X
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

করোনায় আরও ২৩৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫৭৭৬

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ২০:১৬

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ২৩৫ জন। এদের নিয়ে দেশে করোনায় সরকারি হিসাবে মোট মারা গেলেন ২১ হাজার ৩৯৭ জন।

এর আগে গতকাল ২৪৬ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়। তার আগের দিন (১ আগস্ট) তা ছিল ২৩১ জন। তার আগের দিন (৩১ জুলাই) ছিল ২১৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৭৭৬ জন। গতকাল শনাক্ত হয়েছিলেন ১৫ হাজার ৯৮৯ জন। তার আগের দিন (১ আগস্ট) তা ছিল ১৪ হাজার ৮৪৪ জন। আর তার আগের দিন শনাক্ত হয়েছিলেন নয় হাজার ৩৬৯ জন।

নতুন ১৫ হাজার ৭৭৬ জনকে নিয়ে দেশে করোনায় সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হলেন ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৬ হাজার ২৯৭ জন। এদের নিয়ে দেশে করোনা থেকে মোট সুস্থ হলেন ১১ লাখ ২৫ হাজার ৪৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৫৭ হাজার ২৯৭টি আর পরীক্ষা হয়েছে ৫৫ হাজার ২৮৪টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৮ লাখ ৯৯ হাজার ১৬৯টি। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৫৮ লাখ ১৮ হাজার ৭৭০টি আর বেসরকারিভাবে ২০ লাখ ৮০ হাজার ৩৯৯টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৪১ শতাংশ।

শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ৮০ শতাংশ আর মৃত্যুর হার এক দশমিক ৬৫ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৩৫ জনের মধ্যে পুরুষ ১৪০ জন আর নারী ৯৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৪ হাজার ৪১৯ জন আর নারী ছয় হাজার ৯৭৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে রয়েছেন চার জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪১ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৮০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে চার জন আর ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছে একজন।

এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৭৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৬৫ জন, রাজশাহী বিভাগের ২১ জন, খুলনা বিভাগের ৩২ জন, বরিশাল বিভাগের আট জন, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের রয়েছেন ১২ জন করে।

২৩৫ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৭৩ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৪৬ জন, বাড়িতে ১৫ জন। হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে একজনকে।

/জেএ/এমএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

বরিশালসহ ৩ বিভাগে আজও করোনায় মৃত্যু নেই

বরিশালসহ ৩ বিভাগে আজও করোনায় মৃত্যু নেই

দু’দিন পর শনাক্ত আবারও হাজারের ওপরে

দু’দিন পর শনাক্ত আবারও হাজারের ওপরে

করোনায় চার মাস পর সর্বনিম্ন মৃত্যু

করোনায় চার মাস পর সর্বনিম্ন মৃত্যু

করোনায় শনাক্ত নামলো হাজারের নিচে

করোনায় শনাক্ত নামলো হাজারের নিচে

লড়াই, সংগ্রাম ও সাফল্যের নাম শেখ হাসিনা

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০০

লড়াই, সংগ্রাম ও সাফল্যের নাম শেখ হাসিনা। দেশের প্রাচীনতম সংগঠন আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেন ১৯৮১ সালে। পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দলটি যোগ্য নেতৃত্বের সংকটে ততদিনে কয়েকটি ব্রাকেট-বন্দি হয়ে পড়েছিল। ঠিক সেই সময় দলের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আবির্ভাব ঘটে শেখ হাসিনার। ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সাড়ে তিন মাসের মাথায় দেশে ফেরেন তিনি। অবশ্য ওই সময়কার সরকারের নানা বাধা ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই তাকে দেশে ফিরতে হয়।

