X
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৬ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

গাছের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের ধাক্কায় নিহত ১, আহত ১২

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:০৬

নোয়াখালীর সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এক নারী (৩০) নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন শিশুসহ অন্তত ১২ জন। আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নারী সুমি আক্তার উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার মেয়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের মান্নান নগর থেকে ১৫-১৬ জন বরযাত্রী নিয়ে একটি মাইক্রোবাস লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলায় বিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলো। কালাদরাপ ইউনিয়নের সমিতির মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সাথে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে এক নারী নিহত এবং অন্তত ১২ জন আহত হন।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন,  ‘দুপুরে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এর মধ্যে সুমী আক্তার নামের একজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। বাকিদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেদ উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

/এফআর/

সম্পর্কিত

ভ্রাম্যমাণ আদালত ছেড়ে আহতকে হাসপাতালে নিলেন ইউএনও

ভ্রাম্যমাণ আদালত ছেড়ে আহতকে হাসপাতালে নিলেন ইউএনও

সালিশে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সিএনজিচালক নিহত

সালিশে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সিএনজিচালক নিহত

কুমিল্লার সহিংসতার ঘটনায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

কুমিল্লার সহিংসতার ঘটনায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

পীরগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ২০:৫৮

দুর্বৃত্তদের ভাঙচুর, আগুন ও তাণ্ডবলীলায় ঘরবাড়িসহ সহায়সম্বল হারিয়ে এখন নিঃস্ব রংপুরের পীরগঞ্জের বড় করিমপুর কসবা এলাকার মাঝিপাড়ার হিন্দু পল্লীর ২৫ পরিবার। এসব পরিবারের সদস্যরা পাঁচ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বৃষ্টিতে ভিজে রোদে পুড়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। তবে প্রাণের তাড়নায় জীবন চালিয়ে নেওয়ার তাগিদে শুক্রবার (২২ অক্টোবর) থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতের কাজ শুরু করেছেন তারা। নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ যেন নতুন দিনের সন্ধান করছেন। সেইসঙ্গে রান্না করা খাবার অনেক পরিবার একসঙ্গে খেয়ে স্বাক্ষর রাখলেন সম্প্রীতির।

শুক্রবার সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন বেলা রান্না করা খাবার দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। তবে বেশ কয়েকটি পরিবার ঘরে চুলা জ্বালিয়ে সকাল থেকে ভাত তরকারি রান্না করেছে। অনেকেই ভাঙচুর হওয়া ঘরের মেরামত শুরু করেছেন। তবে সহায়তা পেলেও তা ‘পর্যাপ্ত নয়’ উল্লেখ করে অনেকে এখনও মেরামতের কাজ শুরু করতে পারেননি বলে জানান।

সঞ্চিতা বালা বললেন, ‘ছেলেমেয়েরা রান্না করা খাবার খেতে চাইছে না। তাই নিজেরাই রান্না করা শুরু করে দিয়েছি।’ একই কথা জানালেন মন্দির সংলগ্ন আজ্ঞু রানিসহ অনেকেই।

তবে নতুন করে বাড়িঘর নির্মাণ করলেও এখনও আতঙ্কে আছেন নিঃস্ব এ মানুষগুলো। এ পরিবারগুলোর শঙ্কার কথা বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা থেকে আসা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত দলের প্রধান এবং সংস্থাটির পরিচালক আশরাফুল আলম নিজেই সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেছেন, ‘তাণ্ডবে সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলোর প্রায় সবারই প্রধান দাবি, তারা প্রচণ্ড শঙ্কার মধ্যে দিন যাপন করছেন। তাদের মনে নিরাপত্তার ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং তা যাচ্ছে না। তারা জানিয়েছে, ফের এমন হামলা হতে পারে- এ নিয়ে তারা শঙ্কিত এবং চিন্তিত।’

এদিকে, সরেজমিনে বিভিন্ন পরিবারের সঙ্গে কথা হলে তারাও তাদের একই শঙ্কার কথা জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পল্লীর দুই নারী জানান, দুর্বৃত্তরা যখন তাদের বাড়িতে আক্রমণ করেছিল, তখন তারা প্রাণ বাঁচাতে ছেলেমেয়ে নিয়ে বাড়ির অদূরে ধান ক্ষেতে লুকিয়ে রাত পার করেছেন। দুর্বৃত্তরা শুধু তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা আসবাবপত্র গরু-ছাগল নগদ অর্থসহ সব মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

