X
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৬ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

চাল আমদানির এলসি খোলার হার বেড়েছে পৌনে ৬ হাজার শতাংশ

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:৩৭

বাজার স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপকভাবে চাল আমদানি হচ্ছে। তথ্য বলছে, বিগত যেকোনও সময়ের চেয়ে দেশের প্রধান খাদ্যপণ্য চাল আমদানি বেড়েছে। গত এক বছরে (জুলাই ২০২০ তুলনায় জুলাই ২০২১) চাল আমদানির এলসি খোলার হার বেড়েছে ৫ হাজার ৭৫৭ শতাংশ, যা যেকোনও সময়ের চেয়ে রেকর্ড। একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তির হার বেড়েছে এক হাজার ৮৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে চাল আমদানি বাড়লেও বাজারে কোনও  প্রভাব নেই দামে। সরকারি তথ্যই বলছে, দেশে মোটা চালের কেজিই এখন ৪৫ টাকার ওপরে। সরু চাল কিনতে গুনতে হচ্ছে সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, গত এক বছরে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। এরমধ্যে সরু চালের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি। মাঝারি চালের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশের বেশি। আর মোটা চালের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

এদিকে বাজারের তথ্য বলছে, গরিবের মোটা চালের দাম এখন ৪৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা কেজি।  চিকন চালের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ড. জায়েদ বখত বলেন, সবকিছুর আগে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এক্ষেত্রে আমদানি ছাড়া বিকল্প আর কিছুই নেই।

তিনি বলেন, চাল আমদানি বাড়লেও অর্থনীতিতে এর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। কারণ, দুই মাস ধরে সামান্য কমলেও  বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্বস্তিদায়ক স্থানে আছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানি সেই অর্থে শুরু হয়নি। তবে আমদানি যেভাবে বেড়েছে তাতে চালের দাম কমে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ে দেদার চাল আমদানি হচ্ছে। আর এর ফলে সরকারি গুদামগুলোতে চালের মজুত বেড়ে ১৬ লাখ টন ছাড়িয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খাদ্যশস্যের মজুত ১৮.২৭ লাখ মেট্রিক টন। এরমধ্যে চালের মজুত ১৬.০২ লাখ মে টন। গমের মজুত ১.৬৬ লাখ মেট্রিক টন। ধান মজুত রয়েছে ০.৯১ লাখ মেট্রিক টন।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-জুন সময়ে অর্থাৎ পুরো অর্থবছরে চালের জন্য ২ লাখ ৫৩ হাজার ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস শুধু জুলাইতে চালের জন্য এলসি খোলা হয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ডলারের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) চাল আমদানির জন্য ৮৭ কোটি ৬২ লাখ ডলারের এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়েছে। আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০২০) একই সময়ে এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৩৩৫৬.৮৯ %।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গত জুলাইয়ে চাল আমদানির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ডলারের। আগের বছরের একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৫ হাজার ৮০ ডলারের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে চাল আমদানির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৩৪ কোটি ২ লাখ ডলারের; অর্থাৎ গত এক বছরে এলসি নিষ্পত্তির হার বেড়েছে  ৪৯৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে নিষ্পত্তির পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৭২ হাজার ডলারের।

চালের মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে গত বছরের শেষের দিকে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। একইসঙ্গে সরকারি উদ্যোগেও চাল আমদানি অব্যাহত রাখা হয়। কিন্তু প্রথম দিকে ব্যবসায়ীরা চাল আমদানিতে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পর মার্চ থেকে তারা চাল আমদানির গতি বাড়িয়ে দেয়। এখনও সেটা অব্যাহত আছে। ২০২১ সালের শুরু থেকেই চালের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি গুদামে মজুত এবং বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়।

অবশ্য চালের বেশিরভাগই আমদানি হচ্ছে ভারত থেকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আমদানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য সব মিলিয়ে ৬ হাজার ৭০৩ কোটি ৪২ লাখ (৬৭.০৩ বিলিয়ন) ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

/এফএএন/এমওএফ/

সম্পর্কিত

‘চাল এখন সাধারণ ব্যবসায়ীদের হাতে নেই’

