাজার ৫৫০ জন প্রার্থী।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এনটিআরসিএ’র ২০১৯ সালের ১৫ ও ১৬ নভেম্বরের ষোড়শ শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষায় ২২ হাজার ৩৯৮ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে স্কুল-২ পর্যায়ের ১ হাজার ৮০ জন, স্কুল পর্যায়ের ১৫ হাজার ২৪০ জন এবং কলেজ পর্যায়ের ৩ হাজার ৮১১ জনসহ মোট ২০ হাজার ১৩১ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চূড়ান্ত ফলাফল রবিবার (১৭ অক্টোবর)  প্রকাশ করা হয়।

স্কুল-২ পর্যায়ে ৯৯৬ জন, স্কুল পর্যায়ে ১৪ হাজার ৪৬ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ৩ হাজার ৫০৮ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। চূড়ান্তভাবে সর্বমোট ১৮ হাজার ৫৫০ জন প্রার্থী ষোড়শ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। সার্বিক পাসের হার ৯২ দশমিক ১৫ শতাংশ।

প্রার্থীরা পরীক্ষার ফলাফল http://ntrca.gov.bd এবং http://ntrca.teletalk.com.bd ওয়েবসাইট থেকে রাত ১০টার পর জানতে পারবেন। তাছাড়াও টেলিটক বিডি লিমিটেড কৃতকার্য প্রার্থীদের ফলাফল এসএমএস (SMS) এর মাধ্যমে জানিয়ে দেবে।

/এসএমএ/এমআর/

সম্পর্কিত

প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে না

প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে না

ডিনেটের সঙ্গে ইউল্যাবের সমঝোতা স্মারক সই

ডিনেটের সঙ্গে ইউল্যাবের সমঝোতা স্মারক সই

উপজেলা শিক্ষা অফিসার সমিতির সভাপতি মঈনুল, মহাসচিব নাছিমা

উপজেলা শিক্ষা অফিসার সমিতির সভাপতি মঈনুল, মহাসচিব নাছিমা

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে সরকার

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে সরকার

সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আহ্বান

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২২:১১

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেকোনও সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সারাদেশের আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। রবিবার (১৭ অক্টোবর) সংগঠনটির সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্ল্যা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে অনুরোধ করা হয়। একইসঙ্গে পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল তাদের অপ-রাজনীতির উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার হীনমানসে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের লক্ষ্যে সাম্প্রদায়িক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশে আবহমানকাল ধরে থাকা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের এসব ঘৃণ্য কার্যকলাপের কারণে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতাদের বক্তব্য, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক উৎসবে অংশগ্রহণ বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য। তাই স্বাধীনতার চেতনায় গড়ে ওঠা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেকোনও সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে সারাদেশের আইনজীবীরা রুখে দাঁড়াবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

সাম্প্রদায়িক কার্যকলাপে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

/বিআই/জেএইচ/

সম্পর্কিত

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, গ্রেফতার ৩

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, গ্রেফতার ৩

তিন শতাধিক উসকানিদাতা শনাক্ত, হোতাদের খুঁজছে পুলিশ

তিন শতাধিক উসকানিদাতা শনাক্ত, হোতাদের খুঁজছে পুলিশ

পুলিশের কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন বন্ধে ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ সদর দফতরের

পুলিশের কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন বন্ধে ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ সদর দফতরের

আইস ও অস্ত্রসহ আটক দু’জন ৯ দিনের রিমান্ডে

আইস ও অস্ত্রসহ আটক দু’জন ৯ দিনের রিমান্ডে

প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে না

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২১:৫৪

কেন্দ্রীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এবং ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। মূল্যায়নের মাধ্যমে ফলাফল দেওয়া হবে।  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এমন প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুমোদিত সারাংশ রবিবার (১৭ অক্টোবর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মহাপরিচালক বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবের সারাংশ পাঠানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী ওই সারাংশে অনুমোদন দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, প্রস্তাবে বলা হয়েছিল—মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ফলাফল দেওয়া হবে। একইভাবে প্রাথমিকের অন্যান্য শ্রেণির ক্ষেত্রেও মূল্যায়নের মাধ্যমে ফলাফল দেওয়া হবে।’

বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘আমরা প্রস্তাবে মূল্যায়ন শব্দটি রেখেছি। করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেলে বিকল্প মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফলাফল দেবে। আর করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ও ঝুঁকি তৈরির কোনও সম্ভাবনা না থাকলে, বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। নিজ নিজ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে ফলাফল দেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘এবার ইবতেদায়ি সমাপনীও হবে না। তারা আমাদের প্রস্তাবের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে।’ 

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকের সমাপনী (পিইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে হবে না। বার্ষিক মূল্যায়নের মতো শ্রেণি মূল্যায়ন করা হবে। আর শ্রেণি মূল্যায়নের ফল অনুযায়ী, বোর্ডের সনদ পাবেন জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার্থীরা। আর বিদ্যালয় থেকে সনদ পাবে পিইসি পরীক্ষার্থীরা।

