X
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

ভালো মানের উপহারের ঘরে খুশি মুক্তাগাছার সুবিধাভোগীরা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ০৯:৪১

‘নির্মাণশ্রমিক হিসেবে ৫০ বছর কাজ করেছি। গত ১০ বছর কোনও কাজ করতে পারি না। মানুষের কাছে হাত পেতে সংসার চলে। ৫০০ টাকা ভাড়ায় এক বাড়িওয়ালার ঘরে ছিলাম। তিন মাসের ভাড়া দিতে না পারায় বাড়িওয়ালা ঘর থেকে বের করে দেন। এরপর অন্যের বাড়ির বারান্দায় ছিলাম। অবশেষে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেলাম। মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে আমার। ঘর পেয়ে অনেক খুশি হয়েছি।’

কথাগুলো বলেছেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার কুমারগাতা ইউনিয়নের মনতলার হতদরিদ্র আব্দুস সালাম (৮০)। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমিসহ ঘর পেয়েছেন তিনি।

আব্দুস সালাম বলেন, ‘এক ছেলে এক মেয়ে আমার। বিয়ে দিয়েছি। যে যার মতো সংসার করছে। আমরা স্বামী-স্ত্রী মানুষের কাছে হাত পেতে চলছি। উপহার ঘর পেয়ে অনেক উপকার হয়েছে। ঘর নির্মাণের কাজ ভালো হয়েছে। কারণ আমি দীর্ঘসময় নির্মাণশ্রমিক ছিলাম। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। নিজের চোখে দেখেছি, এক বস্তা সিমেন্টের সঙ্গে চার বস্তা বালু মিশিয়ে ঘরের গাঁথুনি ও মেঝের ঢালাই দেওয়া হয়েছে। মজবুত করে ঘর বানানো হয়েছে। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করেছেন ইউএনও।’

মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে দুই দফায় মুক্তাগাছার নয় ইউনিয়নে ৯৫টি ঘরের বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে দুল্লা ইউনিয়নে সাত, তারাটিতে ২৭, কুমারগাতায় ২১, বড়গ্রামে এক, কাশিমপুরে চার, খেরুয়াজানিতে চার, মানকোনে পাঁচ, ঘোগায় ১৫ ও দাওগাওয়ে ১১টি।

 সরেজমিনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রথম দফায় বরাদ্দ পাওয়া ৫০টি ঘরের কাজ শেষ হয়েছে। এসব ঘরে উপকারভোগীরা বসবাস করছেন। তবে দ্বিতীয় দফায় বরাদ্দের ৪৫টি ঘরের নির্মাণকাজ অর্ধেক বাকি।

তারাটি ইউনিয়নের নিজ শষা আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, ২৭টি ঘরের ১০টি দরিদ্রদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৭টির নির্মাণকাজ চলছে।

প্রকল্পের উপকারভোগী রোকসানা পারভীন (৫৫) বলেন, ২০০৫ সালে স্বামী নুরুজ্জামান অসুস্থ হয়ে মারা যান। জায়গাজমি না থাকায় বাপের বাড়ি খামারবাজার এলাকায় দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস শুরু করি। ব্র্যাক স্কুলে সাড়ে ৭০০ টাকায় বেতনে শিক্ষকতা করে দুই ছেলেকে লেখাপড়া করানোসহ সংসার চালিয়েছি। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাকরি চলে গেলো। এরপর আবেদন করে জমিসহ সরকারি ঘর বরাদ্দ পাই।

তিনি বলেন, ভিক্ষা করে খেলেও প্রত্যেক মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন আছে। আমি কল্পনাও করিনি ঘর পাবো। দুই ছেলেকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি। ঘর পেয়ে খুশি হয়েছি। ঘরগুলো ভালোভাবে বানানো হয়েছে। তবে বৃষ্টিতে বাথরুম দেবে যায়। ইউএনওকে জানানোর পর ঠিক করে দিয়েছেন।

একই প্রকল্পের ৩ নম্বর ঘরের সুবিধাভোগী হাবিবুর রহমান (৮৫) বলেন, প্রতিটি ঘরে দুটি থাকার রুম, বাথরুম ও রান্নাঘর আছে। ঘরের বারান্দা আছে। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ঘরের ভেতরে গোসলখানা না থাকায় সমস্যা হচ্ছে।