‘চাল এখন সাধারণ ব্যবসায়ীদের হাতে নেই’

চাল আমদানিতে রেকর্ড

চাল আমদানিতে রেকর্ড

প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি

প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি

বিদেশ থেকে আসা সব টাকাই রেমিট্যান্স নয়

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৩:০০

বিদেশ থেকে দেশে অনেকেই টাকা পাঠান। তবে ব্যাংকিং চ্যানেলে আসা সব টাকাই রেমিট্যান্স নয়। কেবল রেমিট্যান্সের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হয়। কিন্তু অন্য ক্ষেত্রে কোনও প্রণোদনা দেওয়া হয় না। রেমিট্যান্সের সুবিধা পেতে বেশ কয়েকটি শর্ত ও কিছু নিয়ম মানতে হয়। যারা এসব নিয়ম ও শর্ত মানেন না তারা বিদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আনার পরও রেমিট্যান্সের এই সুবিধা পান না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশ থেকে টাকা আনলেও রেমিট্যান্সের স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণে অনেকেই ২ শতাংশ হারে প্রণোদনার সুবিধা পান না। 

তৈরি পোশাকের পরে অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান সবচেয়ে বেশি ‑ যা দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে রাখতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী রেমিট্যান্সের সুবিধা পেতে হলে সরাসরি বিদেশে থাকার পাশাপাশি সেখানে বৈধভাবে আয় করতে হবে। এছাড়া বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে অথবা ওইসব দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে "রেমিট্যান্স" ঘোষণা দিয়ে টাকা পাঠাতে হবে।

সাধারণত, মানিগ্রামসহ বেশ কিছু ইন্টারন্যাশনাল মানি ট্রান্সফার কোম্পানির মাধ্যমে বেশিরভাগ রেমিট্যান্স আসে। তবে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমেও কিছু রেমিট্যান্স দেশে আসে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রবাসে যারা ছোট-খাটো চাকরি করেন, তারা রেমিট্যান্সের ঘোষণা দিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে যে টাকা পাঠান সেগুলোকে সাধারণত আমরা রেমিট্যান্স বলি। এছাড়া বিভিন্ন দেশে অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য করে অল্প পরিমাণ টাকা পাঠালে সেগুলোও রেমিট্যান্স। অর্থাৎ প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকরা তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে ঘোষণা দিয়ে টাকা পাঠালে রেমিট্যান্স হিসেবে স্বীকৃত হবে।

জানা গেছে, রেমিট্যান্সের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোকে উৎসাহিত করতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। অর্থাৎ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রতি ১০০ টাকায় দুই টাকা করে নগদ প্রণোদনা পাচ্ছেন প্রবাসীর স্বজনরা। এ প্রণোদনা দিতে গত অর্থবছরে মূল বাজেটে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। এর আগের অর্থবছরে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে বাজেটে রেমিট্যান্স খাতে প্রণোদনার পরিমাণ বাড়িয়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, প্রবাসী শ্রমিকরা যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাচ্ছেন, তা দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় অর্ধেক। এছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেমিট্যান্সের অবদান মোট জিডিপির ১২ শতাংশের মতো। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, করোনার মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবাসীরা দুই হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার রেকর্ড সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। যেখানে আগের অর্থবছর পাঠিয়েছিলেন এক হাজার ৮২০ কোটি ডলার।

রেমিট্যান্সের শর্ত

রেমিট্যান্সের সুবিধা পেতে দেশের বাইরে সশরীরে থাকতে হবে। ওই দেশে বৈধভাবে থাকার অনুমতির পাশাপাশি থাকতে হবে ওয়ার্ক পারমিট ও বৈধ নিয়োগপত্র। এছাড়াও বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করলে তার বৈধ কাগজপত্রও দেখাতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ হাউজে গিয়ে অথবা ওইসব দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে গিয়ে রেমিট্যান্সের ঘোষণা দিয়ে পাঠানো টাকার বিপরীতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  রেমিট্যান্স হিসেবে টাকা পাঠাতে গেলে প্রথমত সোর্স অব মানি বা টাকার উৎস কি সেটা জানাতে হয়। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে কাউকে কোনও টাকা পাঠাতে গেলে এন্টি মানি লন্ডারিংয়ের পার্ট হিসেবে বেশ কিছু তথ্য দিতে হয়। যেসব ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে প্রবাসীরা টাকা পাঠান, ওই সব ব্যাংকের কাছে রেমিট্যান্স সংক্রান্ত সব তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ওই টাকা দেশে আসার পর বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো টাকার উৎস ও বিভিন্ন তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার পর রেমিট্যান্স হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

