X
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

যে কারণে কাচকি মাছের চানাচুর উদ্ভাবন

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪৪

চানাচুর, বাদাম ও তিলের তক্তিতে দেশীয় জাতের কাচকি মাছ ব্যবহার করে সুস্বাদু খাদ্যপণ্য উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের গবেষকরা।

তারা বলছেন, সব শ্রেণির মানুষ বিশেষ করে যেসব শিশু ছোটমাছ খেতে পছন্দ করে না, তাদের কাছে কাচকি মাছের পুষ্টিগুণ পৌঁছে দিতেই এই গবেষণা। ২০২০ সালে শুরু হওয়া এ গবেষণা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। গবেষক দলের প্রধান ছিলেন বাকৃবির ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নুরুল হায়দার। সহযোগী গবেষক হিসেবে ছিলেন একই বিভাগের প্রভাষক মো. মোবারক হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় প্রজাতির কাচকি মাছ পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ। মাছটি দেশের নদ-নদী, খাল-বিলে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। আকারে ছোট এবং কাঁটাযুক্ত হওয়ায় অনেকেই এটি খেতে পছন্দ করেন না। বিশেষ করে শিশুরা খেতে চায় না। বিকল্প উপায়ে তাদের সেই পুষ্টিগুণ নেওয়ার উপায় উদ্ভাবন করেছেন গবেষকরা। প্রক্রিয়া করে কাচকি মাছের পুষ্টিগুণ ব্যবহার করা হয়েছে চানাচুর, বাদাম ও তিলের তক্তিতে। সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

কাচকি মাছ দিয়ে খাদ্যপণ্য উদ্ভাবন করা দুই গবেষক

গবেষক ড. মুহম্মদ নুরুল হায়দার জানান, কাচকি মাছে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন ‘এ’ বিদ্যমান। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ গ্রাম কাচকি মাছে ১৩.৫ গ্রাম প্রোটিন, ৪.৬ গ্রাম চর্বি, ৮৬৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ২.৪ মিলিগ্রাম আয়রন রয়েছে। এ মাছে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই বললেই চলে। মাছের অসম্পৃক্ত চর্বি হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ছাড়াও দৈনন্দিন অনেক শারীরিক সমস্যা দূর করতে সক্ষম। শিশুসহ সব বয়সের মানুষের চানাচুর এবং তক্তি জাতীয় খাবার খুব পছন্দের। দুইটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ছয়টি খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা হয়েছে। ক্যাটাগরি-১ এর আওতায় চানাচুর জাতীয় এবং ক্যাটাগরি-২ এর আওতায় কুড়কুড়ে বাদাম ও তিলের বার (তক্তি)। এসব মুখরোচক খাবারের সঙ্গে মাছের পুষ্টিও নিতে পারবে মানুষ।

তিনি আরও জানান, মাছ দিয়ে তৈরি এসব খাবারে মাছের কোনও গন্ধ থাকে না। জিপার ব্যাগে পণ্যগুলো দুই মাসের বেশি সময় পর্যন্ত ভালো থাকে।

গবেষক দলের সহযোগী মো. মোবারক হোসেন বলেন, ‘ছোট মাছের কাটা খেতে হবে চিবিয়ে। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম পাওয়া যাবে। অন্যদিকে গর্ভবতী মা এবং স্তন্যদানকারী মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিয়ে থাকে কাচকি মাছ। মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশ নিউট্রিশন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, চানাচুর জাতীয় পণ্যগুলোতে গড়ে ৪-৫% ময়েশ্চার, ২৬-৩০% লিপিড, ১৮-২২%, ৫% মিনারেল, ২% ফাইবার এবং ৩৯-৪২% কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। যেখানে সাধারণ চানাচুরে প্রোটিন থাকে ১২-১৩%। বার (তক্তি) জাতীয় পণ্যগুলোতে ২০-২২% ময়েশ্চার, ১৩-১৯% লিপিড, ১৩-১৫% প্রোটিন, ১২-১৫% মিনারেল, ২-৩% ফাইবার এবং ৩২-৩৪% কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়।’