দুল্লা ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগী নওসের আলী (৭২) বলেন, আমাদের আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটিমাত্র টিউবওয়েল। খাবার, রান্না ও গোসলের পানি এই টিউবওয়েল থেকেই ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে বাথরুমে পানির ব্যবস্থা না থাকায় এক টিউবওয়েলের ওপর চাপ পড়ে। বেশির ভাগ সময় লাইন ধরে পানি নিতে হয়। আরও দুটি টিউবওয়েল থাকলে ভালো হতো।

কুমারগাতার মনতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সোলেমা বেগম (৬০) বলেন, ‘২১টি ঘরের মধ্যে ১১টির কাজ শেষ হয়নি। বৃষ্টির জন্য ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না মিস্ত্রিরা। ইউএনও সবসময় দেখার জন্য আসেন। সিমেন্ট, বালু ও ইট ঠিকমতো ব্যবহার হচ্ছে কি-না তা দেখেন। অনেক সময় ইউএনও আমাদের জিজ্ঞাসা করেন কাজ ঠিক হচ্ছে কি-না। সিমেন্ট, বালু পরিমাণ মতো না দিলে গাঁথুনি খুলে আবার করার নির্দেশ দেন ইউএনও। ঘরগুলো মজবুত করে বানানো হচ্ছে।’

তারাটি শংকরপুরের বাসিন্দা সুরুজ আলী বলেন, প্রতিটি ঘরের জন্য সরকারি বরাদ্দ এক লাখ ৯০ হাজার টাকা। কিন্তু বরাদ্দের চেয়ে বেশি ব্যয়ের কথা শুনেছি। মিস্ত্রিরা বলছেন, প্রতি ঘরে বরাদ্দের চেয়ে ১০-১৫ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। এজন্য প্রকল্পের ঘরগুলো মজবুত হচ্ছে।

 পুরো প্রকল্পের ঘর নির্মাণকাজের অর্ধেক বাকি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মনসুর বলেন, বর্ষা শুরুর পর আট দিন ও রোজার ঈদের ছয় দিন ছুটি থাকায় মোট ১৪ দিন প্রকল্পের কাজ হয়নি। তবে এখন কাজ চলছে। কাজের মান ভালো হচ্ছে বিধায় ধীরগতি। আগামী ৭ আগস্টের মধ্যে ঘরের কাজ শেষ করে সবার হাতে চাবি তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের মধ্যে পানির জন্য টিউবওয়েল বসানোর বরাদ্দ ছিল না। নিজের উদ্যোগে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রতিটি প্রকল্পে একটি করে টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করেছি। ঈদের পর সাতটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে আরও দুটি করে টিউবওয়েল এবং দুটি প্রকল্পে সাবমারসিবল পাম্প বসানো হবে। ফলে পানির সমস্যা থাকবে না। ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ টানার জন্য কোনও বরাদ্দ ছিল না। স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে ফ্রি কাজ করিয়েছি।

প্রতিটি ঘর নির্মাণে বরাদ্দের চেয়ে বেশি ব্যয় হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঘরের কাজ করার সময় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বালু ভরাট করে সহায়তা করেছেন। ইট কেনার সময় কম দাম রাখতে ভাটা মালিকদের অনুরোধ করেছি। তারা অনুরোধ রেখেছেন। এছাড়া সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ঘরের নির্মাণকাজে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এজন্য ঘরগুলো মজবুত করে বানাতে পেরেছি। কাজের মান নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। কারণ সরকারি বরাদ্দের চেয়ে বেশি টাকা খরচ করে ঘর বানাচ্ছি। কোনও সমস্যার কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করছি। প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে মনে হয়েছে, নিজের পরিবারের লোকজন বসবাস করবে, কাজেই মজবুত করে নির্মাণ করতে হবে।’

 

/এএম/

সম্পর্কিত

‘সাহস থাকলে দেশে আসুন, আপনার সঙ্গে খেলতে চাই’

‘সাহস থাকলে দেশে আসুন, আপনার সঙ্গে খেলতে চাই’

ময়মনসিংহে বিএনপির ১১ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা 

ময়মনসিংহে বিএনপির ১১ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা 

পরকালে মুক্তির দোহাই দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করতো এহসান গ্রুপ

পরকালে মুক্তির দোহাই দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করতো এহসান গ্রুপ

‘ঝরে পড়াদের শিক্ষাঙ্গনে ফেরাতে কাজ চলছে’ 

‘ঝরে পড়াদের শিক্ষাঙ্গনে ফেরাতে কাজ চলছে’ 