দেশে মাটিতে পা রাখার পর শুরু হয় শেখ হাসিনার লড়াই-সংগ্রাম। বাবা-মায়ের স্নেহে যে বাড়িতে বড় হয়েছেন, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের সেই বাড়িতেই প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার কণ্টকাকীর্ণ পথ চলা শুরু হয়। নিজ দলের মাঝেও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নানা বাধার মুখে পড়েন তিনি। তবে, বঙ্গবন্ধুকন্যা হয়ে তিনি হালছাড়ার পাত্র নন। উজানেই নাও ঠেলে এগিয়েছেন। ওই সময় বিভক্ত আওয়ামী লীগকে সংঘবদ্ধ করার পাশাপাশি শুরু করেন গণতন্ত্রের লড়াই। ভাত ও ভোটের অধিকার নিশ্চিতের সংগ্রাম। আর এই সংগ্রামের পথে তাকে পার হতে হয় নানা প্রতিবন্ধকতা। কারাবরণ করতে হয় একাধিকবার। জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেমে বার বার মৃত্যুর মুখে পড়েছেন তিনি। অনন্ত ২০ বার তার ওপর হামলা হয়েছে। প্রত্যোকটি হামলার লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করা।  তবুও পিছপা হননি, লড়াই সংগ্রাম ছেড়ে দেননি শেখ হাসিনা। জেল-জুলুম, অত্যাচার কোনও কিছুই তাকে টলাতে পারেনি একবিন্দুও। বরং সাহসের সঙ্গে এগিয়ে গেছেন সামনের দিকে।

১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে দেশকে বদলে দেওয়ার প্রয়াসে সিদ্ধহস্ত হন শেখ হাসিনা। ৫ বছরের মেয়াদ শেষে তৎকালীন  তত্ত্বাবধায়ক সরকারে হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিনা রক্তপাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের নজির স্থাপন করেন শেখ হাসিনা। ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতা হারায় আওয়ামী লীগ। শুরু হয় নতুন করে লড়াই-সংগ্রাম। সারা দেশে দমন-পীড়নের মুখে পড়ে তার ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। সেই সংগ্রামে দলের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হারাতে হয়। শেখ হাসিনার জীবন থামিয়ে দিতে ২০০৪ সালে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করা হয়। তবে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। পিছপা না হয়ে আবারও দুঃশাসন ও ভোটের অধিকার রক্ষার আন্দোলন শুরু করেন। সেই লড়াইয়ে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতা ছাড়লেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে নানা চক্রান্ত শুরু হয়। সেই চক্রান্তের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোচ্চার  হয়ে উঠে আওয়ামী লীগ। দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা। সেনাবাহিনীর সমর্থনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে  ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার। ‘ওয়ান-ইলেভেনের সরকার’ নামে পরিচিত সেনা সমর্থিত সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শুরু হয় নতুন ষড়যন্ত্র। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য হাজির করা হয় ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র নীলনকশা। সেই নীলনকশা বাস্তবায়নে ২০০৭ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন সরকার কথিত দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করে শেখ হাসিনাকে। প্রায় এক বছর জেল জীবন শেষে  নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আদায় করেন সেনাসমর্থিত সরকারের কাছ থেকে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের  নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে আবারও ক্ষমতায় আসেন শেখ হাসিনা। সেই থেকে বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সরকার পরিচালনা শুরু করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মাতারবাড়ি প্রকল্প, ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেওয়া, দরিদ্র্যের হার নিচে নামিয়ে আনা, কৃষি বিপ্লব, শিক্ষার হার বাড়ানো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সমাপ্ত, যুদ্ধাপরাধীদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা, বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদযাপন, গৃহহীনদের ঘর উপহার— এসব অর্জন করে বাংলাদেশ।

দেশকে সেক্টরভিত্তিক এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পিতা মুজিবের হাতে গড়া দলকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপরে দাঁড় করিয়েছেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ বর্তমানে অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। নিজের যোগ্যতায় দলে একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। দলীয় কাউন্সিলরা তাকে ৯ বার দলের সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। তিনি টানা ৪০ বছর দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ তো বটেই দলের নেতৃত্বের দিক থেকে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী নেতাদেরও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের পাশাপাশি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ঝুলিতে জমেছে অনেকগুলো অর্জন। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক অনেক সম্মাননা ও পদক। এ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে দেওয়া আন্তর্জাতিক পুরস্কারের সংখ্যাও অনেক। টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সফলতার জন্য ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কার দেয় গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন এবং ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই)। এর আগেও তিনি অসংখ্য আন্তর্জাতিক পদক ও বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেছেন সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি।

