X
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

ভাষার নাম পাই (PIE) ।। গাস্তঁ দোরেন

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০৮

ভিন ভাষার প্রতি ইংরেজিভাষীর দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা এরকম : চলো, লুট করা যাক; শেখার দরকার নাই।

ইংরেজি ভাষার শব্দভান্ডারের একটা বিপুল অংশ ফরাসি, লাতিন অথবা অন্য কোনো ভাষা থেকে আসা। কিন্তু ইংরেজরা একটা বিদেশি ভাষা পুরোপুরি শেখার ব্যাপারে কখনো তেমন গা করেনি। চার্লস ডিকেন্স তাঁর লিটল ডরিট উপন্যাসে মি. মিগলস-এর মুখ থেকে এই কথা বলিয়েছেন : ‘আমি যেকোনো কিছু সানন্দে করতে রাজি আছি, শুধু ওই ভাষাটি বলা ছাড়া।’ আর, এর দেড়শ বছর পরে ব্রিটিশ কৌতুকাভিনেতা এডি ইযার্ড তাঁর দেশের একভাষিকদের মনের কথা এভাবে প্রকাশ করেছেন : ‘এক মাথায় দুই ভাষা? এই বেগে কেউ বাঁচতে পারে না।’

বলাই বাহুল্য যে, এগুলো ক্যারিকেচার। কিন্তু ভাষার ব্যাপারে ব্রিটিশ সংরাগ বা প্যাশন সুতীব্র হলেও সেটা মুখ্যত কেবল ইংরেজির প্রতি আকর্ষণেই সীমাবদ্ধ। পান (pun) বা শব্দ নিয়ে ক্রীড়া-কৌতুক আর শব্দজব্দ (ক্রসওয়ার্ড) খেলায় ব্রিটিশরা অদম্য, প্রবল উৎসাহী, সেই সঙ্গে তাঁরা তাঁদের দেশি ভাষার ইতিহাস আর বৈচিত্র্য নিয়েও মন্ত্রমুগ্ধ। এবং ব্রিটিশরা খ্যাপাটে ব্যাকরণ আর সঙ্গতিহীন বানান নিয়ে অনুযোগ করতে পছন্দ করে ঠিকই, কিন্তু আমি ভাবি তাদের মধ্যে ঠিক কতজন এর অন্যথা হলে সেটা পছন্দ করতেন। এই সমস্ত উদ্ভটত্ব দুর্দান্ত সব গল্প তৈরি করে। এর চাইতে বেশি কেউ আর কী চাইতে পারে?

তা, অন্য ভাষাগুলোর জীবনের কী অবস্থা? ইউরোপের অসংখ্য ভাষা সেগুলোর ধ্বনিগত আর লিখিত ধরন নিয়ে বেশ ভীতিকর শোনাতে পারে, কিন্তু সেগুলো সম্পর্কে যেসব গল্প-কাহিনি প্রচলিত ছিল সেগুলো বেশ আকর্ষণীয়। এই বইয়ে সেসব গল্পের সেরা ষাটটি বলা হয়েছে। আপনারা দেখতে পাবেন দৃশ্যত পরিণত মনে হলেও কিভাবে ফরাসি ভাষা আসলে মাতৃ-আচ্ছন্নতা দিয়ে পরিচালিত। আবিষ্কার করবেন হিস্পানি ভাষা শুনতে কেন মেশিনগানের গুলির মতো শোনায়। আর যদি আপনার মনে হয়ে থাকে যে, লোকের মাথায় বন্দুক ধরে জর্মন ভাষার বিস্তার ঘটানো হয়েছে তাহলে ভুল করবেন। সেই সঙ্গে আপনি আরো খানিকটা দূরে গিয়ে নরওয়েজীয় ভাষার খাপছাড়া ধরনের গণতান্ত্রিক চরিত্র, ওলন্দাজের জেন্ডার টলিয়ে দেওয়া প্রবণতা, গ্রিক ভাষার জন্য করা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর বলকান এলাকার ভাষাতাত্ত্বিক অনাথদের আবিষ্কার করবেন। তারপর, ব্যবহার-জীর্ণ রাস্তার আরো সামনে আপনাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে লিথুয়ানীয়র প্রাচীন তাঁত, সর্বীয়র নাকউঁচু ভাব, আর বাস্ক-এর হতবুদ্ধিকর রীতি-নীতির কাছে। এবং বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন, ইউরোপের সবচাইতে অবিশ্বাস্য ভাষাবিষয়ক কাহিনিগুলো ব্রিটেনের দোড়গোড়াতে পাওয়া যাবে–দ্বীপটির কেল্টিক আর ভ্রমণকারীদের ভাষায় যা কিনা একই সঙ্গে ভিনদেশি, উদ্ভট, আবার সনাতনীও বটে।

লিঙ্গো-কে একধরনের গাইড বই বলা যেতে পারে, যদিও সেটাকে কোনো অর্থেই বিশ্বকোষ বলা যাবে না : এ বইয়ের কোনো কোনো অধ্যায় যদি হয় বিশেষ বিশেষ ভাষার ছোটোখাটো প্রতিকৃতি, অন্যগুলোতে রয়েছে কোনো ভাষার কোনো স্বতন্ত্র উদ্ভট বৈশিষ্ট্য। বইটাকে আসলে, ফরাসিরা যাকে খুব চমৎকারভাবে বলে, একটা amuse-bouche বা ক্ষুধাবর্ধক হিসেবে রচনা করা হয়েছে।

ভাষা ও তার পরিবার
ইন্দো-ইউরোপীয় আর ফিনো-উগরিক ইউরোপের দুটো বড় ভাষা পরিবার। ফিনো-উগরিক-এর বংশানুক্রম নিতান্তই সোজাসাপটা; সেটার আধুনিক রূপভেদগুলোরও তাই; অর্থাৎ ফিনিশ, হাঙ্গেরীয়, এবং এস্তোনীয়র। কিন্তু ইন্দো-ইউরোপীয়র কুলপরিচয় বেশ জটাজালবিশিষ্ট—জার্মানিক, রোমান্স (Romance), স্লাভিক ভাষাসমূহ, এবং আরো অনেক দূর অব্দি তার বিস্তার। কোনো কোনো দিকে থেকে সেটার গল্প অন্য যেকোনো পারিবারিক ‘সাগা’-র মতো, যেখানে আছে রক্ষণশীল সব কুলপতি (লিথুয়ানীয়), ঝগড়াটে সন্তান-সন্ততি (রোমানশ, Romansh), একেবারে যমজ ভাই বোন (স্লাভিক ভাষাসমূহ), বিস্মৃত জ্ঞাতি ভাই (ওসেতীয়), অনাথ-এতিম (রুমানীয় ও অন্যান্য বল্কান ভাষাগুলো), আর সেই সব শিশু যারা এখনো মাতৃছায়া থেকে বের হতে পারেনি (ফরাসি)।

পাই (PIE)-এর জীবন
(লিথুয়ানীয়)
একদা—তা সে হাজার হাজার বছর আগে (ঠিক কখন তা কেউ বলতে পারে না)—কোনো এক দূরবর্তী ভূখণ্ডে (কেউ জানে না ঠিক কোথায়) ছিল এক ভাষা। সে ভাষায় আজ আর কেউ কথা বলে না। সেটার নামও সবাই ভুলে গেছে। অবশ্য কোনো নাম সেটার আদৌ ছিল কিনা তা-ও কারো জানা নেই। শিশুরা তাদের বাপ-মায়ের কাছ থেকে ভাষাটা শিখত। ঠিক যেমনটা এই সময়ের বাচ্চারা করে। এবং তারা তাদের সন্তান-সন্ততির মুখে ভাষাটা তুলে দিত। এভাবেই চলত প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। এত শত শতাব্দীতে ভাষাটির মধ্যে সারাক্ষণই নানান পরিবর্তন ঘটেছে। ব্যাপারটা অনেকটা সেই ঘটনার মতো যেটাকে ‘চীনা ফিসফিসানি’ খেলা বলে : শেষ খেলোয়াড় এমন কিছু শোনে যা প্রথম খেলোয়াড় তার পাশের জনের কানে যা বলেছিল তা থেকে একবারেই ভিন্ন। এক্ষেত্রে অবশ্য শেষ খেলোয়াড়রা হলাম আমরা। অবশ্য কেবল তারাই নয় যারা ইংরেজি ভাষী। যারা ওলন্দাজ ভাষী তারাও, যা কিনা কার্যত একই জিনিস। আর জর্মন—সেটাও এমন কোনো আলাদা নয়। সেই সঙ্গে, হিস্পানি, পোলিশ, ও গ্রিক—খুব ভালো ক’রে দেখলে খেয়াল করবেন এই ভাষাগুলোও খানিকটা ইংরেজির মতো। আরো দূরে আছে আর্মেনীয়, কুর্দিশ এবং নেপালীয়, যাদের পারিবারিক যোগসূত্র বা সাদৃশ্য খুঁজে পেতে বেশ খানিকটা করসরত করতে হবে। কিন্তু এদের প্রত্যেকটিই এমন একটি ভাষা থেকে উদ্ভূত যে ভাষায় নাম-না-জানা এক জনগোষ্ঠী কথা বলত; সম্ভবত ষাট শতক আগে। আর যেহেতু তাদের ভাষার নাম আমরা কেউ জানি না, সেটার জন্য একটা নাম উদ্ভাবন করা হয়েছে : পাই PIE (Proto-Indo-European, আদি ইন্দো-ইউরোপীয়)…