কাচকি মাছ ব্যবহার করে বাদামের তক্তি

এসব খাদ্যপণ্যের বাজার দর সম্পর্কে বিজ্ঞানী মোবারক হোসেন জানান, সাধারণত বাজারে ২৫ গ্রামের যে পিনাট বার পাওয়া যায় তার দাম ১০ টাকা করে। তাই মাছের তৈরি বারের দাম ১৫-২০ টাকা হতে পারে। প্রতি কেজি কাচকি মাছ ব্যবহারে তৈরি করা বার (তক্তি) বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা ৫০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত মুনাফা করতে পারবেন। অন্যদিকে, কাচকি মাছ ব্যবহারে তৈরি করা চানাচুরের দাম নির্ধারণ হবে মাছের পরিমাণের ওপর। চানাচুরে মাছের পরিমাণ যত ব্যবহার করা হবে তার দামও ততো বেশি হবে।

এ গবেষক আরও বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলের প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ করে ছোট মাছ। কিন্তু আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তির প্রভাবে উঠতি বয়সী শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা গেছে এবং তারা ছোট মাছ খেতে অনিচ্ছুক। কিন্তু মাছ দিয়ে তৈরি সরাসরি খাওয়ার উপযোগী খাদ্যদ্রব্যের প্রতি তাদের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাই এ ধরনের পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে আমরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা পরিচালনা করে আসছি। উৎপাদিত পণ্যেগুলোর গুণগত মান ও ভোক্তাদের পছন্দ যাচাইয়ের লক্ষ্যে গবেষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, পুষ্টি বিজ্ঞানী ও মৎস্য পণ্য প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে পরীক্ষা করান। তাদের মতামত পরিসংখ্যানগতভাবে বিশ্লেষণ করে দেখেন, প্রায় সবগুলো পণ্যের মান অত্যন্ত ভালো এবং ভোক্তাদের পছন্দ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।’

এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ফাতেমা হক শিখা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ধরনের খাদ্যপণ্য বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা গেলে দেশীয় পুষ্টিকর ছোট মাছগুলো সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। যা বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।’

/এফআর/

সম্পর্কিত

বুয়েটে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

বুয়েটে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

একটি সেতুর জন্য পাঁচ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

একটি সেতুর জন্য পাঁচ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সেজে কোটিপতি, নিয়েছেন সরকারি ফ্ল্যাট

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সেজে কোটিপতি, নিয়েছেন সরকারি ফ্ল্যাট

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজন গ্রেফতার

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজন গ্রেফতার

রাঙামাটিতে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেলো ইউপি সদস্যের

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৪১

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১ জন নিহত এবং ৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার নতুন বাজার এলাকায় সংঘর্ষে নিহত সজিবুর রহমান ৫ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য এবং আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগের জেলা কমিটির সদস্য।

কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে জানিয়েছেন,  রাতে আহত আবস্থায় ৪ জনকে হাসপাতালে আনা হলে কাপ্তাই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার সজিবুর রহমান মারা যান। বাকী ৩ জন চিকিৎসাধীন।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের বাইরে অনেক মানুষ ভীড় করছে। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসককে পুরো বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত সজিব আওয়ামী লীগের মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফের সমর্থক। লতিফ এবারও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তার বিপক্ষে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন পাটোয়ারি বাদল।

মঙ্গলবার রাতে নতুন বাজার এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে ভারী কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করলে গুরুতর আহত হন সজিবুর রহমান ওরফে সজিব মেম্বার। স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর সেখানেই চিকিৎকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ এই ঘটনার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করে বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই এমন ঘটনার আভাস দেওয়া হয়েছিল প্রশাসনকে। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে সহিংসতা ঘটেছে।

এই ঘটনাকে পূর্ব পরিকিল্পিত উল্লেখ করে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান তিনি।

