X
সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশকে গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১৭:০৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশকে গড়তে চাই। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। সোনার বাংলাদেশ গড়তে চাই। যে দেশে কোনও অন্যায় থাকবে না, অবিচার থাকবে না, মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে; সেটাই আমি চাই।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘শেখ রাসেল দিবস-২০২১’-এর উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শেখ রাসেল দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’- এ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো জাতীয় দিবস হিসেবে দেশব্যাপী যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে ‘শেখ রাসেল দিবস ২০২১’।

দিবসটি উদ্বোধন করে শেখ হাসিনা বলেন, এই বাংলাদেশ সামনে কেমন হবে তার জন্য পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা করে দিয়েছি। বাংলাদেশের আগামী দিনের চলার পথে যেন আর কোনও হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্র না হয়। বাংলাদেশের মানুষ যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। ঘাতকের বুলেটে আর কোনও শিশুকে যেন এভাবে জীবন দিতে না হয়। আমি জাতির কাছে এই আহ্বানই জানাবো যে আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। কাজেই তাদের নিরাপত্তা দেওয়া, তাদের ভালোবাসা দেওয়া, তাদের সুন্দরভাবে গড়ে তোলা, তাদের জীবনটা সার্থক, অর্থবহ করা; এটাই যেন সবার আকাঙ্ক্ষা হয়। এটাই যেন কর্তব্য পালনকালে সবার আদর্শ হয়, সেটাই আমি চাই।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সময় তার ছোট ছেলে শেখ রাসেলকেও হত্যা করে। ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুলের (বর্তমানে ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ) চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন শেখ রাসেল। নিজের ছোট ভাইকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন শিশুকে হত্যা মানেই লাখো-কোটি শিশুর জীবনে একটা আশঙ্কা এসে যায়। বাংলাদেশে আমরা দেখেছি যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী  গণহত্যা চালিয়েছিল। তারাও কিন্তু শিশুদের রেহাই দেয়নি। ছোট্ট নবজাতক শিশুকেও তারা হত্যা করেছে। এমনকি মায়ের পেটের শিশুকেও হত্যা করেছে। আবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা দেখেছি ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত একই কায়দায়, ঠিক যেন পাকিস্তান হানাদার বাহিনী যেভাবে গণহত্যা চালিয়েছিল সেভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পরেও আরও অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সেনাবাহিনীতেই ১৯ বার ক্যু হয়েছে। একটা বাহিনীতে যদি ১৯ বার ক্যু হয়, তাতে ডিসিপ্লিন আছে বলে কেউ দাবি করতে পারে না। আর এই একেকটা ক্যু ধরে ধরে হাজার হাজার সৈনিক অফিসার হত্যা করা হয়েছে। অনেকের পরিবার লাশও পায়নি। সেই সাথে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও অকথ্য নির্যাতন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর। তাদের দিনের পর দিন নির্যাতন করা হয়েছে। আবার ঠিক সেই ঘটনা আমরা দেখেছি।

পঁচাত্তরের পর বারবার এ ধরনের অত্যাচার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর আবারও সেই একই ঘটনা। এরপর অগ্নিসন্ত্রাস থেকে শুরু করে কতভাবে মানুষকে হত্যা করেছে, বাসে আগুন দিয়েছে, শিশু পুড়ে মারা গেছে। এই ঘটনাও আমরা বাংলাদেশে দেখেছি। কিন্তু আমরা তো এরকম চাই না, আমরা চাই বাংলাদেশ একটা শান্তিপূর্ণ দেশ হবে। প্রত্যেকটা শিশুর জীবন অর্থবহ হবে, সুন্দর হবে। এভাবে অকালে ঝরে যাবে সেটা আমরা চাই না। একটি ফুল পূর্ণাঙ্গভাবে ফোটার আগে অকালে ঝরে যাক এটা কারও আকাঙ্ক্ষা নয়। এটা কেউ চায় না।  