নামটাকে অবশ্য নিখুঁত বা সঠিক বলা যায় না। শব্দটা এ-কথাই বোঝায় যে এই ভাষার আগে অন্য কোনো ভাষা ছিল না। কিন্তু তা তো আর ঠিক নয়। আবার, ইন্দো-ইউরোপীয় বললে এমন একটি ভাষা-অঞ্চল বোঝায় যা কেবল ভারত আর ইউরোপজুড়েই বিস্তৃত ছিল। কিন্তু সত্যি বলতে, উত্তর আর দক্ষিণ মহাদেশের প্রায় প্রত্যেক মানুষ এমন কোনো ভাষায় কথা বলেন যা পাই PIE (Proto-Indo-European) থেকে এসেছে। ওদিকে, ভারতে বিশ কোটির বেশি মানুষ এমন কিছু ভাষায় কথা বলেন যার সঙ্গে পাই-এর আদৌ কোনো ঐতিহাসিক যোগসূত্র নেই। সেই সঙ্গে একথাও বলতে হয়, ইউরোপীয়দের ৯৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষায় কথা বলেন, অর্থাৎ, এমন কোনো ভাষায় যা পাই থেকে এসেছে।

পাই (PIE) আর সেই ভাষা ব্যবহারকারীরা সময়ের কুয়াশাবৃত। কিন্তু ভাষাতাত্ত্বিকরা সেই কুয়াশা দূর করার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন—পাই (PIE) কেমন শোনাতো তা ভাষাটির উত্তরসুরিগুলোর ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ করার মাধ্যমে। লাতিন, গ্রিক ও সংস্কৃতের মতো প্রাচীন ভাষায় লেখা পুরানো দলিলপত্র এক্ষেত্রে বেশ কাজের। তবে চতুর্থ শতকের আইরিশ ওগাম (ogham) উৎকীর্ণ লিপি আর নবম শতকের দিকে প্রাচীন ইংরেজিতে রচিত বেউলফ থেকে শুরু ক’রে আলবেনীয় ভাষার প্রথম দিকের কিছু লিখিত নমুনার ধ্বংসাবশেষ এবং এমনকি আধুনিক লিথুয়ানীয় উপভাষাগুলোর মতো আরো সাম্প্রতিক উৎসগুলোরও এ-ব্যাপারে একটি ভূমিকা আছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, tongue বা জিহ্বা-র পাই (PIE) শব্দটি কী ছিল তা বের করার জন্য ভাষাতাত্ত্বিকরা লক্ষ করেন পরবর্তী কালের এই ভাষাগুলো tongue বোঝাতে কোন কোন শব্দ ব্যবহার করেন : যেমন, lezu (আর্মেনীয়), liežuvis (লিথুয়ানীয়), tengae (প্রাচীন আইরিশ), tunga (সুইডিশ), dingua (প্রাচীন লাতিন), gjuhë (আলবেনীয়), käntu (তোকারীয় এ), jezykû (প্রাচীন স্লাভিক), jihva (সংস্কৃত)। প্রথমে শব্দগুলোর মধ্যে তেমন কোনো মিল নজরে পড়ে না বললেই চলে। কিন্তু একটা পদ্ধতি বা নিয়ম মেনে যদি এ-ধরনের বেশ কয়েকটি শব্দের সিরিজ তুলনা করা হয় তখন সব ধরনের ছাদ বা প্যাটার্ন বেরিয়ে আসে। ধীরে ধীরে এটা পরিষ্কার হয়ে আসে যে ‘ক’ ভাষাটি হয়তো পাই শব্দগুলোকে একটি বিশেষ রকমে বা সঙ্গতিপূর্ণভাবে বদলে (বা, ইচ্ছে হলে বলতে পারেন ‘বিকৃত’ ক’রে) ফেলেছে; আবার অন্যদিকে, ‘খ’ ভাষাটি সেগুলোকে সঙ্গতিপূর্ণভাবে কিন্তু আরেক রকমে বদলে দিয়েছে। একবার এই প্রক্রিয়াগুলোকে শনাক্ত ক’রে ফেললে আপনি আদি বা আসল শব্দটার কাছে ফিরে যেতে পারবেন।

এ-ধরনের গোয়েন্দাগিরির ফলে প্রচুর তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তার ফলাফল অ-ভাষাতাত্ত্বিকদের জন্য খুব একটা সুখকর নয়, আলোকসম্পাতী নয়। দেখা গেছে, ‘জিহ্বা’ (tongue) শব্দটি ‘পাই’ (PIE) ভাষায় ছিল *dngwéhs। এখানে তারকাচিহ্নটি ‍দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে শব্দটি পরবর্তীকালে আসা ভাষাগুলোর সাহায্যে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যান্য হরফ দিয়ে একটি ধ্বনি বোঝানো হয়েছে, কিন্তু কোন ধ্বনি তা কেবল ভাষাবিশারদরাই জানেন (কিন্তু এমনকি তাঁদের কাছেও কিছু কিছু ধ্বনি ধোঁয়াশাই রয়ে গেছে)। সংক্ষেপে বললে, ফলাফলটা বরং বিমূর্ত, এবং অনায়াসে বোধগম্য কিছু নয়।

আমাদের সেই সুদূরপারের পূর্বপুরুষদের ভাষা এবং আমাদের ভাষার মধ্যে যে দুস্তর ব্যবধান তার মধ্যে কি সেতু বাঁধা সম্ভব? ‘পাই’ (PIE)-কে কি আমরা আরো প্রবেশসাধ্য বা অভিগম্য করতে পারি না, সে-ভাষায় যাঁরা কথা বলতেন তাঁদেরকে কি আরো মানবোচিত ক’রে তুলতে পারি না? আমরা কি সেই ভাষা আর সেই সব মানুষের মধ্যে প্রাণসঞ্চার করতে পারি না? এর উত্তর হচ্ছে, পারি, খানিকটা হলেও। এবং কাজটা করার একটি উত্তম তথা উপযুক্ত স্থান হচ্ছে লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াস।

ভিলনিয়াস হচ্ছে ভাষাতাত্ত্বিক মারিজা গিমবুতাস (১৯২১-১৯৯৪)-এর জন্মস্থান। গত শতাব্দীর পাঁচের দশকে তিনি তথাকথিত ‘কুরগান হাইপোথিসিস বা তত্ত্বপ্রকল্প’ হাজির করেন। আর সেই তত্ত্বপ্রকল্প অনুযায়ী ‘পাই’ ভাষীদের বাসস্থান ছিল, ৩৭০০ খৃষ্ট পূর্বাব্দে, কৃষ্ণ ও কাস্পিয়ান সাগরের উত্তরের বিপুল বিস্তৃত স্তেপ অঞ্চলে (আজকের ইউক্রেইন ও দক্ষিণ রাশিয়ায়)। ‘কুরগান’ একটি তুর্কী শব্দ, যার মানে সমাধিস্তূপ। এই এলাকার সবখানে কবরের ওপর যে মাটির ঢিবি দেখা যায় সেগুলোকেই কুরগান বলে। গিমবুতাস বলতে চাইলেন, যে-সংস্কৃতি এসব ঢিবির কিছু কিছু তৈরি করেছে সেটাই ছিল ‘পাই’ ভাষার উৎস। ঘোড়াকে বশ মানানোর মতো, এমনকি অশ্বশকট বা রথ চালানোর মতো যথেষ্ট উন্নত ছিল এই সংস্কৃতি। যদিও ভদ্রমহিলার এইতত্ত্ব অবিসংবাদিত নয়, কিন্তু সেটার সারকথা ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে।

