সিনহা হত্যা মামলা: দশম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

কক্সবাজার প্রতিনিধি
২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫৭আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৫

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার দশম সাক্ষী হাফেজ জহিরুল ইসলামের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দফায় দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তৃতীয় দফায় ১০ নম্বর সাক্ষী হাফেজ জহিরুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া মামলার উপস্থিত অন্যদের মধ্যে সাক্ষী কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. শাহীন আবদুর রহমান, ডা. রনধীর দেবনাথ ও সেনা সদস্য সার্জেন্ট আয়ুব আলীর সাক্ষ্যগ্রহণ নেওয়ার কথা রয়েছে।

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী রয়েছেন অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত। তৃতীয় দফার সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

এর আগে গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট টানা তিন দিন মামলার প্রথম দফায় ১নং সাক্ষী ও বাদী শারমিন সাহরিয়া ফেরদৌস এবং ২নং সাক্ষী সাহেদুল ইসলাম সিফাতের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। একইভাবে গত ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর টানা চার দিনে দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন আদালত। এ নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল সোমবার সাত সাক্ষী নিয়ে তৃতীয় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

গত বছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় সে সময় সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। 

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লিয়াকত আলীকে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি এবং রামু থানায় আরেকটি মামলা করে। এরপর মেজর সিনহা নিহতের ছয় দিন পর লিয়াকত আলী ও ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার অভিযোগে টেকনাফ থানায় পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টে ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনকারী আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গত ২৪ জুন মামলার অন্য পলাতক আসামি টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

আসামিদের মধ্যে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়া অন্য ১২ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্ত শেষে গত বছর ১৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন র‌্যাব ১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত ২৭ জুন ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এতে ৮৩ জনকে সাক্ষী করা হয়।

/এসএইচ/
সম্পর্কিত
মেজর সিনহা হত্যা: প্রদীপ-লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহালের রায় প্রকাশ
রায় দ্রুত কার্যকর চান মেজর সিনহার বোন
‘মেজর সিনহা’ স্মরণে স্মৃতিফলক উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান
সর্বশেষ খবর
৯/১১-এর আগেই ভারত-পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা ছিল বিন লাদেনের: সিআইএ নথি
৯/১১-এর আগেই ভারত-পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা ছিল বিন লাদেনের: সিআইএ নথি
সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত অন্তত ৯, আহত অর্ধশত  
ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত অন্তত ৯, আহত অর্ধশত  
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী 
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী 
সর্বাধিক পঠিত
কমলা জামদানিতে পরীমণির সাজে নজরকাড়া বাঙালিয়ানা
কমলা জামদানিতে পরীমণির সাজে নজরকাড়া বাঙালিয়ানা
আমাকে সবসময় টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করেছে: পপি
আমাকে সবসময় টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করেছে: পপি
গ্রেফতারের পর ৬৩ বিদেশি নাগরিক যার কথা বলেছেন, এবার সেই কর্মকর্তা গ্রেফতার
গ্রেফতারের পর ৬৩ বিদেশি নাগরিক যার কথা বলেছেন, এবার সেই কর্মকর্তা গ্রেফতার
পে-স্কেল ঘোষণা হলেও গেজেট প্রকাশে দেরি কেন
পে-স্কেল ঘোষণা হলেও গেজেট প্রকাশে দেরি কেন
রাজীবের মায়ের স্বপ্ন পূরণ
রাজীবের মায়ের স্বপ্ন পূরণ