X
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আমি নেতা বানাইনি: চুমকি

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৪:২৪

সংগঠনের নামের সঙ্গে ‘লীগ’ যুক্ত করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে বহিষ্কার হয়েছেন মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হেলেনা জাহাঙ্গীর। ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা হেলেনাকে নেতৃত্বে আনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও মহিলা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য সচিব মেহের আফরোজ চুমকী বলেছেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আমি এককভাবে নেতা বানাইনি। তাকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অবশ্যই সুপারিশ ছিল। এগুলোর সবই রেকর্ড আছে। তাকে উপ-কমিটির পদ দিতে একা একা সিদ্ধান্ত নেইনি।

রবিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে তিনি বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদকের কাছে ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটিতে পদ দেওয়ার বিষয়ে এমন প্রতিক্রিয়া জানান মেহের আফরোজ চুমকী।

সম্প্রতি আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামে একটি সংগঠন খুলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন হেলেনা জাহাঙ্গীর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তিনি দাবি করেন, সংগঠনটির নাম এখনও সেভাবে পরিচিত না হলেও ইতোমধ্যে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ লাখ লাখ মানুষ এর সদস্য হয়েছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োগের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার পর রবিবার মেহের আফরোজ চুমকি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে গতমাসে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে দাবি করেছেন উত্তর জেলা সভাপতি রুহুল আমিন

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নির্দেশনায় আওয়ামী চাকরিজীবী লীগের দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। গত শনিবার (২৪ জুলাই) তিনি বলেন, ভাইয়ার ( মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী) কাছে নির্দেশনা চাইলে তিনি আমাকে বলেন, দায়িত্ব নাও, তুমি না নিলে অন্য কেউ তো ঠিকই দায়িত্ব নিবে। হেলেনা বলেন, এরপরই আমি ওই সংগঠনের দায়িত্ব নেই। 

তবে রবিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হেলেনার এই বক্তব্য দুঃখজনক। একটা অসাংগঠনিক নির্দেশনা আমি কি দিতে পারি? অন্যের কাঁধে দায় চাপানো একটা সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

আর হেলেনা জাহাঙ্গীর সম্পর্কে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর আমার কথায় চলে না। সে কার বুদ্ধিতে চলে, কে তাকে একদিনের মধ্যে ধামাধাম বড় কিছু হয়ে যাবে এমন প্ররোচণা দেয়...। সে মনে করে বড় কিছু তো হয়েই গেছে! অথচ কতোভাবে আমি তাকে বুঝিয়েছি, আপন ছোটবোনের মতো করে বুঝিয়েছি।

কাছাকাছি থাকলে তাকে ‘নিয়ন্ত্রণও’ করতে পারতেন উল্লেখ করে চুমকী বলেন, ...পারতামও, সে যদি আমার কাছাকাছি থাকতো- কথা শুনতো। যে যা বলে লাফাতে লাফাতে যায়, কী করবো? এই হয়ে গেছে তার সমস্যা। এখন বহিষ্কার করতে হয়েছে। সে তার মত চলুক। খারাপও লাগে।

আওয়ামী লীগ মেয়েদের রাজনীতিতে সুযোগ দিতে চায় উল্লেখ করে দলের মহিলা সম্পাদক বলেন, আমরা মেয়েদের কাজ করার সুযোগ দিতে চাই, যদি দেখি কারও কাজ করার আগ্রহ আছে, তাদের সুযোগ দিতে চাই। ওই মেয়ে (হেলেনা) ধীরে চললে ভালো করতে পারতো। বিভিন্ন জায়গায় যায়, নানারকম উপদেশ নেয়, ফলে লোভে পড়ে এই পরিণতি হয়েছে। লোভে পড়লে তো আর রাজনীতি হবে না। মেয়েদের তো লোভ দেখায় অনেকেই। চোখ কান খোলা রাখতে হয়। হাতছানিতো বিভিন্ন রকম থাকেই। 

হেলেনা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, সেজন্যই আমি লাইবিলিটিজ বাড়াতে চাই না। সে চলুক তার মতো করে।