২০১৯ সালে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, বিশ্বব্যাপী রেমিট্যান্স ২০১৮ সালে ৬৮৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। ২০১৮ সালে রেমিট্যান্স আহরণে বাংলাদেশ ৯ম স্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রবাসীরা মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার, আরব আমিরাত, কুয়েত, মিসর, মরক্কো, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

যেগুলো রেমিট্যান্স নয়

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, অনেকেই বিদেশ থেকে টাকা পাঠান সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য। সেটাকে রেমিট্যান্স বলে না। ওই টাকার বিপরীতে কোনও প্রণোদনা দেওয়া হয় না। এছাড়া অনেকেই বিদেশ থেকে গিফট হিসেবে টাকা পাঠান। সেগুলোও রেমিট্যান্স নয়।

বিদেশ থেকে অনেকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এওয়ার্ড বা পুরস্কারের টাকা পান। সেটাও রেমিট্যান্স নয়। অনেকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেমিনারে বক্তৃতা করে টাকা আয় করেন, সেটাও রেমিট্যান্স নয়। অনেকে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শকের চাকরি করেন, সেখান থেকে পাঠানো টাকাও রেমিট্যান্স নয়।

অনেকে বিবিসি, ডয়েচেভেলেসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে চাকরি করেন, সেখান থেকে পাঠানো টাকাও রেমিট্যান্স নয়। কারণ উল্লেখ করে জায়েদ বখত বলেন, তারা দেশের ভেতরে থেকে কাজ করছেন। এটা এক ধরনের রফতানি আয়। তারা বিদেশে সেবা রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেন। একইভাবে অনেকেই দেশে থেকে ফ্রিল্যান্সিং করে মুদ্রা আয় করেন, সেগুলোও রেমিট্যান্স নয়। এগুলো সেবা রফতানি। এছাড়া পণ্য রফতানি আয়ও রেমিট্যান্স নয়। আবার বিদেশি বিনিয়োগ বা ফরেন ইনভেস্টমেন্ট বা এফডিআই রেমিট্যান্স নয়।

/এমএস/ইউএস/

সম্পর্কিত

টানা সাতদিন পর ঘুরে দাঁড়ালো শেয়ার বাজার

টানা সাতদিন পর ঘুরে দাঁড়ালো শেয়ার বাজার

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে অর্থায়ন করবে না এডিবি

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে অর্থায়ন করবে না এডিবি

সাগরে দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা

সাগরে দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা

আজ ব্যাংক ও শেয়ার বাজার বন্ধ

আজ ব্যাংক ও শেয়ার বাজার বন্ধ

তৈরি পোশাকশিল্পে এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জরুরি: বিজিএমইএ সভাপতি

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ২১:২৩

টেক্সটাইল এবং পোশাকখাতে আরও পারস্পরিক সুবিধা লাভের জন্য এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক ভ্যালু চেইন ও সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করেন তৈরি পোশাক মালিক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল’র ১৩তম সংস্করণে এসব কথা বলেন ফারুক হাসান। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) আয়োজিত ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নেন ভারতের বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী দর্শনা বিক্রম জারদোস, সিআইআই ন্যাশনাল কমিটি অন টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের চেয়ারম্যান দিলীপ গৌর, কো-চেয়ারম্যান কুলিন লালভাই, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্র্যান্ডিং লঙ্কা গ্রুপের পরিচালক সুচিরা সুরেন্দ্রনাথ, সিআইআই (উত্তর অঞ্চল) চেয়ারম্যান অভিমণ্য মুঞ্জাল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন,  প্রতিবেশী দেশগুলো যদি একে অপরের পরিপূরক হতে পারি, তাহলে আমাদের একসঙ্গে বেড়ে উঠার বিশাল সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, উচ্চ প্রবৃদ্ধির রূপকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ টেক্সটাইল উপাদানকে বৈচিত্র্যময় করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কটন থেকে নন-কটনে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। যার লক্ষ্য হচ্ছে পরিমাণ থেকে গুণ-মান এবং ভলিউম থেকে ভ্যালুতে ঘুরে দাঁড়ানো।