/এপিএইচ/আপ-এনএইচ/

সম্পর্কিত

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

যে মূলমন্ত্রে জননেত্রী হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধুকন্যা

যে মূলমন্ত্রে জননেত্রী হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধুকন্যা

প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিনে ৭৫ লাখ টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু 

প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিনে ৭৫ লাখ টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু 

যেসব কারণে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতা

যেসব কারণে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতা

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:১৮

করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষ, ছাত্রাবাস, ক্যাম্পাস, অফিসসহ সর্বত্র যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আব্দুল হামিদ স্বল্প সময়ের মধ্যে সকল শিক্ষার্থীর টিকাদান সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ ও মনিটরিং এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, রাষ্টপতির উপ-প্রেস সচিব মুন্সী জালাল উদ্দিন বাসসকে এ কথা জানান। 

তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতি করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত ক্লাশসহ কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন। সে ক্ষেত্রে আব্দুল হামিদ বলেন, সবকিছুর উপরে থাকতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। 

সাক্ষাৎকালে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দিক অবহিত করেন। তিনি রাষ্ট্রপ্রধানকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী কমপক্ষে এক ডোজ টিকা পাওয়ার পর সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ধাপে ধাপে ক্লাস কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদল তাদের প্রতিষ্ঠানে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। 

প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ।

উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আগামী ১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তুতি বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম এবং সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসস

/ইউএস/

সম্পর্কিত

সাক্ষাৎকার দিয়ে সংসদীয় কমিটির তলবের মুখে ঢাবি শিক্ষক

সাক্ষাৎকার দিয়ে সংসদীয় কমিটির তলবের মুখে ঢাবি শিক্ষক

না জানিয়ে পরিদর্শনে যাবো: শিক্ষামন্ত্রী

না জানিয়ে পরিদর্শনে যাবো: শিক্ষামন্ত্রী

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীপু মনির হুঁশিয়ারি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীপু মনির হুঁশিয়ারি

যে মূলমন্ত্রে জননেত্রী হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধুকন্যা

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০০

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। দল গুছিয়ে ক্ষমতায় আসতে অপেক্ষা করতে হয় আরও  ১৫ বছর। ততদিনে দক্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি। ১৯৮১ সালে ঐক্যের ডাক দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এরপর কেটে গেছে ৪০ বছর। কোন মন্ত্রবলে তিনি হয়ে উঠলেন জননেত্রী? ইতিহাসের পাতা বলে, ১৯৮১ সালে দেশের মাটিতে পা রেখে ‘আমি নেতা নই’ তার এই বাক্য উচ্চারণের মাঝেই সকল শক্তি নিহিত, যিনি কিনা এতদিন পরে ২০২১ সালে এসেও বলতে পারেন— ‘আমি শুধু শাসক নই, বাংলাদেশের মানুষের সেবক।’

সাংবাদিক, সুশাল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একজন আদর্শ নেতা অন্যের চাহিদা এবং প্রয়োজন বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। যিনি নেতা তিনি নিজেকে নেতা ঘোষণা করতে পারেন না। দেশরত্ন শেখ হাসিনা সেই মন্ত্র ধারণ করতে পেরেছেন।

১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছয় বছর পর দেশে ফিরে সাংগঠনিক ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আসুন, আবারও আমরা এক হই।’ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর শেখ হাসিনা এ দিন সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংবর্ধনার সমাবেশে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জনগণের কাছে তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘এই ঢাকা শহরে আমার কেউ নাই।’ বাংলার দুঃখী মানুষের জন্য পিতার জীবনদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এই সংগ্রামে আমিও জীবনদান করতে প্রস্তুত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নেতা নই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার একজন কর্মী। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্য আপনাদের নিয়ে আমি নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।’

৪০ বছর পর ২০২১ সালের ২৯ মে বিশ্বব্যাপী শান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে দায়িত্বরত বাংলাদেশিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি শুধু প্রধানমন্ত্রী নই, জাতির পিতার মেয়ে। তাই, আমার ওপর আপনাদের অধিকার আছে। তাই যে কোনও প্রশ্ন করতে পারেন।’ ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর এক অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