রাতারাতি বড়লোক হতে ইয়াবা ব্যবসায় হাসপাতালের পিয়ন

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:০০

কক্সবাজারের টেকনাফে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আব্দুর রহিম (৫৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আব্দুর রহিম টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ার চাকমা কাটা গ্রামের বাসিন্দা।

বৃস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ইয়াবার একটি চালান পাচারের খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের সামনে আসে থানা পুলিশের একটি দল। এরপর অভিযান চালিয়ে রহিমকে আটক করে। এ সময় তার কাছে ২০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে তাকে মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আব্দুর রহিম বলেছেন, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরসহ অনেককে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে রাতারাতি বড়লোক হতে দেখেছেন। তাই হঠাৎ বড়লোক হওয়ার জন্য নিজেও মাদক ব্যবসায় যুক্ত হন তিনি।

ওসি জানান, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ইয়াবা চালান করে আসছিলেন আব্দুর রহিম। তার সঙ্গে জড়িত মাদক পাচারকারীদের খুঁজে বের করা হবে। মাদক মামলা দিয়ে তাকে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হবে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ইয়াবা পাচার কছে। হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় ও চালকসহ একটি চক্র মাদক ব্যবসা করে কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে।

টেকনাফ উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল বলেন, গ্রেফতার আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে অফিসিয়ালি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

পুলিশের ভুলে বিনা অপরাধে ২ বছর কারাভোগ, পাচ্ছেন মুক্তি

পুলিশের ভুলে বিনা অপরাধে ২ বছর কারাভোগ, পাচ্ছেন মুক্তি

টেকনাফ স্থলবন্দরে আটকে আছে ৩০টি ট্রাক

টেকনাফ স্থলবন্দরে আটকে আছে ৩০টি ট্রাক

ধ্বংসের পথে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

ধ্বংসের পথে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

ঘুষ চাওয়ায় স্যানিটারি পরিদর্শককে পিটুনি, তদন্তে কমিটি

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:০৯
পণ্যে ভেজাল থাকার অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুষ চাওয়ায় সিরাজগঞ্জ তাড়াশ উপজেলা স্যানিটারি পরিদর্শক ও এক নৈশপ্রহরীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
 
অভিযুক্তরা হলেন—তাড়াশ উপজেলা স্যানিটারি পরিদর্শক ও জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এস এম শহিদুল ইসলাম রন্টু এবং উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা হাসপাতালের নৈশপ্রহরী গৌড়ী চাঁদ তালুকদার।  
 
বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাড়াশ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জামাল মিয়া শোভন জানান, গতকাল ১৫ সেপ্টেম্বর পাঁচটি নির্দেশনা দিয়ে দুই জনকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
 
গত মঙ্গলবার তাড়াশের ধামাইচ হাটের মসলা ও তেল বিক্রেতা ইমদাদুল হকের কাছে পণ্যে ভেজাল রয়েছে অভিযোগ তুলে ঘুষ দাবি করেন স্যানিটারি পরিদর্শক ও নৈশপ্রহরী। এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাদেরকে মারধর করে জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। পরে দুই জনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে শহিদুল ইসলাম রন্টু ও নৈশপ্রহরী গোড়ী চাঁদকে উদ্ধার করে থানায় নেয় পুলিশ। রাত ৯টার দিকে মুচলেকা দিয়ে তাদেরকে নিজ জিম্মায় ছাড়িয়ে আনেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।
 
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ড. রামপদ রায় জানান, ঘুষ দাবির অভিযোগে দুই জনকে শোকজ করা হয়েছে এবং একটি টিমকে সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তপূর্বক আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে ঘুষ দাবির অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি জানান, স্যানিটারি পরিদর্শক এস এম শহিদুল ইসলাম রন্টু জেলা কৃষক লীগের বর্তমান কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
/এসএইচ/

সম্পর্কিত

নুরুলের ৪৬০ কোটি টাকার সম্পদের কথা শুনে হতবাক গ্রামবাসী

নুরুলের ৪৬০ কোটি টাকার সম্পদের কথা শুনে হতবাক গ্রামবাসী

রামেকের করোনা ইউনিটে ১৬ দিনে ১০৩ জনের মৃত্যু

রামেকের করোনা ইউনিটে ১৬ দিনে ১০৩ জনের মৃত্যু

রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত রুশ নাগরিকের লাশ উদ্ধার

রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত রুশ নাগরিকের লাশ উদ্ধার

প্রেমের ফাঁদে ফেলে নগ্ন ভিডিও নিয়ে টাকা দাবি

প্রেমের ফাঁদে ফেলে নগ্ন ভিডিও নিয়ে টাকা দাবি

পরিবারের ৪ সদস্যকে অজ্ঞান করে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩:৪৯