তিনি বলেন, যেহেতু আমরা কটন থেকে নন-কটনে যাওয়ার মাধ্যমে পণ্যে বৈচিত্র্য আনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি, তাই বাংলাদেশ ভারতীয় এমএমএফ টেক্সটাইলগুলোর জন্য ভালো বাজার হতে পারে। আমরা যত বেশি পোশাক রফতানিতে উন্নতি করতে পারবো, ততই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, ডাইস, কেমিকেল এবং যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে ভালো হবে। তিনি ভারত এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নন-কটন টেক্সটাইল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ গ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

ফারুক হাসান টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য এই অঞ্চলের মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তির বিনিময়ের ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, আমরা ২০০০ সালে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) নামে একটি ফ্যাশন-ডিজাইনিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। একটি উদ্ভাবন কেন্দ্রও স্থাপন করতে যাচ্ছি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো এবং ভারতের ফ্যাশন একাডেমিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে, যেখানে আমরা একে অপরের পরিপূরক হতে পারি।

/জিএম/এমএস/

সম্পর্কিত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ১২ বছর শুল্ক সুবিধা চায় বিজিএমইএ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ১২ বছর শুল্ক সুবিধা চায় বিজিএমইএ

বিমানবন্দরের স্ক্যানার সচল করার অনুরোধ বিজিএমইএ’র

বিমানবন্দরের স্ক্যানার সচল করার অনুরোধ বিজিএমইএ’র

ব্রাজিলের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চায় বিজিএমইএ

ব্রাজিলের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চায় বিজিএমইএ

বাংলাদেশ থেকে আরও সোর্সিং করুন: মার্কিন ক্রেতাদের প্রতি বিজিএমইএ সভাপতি

বাংলাদেশ থেকে আরও সোর্সিং করুন: মার্কিন ক্রেতাদের প্রতি বিজিএমইএ সভাপতি

ডলারের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ১৮:১৭

টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে দেওয়া চিঠিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

চিঠিতে মাহবুবুল আলম বলেন, ‘সম্প্রতি মুদ্রাবাজারে টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বিষয়ক লেনদেনের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান রক্ষা করার জন্য ডলারের মূল্য সহনীয় ও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আশু হস্তক্ষেপ অপরিহার্য। দেশের বৃহত্তর অর্থনীতির স্বার্থে টাকার বিপরীতে ডলারের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’

চিঠিতে তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য হ্রাস পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সোমবার (১৮ অক্টোবর) আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৬.২০ টাকা। অন্যদিকে, খোলা বাজারে ও নগদ মূল্যে ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৯.৫০ টাকা। সংশ্লিষ্টরা ডলারের এই দাম আগামীতে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছেন।’

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ সব ধরনের পণ্যের আমদানি বাড়ছে। ইউরোপ-আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। করোনার মধ্যেই দেশের শিল্প-কারখানা পুরোদমে চালুর নির্দেশনা দেওয়ায় বর্তমানে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।’

এতে বলা হয়, ‘টাকার বিপরীতে হঠাৎ ডলারের মূল্য বৃদ্ধির ফলে আমদানি করা পণ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আর্থিকভাবে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যার দায়ভার শেষ পর্যন্ত ভোক্তা সাধারণকেই বহন করতে হবে। একইসঙ্গে মহামারিগ্রস্ত অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।’

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, ‘দেশে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি অক্ষুণ্ণ রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাবাজার বিশেষ করে ডলারের মূল্য সব সময় গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে স্থিতিশীল রাখার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে।’

