X
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

সৌদি আরবে ইয়াবা পাচারের সিন্ডিকেট, ফাঁদে পড়ছেন প্রবাসীরা

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪০

মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা এখন বাংলাদেশ থেকে পাচার হচ্ছে সৌদি আরবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে চোরাকারবারিরা। টাকার লোভ দেখিয়ে কিংবা আত্মীয়ের কাছে পার্সেল দেওয়ার নামে প্রবাসীদের কাছে দেওয়া হচ্ছে ইয়াবার চালান। মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়ে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন প্রবাসীরা। সৌদি আরবে বাঙালিদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে সৌদি পুলিশ। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বিমানবন্দরে ইয়াবাসহ ধরা খেয়ে মাদক মামলায় জেলে যাচ্ছেন প্রবাসীকর্মীরা। 

সবশেষ ৯ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদিগামী একজন যাত্রীর কাছ থেকে ১ হাজার ৮৭৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)। সোহেল রানা নামের ওই যাত্রী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেন, তার গ্রামের এক নারী নিজের প্রবাসী ছেলেকে দেওয়ার জন্য এই ব্যাগ দিয়েছিলেন তাকে।

আটক হওয়া প্রবাসীদের প্রায় সবারই অভিযোগ- তাদের অজান্তে পরিচিতজনরা খাবার, জামা, সবজি, আচারের নামে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়েছেন ব্যাগে।

ইয়াবা

প্রবাসী কর্মীদের তথ্যানুযায়ী- জেদ্দা, মক্কা, মদিনা, রিয়াদ, আল কাসিম, দাম্মামসহ বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশিরা ইয়াবা ব্যবসা ও সেবন করছেন। সৌদিসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের মধ্যেও এই মাদকের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। 

ইয়াবাসহ সৌদিতে অনেক বাংলাদেশির ধরা পড়ার কথা স্বীকার করেছেন প্রবাসীদের অনেকে। তাদের মন্তব্য, এ কারণে বাংলাদেশিদের দেখলেই তল্লাশি করে সৌদি পুলিশ। তাই একধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হয় প্রবাসীকর্মীদের।

সৌদি প্রবাসী কাওসার আহমেদ বলেন, ‘সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের মধ্যে মাদকসেবনের প্রবণতা বেড়েছে। নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। মাদকের কারণে বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খবর পেলেই তাদের ধরে নিয়ে যায়। বাঙালি বাজারগুলোতে এখন প্রায়ই অভিযান চালায় পুলিশ। এতে একদিকে যেমন দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ শ্রমিকরা হুমকির মধ্যে আছে।’

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে ২০০-৩০০ টাকায় ইয়াবা নিয়ে সৌদি আরবে প্রতি পিস এক-দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সহজে বেশি টাকা আয়ের নেশায় অনেকে স্বেচ্ছায় জড়িয়ে পড়ছেন মাদক পাচারের সিন্ডিকেটে। এর সদস্যরা ছুটিতে আসা প্রবাসীদের লক্ষ্য বানায়। পরিচিত প্রবাসীদের কাছে আচার, খাবার, ওষুধসহ নানান কথা বলে ইয়াবার চালান ভরে দেয় তারা। যাচাই ছাড়া এসব পার্সেল নিয়ে বিপদে পড়ছেন প্রবাসীরা।

এদিকে মাদক পাচারকারীদের সহযোগী হিসেবে বিমানবন্দর কর্মীদের যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে সৌদির আদালতে প্রবাসী মো. আবুল বাশারের ২০ বছরের কারাদণ্ডের ঘটনার কথা বলা যায়। তাকে আচারের প্যাকেটের কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইয়াবাভর্তি একটি প্যাকটে নিতে বাধ্য করেছিল বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা কাজের সুপারভাইজার নূর মোহাম্মদ। 

ইয়াবা

যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানবন্দরের কোনও কর্মী অপরাধে জড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ-উল আহসানের দাবি, ‘বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা দক্ষতার সঙ্গে মাদক শনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছেন। ফলে এগুলো পাচারের আগেই ধরা পড়ছে।’