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় এক পরিবারের চার সদস্যকে অজ্ঞান করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে ডাকাতরা। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ছাতক পৌরসভার নোয়ারাই আবাসিক এলাকার ব্যবসায়ী লালু শাহর (৫০) বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন লালু শাহ, তার স্ত্রী সাজিয়া বেগম (৪১), দুই ছেলে শাকিল (২৪) ও সাহেল (২১)। বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ তাদের ঘরের দরজা বন্ধ পেয়ে ডাকাডাকি করতে থাকেন প্রতিবেশীরা। এক পর্যায়ে তারা ঘরের জানালা ভাঙা দেখতে পান। এরপর ঘরে ঢুকে দেখেন, তারা তখনও ঘুমিয়ে আছেন। অনেক ডাকাডাকি করে না উঠায় তাদেরকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

লালু শাহর ছোটভাই ছাতক পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ফয়জুর রহমান জানান, ডাকাতরা ঘরের জানালা ভেঙে সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রায় পাঁচ লাখ টাকা টাকা নিয়ে গেছে। 

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজিম উদ্দিন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

চিঠি লিখে বিশ্বজয় বাংলাদেশি কিশোরীর

চিঠি লিখে বিশ্বজয় বাংলাদেশি কিশোরীর

বাস-সিএনজি সংঘর্ষে প্রাইমারির প্রধান শিক্ষিকাসহ নিহত ২

বাস-সিএনজি সংঘর্ষে প্রাইমারির প্রধান শিক্ষিকাসহ নিহত ২

হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু, নিরাপত্তাকর্মী-স্বজনদের সংঘর্ষ

হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু, নিরাপত্তাকর্মী-স্বজনদের সংঘর্ষ

ডেঙ্গুতে মারা গেলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা

ডেঙ্গুতে মারা গেলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা

মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে গোলাগুলি, আহত ১

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩:১৪

নোয়াখালী সদর উপজেলায় মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের গুলিতে মো. রুবেল (২৭) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় দাদপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। 

রুবেল দাদপুর গ্রামের মো. হানিফের ছেলে। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দাদপুর ইউনিয়নে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শিপন গ্রুপ ও কসাই জহির গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জেরে বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় দাদপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর ব্রিকফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় উভয় গ্রুপের সদস্যরা গোলাগুলি শুরু করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয় রুবেল। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠায়।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহেদ উদ্দিন জানান, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুলিবিদ্ধ রুবেলের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজের পরদিন মিললো লাশ

পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজের পরদিন মিললো লাশ

কেন প্রতিবছর ডুবে যায় রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু?

কেন প্রতিবছর ডুবে যায় রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু?

কৃষকের ধান খেয়ে যায় প্রভাবশালীদের মহিষ

কৃষকের ধান খেয়ে যায় প্রভাবশালীদের মহিষ

চট্টগ্রামে আরও ১১২ জনের করোনা শনাক্ত 

চট্টগ্রামে আরও ১১২ জনের করোনা শনাক্ত 

পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজের পরদিন মিললো লাশ

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৩১

চাঁদপুর শহরের বিপণিভাগ বাজার এলাকা থেকে নারায়ণ ঘোষ (৬০) নামে এক মিষ্টি ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় বাজারের মেসার্স শরীফ স্টিল ওয়ার্কশপের পাশ থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনাস্থলের পাশের একটি সেলুন থেকে হত্যার আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ ও পিবিআই। ঘটনার পর থেকে ওই সেলুনের কর্মচারী রাজু শীল পলাতক। নিহত নারায়ণ ঘোষ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের নতুনবাজার ঘােষপাড়ার বাসিন্দা মৃত যোগলকৃষ্ণা ঘোষের ছেলে। তিনি পাইকারিতে দই-মিষ্টি বিক্রি করতেন।