এদিকে পুলিশের কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রওশন আরা রব জানিয়েছেন, ‘বাজারে চায়ের দোকানে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সজিবুর রহমান নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর এই উপজেলার সদর ইউনিয়নের প্রতিবেশী চিৎমরম ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নেথোয়াই মারমাকে নিজ বাসায় গুলি করে হত্যা করে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। ওই ঘটনার পর ইউনিয়নের নির্বাচন পিছিয়ে ২৮ নভেম্বর নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। কাপ্তাইয়ের বাকি তিন ইউনিয়নের নির্বাচন আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

/এলকে/

সম্পর্কিত

কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা মামলায় ১৬ জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা মামলায় ১৬ জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

৫ ইউনিয়নের কোনও পদেই প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

৫ ইউনিয়নের কোনও পদেই প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

সেতুর অপেক্ষায় তিন যুগ লক্ষাধিক মানুষ

সেতুর অপেক্ষায় তিন যুগ লক্ষাধিক মানুষ

সাতক্ষীরায় ১০ সাংবাদিক পেলেন মিডিয়া ফেলোশিপ

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩৯

সাতক্ষীরায় অ্যাকশন ফর ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় ১০ সাংবাদিককে 'মিডিয়া ফেলোশিপ- ২০২১ দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে দৈনিক পত্রদূত ও এনজিও সংস্থা হেডের আয়োজনে অ্যাডভোকেসি সভা ও সনদ বিতরণ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে দৈনিক পত্রদূতের উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ মো. আনিসুর রহিমের সভাপতিত্বে সভা ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

প্রধান অতিথি বলেন, আমাদের সমাজে নারী ও শিশু শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য মজুরি পায় না। সে জন্য মালিকপক্ষকে শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও কর্মশোভন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

দৈনিক পত্রদূতের উপদেষ্টা সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক সুভাষ চৌধুরী, শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, দৈনিক পত্রদূতের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতি, হেড সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন ও পত্রদূতের বার্তা সম্পাদক এস এম শহিদুল ইসলাম।

উপযুক্ত কাজের পরিবেশ, নারী ও শিশু শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্যসহ নানা বিষয় উঠে আসে রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে। এর আগে সাতক্ষীরায় কর্মরত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা দুই দিন প্রশিক্ষণ নিয়ে মাসব্যাপী রিপোর্টিংয়ে অংশ নেন।  

ফেলোশিপ পাওয়া ১০ সাংবাদিক হলেন দৈনিক যুগান্তর ও এনটিভির জেলা প্রতিনিধি সুভাস চৌধুরী, জনকণ্ঠের মিজানুর রহমান, সময়ের খবরের রুহুল কুদ্দুস, পত্রদূতের বার্তা সম্পাদক এস এম শহিদুল ইসলাম, মোহনা টিভির মো. আব্দুল জলিল, খোলা কাগজের ইব্রাহিম খলিল, চ্যানেল নাইনের কৃষ্ণ মোহন ব্যানার্জী, বাংলা ট্রিবিউনের আসাদুজ্জামান সরদার, পত্রদূতের নাজমুল শাহাদাৎ জাকির ও ইব্রাহিম খলিল।

তাদের ফেলোশিপের জন্য মনোনীত করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে থেকে তিনজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এতে প্রথম হন বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সরদার, দ্বিতীয় হন দৈনিক বাংলার এসএম শহীদুল ইসলাম এবং তৃতীয়  মোহনা টিভির মো. আব্দুল জলিল।

/এএম/এলকে/

সম্পর্কিত

মাংস খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে নববধূকে তালাক, পরদিন ফের বিয়ে

মাংস খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে নববধূকে তালাক, পরদিন ফের বিয়ে