হেলেনা জাহাঙ্গীরের ‘মাথায় কোনও বুদ্ধি’ নাই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেত্রী বলেন, সে (হেলেনা) মনে করেছে বড় একটা কিছু পেয়েছি, কাজ করে সবাইকে দেখিয়ে দেবো। এই মনে করেই নাম কথিত আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ গড়ে তুলেছে। এগুলো দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে সেটা তার মাথায়ই নাই। হেলেনার বোঝার মধ্যেও ঘাটতি আছে আমার মনে হয়। আছাড় খেতে খেতে একটা সময় বুঝে যাবে।

তবে এ ঘটনায় হেলেনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাক, তা চান না চুমকী। তিনি বলেন, আমি চাই না একটা মেয়ে শেষ হয়ে যাক। আমি চাই একটা মেয়ে শিখুক, আবার ফর্মে আসুক। হেলেনার কোয়ালিটিও আছে, একদম নাই কিছু তা কিন্তু ঠিক না। বোকা টাইপের, সেন্সের ঘাটতি আছে। তবে অ্যাম্বিশাস, প্রচুর অ্যাম্বিশাস। খারাপও লাগে উপ-কমিটি থেকে বাদ দেওয়া। কী করবো? আমাকে বিব্রত করে ফেলছে। ওর জন্য এত জবাবদিহি কেন করবো? 

আরও পড়ুন:
‘লীগ’ যুক্ত সংগঠন আছে তিন শতাধিক: মুখ চেনা হলেই খুলে বসেন ‘রাজনীতির দোকান’
আ’লীগের উপ-কমিটি থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে অব্যাহতি

/ইউএস/

সম্পর্কিত

নিয়মিত অসত্য বক্তব্য বিএনপি রেওয়াজে পরিণত করেছে: ওবায়দুল কাদের

নিয়মিত অসত্য বক্তব্য বিএনপি রেওয়াজে পরিণত করেছে: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা হাস্যকর: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা হাস্যকর: ওবায়দুল কাদের

পাবনা ও নাটোরে আ.লীগের  সম্মেলন ২০ ও ২১ নভেম্বর

পাবনা ও নাটোরে আ.লীগের  সম্মেলন ২০ ও ২১ নভেম্বর

সরকারের বিষোদ্গার করে বিএনপি নেতারা মনের শান্তি খোঁজে: ওবায়দুল কাদের

সরকারের বিষোদ্গার করে বিএনপি নেতারা মনের শান্তি খোঁজে: ওবায়দুল কাদের

৩ দিনব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত

নেতাদের ‘চিন্তা বিনিময়’ থেকে কতটা ‘শিক্ষা’ নেবে বিএনপি?

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০

প্রথম দুই বৈঠকে সিনিয়ররা ‘কৌশল নির্ধারণে ভুল’ থাকার ক্ষোভ প্রকাশের পর ‘নেতৃত্বে জনসম্পৃক্তদের যুক্ত করার’ পরামর্শ দেন বিএনপির মধ্যম সারির নেতারা। আর বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তৃতীয় বৈঠকে এসে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা জানালেন—দলের জন্য নিজেরা কতটা সক্রিয় রয়েছেন। আর আগামী দিনেও তারা প্রস্তুত রয়েছেন যেকোনও দায়িত্বপালনের জন্য। শীর্ষ নেতারা বলছেন, দলের বিভিন্ন সারির নেতাদের সঙ্গে ‘চিন্তা বিনিময়ের’ ফলে বিএনপিতে নতুন উদ্যোম সৃষ্টি হয়েছে। যা আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে সুসংগঠিত করতে শক্তি জোগাবে, উপকৃত হবে বিএনপি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মতবিনিময়ের তৃতীয় দিনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতা নেতাকর্মীদের ‘শিক্ষা অর্জনের’ জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।

বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এখান থেকে শিক্ষা অর্জন করতে হবে। দলের ভেতরে ও বাইরে ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। ঐক্য লাগবেই। শেখ হাসিনার সরকার হঠাতে না পারলে দেশে গণতন্ত্র আসবে না। নিজেদের ঐক্য, দলের ঐক্য লাগবে’। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বক্তব্য রাখেন।

বৈঠক থেকে বেরোনোর পর কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। বৈঠকে তারা কী বলেছেন, এ নিয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছা পোষণ করেন তারা। প্রত্যেকেই জানান, বৈঠকে দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে গণমাধ্যমে কথা বলতে না করে দেওয়া হয়েছে। পরপর ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দলের ডজনখানেক নেতাকে প্রশ্ন করলে তারা কোনও বক্তব্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানান।