গত  ৬ সেপ্টেম্বর নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর নির্বাচনি পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে, আমি শুধু শাসক নই, বাংলাদেশের মানুষের সেবক। জনগণের সেবা ও কল্যাণ করাটাকেই আমি সবচেয়ে বড় কাজ বলে মনে করি।’

এই যে ‘আমি নেতা নই’, সেটা বলতে পারার পাশাপাশি ধারণ করতে পারার কারণেই শেখ হাসিনা অন্য সবার থেকে আলাদা উল্লেখ করে সাংবাদিক জ্যেষ্ঠ আবেদ খান বলেন, ‘শেখ হাসিনা তার স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। ১৯৮১ সালে যখন দেশে ফিরে আসেন, তখন তিনি যে মানসিক বিপর্যস্ততার মধ্যে ছিলেন, সেই সময় নেওয়া শপথ তার চালিকাশক্তি হবে, এটাই স্বাভাবিক। তিনি যে কথাগুলো সেদিন বলেছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো— ‘আমি নেতা নই’ বলতে পারা। তাতে তিনি নেতৃত্বের সুদৃঢ়তা অর্জন করেছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার যে কাজ, সেটার বীজ রোপণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ হাসিনা নিজের দক্ষতা দিয়ে সেই আলোকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং তার ফল আমরা পাচ্ছি। তার ক্ষেত্রে এক কথায় বলা যায়— বৃক্ষ তোমার নাম কী, ফলে পরিচয়।’’

‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার আগমন ছিল একটি নতুন যুগের সূচনা’— উল্লেখ করে দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক মাসুদা ভাট্টি বলেন, ‘৭৫-পরবর্তীকালে দেশ ও দেশের রাজনীতির যে উল্টোযাত্রা শুরু হয়েছিল, তা থেকে উত্তরণে এবং দেশের সামরিকায়ন প্রক্রিয়া থেকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিকায়নে শেখ হাসিনার ভূমিকাকে আমরা বাংলাদেশকে দ্বিতীবার দেশ স্বাধীনের সঙ্গে তুলনা করতে পারি।’

কেবল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে নয়, তিনি একজন প্রকৃত বিশ্বনেতার মতোই বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বারবার বলেছেন যে, তিনি নেতা হতে আসেননি। তিনি নিজের ভাগ্য গড়তে আসেননি। এগুলো যে কেবল কথার কথা নয়, তার প্রমাণ পাওয়া যায় তার জীবনাচরণ এবং  বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ হওয়া তার প্রতি জনগণের ভালোবাসা থেকে। কেবলমাত্র শাসক হলে তিনি গণমানুষের এত ভালোবাসা পেতেন না।

তার সমর্থকগোষ্ঠী তাকে ভালোবেসে যথার্থই দেশরত্ন খেতাব দিয়েছে। তিনি সত্যিই দেশরত্ন। কারণ, বাংলাদেশ তার মতো রত্নকে না পেলে হয়তো নতুন করে পরাধীন হতো। শেখ হাসিনা শুধু চিন্তাই করেন তা নয়, চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেন। আজকের বাংলাদেশের দিকে তাকালে সেটাই প্রত্যক্ষ করা যায় সর্বত্র।

/এপিএইচ/আপ-এনএইচ/

সম্পর্কিত

লড়াই, সংগ্রাম ও সাফল্যের নাম শেখ হাসিনা

লড়াই, সংগ্রাম ও সাফল্যের নাম শেখ হাসিনা

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিনে ৭৫ লাখ টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু 

প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিনে ৭৫ লাখ টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু 

যেসব কারণে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতা

যেসব কারণে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতা

প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিনে ৭৫ লাখ টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু 

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৫

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনে সারাদেশে গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গণটিকার আওতায় এদিন ৭৫ লাখ মানুষকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। এর পাশাপাশি অন্যান্য দিনের নিয়মিত ৫ লাখ টিকাও প্রদান চলবে। 