বিমানবন্দর কর্মীদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘অপরাধ করে কেউ ছাড় পাবে না। বিমানবন্দরের সর্বত্র সিসি ক্যামেরা আছে, ফলে অপরাধ করে লুকিয়ে থাকার সুযোগ নেই। আমরা আশা করবো, বিমানবন্দরের কোনো কর্মী অপরাধে জড়াবে না। যাত্রীদেরও অন্যের মালামাল নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রবাসীদের একই পরামর্শ দিয়েছেন বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল হক। তার শঙ্কা, ‘অন্যের দেওয়া জিনিসপত্র না দেখে, যাচাই না করে বহন করলে বিপদে পড়তে হতে পারে।’

আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উল্লেখ করেছেন, বিমানবন্দরে বিভিন্ন কৌশলে মাদক পাচারের অপচেষ্টা চালানো হয়। তবে তার কথায়, ‘বিমানবন্দরের বিভিন্ন সংস্থা মাদক চোরাচালান রোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। সৌদি আরবে ইয়াবা পাচারের সময় বেশকিছু যাত্রীকে আমরা ধরতে সক্ষম হয়েছি। অতিরিক্ত লোভের আশায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তারা ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করেছিল। তবে বিমানবন্দরের স্ক্যানিংয়ে অবশ্যই তা ধরা পড়বে।’

/জেএইচ/

সম্পর্কিত

সাবেক কর্মচারীর বিরুদ্ধে দোকান মালিককে কোপানোর অভিযোগ

সাবেক কর্মচারীর বিরুদ্ধে দোকান মালিককে কোপানোর অভিযোগ

সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিহতের হার বেড়েছে

সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিহতের হার বেড়েছে

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ

ফের ৪ বিভাগে মৃত্যু নেই

ফের ৪ বিভাগে মৃত্যু নেই

টিকায় ভালো পরিকল্পনার ঘাটতি আছে: অধ্যাপক ডা. বে-নজির

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০০

টিকার নিবন্ধন করে এসএমএস-এর অপেক্ষায় আছেন কয়েক লাখ বয়োবৃদ্ধ। তাদের টিকা নিশ্চিত না করেই টিকাগ্রহীতার বয়স কমিয়ে আনা হয়েছে। দেওয়া শুরু হলো স্কুল শিক্ষার্থীদের। এটাকে ভালো পরিকল্পনার ঘাটতি বলছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক ও জাতীয় টিকা পরামর্শক কমিটি (ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ) নাইট্যাগ-এর সদস্য অধ্যাপক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ। ১৪ অক্টোবর বাংলা ট্রিবিউন-এর সিনিয়র সাংবাদিক জাকিয়া আহমেদকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, টিকার পরিকল্পনা হয়েছে খাপছাড়াভাবে।

বাংলা ট্রিবিউন: ঠিক কী কারণে খাপছাড়া?

ডা. বে-নজির আহমেদ: খাপছাড়া বলছি, কারণ টিকার পরিকল্পনার শুরুতেই কারা কারা অগ্রাধিকার পাবেন সেটা বলা হয়েছিল। সে তালিকায় কোন জনগোষ্ঠী কতটা টিকা পেয়েছে, তা নিয়ে আমাদের ধারণা নেই। আমরা কোনও তালিকাও করিনি।

শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে বলা হয়েছে করোনা আক্রান্ত হলে পঞ্চাশোর্ধ্বদের ঝুঁকি বেশি। যে কারণে টিকার পরিকল্পনা যখন হয়, তখন এ বয়সীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে জনগোষ্ঠীর কোনও তালিকা হয়নি। বাড়িতে, থানায় জরিপ করে তালিকা করা গেলে স্পষ্ট ধারণা থাকতো—দেশে ৫৫ বছরের বেশি কত মানুষ আছে। এই কাজে দরকার হতো ১০-১৫ দিন বা সর্বোচ্চ একমাস।

বাংলা ট্রিবিউন: তালিকা করলে কী লাভ হতো?

ডা. বে-নজির আহমেদ: তালিকা হওয়ার পর কত মানুষ টিকা পেলেন আর কারা পেলেন না-সেটা জানা গেলে প্রতিটি এলাকার ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা যেত। কিন্তু সেটা না হওয়ায় কোনও এলাকার ৯০ শতাংশ, আবার কোনও এলাকার ৪০ বা অন্য এলাকায় ৭০ শতাংশ টিকা পেলো। এতে ঝুঁকি থেকেই যাবে।

তালিকা না জেনে টিকার বয়সসীমা পর্যায়ক্রমে নামিয়ে আনা হলো ১৮ বছরে। এখন যদি আবার সংক্রমণের ঢেউ আসে তবে যারা নিবন্ধন করে বসে আছে মাসের পর মাস, সেই বয়োজ্যেষ্ঠদের কী হবে? ঝুঁকিটা থেকেই গেল। অথচ সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিকল্পনা হলে এমনটা থাকতো না।

বাংলা ট্রিবিউন: তবে কি নাইট্যাগ থেকে পরামর্শ নেওয়া হয় না?

