সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা এনজিও স্বাস্থ্য-ব্যবসায়ীদের হাতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদ।
শনিবার (২৬ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এ আহ্বান জানান।
পরিষদের সভাপতি ডা ফয়জুল হাকিম বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এসে স্বাস্থ্যকে অধিকার হিসাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলতে হচ্ছে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে স্বাস্থ্য অধিকার হিসাবে এদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বক্তারা আরও বলেন, আশির দশকে বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা সেবা খাতকে বেসরকারিকরণের লক্ষ্যে সামরিক শাসক এরশাদ কুখ্যাত স্বাস্থ্য নীতি করেছিল। চিকিৎসক সমাজ ও জনগণের আন্দলোনের মুখে সেদিন তা বাতিল হয়েছিল। আজ শেখ হাসিনার সরকার সেই কাজ সম্পন্ন করতে সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা এনজিও স্বাস্থ্য ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেয়ার চক্রান্ত করছে। একে রুখে দাড়াতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হারুনর রশীদ করোনা মোকাবিলায় অবিলম্বে বাজেটে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে টিকা ক্রয় করে ১৮ উর্ধ্ব সকলকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা দেওয়ার জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে তিনি দেশে সরকারি উদ্যোগে টিকা উৎপাদন ও অক্সিজেন প্লান্ট নির্মাণেরও দাবি জানান।
জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদ আহ্বায়ক ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সম্পাদক ডা. ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ, বাম গণতান্ত্রিক জোট সমন্বয়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা নেতা বিপ্লব ভট্টাচার্য ও জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদ সংগঠক অনুপ কুণ্ডু।
সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সভাপতি আল কাদেরী জয়, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের হেমন্ত দাস, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সহ-সভাপতি দীপা মল্লিক, চারণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের জাকির হোসেন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, দেশের সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা এনজিওর হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব কাজী নাহিদ রসুল স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্প আকারে কতিপয় সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা যথাপদ্ধতিতে সক্ষম ও অভিজ্ঞ বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।