মঞ্চে শীর্ষনেতাদের

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার বক্তব্যে আমি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, আন্দোলনের জন্য করণীয়, জোট সম্পর্কে মতামত দিয়েছি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয় কিন্তু নেতৃত্ব দেয় অন্যরা। বলেছি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে।’

আরেক নেতা জানান, বৈঠকে তিনি তার সংগঠনের কতগুলো কমিটি রয়েছে, কতগুলোর কাজ বাকি রয়েছে সেসবের হিসাব দিয়েছেন বৈঠকে। বিকাল সোয়া চারটা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে শেষ হওয়া বৈঠকে শ্রমিক দলের এক নেতা বলেন, ২০১৪ সালে নেতৃত্বে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিএনপির সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। আমরা মে দিবসসহ শ্রমজীবী মানুষের সকল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে থাকি। শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সরকারের গৃহীত সকল পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সক্রিয়।’ এসময় তিনি খুলনার পাটকল ও নারায়ণগঞ্জের সেজান জুস কারখানার অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক নিহতের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রায় প্রত্যেকের বক্তব্যেই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি উঠে আসে। তবে, এক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে তারা কোনও মতামত জানাতে পারেননি। দায়িত্বশীল একজন জানান, আজকের বৈঠকে মূলত অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা কে কী করেছেন, সে বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তারা আগামী দিনে কমিটিতে পদ নিশ্চিতের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। নেতাদের কেউ-কেউ প্রয়োজনে ‘রক্ত’ দেওয়ার কথা বললেও শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তা নিরুৎসাহিত করে ‘কমিটমেন্ট নিয়ে কাজ’ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গুলশানে চেয়ারপারসনের অফিস চত্বরে বিএনপির তিনদিন ব্যাপী বৈঠক নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দুই যুগ্ম আহ্বায়কের সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। শাজাহান শাওন বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের আগে দাবি আদায়ের জন্য কৌশল নির্ধারণে এই বৈঠক খুব প্রয়োজনীয়। দলের কর্মকাণ্ড এতে গতিশীল হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য সরকারকে দাবি মানাতে মাঠে কর্মসূচি দিতে হবে। তবে প্রোগ্রাম দিয়ে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। ছাত্রদল, যুবদল প্রস্তুত আছে, সবাই একসঙ্গে রাজপথে নামতে পারলে দাবি আদায় সম্ভব।’ আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াদ রহমান মনে করেন, মানুষ চায় বিএনপি রাজপথে নামুক। তাহলে তারাও বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হবে।

বৈঠক থেকে কী মতামত পেয়েছেন—বৃহস্পতিবার রাত পৌনে নয়টার দিকে যখন মির্জা ফখরুল বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তার জবাব ছিল, ‘এটা সময়মতো জানতে পারবেন। আমরাই আমাদের প্রয়োজনেই তখন আপনাদের জানাব।’

গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নেতা ও দায়িত্বশীল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আজকের বৈঠক মূলত অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ‘রিভিউ’ করা হয়েছে। এতে নেতারা পরস্পরের সঙ্গে ‘ইন্টারেকশন’ করেছেন। নেতাদের এই চিন্তার বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বিদ্যমান ‘গ্যাপ’ দূর হবে বলেও মনে করেন তারা।

গুলশানের অফিস থেকে বেরোনোর সময় জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সাংগঠনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে তিনদিনের বৈঠক হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। একেবারে কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কথা বলেছেন। এই বৈঠক থেকে বিএনপি উপকৃত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আগামী শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির নিয়মিত বৈঠক রয়েছে। তিনদিনের এই বৈঠকের পর্যালোচনা ও আরও কয়েকটি বৈঠকের বিষয়ে সেদিন সিদ্ধান্ত হতে পারে। আর সেসব জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসতে পারেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