অনেকেই রান্নাবান্নাও শুরু করেছেন

তারা বলেন, ‘এখন না হয় পুলিশ আমাদের পাহারা দিচ্ছে, এই নিরাপত্তা কয়দিন? তারপর কী হবে? ফলে প্রশাসন যতই আশ্বাস দিক, আমরা আতঙ্কিত। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে আছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরোধা রানী রায় বলেন, ‘প্রশাসন এবং জনগণ সঙ্গে আছে, কোনও সমস্যা হবে না। হামলায় মাঝি পাড়ার ২৫ পরিবারের ৩২টি ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আর ৫৯টি ঘরে লুটপাটের পর ভাঙচুর করা হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের তালিকা করা হয়েছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ্মীরানি জানান, ওই সন্ধ্যায় (রবিবার, ১৮ অক্টোবর) রান্না করার সময় হঠাৎ কয়েক হাজার লোকজন বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে প্রথমেই তার বাড়ির বাইরে ধানের খড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। দাউদাউ করে জ্বলা শুরু হলে ধর ধর চিৎকার শুরু করলে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে একটু দূরে ধান ক্ষেতে শুইয়ে ছিলেন। এরপর দুর্বৃত্তরা তার পাঁচটি আধা পাকা ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়, নগদ অর্থসহ মালামাল লুট করে এবং তিনটি গরু নিয়ে যায়। চার দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটছে তাদের। উপজেলা প্রশাসন থেকে শুধু দুই বান্ডিল ঢেউ টিন দিয়েছে। কিন্তু ঘর মেরামত করতে কাঠ, বাঁশ ও মিস্ত্রির খরচসহ টাকার দরকার। তাই ঘর এখনও মেরামত করা সম্ভব হয়নি। সেটা না থাকায় বৃষ্টিতে ভিজে রাত জেগে ছেলেমেয়ে নিয়ে বসে আছেন তারা।

ননিবালা জানান, তাদের বাড়িতে হামলা চালানোর পরপরই তারা বাবা-মাসহ স্বজনরা বাড়ি থেকে পালিয়ে ধান ক্ষেতে সারারাত লুকিয়ে ছিলেন। তাদের বাড়িঘরের টিভিসহ সব মালামাল লুট করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পাঁচ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর দিন কাটছে। এক বান্ডিল টিন ছাড়া কোনও সাহায্য পাননি তারা।

ইউএনও বিরোধা রানি রায় বলেন, ‘তাণ্ডবের পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার, শাড়ি, লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ১০০ বান্ডিল ঢেউটিনসহ নগদ অর্থ দিয়েছেন। বাড়ি নির্মাণের জন্য তথ্যমন্ত্রী প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে দিয়েছেন।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাহাবুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তারপরও খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এক থেকে তিন লাখ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ব্র্যাক, আরডিআরএস, জেলা পরিষদ, আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টসহ বিভিন্ন সংগঠন নগদ অর্থ ও ত্রাণ বিতরণ করেছে।

/এফআর/

সম্পর্কিত

পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসি মানুষের

পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসি মানুষের

দেশের দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী ঘুমান না: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

দেশের দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী ঘুমান না: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

মেয়েসহ নিখোঁজ স্ত্রীকে ফিরে পেতে চান স্বামী 

মেয়েসহ নিখোঁজ স্ত্রীকে ফিরে পেতে চান স্বামী 

ভ্রাম্যমাণ আদালত ছেড়ে আহতকে হাসপাতালে নিলেন ইউএনও

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৪৯

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিজ গাড়িতে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কর্মকর্তা মোছা. তাছলিমা আকতার। 

ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ফুকরা বাজার এলাকায় ইটভর্তি লরির সঙ্গে ভ্যানের ধাক্কা লেগে ফুকরা গ্রামের মহিদুল ইসলাম আহত হন। তাকে নসিমনে করে সালথা বাজারে নিয়ে আসা হয়। এ সময় ওই বাজারে ভ্রাম্যমাণ পরিচালনা করছিলেন ইউএনও। বিষয়টি ওনার নজরে এলে অভিযান ছেড়ে আহত মহিদুলকে নিজের গাড়িতে করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি নিজেই নিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, গুরুতর আহত মহিদুল ইসলাম সালথা উপজেলার ফুকরা গ্রামের ওসমান মিয়ার ছেলে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকালে হাসপাতালে মারা যান ওই ব্যক্তি।