এবং আপনি যদি ‘পাই’-এর সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ হতে চান তাহলে ভিলনিয়াস আপনার জন্য সেরা গন্তব্য। কারণ, পৃথিবীতে এখন যেসব ভাষা ব্যবহৃত হয় তার মধ্যে লিথুয়ানীয় ভাষার সঙ্গে ‘পাই’-এর সাদৃশ্য সবচাইতে বেশি। এই সময়ের লিথুয়ানীয়রা হয়তো সেই আদ্দিকালের ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষায় আপনার সঙ্গে খোশগল্প করতে পারবেন না, কিন্তু একজন গ্রিক বা নেপালির চাইতে অনেক দ্রুত তারা ভাষাটাকে আত্মস্থ করতে পারবে, ব্রিটিশরা যা একেবারেই পারবে না। কারণ, আগেই বলা হয়েছে, লিথুয়ানীয়র সঙ্গে ‘পাই’-এর প্রচুর মিল।

এই যেমন, ‘son’ বা ‘পুত্র’ লিথুয়িানীয় ভাষায় ‘sunus’, ‘পাই’ ভাষায় ‘suhnus’। ‘পাই’-এ ‘Esmi’ মানে ‘I am’ ‘আমি হই’। কিছু লিথুয়ানীয় উপভাষাতেও তাই (যদিও ভিলনিয়াসের আধুনিক প্রমিত বা মান ভাষা একই অর্থ বোঝাতে ‘esu’ ব্যবহার করে)। লিথুয়ানীয় ভাষাতে ‘পাই’-এর অনেক শব্দের ধ্বনি বজায় রয়েছে, যদিও অন্যান্য ভাষায় তা থাকেনি, বদলে গেছে। এবং ইংরেজি ভাষায় সে-বদল এত জোরালো বা আকস্মিক যে সেটা ‘গ্রেট ভাওয়েল শিফট’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। যেমন, ‘five’ শব্দটার কথাই ধরুন। ইংরেজি শব্দটা আর সেটার সমার্থক লিথুয়ানীয় ‘penki’, এই দুটোই ‘পাই’ ভাষার *penke থেকে এসেছে (আমাদের নিশ্চয়ই বাংলা পঞ্চ বা পাঁচ-এর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে)। কিন্তু একজন ভাষা বিশারদ ছাড়া কারো পক্ষেই বোধহয় *penke আর ইংরেজি ‘five’-এর মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পাওয়ার কথা নয়, যদিও লিথুয়ানীয় শব্দটার সঙ্গে সে সাদৃশ্য যে-কেউ দেখতে পাবেন।

সম্ভবত, লিথুয়ানীয় আর ‘পাই’-এর মধ্যে ব্যাকরণগত সাদৃশ্যগুলো আরো আকর্ষণীয়। পাই-এর আটটা কেস বা কারক ছিল। লিথুয়ানীয়তে এখনো সাতটি রয়েছে। অন্য কিছু ভাষাতেও সাতটি, যেমন পোলিশে, কিন্তু একমাত্র লিথুয়ানীয়তেই কারকগুলো অনেকটাই ‘পাই’-এর কারকগুলোর মতো শোনায়। একইভাবে, ‘পাই’-এর মতো কিছু লিথুয়ানীয় উপভাষাতে যে কেবল রেগিউলার একবচন আর বহুবচন আছে তা নয়, বরং একটি একটি বিশেষ ‘dual’-ও আছে : নির্দিষ্ট ক’রে দুটো জিনিস বোঝানোর বহুবচন, বাংলায় যাকে বলে দ্বিবচন। আধুনিক ইন্দো-ইয়োরোপীয় ভাষাগুলোর মধ্যে এটা দেখা যায় না, কেবল স্লোভেনে (Slovene) ভাষাই এক প্রধান ও গর্বিত ব্যতিক্রম।

ক্রিয়ার ধাতুরূপ করা (verb conjugation), পদান্বয় (syntax), ঝোঁকের ছাঁদ (emphasis pattern), বিভক্তি ও প্রত্যয় বা অভিযোজন (suffix)—লিথুয়ানীয়র এসব বহু বৈশিষ্ট্য সাক্ষ্য দেয় যে ভাষাটির উৎস ‘পাই’। এর সবগুলোই দুশো প্রজন্ম ধ‘রে টিকে আছে, এবং তেমন কোনো পরিবর্তন ছাড়াই। কাজেই, লিথুয়ানীয়দেরকে ‘চাইনিজ হুইসপার্স’ খেলার অবিসংবাদিত ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন বলা যেতেই পারে।

লেখক পরিচিতি
গাস্তঁ দোরেন একজন ভাষাতাত্ত্বিক, সাংবাদিক এবং বহুভাষাবিদ। তিনি ওলন্দাজ, লিম্বার্গিশ, ইংরেজি, জর্মন, ফরাসি, এবং হিস্পানিতে কথা বলতে পারেন, পড়তে পারেন আফ্রিকানস, ফ্রিসীয়, পর্তুগিজ, ইতালীয়, কাতালান, ডেনিশ, নরওয়েজীয়, সুইডিশ এবং লুক্সেমবুর্গিশ। ওলন্দাজ ভাষায় তিনি দুটো গ্রন্থ রচনা করেছেন—অভিবাসীদের ভাষা নিয়ে রচিত Nieuwe tongen (New Tongues), এবং Taaltoerisme (Language Tourism), যে-বইয়ের ওপর ভিত্তি ক’রে Lingo : A Language Spotter’s Guide to Europe ইংরেজিতে রচিত হয়েছে; এবং Language Lover’s Guide to Europe নামের একটি অ্যাপ। লেখার অবসরে তিনি গান গাইতে পছন্দ করেন, এবং অবশ্যই তা বহু ভাষায়। নেদারল্যান্ডের আমার্সফুর্ট-এ তিনি সস্ত্রীক বাস করেন।

