X
শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৪
১৪ বৈশাখ ১৪৩১

‘সারাদিনে আয় ৩০-৪০ টাকা, চলবো কীভাবে?’

হিলি প্রতিনিধি
৩১ জুলাই ২০২১, ১২:৪০আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ১২:৪৬

‘আগে গড়ে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচশ টাকা ইনকাম হতো। তাই দিয়ে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখাসহ মোটামুটি চলতো সংসার। কিন্তু এখন ৩০-৪০ টাকা ইনকাম। কোনও কোনও দিন ৫০ টাকা, আবার কোনও দিন ১০০ টাকাও হচ্ছে। কিন্তু তা দিয়ে তো আর সংসার চলে না! লকডাউনের কারণে দোকান-পাট বন্ধ। মানুষজনও বাজারে আসছে না। কাজ হবে কীভাবে, আর আমরা চলবো কীভাবে?’

কথাগুলো বলছিলেন দিনাজপুরের হিলিতে ফুটপাতে বসা দর্জি আব্দুল খালেক। করোনা সংক্রমণরোধে লকডাউনের কারণে হিলিতে সব দোকান-পাট বন্ধ। লোকজনও তেমন আসতে না পারায় কাজ কমে গেছে। এতে অন্যান্য শ্রমজীবীদের মতো চরম বিপাকে পড়েছেন আব্দুল খালেকের মতো দর্জিরা। মাঝে মাঝে ৩০ থেকে ১০০ টাকা আয় হলেও, কোনও কোনও দিন খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন তারা। এতে সংসার চালানোয় মুশকিল হয়ে পড়েছে। তার ওপর বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের বাড়তি চাপ মাথায়। সবমিলে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তারা।

আব্দুল খালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু দোকান চুরি করে খুললেও সবাই আতঙ্কের মধ্যে থাকে। সেভাবে লুঙ্গিসহ অন্য কিছু বেচাকেনাও হচ্ছে না। যে কারণে আমাদের আগের মতো কাজ নেই। মানুষের কাছে ধারদেনা করে অনেক কষ্টে কোনোরকম সংসার চলছে। কিন্তু এটাকে চলা বলে না। এর ওপর বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নেওয়া আছে। তারা কিস্তির জন্য চাপ দিচ্ছে। তারা তো আর লকডাউন মানছে না। যেখানে আমরা নিজেরাই চলতে পারছি না, সেখানে কিস্তি পরিশোধ করবো কীভাবে? সরকার থেকে যদি কিছু সাহায্য সহযোগিতা করতো, তাহলে পারেও আমরা চলতে পারতাম।’

লকডাউনে দোকান-পাট বন্ধ থাকায় আয় কমে গেছে

হিলি বাজারে আব্দুল খালেকসহ সাত জন দর্জি রয়েছেন। তারা ফুটপাতে বসে সাধারণ মানুষের লুঙ্গি, মশারিসহ, পুরনো পোশাক সেলাই করেন। এতে সারাদিনে যা আয় হতো তা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে দফায় দফায় লকডাউন দেওয়ায় মানুষজনের চলাচল যেমন কমেছে, তেমনি দোকান-পাট না খোলায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। ফলে এখন অনেক দর্জি নিয়মিত কাজে আসেন না। যারা আসেন তাদেরকে প্রায় খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয়।

দর্জি আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তো এখন না খেয়ে মরছি। পেটতো আর লকডাউন মানে না! বাড়িতে ছেলেমেয়েরা তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। কিন্তু রোজগার নেই। চাল-ডাল কিনতে পারছি না। যে কাজ করি, লকডাউনে তা বন্ধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে তো সারাদিন কাজ কাম করে চার-পাঁচশ টাকা আয় হতো। এখন কামাই-রোজগার একেবারে নেই। লকডাউনের নির্দেশ পালন করতেই আমাদের যাচ্ছে। বাজারে দোকান-পাট বন্ধ। মানুষজন আসছে না। যে কারণে কোনও কাজ নেই। এতে আমাদের যা হওয়ার তাই হচ্ছে। এখন সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোনও খাবারের ব্যবস্থা করতো তাহলে অন্তত ছেলেমেয়েদের নিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে পারতাম। যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে, তাতে না খেয়ে মরার মতো অবস্থা।’