ডা. বে-নজির আহমেদ: খাপছাড়াভাবে হয়। ইচ্ছা হলে নিলাম, ইচ্ছা হলে নিলাম না। টিকা নিলে করোনা হবে না-এরও কোনও গ্যারান্টি নেই। তবে টিকা নেওয়া থাকলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার কমে। আইসিইউতে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। অথচ এই জনগোষ্ঠীকে টিকা না দিয়ে যাদের সংক্রমণ হলে মৃত্যুঝুঁকি কম, যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি—তাদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। এটা শুধু ভালো পরিকল্পনার অভাবই নয়, দূরদর্শীতারও সংকট। এ সমস্যার সমাধানে দ্রুত আরও টিকা আনতে হবে, যেন ২০২২ সালের জানুয়ারির মধ্যে অনেকটা সুরক্ষিত অবস্থায় যেতে পারি।

প্রসঙ্গত, দেশে ৫৫ কিংবা তদূর্ধ্ব বয়সী ব্যক্তিদের জন্যই সুযোগ রেখেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচির নিবন্ধন শুরু হয় চলতি বছর ২৬ জানুয়ারি। পরে দ্বিতীয় দফায় বয়সসীমা কমিয়ে ৪০ বা তদূর্ধ্ব করা হয়, তৃতীয় দফায় কমিয়ে ৩৫ এবং চতুর্থ দফায় ৩০ বছর করা হয় গত ১৯ জুলাই। তবে মহামারি মোকাবিলায় সম্মুখসারিতে যারা কাজ করছেন, তাদের জন্য বয়সসীমা প্রযোজ্য নয়।

১৪ অক্টোবর ১২-১৭ বছর বয়সীদের পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দেওয়া হয়েছে। তাদের আগামী ১০-১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। পরীক্ষামূলক এই টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে ৩০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হবে। সারাদেশে এক কোটির বেশি ছেলেমেয়েকে  পর্যায়ক্রমে আমরা টিকা দেবো।

/এফএ/আপ-এমএস/

সম্পর্কিত

দুই ডোজ টিকার আওতায় ১ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ

দুই ডোজ টিকার আওতায় ১ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ

১৫ দিনে ৩ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

১৫ দিনে ৩ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

৬২ জেলায় শনাক্ত এক অঙ্কের ঘরে

৬২ জেলায় শনাক্ত এক অঙ্কের ঘরে

ফের ৪ বিভাগে মৃত্যু নেই

ফের ৪ বিভাগে মৃত্যু নেই

বদনজর থেকে শিশুকে বাঁচাতে টিপ দেওয়া যাবে?

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০

বদনজর থেকে বাঁচাতে আমাদের সমাজে শিশুর কপালে কালো টিপ দেওয়ার রীতি আছে, যা ঠিক নয়। ইসলামে এর কোনও ভিত্তি নেই। কালো টিপ বদনজর থেকে রক্ষা করতে পারে না। বরং শিশুর সুরক্ষার জন্য মহানবী (সা.) দোয়া শিখিয়েছেন। হাদিসেও প্রসঙ্গটি এসেছে। রাসুল (সা.) তাঁর প্রিয় দুই দৌহিত্র হাসান-হুসাইনের সুরক্ষার জন্য এই দোয়া পাঠ করতেন। বাংলা উচ্চারণ, ‘উয়িজুকুমা বি-কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিউ ওআহাম্মাতিউ ওয়ামিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ’ অর্থাৎ: সকল শয়তান, কীটপতঙ্গ ও বদনজর থেকে তোমাদেরকে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালিমাসমূহের আশ্রয়ে দিচ্ছি। (সহিহ বুখারি)