/জেডএস/

সম্পর্কিত

বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্য ভাবনা

বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্য ভাবনা

অন্নজল ও অন্যান্য কবিতা  

অন্নজল ও অন্যান্য কবিতা  

একদিন দিনে চাঁদ ফুটবে

একদিন দিনে চাঁদ ফুটবে

রাজু আলাউদ্দিনের আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র…

রাজু আলাউদ্দিনের আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র…

বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্য ভাবনা

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:০৭

কিশোর বয়স থেকে রাজনীতি করেছেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৮৭-এর পর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক-শোষকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলা তথা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে সকল ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত রেখেছে, তা তিনি নিজের জীবনেই অনুভব করেছেন। ক্ষমতায় যাবেন কি না তা নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা না থাকলেও দেশের মানুষের জন্য কোন কোন কাজ করা দরকার সেই ভাবনা সব দক্ষ রাজনীতিবিদেরই থাকে। বঙ্গবন্ধুর আরো বেশি ছিল। কারণ তিনি নিজে ছিলেন স্বাপ্নিক এবং স্বপ্নদ্রষ্টা। বিরোধী রাজনীতি করার সময় দেশের অর্থনীতি কীভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত তা যেমন ভাবতেন, তেমনই ভাবতেন জনগণের স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য কোন পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থান—সবকিছু নিয়েই গভীরভাবে ভাবতেন। জানতেন ঔপনিবেশিক আমলের নীতি এবং অবকাঠামো দিয়ে জনগণের জীবনের মূল চাহিদাগুলো পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই ক্ষমতায় গেলে কী করবেন, সে বিষয়ে প্রায় পূর্ণাঙ্গ ধারণা ছিল তাঁর। ছিল হয়তো লিখিত পরিকল্পনার ছকও। তাই তো দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের শেষে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ দেশের মাটিতে পা দিয়েই তিনি কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। এবং প্রথমেই হাত দিয়েছেন দেশের মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করার ক্ষেত্রেগুলিতে। স্বাস্থ্য তেমনই একটি মৌলিক প্রয়োজন এবং অধিকার। সীমিত সংখ্যক সুবিধাভোগী মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবাকে বন্দি না রেখে দেশের সাত কোটি জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নির্মিত হয়েছে তাঁর হাত ধরে। 
          এই বইয়ের লেখক অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক পাঠকদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন, দেশে ফেরার ২১ দিনের মাথায় বঙ্গবন্ধু গঠন করলেন পরিকল্পনা কমিশন। হাত দিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজে।
          কেমন ছিল সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য-অবকাঠামো? লেখক হারিসুল হকের বই থেকে জানা যাচ্ছে, সারা দেশে সাত কোটি মানুষের জন্য হাসপাতালে শয্যা ছিল মাত্র ১২৩১১টি। দেশে ডাক্তারের সংখ্যা মাত্র ৭০০ জন। তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন ৭০ জন। বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ২৫৯ জন। তাদের সবার অবস্থান ছিল রাজধানী ঢাকাতে এবং মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলিতে। তার মানে, ঢাকার বাইরে কোনো রোগীর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সেবা পাওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না।
          চিকিৎসাব্যবস্থা মানে কেবল ডাক্তার নয়। নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান, ওয়ার্ড বয়, প্যারামেডিক, অ্যাম্বুলেন্সচালক, হেলথ ভিজিটর, সেনিটারি ইন্সপেক্টর, ফার্মাসিস্টসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যসেবাদানকারীদের নিয়ে গড়ে ওঠে একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা। সেইসব টেকনিক্যাল মানুষের সংখ্যাও ছিল নিতান্তই অপ্রতুল। সারা দেশে নার্স ছিলেন ৭০০ জন, মিডওয়াইভস ছিলেন ২৫০ জন, স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা ২৫০ জন। কমপাউন্ডার ছিলেন ১০০০ জনেরও কম। সারাদেশে নামমাত্র রুরাল হেলথ সেন্টার ছিল ১৫০টি। নামমাত্র বলা হচ্ছে এইজন্য যে সেগুলোতে কোনো ডাক্তার তো দূরের কথা, প্যারামেডিকেরও পদায়ন ছিল না।  এই সংখ্যাগুলোই বলে দেয় এই দেশের মানুষের জন্য কার্যত কোনো স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ইচ্ছাই ছিল না পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর। তাদের জীবন পুরোটাই ছিল নিয়তির ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় হাতুড়ে, কবিরাজ, হেকিমদের ওপর নির্ভর করতে হতো সর্বাংশে।
          এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা করলেন বঙ্গবন্ধু। রাতারাতি তো একটা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব নয়। তাই কিছু ছিল আশু লক্ষ্য, কিছু মধ্যম মেয়াদী, এবং কিছু সুদূরপ্রসারী। প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কিউরেটিভ এবং প্রিভেনটিভ চিকিৎসাকে সমন্বিত করা হয়েছিল। বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, এনভায়রনমেন্টাল হেলথ, গর্ভবতী মা ও প্রসূতি পরিচর্যা, জনগণকে স্বাস্থ্যশিক্ষা দেওয়া, বিভিন্ন রোগের টিকা ছিল প্রিভেনটিভ চিকিৎসার অন্তর্গত। এছাড়া যেহেতু স্বাস্থ্যখাত অনেককিছুর সাথে সমন্বিত একটি বিষয়, তাই স্বাস্থ্যের সাথে পরিবার পরিকল্পনা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে একীভূত করা হয়েছিল।
          স্বাস্থ্যখাতে জরুরি ভিত্তিতে কিছু ক্রাশ প্রোগ্রাম নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭২ সালে ৪৫০ জন ছাত্রীকে রির্বাচন করে দ্রুত নার্সিং ট্রেনিং সেন্টারে পাঠানো হলো। একটিমাত্র নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিউট ছিল ঢাকাতে। জরুরি ভিত্তিতে রাজশাহীতে খোলা হলো আরেকটি ট্রেনিং সেন্টার। ডাক্তার-সংখ্যা তো রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়। একজন ছাত্রের এমবিবিএস কোর্স সম্পন্ন করার জন্য ছয় বৎসর সময় লাগে। তাই অন্তত জনগণের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য কিউবার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে একবছর মেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে প্যারামেডিক তৈরির ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
          বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পরিকল্পনা কমিশন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এমনভাবে পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছিল, যাতে করে দেশের যেকোনো অঞ্চলের প্রতিটি মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের আওতায় আসতে পারে। বেসিক হেলথ ওয়ার্কার বা মৌলিক স্বাস্থ্যকর্মী নামে একটি পদ সৃষ্টি করা হয়। এরাই জনগণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত স্বাস্থ্যসেবক। লেখক তার বইতে তুলে ধরেছেন মৌলিক স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের বিবরণ—‘৪০০ মানুষের স্বাস্থ্যের দেখভালের দায়িত্বে থাকবেন একজন মৌলিক স্বাস্থ্যকর্মী। তাঁরা সিডিউল অনুযায়ী মাসে অন্তত একবার প্রতিটি বাড়ি পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শনকালে তাঁরা টিকাদান কর্মসূচি (গুটি বসন্ত, কলেরা, টাইফয়েড এবং যক্ষ্মা)-তে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করবেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যশিক্ষা (সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন, পানীয় জল বিশুদ্ধকরণ, পরিবার পরিকল্পনা) সম্বন্ধে জনগণকে অবহিত করবেন, তাঁরা ম্যালেরিয়া শনাক্ত করার জন্য রোগীদের রক্ত ও সম্ভাব্য যক্ষ্মা আক্রান্তদের কফের নমুনা সংগ্রহ করে রুরাল হেলথ সেন্টারের ল্যাবরেটরিতে জমা দেবেন। তাঁরা ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা ও কুষ্ঠরোগীদের ঔষধ রোগীদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসবেন। তাঁরা ম্যালেরিয়া নির্মূল অভিযানে সম্পৃক্ত থাকবেন এবং মহামারিকালে সরকার গৃহীত বিবিধ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হবেন। তাঁরা পারিবারিক স্বাস্থ্যকার্ড ও পরিবার পরিকল্পনা গ্রহীতাদের কার্ড যথাযথভাবে পূরণ এবং সংরক্ষণ করবেন—পরবর্তীকালে সেখান থেকে পরিসংখ্যানের জন্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা যাবে।’ [পৃষ্ঠা ৩৬]
          এই ধরনের পরিকল্পনাকে বলা যায় গণমুখী স্বাস্থ্য পরিকল্পনা। শিক্ষার মতো স্বাস্থ্যও কারো সুযোগ নয়, বরং অধিকার। এই ধারণাতেই বিশ্বাসী এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেজন্য স্বাস্থ্যখাতে যেসব পরিকল্পনা তিনি গ্রহণ করেছিলেন সেগুলির বর্ণনা পাওয়া যাবে ডা. হারিসুল হকের লেখা এই গ্রন্থে।
          বঙ্গবন্ধু সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন। কারণ, তাঁর বিশ্বাস ছিল একমাত্র সমাজতন্ত্রেই সকল মানুষের মুক্তি সম্ভব। দারিদ্র্য থেকে মুক্তি, অশিক্ষা থেকে মুক্তি, স্বাস্থ্যহীনতা থেকে মুক্তি। সেই লক্ষ্যেই এই ধরনের স্বাস্থ্য পরিকল্পনা। সমাজতন্ত্র গড়ে না উঠলেও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অন্তত একটি কল্যাণরাষ্ট্র পেতে যাচ্ছিল বাংলাদেশের মানুষ। 
          এখন পৃথিবীতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য ভাবনায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। ঔষধ, রোগনির্ণয়, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, জটিল স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হয়েছে অনেক নতুন নতুন আবিষ্কার। সেগুলি বয়ে এনেছে মানুষের রোগমুক্তি এবং দীর্ঘ জীবনের আশ্বাস। কিন্তু মুক্তবাজার পুঁজিবাদ এখন কেবল ধনীদের জন্যই নিশ্চিত করেছে উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী এখন আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। বিশাল বিশাল সরকারি স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। তবু সেখানে চিকিৎসা পায় দেশের মাত্র শতকরা ৩০ ভাগ মানুষ। বাকি ৭০ ভাগ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা কিনতে হয় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, নার্সিং হোম থেকে। মুক্তবাজার পুঁজিবাদের নিয়ম অনুসারে স্বাস্থ্যখাতে গড়ে উঠেছে প্রতিযোগিতা। তবে সেই প্রতিযোগিতা রোগীদের জন্য সহায়ক হয়নি। হয়েছে উদ্যোক্তা এবং দালাল শ্রেণির জন্য। টাকার অঙ্কে স্বাস্থ্যখাতে সরকারি বরাদ্দ বেড়েছে। তবে অন্যখাতের তুলনায় বেদনাদায়করূপে কম। বঙ্গবন্ধুর সময়ে যেখানে বাজেটের প্রায় ৫% বরাদ্দ ছিল স্বাস্থ্যখাতে, এখন সেখানে বরাদ্দ ২%-এরও কম। বিশ্বব্যাংকের নির্দেশনায় সরকারকে জনগণের স্বাস্থ্য প্রতিদিন বেশি বেশি করে ছেড়ে দিতে হচ্ছে বেসরকারি খাতে। এই প্রবণতা বঙ্গবন্ধুর চিন্তা এবং আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক।
          আমরা কৃতজ্ঞ ডা. হারিসুল হকের কাছে এমন একটি গ্রন্থ প্রণয়নের জন্য। তার এই গ্রন্থের মাধ্যমে আমরা অন্তত এটুকু বুঝতে পারছি যে স্বাস্থ্যখাতে আমাদের কোনদিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, আর এখন আমরা হাঁটছি তাঁর নির্দেশিত পথের বিপরীত দিকে। বঙ্গবন্ধুর প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের একমাত্র উপায় হচ্ছে বর্তমানের ভুলযাত্রা থেকে বিরত হয়ে তাঁর আদর্শের পথকে অনুসরণ করা।

বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্য ভাবনা। অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক। প্রকাশক : কবিতাসংক্রান্তি, ঢাকা। প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ। পৃষ্ঠা : ৮৮। মূল্য :  ৩০০ টাকা।

 

/জেডএস/

সম্পর্কিত

অন্নজল ও অন্যান্য কবিতা  

অন্নজল ও অন্যান্য কবিতা  

একদিন দিনে চাঁদ ফুটবে

একদিন দিনে চাঁদ ফুটবে

রাজু আলাউদ্দিনের আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র…

রাজু আলাউদ্দিনের আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র…

বাঁশপাতার ভেতরে ভেসে যাবার প্রাক্কালে

বাঁশপাতার ভেতরে ভেসে যাবার প্রাক্কালে

অন্নজল ও অন্যান্য কবিতা  

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৩৯

অন্নজল

গনগনে রোদ ঠেলে এসে ফকির দাস বটের নিচে বসে।
ঘষা চশমার সামনে হলুদ প্রজাপতি নাচে দাঁতরাঙা ফুলে। 
মাঠে পাকা ধান। পাখি ওড়ে হরেক কিসিম।
ফকির দেখে আর ভাবে, আহা কী রঙ কী রঙ! 
এ বছর ভালো ভিখ মিলবে গো!
বলেই জিভ কাটে, কিরে দেয়, চোখ বুঁজে আকাশে তাকায় জোড় হাতে, মোনাজাতে।
কী যে ভেবে ফেলল সে; এসব ভাবতে নেই!
ভাবলেই মেঘ জমে, ধানের দাম পড়ে যায়, দেনদারি হয় চাষি, দেশে ওঠে রোগের বালাই।

সেও তো চাষিই ছিল একদিন।
এইসব ভেবেটেবে চুপচাপ ঝোলা থেকে ছেঁড়া পুঁটলিটা বের করে আনে।
খুলে ফেলে বিচিকলা দুটো সরিয়ে রাখে, থাক।
কাল খাওয়া যাবে। আজ সে নুন ঘষে নেবে রুটির কানায়।
হরি হে, দিন দিয়ো, দেখো তুমি খোদা। এই বলে সে মুখে অন্ন দেয়। 
অন্নই তো হরি। অন্নই তো মালিক গো! সে দিন না দিলে কেমনে চলবে তার?
খাওয়া দেখে বটের তলায় সাঁৎ সাঁৎ করে শালিক নামে দুটো।
ওটা শালিক না রোদ? ফকির ঘষা কাচে ঠাওর পায় না। 
রুটি চিবোয় আর ভাবে, ভেবে যায়।
আজ ধুনিপাড়ায় কার বাড়ি যেন ভোজ আছে না? 
বিকেলে যেতে হবে। সেও তো দেশেরই লোক, দুটো এঁটোকাঁটা পাবে না কি আর?
ধুলোর ঘূর্ণি কুটো নিয়ে ঘোরে। ঘুরতে ঘুরতে উপরে উঠে যায়।
ফকির গামছা পাতে। একটু জিরোতে তো হবে। কত যে রাস্তা বাকি!


ফড়িং

একটা ফড়িং জলের ওপর মুখ দেখবে বলে থমকে দাঁড়ালো।
কী দেখতে চাইল সে? কতটা ব্যথার ভারে স্থির হয়ে থাকে জীবনের মুখ? 
অথবা ফেলে আসা উড়ানের পথ
স্মৃতির পরম জলে দাগ রেখে গেছে কিনা এইসব?
ঘরে এখন অন্ধকার, বিদ্যুৎ নেই
ঝড়ের সময়ে ভাঙা জানালাটা খোলা যাবে না।
অথচ এই অন্ধকারেই তো দেখা যায় সব–
পুকুরের জল, থমকে দাঁড়ানো ফড়িং, 
স্মৃতির শালুকপাতায় টলমল ব্যথার মিনার।

/জেডএস/

সম্পর্কিত

একদিন দিনে চাঁদ ফুটবে

একদিন দিনে চাঁদ ফুটবে

সুমোহিনী ভেনাস

সুমোহিনী ভেনাস

আমি মুখ খুলতে চাই না : নাদিয়া আঞ্জুমান

আমি মুখ খুলতে চাই না : নাদিয়া আঞ্জুমান

পৃথিবী

পৃথিবী

একদিন দিনে চাঁদ ফুটবে

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:৫৭

একদিন দিনে চাঁদ ফুটবে

ছোটরা বড়দের কাজ করলে
আর বড়রাও ছোটদের ভূমিকায় থাকলে
বিষয়টা মজার।

বেটিদের পোশাক বেটা পরলে
আর পুরুষদের ড্রেস নারী পরলে হাস্যকর।

একদিন দিনে চাঁদ ফুটবে এবং রাতে সূর্য উঠবে।


তিনটি মেয়ের জামা-কাপড়

তিনটি মেয়ে ঝর্নাজলে
মনের পাখা মেলছে,
নগ্নস্নানে কী আনন্দে
জলের সাথে খেলছে।

বনপরিদের ভাগ্নি যেন
জলপরিদের কন্যা,
ঝর্না জলে জল সাঁতারে
ছড়ায় সুখের বন্যা।

হঠাৎ একটি হেলিকপ্টার
ভটভট করে এলো,
মেয়ে তিনটির স্বাধীনতা
করল এলোমেলো।

হেলিকপ্টার গুলি ছোড়ে
হারায় তারা দিশে,
একটি মেয়ে গুলিবিদ্ধ
রক্তজলে মিশে।

বাকি দুজন বন্দি হলো
সেই শিকারির খাঁচায়,
তিনটি মেয়ের জামা-কাপড়
পড়ে থাকে মাচায়।


পরাজয়

আজ কানাডায় নির্বাচন।
কোথাও ‘আমার ভাই/ তোমার ভাই, আমার নেতা/ তোমার নেতা…’নেই
কোথাও স্লোগান, মিটিং, মিছিল, পোস্টার নেই,
মাইকিং নেই।
কিন্তু শরৎ-হেমন্তের সন্ধিক্ষণে
কোথায় যেন কি হচ্ছে!

আজ কানাডার নির্বাচন।
আজ আমি খুব নীরবে হেরে গেলাম তোমার কাছে!


দেশ বিভাগের গান

আমি তুমি যুক্তাক্ষর
একই সাথে মুক্তাক্ষর।

আমরা থাকি ভালোবাসার বন্ধনে।

আমি তুমি পানি-জল
মা-জননী নির্মল—

মায়ের মুগ্ধ আঁচল থেকে গন্ধ নে!