ইউএনও মোছা. তাছলিমা আকতার বলেন, ‘সালথার ইউএনও হিসেবে সব জনগণকে সেবা দেওয়াই আমার দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ থেকেই সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মহিদুল ইসলামকে হাসপাতালে নিয়ে গেছি। আমি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছিলাম। এ সময় বিষয়টি দেখে কোনও যানবাহন না পাওয়ায় নিজের গাড়িতে আহত ব্যক্তিকে তুলি এবং প্রথমে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকালে মারা যান তিনি।’ 

তিনি বলেন, ‘আহত ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাকে বাঁচাতে পারলাম না। খুবই কষ্ট লাগছে।’

ইউএনওর এমন মানবিক কর্মকাণ্ড দেখে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী। মোছা. তাছলিমা আকতার ১৩ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সালথা উপজেলায় যোগ দেন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

মাদারীপুর অঞ্চলে ৯ মাসে সড়কে ঝরেছে ২১৩ প্রাণ

মাদারীপুর অঞ্চলে ৯ মাসে সড়কে ঝরেছে ২১৩ প্রাণ

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে পিকআপভ্যানের ধাক্কা, নিহত ৩

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে পিকআপভ্যানের ধাক্কা, নিহত ৩

সালিশে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সিএনজিচালক নিহত

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৪১

বগুড়ায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে জাহের আলী প্রামানিক (৩৮) নামের সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালক নিহত হয়েছেন। এ সময় তার দুই ভাই ও ভাতিজা আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সদরের লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের রহমতবালা মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত জাহের আলী প্রামানিক বগুড়া সদরের রহমতবালা মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত হারুনুর রশিদের ছেলে। রহমতবালা গ্রামে সরকারি গুচ্ছ গ্রামের সঙ্গে রাস্তার জন্য দুই শতক জমি নিয়ে জাহের আলীর সঙ্গে প্রতিবেশী নুরুল আমিনের বিরোধ চলছে। নুরুল আমিন রাস্তা দখলের জন্য গুচ্ছ গ্রামের কয়েকটি ঘরে তালা দেন। এ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আল-আমিন শুক্রবার বেলা ১০টার দিকে সালিশ বৈঠক ডাকেন। সেখানে আলোচনা করে বিরোধপূর্ণ জমি সার্ভেয়ার দিয়ে মাপার সিদ্ধান্ত হয়। জমি মাপা শুরু হলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় নুরুল আমিনের ছেলে সজিব ক্ষিপ্ত হয়ে জাহের আলীর পেটে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে। তার চিৎকারে ভাই আবু তাহের প্রামানিক (৩৫), বাদল প্রামানিক
(৫৫), বাদলের ছেলে ইসলাম প্রামানিক (১৯) ছুটে আসেন। সজিব তাদের তিন জনকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। আহত চার জনকে উদ্ধার করে শহরতলির গোকুল এলাকায় টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিএনজিচালক জাহের আলী মারা যান। পরে আহতদের বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার পরপরই সজিব ও তার বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে আত্মগোপন করেছেন। নিহত জাহের আলীর লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশে একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।

/এফআর/

সম্পর্কিত

আবার শজিমেক হাসপাতালে রোগীর স্বজনকে মারধরের অভিযোগ

আবার শজিমেক হাসপাতালে রোগীর স্বজনকে মারধরের অভিযোগ

সড়কে পলিটেকনিক শিক্ষকসহ নিহত ২

সড়কে পলিটেকনিক শিক্ষকসহ নিহত ২

রাজশাহীতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে সমাবেশ

রাজশাহীতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে সমাবেশ

পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসি মানুষের

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৩৯

নীলফামারীর ডিমলা-ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার বন্যার উন্নতি হলেও দুর্ভোগ কমেনি জেলার ডিমলা ও জলঢাকার বানভাসি মানুষের। বন্যা পরবর্তী তিস্তা পারের মানুষের দিন কাটছে চরম দুর্ভোগে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিড়ম্বনায় রয়েছেন ওই দুই উপজেলার ৩০ গ্রামের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০) ৫৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত বুধবার (২০ অক্টোবর) ভারী বর্ষণ আর উজানের ঢলে ওই পয়েন্টে বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়। এসময় ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তিস্তাবেষ্টিত এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করে।

গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া বন্যায় নীলফামারী জেলার দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ ওই দুই উপজেলার (ডিমলা ও জলঢাকা) হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। সবাই জীবন বাঁচার তাগিদে বাড়িঘর সরানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় বানভাসিদের হাতে কাজ না থাকায় আয় উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যার পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় রান্না ঘরে চুলা পর্যন্ত জ্বলছে না। কোনও রকমে শুকনা খাবার খেয়ে দিন যাপন করছেন হাজার হাজার পরিবার। অপরদিকে, শিশু খাদ্য সংকটে পড়েছে বানভাসি পরিবারের অভিভাবকরা।

নীলফামারী ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম একবারে নদীর করাল গ্রাসে। ওই তিন গ্রামে বাস করেন অন্তত দশ হাজার মানুষ। নদীকে ঘিরে চলে তাদের জীবনযাত্রা। ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে বিপাকে পড়েছে। বাধ্য হয়ে উপজেলার বাইরে গিয়ে অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে, রিকশা চালিয়ে এখন সংসার চালাতে হচ্ছে তাদের।

পূর্ব ছাতনাই কলোনি গ্রামের তোফাজ্জুল হোসেন (৫৭) বলেন, ভারতের বন্যা ও উজানের পাহাড়ি ঢল এলে তিস্তার পানি বেড়ে যায়। নিমেষেই তলিয়ে যায় এলাকার শত শত গ্রাম। রক্ষা করা যায়নি বসতভিটা, গরু ছাগল, হাঁস, মুরগী, জমির ফসল ও শত শত একর পুকুরের মাছ।

তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দুর্ভোগ কমেনি জেলার বিশেষ করে ডিমলার ছয়টি ইউনিয়নের ১০ হাজার মানুষের। এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে নিম্নাঞ্চলসহ কিছু কিছু ঘরবাড়ি। সরকারিভাবে যেটুকু সহযোগিতা করা হচ্ছে, সেটিও পর্যাপ্ত নয়।

পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, বানভাসি মানুষের বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন জরুরি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি স্থাপনসহ আর্থিক সহায়তার একান্ত দরকার।

জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বন্যা কবলিত এলাকার প্রায় ৪৯ মেট্রিক চাল, ১০ লাখ টাকা ও প্রচুর শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী যেখানে যতটুকু লাগে দেওয়া হবে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

/এমআর/

সম্পর্কিত

দেশের দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী ঘুমান না: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

দেশের দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী ঘুমান না: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

মেয়েসহ নিখোঁজ স্ত্রীকে ফিরে পেতে চান স্বামী 

মেয়েসহ নিখোঁজ স্ত্রীকে ফিরে পেতে চান স্বামী 

‘স্বাধীনতাবিরোধীরাই সাম্প্রদায়িক অপতৎপরতা চালাচ্ছে’

‘স্বাধীনতাবিরোধীরাই সাম্প্রদায়িক অপতৎপরতা চালাচ্ছে’

ভারতে পাচারকালে স্বর্ণের বারসহ আটক এক

ভারতে পাচারকালে স্বর্ণের বারসহ আটক এক

লোকালয় থেকে উদ্ধার হলো বিশাল এক অজগর

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৮:২৩

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ থেকে লোকালয়ে চলে আসা ২০ ফুট লম্বা ও ৪০ কেজি ওজনের একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে শুক্রবার (২২ অক্টোবর) সকালে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে সুন্দরবন সংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামের জামাল গাজীর ঘররে পাশ থেকে ওয়াইল্ড টিমের সদস্যরা বিশাল আকৃতির এই অজগরটি উদ্ধার করে। এনিয়ে গত এক বছরে শতাধিক অজগর লোকালয় থেকে উদ্ধার করে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। 

সুন্দরবনের ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলা উপজেলা সমন্বয়কারী আলম হাওলাদার জানান, সুন্দরবন থেকে প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসা অজগরগুলো মানুষের জন্য খুব ক্ষতির কারণ নয়। খবর পেলে স্থানীয়দের সহায়তায় অজগরগুলো আমরা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে সুন্দরবনে ফিরিয়ে নিচ্ছি।