নিহতের ছোট ছেলে রাজু ঘোষ ও ফুফাতো ভাই চন্দ্রনাথ ঘোষ চন্দ্র জানান, দীর্ঘদিন ধরে পাইকারিতে দই-মিষ্টি বিক্রি করছেন নারায়ণ ঘোষ। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি পাওনা টাকা তুলতে বিপণিভাগ বাজারে যান। রাতে তার সঙ্গে বাজার থেকে তোলা টাকা ও হাতে একটি স্বর্ণের আংটি ছিল। এরপর কৃষ্ণ কর্মকারের সেলুনে শেভ করেন তিনি। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। সকালে তার বস্তাবন্দি লাশ পাওয়া গেছে বলে খবর পান। 

বিপণিভাগ বাজারের নৈশপ্রহরী ইসমাইল বকাউল জানান, রাত ২টায় কৃষ্ণ কর্মকারের সেলুনের কর্মচারী রাজু শীল সেলুন খুলে একটি বস্তা নিয়ে আবারও প্রবেশ করে। দূর থেকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, সামনে পূজা তাই দোকান পরিষ্কার করছে। কিছুক্ষণ পর বস্তাটি টেনেহিঁচড়ে পাবলিক টয়লেটের কাছে নিয়ে যায়। এবারও তাকে জিজ্ঞেস করলে জানায়, দোকানের ময়লা-আবর্জনা পাবলিক টয়লেটের কাছে ফেলে দিচ্ছে। এরপর ভোর ৪টায় সেলুন বন্ধ করে চলে যায় রাজু শীল।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায় জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছি। প্রত্যক্ষদর্শী নৈশপ্রহরী ও পরিবারের বক্তব্য নিয়েছি। তদন্ত করে অভিযুক্তকে আটক করা হবে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনও বিষয় জড়িত আছে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে গোলাগুলি, আহত ১

মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে গোলাগুলি, আহত ১

কেন প্রতিবছর ডুবে যায় রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু?

কেন প্রতিবছর ডুবে যায় রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু?

চট্টগ্রামে আরও ১১২ জনের করোনা শনাক্ত 

চট্টগ্রামে আরও ১১২ জনের করোনা শনাক্ত 

স্রোতে ভেসে যাওয়া মা-মে‌য়ের লাশ উদ্ধার, ছেলে নিখোঁজ

স্রোতে ভেসে যাওয়া মা-মে‌য়ের লাশ উদ্ধার, ছেলে নিখোঁজ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

‘সাহস থাকলে দেশে আসুন, আপনার সঙ্গে খেলতে চাই’

‘সাহস থাকলে দেশে আসুন, আপনার সঙ্গে খেলতে চাই’

ময়মনসিংহে বিএনপির ১১ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা 

ময়মনসিংহে বিএনপির ১১ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা 

পরকালে মুক্তির দোহাই দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করতো এহসান গ্রুপ

পরকালে মুক্তির দোহাই দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করতো এহসান গ্রুপ

‘ঝরে পড়াদের শিক্ষাঙ্গনে ফেরাতে কাজ চলছে’ 

‘ঝরে পড়াদের শিক্ষাঙ্গনে ফেরাতে কাজ চলছে’ 

ময়মনসিংহে করোনা শনাক্ত বেড়েছে

ময়মনসিংহে করোনা শনাক্ত বেড়েছে

অক্টোবরে চালু হচ্ছে বিমানের সৈয়দপুর-কক্সবাজার ফ্লাইট 

অক্টোবরে চালু হচ্ছে বিমানের সৈয়দপুর-কক্সবাজার ফ্লাইট 

আবাসিক মাদ্রাসার ৩ ছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় মামলা

আবাসিক মাদ্রাসার ৩ ছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় মামলা

ওসির নম্বর ক্লোন করে চেয়ারম্যানের থেকে টাকা আদায়, গ্রেফতার ২ 

ওসির নম্বর ক্লোন করে চেয়ারম্যানের থেকে টাকা আদায়, গ্রেফতার ২ 

ডা. প্রাণ গোপালসহ ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ 

ডা. প্রাণ গোপালসহ ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ 

বাজার করে ফেরা হলো না 

বাজার করে ফেরা হলো না 

সর্বশেষ

শেষ হলো সংসদ অধিবেশন

শেষ হলো সংসদ অধিবেশন

গৃহহীনদের ঘরের ‘দুর্নীতি তদন্ত’ দুদক বন্ধ করবে কেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

গৃহহীনদের ঘরের ‘দুর্নীতি তদন্ত’ দুদক বন্ধ করবে কেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি: তথ্যমন্ত্রী

মিথিলার বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ, মুখ খুলছে ‘অমানুষ’ টিম

মিথিলার বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ, মুখ খুলছে ‘অমানুষ’ টিম

© 2021 Bangla Tribune