আমি তুমি এক-দুই
দুই দেশের এক ভূঁই,

নিজ দেশটা পরবাসী, ক্রন্দনে।

/জেডএস/

সম্পর্কিত

অন্নজল ও অন্যান্য কবিতা  

অন্নজল ও অন্যান্য কবিতা  

সুমোহিনী ভেনাস

সুমোহিনী ভেনাস

আমি মুখ খুলতে চাই না : নাদিয়া আঞ্জুমান

আমি মুখ খুলতে চাই না : নাদিয়া আঞ্জুমান

পৃথিবী

পৃথিবী

রাজু আলাউদ্দিনের আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র…

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০০

আমি সাহিত্যের কোনো মনোযোগী পাঠক নই। পড়াশোনা নিতান্তই কম। আর খাপছাড়া। ভালো লাগা-খারাপ লাগা, সবটাই ব্যক্তিগত। পেছনে কার্যকারণের ধারাবাহিকতার দিকে নজর পড়ে সামান্যই। আর, আজকাল ইচ্ছাটাও মরতে বসেছে। চোখ-কান-মাথা জুড়ে আলসেমির দাপট। বাধা দেই না। স্বেচ্ছায় তাতে গা ভাসাই।
          ক’বছর আগে একটা বই পড়ি। দক্ষিণে সূর্যোদয়। লেখক, রাজু আলাউদ্দিন। আমি চমকে যাই। এই নামটার সঙ্গে সে-ই প্রথম পরিচয়। অথচ পরে জানতে পাই, তিনি অজ্ঞাত কুলশীল নন। কবিতা লেখেন। গদ্যও। কোনোটিই গতানুগতিক নয়। তেমন যে নয়, বইটির পাতায়-পাতায় তার ছাপ। মেক্সিকোয়-দক্ষিণ আমেরিকায় স্প্যানিশ ভাষার বিশাল সাম্রাজ্যে রবীন্দ্রনাথ যে একসময় আলোড়ন জাগিয়েছিলেন, তাই নিয়ে এই বই। অবশ্য সুতোর টানে খোদ স্পেনে হিমেনেথ দম্পতির ও আরো ক’জনের আগ্রহের ও আত্মস্থ করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আসে। এতদিন আমার জানা ছিল শুধু ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো-কথা। তাও স্প্যানিশ প্রেক্ষাপট মনে করে নয়। রবীন্দ্রনাথের প্রতিভা ও ব্যক্তিমায়ার তৃপ্তিকর তথ্য হিসেবে। এখানে কিন্তু বিষয়মুখটা ঘুরিয়ে দেওয়া। দক্ষিণ আমেরিকায় স্প্যানিশ সাহিত্যের সৃষ্টিকুশলময় রবীন্দ্রনাথ কতটা প্রেরণা জুগিয়েছেন, অথবা, প্রতিহত হয়েছেন, সেটি ওই ভাষার সমকালীন সাহিত্যকাণ্ড বা পরবর্তী তর্ক-বিতর্ক থেকে আপন নিরাসক্তি পুরোপুরি বজায় রেখে তিনি সাবলীল দক্ষতায় সর্বাঙ্গীন করে ফুটিয়ে তুলেছেন। এমন বই আমি আগে পড়িনি। পরেও না। কিন্তু আমাদের দেখবার চোখ পুরোপুরি খুলে দেওয়ায় এ যে কী অসাধ্য-সাধন করে, তা ভেবে মনে বিস্ময় জাগে, কৃতজ্ঞ থাকি। তাঁর এই কাজের পেছনে একটা প্রেরণা, প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে, অনুমান, তাঁর জীবনসঙ্গিনী মেক্সিকো-কন্যা, যাঁর মাতৃভাষা স্প্যানিশ, বেড়ে উঠেছেন যিনি ওই আবহেই। সম্ভবত এর একটা পরিণাম, জেনে, অথবা না জেনে, রাজু আলাউদ্দিন এখন বহন করছেন বাংলা ও স্প্যানিশ, উভয় সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের স্বাভাবিক উত্তরাধিকার। বাংলায় তাঁর কাজে আলোর মিশ্র প্রকাশ ঘটে। তা আভিনব ও সমৃদ্ধ। আমাদের দৃষ্টি প্রসারিত হয়।
          শুধু এই কথাগুলো বলা আমার লক্ষ্য নয়। আসলে মূল কথায় আসার জন্য বলা যেতে পারে, এ গৌরচন্দ্রিকা। তিন বছর আগে তাঁর কবিতার বই একটি প্রকাশ পেয়েছে। নাম : ‘আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র গোপনে এঁকেছি’—সবই বাংলা কবিতা-ঐতিহ্যে বাগবিধিতে, স্বপ্নকল্পনায়, আত্মস্বরূপে নির্ভুল এই পরিচয়। কিন্তু তার পরেও ফল্গুধারার মতো শৃংখলা, সংযমও পরিমিতিবোধ যেন অন্তঃসলিলা বয়ে যায়, যা কবিকে আলাদা করে চেনায়। মনে হয় বাড়তি কিছু আছে।
          বইটির আর এক বৈশিষ্ট্য, এ দ্বিভাষিক। প্রতিটি কবিতার সঙ্গে তার ইংরেজি অনুবাদ আছে। তবে অনুবাদক আর একজন, নাম, বিনয় বর্মন। শুরুতে ভূমিকাও ইংরেজিতে তাঁর লেখা। অনুষঙ্গে, এই সময়ে বাংলাভাষার অন্যতম সেরা কবি মোহাম্মদ রফিকের সপ্রশংস মূল্যায়ন,—ইংরেজিতেই। যারা বাংলা জানেন না, তাঁরাও ইংরেজি মাধ্যমে কবিতাগুলোর সুর স্বাদ ও মূল্যায়ন একসঙ্গে পাবেন। আজকের বহুভাষিক বাস্তবতায় এর মূল্য কম নয়। এখানে এই বইটি নিয়েই আমার কথা। তবে তা শুরুর আগে আরো একটু আবোলতাবোল বকবক করে নেই। লেখার সবটাই যে তেমন হবে না, ঐ নিশ্চয়তা কিন্তু দিতে পারি না। ‘পড়েছি মোগলের হাতে…’ এই প্রবাদ বাক্যটির সবটা যেন অগত্যা যাঁরা পড়ছেন, তাঁরা অনিচ্ছাতে হলেও হজম করতে রাজি থাকেন। মিনতি আমার এইটুকু।
          আমরা জানি, কবিতার অনুবাদে তার অনেক লাবণ্য, অনেক সৌকর্য হারিয়ে যাবার আশংকা থেকে যায়। বিশেষ করে মূল ভাষা ও অনুবাদের ভাষা যদি দুই পরস্পর বিচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক বলয়ে বিকশিত হয়ে থাকে। গীতাঞ্জলি পর্ব থেকে রবীন্দ্রনাথ তাঁর কিছু কবিতা নিজেই ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। কিন্তু এতে তাঁর আত্মবিশ্বাস কখনোই খুব প্রবল ছিল না। শেষে হাল ছেড়ে দেন। যেটুকু অনুবাদ তিনি করেছেন একটু খুঁটিয়ে সেদিকে দৃষ্টি দিলে সহজেই ধরা পড়ে, বাংলায় পেলব বা গভীর অনুভবের দ্যোতনা ইংরেজিতে আসেনি। অনেক জায়গায় আক্ষরিক অনুবাদ কষ্টার্জিত বা কৃত্রিম। কোথাও কোথাও সংক্ষেপিত, ফলে তুলনায় আড়ষ্ট। উপমা-বা রূপকল্পনা হাস্যকরভাবে আবেগরিক্ত, ফলে মরা ডালের মতো নিষ্প্রাণ, অথবা আগাছার মতো শ্রীহীন। তারপরেও যদি তিনি ইংরেজি অনুবাদে নতুন মূল্য সৃষ্টি করে থাকেন, তবে তার কারণ তাঁর অলোকসামান্য প্রতিভা। একই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে বিভিন্ন ভাষায় পারস্পরিক অনুবাদ সমস্যা এমন অসেতুসম্ভব হবার কথা নয়। য়োরোপ ও আমেরিকার ভাবনা ও কর্মপ্রবাহ গত প্রায় পাঁচশ বছরের যোগাযোগে বিষয়টি সেই-রকমই দেখায়। এই উপমহাদেশেও তেমনই হওয়া স্বাভাবিক। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উদ্ভব ও বিকাশে এই লক্ষণ প্রত্যাশিতভাবে স্পষ্ট। কিন্তু ইংরেজির মাধ্যমে য়োরোপীয় সংযোগে এই ধারা এখন শীর্ণ। যদিও কথ্য সংস্কৃতিতে, সঙ্গীতে আদান-প্রদান আগের মতেই সচল। হয়তো যোগাযোগ আরো ব্যাপক। এখানে চলচ্চিত্রের অবদান কম নয়।
          কিন্তু য়োরোপ-আমেরিকান সাংস্কৃতিক বলয় এতটাই ভিন্ন ছিল যে সেখানে আমাদের পরম্পরার অভিঘাত প্রায় কিছুই কোনো দাগ কাটে না। যদিও উত্তমর্নের ভূমিকা এদেশের ওপরমহলে গ্রহণ-বর্জনে তারা যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। বেশ কিছু নিচু তলাতেও চুঁইয়ে পড়ে। পাশ্চাত্য সাহিত্য-সংস্কৃতির অনুবাদ ও অনুকরণ আমাদেরও কৌতূহল জাগায়। কিছুটা বা জীবনযাপনের অভ্যাসে মেশে।