সুন্দরবন সন্নিহিত খুড়িয়াখালী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, গত ২০ বছরেও সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে চলে আসা এত বড় অজগর দেখেনি। 

সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভোলানদী পাড় হয়ে অজগর সাপটি জামাল ফরাজির ঘরের পাশে অবস্থান নেয়। শব্দ পেয়ে ঘরের লোকজন বাইরে বের হয়ে অজগরটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তারা সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটি ওয়াইল্ড টিম ও টাইগার টিমের সদস্যদের খবর দেয়। খবর পেয়ে রাতেই তারা বন বিভাগের সহায়তায় অজগরটি উদ্ধার করে। 

উদ্ধার হওয়া ২০ ফুট লম্বা ও ৪০ কেজি ওজনের এই অজগরটিকে শুক্রবার সকালে শরণখোলা রেঞ্জ অফিস সংলগ্ন বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। সুন্দরবনের লোকালয় সন্নিহিত ভোলা নদী ভরাট হয়ে বন ও লোকালয় এক হয়ে যাওয়ায় খাদ্যেরে সন্ধানে প্রায়ই অজগরগুলো গ্রামে চলে যাচ্ছে। 

এনিয়ে গত এক বছরে শতাধিক অজগর লোকালয় থেকে উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে জানান এই বন কর্মকর্তা।

/এমআর/

সম্পর্কিত

ইউপি নির্বাচন: বিদ্রোহী প্রার্থীর অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ

ইউপি নির্বাচন: বিদ্রোহী প্রার্থীর অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ

ভারত থেকে ফিরেছেন পাচার হওয়া ১৯ তরুণী

ভারত থেকে ফিরেছেন পাচার হওয়া ১৯ তরুণী

চাকা পাংচার হয়ে খাদে বাস, নিহত এক আহত ১০

চাকা পাংচার হয়ে খাদে বাস, নিহত এক আহত ১০

আমরা চাই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হোক এবং হচ্ছেও: সিইসি

আমরা চাই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হোক এবং হচ্ছেও: সিইসি

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ভ্রাম্যমাণ আদালত ছেড়ে আহতকে হাসপাতালে নিলেন ইউএনও

ভ্রাম্যমাণ আদালত ছেড়ে আহতকে হাসপাতালে নিলেন ইউএনও

সালিশে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সিএনজিচালক নিহত

সালিশে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সিএনজিচালক নিহত

কুমিল্লার সহিংসতার ঘটনায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

কুমিল্লার সহিংসতার ঘটনায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার কথা ‘স্বীকার করেছেন’ ইকবাল

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার কথা ‘স্বীকার করেছেন’ ইকবাল

মাদারীপুর অঞ্চলে ৯ মাসে সড়কে ঝরেছে ২১৩ প্রাণ

নিরাপদ সড়ক দিবসমাদারীপুর অঞ্চলে ৯ মাসে সড়কে ঝরেছে ২১৩ প্রাণ

যেভাবে ধরা পড়লো ইকবাল

যেভাবে ধরা পড়লো ইকবাল

মণ্ডপে হামলা: নুরের যুব সংগঠনের চার নেতাসহ গ্রেফতার ৯

মণ্ডপে হামলা: নুরের যুব সংগঠনের চার নেতাসহ গ্রেফতার ৯

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে পিকআপভ্যানের ধাক্কা, নিহত ৩

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে পিকআপভ্যানের ধাক্কা, নিহত ৩

সর্বশেষ

পীরগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

পীরগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

রাজনৈতিক ঐক্যে জামায়াত অন্তরায় হলে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান এলডিপির

রাজনৈতিক ঐক্যে জামায়াত অন্তরায় হলে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান এলডিপির

নেতাদের সামনেই বিজেপি কর্মীদের মারপিট

নেতাদের সামনেই বিজেপি কর্মীদের মারপিট

ভিডিও মিউট করা যাবে গুগল মিটে

ভিডিও মিউট করা যাবে গুগল মিটে

৫-১১ বছরের শিশুদের ওপর ৯০ শতাংশ কার্যকর ফাইজারের টিকা

৫-১১ বছরের শিশুদের ওপর ৯০ শতাংশ কার্যকর ফাইজারের টিকা

© 2021 Bangla Tribune