/এমআর/

সম্পর্কিত

এখন নির্বাচন কমিশন নিয়ে চিন্তা করছি না: মির্জা ফখরুল

এখন নির্বাচন কমিশন নিয়ে চিন্তা করছি না: মির্জা ফখরুল

তৃতীয় দিনের বৈঠকে বিএনপি, বাইরে অনুসারীদের স্লোগান

তৃতীয় দিনের বৈঠকে বিএনপি, বাইরে অনুসারীদের স্লোগান

সংসদে কাদের মির্জার বিচার চেয়েছে জাপা

সংসদে কাদের মির্জার বিচার চেয়েছে জাপা

নিয়মিত অসত্য বক্তব্য বিএনপি রেওয়াজে পরিণত করেছে: ওবায়দুল কাদের

নিয়মিত অসত্য বক্তব্য বিএনপি রেওয়াজে পরিণত করেছে: ওবায়দুল কাদের

এখন নির্বাচন কমিশন নিয়ে চিন্তা করছি না: মির্জা ফখরুল

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫৮

নির্বাচন কমিশন নিয়ে এখন কোনও চিন্তা করছেন না বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মরদেহ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বলুক, বলার সময় বলবো।’

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিন দিনব্যাপী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন ফখরুল। এ সময় তিনি মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার ব্যাপী আয়োজিত বৈঠকের বিষয়ে কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক অবস্থা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।’

তিনি জানান, আজকের বৈঠকে অন্তত ২৬ জন বক্তব্য দিয়েছেন। উপস্থিত ছিলেন ৯২ জন নেতা।

বৈঠকে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, উলামা দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের অন্তত একশ’ নেতা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠক চলাকালীন ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন কার্যালয়ের বাইরে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ ধারাবাহিক বৈঠকের শেষ দিন ছিল। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। আজকের বৈঠকে তিনি কথা বলেছেন, স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও বক্তব্য রেখেছেন।’

বিএনপি মহাসচিব জানান, আগামী শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক রয়েছে। তিন দিনব্যাপী বৈঠক হলেও দলের কার্যনির্বাহী অনেক সদস্য বাকি রয়েছেন। জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরা রয়েছেন। শনিবারের বৈঠকে তাদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গেও আলোচনা করার সম্ভাবনার কথা জানান ফখরুল।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের আগস্টের পর এবারই সরাসরি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিএনপির শীর্ষনেতারা। এর আগে ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী কমিটির মিটিং করেছিলেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। 

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে দলের দফতরের দায়িত্বশীল সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

 

/এসটিএস/আইএ/

সম্পর্কিত

সংসদে কাদের মির্জার বিচার চেয়েছে জাপা

সংসদে কাদের মির্জার বিচার চেয়েছে জাপা

ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার ভয়েই গ্রেফতার অভিযান: রিজভী

ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার ভয়েই গ্রেফতার অভিযান: রিজভী

দলের ধারাবাহিক বৈঠক ডেকেছে বিএনপি

দলের ধারাবাহিক বৈঠক ডেকেছে বিএনপি

সীমান্তে হত্যা বন্ধে ভারতকে বাধ্য করার আহ্বান বিএনপির

সীমান্তে হত্যা বন্ধে ভারতকে বাধ্য করার আহ্বান বিএনপির

তৃতীয় দিনের বৈঠকে বিএনপি, বাইরে অনুসারীদের স্লোগান

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:০৯

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক তিন দিনের বৈঠকের শেষ দিনের বৈঠক শুরু হয়েছে। যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের অন্তত একশ’ নেতা অংশগ্রহণ করছেন এ বৈঠকে। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিকাল চারটার পর এই বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠককে কেন্দ্র করে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে দেখা গেছে। আশেপাশে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মকৌশল ঠিক করার লক্ষ্যে নেতাদের মতামত জানতে মঙ্গলবার থেকে এই ধারাবাহিক বৈঠক শুরু হয়েছে। তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত রয়েছেন।

উপস্থিত নেতাকর্মীরা প্রথম দিন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের এবং দ্বিতীয় দিন দলের যুগ্ম মহাসচিব-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের মতামত জেনেছেন তারেক।

আজকের বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন—যুবদলের সাইফুল ইসলাম নীরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদুর, নুরুল ইসলাম নয়ন, মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, গোলাম সারোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ইয়াসিন আলী, সাদরেজ জামান, রফিকুল ইসলাম, নাজমুল হাসান, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, নেওয়াজ হালিমা আরলী শাম্মী আখতার, জেবা খান, হেলেন জেরিন খান, চৌধুরী নায়াবা ইউসুফ, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মতস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবন, জাকিরুল ইসলাম জাকির, আশরাফুল আলম ফকির লিংকন, হাফিজুর রহমান হাফিজ, মামুন খান, পার্থদেব মন্ডল, মোস্তাফিজুর রহমান,আমিনুর রহমান আমিন,  উলামাদলের শাহ নেসারুল হক, নজরুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় দফতরের সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, চেয়ারপারসন কার্যালয়ের এবিএম আবদুস সাত্তার, রিয়াজ উদ্দিন নসু এবং প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন।

বিএনপির মহাসচিব গতকাল বুধবার রাতে জানিয়েছেন, তিন দিনের এ বৈঠক শেষে আগামী শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে। ওই বৈঠক থেকে পেশাজীবীসহ দলের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

আরও পড়ুন...