এ দোয়াটি এক সন্তানের আশ্রয়ের জন্য পাঠ করলে ‘উয়িজুকা’, দু’জনের জন্য ‘উয়িজুকুমা’ আর তিন বা তিনের বেশি হলে- ‘উয়িজুকুম’বলতে হবে। বদনজর থেকে সুরক্ষার জন্য তিন কুল (সুরা কাফিরুন, সুরা ফালাক ও সুরা নাস), আয়াতুল কুরসি এবং হাদিসে আরও বিভিন্ন দোয়া বর্ণিত আছে।

 

তথ্যসূত্র: আল কাউসার ডিসেম্বর ২০১২ সংখ্যা

/এফএ/

সম্পর্কিত

পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

শান্তি-সম্প্রীতির জন্য প্রার্থনা মসজিদে

শান্তি-সম্প্রীতির জন্য প্রার্থনা মসজিদে

কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে দুর্গাপূজা উদযাপন নিয়ে যা বললো ডিএসসিসি

কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে দুর্গাপূজা উদযাপন নিয়ে যা বললো ডিএসসিসি

২০ অক্টোবর ঈদে মিলাদুন্নবী

২০ অক্টোবর ঈদে মিলাদুন্নবী

ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, আহত ৩০

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৯:১৮

ফেনী শহরের ট্রাংক রোডে কেন্দ্রীয় কালীবাড়ির সামনে পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ প্রায় ২৫-৩০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৬ অক্টোবর) বিকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে এ সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়ে। এ ঘটনায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সূত্র জানায়, শনিবার বিকালে শহরের ট্রাংক রোডে পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিবাদ মিছিল হওয়ার কথা ছিল। সে সময় একই স্থানের বড় মসজিদের সামনে কয়েকজন যুবক অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। খবর পেয়ে ফেনী থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিনের  নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

এ সময় ট্রাংক রোডের ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দোকানপাটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। থেমে থেমে পুলিশের ওপর ইটপাটকেলও নিক্ষেপ হয়। এ সময় পুলিশও ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়তে থাকে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত হয়। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর আওয়ামী লীগ-যুবলীগের একটি মিছিল ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় মসজিদের সামনের যুবকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময়ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। 

এতে ফেনী মডেল থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য, বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের স্থানীয় ক্যামেরা পারসন রিয়াদ মোল্লা, যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন ডালিমসহ ২৫-৩০ জন আহত হন।

এদিকে শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল হাজারী গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে অভিযোগ করেছেন, সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরের বড় বাজারে ২০টি দোকানে লুটপাট ও অর্ধশতাধিক দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এতে কারা জড়িত সে বিষয়ে অবশ্য তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। 

ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুজ্জামান বলেন, দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে সঠিক সংখ্যাটা এখনই বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে টিয়ার শেল, ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে বলেও জানান তিনি।

/এমএস/টিটি/

সম্পর্কিত

রফিকুল ইসলাম মাদানীর ফের ৪ দিনের রিমান্ড

রফিকুল ইসলাম মাদানীর ফের ৪ দিনের রিমান্ড

রাজধানীর নিকুঞ্জ থেকে চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৪:২৪

রাজধানীর খিলক্ষেত নিকুঞ্জ এলাকার একটি বাসা থেকে এক চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ওই ব্যক্তির নাম জয়দেব চন্দ্র দাস। শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সি সাব্বির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিকুঞ্জ-২ এর ১৫ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাট বাড়ির কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ আসছিল। পরে অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই কক্ষের দরজা ভেঙে খাট থেকে ওই চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওসি সাব্বির বলেন, নিহত চিকিৎসক সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করেছেন। লাশটি যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে চিকিৎসকরা মেস করে থাকতেন।

/এমএস/

সম্পর্কিত

‘হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা লাগানোর ষড়যন্ত্র করছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি’ 

‘হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা লাগানোর ষড়যন্ত্র করছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি’ 

‘ঢাকামুখী অভিবাসন বন্ধ না হলে কোনও পরিকল্পনাই কার্যকর হবে না’ 

‘ঢাকামুখী অভিবাসন বন্ধ না হলে কোনও পরিকল্পনাই কার্যকর হবে না’ 

‘ভবনে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং থাকলে ১০ শতাংশ হোল্ডিং কর রেয়াত’

‘ভবনে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং থাকলে ১০ শতাংশ হোল্ডিং কর রেয়াত’