টিকা নেওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিকাকার্ড সঙ্গে আনতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়নের কোনও একটি ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে একটি বুথ, পৌরসভার প্রতিটি কেন্দ্রে একটি কেন্দ্রে একটি বুথ, সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩টি বুথের মাধ্যমে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। সারাদেশে আগে থেকে যেসব কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি চলছিল সেগুলো অব্যাহত থাকবে।  টিকাদান শুরু হবে সকাল ৯টা থেকে। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় দুপুর আড়াইটা থেকে দেওয়া হবে টিকা। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সারা দেশের সব কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

খুরশীদ আলম বলেন, মঙ্গলবার যে গণ টিকাদান হবে, সারা দেশে কোভিড-১৯ এই ক্যাম্পেইনে আমরা শুধু প্রথম ডোজের টিকা দেবো এবং একইভাবে আগামী মাসের একই তারিখে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেবো। আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় না পৌঁছা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকাদান চলমান থাকবে। শেষ টিকা প্রদানের পর আমাদের টিম এক ঘণ্টা অবস্থান করবে। স্থানীয়ভাবে টিকাদানের সময় পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে পারবে। কোনোভাবেই আমাদের ইপিআই সেশনের টিকা দেওয়া বন্ধ রাখা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, এই ক্যাম্পেইনে আগে থেকে নির্ধারিত জনগোষ্ঠী ২৫ বছর বয়সী বা তদূর্ধ্বদের এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়ে টিকা দেবো।

ক্যাম্পেইন শুরুর প্রথম ২ ঘণ্টা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পঞ্চাষোর্ধ্ব বয়স্ক নাগরিক, নারী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের টিকা দেওয়া হবে জানিয়ে ডা. আবুল বাশার বলেন, তবে স্তন্যদানকারী মা ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনবো না।

এ দিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২৯টি কেন্দ্রে গণটিকা দেওয়া হবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় আজ ৫৪টি ওয়ার্ডের নির্ধারিত ৫৪টি কেন্দ্রেই কোভিড-১৯ এর টিকা কার্যক্রম চলবে। এছাড়া দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৫টি ওয়ার্ডের ৭৫টি টিকা কেন্দ্রেও চলবে গণটিকা কার্যক্রম।

জানা গেছে, উত্তর সিটি করপোরেশনে মঙ্গলবার ও পরের দিন বুধবার প্রতিদিন দুপুর আড়াইটা থেকে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৫০০ জন করে দুই দিনে মোট ১ হাজার জনকে টিকা দেওয়া হবে। যারা ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার যে কোনও হাসপাতালে টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন কিন্তু এখনও এসএমএস পাননি শুধুমাত্র তারাই এই কার্যক্রমের আওতায় টিকা নিতে পারবেন। তবে ষাটোর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম ভিন্ন। ষাটোর্ধ্ব কেউ রেজিস্ট্রেশন না করলেও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সাথে নিয়ে গেলে টিকা দেওয়া হবে।

এছাড়াও টিকা গ্রহণকারীগণ যে কেন্দ্র থেকে ১ম ডোজের টিকা গ্রহণ করবেন এক মাস পর একই কেন্দ্র থেকে ২য় ডোজের টিকাও গ্রহণ করতে পারবেন। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে ৭৫টি কেন্দ্রে গণটিকা দেওয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩৫০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। এদিন টিকা গ্রহণকারীদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে আগামী ২৮ অক্টোবর। সবমিলিয়ে এই কার্যক্রমে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মোট ৫২ হাজার ৫০০ ডোজ টিকা দেওয়া হবে।

এবারের টিকাদান কর্মসূচি ‘গ্রামগঞ্জ’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সেখানে দরিদ্র জনগোষ্ঠী রয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকে বয়স্ক রয়েছেন, হার্ড টু রিচ এলাকায়- যারা সব সময় টিকাদান কেন্দ্রে আসতেও পারেন না, তাদের জন্য এবারের টিকাদান কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার থাকবে।

/এসও/ইউএস/

সম্পর্কিত

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

টিকার জন্য বাজেটে বরাদ্দ ১৪ হাজার কোটি টাকা: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

টিকার জন্য বাজেটে বরাদ্দ ১৪ হাজার কোটি টাকা: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