জনসম্পৃক্তদের দায়িত্বে চান বিএনপির মধ্যম সারির নেতারা

বিএনপির মহাসচিব ও সম্পাদক পর্যায়ের নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ওপর ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টাদের ক্ষোভ!

নির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক, সরগরম গুলশান

/এসটিএস/আইএ/

সম্পর্কিত

নেতাদের ‘চিন্তা বিনিময়’ থেকে কতটা ‘শিক্ষা’ নেবে বিএনপি?

নেতাদের ‘চিন্তা বিনিময়’ থেকে কতটা ‘শিক্ষা’ নেবে বিএনপি?

এখন নির্বাচন কমিশন নিয়ে চিন্তা করছি না: মির্জা ফখরুল

এখন নির্বাচন কমিশন নিয়ে চিন্তা করছি না: মির্জা ফখরুল

সংসদে কাদের মির্জার বিচার চেয়েছে জাপা

সংসদে কাদের মির্জার বিচার চেয়েছে জাপা

নিয়মিত অসত্য বক্তব্য বিএনপি রেওয়াজে পরিণত করেছে: ওবায়দুল কাদের

নিয়মিত অসত্য বক্তব্য বিএনপি রেওয়াজে পরিণত করেছে: ওবায়দুল কাদের

সংসদে কাদের মির্জার বিচার চেয়েছে জাপা

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৩৯

জাতীয় পার্টির নোয়াখালীর এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ এনে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার বিচার চেয়েছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির দুই এমপি। মির্জা কাদের একজন অবাঞ্ছিত লোক বলে তারা অভিযোগ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী দিনে এ দাবি করা হয়।

গত ৮ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক স্বপনকে মারধরের অভিযোগ উঠে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে। দলটির নেতারা অভিযোগ করেন, ওই দিন বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে জাপা নেতা স্বপনকে বসুরহাট বাজারের কালামিয়া ম্যানশন নামের একটি বিপণি বিতানের সামনে থেকে কাদের মির্জার নেতৃত্বে তার অনুসারীরা তুলে নিয়ে যান। এরপর রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পৌরসভা ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে তাকে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন চালানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবদুল লতিফকে ডেকে পাঠিয়ে তার কাছে হস্তান্তর করেন।

বিষয়টি নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, কাদের মির্জা সাহেব বিভিন্নভাবে সারাদেশে বিতর্কিত। উনার ভাইয়ের (ওবায়দুল কাদের) কাছে কতটুকু বিতর্কিত আমি জানি না। দলের কাছে কতটুকু বিতর্কিত আমি জানি না। কিন্তু কোম্পানীগঞ্জসহ সারাদেশে একটা অবাঞ্ছিত মানুষে পরিণত হয়েছেন উনি।

রাঙ্গা বলেন, উনি (কাদের মির্জা) কখন, কাকে কী বলছেন আমি জানি না। জানি তিনি একটা দলের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রধানমন্ত্রী সেই দলের সভাপতি। আমরাও বঙ্গবন্ধু কন্যা হিসাবে তাকে সম্মান করি। তিনি সবসময় ন্যায় বিচার করেন এটাই আমরা মনে করি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না থাকার কারণে আমরা আপনার (স্পিকার) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ন্যায় বিচার ও তার সুচিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান করছি।

এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়নি বলেও জানান তিনি। রাঙ্গা বলেন, বিগত নির্বাচনে অনেকগুলো আসনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সুসম্পর্কের খাতিরে নির্বাচন করি নাই। অনুরূপভাবে আমাদের অনেক আসনেও আওয়ামী লীগ কোনও প্রার্থী দেয় নাই। এই সুসম্পর্কটা যাতে সঠিক থাকে সেই দৃষ্টি আমাদের সবসময় ছিল। আমাদের প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জীবিত থাকাকালে আমাদের সেই নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, স্বপন খুবই নিরহ মানুষ। আমাদের কথার ভিত্তিতে আসনটি (নোয়াখালী-৫) ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেব নির্বাচন করেছেন।

ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর বিশেষ আইনের মেয়াদ বাড়ানোর বিলের সংশোধনীর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কোম্পানীগঞ্জের ঘটনার কথা উল্লেখ করে বিচারে দাবি করেন জাপার আরেক সংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি বলেন, মোঘল সম্রাটের সময় যখন কেউ ন্যায় বিচার পেতো না, তখন লাল কেল্লায় ঘণ্টা বাজাতো। আজকে আমরা ঘণ্টা বাজাচ্ছি সংসদে। মাঝখানে অনেকগুলো ইনস্টিটিউশন নষ্ট হয়ে গেছে। এই সংসদকেই ন্যায় বিচার করতে হবে।

 

/ইএইচএস/আইএ/

সম্পর্কিত

এখন নির্বাচন কমিশন নিয়ে চিন্তা করছি না: মির্জা ফখরুল

এখন নির্বাচন কমিশন নিয়ে চিন্তা করছি না: মির্জা ফখরুল

ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার ভয়েই গ্রেফতার অভিযান: রিজভী

ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার ভয়েই গ্রেফতার অভিযান: রিজভী

দলের ধারাবাহিক বৈঠক ডেকেছে বিএনপি

দলের ধারাবাহিক বৈঠক ডেকেছে বিএনপি

সীমান্তে হত্যা বন্ধে ভারতকে বাধ্য করার আহ্বান বিএনপির

সীমান্তে হত্যা বন্ধে ভারতকে বাধ্য করার আহ্বান বিএনপির

নিয়মিত অসত্য বক্তব্য বিএনপি রেওয়াজে পরিণত করেছে: ওবায়দুল কাদের

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩:২৭

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নিয়মিত অসত্য বক্তব্য উপস্থাপনকে রেওয়াজে পরিণত করেছে বিএনপি। 
 
বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তার বাসভবনে ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। 

সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ কল্পিত এবং বরাবরের মত চর্বিত চর্বণ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, নিত্যদিন সরকারের বিরুদ্ধে নতুন নতুন অভিযোগ উত্থাপন বিএনপির রোজনামচায় পরিণত হয়েছে। 

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার দমন-পীড়নে বিশ্বাসী নয়। বিএনপির কাছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন রেখে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলা কেন দেবে সরকার? দেশের আইন আদালতের প্রতি সরকারের কোনোরূপ হস্তক্ষেপ বা চাপ নেই।

কোনও মামলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার করলেই সরকারের দোষ, গুরুতর অপরাধীকেও শাস্তির আওতায় আনা যাবে না; এ কোন ধরনের অভিযোগ? ওবায়দুল কাদের বলেন, তাহলে কি দেশে বিচার ব্যবস্থা বা আইন আদালত থাকবে না?

বিএনপি ঢালাওভাবে অপরাধীদের পক্ষ নিচ্ছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, অস্ত্র নিয়ে ধরা পড়েছে এমন অপরাধীদের পক্ষে তারা বিবৃতি দিয়ে মুক্তি দাবি করেছে। তারা স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। 

তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান হচ্ছে স্পষ্ট; তা হলো সরকার রাজনৈতিক নিপীড়নে বিশ্বাস করে না।

সরকারের আচরণে নাকি বিএনপি নেতাদের মনে হয় এদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র নয়, মগের মুল্লুক- এমন বক্তব্যের জবাবে কাদের বলেন, বিএনপি যখন আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে জীবন্ত মানুষ দগ্ধ করেছিল, গান পাউডার দিয়ে গাড়ি ও ভূমি অফিস পুড়িয়েছিল; রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিলো- তখন কি মগের মুল্লুক মনে হয়নি? আওয়ামী লীগের একুশ হাজার নেতাকর্মী হত্যা করে বিএনপিই দেশকে সন্ত্রাসের জনপদে রূপান্তর করেছিল।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কথায় কথায় বিদেশিদের কাছে নালিশ করা কি কোন স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক দলকে মানায়?