 

/জিএম/আইএ/

সম্পর্কিত

আজ ব্যাংক ও শেয়ার বাজার বন্ধ

আজ ব্যাংক ও শেয়ার বাজার বন্ধ

বাংলাদেশ থেকে আরও সোর্সিং করুন: মার্কিন ক্রেতাদের প্রতি বিজিএমইএ সভাপতি

বাংলাদেশ থেকে আরও সোর্সিং করুন: মার্কিন ক্রেতাদের প্রতি বিজিএমইএ সভাপতি

রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড, দুই মাসে ১৪.৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড, দুই মাসে ১৪.৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

যেকোনও কোম্পানির আর্থিক হিসাব যাচাই করতে পারবে এনবিআর

যেকোনও কোম্পানির আর্থিক হিসাব যাচাই করতে পারবে এনবিআর

টানা সাতদিন পর ঘুরে দাঁড়ালো শেয়ার বাজার

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৩৭

টানা সাত কার্যদিবস পতনের পর ঘুরে দাঁড়ালো শেয়ার বাজার। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলেছে দেশের শেয়ার বাজারে। এদিন শেষ ঘণ্টার ঝলকে এই ঊর্ধ্বমুখীতা দেখা যায়।

এর আগে চলতি সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবসসহ টানা সাত কার্যদিবস দরপতন হয় শেয়ার বাজারে। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ৩৪৭ পয়েন্ট পড়ে যায়। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবসেই পড়ে ২২৩ পয়েন্ট।

শেয়ার বাজারে এমন টানা দরপতন হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস সূচকের বড় উত্থান হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সাত কার্যদিবসের টানা পতনের পর বৃহস্পতিবার শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হতেই দাম বেড়ে যায় প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের।

দুপুর দেড়টার পর সূচক ঘুরতে থাকে। শেষ আধঘণ্টা সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে পতন কাটিয়ে বড় উত্থান দিয়ে শেষ হয় দিনের লেনদেন।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসই-এক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৭৬ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৬৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

দিনভর ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৭৯টির। আর ৪২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে সূচক ঘুরে দাঁড়ালেও লেনদেনের গতি কমেছে। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩১০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ১ হাজার ৬৮২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ৩৭১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ২৮৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইএফআইসি ব্যাংকের ৬৪ কোটি ৫২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৫৯ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক।

এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৭২ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩২টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

/জিএম/এমএস/

সম্পর্কিত

বিদেশ থেকে আসা সব টাকাই রেমিট্যান্স নয়

বিদেশ থেকে আসা সব টাকাই রেমিট্যান্স নয়

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে অর্থায়ন করবে না এডিবি

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে অর্থায়ন করবে না এডিবি

সাগরে দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা

সাগরে দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা

আজ ব্যাংক ও শেয়ার বাজার বন্ধ

আজ ব্যাংক ও শেয়ার বাজার বন্ধ

পেঁয়াজ নিয়ে খেলে কারা?

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ১৬:১৬

হিলি সীমান্তে আমদানি বাড়ায় কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম নেমেছে ৪০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা কেজিতে। কয়েক দিনের মধ্যেই সেটাও কমে ৪০-৪৫ টাকা হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

দেখা গেছে, কয়েকবছর ধরেই একটা মৌসুমে পেঁয়াজ নিয়ে এক ধরনের খেলা শুরু করে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে হঠাৎ বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। প্রথম দিকে কেজিতে ৫-১০ টাকা বাড়লেও এক সপ্তাহের মধ্যে তা ৭৫-৮০ টাকায় ওঠে। এ দাম কিছুদিন স্থায়ী হয়। এরপর আবার কমতে শুরু করে।

সরকারি-বেসরকারি ও কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে এ বছর পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরবরাহেও কমতি নেই। চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে আমদানিও হচ্ছে। তা হলে দাম বাড়লো কেন? কারা বাড়িয়েছে?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজারে হিলি স্থলবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। হিলি দিয়ে আমদানি বাড়লে দেশের বাজারে দাম কমে। আবার ওই বন্দরে আমদানি কমলে দেশের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। তবে দাম যে গতিতে বাড়ে, সে গতিতে কখনোই কমে না।