          অবস্থার একটা গুণগত পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে গত শতকের আশির দশক থেকে। তার আগে সত্তরের দশকে তথ্য-প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন, চাই-বা-না চাই, পৃথিবীজুড়ে মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগে সম্ভাবনার বিচিত্র পথের দিশা চোখের সামনে এঁকে দেয়। নিজেরদের অজানতেই আমরা ঘর-বারের সীমারেখা মুছে ফেলতে থাকি। আপন-আপন ভাষায় প্রয়োগ কুশলতায় ও চিত্রকল্পনাতে এর অলক্ষ প্রভাব পড়তে শুরু করে। ফলে তা সম্পূর্ণ আত্মসচেতন হয়েও বিশ্বের সংযোগে ভিড়ে যায়। অনুবাদের কাজ মূল কাঠামো ও মূল ভাবনার অনুসরণে পূর্ণ বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েও সহজ, সাবলীল ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। কবি বা অনুবাদক কাউকেই এজন্য আগের মতো সাংস্কৃতিক বিভিন্নতার দুর্ভেদ্য প্রাচীরের সামনে আটকে যেতে হয় না। অবশ্য অভিজ্ঞতা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কেউ যদি একুশ শতকে এসেও দেড় হাজার-দুজাহার বছর আগের মূল্যবোধের বোঝা ধ্রুবজ্ঞানে বয়ে বেড়াতে সদম্ভে খাড়া থাকেন, তবে তিনি এই প্রবাহে শামিল হতে পারেন না। পারেন না তাঁরাও, যাঁরা কূপমণ্ডুকতার স্বভাব থেকে বেড়িয়ে আসতে ভয় পান। রাজু আলাউদ্দিন এমন কোনোটিই নন। জীবনস্রোতে তিনি বিশ্বনাগরিক। ঘরের পরিবেশেও তারই অন্তরঙ্গ ছোঁয়া। একান্ত বাঙালি ভাবনাতেও তাঁর মিশে যায় এই সব। এদের পরিশ্রুত প্রবাহ কবিতায় তাঁর ভাষার নির্মাণ। ইংরেজি অনুবাদে তার স্বতঃস্ফূর্ত স্বাভাবিকতা ও মৌলিক সৌরভ অনেকটাই থেকে যায়। অনুবাদকের পরিচয় কিছুই জানি না। অনুমান, তিনিও একই পথের পথিক। মূল কবিতার আকর্ষণ, অনুভবের সূক্ষ্ম চলাচল, তিনি যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে বজায় রেখেছেন। এখানে অবশ্য তাদের নিয়ে আলোচনায় যাচ্ছি না। যাঁরা সত্যিকারের যোগ্য, তাঁরা তা করবেন।
          সাধারণত কবিতা ও গণিতের অহেতুসম্ভব ব্যবধান প্রসঙ্গে অনেকে বলে থাকেন, গণিতে পাই বিভিন্ন উপাদানের নানা রকম সম্পর্কে একক সমাধানের বা সমাধানরাশির প্রমাণ; আর কবিতা চলে অনুভবের মুক্তাকাশে ইচ্ছেমতো ওড়ার স্বাধীনতায়। এই বিভাজন যথার্থ কি না, এ নিয়ে সংশয় কিন্তু থেকে যায়। কবিতাও খোঁজে বাস্তবের বহুবিধ কল্পনায় অন্বয় ও অন্বয়ের অন্তর্জালে স্থিতি ও অস্থিতির বিন্যাস। প্রত্যক্ষের দৃশ্যাবলি ও কর্মচঞ্চলতা মায়া জাগায়। তাকে পূর্ণপ্রাণের সমারোহে জাগ্রত করে অন্তরালের সম্পর্ক-সম্বন্ধে কান পেতে গন্ধ-বর্ণময় ধ্বনির ঐশ্বর্যে অর্থের বা তাৎপর্যের শিল্পিত অন্বেষণে কবির অভিনিবেশ। গণিতে চলকরাশির মতি-গতি ও স্থিতি বা অস্থিতির সম্পর্কের নিষ্কাশনে যে তৃপ্তি, কবিতাতেও মায়ার আড়ালে রসের খেলায় অশেষের পেছনে ছোটায় সেই অন্তহীন যাত্রার আকর্ষণ। তবে গণিতের উপাদান বস্তুনিরপেক্ষ চিহ্ন বা সংখ্যা, যারা আত্মসাৎ করতে পারে বিশ্ব-মহাবিশ্বের যাবতীয় তাড়নার নিরাসক্তিকে; বিপরীতে কবিতার ভিত্তিভূমি ষড়ৈশ্বর্যশালিনী আসক্তির সমাহার। সেও ছোটে সচ্চিদানন্দ সমাহিতির খোঁজে। এই রকম ছোটার নমুনাই পেলাম রাজু আলাউদ্দিনের কবিতাগুলোয়। স্থান-কালের আড়াল থাকলেও বাণীরূপ তাকে অতিক্রম করতে চায়। বোধ হয় এই কারণেই এরা অধিকতর অনুবেদ্য। প্রকৃতি-পরিবেশের একান্ত সীমায় আটকে থাকে না। এই সীমাই কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে প্রতিহত করেছিল। তিনি অবশ্য আজকের প্রযুক্তিবিপ্লবে মানববাস্তবতায় প্রসারমান সমজাতীয়তা প্রত্যক্ষ করেননি।
          বইটির নাম—‘আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র গোপনে এঁকেছি’—এখানেই ‘ভালোবাসার ওক্সিমোরন’ কবিতাটির এক চরণ থেকে কেটে নেওয়া। ‘ওক্সিমোরন’ তাৎক্ষণিকভাবে শুধু ওই শব্দের ব্যবহারেই বৈপরীত্যে সামঞ্জস্যের ব্যঞ্জনা ইংগিতময় করে তোলে। এভাবে ইশারায় সমগ্রের বিশেষত্ব ফুটিয়ে তোলা, অথবা, তার কোন মেজাজে দৃষ্টি আকর্ষণ করা এই সময়ের কবিতায় নতুন তাৎপর্য আনে। অবশ্য তা প্রাণবান হলে তবেই। রাজু আলাউদ্দিনের এই কবিতাসংকলনে এর দক্ষ প্রয়োগ বারবার আমাদের মুগ্ধতা কেড়ে নেয়। প্রেক্ষাপটে বিবিধ বিচিত্র আলো ফোটে। বহুমুখে ধায়। অনুভবে প্রসারণ ও সংকোচন একই শব্দসীমায় ঘটে চলে। কৃত্রিম মনে হয় না। চেতনার স্বাভাবিকতাতেই এমনটি মানিয়ে যায়। যেমন ‘আকাঙ্ক্ষা’ অসীমের অভিসারী হতে পারে, আবার তাকে বিশেষ কোনো প্রত্যক্ষের অভিমুখীও ভাবা যায়। ‘মানচিত্রে’ সমুদ্র বইয়ের পাতায় কতটুকুই-বা জায়গা নেয়, কিন্তু বাস্তবে তার কূল-কিনারা মেলে না। ‘গোপনে আঁকা, আর, উত্তমপুরুষে বলা মুহূর্তে একে ব্যক্তির অস্তিত্বে, তার সমস্ত বৈপরীত্য ও বিপন্নতা নিয়ে, নির্দিষ্ট করে। আমরা বর্তমানের অনিশ্চিত সম্ভাবনা রাশি স্পর্শ করি। সম্ভাবনা ও প্রত্যাশা, উভয়ের সামনেই প্রশ্নবোধক চিহ্ন তোলে। কবিতায় কিন্তু ভারসাম্য বজায় থাকে। তারিফ করি। নতুন কিছু পাই। তা আমাদের কল্পনায় মানববাস্তবতাকে এক ইন্দ্রয়গ্রাহ্য সম্প্রসারিত, কিন্তু অন্তর্জগতে সতত পরিবর্তনশীল, প্রেক্ষাপটে স্থাপন করে। বাংলাভাষার নিজস্ব সংবেদনশীলতা ও ঐতিহ্যলালিত পরিকাঠামো কিন্তু হারিয়ে যায় না। তারা বরং অভিনব অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়। সাহসীও।
          বইটির আরো অনেক কবিতা আমাদের চেতনায় আলোড়ন তোলে। কল্পমায়া ‘নূতন আভরণে’ নূতন রূপ পায়। বিশ্বাস বা অভ্যাসের জগতেও আকস্মিক হানা দিয়ে তাতে অপ্রত্যাশিত জীবনের স্পন্দন জোগায়। ‘ঢাল-তলোয়ার ঝনঝনিয়ে’ বাজে না। লাবণ্য অটুট থাকে কিন্তু পাঠাভ্যাসে ঝাঁকি দেয়। তা কল্যাণকর। সর্বান্তঃকরণে একে স্বাগত জানাই।
          সব কবিতাই কিন্তু এক একটি পূর্ণাঙ্গ সৃষ্টি। মেদহীন, স্বয়ম্প্রভ, মার্জিত ও ব্যাকুল। রজনিগন্ধা ফুলের মতো। কোনো নমুনা খাড়া করতে চাই না। প্রত্যেক কবিতার উপলব্ধি ও উপভোগ, তার সবটা নিয়ে। বিস্ময়ের সংযোজনাও। এদের খণ্ডিত করা সংগত মনে করি না।