শিক্ষামন্ত্রী ওইদিন আরও বলেছিলেন, আমরা যেটি করতে চাইছি—সব শ্রেণির শ্রেণি সমাপনী মূল্যায়ন, যেটি চলছে। চলমান অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়ন চলছে। অষ্টম শ্রেণিরও সমাপনী মূল্যায়ন হবে। সেখানে সামষ্টিক পরীক্ষা হবে—কিছুটা অ্যাসাইনমেন্ট যেটা হচ্ছে, সেটা দিয়ে হবে। আমরা আশা করছি, সনদ এটি দিয়ে দিতে পারবো। তাদের সনদ তো একটা দিতে হবে। অষ্টম শ্রেণির পর অনেকের হয়তো পড়াশোনার সুযোগ হয় না। সেটা আমরা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবো। শিক্ষার্থীরা আগের মতো বোর্ডের সনদ পাবে।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, নিজ নিজ বিদ্যালয়ে প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে। করোনার এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণের বিস্তার রোধে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না। তবে শিক্ষার্থীরা আগের মতোই সনদ পাবে।’

পিইসি, জেএসসি ও জেডিসি সেরকমভাবে হবে না। তবে ক্লাস সমাপনী মূল্যায়ন—অন্যান্য শ্রেণির মতো হচ্ছে এবং হবে।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছর কেন্দ্রীয়ভাবে পিইসি, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষা পাবলিক পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত। কারণ, এই পরীক্ষার সনদ দেওয়া হতো বোর্ড থেকে।

করোনার কারণে ২০২০ সালের পিইসি, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ (ক্লাস প্রশোমন) করা হয়েছে। এবার কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা না নেওয়া হলেও বার্ষিক মূল্যায়ন করা হবে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের মূল্যায়নের ভিত্তিতে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার্থীরা বোর্ড সনদ পাবে। তবে পিইসি পরীক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে উত্তীর্ণের সনদ পাবে।’

 

/এসএমএ/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

মেগা প্রকল্পের সুফল মিলবে আগামী বছর

মেগা প্রকল্পের সুফল মিলবে আগামী বছর

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফল প্রকাশ

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ডিনেটের সঙ্গে ইউল্যাবের সমঝোতা স্মারক সই

ডিনেটের সঙ্গে ইউল্যাবের সমঝোতা স্মারক সই

তিন শতাধিক উসকানিদাতা শনাক্ত, হোতাদের খুঁজছে পুলিশ

তিন শতাধিক উসকানিদাতা শনাক্ত, হোতাদের খুঁজছে পুলিশ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মেগা প্রকল্পের সুফল মিলবে আগামী বছর

মেগা প্রকল্পের সুফল মিলবে আগামী বছর

প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে না

প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে না

তিন শতাধিক উসকানিদাতা শনাক্ত, হোতাদের খুঁজছে পুলিশ

পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুরতিন শতাধিক উসকানিদাতা শনাক্ত, হোতাদের খুঁজছে পুলিশ

পুলিশের কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন বন্ধে ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ সদর দফতরের

পুলিশের কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন বন্ধে ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ সদর দফতরের

‘অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে মহানবীর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই’

‘অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে মহানবীর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই’

ডেঙ্গু: হাসপাতালে ভর্তি ২৬ শতাংশই ১১-২০ বছরের

ডেঙ্গু: হাসপাতালে ভর্তি ২৬ শতাংশই ১১-২০ বছরের

আল নাহিয়ান ট্রাস্ট্রে দ্রুত নির্বাহী পরিচালক নিয়োগের সুপারিশ

আল নাহিয়ান ট্রাস্ট্রে দ্রুত নির্বাহী পরিচালক নিয়োগের সুপারিশ

ইউএনওদের জন্য কেনা হচ্ছে ৫০টি পাজেরো জিপ

ইউএনওদের জন্য কেনা হচ্ছে ৫০টি পাজেরো জিপ

ই-কমার্সে আটকে পড়া টাকা ফেরত চেয়ে আইনি নোটিশ

ই-কমার্সে আটকে পড়া টাকা ফেরত চেয়ে আইনি নোটিশ

খিলক্ষেতের বাসা থেকে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার

খিলক্ষেতের বাসা থেকে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার

সর্বশেষ

মেগা প্রকল্পের সুফল মিলবে আগামী বছর

মেগা প্রকল্পের সুফল মিলবে আগামী বছর

ভক্তদের ‘সারপ্রাইজ’ দিতে চান আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী

ভক্তদের ‘সারপ্রাইজ’ দিতে চান আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী

ছাত্রলীগ নেতা রকি হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ২

ছাত্রলীগ নেতা রকি হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ২

আফগানিস্তান ইস্যুতে আলোচনায় পাকিস্তানসহ পাঁচ দেশকে আমন্ত্রণ ভারতের

আফগানিস্তান ইস্যুতে আলোচনায় পাকিস্তানসহ পাঁচ দেশকে আমন্ত্রণ ভারতের

ফেনীতে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় দুই মামলায় ৪০০ অজ্ঞাতনামা আসামি

ফেনীতে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় দুই মামলায় ৪০০ অজ্ঞাতনামা আসামি

© 2021 Bangla Tribune