‘পঁচাত্তরের পর শুধু হত্যা না, একই সাথে ইতিহাসকেও মুছে ফেলা হয়েছিল’ বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের অনেক প্রজন্ম জানতেই পারেনি যে সেখানে কতজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, কীভাবে হত্যা করা হয়েছে বা একাত্তর সালে কীভাবে গণহত্যা হয়েছিল আমাদের দেশে।

শিশুরা যেন নিরাপদ থাকে, এ জন্য বাংলাদেশে প্রথম ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশু নিরাপত্তার জন্য আইন করে দিয়ে যান। কী দুর্ভাগ্য আমাদের, ঘাতকের হাতে তারই সন্তানদের হত্যার শিকার হতে হয়। বাংলাদেশে যেন আর এই ধরনের কোনও ঘটনা ভবিষ্যতে না ঘটে সেটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা, সেটাই আমরা চাই।

শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যদি জিজ্ঞেস করতো তুমি কী হবে? সে বলতো আমি আর্মি হবো। সে একটা আর্মি অফিসার হবে, এটাই তার জীবনের স্বপ্ন ছিল।’

/পিএইচসি/ইউএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অপসারণ দাবি ৪০ নারী অধিকারকর্মীর

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অপসারণ দাবি ৪০ নারী অধিকারকর্মীর

করোনাকালে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে রেকর্ড

করোনাকালে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে রেকর্ড

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলতেন: পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলতেন: পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত

ছাত্রদের আন্দোলনে ৩০-৩৫ বছর বয়সী মায়েরাও ঢুকে গেছেন: তথ্যমন্ত্রী

ছাত্রদের আন্দোলনে ৩০-৩৫ বছর বয়সী মায়েরাও ঢুকে গেছেন: তথ্যমন্ত্রী

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অপসারণ দাবি ৪০ নারী অধিকারকর্মীর

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অপসারণ দাবি ৪০ নারী অধিকারকর্মীর

করোনাকালে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে রেকর্ড

করোনাকালে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে রেকর্ড

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলতেন: পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলতেন: পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত

ছাত্রদের আন্দোলনে ৩০-৩৫ বছর বয়সী মায়েরাও ঢুকে গেছেন: তথ্যমন্ত্রী

ছাত্রদের আন্দোলনে ৩০-৩৫ বছর বয়সী মায়েরাও ঢুকে গেছেন: তথ্যমন্ত্রী

সর্বজনীন শান্তির জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে কর্মযজ্ঞে নামার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সর্বজনীন শান্তির জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে কর্মযজ্ঞে নামার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

যৌন হয়রানি রোধে নতুন আইন লাগবে কিনা জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

যৌন হয়রানি রোধে নতুন আইন লাগবে কিনা জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

সৈয়দপুরে হবে আঞ্চলিক বিমানবন্দর: বাণিজ্যমন্ত্রী

সৈয়দপুরে হবে আঞ্চলিক বিমানবন্দর: বাণিজ্যমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার আইনি সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার আইনি সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই কৃষির অনুশীলন করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই কৃষির অনুশীলন করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

সর্বশেষ

নাগাল্যান্ডে অভিযানের ঘটনায় হত্যা মামলা

নাগাল্যান্ডে অভিযানের ঘটনায় হত্যা মামলা

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিবৃতি

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিবৃতি

কিশোরগঞ্জের ২৪ ইউপিতে থাকছে না নৌকা প্রতীক

কিশোরগঞ্জের ২৪ ইউপিতে থাকছে না নৌকা প্রতীক

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অপসারণ দাবি ৪০ নারী অধিকারকর্মীর

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অপসারণ দাবি ৪০ নারী অধিকারকর্মীর

আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডিংয়ে অভিষেকেই বাংলাদেশের মাকসুদার সাফল্য

আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডিংয়ে অভিষেকেই বাংলাদেশের মাকসুদার সাফল্য

© 2021 Bangla Tribune