তিনি বলেন, বিএনপিই দেশকে মগের মুল্লুকে রূপান্তর করেছিল। শেখ হাসিনা সরকার সে অবস্থা থেকে উদ্ধার করে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য অবিরাম প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের কাছে কঠিন করে দেওয়া হবে- এ প্রত্যয় নিয়ে তো বিএনপিই দেশের রাজনীতিকে দূষিত করার কাজ শুরু করেছিল।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, রাজনীতিতে স্বার্থের অনুপ্রবেশ এবং সুবিধাবাদ চর্চা শুরু করেছিল বিএনপিই।

তিনি বলেন, যাদের রাজনীতি জনগণ নির্ভর নয়, যারা নিজেরা নিজেদের সম্মান রক্ষা করতে জানে না তাদেরকে কে সম্মান করবে?

জনগণ যাদের ওপর আস্থাশীল নয় তারাই রাজনীতির নামে ক্ষমতা দখলের জন্য সুবিধাবাদ কায়েম করে আর বিএনপি এখন সেটাই করছে। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তৃণমূল থেকে গড়ে উঠা রাজনৈতিক দল। নেতাদের সম্মান আওয়ামী লীগই দিতে জানে।

/পিএইচসি/এনএইচ/

সম্পর্কিত

বিএনপির গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা হাস্যকর: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা হাস্যকর: ওবায়দুল কাদের

পাবনা ও নাটোরে আ.লীগের  সম্মেলন ২০ ও ২১ নভেম্বর

পাবনা ও নাটোরে আ.লীগের  সম্মেলন ২০ ও ২১ নভেম্বর

সরকারের বিষোদ্গার করে বিএনপি নেতারা মনের শান্তি খোঁজে: ওবায়দুল কাদের

সরকারের বিষোদ্গার করে বিএনপি নেতারা মনের শান্তি খোঁজে: ওবায়দুল কাদের

এদিক-ওদিক না ঘুরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, বিএনপিকে ওবায়দুল কাদের

এদিক-ওদিক না ঘুরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, বিএনপিকে ওবায়দুল কাদের

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

নিয়মিত অসত্য বক্তব্য বিএনপি রেওয়াজে পরিণত করেছে: ওবায়দুল কাদের

নিয়মিত অসত্য বক্তব্য বিএনপি রেওয়াজে পরিণত করেছে: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা হাস্যকর: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা হাস্যকর: ওবায়দুল কাদের

পাবনা ও নাটোরে আ.লীগের  সম্মেলন ২০ ও ২১ নভেম্বর

পাবনা ও নাটোরে আ.লীগের  সম্মেলন ২০ ও ২১ নভেম্বর

সরকারের বিষোদ্গার করে বিএনপি নেতারা মনের শান্তি খোঁজে: ওবায়দুল কাদের

সরকারের বিষোদ্গার করে বিএনপি নেতারা মনের শান্তি খোঁজে: ওবায়দুল কাদের

এদিক-ওদিক না ঘুরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, বিএনপিকে ওবায়দুল কাদের

এদিক-ওদিক না ঘুরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, বিএনপিকে ওবায়দুল কাদের

গুজব-অপপ্রচার রোধে অনলাইন টিম তৈরি করছে আওয়ামী লীগ

গুজব-অপপ্রচার রোধে অনলাইন টিম তৈরি করছে আওয়ামী লীগ

৯ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী যারা 

৯ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী যারা 

আলী আশরাফের আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. প্রাণ গোপাল

আলী আশরাফের আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. প্রাণ গোপাল

আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব মোকাবিলা করবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন

আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব মোকাবিলা করবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন

নির্বাচনের প্রস্তুতি আওয়ামী লীগের, বিএনপির চোখ ‘আন্দোলনে’

নির্বাচনের প্রস্তুতি আওয়ামী লীগের, বিএনপির চোখ ‘আন্দোলনে’

সর্বশেষ

মোদির ঘুম কেড়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি এসএফজে-র

মোদির ঘুম কেড়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি এসএফজে-র

তালেবানকে হঠাতে মার্কিন অস্ত্র চান মাসুদ

তালেবানকে হঠাতে মার্কিন অস্ত্র চান মাসুদ

কাবুলে রকেট হামলা

কাবুলে রকেট হামলা

ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত দিনমজুরের মৃত্যু

ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত দিনমজুরের মৃত্যু

ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন?

ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন?

© 2021 Bangla Tribune