পুকুরে বাবা-মা-মেয়ের লাশ: পুলিশ হেফাজতে ৪ জন

পুকুরে বাবা-মা-মেয়ের লাশ: পুলিশ হেফাজতে ৪ জন

দুবলার চরে যাচ্ছেন জেলেরা 

দুবলার চরে যাচ্ছেন জেলেরা 

বাড়ির পাশে ফল ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

বাড়ির পাশে ফল ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

বুয়েটে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০২:০৯

চলতি সেশনে বুয়েটে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ময়মনসিংহ মহানগরীর বাঘমারা এলাকার চিত্ত করের কন্যা রিয়া কর (১৮) এর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হতে না পেরে রাগ ও ক্ষোভে রিয়া ঘরের ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

রিয়া করের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর ফারুক হোসেন জানান, মহানগরীর বাঘামারা এলাকার ব্যবসায়ী চিত্ত করের কন্যা রিয়া কর এবার বুয়েটে ভর্তির জন্য প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেয়। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার সময় ফলাফল বের হলে তাতে রিয়া কৃতকার্য হতে পারেনি। ফলাফল দেখে কাউকে কিছু না বলে নিজ কক্ষে চলে যায়। সন্ধ্যার দিকে দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের লোকজন ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পায় না। একপর্যায়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে দেখতে পায় ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে রিয়া।

পরিবারের লোকজন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

রিয়ার স্বজন ঐশী জানান, রিয়া কর ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে বুয়েটে ভর্তির জন্য কোচিংয়ে লেখাপড়া করে আসছিল। ভর্তির জন্য প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেয়। তিনি আরও জানান, পরিবারের বাসায় অনেক লোক একসাথে থাকার কারণে পাশেই একটি রুম ভাড়া করে একা থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিল রিয়া। তার মৃত্যুতে তার বাবা চিত্ত কর ও মা ভেঙ্গে পড়েছেন।

রিয়ার পিতা চিত্ত করের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার মদন থানায়। বাঘমারায় তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করে আসছেন।

/এলকে/

সম্পর্কিত

একটি সেতুর জন্য পাঁচ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

একটি সেতুর জন্য পাঁচ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সেজে কোটিপতি, নিয়েছেন সরকারি ফ্ল্যাট

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সেজে কোটিপতি, নিয়েছেন সরকারি ফ্ল্যাট

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজন গ্রেফতার

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজন গ্রেফতার

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, আটক ৩

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, আটক ৩

কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা মামলায় ১৬ জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:১৩

কুমিল্লা শহরের কাপড়িয়াপট্টি চাঁন্দমনি রক্ষাকালী মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলায় গ্রেফতার ১৭ আসামির ১৬ জনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে দুই দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান উর্মি এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৭ আসামির একজন শিশু হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালত জামিন দেন। বাকি ১৬ আসামিকে দুই দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেওয়া হয়। কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার বাদী আলিম খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৩ অক্টোবর নগরীর নানুয়াদিঘির পাড় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় নগরের কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর জেরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, নোয়াখালীর চৌমুহনী, রংপুরের পীরগঞ্জসহ কয়েক স্থানে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সিসিটিভির ফুটেজের মাধ্যমে পূজামণ্ডপে কোরআন রাখায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবালকে শনাক্ত করে পুলিশ।

গত ২১ অক্টোবর ইকবালকে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। ২২ অক্টোবর তাকে কুমিল্লায় এনে ২৩ অক্টোবর আদালতে হাজির করা হলে ইকবাল, মাজারের দুই খাদেম ও ৯৯৯-এ কল করা ইকরামের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

/এএম/এলকে/

সম্পর্কিত

রাঙামাটিতে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেলো ইউপি সদস্যের

রাঙামাটিতে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেলো ইউপি সদস্যের

৫ ইউনিয়নের কোনও পদেই প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

৫ ইউনিয়নের কোনও পদেই প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

সেতুর অপেক্ষায় তিন যুগ লক্ষাধিক মানুষ

সেতুর অপেক্ষায় তিন যুগ লক্ষাধিক মানুষ

৫ ইউনিয়নের কোনও পদেই প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪৫

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে কুমিল্লার তিন উপজেলার ২২ ইউনিয়নে আগামী ১১ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে সাতটিতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হতে যাচ্ছেন নৌকার প্রার্থীরা।