হানিফ ফ্লাইওভারে বাস উল্টে দুই কাবাডি খেলোয়াড় আহত

হানিফ ফ্লাইওভারে বাস উল্টে দুই কাবাডি খেলোয়াড় আহত

দিনে মনোনয়নপত্র জমা, রাতে গুলিতে আ.লীগ প্রার্থীর মৃত্যু

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৪:০০

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নেথোয়াই মারমাকে (৫৬) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে ওই প্রার্থীর নিজ বাড়িতে হত্যার এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন তিনি।

কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আমরা জেনেছি আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী নেথোয়াই মারমাকে গুলি করে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত, পুলিশ সেখানে যাচ্ছে। সেখানে থেকে ফিরে এলে বিস্তারিত জানাতে পারব।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুচাইন চৌধুরী জানিয়েছেন, নেথোয়াই মারমা এতদিন উপজেলা রেস্ট হাউজে ছিলেন। আজই (শনিবার) ইউপি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে চিৎমরমে আগাপাড়া এলাকায় গিয়েছিলেন নেতাকর্মী ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে। রাতে তার নিজ বাড়িতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চিৎমরম ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান থোয়াই চিং মারমা জানান, ঘটনা শুনে তার বাড়িতে ফোন দিয়ে খোঁজ নেই। তখন তার ছেলে ফোন ধরে কান্নাকাটি করে জানালো ‑ একদল সন্ত্রাসী তার বাবাকে বাসায় ঢুকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে গেছে।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর এই হত্যাকাণ্ডের জন্য জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করে বলেছেন, পাহাড়ে নির্বাচন আসলেই হত্যাকাণ্ডে মেতে ওঠে এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পার্বত্য জেলার সকল ইউনিয়নের প্রার্থীদের নিরাপদে ও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও অনুরোধ জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বারবার চেষ্টা করেও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। নিহত নেথোয়াই মারমা

/এমএস/

সম্পর্কিত

রাজধানীতে ঠেলাগাড়ির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

রাজধানীতে ঠেলাগাড়ির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

তেজগাঁওয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু

তেজগাঁওয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু

আঙ্গুলের অপারেশন করাতে গিয়ে জুডো খেলোয়াড়ের মৃত্যু

আঙ্গুলের অপারেশন করাতে গিয়ে জুডো খেলোয়াড়ের মৃত্যু

ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন আর নেই

ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন আর নেই

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সাবেক কর্মচারীর বিরুদ্ধে দোকান মালিককে কোপানোর অভিযোগ

সাবেক কর্মচারীর বিরুদ্ধে দোকান মালিককে কোপানোর অভিযোগ

সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিহতের হার বেড়েছে

সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিহতের হার বেড়েছে

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ

ফের ৪ বিভাগে মৃত্যু নেই

ফের ৪ বিভাগে মৃত্যু নেই

জানুয়ারি থেকে দুই সেমিস্টারে ভর্তি নিতে ইউজিসির নতুন কৌশল

জানুয়ারি থেকে দুই সেমিস্টারে ভর্তি নিতে ইউজিসির নতুন কৌশল

যাত্রাবাড়ীতে ৩ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

যাত্রাবাড়ীতে ৩ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

আইস ধরা পড়লে দাম নেয় না মিয়ানমারের সরবরাহকারীরা

আইস ধরা পড়লে দাম নেয় না মিয়ানমারের সরবরাহকারীরা

ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সংকটে চালু হয় না আইসিইউ

অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সংকটে চালু হয় না আইসিইউ

সর্বশেষ

ছবি তোলার কথা বলে প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে কাশবনে ধর্ষণ 

ছবি তোলার কথা বলে প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে কাশবনে ধর্ষণ 

টিকায় ভালো পরিকল্পনার ঘাটতি আছে: অধ্যাপক ডা. বে-নজির

টিকায় ভালো পরিকল্পনার ঘাটতি আছে: অধ্যাপক ডা. বে-নজির

বাঙালিদের শুভেচ্ছা নিয়ে জাপানে রওয়ানা দেন বঙ্গবন্ধু

বাঙালিদের শুভেচ্ছা নিয়ে জাপানে রওয়ানা দেন বঙ্গবন্ধু

বদনজর থেকে শিশুকে বাঁচাতে টিপ দেওয়া যাবে?

বদনজর থেকে শিশুকে বাঁচাতে টিপ দেওয়া যাবে?

ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, আহত ৩০

ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, আহত ৩০

© 2021 Bangla Tribune