‘কোভিশিল্ড’ আছে আর মাত্র ৪ লাখ ডোজ

‘কোভিশিল্ড’ আছে আর মাত্র ৪ লাখ ডোজ

টিকা দেবে কিনা আজ রাতে জানাবে যুক্তরাষ্ট্র

টিকা দেবে কিনা আজ রাতে জানাবে যুক্তরাষ্ট্র

যেসব কারণে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতা

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০০

সাহসী, যৌক্তিক আর সুস্পষ্টভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর হয়ে কথা বলতে পারার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিকভাবে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। আর তার এই অবস্থানের বীজ বপন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সব মিলিয়ে এই জননেত্রী আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা তিনি অর্জন করেছেন। তার কাজ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বাংলাদেশ বিশ্ব অঙ্গনে সম্মানের আসনে পৌঁছাতে পেরেছে।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও উন্নত-সমৃদ্ধ দেশের দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ক্ষেত্রে তার নেওয়া পদক্ষেপের বস্তবায়ন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে রেখে চলা অবদান সারা বিশ্বেই প্রশংসিত। সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে ‘ভ্যাকসিন হিরো’, ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’, ‘স্টেট ম্যান’, ‘স্টার অব ইস্ট’, ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ ইত্যাদি সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুকন্যার মাধ্যমে আজ  বাংলাদেশ ‘সমুদ্র জয়’ থেকে শুরু করে অর্জন করেছে ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ'-এর মতো সম্মাননা।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় গোড়াপত্তন

১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় এসে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগ্যতার বহির্প্রকাশ ঘটান শেখ হাসিনা। দীর্ঘ দুই দশকের অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে দেশের পার্বত্য এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ইউনেস্কো তাকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার দেয়। ক্ষমতার ওই মেয়াদেই জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ‘ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলন’-এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক ‘সেরেস’ (CERES) মেডেল প্রদান করে। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তিনি।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক সন্তোষজনক সম্পর্ক, নিজ দেশের জনগণের কল্যাণ, নারী ও শিশু এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতায় অবদানের জন্য ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আবদুল কালামের নামে প্রতিষ্ঠিত ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল-এর ‘ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’ পান।

মানবিক প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে আসা ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রশংসিত হন শেখ হাসিনা। অসহায় মানুষগুলোর প্রতি মানবতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তিনি ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত হন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে দায়িত্বশীল নীতি ও তার মানবিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী ‘আইপিএস ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং ২০১৮ সালে ‘স্পেশাল ডিসটিংশন অ্যাওয়ার্ড ফর লিডারশিপ পদক’ পান। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নিউজ এজেন্সি ‘দি ইন্টার প্রেস সার্ভিস-আইপিএস’ এবং নিউইয়র্ক, জুরিখ ও হংকং-ভিত্তিক তিনটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনের নেটওয়ার্ক গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ২০১৮ সালে শেখ হাসিনাকে এ দুটি পদক প্রদান করে।

চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ

২০১৫ সালে শেখ হাসিনা বিশ্বের সর্বোচ্চ পরিবেশ-বিষয়ক পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দূরদর্শী পদক্ষেপ নেওয়ায় তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ওই বছরেই জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আইসিটির ব্যবহারে প্রচারণার জন্য শেখ হাসিনাকে ‘আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো (এমডিজি) অর্জনে বিশেষ করে শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে অবদানের জন্য জাতিসংঘের অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রগামী

উইমেন ইন পার্লামেন্ট (ডব্লিউআইপি) ও ইউনেস্কো বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীকে ‘ডব্লিউআইপি গ্লোবাল ফোরাম অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য ২০১৯ সালে তাকে এ পদক দেওয়া হয়। নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য ২০১৪ সালে শেখ হাসিনাকে ‘ট্রি অব পিস’ পুরস্কার দেওয়া হয়।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘গ্লোবাল সামিট অব ওমেন’ তাকে এই সম্মাননা দেয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দু’বার সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য খাতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস এবং ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ২০১১ ও ২০১৩ সালে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ২০১৬ সালে ইউএন উইমেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ পুরস্কার ও ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ পদক প্রদান করে।

টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০১৯ সালে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কার দিয়েছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই)।