এমনকি জেলার লাকসাম উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যের সবকয়টি পদেও একক প্রার্থীর কারণে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছেন। এ প্রার্থীদের সবাই সরকার দলীয়। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের নির্বাচনি আসন হলো লাকসাম (কুমিল্লা-৯)। ইউনিয়নগুলো হলো- গোবিন্দপুর, উত্তরদা, লাকসাম পূর্ব, কান্দিরপাড় ও আজগরা।

জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, ২২ ইউনিয়নের মধ্যে লাকসাম ছাড়া মেঘনা ও তিতাস উপজেলার ১৫ ইউপিতে চেয়ারম্যান এবং ১৭টি সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জেলার তিতাস উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে কড়িকান্দি ইউনিয়নে সাইফুল আলম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ের পথে। তিনি উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক। তবে এই উপজেলার বাকি আট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী রয়েছেন।

অপরদিকে, মেঘনা উপজেলায় আট ইউনিয়নের মধ্যে চন্দনপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আসাদুল্লাহ মাস্টার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ের পথে। তিনি ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি। বাকি সাত ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে সাত জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। পাশাপাশি এই উপজেলার তিন ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে কুমিল্লা জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম জানান, তিন উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯৪ বৈধ প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন ১৪ জন। সাধারণ ওয়ার্ডে সদস্য পদে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৪৭৪। আর সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে বৈধ প্রার্থী ১৪৫ জন। এর মধ্যে সাধারণ সদস্য পদে ৬১ এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৯ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হচ্ছেন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

রাঙামাটিতে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেলো ইউপি সদস্যের

রাঙামাটিতে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেলো ইউপি সদস্যের

কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা মামলায় ১৬ জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা মামলায় ১৬ জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

সেতুর অপেক্ষায় তিন যুগ লক্ষাধিক মানুষ

সেতুর অপেক্ষায় তিন যুগ লক্ষাধিক মানুষ

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বুয়েটে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

বুয়েটে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

একটি সেতুর জন্য পাঁচ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

একটি সেতুর জন্য পাঁচ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সেজে কোটিপতি, নিয়েছেন সরকারি ফ্ল্যাট

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সেজে কোটিপতি, নিয়েছেন সরকারি ফ্ল্যাট

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজন গ্রেফতার

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজন গ্রেফতার

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, আটক ৩

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, আটক ৩

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরও ৪ মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরও ৪ মৃত্যু

১১০ দিনেই পেকেছে বিনা-১৭, কম খরচে বেশি ফলন

১১০ দিনেই পেকেছে বিনা-১৭, কম খরচে বেশি ফলন

১০ বছর যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাতা তুলেছেন রাজাকার

১০ বছর যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাতা তুলেছেন রাজাকার

এক জেলায় ১০ মাসে সড়কে ঝরলো ১৩৬ প্রাণ

এক জেলায় ১০ মাসে সড়কে ঝরলো ১৩৬ প্রাণ

নৌকার জনসভায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার অভিযোগ

নৌকার জনসভায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার অভিযোগ

সর্বশেষ

ভারতে আতশবাজির দোকানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৫

ভারতে আতশবাজির দোকানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৫

পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি, কঠোর প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রের

পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি, কঠোর প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রের

সিরিয়া ও ইরাকে দু’বছর সামরিক মিশন বাড়ালো তুরস্ক

সিরিয়া ও ইরাকে দু’বছর সামরিক মিশন বাড়ালো তুরস্ক

রাঙামাটিতে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেলো ইউপি সদস্যের

রাঙামাটিতে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেলো ইউপি সদস্যের

সাতক্ষীরায় ১০ সাংবাদিক পেলেন মিডিয়া ফেলোশিপ

সাতক্ষীরায় ১০ সাংবাদিক পেলেন মিডিয়া ফেলোশিপ

© 2021 Bangla Tribune