মূল নাম : আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র গোপনে এঁকেছি। ইংরেজি নাম : Secretly have i drawn the Map of Desire. English Translation : Binoy Barman. Edited by Khaliquzzaman Elias. Published by Kheya Prokashan. First Published Ekushe Boimela, 2017. Cover : Masuk Helal. Price : 250.

/জেডএস/

সম্পর্কিত

বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্য ভাবনা

বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্য ভাবনা

অন্নজল ও অন্যান্য কবিতা  

অন্নজল ও অন্যান্য কবিতা  

একদিন দিনে চাঁদ ফুটবে

একদিন দিনে চাঁদ ফুটবে

বাঁশপাতার ভেতরে ভেসে যাবার প্রাক্কালে

বাঁশপাতার ভেতরে ভেসে যাবার প্রাক্কালে

বাঁশপাতার ভেতরে ভেসে যাবার প্রাক্কালে

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:২৫

উদ্ভিদ

এই অপরাহ্ণে কে কার জন্যে অপেক্ষায় থাকে?
যে ড‌াঙায় ছিপ ফেলে বসে থাকে অনন্তকাল 
তার কী জলে নামার কথা ছিল? না ধুলোঝড়ে
বাঁশপাতার ভেতরে ভেসে যাবার প্রাক্কালে এক
ঝলক চোখে চোখ রাখবার জন্য ব্যাকুলতা ছিল
নিছক প্রেমও আজকাল ঘোড়ারোগের মতন
দাঁড়িয়ে থেকে জাবর কাটতে কাটতে বুনোঘাস
সেখানে না থাকে ঘাসফড়িং না থাকে কাচপোকা
ধুলোবালির সংসারে অপেক্ষাও হাই তুলে বসে!
যে প‌ারে সে সব পারে খড়কুটো হয়েও টিকে 
থাকতে পারে! অসীম ধৈর্য যার থাকে তার জীবনও
বড় টেকসই; মুখোশ সরিয়ে সবুজ দিগন্ত দেখতে
পায়! হে সন্দেহ এসব ছোঁয়াচে উদ্ভিদের কাছে না 
গিয়ে জ্বলন্ত আগুন ছুঁয়ে দ্যাখো, ঝলসে যাওয়া
সময়ের ভেতরে আলো-অন্ধকার মর্মতলে বাজায়
ত্রিকাল মগ্ন সুর। সুন্দরের দিকে যত ছাইভস্ম উড়ে
এসে জুড়ে বসে কিরিচ হয়ে। দ্বিধার উপকূলে ঝরা
পাতাদের বিরহসঙ্গীত। বক্ররেখা থেকে চাঁদের নদীতে
যে নামে তার ক্ষতও নীলবর্ণ হৃদয়ের মতন। কোথাও
কী আচমকা অচেনা হাওয়া বয়ে গেল? না চূর্ণ হতে
হতে যে মানুষ হারিয়েছে গন্তব্য তার জন্য কোনো পথ
নির্দিষ্ট হলো? ভাদ্রের শেষ দিনে প্রাণের ওপর দিয়ে
তীর্থ যাবার বাসনা নিয়ে যিনি আগুনের গা ঘেঁষে 
বসেন তার জ্ঞান সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।।


বৃক্ষ
 
মায়া আছে ছায়া নেই। আজকাল 
বৃক্ষরাও বেকেচুরে বসে। স্বার্থের ঘেরা
টোপে সম্পর্করাও মুখ ফিরিয়ে নেয় 
সময়ের কার্নিশ বেয়ে যে যায় সে যায়
শরতের এমন দিনে প্রগাঢ় শব্দে বাজে
আগুন লিরিক। পথের ওপর দিয়ে পথ
চলে যায়। জলের ক্রন্দনে ভাসে আলোর
গোলক, আত্মার ধ্বনি। তারপর একা
একা বহুদূর। যেদিকে তাকাই মুখোশ
ভর্তি মুখ আর বিষজল।সব জ্বালিয়ে
পুড়িয়ে ঘাতক থিতু হয়ে বসে।অস্তিত্বের
ভেতরে এত দাহ এত শূন্যতা বুঝিনি 
আগে। লোভের অনলে খাক হয়ে যাচ্ছে
মন, সময় ও বৃক্ষ। কৃতঘ্নর লোলুপ ক্ষুধা
রক্ত‌াক্ত করে তোলে দিগন্ত। যথারীতি
পরমায়ু খেয়ে ফ্যালে লোভার্ত কুমির
ভাবনার ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে খণ্ডখণ্ড
পাথর, গন্তব্যের ওপর উৎকণ্ঠা হাঁ-মুখ
খুলে বসে। সব উপমা, ঘ্রাণ, সৌন্দর্য
অদৃশ্য হতে হতে অনিশ্চিত করে তোলে
মুহূর্ত। গন্তব্য বলতে দূরত্ব, হলুদ বৈভব


শহর

একটি শহর কীভাবে মানুষের মস্তিষ্ক ভোঁতা
করে দিতে পারে তা কী তুমি জানো? নানা
পদের মানুষ শহরভর্তি। মুখোশের আড়ালে
হিংস্রতা না দেখা অভিশাপ ধূসরতা বাঁচার
বিশ্বাস। চোখহীন চোখের যাতনা লোভের
আঙটায় ঝুলিয়ে অন্ধত্ব বরণ করে নিয়েছে
যে তাকে চক্ষুষ্মান করাও বড় কঠিন আজ
ডানা ভেঙে গেলে পাখিও মুখ থুবড়ে পড়ে
শহরের উপকণ্ঠে! নীলাভ শূন্যতা কয়েদির
ম্লান হাসির সাথে দগ্ধ হতে হতে বিমূঢ় হতে
থাকে। সেই আমার বলতে আমি! নিঃসঙ্গতা
দগ্ধ পথরেখা ভাদ্রের ধূম্রজাল করোনার ক্ষীণ
ইতস্তত দ্রোহ জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে শহরকে
বৈষম্যে মুড়িয়ে দিতে উদ্যত। কী অনুচিত তা
কী শহর বোঝে? না তুমি? মধ্যদুপুরে ভাঙা
চশমার আর্তনাদ না দেখা অরণ্য ন্যায় ও
অন্যায়ের মুখোমুখি বসে। এত জটিলতা 
ভালো নয় জেনো, বিবরণের সরলীকরণ
ভালো যদিও প্রত্যাশার পরিমাপ নীতিশাস্ত্র
বোঝে না। কালের আয়নায় দ্যাখো সংসার 
সঙ সেজে উঠে যাচ্ছে যাত্রামঞ্চে। চারদিকে
এত অসঙ্গতি এত লোভ কোনো নিবৃত্তি নেই

/জেডএস/

সম্পর্কিত

বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্য ভাবনা

বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্য ভাবনা

অন্নজল ও অন্যান্য কবিতা  

অন্নজল ও অন্যান্য কবিতা  

একদিন দিনে চাঁদ ফুটবে

একদিন দিনে চাঁদ ফুটবে

রাজু আলাউদ্দিনের আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র…

রাজু আলাউদ্দিনের আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র…

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্য ভাবনা

বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্য ভাবনা

অন্নজল ও অন্যান্য কবিতা  

অন্নজল ও অন্যান্য কবিতা  

একদিন দিনে চাঁদ ফুটবে

একদিন দিনে চাঁদ ফুটবে

রাজু আলাউদ্দিনের আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র…

রাজু আলাউদ্দিনের আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র…

বাঁশপাতার ভেতরে ভেসে যাবার প্রাক্কালে

বাঁশপাতার ভেতরে ভেসে যাবার প্রাক্কালে

সুমোহিনী ভেনাস

সুমোহিনী ভেনাস

আমার B ও ৯
সাহিত্যতত্ত্ব : একটি সংক্ষিপ্ত পরিক্রমা

পর্ব—তিনসাহিত্যতত্ত্ব : একটি সংক্ষিপ্ত পরিক্রমা

তুমি নামের অচেনা কেউ

তুমি নামের অচেনা কেউ

জীবনানন্দের ‘পৃথিবীলোক’ : নগর পতনেরও শব্দ শুনি

জীবনানন্দের ‘পৃথিবীলোক’ : নগর পতনেরও শব্দ শুনি

সর্বশেষ

ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে ডিজিটাল অপরাধও বেড়েছে: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে ডিজিটাল অপরাধও বেড়েছে: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

কক্সবাজারের সাথে রেল যোগাযোগ চালু হবে ২০২২ সালে: রেলমন্ত্রী

কক্সবাজারের সাথে রেল যোগাযোগ চালু হবে ২০২২ সালে: রেলমন্ত্রী

রোনালদোবিহীন ম্যান ইউর বিপক্ষে ‘প্রতিশোধ’ নিলো ওয়েস্ট হাম

রোনালদোবিহীন ম্যান ইউর বিপক্ষে ‘প্রতিশোধ’ নিলো ওয়েস্ট হাম

পিএসজিকে শেষ মুহূর্তে জেতালেন হাকিমি

পিএসজিকে শেষ মুহূর্তে জেতালেন হাকিমি

করোনার টিকাকে ‘বৈশ্বিক জনস্বার্থ সামগ্রী’ ঘোষণার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

করোনার টিকাকে ‘বৈশ্বিক জনস্বার্থ সামগ্রী’ ঘোষণার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

© 2021 Bangla Tribune