এছাড়া ১৯৯৯ পার্ল এস বাক অ্যাওয়ার্ড, মাদার তেরেসা পদক, এমকে গান্ধী পদক, ২০০৯ সালে ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার, ইন্দিরা গান্ধী স্বর্ণ পদক, হেড অব স্টেট পদক, ২০১১ ও ২০১২ গ্লোবাল ডাইভার্সিটি অ্যাওয়ার্ড, ১৯৯৭ নেতাজী স্মৃতি পুরস্কার পান।

খাদ্য উৎপাদনের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও আইসিটি উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটি তাকে সনদ প্রদান করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে আন্তরিক ও সততার সঙ্গে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করছেন, কিন্তু বিশ্ব তাদের নিজেদের তথ্য দিয়ে যাচাই করে দেখছে, বাংলাদেশকে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছানোয় শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ভূমিকা রাখছে। যে যা-ই বলুক, বিশ্ববাসী প্রধানমন্ত্রী হাসিনার নেতৃত্ব অনুধাবন করছে, যিনি কেবল বাংলাদেশ না, শোষিত মানুষের পক্ষে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নেতা হয়ে উঠতে পেরেছেন। এবারও জাতিসংঘে তার যে সাহসী উচ্চারণ, সেটা স্বীকৃতিযোগ্য বটে। সবার জন্য ভ্যাকসিন সহজলভ্য করা, জলবায়ু পরিবর্তনে ধনী দেশগুলোর দায়, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান, এগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই অনন্য ভূমিকার জন্য ৩১টির বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন।’

/এপিএইচ/আপ-এনএইচ/

সম্পর্কিত

লড়াই, সংগ্রাম ও সাফল্যের নাম শেখ হাসিনা

লড়াই, সংগ্রাম ও সাফল্যের নাম শেখ হাসিনা

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

যে মূলমন্ত্রে জননেত্রী হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধুকন্যা

যে মূলমন্ত্রে জননেত্রী হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধুকন্যা

প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিনে ৭৫ লাখ টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু 

প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিনে ৭৫ লাখ টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু 

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বরিশালসহ ৩ বিভাগে আজও করোনায় মৃত্যু নেই

বরিশালসহ ৩ বিভাগে আজও করোনায় মৃত্যু নেই

দু’দিন পর শনাক্ত আবারও হাজারের ওপরে

দু’দিন পর শনাক্ত আবারও হাজারের ওপরে

করোনায় চার মাস পর সর্বনিম্ন মৃত্যু

করোনায় চার মাস পর সর্বনিম্ন মৃত্যু

করোনায় শনাক্ত নামলো হাজারের নিচে

করোনায় শনাক্ত নামলো হাজারের নিচে

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

করোনায় মৃত্যুহীন দিন তিন বিভাগের

করোনায় মৃত্যুহীন দিন তিন বিভাগের

মে মাসের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু ও শনাক্ত

মে মাসের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু ও শনাক্ত

৬ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

৬ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

১৪ কোটি টাকার সিরিঞ্জ কিনবে সরকার

১৪ কোটি টাকার সিরিঞ্জ কিনবে সরকার

করোনায় আবারও নারী মৃত্যু বেশি

করোনায় আবারও নারী মৃত্যু বেশি

সর্বশেষ

লড়াই, সংগ্রাম ও সাফল্যের নাম শেখ হাসিনা

লড়াই, সংগ্রাম ও সাফল্যের নাম শেখ হাসিনা

হার্ট অ্যাটাক ইনজামামের

হার্ট অ্যাটাক ইনজামামের

সিনহা হত্যা মামলা: চতুর্থ দফার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

সিনহা হত্যা মামলা: চতুর্থ দফার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

পাঁচ ঘণ্টা পর ময়লা সরিয়ে উদ্ধার হলো কলেজছাত্রীর লাশ

পাঁচ ঘণ্টা পর ময়লা সরিয়ে উদ্ধার হলো কলেজছাত্রীর লাশ

ডিএনসিসিতে টিকাদানের সময় নিয়ে বিভ্রান্তি

ডিএনসিসিতে টিকাদানের সময় নিয়ে বিভ্রান্তি

© 2021 Bangla Tribune