আরেক দর্জি জয়েন উদ্দিন বলেন, ‘এই যে এখন আমাদের কাজ কাম নেই, কোনও দিন ১০ টাকা আবার কোনও দিন ৫০ টাকার কাজ হচ্ছে। আবার কোনদিন একেবারেই হচ্ছে না। কোনও দিন বসার পর পর উঠেই দৌড় দিতে হচ্ছে। এভাবে কোনোরকম করে চলছি। মানুষের কাছে ধারদেনা, এনজিও থেকে লোন করে চলছি। এছাড়া তো আমাদের আর করার কিছু নেই। আমরা করবো কী? সকাল থেকে এসে বসে আছি কোনও কাজ নেই। আমি এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও অনুদান পাইনি।’

চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন এসব দর্জি

তিনি বলেন, ‘আগে গড়ে প্রতিদিন পাঁচ-সাতশ টাকার কাজ হতো। কোনও দিন হাজার টাকার কাজও হতো। আর এখন ১০০ টাকার কাজ করা কঠিন হয়ে গেছে। লকডাউনের আগে তো আমরা ভালো কাজ করেছি, মাঝে যে ঈদের আগে লকডাউন উঠে দিলো সে সময়ও ভালো কাজ করেছি। কিন্তু ঈদের পর লকডাউন দেওয়ায় আর কোনও কাজ নেই। লকডাউন শিথিল করলে বাইরে থেকে লোকজন আসলে কাজ হতো। আমরা বাজারে এসে মেশিন নিয়ে বসে থাকি। আজকে এখন পর্যন্ত একটা কাজও হয়নি। চুপচাপ বসে আছি। এখন আল্লাহ যদি ভাগ্যে কিছু রাখে তাহলে কিছু হবে, না হলে খালি হাতে উঠে বাড়ি যেতে হবে।’

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নূর-এ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পৌরসভা কেন্দ্রিক ১০ মেট্রিক টন চাল ও এক লাখ টাকার একটি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যেটা পৌরসভার মাধ্যমে শিগগিরই বিতরণ করা হবে। এছাড়া ইতোমধ্যে ৫০০ প্যাকেট ত্রাণ প্রস্তুত করেছি। যাতে চাল, ডাল, লবণ, তেল রয়েছে। শ্রমিকসহ ক্ষুদ্র দোকানি যারা রয়েছে তাদেরকে এই সহায়তার আওতায় আনা হবে। সামনে সপ্তাহ থেকে পৌরসভা ও আমাদের এই দুই কার্যক্রম একসঙ্গে চলবে।’

/এসএইচ/
সম্পর্কিত
গরমে নাকাল পথচারীদের জন্য পানির ব্যবস্থা করলো ফায়ার সার্ভিস
আড়াই শতাধিক মানুষের তৃষ্ণা মেটালেন জবি শিক্ষার্থীরা
ভ্যাপসা গরমে জীবন চরমে ঢাবির গণরুমের শিক্ষার্থীদের
সর্বশেষ খবর
সরকারের ১০০ দিনে নানা চ্যালেঞ্জ
সরকারের ১০০ দিনে নানা চ্যালেঞ্জ
নৌকা নিয়ে দ্বিমত থাকলে তাদের নিয়ে কাজ করবো না: গণপূর্তমন্ত্রী
নৌকা নিয়ে দ্বিমত থাকলে তাদের নিয়ে কাজ করবো না: গণপূর্তমন্ত্রী
কেরানীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্য গ্রেফতার
কেরানীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্য গ্রেফতার
ড. মাহবুব উল্লাহর ‘আমার জীবন আমার সংগ্রাম’ বইয়ের পাঠ উন্মোচন 
ড. মাহবুব উল্লাহর ‘আমার জীবন আমার সংগ্রাম’ বইয়ের পাঠ উন্মোচন 
সর্বাধিক পঠিত
পুলিশের সব স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ
পুলিশের সব স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ
মৌসুমের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়
মৌসুমের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়
কুষ্টিয়ায় এযাবৎকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
কুষ্টিয়ায় এযাবৎকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
দক্ষিণে ‘ডায়াবেটিক ধানের’ প্রথম চাষেই বাম্পার ফলন, বীজ পাবেন কই?
দক্ষিণে ‘ডায়াবেটিক ধানের’ প্রথম চাষেই বাম্পার ফলন, বীজ পাবেন কই?
আজকের আবহাওয়া: দুই বিভাগ ছাড়া কোথাও বৃষ্টির আভাস নেই
আজকের আবহাওয়া: দুই বিভাগ ছাড়া কোথাও বৃষ্টির আভাস নেই