বাংলাদেশ কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর পেঁয়াজের উৎপাদন প্রায় ৩০ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। যা সাধারণত ২৩-২৪ লাখ টনে থাকে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে চাল, আলু ও পেঁয়াজের প্রাপ্যতা ও দামের অস্থিরতা নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ হয়। তাতে দেখা যায়, গত ১০ বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আগাম পেঁয়াজের উৎপাদন ২ লাখ টন বেড়েছে। এ মৌসুমে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টন। বাড়তি উৎপাদনের কারণে সরবরাহ ভালো। আমদানিও কমেছে।

কৃষি বিপণন অধিদফতর থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, ২০২০ সালের নভেম্বরে ৪৬ হাজার টন পেঁয়াজ এসেছিল। চাহিদা কমতে থাকায় জানুয়ারিতে তা ২৫ হাজার টনে নেমে আসে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, দেশে পেঁয়াজের সংকট নেই। আমদানিরও দরকার নাই।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, দেশে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি অব্যাহত রয়েছে। টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে ট্রাক সেলে পেঁয়াজ বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। আমদানি সহজ ও দ্রুত করতে শুল্কও প্রত্যাহার করা হয়েছে। বন্দরে দ্রুত খালাসের জন্য এনবিআরকে অনুরোধ করা হয়েছে এবং পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র দ্রুত প্রদানের জন্য কৃষি বিভাগকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

চালবাজিটা শ্যামবাজারে

এত কিছুর পরও এক সপ্তাহের মধ্যে দাম দ্বিগুণ হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, শ্যামবাজারই হচ্ছে সারা দেশের পেঁয়াজের বড় পাইকারি বাজার। আমদানিকারকরাও এখানে ব্যবসা করেন। পেঁয়াজ নিয়ে মূল চালটা শুরু হয় এখান থেকেই। শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরাই সুযোগ বুঝে আচমকা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। তাদের এই ‘খেলা’ কখনও দীর্ঘ সময়, আবার কখনও স্বল্প সময়ের হয়।

পেঁয়াজ (ফাইল ছবি)

সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলছেন, শ্যামবাজার থেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একটি ভীতিকর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাতেই অস্থির হয়ে ওঠে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার বাজার। ওই বার্তা কানে এলেই খুচরা দোকানিরা বাড়িয়ে দেয় দাম।

এখানকার পাইকারি ও আমদানিকারকরা বিষয়টি অস্বীকার করলেও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার  প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এখানকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা কখনোই পেঁয়াজ, রসুন ও আদা বিক্রি করে রশিদ বা মেমো দিতে চান না। সরকারি আদেশের পরও এটি কার্যকর হয়নি।


স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়াই একমাত্র পথ

গত বছর দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ছিল ২৫ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৯-২০ অর্থবছর ফলন হয়েছে ২৫ লাখ ৫৭ হাজার মেট্রিক টন। ১৭ থেকে ২৫ শতাংশ প্রসেস লস বাদ দিলে মোট উৎপাদন দাঁড়ায় ১৯ লাখ ১১ হাজার মেট্রিক টন। ঘাটতি দাঁড়ায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টন। এই পরিমাণ পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। কোনও কারণে আমদানিতে গড়বড় দেখা দিলে বাজার অস্থির হয়। যার প্রভাব দেশে উৎপাদিত ২৫ লাখ টনেও পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেঁয়াজ নিয়ে জটিলতা কাটাতে উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে। স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়াই একমাত্র পথ। শুধু উৎপাদন বাড়ালেই চলবে না, সংরক্ষণও করতে হবে। কারণ, পেঁয়াজ পচনশীল। উৎপাদনের ১৭ থেকে ২৫ ভাগই পচে যায়।

ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলে আনছেন কৃষক (ফাইল ছবি)

এ ছাড়া সরকার যেমন ধান-চাল সংগ্রহ করে, তেমনি পেঁয়াজও সংগ্রহ করতে পারে। তবে যে পরিমাণ পচে যায় সেটার দায়িত্ব কে নেবে, এ প্রশ্ন থেকে যায়।

দেশি পেঁয়াজ ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকলে মানুষ আমদানি করা পেঁয়াজ নেবে না। সংশ্লিষ্টদের এ নিয়ে ভাবতে হবে বলেও জানান বিশেষজ্ঞরা।

/এফএ/ইউএস/

সম্পর্কিত

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি: এফবিসিসিআই

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি: এফবিসিসিআই

পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার

পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার

নতুন পেঁয়াজ আসার আগে দাম কমার সম্ভাবনা নেই: বাণিজ্য সচিব

নতুন পেঁয়াজ আসার আগে দাম কমার সম্ভাবনা নেই: বাণিজ্য সচিব

সম্পর্কিত

৩০ অক্টোবরের মধ্যেই আমদানির চাল বাজারে ছাড়ার নির্দেশ

৩০ অক্টোবরের মধ্যেই আমদানির চাল বাজারে ছাড়ার নির্দেশ

নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে মানববন্ধন

নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে মানববন্ধন

‘বিলাসিতা’য় বছরে নষ্ট হয় ৬ লাখ টন চাল

‘বিলাসিতা’য় বছরে নষ্ট হয় ৬ লাখ টন চাল

‘চাল এখন সাধারণ ব্যবসায়ীদের হাতে নেই’

‘চাল এখন সাধারণ ব্যবসায়ীদের হাতে নেই’

৩৬০০ কেজি সরকারি চাল বিক্রির সময় গ্রেফতার ২

৩৬০০ কেজি সরকারি চাল বিক্রির সময় গ্রেফতার ২

একদিনেই হিলি বন্দর দিয়ে এলো ৩৭৬৩ টন চাল

একদিনেই হিলি বন্দর দিয়ে এলো ৩৭৬৩ টন চাল

১৭ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি

১৭ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি

সর্বশেষ

পিকআপে করে গরু চুরির সময় ৪ চোর গ্রেফতার

পিকআপে করে গরু চুরির সময় ৪ চোর গ্রেফতার

মেয়েদের বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজে থাকছে দর্শক

মেয়েদের বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজে থাকছে দর্শক

রন্ধনশৈলী একটি সৃজনশীল শিল্পকর্ম: শিক্ষামন্ত্রী

রন্ধনশৈলী একটি সৃজনশীল শিল্পকর্ম: শিক্ষামন্ত্রী

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও চকবাজার থেকে আট ছিনতাইকারী গ্রেফতার

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও চকবাজার থেকে আট ছিনতাইকারী গ্রেফতার

যৌনকর্মী ভাড়া করায় চীনের ‘পিয়ানো প্রিন্স’ আটক

যৌনকর্মী ভাড়া করায় চীনের ‘পিয়ানো প্রিন্স’ আটক

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্য সফর:  আ. লীগ ও বিএন‌পির পাল্টাপা‌ল্টি প্রস্তু‌তি

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্য সফর:  আ. লীগ ও বিএন‌পির পাল্টাপা‌ল্টি প্রস্তু‌তি

রাজনৈতিক দলগুলো পুরনো অভ্যাসে লিপ্ত, বিবৃতিতে ৪৭ নাগরিক

রাজনৈতিক দলগুলো পুরনো অভ্যাসে লিপ্ত, বিবৃতিতে ৪৭ নাগরিক

২৪ ঘণ্টায় চার মৃত্যু, ১৭ মাসে সর্বনিম্ন

২৪ ঘণ্টায় চার মৃত্যু, ১৭ মাসে সর্বনিম্ন

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

‘চাল এখন সাধারণ ব্যবসায়ীদের হাতে নেই’

‘চাল এখন সাধারণ ব্যবসায়ীদের হাতে নেই’

চাল আমদানিতে রেকর্ড

চাল আমদানিতে রেকর্ড

প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি

প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি

 চাল আমদানি করবে ৭১ প্রতিষ্ঠান

 চাল আমদানি করবে ৭১ প্রতিষ্ঠান

© 2021 Bangla Tribune